হীরক রাণীর দেশে

হীরক রাণীর দেশে
চলতে হবে হেসে
করা যাবে না সমালোচনা
নয়ত মরতে হবে শেষে।

হীরক রাণীর দেশে
সব কিছু উলট-পালট
নির্বোধরা নেতার বেশে
ভালো মানুষেরা জেলে।

হীরক রাণীর দেশে
গরীবেরা পায়না খেতে
মন্ত্রীরা সাগাইয়ের বেশে
একটু ছুতোয় ঘুরতে যায় বিদেশে।

হীরক রাণীর দেশ
বাহ বা বাহ বা বেশ
তোষামোদেই শুরু কথা
তোষামোদেই করতে হবে শেষ।

জানতে ইচ্ছে করে

অনেক জানতে ইচ্ছে করে
বাংলাদেশ তুমি কি সেই আগের মতই আছো।।
নাকি অনেক খানি বদলে গেছো
খুব জানতে ইচ্ছে করে ।
খুব জানতে ইচ্ছে করে

এখনো কি তোমার সন্তানেরা সম্ভ্রমহানীকে ঘৃণা করে
এখনো কি ধর্ষণের বিচার চেয়ে
রাজপথে প্রতিবাদের ঝড় উঠে
তুমি কি আগের মতই আছো
নাকি অনেক খানি বদলে গেছো
খুব জানতে ইচ্ছে করে
খুব জানতে ইচ্ছে করে।

এখনো কি মানুষ নিরাপদে ফিরে ঘরে
এখনো মানুষ সোনার বাংলার স্বপ্নবুনে
এখনো কি চেতনা গুলো আগের মত আছে
বাংলাদেশ তুমি কি আগের মতই আছো
নাকি অনেক অনেক খানি বদলে গেছো
খুব জানতে ইচ্ছে করে
খুব জানতে ইচ্ছে করে

মানুষ কেন এত হিংস্র??

গত কয়েকদিন ফেইসবুকে সিরিয়ান শিশুদের রক্তমাখা মুখগুলো দেখে গিন্নীর মন খারাপ মানুষ কেমনে পারে এমন হিংস্র হতে। শুধু ক্ষমতার জন্য নিজেদের মধ্যে এমন হিংস্রতা কতটুকু কাম্য? ফেইসবুকের ধারনা যখন ছিলোনা তখন হয়ত মানুষ শুধু শুনত যে অমুক জায়গায় যুদ্ধ চলছে, এতগুলো মানুষ মারা গেছে। অনেকে হয়ত সংবাদপত্রে যতটুকু দেখায় ততটুকু দেখতে পারত। অনেকেই সংবাদও দেখতনা এসবের কোন কিছু তাদের চিন্তার জগতে প্রভাব ফেলত না। বিশ্বায়নের যুগে মানুষ যখনই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা শুরু করেছে তখনই মানুষের জগৎও বড় হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের কোন প্রান্তে কি হচ্ছে তা বেশি বেশি মানুষের চিন্তার জগৎকে নাড়া দিচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ার কারনে মানুষ এমন কিছু দেখতে পাচ্ছে যা হয়ত পারত না। প্রশ্ন থেকে যায় এতে মানুষের লাভ বেশি নাকি ক্ষতি বেশি?? মানুষ যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেশি বেশি সোচ্চার হচ্ছে তেমনি হিংস্রতা ও পাশবিকতার ভয়াল চিত্রগুলো মানুষের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় হিংস্রতা ও পাশবিকতার ছবি, ভিডিও ও সংবাদগুলো দেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যতটুকু লাভ করতে পারতেছি তার চেয়ে এই ভয়াল ছবি ও ভিডিও গুলো দেখে আমাদের মনোজগতে নেগেটিভ প্রভাব বেশি পড়ছে কিনা এটি হয়ত ভাবার বিষয়। হিংস্রতাতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি নাতো? হয়ত আমাদের মধ্যে সংবেদনশীলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। হয়ত হিংস্রতাকে দেখে কিছু মানুষের মনে হিংস্রতা বাসা বেধে বসছে।

মানুষের হিংস্রতার কারন কি? একজন মানুষ কেন অন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলে?
দার্শনিক থমাস হোব্বেস এর মতে “মানুষ জন্মগতভাবেই হিংস্র” আর এক দার্শনিক জ্যাকুইস রুশোর মতে “মানুষ সাধারনত শান্তিপ্রিয়”। ন্যাচার জার্নালের একটি গবেষনা পেপার গবেষকরা ম্যামালদের হিংস্রতার ফাইলোজেনেটিক রুট খোজার চেষ্টা করেছেন। তারা ম্যামালদের লিথাল এ্যাগ্রেশনের সাথে সোস্যাল বিহ্যাভিয়ার এবং টেরিটোরিয়ালিটির সম্পর্ক দেখিয়েছেন। যেসব ম্যামাল সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাদের মধ্যে হিংস্রতার মাত্রা অনেক বেশি। যেসব ম্যামাল প্রজাতি সলিটারি এবং টেরিটোরিয়াল না তাদের মধ্যে হিংস্রতা অনেক কম। মনুষ্য প্রজাতি সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাই মানুষের মধ্যে হিংস্রতা বেশি। Socio-political organization গুলো ও মানুষের হিংস্রতার উপর প্রভাব ফেলে। টেরিটোরিয়াল ডিসপিউট, রিসোর্স প্রেসার, পপুলেশন এবং পলিটিক্যাল স্ট্যাটাসের প্রতিযোগিতা মানুষের মধ্যে হিংস্রতার অন্যতম কারন। পপুলেশনের ধরন অর্থাৎ সমাজ ও গোত্রের ধরন গুলো ও হিংস্রতার মাত্রার উপর প্রভাব ফেলে।
মজার বিষয় হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের মধ্যে হিংস্রতা আছে বলে তাদের চলার জন্য চলার নির্দেশনা সহ সুন্দর পথ বলে দিয়েছেন। মানুষ স্বভাবগতভাবে টেরিটোরিয়াল হলেও ইসলাম মানুষকে আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে সীমানাহীন এক সমাজের চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। মানুষে মানুষের সম্পর্ককে ভাই-ভাই সম্পর্কে পরিনত করে দিয়েছে ফলে কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে সে দুর দেশে অন্য মুসলিমকে ভাই বলতে শিখেছে। কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে জাতিয়তাবাদের সংকীর্নতাকে পরিহার করতে শেখে ফলে আঞ্চলিক জাতিয়তার দোহাই দিয়ে সংঘাত হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় অনেকাংশে। আবার ইসলাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটি কেউ ফলো করলে ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতা তৈরীর সম্ভবনাও থাকেনা। যার উদাহরন আমরা আমাদের দেশেই দেখতে পাই। ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগে, লীগে-লীগে খুনোখুনি হতে দেখলেও শিবিরে-শিবিরে, জামায়াতে-জামায়াতে মারামারি তো দুরের কথা গালাগালি পর্যন্ত হয় না সেখানে কোন প্রতিযোগিতা থাকেনা থাকে কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে চলার প্রেরনা।

হিংস্রতা আছে থাকবেই। প্রশ্ন হলো হিংস্রতাকে নিয়ন্ত্রন করার যে কৌশল আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাতলে দিয়েছেন সেটি আমরা মেনে চলবো কিনা। যদি সেটি কেউ মেনে না চলি তাহলে তার ফল আমাদের চোখের সামনে বর্তমান।

আওয়ামী লীগের চেতনা ব্যবসা

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো ধরনের প্রপাগান্ডা চালায় তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 😉

২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ধর্মীয় বোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে, তাহলে ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।😴

চেতনার খেসারত ১৪ বছর, ধর্মের খেসারত ১০ বছর 
গালি দেয়া দুরের কথা বঙ্গবন্ধুকে কেউ যদি স্বাধীনতার ঘোষক মানতে রাজি না হয়, বিরোধিতা করে তাহলে এই চেতনার আইনের ১৪ বছর জেলে পচতে হবে। আবার কেউ যদি ধর্মের ব্যাপারে কটুক্তি করে তার সাজা ১০ বছর। মজার ব্যাপার হলো ধর্মের ব্যাপারে মুক্তচিন্তার কথা বলা হলেও তথাকথিত চেতনার ব্যাপারে কারো দ্বি-মত করার সুযোগ রাখা হয়নি। মুক্তিযুক্ত এবং স্বাধীনতা নিয়ে তরুন প্রজন্মের কারোরই নেগেটিভ ধারনা করার সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে যখন দলীয় অপরাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যখন তাকে মুক্তভাবে সার্বজনীন করার বদলে চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কৌশল অবলম্বন করা হয়, তখন তরুন প্রজন্মের কিছু অংশ এই অপচিন্তার বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক বিরোধীতাকে যখন দেশ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল অবলম্বন করা হয় তখন সুকৌশলে একদলীয় আদর্শকে অন্য সবার কাধে চাপানোর চেতন বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করা হয়। কোন দেশেই এরকম জংলী আইন নেই। খোদ ভারতে ও এই ধরনের আইন নেই। ভারতেও অনেকেই আছে মহাত্না গান্ধীকে আদর্শ মানতে নারাজ। যখন দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনৈতিক দল ইশতেহার দিতে ব্যর্থ হয়, যখন উন্নয়নমূখী ভিশন প্রণয়নে দলীয় কর্মক্ষমতা লোপ পায় তখন ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলো চাপিয়ে দেয়ার রাজনীতি শুরু করে, যা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে দৃশ্যমান।

চেতনার ব্যবসা যতদিন ভালোভাবে চলবে ততদিন ভোটাধিকারের সুষ্ঠপ্রয়োগ হবে না, ভিশনারী নেতৃত্ব দেশের শাসনযন্ত্রে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবেনা। আর মেকি চেতনাকে দুরে ঠেলে ভিশানরী নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে দেয়ার দ্বায়িত্ব দেশের প্রত্যেকটি ভোটারের।

যারা চেতনার কথা বলে দূর্নীতিকে লালন করে, সন্ত্রাসকে পালন করে তারা মূলত ব্যবসাই করে। চেতনার আড়ালে কার্যসিদ্ধি।

বিঃদ্রঃ বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে বলা উদ্দেশ্য না। আইন হবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করার বিরুদ্ধে শাস্তির। বঙ্গবন্ধুর জীবনের যে অংশটুকু দেশের স্বাধীনতার সাথে জড়িত সেই অংশটুকু আইনের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু পুরো ব্যক্তি মানুষকে নিয়ে এত বড় আইন এক ধরনের স্বৈরাচার মনোবৃত্তি প্রকাশ করে। যারা জিয়াউর রহমান কে স্বাধিনতার ঘোষক হিসেবে মনে করে তাদের কি সবার জেলে যেতে হবে??

অবাধ্য ছেলের পিতার প্রতি উমর (রাঃ) এর নসিহত

হযরত উমর (রাঃ) এর সময়ে এক লোক তার ছেলেকে নিয়ে উমর (রাঃ) কাছে গেলেন ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন, হে আমিরুল মুমিনিন আমার এই ছেলে আমার অবাধ্য, সে আমার কোন কথা শুনেনা এরকম অনেক অভিযোগ করলো। উমর (রাঃ) বৃদ্ধ বাবার কথা শুনলেন এবং তরুন বালককে ডেকে উপদেশ দিতে শুরু করলেন, তোমার বাবা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তোমার উচিত তোমার বাবার অধিকার পুরন করা।
তরুন সেই বালক জিজ্ঞেস করলো আমি কি একটি প্রশ্ন করতে পারি হে আমিরুল মুমিনিন? উমর (রাঃ) বললেন অবশ্যই, বলো তোমার প্রশ্ন কি? বালক বললো, আমার কি কোন অধিকার নেই? আমার অধিকার গুলো কি? হযরত উমর (রাঃ) বালকের কাছে তার অধিকার গুলো ব্যাখ্যা করে বললেন।
বাবা-মায়ের প্রতি বাচ্চাদের প্রথম অধিকার হলো, বাবা-মায়ের উচিত উত্তম স্ত্রী বা স্বামী খুঁজে নেয়া। বাচ্চা জন্মের পূর্বেই ভবিষ্যত বাচ্চার অধিকার হলো সঠিক স্ত্রী বা স্বামীকে খুঁজে নেয়া। এর একটি কারন হলো যদি কেউ উত্তম স্বামী কিংবা স্ত্রীকে সিলেক্ট করে তাহলে বাচ্চাদেরো উত্তম উপায়ে লালন-পালন করা সহজ হয়। যদি কেউ বিয়ে শুধুমাত্র সৌন্দর্য্যের জন্য কিংবা সম্পদের জন্য বা যদি কেউ এমন কাউকে বিয়ে করে যে সঠিকভাবে কথা বলতেই পারে না, সব সময় ঝগড়াঝাটি করে তাহলে এমন বাবা-মা হতে কেমন সন্তান আশা করা যাবে। এটি পুরুষ-মহিলা সবার ক্ষেত্রে প্রযোগ্য। বিয়ের আগেই শুধু সৌন্দর্য্য চিন্তা না করে চিন্তা করা উচিত এই পুরুষটি আবার সন্তানের বাবা হিসেবে যোগ্য কিনা কিংবা এই মেয়েটি আবার ভবিষ্যত সন্তানের মা হিসেবে যোগ্য কিনা। ইসলামী শরীয়তে এরজন্য সুন্দর পদ্ধতি বলে দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি উমর (রাঃ) বলেছেন সেটি হলো, তোমার বাবার দ্বিতীয় কর্তব্য হলো তোমার সুন্দর নাম দেয়া। সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম। যে নামে ডাকলেই বাবা-মায়ের প্রশান্তি লাগে। অনেক সময় এমন নাম দেয়া হয় যাতে ওয়েস্টার্ন ওয়েস্টার্ন ভাব থাকে। অনেকেই এটাকে স্মার্টনেসের পার্ট হিসেবে মনেকরে। এটি ঠিক না।
তৃতীয় যে অধিকারের কথা উমর (রাঃ) উল্লেখ করেছিলেন,
তুমি যখন বড় হওয়া শুরু করবে প্রথম যে জিনিসটি তোমাকে শিক্ষা দিতে হবে সেটি হলো আল-কুরআন। কুরআন নির্দেশিত পথে সন্তানকে লালন-পালন করা। তখন বালকটি উমর (রাঃ) বললো হে উমর আপনি আমিরুল মুমিনিন, আমি বলতে চাই আমার বাবা কোনটাই পুরন করেননি। বালকটি বললো যে আমার বাবা পথের এক মহিলাকে বিয়ে করেছে। বালকটি বললো আমাকে একটা সাংঘাতিক নাম দিয়েছে এবং কুরআন কি জিনিস আমি কিছুই জানিনা, আমাকে কুরআন কি শিক্ষা দেয়া হয়নি। তখন উমর (রাঃ) ডাইভার্ট হয়ে বাবার বললেন তুমি তোমার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে এসেছো অথচ তুমি এমন একজন বাবা যে তোমার ছেলের একটি অধিকারও পূরন করোনি। তুমি বলতে এসেছো যে আমার ছেলে অবাধ্য, কোন কথা শুনেনা।
আমাদের সমাজে স্বামীদের অধিকার নিয়ে যেমন বেশি আলোচনা হয় ঠিক তেমনি বাবা-মায়ের অধিকার নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। দেখবেন অনেক সিনেমা নাটক তৈরী হয়েছে শুধুমাত্র বাবা-মায়ের অধিকারকে তুলে ধরার জন্য। সন্তানের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয় খুব কম। অথচ সন্তানের অধিকারের প্রতি মনোযোগী হলে পিতা-মাতার অধিকারের ব্যাপারে সন্তানরা এমনিতেই মনোযোগী হয়ে যাবে।
লেখাটি মুফতি মেনকের আলোচনা হতে নেয়া হয়েছে।
সন্তানের অধিকারের ব্যাপারে আরো দেখতে ও পড়তে পারেন।

থার্টি ফার্ষ্ট নাইট আমরা কেন উদযাপন করবো?

31 ডিসেম্বর রাত, 1 জানুয়ারীর সন্ধিক্ষনে নববর্ষের যে উদযাপন তার অনেক গুলো কারনের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কারন হলো গ্রীক দেবতা Janus (https://en.wikipedia.org/wiki/Janus) যার নাম অনুসারে Gregorian calendar (https://en.wikipedia.org/wiki/Gregorian_calendar) বা solar calendar এর প্রথম মাসের নাম জানুয়ারী। Pope Gregory XIII এর নামানুসারে Gregorian নামকরন করা হয়। গ্রীক দেবতা Janus কে বলা হয় গড অফ বিগিনিং & এন্ড, গড ওফ টাইম, গড অফ গেইটওয়ে, গড অফ প্যাসাজ এন্ড ডুয়ালিটি। গ্রীক এই দেবতাকে দুটি মুখের মাধ্যমে চিত্রায়িত করা হয়, একটি ফেইস সামনের দিকে বা ভবিষ্যতের সময়গুলো দেখতে পায় বলে মনেকরা হয় অন্যটি পেছনে বা অতীতকে মনেকরার প্রতীক হিসেবে। অন্য একটি সূত্রমতে যিশু খ্রিষ্টের নামকরন এবং খৎনা উদযাপনের দিনকে ১ জানুয়ারী উদযাপনের কারন হিসেবে দেখানো হয়েছে। (https://en.wikipedia.org/wiki/New_Year%27s_Day)

ইউরোপের দেশগুলোতে তুষাঢ় পড়া শুরু করে অক্টোবর মাস থেকে স্থানভেদে সময়ের আংশিক পরিবর্তন হতে পারে তবে কম বেশি এই সময় থেকে ঠান্ডা পড়া শুরু হয় দিনের লেংথ কমে যাওয়া চোখে পড়া শুরু করে। যেসব দেশ নর্থপোলের কাছাকাছি সেসব দেশে এটি আরো বেশি পরিলক্ষিত হয় ২১ ডিসেম্বর দিনের আলোর পরিমান সবচেয়ে কম থাকে এরপর আবার দিনের আলোর পরিমান বেশি হতে শুরু হয়। ১ জানুয়ারী হতে পরিবর্তন একটু চোখে পড়া শুরু করে। তাই এসব দেশে ১ জানুয়ারীকে একটি পরিবর্তনের সময়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত”। [আবু দাউদঃ ৩৫১৪]

আমরা অনেক কিছু যা বুঝে উদযাপন করি, যেগুলো আমাদের কোন উপকরে আসেনা যেগুলোতে আমাদের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পায় না। বেয়াহাপনা করার জন্য শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ধোকায় ফেলে দেয়। প্রত্যেক নবী ও রাসুল গন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পাঠিয়েছেন শুধুমাত্র মানুষের এসব খামখেয়ালীকে শুধরানোর জন্য। প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময় যেসব খারাপ বা বহুদা কাজ গুলো মানুষ করত সেগুলোর প্রায় সবগুলোই বর্তমানে আমাদের মধ্যে চর্চিত হচ্ছে। মানুষ নিজেদের সবকিছুকে দেখানোর এবং নতুন কিছু করার প্রবনতা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে অনেক সময় মানুষ নিজেদের পরিচয়ও ভূলে যায়।

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাদের দু’টি দিন ছিল, যেখানে তারা খেলা-ধুলা করত। তিনি বললেনঃ এ দু’টি দিন কি? তারা বললঃ আমরা এতে জাহিলি যুগে খেলা-ধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দু’টি দিন দিয়েছেনঃ ১। ঈদুল আদহা ও ২। ঈদুল ফিতর”। (আবু দাউদঃ ১১৩৪, আহমদঃ ১৩২১০)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর সময় মূর্তি পূজা এবং তারকা পূজা বিদ্যমান ছিলো, ঠিক সমসাময়িক সময়ে হযরত লূত (আঃ) এর সময়ে সমকামীতা, রাহাজানী প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের প্রবনতা ছিলো। প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের বর্তমান সংষ্করন হলো নাইটক্লাব ও ডিস্কো সংস্কৃতি।
এরকম অনেক প্রকার কাজ আছে যেগুলো আমরা না বুঝে শুধুমাত্র হুজুগে করি খেয়ালের বশবর্তী হয়ে যেগুলো ঠিক না।

যেকোন ধরনের বেহুদা কাজ যেগুলো মানুষের উপকার করতে পারে না বরং ক্ষতি করে হোক না সেটা আর্থিকভাবে ইসলাম সেটি করতে নিরুতসাহিত করেছে। আমরা অনেক সময় প্রকাশ্য না করলেও উদযাপনে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপস্থিত থেকে পরোক্ষভাবে এগুলোকে উতসাহ করি যেগুলো আমাদের পরিচয়ের মাঝে দেয়াল তৈরী করে ফেলে।

আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেনঃ

“হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু”। (সূরা বাকারাঃ ২০৮)

যারা আমরা নিজেদের মুসলিমবলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি তাদের জন্য বর্তমান সময়টা খুবই চ্যালেঞ্জিং। একদিকে আমাদের বিবেক অন্যদিকে সমাজের অধিকাংশের গোমরাহী। অনেক সময় বাপ-দাদাদের উদাহরন দেয়া হয়, ঠিক এমনিভাবে প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময়ে মানুষ বাপ-দাদাদের উদাহরন দিয়ে তাওহীদের দাওয়াতের বিরুদ্ধাচরন করেছিলো যা বর্তমানেও চলছে। অনেকেই বেহায়াপনাকে উন্নতসমাজের সংস্কৃতি বলে নিজেরাও সামীল হচ্ছে।

পবিত্র কুরআনের সূরা আলাক্বের ৬-৭ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলছেন ”বস্ত্ততঃ মানুষ যখন দেখে যে, সে কারু মুখাপেক্ষী নয়, তখন সে বেপরওয়া হয়’
বস্তুতঃ বিপদে পড়লে আমরা যে আল্লাহকে ডাকা শুরু করি, বিপদ কেটে গেলে আবার অনাচারে লিপ্ত হই এটিকে ইংগিত করেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সতর্ক করতে এটি বলেছেন।

এবং সূরা যুখরফের ৪০-৪৩ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলতেছেন

”এমনিভাবে আপনার পূর্বে আমি যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে চলছি।” যুখরুফ ৪৩/২৩
বাবা-দাদারা ভূল করে আসলে, সমাজে ভূল কোন প্রথা চালু থাকলে আমরা সেটিকেই আকড়ে ধরে থাকতে চাই।

সূরা ইসরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো বলতেছেন ”যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার অবস্থাপন্ন লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। তখন সে জনগোষ্টীর উপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তাকে উঠিয়ে আছাড় দেই।” ইসরা ১৭/১৬
সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষকে আমরা অনুসরক করতে বেশি পছন্দকরি যদিও অনেক সময় তারা ভূল পথে নিজেদের চালিত করে। ভূলপথে জীবন যাপন করে তারপরও আমরা এসব করে নিজেদের সমাজের উচু শ্রেনীর মধ্যে ভাবার ভান ধরি।

সুতরাং যেগুলো ইসলামের সংষ্কৃতি নয় সেগুলো থেকে শরীর ও মনকে দূরে রেখে আমাদেরকে সমাজের সামনে উদাহরন হিসেবে পেশ করাই হোক আমাদের জীবনের লক্ষ্য। ইসলামী মুল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা যায়, মানুষের জন্য কাজ করা যায় এর উদাহরন তৈরীই হোক আমাদের উদ্দেশ্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেও না”। (সূরা আলে-ইমরানঃ ১০২)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকল প্রকার বেহুদাকাজ হতে দুরে রাখুক, যাতে সবাই মুসলিম ও মুমিন হয়ে মৃত্যুবরন করতে পারি এই দোয়া করি। (আমীন)

বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা

বাবা হওয়ার ৪০ দিন পূর্ণ হলো, আলহামদুলিল্লাহ। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো হুট করে ঘটে কিন্তু এক একটি ঘটনা জীবনের পথকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়। নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দাঁড়ায়। এই চ্যালেঞ্জকে সামলে নিতে না পারলে জীবন হয়ে উঠে বন্ধুর। মজার বিষয় হলো বিয়ের আগে অনেকেই বলবে বিয়ে করতে কিন্তু বিয়ের পর জীবন কেমন চলে সেটি খোঁজ নেয়ার মানুষদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি নেগেটিভ কারনে বলছিনা, জীবনটা এমনই। সব মানুষের জীবনেই সংগ্রাম করে চলতে হয়। জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোকে মানুষকে একাকী মোকাবেলা করেই পথ চলতে হয়। আপনার বেবি নেই অনেকেই বলবে আরে আপনার বেবি নেই। নানা প্রশ্ন। বেবি হওয়ার পর জীবনের সব বাস্তবতা যখন সামনে এসে দাঁড়াবে তখন একাকী চলতে হবে সব সামলে। সব বাবার জীবনই এমন।

বাবা হওয়ার অনুভূতি কি জিনিস তখনও হয়ত পুরোটা অনুভব করতে পারিনি। মায়ের গর্ভের বেবিটাকে ডাক দেয়া নড়াচড়া করলে একটু পুলকিত হওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো। বেবির এক্সপেকটেড ডেলিভারি ডেট ছিলো ১৮ নভেম্বর। সবাই বলছিলো প্লাস/মাইনাস ২ সপ্তাহ। কিন্তু ১৮ নভেম্বর এর ৩-৪ দিন আগেও কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছিলো না। আমি বেবির মাকে বলছিলাম দেখো তোমার বেবি ঠিক সময় আসবে। সে একদিন বেশি বা কম থাকতে চায় না। আল্লাহ তার জন্য যেটা নির্ধারন করেছে সেদিনই চলে আসবে ইনশাল্লাহ। কোন লক্ষন ছাড়াই ১৭ নভেম্বর সকাল শুরু হলো। সন্ধার দিকে বেবির মায়ের পেইন। আমাদের কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না। আমি একটু অন্যরকম মানসিকতার মানুষ। গিন্নিকে বলেছিলাম কাউকে বলার দরকার নেই অচথা সবাই টেনসন করবে। আমাদের হেলপ ও করতে পারবে না। শুধু ফোন দিয়ে আরো স্ট্রেস বাড়িয়ে দিবে। তারচেয়ে আল্লাহর রহমতে সব কিছু ভালোভাবে হোক তারপর জানাবো। সুতরাং দুজন মিলে আল্লার রহমতের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। প্রথমে ভাবছিলাম পেইন অন্য কিছুর। কিন্তু পেইনের ইনটেনসিটি বাড়া শুরু করলো। গিন্নি ডাঃ মানুষ বললাম কি করা যায়। দুজন মিলে পেইনকে অবজারভ করা শুরু করলাম যে ফ্রিকুয়েন্সি কেমন। যেহেতু অ্যাকটিভ লেবার না হলে এসব দেশে হসপিটালে ভর্তি করায় না এবং যেহেতু আমরা সিউর ছিলাম না। তাই ফ্রিকুয়েন্সি এবং ইনটেনসিটি নোট ডাইন করা শুরু করলাম। ১ ঘন্টা তারপর আরো এক ঘন্টা অবজারভ করার পর। সিউর হলাম যে লেবার পেইন। কিন্তু অপেক্ষা করতে লাগলাম দেখি কি করা যায়। ১৮ নভেম্বর রাত ২ টা। গিন্নির পেইন অনেক বেশি হতে লাগলো। অবশেষে হসপিটালে ফোন দিলাম। আমি কথা বলার পর গিন্নিকে দিলাম। যখন সে বললো ফ্রিকুয়েন্সি ১০ মিনিটের কম আবার বেবির ম্যুভমেন্ট কমে গেছে সুতরাং নার্স বললো রাতেই হসপিটালে যেতে চেকআপ করাবে। কোন প্রস্তুতি ছাড়াই হসপিটালে রওনা দিলাম। হসপিটালে গিয়ে চেকআপ করানোর পর বলা হলো হসপিটালে রাতটা থাকতে। ভাবলাম রাত শেষ হলেই বুঝি বাসা যেতে পারবো। এক কাপড়েই থেকে গেলাম পুরো রাত পার হয়ে সকাল হলো। ইউরোপের সিস্টেম হলো লেবার রুমে প্যারেন্টের থাকা আবশ্যকীয়। প্রতিটি মুহুর্ত এক একটি অভিজ্ঞতা। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকাল ১৮ই নভেম্বর। নতুন জীবনকে আলোর মুখ দেখাতে দেখছিলাম পেইন স্কেলের অসহায়ত্ব, আর ভাবছিলাম এজন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মা দেরকে মর্যাদা দিয়েছেন। জন্মের আগ থেকে খাবারের অরুচি দিয়ে যার শুরু মানসিক পেইন থেকে শারীরিক পেইন। অতঃপর ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় আল্লাহ বাবুকে আলোর মুখ দেখালেন। বেচারা বের হয়ে এলেন আম্বিলিক্যাল কর্ডকে গলায় পেচিয়ে। নার্সদের চেহারায় উদ্বিগ্নতা ধরা পড়লো। বেবির নিশ্বাস নেই কয়েক সেকেন্ড। আমি কেমন জানি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়েছিলাম কি করবো, একদিকে গিন্নিকে সাপোর্ট দেয়া অন্যদিকে বেবির এই অবস্থা। একজন নার্স বললো-“ইউ শুড সি হোয়াট উই আর ডুয়িং উইথ ইউর বেবি” দৌড়ে গেলাম। বেবিকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিলো ৩০ সেকেন্ডের মত তারপর সে কান্না শুরু করলো। অবশেষে স্ট্রেস কিছুটা কমলো। এরপর বেবিকে ওর মায়ের কাছে দিলে বেবি কিছুটা শান্ত হলো।
একদিন হাসপাতালে থাকার পর বাসায় ফিরলাম সব কিছু ঠিকঠাক দেখে। এখানে নিয়ম হলো একদিন পর একজন নার্স বাসায় এসে বেবিকে চেক করে যাবে সব ঠিক আছে কিনা। সে এসে চেপ করে দেখলো বেবির বিলিরুবিন অনেক বেশি। সুতরাং আবার হাসাপাতালে ছুটা। হাসপাতালে গিয়ে নিচ থেকে ফটোথেরাপি দিয়েও যখন বিলিরুবিন নিচে নামছিলোনা তখন উপর নিচ দু পাশ থেকেই ফটোথেরাপী দিয়ে ৭ দিন পর বিলিরুবিনের লেভেল রিস্ক লেভেল এর নিচে নামলো। এরপর বাসায় রওনা হলাম। বাবু ঠিক তার এক্সপেকটেড ডেইটের দিনেই তার নতুন পৃথিবীতে এসেছে আলহামদুলিল্লাহ। সেই ১৮ নভেম্বর থেকে জীবনের রুটিন পুরো চেঞ্জ হয়ে গেছে। প্রথম যে জিনিসটার কোন নিয়ম থাকেনা সেটি হলো ঘুম। আমি কি আরাম করে ঘুমাতাম সেটির আর কোন রুটিন থাকলোনা। বেবির মায়ের তো কোন কিছুরই রুটিন থাকলোনা। তবে মজার ব্যাপার হলো বাবুর কান্না শুনে খারাপ লাগেনা এটি হয়ত আল্লাহর রহমত সব বাবা মায়ের প্রতি, কোন বাবা মাই নিজের বেবির উপর বিরক্ত হয় না। কেমন একধরনের অটো দ্বায়িত্ব চলে আসে। এবং সব কিছুর উপর বেবিকে প্রাইওরিটি দিয়ে নিজেদের অন্যকাজ গুলোর প্রাইওরিটি ঠিক করা। এটাই হয়ত জীবন, এটাই জীবনের নিয়ম।
লিখার উদ্দেশ্য হলো, একজন বেবির জন্য মা বাবাকে কত কিছু সাক্রিফাইস করা লাগে তার শুরুটা হয়ত বুঝতে পেরেছি। যদিও আমি নিজের বাবা মাকে কখনই কষ্ট দেয় এমন কাজ করিনি। তারপর নিজেদের বেবি হওয়ার পর উপলব্ধি করতে পারলাম যে একজন মা কে কত কিছু সাক্রিফাইস করা লাগে, কত কষ্ট কত পেইন সহ্য করতে হয় শুধু একটি বেবিকে জন্ম দিতে এরপর জীবনের সব কিছুর থেকে কিছু না কিছু সাক্রিফাইস করে সন্তানকে বড় করে তোলে শুধুমাত্র সন্তানদের মুখে হাসি দেখার জন্য। একজন বাবাও অনেক সাক্রিফাইস করে যদিও মা দের তুলনায় অনেক কম। সেদিন আমার এক বন্ধু বলছিলো যে আস্তে আস্তে যত ত্যাগ করবি মায়া তত বাড়বে। হয়ত ব্যাপারটি এমনই ত্যাগের কারনে মায়া বাড়ে।

আমরা বড় হয়ে অনেকে হয়ত ভূলে যাই সেই শিশুকালের মা-বাবার ত্যাগের কথা। ভূলে যাই কত রাত ঘুমহীন কেটেছে শুধুমাত্র বেবিকে ঘুম পাড়ানোর জন্য। পৃথিবীর সব মা-বাবাই এই ত্যাগ গুলো করে। কিন্তু আমরা কজন সন্তানই বা পাড়ি সেই ত্যাগী মা-বাবাদের জন্য এক রাতের ঘুম নষ্ট করতে। নিজেদের ইনকাম থেকে মা-বাবাকে আগে প্রাইওরিটি দিতে। নিজেদের সূখের আগে মা-বাবার সূখকে প্রাইওরিটি দিতে।
আসুন যাদের মা-বাবা বেচে আছে, আমরা তাদের প্রতি আমাদের দ্বায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের কাজকে সহজ করে দিবেন, ইনশাল্লাহ।

সবাই আমাদের ছোট বাবুটার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যাতে তাকে মুত্তাক্বী হিসেবে কবুল করে। (আমীন)।

 

স্বৈরাচার

ফাঁসিতে টলেনা যারা
গ্রেপ্তারে করিবে কেমনে দমন?
ভালো কি হতো না? যদি-
সিংহাসনের মায়া ও প্রতিহিংসা ভুলে
কাঁধে কাঁধ মিলে দেশটি করিতে শাসন!!

চাষা বলে যদি কৃষককে দাও ছুড়ে ফেলে
রৌদ্র-বৃষ্টি ভুলে কে ফলাবে শষ্য সারা দেশ জুড়ে
প্রতিপক্ষ বলে জেল ভরো যদি নিরিহ মানুষ দিয়ে
শুধরাবে কে তোমায়, তোমার ভুলে?

তোষামোধে হও যদি অন্ধ
মিছিল মিটিংয়ে শুধু পাও গন্ধ
কোথায় যাবে বাকস্বাধীনতা
কোথায় গনতন্ত্র?

 

নো-বে-ল

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
রাজনীতির ডামাডোলে মরে জীবনের আশা।
ত্রান নিয়ে রাজা ছুটে
নোবেলে নামটি হয় যদি তাজা।

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
দলীয় পরিচয়ে খুনিরা পেয়ে যায় ছাড়া।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাই
নিরীহ মানুষ পাচ্ছে আজীবন সাজা।

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের বন্দীদশা
নোবেলে না ঘুচে যদি কষ্ট-দূর্দশা
তবে তা নিয়ে কেন এত আশা???

যদি কাঁদে বিবেক ফুটে মুখের ভাষা
জিন্দা যদি হয় মানবতাবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
ন্যায় ও সাম্য যদি পায় প্রতিষ্ঠা
নোবেলে তখন বাড়বে মনুষ্য মর্যাদা।

 

 

 

 

 

আগামীর প্রত্যাশা হানাহানি মুক্ত ধরিত্রী

যখন অনেক ছোট ছিলাম কোথাও একটু গন্ডগোল বাঁধলে ছুটে যেতাম দেখার জন্য। ছোট বেলায় গ্রামেই ছিলাম। গ্রামে সাধারনত বড় ধরনের ঝগড়া হত না। পরিসর যত বড় হতে থাকলো মানুষে মানুষে মারামারি দেখার অভিজ্ঞতা তত বেশি হতে লাগল। গ্রাম থেকে যখন শহরে গেলাম। দেখতাম মাঝে মধ্যেই মহল্লার ছেলেদের সাথে পাশের মহল্লার ছেলেদের মারামারি। যদিও পরবর্তিতে সেটি অনেক কমে গিয়েছিলো। সেটি কমে গিয়ে সেখানে এখন স্থান নিয়েছে রাজনৈতিক বিষয় গুলো। মাঝে মধ্যেই ভাবতাম বড় শহর গুলোর মানুষ মনেহয় একটু বেশি সভ্য ঝগড়াঝাটি কম। সেসময়ে নিজ মহল্লা ছাড়া বাইরের জগত নিয়ে মাথা ঘামানোর মত বুদ্ধি হয়ত হয়নি। স্কুল কলেজের জীবন শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আংগিনায় পা দিলাম। ২০০১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী জীবনের সবচেয়ে বড় ধরনের মারামারি দেখার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের যাত্রা শুরু করেছিলাম। শিক্ষিত মানুষের উন্মত্ততা, ধ্বংসলীলা, লুট ও অগ্নিসংযোগ নিজের চোখের সামনে দেখেছিলাম।
জীবনের পরিসর যত বড় হতে লাগল মানুষে মানুষে হানাহানি দেখার অভিজ্ঞতা তত বৃদ্ধি পেতে থাকল। বিদেশে এসে সংগ্রামমূখর ব্যস্ত জীবনে যখনই ল্যাপটপ ওপেন করে সোস্যাল মিডিয়ার পেইজগুলোতে ঢুকি তখনই বিভৎসতা গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে। সামান্য কারনে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও জাতিগত ভিন্নতার কারনে মানুষ কত হিংস্র হয়ে উঠতে পারে তা আগে কখনো হয়ত কল্পনাও করতে পারিনি।
ভাবতাম অতীতের সময় গুলো হয়ত ভালো ছিলো। কিন্তু ইতিহাস বলে নিকট অতীত ও দুর-অতীতেও মানুষে মানুষে হানাহানি ছিলো। মানুষে মানুষে হানাহানি গুলো বার বার যখন চোখের সামনে আসে তখন মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে নিজের কাছে প্রশ্ন তৈরি হয়।

একজন মানুষ সাংঘাতিক রকমের অস্ত্র নিজের মধ্যে ধারন করে চলেছে যুগ যুগান্তর। মানুষ নিজেই এক একটি এটম বোম। মানুষের হাত-পা ই এক একটি সাংঘাতিক রকমের অস্ত্র।

এই অস্ত্রগুলোর সঠিক ব্যবহার কিভাবে নিশ্চিত করা যায় তার জন্যই যুগে যুগে সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত উত্তম চরিত্রে কিছু মানুষ যাদেরকে সৃষ্টিকর্তা নিজের প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ ধর্মের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে খুব কমই। ধর্মের সোনালী দিন গুলো ব্যতীত বেশির ভাগ সময়েই মানুষে মানুষে হানাহানি ছিলো ই। মানুষের এ্যানিম্যাল অংশটির চর্চা ছিলো ই। এর কারনে সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবধি ভাল-মন্দের দ্বন্দ্ব চলছেই….. হয়ত চলবেই….. এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্ম….

মাঝে মাঝেই বিজ্ঞানের কিছু বিষয়কে অবিশ্বাস্য বলে মনেহয়। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞানের কিছু বিষয় যেমন ভূল প্রমানিত হয় আবার তেমনি ধর্মের সাথে কিছু বিষয়ের ঐক্যমতও সৃষ্টহয়। সত্য ধর্মের বিষয় গুলো চিরন্তন সত্য।

অ্যামেরিকান একটি এ্যানিমেশন ম্যুভি জুটোপিয়া। টিভি দেখার সময় খুব একটা হয় না। বউয়ের সাথে বসে একটু দেখার সুযোগ হয়েছিলো। যতটুকু দেখেছিলাম সেখানে দেখলাম অনেক ম্যামাল কে বিভিন্ন চরিত্রে দেখানো হয়েছে। মহিষ, বাঘ, সিংহ, শিয়াল, খরগোস সবাই একসাথে বিভিন্ন রকম কাজ করছে। কারো সাথে কারো গন্ডগোল নেই, হঠাৎ কিছু ম্যামাল হারিয়ে যায়। এদের খুজতে বের করার দ্বায়িত্ব পড়ে খরগোশের উপর। খরগোশ একদিন ব্রীফ করে যে প্রানীর হিংস্রতা একটি বায়োলজিক্যাল ব্যাপার। পড়ে তদন্তে খরগোশ আর শিয়াল মিলে বের করে যে আসলে একটি অসাধু চক্র এক ধরনের ফুলের নির্যাস গোপনে অন্য প্রানীর শরীরে ইনজেক্ট করার কারনে প্রানী গুলো হিংস্র হয়ে উঠছে। হতে পারে খাদ্যাভ্যস প্রানীর হিংস্রতা সৃষ্টির জন্য কিছুটা দ্বায়ী। যদিও নিরামিষভোজী (?)/উদ্ভিদভোজী মানুষ গুলো নিরীহ হতে পারেনি। হয়ত এটি একটি গবেষনার বিষয় হতে পারে।

জীন এডিটিং নিয়ে মানুষের গবেষনা এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য জীনকে টার্গেট করে গবেষনা এখন অনেক গুরু্ত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রোগের জন্য জীন গবেষনার পাশাপাশি কিছু গবেষক হয়ত অন্য রকম কিছু গবেষনাও চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মনুষ্য সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় গুলোর কারনে যদি জীনের পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের খারাপ আচরন গুলোর নিয়ন্ত্রন সম্ভব হতো বা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য গুলোর আংশিক পরিবর্তন করে সভ্য সমাজ বিনির্মান করানো যেত এরকম চিন্তা হয়ত অনেক আগেই শুরু হয়েছে, হলে কি খারাপ হবে?? যদিও কতটুকু সম্ভব সময়েই তার উত্তর পাওয়া যাবে।

ধর্ম ও বিজ্ঞান দুটো ই তো সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে মিমাংসার জন্য অনেক স্কলার রা আছেন।

কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখতেই পারি মানুষে মানুষে হানাহানিবিহীন সুন্দর এক সমাজ। যেখানে চোখ খুললেই মানুষের বিভিৎস লাশ দেখতে হবে না, যেখানে কান পাতলেই মানুষের মর্মান্তিক আত্নচিৎকার ভেসে আসবে না। শুধুই থাকবে ভালোবাসাপূর্ণ শান্তিময় সুন্দর এক পৃথিবী।

….নয়ত সব যুগে এভাবেই হয়ত স্বপ্নরা ঘুরে ফিরে চলে যায় ফেরার দেশে…এভাবেই হয়ত চলবে নিরন্তর….অতপর সমাপ্তি… সবকিছুর।

তারপরও আসুন না আমরা নিজের অবস্থান থেকে একটু মানবিক হওয়ার চেষ্টা করি। নিজেদের মতভেদের জায়গা গুলো থেকে বের হয়ে মতৈক্যর জায়গায় একসাথে গিয়ে যাই……