প্রতীক্ষা……..

আলো-আধারের লুকোচুরির এই ক্ষনে
এমনও সন্ধ্যায়
তোমারে পড়ে মনে
তোমার আগমনের প্রতীক্ষায়
পত্র বিছিয়ে বৃক্ষরাজী দিন গুনে………….

0

 

এই কয়েকটি শব্দ এবং ছবি রমুকে……

বাংলাদেশ ভ্রমন

দেশে সার্বিকভাবে মানুষের চলার গতি বেড়েছে। শৈশবে আমাদের গ্রামে একটা রিকশাও ছিলো না দুটো গ্রাম মিলে হয়ত দুটা একটা রিকশা পাওয়া যেত। গরুর গাড়ী ছিলো প্রধান মাধ্যম। দিন অনেকখানি বদলে গিয়েছে। প্রতিবছরই যাই আর নতুন কিছু চোখে পড়ে। গরুর গাড়ি থেকে রিকশা এরপর গিয়ে দেখলাম অটোরিকশাগুলোয় ভরে গিয়েছে পুরো শহর। অটোরিকশার সাথে পাল্লা দিতে প্যাডেল চালিত রিকশায়ও ইঞ্জিন লাগিয়েছে চালকরা। মজার র‍্যাপার হলো গ্রামে আগে যেখানে কাজের লোক কাজের জন্য ধর্না দিত এখন বাসায় কাজের মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আগে সৈয়দপুরে বিমান ছিলো সপ্তাহে ১ টা তাও মাঝে মধ্যে বন্ধ থাকতো। এখন সেখানে দৈনিক ৪-৫ টি বিমান যাতায়াত করছে। মানুষ চা পান করতে করতে রাজধানীতে পৌছে বাজার করে আবার ৩৫০ কিমি পাড়ি দিয়ে বাড়ি পৌছতে পারছে।

এই চলার গতি বাড়ার পেছনে কাজ করছে প্রতিযোগিতার মনোভাব, সাথে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতা মানুষের জীবন নিয়ে দৃষ্টিভংগি পাল্টে দিয়েছে। মানুষ নিজের অধিকার এবং আত্নসম্মান নিয়ে এখন অনেক সচেতন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কারনে মানুষ স্ব-নির্ভরশীল হওয়ার কারনে সামাজিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্যে দৃশ্যমান ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন গ্রাম মোড়লের কর্তৃত্ব মানুষ মানেনা কারন মানুষ আগে যেমন অন্যের উপর অনেক নির্ভরশীল ছিলো এখন সেই নির্ভরশীলতার পরিমান কমেছে অনেকখানি। তবে এর পুরো কৃতিত্ব আমি রাষ্ট্রকে দিবো না এই কৃতিত্বের বেশির ভাগই শ্রমজীবি মানুষদের।

তবে মানুষের শরীর যেভাবে গতিশীলতা পেয়েছে, মানুষের মনের গতি সেভাবে বাড়েনি। শারীরিক গতিশীলতার জন্য যে উপরকরন দরকার সেগুলোর সহজলভ্যতা মানসিকভাবে গতিশীল হওয়ার উপকরন গুলোর অভাববোধকে অদৃশ্য করে রেখেছে। ফলে মানুষের মননশীলতার বিকাশ অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার সাথে তাল মেলাতে পারছেনা ফলে সমাজে অস্থিরতা বেড়েছে। বাড়াটাই স্বাভাবিক। শরীরের পুষ্টির জন্য মানুষ যখন সংগ্রামে ব্যস্ত, মানুষ যখন সমাজে নিজের আসন প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত সেখানে সবার অজান্তেই মন নামক জিনিসটি ক্ষুধায় কাতর হয়ে মৃতপ্রায় হয়ে বেচে আছে। ফলে মানুষের সামাজিক বন্ধন, পারিবারিক বন্ধন গুলো, সম্পর্ক গুলোর মধ্যে সমস্যা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

আমার কাছে মনেহয় বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সামাজিক আন্দোলনের জন্য দৃশ্যমান এজেন্ডা থাকা উচিত। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি সমাজে যাতে করে নৈতিকতার মানের উন্নতি হয়, যাতে করে সুস্থ মানসিক বিকাশও ত্বরাণ্বিত হয় সে বিষয়ে কাজ করা উচিত। নাহলে ধীরে ধীরে আমরা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিংবা পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে থাকবো।

অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে মানুষের শরীর ও মানসিকতার বিকাশ হোক। নৈতিকভাবে শক্ত সমাজ গড়ে উঠুক এই কামনা সব সময়ের জন্য।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড এবং কিছু ভাবনা

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু (?) দের হত্যা সেটি মিডিয়ায় জোড়ালো ফোকাস, সেই সাথে সাইট ইনটেল এর বিবৃতি, বিএনপি কোন এক নেতার সাথে ইসরাইলির ছবি প্রকাশ সেটিকে মিডিয়ায় জোরালো তুলে ধরা সেই সাথে ভারত পন্থী বুদ্ধিজীবিদের বিএনপি জামায়াতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক খুজার চেষ্টা, পুলিশের স্ত্রীর হত্যা স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর মোসাদের কানেকশনের সাথে বিএনপি-জামায়াতের সংযোগ খুজার চেষ্টা, খুজার চেষ্টা খারাপ না কিন্তু সেটিকে ফ্যাক্ট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা, আওয়ামীলীগের সাথে বাংলাদেশের জামায়াত বিদ্বেষী ইসলামী দল গুলোর সাথে সম্পর্কন্নোয়নের চেষ্টা, জামায়াতের নেতৃবিন্দের ফাসি। সব গুলোকে যদি কেউ সুক্ষ্নভাবে চিন্তা করে তাহলে একটি প্রশ্ন প্রথমে সামনে ভেসে উঠে যে লাভ কার? হুমম, আসলেই লাভটি কার?

সবার নাম বার বার আসে, আসে মোসাদের নাম ইসরাইলের নাম, ভারতের “RAW” এর নামটি কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী উচ্চারন করলেন না?

নেতৃবিন্দের একের পর এক ফাসি, থানা ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের নেতারে পিটিয়ে কোমড় ভেংগে দিয়েছে সরকারী বাহিনী। এক একটি হত্যাকান্ডের আগে বা পরে জামায়াত নেতাদের ফাসি দিয়ে হত্যা কান্ড গুলোর দায়ভার অত্যাচারে ক্লান্ত জামায়াত-শিবিরের উপর চাপায়ে কাউকে বাচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না তো??

যে ইসরাইলের বিরোধীতা করাটাই জামায়াত-শিবিরদের আদর্শ সেখানে ইসরাইলের সাথে জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক খোজার মধ্যে কিছুটা দূর্গন্ধ পাওয়া যায় বৈকি।

এমনও তো হতে পারে,

ভারতের “RAW” এর সাথে ইসরাইলের মোসাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো, অনেকেই হয়ত জানেনা বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান রাস্টদূত আগে ইসরাইলে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরট ছিলো। তাকে বাংলাদেশে সরিয়ে এনে ভারত অবশ্যই কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টায় আছে।

হতে পারে
ভারতের “RAW” এর এজেন্ট রা বাংলাদেশে মাঝে মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অখ্যাত কাউকে হত্যা করলো, সাথে সাথে ভারতের “RAW” এর পেইড এজেন্ট নিউজ পেপার গুলো সেটিকে হেডলাইন করে ফলাও করে প্রচার করলো, ঐদিকে সাইট ইনটেল কে এই সংবাদ সরবরাহ করলো, সাথে সাথে সাইট ইনটেল সেটি তাদের টুইট থেকে টুইট করলো, বাংলাদেশের সরকার দলীয় লোকজন সেটিকে জংগী আখ্যায়িত করলো এবং তার সাথে জামায়াত- বিএনপির সংযোগের মন গড়া তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরলো।

সংখ্যা লঘুদের হত্যা করে আওয়ামীলীগ দুটি ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে, এবং সেটি করে কারো কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে।

১) সংখ্যালঘু হত্যা করে দ্বায়ভার জামায়াত-বিএনপির উপর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ থেকে জামায়াত নেতাদের ফাসির বৈধতার নৈতিক সমর্থন আদায় করে নেয়া, বিরোধী দলীয় নেতাদের কোনঠাসা করে রাখা। এর মাধ্যমে ভারতকে নিজেদের দলীয় স্বার্থের পাশে রাখা।

২) বাংলাদেশের মানুষদের মাঝে ক্রমাগত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে জামায়াত-বিএনপির উপর দোষ চাপিয়ে আতংকের পরিবেশ তৈরী করে ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করা।

সংখ্যা লঘু মারা গেছে এক বছরে হয়ত ১০ জনের বেশি হবেনা। এক ইউনিয়ন ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যে ইলেকশনে জামায়াতের কোন উপস্থিতি ছিলো না, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় এই ১২৬ জন মানুষকে হত্যা কারা করলো?? বেশির ভাগ এ মারা গেছে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে। এক বাসের আগুন দিয়ে ৭ জন মারা যাওয়ার মিথ্যা মামলায় যদি বিএনপির সব নেতাদের ধরে জেলে নেয়া যায়, দু-একজন মারার কারনে সুপ্রীম কমান্ডের দায় ভার জামায়াত নেতাদের উপর দিয়ে যদি তাদের ফাসির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এক ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষের প্রান হানীর দ্বায়ভার নিয়ে কারো না কারো ফাসি হওয়া উচিত। হয় এর দ্বায়ভার সরকারের নয়ত ইলেকশন কমিশনের।

১২৬ জন মানুষ যে দলের দলীয় কোন্দলে মারা যাইতে পারে সে দলের দলীয় আদর্শ সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কতটুকু গ্রহনযোগ্য কতটুকু সমর্থন যোগ্য সেটিই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।

হয়ত সময়ই সব কিছুর উত্তর দিবে, মাঝখানে কিছু আহাজারি থেকেই যাবে, সময়ের নিয়ম এটিই। জীবনটা কে দুর থেকে তাকিয়ে দেখলে মনেহয় সত্য সবাই বুঝে, কিন্তু সেটিকে উপলব্ধির কোথায় যেন সীমাবদ্ধতা।

রমজানে মানুষের মনের সেই সীমাবদ্ধতা দুর হোক, মানুষের বিবেক শয়তানের শৃংখল থেকে মুক্তি পাক! আমরা সবাই মিলে দেশটাকে দেশের মানুষগুলো ভালোবাসি এই কামনাই করি।

#SaveBangladesh #Bangladesh

হে প্রভু! তুমি মোদের দাও সে শক্তি

কেউ বলে বিশ্বাসের কথা
বিশ্বাসে কেউ পায় ব্যাথা
আমি বলি হে বিশ্বাস
তুমি মোরে কর ক্ষমা।
বিশ্বাসে যদি পায় মনুষ্য পরিচয়
মিছে দ্বন্দে্ব কেন তব মানবের ক্ষয়।
খোদার আইনকে যদি নাও তুলে হাতে
ক্ষমা মিলবে কি তবে বিশ্বাসের পাতে?
বিশ্বাসী যদি হয় অবিশ্বাসীর মত
দুর হবে কেমনে সমাজের ময়লা যত?
কুরআন পড়িয়া যে কুরআনের বাণী
না করিলো মনে ধারন
সে কেমনে করিবে মিথ্যারে বারণ?
সমাজে সংঘাত সে আনিবে অকারন।
পাথরের আঘাতে হারাইয়া দন্ত
রাসুল (সাঃ) নিজেরে করিয়াছে ক্ষান্ত
ব্যাথা ভূলে উপরে তুলিয়া হাত
ক্ষমা কর প্রভু! করিয়াছে মোনাজাত।
আমরা তব পারিনা কেন করিতে মাফ
চারিত্র‍্য মাধুর্য্য কেন পারিনা করিতে
সমাজের যত কালো-ময়লা সাফ!
প্রভু তুমি মোদের দাও হে সে শক্তি
রাসুল (সাঃ) এর সেই সুন্নাত করিয়া ধারন
আনিতে পারি যেন মানবতার মুক্তি।

জীবন যেখানে যেমন

গতকাল রাত ১১ টার দিকে বাসায় ফিরছিলাম, বাস থেকে নামার পর একটু সামনে এগুতেই দেখি এক ৮০-৯০ বছরের বৃদ্ধা ওয়াকার নিয়ে হাটছে। যেটা দেখে মনটা খারাপ লাগছিলো মহিলাটির মাথা নুয়ে পড়েছিলো ঠিক হাটের কাছে পুরো বাকা হয়ে অত রাতে একলা রাস্তায় যাচ্ছে কোথায় যেন, ভাবছিলাম কি জীবন?? আজ আবার যখন বাসায় ফিরছিলাম রাত সাড়ে ১০ টা বাজে, ঠিক একই রাস্তায় আবার সেই বৃদ্ধা ঠিক একইভাবে শরীর পুরো ৯০ ডিগ্রি বেকে হেটে হেটে সামনে এগুচ্ছে। আজ দেখে অন্যরকম মনে হলো, যে জীবন এখানে এমনি, সবাই নিজের পায়ে চলাকেই হয়ত সন্মানজনক মনে করে। এখানেই সবাই জীবনকে এভাবেই মেনে নিয়েছে। তাই হয়ত বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েও হয়ত অনেকের মনেহয় এটাই স্বাভাবিক। আমি আগে যে ল্যাবে থিসিস করছিলাম, ওখানে এক মিশরীয় ভদ্রলোক ছিলেন, উনার এক ছেলে। ছেলের যখন বিয়ে হলো তখন ছেলে আলাদা বাসায় উঠলো। ওকে জিজ্ঞেস করছিলাম, তোমার তো একটাই ছেলে বড় বাসায় একসাথে থাকলেই তো পারো, তোমাদের দেখাশোনার জন্য ভালো হতো।

ও তখন জবাব দিয়েছিলো, সে এখন বড় হয়েছে তার আলাদা বাসায় থাকাটাই স্বাভাবিক।

জীবন এক রকম হলেও, জীবনের উপাদান গুলো ভিন্ন। জীবনের রং, জীবনের এই ঘটনাগুলো এমনই কোথাও যেটি স্বাভাবিক ঠিক সেটি ই অন্য কোথাও অস্বাভাবিক। জীবনের সংজ্ঞাও তাই মানুষভেদে, শ্রেনী ভেদে ভিন্ন রকম।

জীবনের বাহ্যিকতা দেখে অনেক সময় মুগ্ধ হয়ে পড়ে, বাস্তবতা হলো জীবনের ভালো-মন্দ রূপ দুটি সব খানেই বিদ্যমান।

জীবন ধারনের উপকরন গুলোর সহজলভ্যতার হয়ত পার্থক্য থাকে, শারীরিক পুষ্টির অভাব জায়গা ভেদে ভিন্ন থাকতে পারে তবে মানসিক পুষ্টির অভাবটা কমবেশি সব খানেই বিদ্যমান।

আমরা শারীরিক পুষ্টির জন্য যুদ্ধ করলেও মানসিক পুষ্টির জন্য সামান্য কষ্ট করতেও প্রস্তুত নই, তাই সম্পদ ভরা এই দুনিয়ায় বড় বড় অট্টলিকা, বিশাল বিশাল বাগান তৈরী হলেও শান্তিময় সমাজ বিনির্মান তাই এখনো অধরা।

সুন্দর সমাজ, সুন্দর পৃথিবীর জন্য দরকার সুন্দর মানসিক সৌন্দর্য্যের মানুষ। সবার মন সৃষ্টিকর্তার দেয়া রংয়ে রঞ্জিত হোক এই কামনা করি।

মতামতের বৈচিত্র‍্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

মতের বৈচিত্র‍্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে যখন আপনি কোন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। সবার মতামত একই রকম হলে সিদ্ধান্ত গ্রহন হয়ত সহজ হয় কিন্তু সবচেয়ে ভালো পরামর্শটা বেচে নেয়ার অপশন তখন থাকেনা। এজন্যই রাসুল (সাঃ) সাহাবা (রাঃ) দের মধ্যে কোন বিষয়ে চিন্তার ভিন্নতাকে ভালো বলেছেন।

মতের উপর দৃঢ় থাকা বা অটল থাকা বা মতকে সর্বাধিক সঠিক মনেকরা সব সময় ঠিক না। ধরুন আপনি যখন নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তখন যদি অটল থাকেন হয়ত লাভ বেশি হতে পারে। কিন্তু আপনি সামষ্টিক কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন বা নিয়ে ফেলবেন তখন আপনি নিজের মতের উপর কঠোরতা অবলম্বন করলে, ভালো কিছুর সম্ভাবনা থাকলে সেটি আর হয়ে উঠবেনা। আর সামষ্টিক কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু আমানতদারীর বিষয়টি জড়িত তাই সামষ্টিক বিষয়কে সামষ্টিক দৃষ্টিকোন থেকে পর্যালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন ব্যক্তিমানুষ ইগো, ক্রোধ দ্বারা কমবেশি তাড়িত। সুতরাং কঠোরতা অনেক সময় সামষ্টিক আমানতদারীতাকে গৌণ করে তুলে, মানুষ অন্যের ভালোর চিন্তায় এত মগ্ন হয়ে পড়ে যে আল্লাহর লিখিত তা্ক্বদীর তখন অদৃশ্য হয়ে দাড়ায়। এজন্যই অনেক সময় কোন কিছুর ফল ভালো না হলে আমরা মেনে নিতে পারিনা কারন ব্যক্তি মানুষের গুন গুলো তখন ভর করে ফলে আল্লাহর যে ইচ্ছে থাকতে পারে সেটি কিছুটা গৌণ হয়ে দাড়ায়।

যেমন ধরুন আপনি কোন একটি কাজ করতে গেলেন, পারলেন না, আবার চেষ্টা করলেন পারলেন না, আপনি করতে চাইলেন এক ভাবে আর একজন বললো আর একভাবে আপনি করলেন আবার পারলেন ন. হলোনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা আফসোস করি, দোষ দেই কারন তখন আমরা তাক্বদীরের উপর যে বিশ্বাস সেটির ঘাটতির মধ্যে পড়ে যাই। ধরুন আপনি আপনার পরিবার, বাচ্চার জন্য সবভাবে চেষ্টা করলেন হলো না, সমানভাবে চেষ্টা করলেন আপনি ভাবলেন এক হলো আরএক।

যেটি বলতে চাচ্ছিলাম, আমার কাছে মনেহয় সামষ্টিক কোন বিষয়ে ধৈর্য্য অবলম্বন করা, মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, এবং সামষ্টিক আমানতকে মনে রেখে নরম হৃদয়ে পথ চলার মধ্যে কামিয়াবী আছে। এক; অাল্লাহর দেয়া আমনতের নষ্ট হওয়ার জন্য ভয় যেমন কম থাকে, তেমনি সময় ও পাওয়া যায় শুধরিয়ে নিয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো পথে অগ্রসর হওয়া যায়। দুই: ব্যক্তি মানুষের ইগো, রাগ, ক্রোধকে দমিয়ে সুন্দর মনে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

তবে সবশেষে মুমিনরা সব খানেই আল্লাহর কল্যান খুজে পাওয়ার চেষ্টা করে। মুমিনরা কখনও হতাশ হয় না। তাখলিফ থাকবে, আকাংখা থাকবে, ভবিষ্যত চিন্তায় অস্থিরতা থাকবে এর মাঝেও শান্ত হৃদয়ে আল্লাহর উপর অবিচল থেকে সবার ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে চলার মধ্যেই প্রকৃত মংগল নিহিত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবার হৃদয়কে কোমলতায় ভরে দিক। মনের অস্থিরতা দুর করে প্রশান্ত আত্না দান করুন। এই কামনা করি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

প্রজেক্ট সৈয়দপুর

পরিবর্তন। হ্যা আমরা সবাই মিলে পরিবর্তন ঘটাতে পারি। কিন্তু সেটা কিসের পরিবর্তন এবং পরিবর্তনটি পজিটিভ হবে না নেগেটিভ হবে সেটা আমাদের ই ঠিক করতে হবে।একটি সুন্দর ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা মানুষকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারে , দিতে পারে নির্মল ও চিরন্তন হাসি। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অপরাধ আর অন্যায় চিন্তার বিষ বাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। আমিত্বের কাছে আজ সব অসহায়। আমরা আত্মতুষ্টি নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। মানবতা আজ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দী। ঠিক এমনি সময়ে শোনা যাচ্ছে পরির্তনের আহ্বান।

পরিবর্তন ঘটাতে চাইলে ই হবে না নিজেদের মধ্যে সেই পরিবর্তন আগে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে, আমিত্বের বন্ধন ছিন্ন করে হাত খুলে সবাইকে আপন করে নিতে হবে। আমিত্বের শৃংখলে আবদ্ধ না থেকে আমাদের জীবনের সফলতার মাপকাঠির মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। একটা মিশনকে সফল করতে একজন ব্যক্তিত্বপূর্ণ ও ত্যাগী মানুষ ই যথেষ্ঠ।

প্রথমে যেগুলো প্রয়োজন-

১) ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করতে হবে।

২) সুনাম অর্জনের লক্ষ্য থাকা যাবে না।

৩) শুধুমাত্র মানুষের কল্যাণ চিন্তা করতে হবে।

৪) সববিষয়ে মতৈক্য থাকতে হবে।

 

আমার প্রস্তাবনা-

যেসব বিষয়ে কাজ করা যেতে পারে।

১) মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করা যেতে পারে।

২) বিভেদপূর্ণ সমাজে শান্তির বীজ বপনের জন্য কাজ করা যেতে পারে।

৩) সমতাপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যবান সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সমাজের অবহেলিত অংশকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি শিশুদের যোগ্য গড়ে তুলতে অবৈতনিক আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা যেতে পারে।

৪) বখাটেপনা রোধে স্থানীয় তরুণ সমাজকে নিয়ে কাজ করা যেতে পারে।

 

সবগুলো কাজ একসাথে করা যেতে পারে।

কিভাবে?

আমার প্রস্তাবনা-

আমরা সোশাল বিজনেস ও সমবায় বিজনেস এর থিওরী কাজে লাগাতে পারি। তবে এখানে উদ্যাক্তাদের ব্যক্তি স্বার্থের অনুপস্থিতি থাকা আবশ্যকীয়।কারন ব্যক্তি স্বার্থের উপস্থিতি মানে ই হলো দ্বন্দ্ব ও উদ্যেক্তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সম্পদ আহড়নের মনোভাব বৃদ্ধি যা মানুষের কল্যাণের চিন্তাকে বাধাগ্রস্থ করবে। আমরা উতপাদনমুখী একটি সম্প্রদা্য় সৃষ্টি করতে পারি যারা কিনা হবে সমাজের অবহেলিত মানুষেরা-

১) আমরা কিছু অবহেলিত মানুষকে কোন একটি সেক্টরের উপর ট্রেইনিং এর ব্যবস্থা করতে পারি। যারা হবে সেই বিষয়ের উপর দক্ষ।

অবহেলিত মানুষ যারা তিনবেলা খেতে পারেনা।

২) যে বিষয়ের উপর দক্ষ করা হবে সেটির উপর উতপাদনমুখী একটা প্রজেক্ট দাড় করানো।

৩) সে প্রজক্টের মূলধন হবে পরিবর্তনে আগ্রহী নিঃস্বার্থ ও কল্যাণকামী মানুষের টাকা থেকে।

৪) লভ্যাংশের কিছু অংশ ব্যয় হবে অবহেলিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে। আর কিছু অংশ ব্যায় হবে মানুষদের স্বাস্থ্য খাতে।

৫) যে প্রতিষ্ঠান দাড় হবে সেটির মালিক হবে সমাজের সেই অবহেলিত মানুষ এবং শিশুরা।

 

ফলঃ

অবহেলিত মানুষেরা নিজেদের স্বাবলম্বী ভাবতে শিখবে। তাদের মধ্যে ব্যক্তিত্বের বিকাশ হবে। শিশুরা আধুনিক শিক্ষা ও স্বা্স্থ্য সুবিধা পাবে। পাশাপাশি সমাজের একটি অংশ উতপাদনমূখী হবে। এবং আরো কর্মসংস্থান তৈরী হবে। সবাই নিজের প্রতিষ্ঠান ভাবতে পারবে।

আমার স্বপ্নগুলো…http://sypsh-org.webnode.com/

আমার স্বপ্নগুলো…https://www.facebook.com/SYPSH/

আমার স্বপ্নগুলো…http://sypsh-org.webnode.com/our-projects/