জানতে ইচ্ছে করে

অনেক জানতে ইচ্ছে করে
বাংলাদেশ তুমি কি সেই আগের মতই আছো।।
নাকি অনেক খানি বদলে গেছো
খুব জানতে ইচ্ছে করে ।
খুব জানতে ইচ্ছে করে

এখনো কি তোমার সন্তানেরা সম্ভ্রমহানীকে ঘৃণা করে
এখনো কি ধর্ষণের বিচার চেয়ে
রাজপথে প্রতিবাদের ঝড় উঠে
তুমি কি আগের মতই আছো
নাকি অনেক খানি বদলে গেছো
খুব জানতে ইচ্ছে করে
খুব জানতে ইচ্ছে করে।

এখনো কি মানুষ নিরাপদে ফিরে ঘরে
এখনো মানুষ সোনার বাংলার স্বপ্নবুনে
এখনো কি চেতনা গুলো আগের মত আছে
বাংলাদেশ তুমি কি আগের মতই আছো
নাকি অনেক অনেক খানি বদলে গেছো
খুব জানতে ইচ্ছে করে
খুব জানতে ইচ্ছে করে

মানুষ কেন এত হিংস্র??

গত কয়েকদিন ফেইসবুকে সিরিয়ান শিশুদের রক্তমাখা মুখগুলো দেখে গিন্নীর মন খারাপ মানুষ কেমনে পারে এমন হিংস্র হতে। শুধু ক্ষমতার জন্য নিজেদের মধ্যে এমন হিংস্রতা কতটুকু কাম্য? ফেইসবুকের ধারনা যখন ছিলোনা তখন হয়ত মানুষ শুধু শুনত যে অমুক জায়গায় যুদ্ধ চলছে, এতগুলো মানুষ মারা গেছে। অনেকে হয়ত সংবাদপত্রে যতটুকু দেখায় ততটুকু দেখতে পারত। অনেকেই সংবাদও দেখতনা এসবের কোন কিছু তাদের চিন্তার জগতে প্রভাব ফেলত না। বিশ্বায়নের যুগে মানুষ যখনই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা শুরু করেছে তখনই মানুষের জগৎও বড় হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের কোন প্রান্তে কি হচ্ছে তা বেশি বেশি মানুষের চিন্তার জগৎকে নাড়া দিচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ার কারনে মানুষ এমন কিছু দেখতে পাচ্ছে যা হয়ত পারত না। প্রশ্ন থেকে যায় এতে মানুষের লাভ বেশি নাকি ক্ষতি বেশি?? মানুষ যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেশি বেশি সোচ্চার হচ্ছে তেমনি হিংস্রতা ও পাশবিকতার ভয়াল চিত্রগুলো মানুষের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় হিংস্রতা ও পাশবিকতার ছবি, ভিডিও ও সংবাদগুলো দেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যতটুকু লাভ করতে পারতেছি তার চেয়ে এই ভয়াল ছবি ও ভিডিও গুলো দেখে আমাদের মনোজগতে নেগেটিভ প্রভাব বেশি পড়ছে কিনা এটি হয়ত ভাবার বিষয়। হিংস্রতাতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি নাতো? হয়ত আমাদের মধ্যে সংবেদনশীলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। হয়ত হিংস্রতাকে দেখে কিছু মানুষের মনে হিংস্রতা বাসা বেধে বসছে।

মানুষের হিংস্রতার কারন কি? একজন মানুষ কেন অন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলে?
দার্শনিক থমাস হোব্বেস এর মতে “মানুষ জন্মগতভাবেই হিংস্র” আর এক দার্শনিক জ্যাকুইস রুশোর মতে “মানুষ সাধারনত শান্তিপ্রিয়”। ন্যাচার জার্নালের একটি গবেষনা পেপার গবেষকরা ম্যামালদের হিংস্রতার ফাইলোজেনেটিক রুট খোজার চেষ্টা করেছেন। তারা ম্যামালদের লিথাল এ্যাগ্রেশনের সাথে সোস্যাল বিহ্যাভিয়ার এবং টেরিটোরিয়ালিটির সম্পর্ক দেখিয়েছেন। যেসব ম্যামাল সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাদের মধ্যে হিংস্রতার মাত্রা অনেক বেশি। যেসব ম্যামাল প্রজাতি সলিটারি এবং টেরিটোরিয়াল না তাদের মধ্যে হিংস্রতা অনেক কম। মনুষ্য প্রজাতি সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাই মানুষের মধ্যে হিংস্রতা বেশি। Socio-political organization গুলো ও মানুষের হিংস্রতার উপর প্রভাব ফেলে। টেরিটোরিয়াল ডিসপিউট, রিসোর্স প্রেসার, পপুলেশন এবং পলিটিক্যাল স্ট্যাটাসের প্রতিযোগিতা মানুষের মধ্যে হিংস্রতার অন্যতম কারন। পপুলেশনের ধরন অর্থাৎ সমাজ ও গোত্রের ধরন গুলো ও হিংস্রতার মাত্রার উপর প্রভাব ফেলে।
মজার বিষয় হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের মধ্যে হিংস্রতা আছে বলে তাদের চলার জন্য চলার নির্দেশনা সহ সুন্দর পথ বলে দিয়েছেন। মানুষ স্বভাবগতভাবে টেরিটোরিয়াল হলেও ইসলাম মানুষকে আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে সীমানাহীন এক সমাজের চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। মানুষে মানুষের সম্পর্ককে ভাই-ভাই সম্পর্কে পরিনত করে দিয়েছে ফলে কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে সে দুর দেশে অন্য মুসলিমকে ভাই বলতে শিখেছে। কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে জাতিয়তাবাদের সংকীর্নতাকে পরিহার করতে শেখে ফলে আঞ্চলিক জাতিয়তার দোহাই দিয়ে সংঘাত হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় অনেকাংশে। আবার ইসলাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটি কেউ ফলো করলে ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতা তৈরীর সম্ভবনাও থাকেনা। যার উদাহরন আমরা আমাদের দেশেই দেখতে পাই। ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগে, লীগে-লীগে খুনোখুনি হতে দেখলেও শিবিরে-শিবিরে, জামায়াতে-জামায়াতে মারামারি তো দুরের কথা গালাগালি পর্যন্ত হয় না সেখানে কোন প্রতিযোগিতা থাকেনা থাকে কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে চলার প্রেরনা।

হিংস্রতা আছে থাকবেই। প্রশ্ন হলো হিংস্রতাকে নিয়ন্ত্রন করার যে কৌশল আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাতলে দিয়েছেন সেটি আমরা মেনে চলবো কিনা। যদি সেটি কেউ মেনে না চলি তাহলে তার ফল আমাদের চোখের সামনে বর্তমান।

আওয়ামী লীগের চেতনা ব্যবসা

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো ধরনের প্রপাগান্ডা চালায় তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 😉

২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ধর্মীয় বোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে, তাহলে ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।😴

চেতনার খেসারত ১৪ বছর, ধর্মের খেসারত ১০ বছর 
গালি দেয়া দুরের কথা বঙ্গবন্ধুকে কেউ যদি স্বাধীনতার ঘোষক মানতে রাজি না হয়, বিরোধিতা করে তাহলে এই চেতনার আইনের ১৪ বছর জেলে পচতে হবে। আবার কেউ যদি ধর্মের ব্যাপারে কটুক্তি করে তার সাজা ১০ বছর। মজার ব্যাপার হলো ধর্মের ব্যাপারে মুক্তচিন্তার কথা বলা হলেও তথাকথিত চেতনার ব্যাপারে কারো দ্বি-মত করার সুযোগ রাখা হয়নি। মুক্তিযুক্ত এবং স্বাধীনতা নিয়ে তরুন প্রজন্মের কারোরই নেগেটিভ ধারনা করার সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে যখন দলীয় অপরাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যখন তাকে মুক্তভাবে সার্বজনীন করার বদলে চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কৌশল অবলম্বন করা হয়, তখন তরুন প্রজন্মের কিছু অংশ এই অপচিন্তার বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক বিরোধীতাকে যখন দেশ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল অবলম্বন করা হয় তখন সুকৌশলে একদলীয় আদর্শকে অন্য সবার কাধে চাপানোর চেতন বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করা হয়। কোন দেশেই এরকম জংলী আইন নেই। খোদ ভারতে ও এই ধরনের আইন নেই। ভারতেও অনেকেই আছে মহাত্না গান্ধীকে আদর্শ মানতে নারাজ। যখন দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনৈতিক দল ইশতেহার দিতে ব্যর্থ হয়, যখন উন্নয়নমূখী ভিশন প্রণয়নে দলীয় কর্মক্ষমতা লোপ পায় তখন ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলো চাপিয়ে দেয়ার রাজনীতি শুরু করে, যা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে দৃশ্যমান।

চেতনার ব্যবসা যতদিন ভালোভাবে চলবে ততদিন ভোটাধিকারের সুষ্ঠপ্রয়োগ হবে না, ভিশনারী নেতৃত্ব দেশের শাসনযন্ত্রে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবেনা। আর মেকি চেতনাকে দুরে ঠেলে ভিশানরী নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে দেয়ার দ্বায়িত্ব দেশের প্রত্যেকটি ভোটারের।

যারা চেতনার কথা বলে দূর্নীতিকে লালন করে, সন্ত্রাসকে পালন করে তারা মূলত ব্যবসাই করে। চেতনার আড়ালে কার্যসিদ্ধি।

বিঃদ্রঃ বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে বলা উদ্দেশ্য না। আইন হবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করার বিরুদ্ধে শাস্তির। বঙ্গবন্ধুর জীবনের যে অংশটুকু দেশের স্বাধীনতার সাথে জড়িত সেই অংশটুকু আইনের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু পুরো ব্যক্তি মানুষকে নিয়ে এত বড় আইন এক ধরনের স্বৈরাচার মনোবৃত্তি প্রকাশ করে। যারা জিয়াউর রহমান কে স্বাধিনতার ঘোষক হিসেবে মনে করে তাদের কি সবার জেলে যেতে হবে??

বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা

বাবা হওয়ার ৪০ দিন পূর্ণ হলো, আলহামদুলিল্লাহ। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো হুট করে ঘটে কিন্তু এক একটি ঘটনা জীবনের পথকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়। নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দাঁড়ায়। এই চ্যালেঞ্জকে সামলে নিতে না পারলে জীবন হয়ে উঠে বন্ধুর। মজার বিষয় হলো বিয়ের আগে অনেকেই বলবে বিয়ে করতে কিন্তু বিয়ের পর জীবন কেমন চলে সেটি খোঁজ নেয়ার মানুষদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি নেগেটিভ কারনে বলছিনা, জীবনটা এমনই। সব মানুষের জীবনেই সংগ্রাম করে চলতে হয়। জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোকে মানুষকে একাকী মোকাবেলা করেই পথ চলতে হয়। আপনার বেবি নেই অনেকেই বলবে আরে আপনার বেবি নেই। নানা প্রশ্ন। বেবি হওয়ার পর জীবনের সব বাস্তবতা যখন সামনে এসে দাঁড়াবে তখন একাকী চলতে হবে সব সামলে। সব বাবার জীবনই এমন।

বাবা হওয়ার অনুভূতি কি জিনিস তখনও হয়ত পুরোটা অনুভব করতে পারিনি। মায়ের গর্ভের বেবিটাকে ডাক দেয়া নড়াচড়া করলে একটু পুলকিত হওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো। বেবির এক্সপেকটেড ডেলিভারি ডেট ছিলো ১৮ নভেম্বর। সবাই বলছিলো প্লাস/মাইনাস ২ সপ্তাহ। কিন্তু ১৮ নভেম্বর এর ৩-৪ দিন আগেও কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছিলো না। আমি বেবির মাকে বলছিলাম দেখো তোমার বেবি ঠিক সময় আসবে। সে একদিন বেশি বা কম থাকতে চায় না। আল্লাহ তার জন্য যেটা নির্ধারন করেছে সেদিনই চলে আসবে ইনশাল্লাহ। কোন লক্ষন ছাড়াই ১৭ নভেম্বর সকাল শুরু হলো। সন্ধার দিকে বেবির মায়ের পেইন। আমাদের কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না। আমি একটু অন্যরকম মানসিকতার মানুষ। গিন্নিকে বলেছিলাম কাউকে বলার দরকার নেই অচথা সবাই টেনসন করবে। আমাদের হেলপ ও করতে পারবে না। শুধু ফোন দিয়ে আরো স্ট্রেস বাড়িয়ে দিবে। তারচেয়ে আল্লাহর রহমতে সব কিছু ভালোভাবে হোক তারপর জানাবো। সুতরাং দুজন মিলে আল্লার রহমতের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। প্রথমে ভাবছিলাম পেইন অন্য কিছুর। কিন্তু পেইনের ইনটেনসিটি বাড়া শুরু করলো। গিন্নি ডাঃ মানুষ বললাম কি করা যায়। দুজন মিলে পেইনকে অবজারভ করা শুরু করলাম যে ফ্রিকুয়েন্সি কেমন। যেহেতু অ্যাকটিভ লেবার না হলে এসব দেশে হসপিটালে ভর্তি করায় না এবং যেহেতু আমরা সিউর ছিলাম না। তাই ফ্রিকুয়েন্সি এবং ইনটেনসিটি নোট ডাইন করা শুরু করলাম। ১ ঘন্টা তারপর আরো এক ঘন্টা অবজারভ করার পর। সিউর হলাম যে লেবার পেইন। কিন্তু অপেক্ষা করতে লাগলাম দেখি কি করা যায়। ১৮ নভেম্বর রাত ২ টা। গিন্নির পেইন অনেক বেশি হতে লাগলো। অবশেষে হসপিটালে ফোন দিলাম। আমি কথা বলার পর গিন্নিকে দিলাম। যখন সে বললো ফ্রিকুয়েন্সি ১০ মিনিটের কম আবার বেবির ম্যুভমেন্ট কমে গেছে সুতরাং নার্স বললো রাতেই হসপিটালে যেতে চেকআপ করাবে। কোন প্রস্তুতি ছাড়াই হসপিটালে রওনা দিলাম। হসপিটালে গিয়ে চেকআপ করানোর পর বলা হলো হসপিটালে রাতটা থাকতে। ভাবলাম রাত শেষ হলেই বুঝি বাসা যেতে পারবো। এক কাপড়েই থেকে গেলাম পুরো রাত পার হয়ে সকাল হলো। ইউরোপের সিস্টেম হলো লেবার রুমে প্যারেন্টের থাকা আবশ্যকীয়। প্রতিটি মুহুর্ত এক একটি অভিজ্ঞতা। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকাল ১৮ই নভেম্বর। নতুন জীবনকে আলোর মুখ দেখাতে দেখছিলাম পেইন স্কেলের অসহায়ত্ব, আর ভাবছিলাম এজন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মা দেরকে মর্যাদা দিয়েছেন। জন্মের আগ থেকে খাবারের অরুচি দিয়ে যার শুরু মানসিক পেইন থেকে শারীরিক পেইন। অতঃপর ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় আল্লাহ বাবুকে আলোর মুখ দেখালেন। বেচারা বের হয়ে এলেন আম্বিলিক্যাল কর্ডকে গলায় পেচিয়ে। নার্সদের চেহারায় উদ্বিগ্নতা ধরা পড়লো। বেবির নিশ্বাস নেই কয়েক সেকেন্ড। আমি কেমন জানি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়েছিলাম কি করবো, একদিকে গিন্নিকে সাপোর্ট দেয়া অন্যদিকে বেবির এই অবস্থা। একজন নার্স বললো-“ইউ শুড সি হোয়াট উই আর ডুয়িং উইথ ইউর বেবি” দৌড়ে গেলাম। বেবিকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিলো ৩০ সেকেন্ডের মত তারপর সে কান্না শুরু করলো। অবশেষে স্ট্রেস কিছুটা কমলো। এরপর বেবিকে ওর মায়ের কাছে দিলে বেবি কিছুটা শান্ত হলো।
একদিন হাসপাতালে থাকার পর বাসায় ফিরলাম সব কিছু ঠিকঠাক দেখে। এখানে নিয়ম হলো একদিন পর একজন নার্স বাসায় এসে বেবিকে চেক করে যাবে সব ঠিক আছে কিনা। সে এসে চেপ করে দেখলো বেবির বিলিরুবিন অনেক বেশি। সুতরাং আবার হাসাপাতালে ছুটা। হাসপাতালে গিয়ে নিচ থেকে ফটোথেরাপি দিয়েও যখন বিলিরুবিন নিচে নামছিলোনা তখন উপর নিচ দু পাশ থেকেই ফটোথেরাপী দিয়ে ৭ দিন পর বিলিরুবিনের লেভেল রিস্ক লেভেল এর নিচে নামলো। এরপর বাসায় রওনা হলাম। বাবু ঠিক তার এক্সপেকটেড ডেইটের দিনেই তার নতুন পৃথিবীতে এসেছে আলহামদুলিল্লাহ। সেই ১৮ নভেম্বর থেকে জীবনের রুটিন পুরো চেঞ্জ হয়ে গেছে। প্রথম যে জিনিসটার কোন নিয়ম থাকেনা সেটি হলো ঘুম। আমি কি আরাম করে ঘুমাতাম সেটির আর কোন রুটিন থাকলোনা। বেবির মায়ের তো কোন কিছুরই রুটিন থাকলোনা। তবে মজার ব্যাপার হলো বাবুর কান্না শুনে খারাপ লাগেনা এটি হয়ত আল্লাহর রহমত সব বাবা মায়ের প্রতি, কোন বাবা মাই নিজের বেবির উপর বিরক্ত হয় না। কেমন একধরনের অটো দ্বায়িত্ব চলে আসে। এবং সব কিছুর উপর বেবিকে প্রাইওরিটি দিয়ে নিজেদের অন্যকাজ গুলোর প্রাইওরিটি ঠিক করা। এটাই হয়ত জীবন, এটাই জীবনের নিয়ম।
লিখার উদ্দেশ্য হলো, একজন বেবির জন্য মা বাবাকে কত কিছু সাক্রিফাইস করা লাগে তার শুরুটা হয়ত বুঝতে পেরেছি। যদিও আমি নিজের বাবা মাকে কখনই কষ্ট দেয় এমন কাজ করিনি। তারপর নিজেদের বেবি হওয়ার পর উপলব্ধি করতে পারলাম যে একজন মা কে কত কিছু সাক্রিফাইস করা লাগে, কত কষ্ট কত পেইন সহ্য করতে হয় শুধু একটি বেবিকে জন্ম দিতে এরপর জীবনের সব কিছুর থেকে কিছু না কিছু সাক্রিফাইস করে সন্তানকে বড় করে তোলে শুধুমাত্র সন্তানদের মুখে হাসি দেখার জন্য। একজন বাবাও অনেক সাক্রিফাইস করে যদিও মা দের তুলনায় অনেক কম। সেদিন আমার এক বন্ধু বলছিলো যে আস্তে আস্তে যত ত্যাগ করবি মায়া তত বাড়বে। হয়ত ব্যাপারটি এমনই ত্যাগের কারনে মায়া বাড়ে।

আমরা বড় হয়ে অনেকে হয়ত ভূলে যাই সেই শিশুকালের মা-বাবার ত্যাগের কথা। ভূলে যাই কত রাত ঘুমহীন কেটেছে শুধুমাত্র বেবিকে ঘুম পাড়ানোর জন্য। পৃথিবীর সব মা-বাবাই এই ত্যাগ গুলো করে। কিন্তু আমরা কজন সন্তানই বা পাড়ি সেই ত্যাগী মা-বাবাদের জন্য এক রাতের ঘুম নষ্ট করতে। নিজেদের ইনকাম থেকে মা-বাবাকে আগে প্রাইওরিটি দিতে। নিজেদের সূখের আগে মা-বাবার সূখকে প্রাইওরিটি দিতে।
আসুন যাদের মা-বাবা বেচে আছে, আমরা তাদের প্রতি আমাদের দ্বায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের কাজকে সহজ করে দিবেন, ইনশাল্লাহ।

সবাই আমাদের ছোট বাবুটার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যাতে তাকে মুত্তাক্বী হিসেবে কবুল করে। (আমীন)।

 

স্বৈরাচার

ফাঁসিতে টলেনা যারা
গ্রেপ্তারে করিবে কেমনে দমন?
ভালো কি হতো না? যদি-
সিংহাসনের মায়া ও প্রতিহিংসা ভুলে
কাঁধে কাঁধ মিলে দেশটি করিতে শাসন!!

চাষা বলে যদি কৃষককে দাও ছুড়ে ফেলে
রৌদ্র-বৃষ্টি ভুলে কে ফলাবে শষ্য সারা দেশ জুড়ে
প্রতিপক্ষ বলে জেল ভরো যদি নিরিহ মানুষ দিয়ে
শুধরাবে কে তোমায়, তোমার ভুলে?

তোষামোধে হও যদি অন্ধ
মিছিল মিটিংয়ে শুধু পাও গন্ধ
কোথায় যাবে বাকস্বাধীনতা
কোথায় গনতন্ত্র?

 

নো-বে-ল

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
রাজনীতির ডামাডোলে মরে জীবনের আশা।
ত্রান নিয়ে রাজা ছুটে
নোবেলে নামটি হয় যদি তাজা।

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
দলীয় পরিচয়ে খুনিরা পেয়ে যায় ছাড়া।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাই
নিরীহ মানুষ পাচ্ছে আজীবন সাজা।

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের বন্দীদশা
নোবেলে না ঘুচে যদি কষ্ট-দূর্দশা
তবে তা নিয়ে কেন এত আশা???

যদি কাঁদে বিবেক ফুটে মুখের ভাষা
জিন্দা যদি হয় মানবতাবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
ন্যায় ও সাম্য যদি পায় প্রতিষ্ঠা
নোবেলে তখন বাড়বে মনুষ্য মর্যাদা।

 

 

 

 

 

আগামীর প্রত্যাশা হানাহানি মুক্ত ধরিত্রী

যখন অনেক ছোট ছিলাম কোথাও একটু গন্ডগোল বাঁধলে ছুটে যেতাম দেখার জন্য। ছোট বেলায় গ্রামেই ছিলাম। গ্রামে সাধারনত বড় ধরনের ঝগড়া হত না। পরিসর যত বড় হতে থাকলো মানুষে মানুষে মারামারি দেখার অভিজ্ঞতা তত বেশি হতে লাগল। গ্রাম থেকে যখন শহরে গেলাম। দেখতাম মাঝে মধ্যেই মহল্লার ছেলেদের সাথে পাশের মহল্লার ছেলেদের মারামারি। যদিও পরবর্তিতে সেটি অনেক কমে গিয়েছিলো। সেটি কমে গিয়ে সেখানে এখন স্থান নিয়েছে রাজনৈতিক বিষয় গুলো। মাঝে মধ্যেই ভাবতাম বড় শহর গুলোর মানুষ মনেহয় একটু বেশি সভ্য ঝগড়াঝাটি কম। সেসময়ে নিজ মহল্লা ছাড়া বাইরের জগত নিয়ে মাথা ঘামানোর মত বুদ্ধি হয়ত হয়নি। স্কুল কলেজের জীবন শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আংগিনায় পা দিলাম। ২০০১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী জীবনের সবচেয়ে বড় ধরনের মারামারি দেখার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের যাত্রা শুরু করেছিলাম। শিক্ষিত মানুষের উন্মত্ততা, ধ্বংসলীলা, লুট ও অগ্নিসংযোগ নিজের চোখের সামনে দেখেছিলাম।
জীবনের পরিসর যত বড় হতে লাগল মানুষে মানুষে হানাহানি দেখার অভিজ্ঞতা তত বৃদ্ধি পেতে থাকল। বিদেশে এসে সংগ্রামমূখর ব্যস্ত জীবনে যখনই ল্যাপটপ ওপেন করে সোস্যাল মিডিয়ার পেইজগুলোতে ঢুকি তখনই বিভৎসতা গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে। সামান্য কারনে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও জাতিগত ভিন্নতার কারনে মানুষ কত হিংস্র হয়ে উঠতে পারে তা আগে কখনো হয়ত কল্পনাও করতে পারিনি।
ভাবতাম অতীতের সময় গুলো হয়ত ভালো ছিলো। কিন্তু ইতিহাস বলে নিকট অতীত ও দুর-অতীতেও মানুষে মানুষে হানাহানি ছিলো। মানুষে মানুষে হানাহানি গুলো বার বার যখন চোখের সামনে আসে তখন মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে নিজের কাছে প্রশ্ন তৈরি হয়।

একজন মানুষ সাংঘাতিক রকমের অস্ত্র নিজের মধ্যে ধারন করে চলেছে যুগ যুগান্তর। মানুষ নিজেই এক একটি এটম বোম। মানুষের হাত-পা ই এক একটি সাংঘাতিক রকমের অস্ত্র।

এই অস্ত্রগুলোর সঠিক ব্যবহার কিভাবে নিশ্চিত করা যায় তার জন্যই যুগে যুগে সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত উত্তম চরিত্রে কিছু মানুষ যাদেরকে সৃষ্টিকর্তা নিজের প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ ধর্মের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে খুব কমই। ধর্মের সোনালী দিন গুলো ব্যতীত বেশির ভাগ সময়েই মানুষে মানুষে হানাহানি ছিলো ই। মানুষের এ্যানিম্যাল অংশটির চর্চা ছিলো ই। এর কারনে সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবধি ভাল-মন্দের দ্বন্দ্ব চলছেই….. হয়ত চলবেই….. এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্ম….

মাঝে মাঝেই বিজ্ঞানের কিছু বিষয়কে অবিশ্বাস্য বলে মনেহয়। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞানের কিছু বিষয় যেমন ভূল প্রমানিত হয় আবার তেমনি ধর্মের সাথে কিছু বিষয়ের ঐক্যমতও সৃষ্টহয়। সত্য ধর্মের বিষয় গুলো চিরন্তন সত্য।

অ্যামেরিকান একটি এ্যানিমেশন ম্যুভি জুটোপিয়া। টিভি দেখার সময় খুব একটা হয় না। বউয়ের সাথে বসে একটু দেখার সুযোগ হয়েছিলো। যতটুকু দেখেছিলাম সেখানে দেখলাম অনেক ম্যামাল কে বিভিন্ন চরিত্রে দেখানো হয়েছে। মহিষ, বাঘ, সিংহ, শিয়াল, খরগোস সবাই একসাথে বিভিন্ন রকম কাজ করছে। কারো সাথে কারো গন্ডগোল নেই, হঠাৎ কিছু ম্যামাল হারিয়ে যায়। এদের খুজতে বের করার দ্বায়িত্ব পড়ে খরগোশের উপর। খরগোশ একদিন ব্রীফ করে যে প্রানীর হিংস্রতা একটি বায়োলজিক্যাল ব্যাপার। পড়ে তদন্তে খরগোশ আর শিয়াল মিলে বের করে যে আসলে একটি অসাধু চক্র এক ধরনের ফুলের নির্যাস গোপনে অন্য প্রানীর শরীরে ইনজেক্ট করার কারনে প্রানী গুলো হিংস্র হয়ে উঠছে। হতে পারে খাদ্যাভ্যস প্রানীর হিংস্রতা সৃষ্টির জন্য কিছুটা দ্বায়ী। যদিও নিরামিষভোজী (?)/উদ্ভিদভোজী মানুষ গুলো নিরীহ হতে পারেনি। হয়ত এটি একটি গবেষনার বিষয় হতে পারে।

জীন এডিটিং নিয়ে মানুষের গবেষনা এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য জীনকে টার্গেট করে গবেষনা এখন অনেক গুরু্ত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রোগের জন্য জীন গবেষনার পাশাপাশি কিছু গবেষক হয়ত অন্য রকম কিছু গবেষনাও চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মনুষ্য সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় গুলোর কারনে যদি জীনের পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের খারাপ আচরন গুলোর নিয়ন্ত্রন সম্ভব হতো বা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য গুলোর আংশিক পরিবর্তন করে সভ্য সমাজ বিনির্মান করানো যেত এরকম চিন্তা হয়ত অনেক আগেই শুরু হয়েছে, হলে কি খারাপ হবে?? যদিও কতটুকু সম্ভব সময়েই তার উত্তর পাওয়া যাবে।

ধর্ম ও বিজ্ঞান দুটো ই তো সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে মিমাংসার জন্য অনেক স্কলার রা আছেন।

কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখতেই পারি মানুষে মানুষে হানাহানিবিহীন সুন্দর এক সমাজ। যেখানে চোখ খুললেই মানুষের বিভিৎস লাশ দেখতে হবে না, যেখানে কান পাতলেই মানুষের মর্মান্তিক আত্নচিৎকার ভেসে আসবে না। শুধুই থাকবে ভালোবাসাপূর্ণ শান্তিময় সুন্দর এক পৃথিবী।

….নয়ত সব যুগে এভাবেই হয়ত স্বপ্নরা ঘুরে ফিরে চলে যায় ফেরার দেশে…এভাবেই হয়ত চলবে নিরন্তর….অতপর সমাপ্তি… সবকিছুর।

তারপরও আসুন না আমরা নিজের অবস্থান থেকে একটু মানবিক হওয়ার চেষ্টা করি। নিজেদের মতভেদের জায়গা গুলো থেকে বের হয়ে মতৈক্যর জায়গায় একসাথে গিয়ে যাই……

আত্নীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক, সামার ক্যাম্প ২০১৭

এবার সামার ক্যাম্পের থিম ছিলো
“Improve connectivity with family and community”
খুব বেশি লেকচার ছিলো না। তবে যে দু- একটি ছিলো তার মধ্যে ছিলো অনেক শিক্ষনীয় কিছু। মাহবুবুল আলম ভাইয়ের লেকচার ছিলো “Lesson from muhammad (sm) on connecting with family and society”
এখানে তিনি সুন্দরভাবে পরিবার ও কম্যুনিটির সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে সেটি কুরআন এবং হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিছু উদাহরন কিছু কথা ছিলো সত্যিই অনেক সুন্দর।

আমরা জানি শেষ বিচারের দিন আল্লাহর রাব্বুল আলামিনের সামনে আমাদের সব কাজের হিসেব দেয়া লাগবে। উনি হবেন বিচারক। তবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিছু বিষয় আগেই ফয়সালা করে দিয়েছেন। তো মাহবুব ভাই একটি সুন্দর হাদিস বলেছিলেন

“রাসুল (সাঃ) বলেন, আল্লাহ তা´য়ালা যখন সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করলেন, তখন ´রেহেম (আত্নীয়তা)` উঠে দাঁড়ালো/উঠে দাড়িয়ে আল্লাহর কোমড় ধরল। আল্লাহ তা´য়ালা বললেন তুমি কি চাও? সে বলল, এটি হলো আত্নীয়তার ছিন্নকারী হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনার স্থান! তিনি বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমার সাথে সম্পর্ক রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবো। যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্ন করব।? রেহেম বললো জ্বী, হ্যা প্রভু! তিনি বললেন এটি তো তোমারই জন্য।

রাসুল (সাঃ) আরো বললেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমিই রহমান (দয়ালু), আমার নাম (রহমান) থেকেই `রাহেম` (আত্নীয়তার বন্ধন)- এর নাম নির্গত করেছি। সুতরাং যে আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে আমি তার সাথে বজায় রাখব এবং যে তা ছিন্ন করবে আমি আমা হতে তাকে ছিন্ন করব। ” আল- আদাবুল মুফরাদ, হাদীস/৫৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন পাকে বলেছেন, “ক্ষমতা লাভ করলে, সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্নীয়তা বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদেরকে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন। ” সূরা মুহাম্মাদঃ ২২

কাল কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ বিচার নেয়া শুরু করলে কেউই রেহাই পাবেনা । যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কিছু থাকবে না, সেদিন যদি আল্লাহ কাউকে লানত দেয় তাহলে তার কোন রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।

অপর এক হাদিসে আছে কোন এক সাহাবা রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকি এবং যদি সেই আত্নীয় আমার প্রতি খারাপ আচরন করে তাহলে, তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, তুমি যদি তার প্রতি ভালো আচরন করো এবং সে তোমার প্রতি খারাপ আচরন করে তাহলে এটি এমন যে, তুমি তার মূখে ছাই নিক্ষেপ করছো।
অর্থাৎ সে নিজে বেঁচে যাবে কিন্তু ঐ ব্যাক্তির উপর আল্লাহর লানত পড়বে।

মাহবুব ভাই খুব সুন্দর একটি উদাহরন দিয়েছিলেন।
কিয়ামতের সময় আসলে কি ঘটবে? পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে সব উলট পালট হয়ে যাবে। নক্ষত্র গুলো স্থানচ্যুত হয়ে ছুটোছুটি করবে। পাহাড় গুলো তুলার মত উড়বে।

উনি প্রশ্ন করেছিলেন, আত্নীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এতো কঠোর নির্দেশ কেন দিলেন? বা সম্পর্ক জিনিসটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

গ্যালাক্সিতে গ্রহ, তারকারাজী এবং নানা পদার্থের মধ্যে একটি সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সুন্দর সম্পর্কের কারনে যে যার কক্ষপথে একটি সুনির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে। কাল কিয়ামতের দিনে আল্লাহ শুধু এদের মধ্যে যে সম্পর্ক বিদ্যমান সেটি নষ্ট করে দিবেন ফলে সম্পর্কহীন হয়ে ছন্দ হারিয়ে ছুটো-ছুটি শুরু করে দিবে। একে অপরের সাথে সংঘর্ষে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। কিয়ামত সংঘটিত হবে।

আত্নীয় এবং প্রতিবেশিদের সাথে সম্পর্ক গুলো ও এমন। যদি সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেখানে শান্তি থাকেনা। যদি সম্পর্ক খুব বেশি খারাপ হয়ে যায় তাহলে সেই জায়গায় ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও সব কিছু তছনচ হয়ে যায়। এজন্য আত্নীয়তার সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার যেখানে একটি ইউনিট সেখানে পরিবার দূর্বল হলে সেই সমাজই দূর্বল হয়ে পড়ে। শক্তিশালী শান্তিময় পরিবার গঠন ইসলামের অন্যতম মূল বিষয়। পরিবার শক্তিশালী হলে, সেই পরিবার নিয়ে গঠিত সমাজ তথা রাস্ট্র ও শক্তিশালী হয় ও শান্তিময় হয়। ইসলাম যেখানে শান্তির বানী শোনায় সেখানে পরিবার শান্তিময় হলে গোটা দুনিয়ায় তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য।

রাসুল (সাঃ) তার মৃত্যু শয্যায় উম্মতকে সাবধান করে বলেছেন, “তোমাদের আত্নীয় স্বজন, তোমার আত্নীয়-স্বজন (সম্পর্কে সাবধান হও)” ছহীহ জামে´ হা/৮৯৪, সনদ সহীহ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আত্নীয়-স্বজনের সম্পর্কের ব্যাপারে আমাদের যত্নশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

সামার ক্যাম্প ২০১৭ হতে কিছু শিক্ষা (SMS Sweden)

আমরা প্রতিবারই সামার ক্যাম্পে যাই। প্রতি সামার ক্যাম্পে নতুন গেষ্ট স্পিকার আসেন, প্রতিবারই আমরা নতুন কিছু শিখি। এবার এসেছিলেন, আব্দুল্লাহিল মামুন আযামী ভাই। ৬৪ বছর বয়স্ক একজন মানুষ। উনার বাচন ভংগি এবং উপস্থাপন ভংগি শ্রোতাদের আকৃষ্ট করার মত। নিজে রিসার্চ করে অনেক বড় বিষয়কে ৩-৪ টি letter এর মাধ্যমে প্রকাশ করার সুন্দর পদ্ধতি আমাদের সাথে শেয়ার করেছিলেন তার দু- একটি এখানে শেয়ার করছি। উনি এক লেকচারে বলেছিলেন
RRR এর কথা
Read-Reflect-Reform
এই জিনিসটি আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। আমরা এটি একাডেমিক ক্ষেত্রে ফলো করলেও নৈতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে খুবই কমই করতে পারি। আমরা অনেকেই পড়ি এরমধ্যে খুবই কমজনই সেটি নিয়ে ভাবার/চিন্তার কাজটি করতে পারি। চিন্তা করার পর সে অনুযায়ী নিজেদের অভ্যসকে, নিজেদের attitude কে নিজেদের নৈতিক মানকে পূনর্বিন্যাস ও পুনর্গঠনের কাজটি একদমই করতে পারিনা। এই কাজটিই আমাদের করা লাগবে তাহলে একজন আদর্শ মানুষ তথা একজন আদর্শ মুসলিম হিসেবে নিজেদের কে উপস্থাপন করা আমাদের জন্য সহজ হবে।

HHH
Head-Heart-Hand
Head to heard/think, heart to feel/accept and hand to work
আমাদের ব্রেইনকে কাজে লাগিয়ে আমাদের চিন্তা করতে হবে। কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অনেকবার বলেছেন, চিন্তা করার কথা। কুরআন মু্মিনদের জন্য হেদায়াত স্বরূপ। কুরআনের মাঝেই লুকিয়ে আছে আমাদের ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির পথ। চিন্তা করে বিষয় গুলোকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করে সে অনুযায়ী কাজ করতে পারলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন আমাদের জন্য সহজ হবে।
একদিন এক ভাই বলছিলেন সূরা ওয়াক্বিয়া নিয়ে। আমরা অনেকেই জানি সূরা ওয়াক্বিয়ার ফজিলত। সূরা ওয়াক্বিয়া পড়লে অভাব দুর হয়ে যাবে। আমরা অভাব দুর হওয়ার জন্য, বাচ্চা পাওয়ার জন্য এবং রোগ হতে মুক্তির জন্য অনেক সূরাই নিয়মিত পড়ি। কিন্তু সূরার ভিতরে আল্লাহ যে বার্তা যে সূত্রগুলো আমাদের দিলেন সেগুলো নিজেদের জীবনে প্রাকটিস করি না, আমল করিনা ফলে আমরা সেগুলো হতে ফল সহজে পাই না। হয়ত অনেকেই আল্লাহকে দোষ দেই যে কপালে রাখেনি। এগুলো নিয়মিত পড়ার পরও আমাদের হৃদয়ে যে প্রশান্তি আসার কথা সেটি আসেনা শুধুমাত্র বিষয় গুলোকে অনুভব করতে না পারার কারনে।

QQQ
Quran-Quality-Quantity
Quran
Quality for high standard
Quantity for great result
Quran কে বেইস ধরে আমাদের কোয়ালিটি ডেভেলপ করতে হবে।

T-W-A-H-C-D
Thought-Words-Action-Habit-Character-Destiny
মামুন ভাই এই শব্দগুলো বলেছিলেন সূরা লুকমানের ১৩-১৯ আয়াতের ব্যাখ্যায়।
আমাদের নৈতিক মানকে উন্নয়নের জন্য প্রথম যে কাজটি করা উচিত সেটি হলো। আমাদের চিন্তা করা উচিত কিভাবে আমরা আমাদের নৈতিক মানের পূনর্বিন্যাস করবো। চিন্তাকে আমাদের কথায় পরিনত করার চেষ্টা করতে হবে। এটি করতে পারলে সেটিকে আমাদের বাস্তবে রূপ দেয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। কাজ শুরু করে দিতে হবে। আমরা যখন একটি কাজ বার বার করতে শিখবো তখন সেটি আমাদের অভ্যাসে পরিনত হবে। যদি আমরা কোন ভালো কাজকে অভ্যাসে পরিনত করতে পারি তাহলে সেটি আমাদের চরিত্রের একটি অংশ হয়ে জীবিত থাকবে আমাদের সাথেই। ভালো আমলকে আমরা আমাদের চরিত্রের অংশ করতে পারলে আমাদের যে লক্ষ্য সেটিও অর্জন হয়ে যাবে। ইনশাল্লাহ।
মামুন ভাইয়ের দুটি বাক্য-
Inspire to learn and grow
Advice what to learn and why
উনি এখানে আরো দুটি কথা বলেছিলেন, যে বাচ্চাদের প্রশ্ন করাকে উতসাহ দিতে হবে। অনেক বাবা-মা বাচ্চাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে ধমক মেরে চুপ করে দেয়, explain করতে না পারার অক্ষমতা থেকে বাচ্চাদের ধমক মারে। এটি করা ঠিক না। কারন বুদ্ধিমান বাচ্চারাই প্রশ্ন করে। তাদেরকে সুন্দরভাবে উপদেশ দিলে তারা সহজেই তা পালন করতে শিখবে।

উনি তাক্বওয়ার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি ছক দিয়েছিলেন
Do …………………………………………………………Don´t

1) ফরজ ………………………………………………হারাম
২) সুন্নাহ ……………………………………………মাকরূহ
৩) নফল ……………………………………………..মুতাশাবিহাত

কোন একটি কাজের/আমলের মানের চিন্তা করে সেটির Priority ঠিক করলে। আমাদের জন্য আমল করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। উনি একটি সুন্দর উদাহরন দিয়েছিলেন,

তারাবিহ নামাজ ৮ রাকাত নাকি ২০ রাকাত এটি নিয়ে মানুষ অনেক সময় মারামারি শুরু করে দেয়। অথচ মানুষ চিন্তা করেনা মারামারির শরীয়াহ হুকুম কি আর তারাবিহ নামাজের শারীয়ায় হুকুম কি। অর্থাত যদি কোন একটি আমল সুন্নাহ হয় সেটির জন্য যদি হারাম কাজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে আগে আমাদের হারাম থেকে বাচা। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা।

পরিবারের সমস্যা/ঝগড়া বিবাদ মিটানোর জন্য 5D এর কথা বলেছিলেন
D-Describe
D-Diagnosis
D-Discuss
D-Decision
D-Do/action

পরিবারে সমস্যা হলে সেটি পারিবারিক মিটিংয়ে আলোচনা করে সমস্যাকে চিহ্নিত করে কিভাবে সেটি সমাধান করা যায় আলোচনা করে সিন্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করলে পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে খুবই দ্রুত। যারা পারিবারিক মিটিংয়ের ব্যাপারে জানেন না। তারা প্রতি মাসে পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে মিটিং করতে পারেন। পরিবারের সব কিছু নিয়ে সবার মতামত, সবার সমস্যা আলোচনা করলে শক্তিশালী শান্তিময় পরিবার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পরিবার যেখানে সমাজ তথা রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র একটি ইউনিট সেখানে পরিবার শক্তিশালী হলে, ন্যায়ভিত্তিক পরিবার ব্যবস্থা গড়ে উঠলে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে সহজেই।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের ভালো ভালো আমল করার তৌফিক দান করুন। (আমিন)