মানুষ কেন এত হিংস্র??

গত কয়েকদিন ফেইসবুকে সিরিয়ান শিশুদের রক্তমাখা মুখগুলো দেখে গিন্নীর মন খারাপ মানুষ কেমনে পারে এমন হিংস্র হতে। শুধু ক্ষমতার জন্য নিজেদের মধ্যে এমন হিংস্রতা কতটুকু কাম্য? ফেইসবুকের ধারনা যখন ছিলোনা তখন হয়ত মানুষ শুধু শুনত যে অমুক জায়গায় যুদ্ধ চলছে, এতগুলো মানুষ মারা গেছে। অনেকে হয়ত সংবাদপত্রে যতটুকু দেখায় ততটুকু দেখতে পারত। অনেকেই সংবাদও দেখতনা এসবের কোন কিছু তাদের চিন্তার জগতে প্রভাব ফেলত না। বিশ্বায়নের যুগে মানুষ যখনই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা শুরু করেছে তখনই মানুষের জগৎও বড় হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের কোন প্রান্তে কি হচ্ছে তা বেশি বেশি মানুষের চিন্তার জগৎকে নাড়া দিচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ার কারনে মানুষ এমন কিছু দেখতে পাচ্ছে যা হয়ত পারত না। প্রশ্ন থেকে যায় এতে মানুষের লাভ বেশি নাকি ক্ষতি বেশি?? মানুষ যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেশি বেশি সোচ্চার হচ্ছে তেমনি হিংস্রতা ও পাশবিকতার ভয়াল চিত্রগুলো মানুষের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় হিংস্রতা ও পাশবিকতার ছবি, ভিডিও ও সংবাদগুলো দেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যতটুকু লাভ করতে পারতেছি তার চেয়ে এই ভয়াল ছবি ও ভিডিও গুলো দেখে আমাদের মনোজগতে নেগেটিভ প্রভাব বেশি পড়ছে কিনা এটি হয়ত ভাবার বিষয়। হিংস্রতাতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি নাতো? হয়ত আমাদের মধ্যে সংবেদনশীলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। হয়ত হিংস্রতাকে দেখে কিছু মানুষের মনে হিংস্রতা বাসা বেধে বসছে।

মানুষের হিংস্রতার কারন কি? একজন মানুষ কেন অন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলে?
দার্শনিক থমাস হোব্বেস এর মতে “মানুষ জন্মগতভাবেই হিংস্র” আর এক দার্শনিক জ্যাকুইস রুশোর মতে “মানুষ সাধারনত শান্তিপ্রিয়”। ন্যাচার জার্নালের একটি গবেষনা পেপার গবেষকরা ম্যামালদের হিংস্রতার ফাইলোজেনেটিক রুট খোজার চেষ্টা করেছেন। তারা ম্যামালদের লিথাল এ্যাগ্রেশনের সাথে সোস্যাল বিহ্যাভিয়ার এবং টেরিটোরিয়ালিটির সম্পর্ক দেখিয়েছেন। যেসব ম্যামাল সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাদের মধ্যে হিংস্রতার মাত্রা অনেক বেশি। যেসব ম্যামাল প্রজাতি সলিটারি এবং টেরিটোরিয়াল না তাদের মধ্যে হিংস্রতা অনেক কম। মনুষ্য প্রজাতি সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাই মানুষের মধ্যে হিংস্রতা বেশি। Socio-political organization গুলো ও মানুষের হিংস্রতার উপর প্রভাব ফেলে। টেরিটোরিয়াল ডিসপিউট, রিসোর্স প্রেসার, পপুলেশন এবং পলিটিক্যাল স্ট্যাটাসের প্রতিযোগিতা মানুষের মধ্যে হিংস্রতার অন্যতম কারন। পপুলেশনের ধরন অর্থাৎ সমাজ ও গোত্রের ধরন গুলো ও হিংস্রতার মাত্রার উপর প্রভাব ফেলে।
মজার বিষয় হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের মধ্যে হিংস্রতা আছে বলে তাদের চলার জন্য চলার নির্দেশনা সহ সুন্দর পথ বলে দিয়েছেন। মানুষ স্বভাবগতভাবে টেরিটোরিয়াল হলেও ইসলাম মানুষকে আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে সীমানাহীন এক সমাজের চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। মানুষে মানুষের সম্পর্ককে ভাই-ভাই সম্পর্কে পরিনত করে দিয়েছে ফলে কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে সে দুর দেশে অন্য মুসলিমকে ভাই বলতে শিখেছে। কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে জাতিয়তাবাদের সংকীর্নতাকে পরিহার করতে শেখে ফলে আঞ্চলিক জাতিয়তার দোহাই দিয়ে সংঘাত হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় অনেকাংশে। আবার ইসলাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটি কেউ ফলো করলে ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতা তৈরীর সম্ভবনাও থাকেনা। যার উদাহরন আমরা আমাদের দেশেই দেখতে পাই। ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগে, লীগে-লীগে খুনোখুনি হতে দেখলেও শিবিরে-শিবিরে, জামায়াতে-জামায়াতে মারামারি তো দুরের কথা গালাগালি পর্যন্ত হয় না সেখানে কোন প্রতিযোগিতা থাকেনা থাকে কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে চলার প্রেরনা।

হিংস্রতা আছে থাকবেই। প্রশ্ন হলো হিংস্রতাকে নিয়ন্ত্রন করার যে কৌশল আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাতলে দিয়েছেন সেটি আমরা মেনে চলবো কিনা। যদি সেটি কেউ মেনে না চলি তাহলে তার ফল আমাদের চোখের সামনে বর্তমান।

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

অবাধ্য ছেলের পিতার প্রতি উমর (রাঃ) এর নসিহত

হযরত উমর (রাঃ) এর সময়ে এক লোক তার ছেলেকে নিয়ে উমর (রাঃ) কাছে গেলেন ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন, হে আমিরুল মুমিনিন আমার এই ছেলে আমার অবাধ্য, সে আমার কোন কথা শুনেনা এরকম অনেক অভিযোগ করলো। উমর (রাঃ) বৃদ্ধ বাবার কথা শুনলেন এবং তরুন বালককে ডেকে উপদেশ দিতে শুরু করলেন, তোমার বাবা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তোমার উচিত তোমার বাবার অধিকার পুরন করা।
তরুন সেই বালক জিজ্ঞেস করলো আমি কি একটি প্রশ্ন করতে পারি হে আমিরুল মুমিনিন? উমর (রাঃ) বললেন অবশ্যই, বলো তোমার প্রশ্ন কি? বালক বললো, আমার কি কোন অধিকার নেই? আমার অধিকার গুলো কি? হযরত উমর (রাঃ) বালকের কাছে তার অধিকার গুলো ব্যাখ্যা করে বললেন।
বাবা-মায়ের প্রতি বাচ্চাদের প্রথম অধিকার হলো, বাবা-মায়ের উচিত উত্তম স্ত্রী বা স্বামী খুঁজে নেয়া। বাচ্চা জন্মের পূর্বেই ভবিষ্যত বাচ্চার অধিকার হলো সঠিক স্ত্রী বা স্বামীকে খুঁজে নেয়া। এর একটি কারন হলো যদি কেউ উত্তম স্বামী কিংবা স্ত্রীকে সিলেক্ট করে তাহলে বাচ্চাদেরো উত্তম উপায়ে লালন-পালন করা সহজ হয়। যদি কেউ বিয়ে শুধুমাত্র সৌন্দর্য্যের জন্য কিংবা সম্পদের জন্য বা যদি কেউ এমন কাউকে বিয়ে করে যে সঠিকভাবে কথা বলতেই পারে না, সব সময় ঝগড়াঝাটি করে তাহলে এমন বাবা-মা হতে কেমন সন্তান আশা করা যাবে। এটি পুরুষ-মহিলা সবার ক্ষেত্রে প্রযোগ্য। বিয়ের আগেই শুধু সৌন্দর্য্য চিন্তা না করে চিন্তা করা উচিত এই পুরুষটি আবার সন্তানের বাবা হিসেবে যোগ্য কিনা কিংবা এই মেয়েটি আবার ভবিষ্যত সন্তানের মা হিসেবে যোগ্য কিনা। ইসলামী শরীয়তে এরজন্য সুন্দর পদ্ধতি বলে দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি উমর (রাঃ) বলেছেন সেটি হলো, তোমার বাবার দ্বিতীয় কর্তব্য হলো তোমার সুন্দর নাম দেয়া। সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম। যে নামে ডাকলেই বাবা-মায়ের প্রশান্তি লাগে। অনেক সময় এমন নাম দেয়া হয় যাতে ওয়েস্টার্ন ওয়েস্টার্ন ভাব থাকে। অনেকেই এটাকে স্মার্টনেসের পার্ট হিসেবে মনেকরে। এটি ঠিক না।
তৃতীয় যে অধিকারের কথা উমর (রাঃ) উল্লেখ করেছিলেন,
তুমি যখন বড় হওয়া শুরু করবে প্রথম যে জিনিসটি তোমাকে শিক্ষা দিতে হবে সেটি হলো আল-কুরআন। কুরআন নির্দেশিত পথে সন্তানকে লালন-পালন করা। তখন বালকটি উমর (রাঃ) বললো হে উমর আপনি আমিরুল মুমিনিন, আমি বলতে চাই আমার বাবা কোনটাই পুরন করেননি। বালকটি বললো যে আমার বাবা পথের এক মহিলাকে বিয়ে করেছে। বালকটি বললো আমাকে একটা সাংঘাতিক নাম দিয়েছে এবং কুরআন কি জিনিস আমি কিছুই জানিনা, আমাকে কুরআন কি শিক্ষা দেয়া হয়নি। তখন উমর (রাঃ) ডাইভার্ট হয়ে বাবার বললেন তুমি তোমার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে এসেছো অথচ তুমি এমন একজন বাবা যে তোমার ছেলের একটি অধিকারও পূরন করোনি। তুমি বলতে এসেছো যে আমার ছেলে অবাধ্য, কোন কথা শুনেনা।
আমাদের সমাজে স্বামীদের অধিকার নিয়ে যেমন বেশি আলোচনা হয় ঠিক তেমনি বাবা-মায়ের অধিকার নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। দেখবেন অনেক সিনেমা নাটক তৈরী হয়েছে শুধুমাত্র বাবা-মায়ের অধিকারকে তুলে ধরার জন্য। সন্তানের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয় খুব কম। অথচ সন্তানের অধিকারের প্রতি মনোযোগী হলে পিতা-মাতার অধিকারের ব্যাপারে সন্তানরা এমনিতেই মনোযোগী হয়ে যাবে।
লেখাটি মুফতি মেনকের আলোচনা হতে নেয়া হয়েছে।
সন্তানের অধিকারের ব্যাপারে আরো দেখতে ও পড়তে পারেন।

থার্টি ফার্ষ্ট নাইট আমরা কেন উদযাপন করবো?

31 ডিসেম্বর রাত, 1 জানুয়ারীর সন্ধিক্ষনে নববর্ষের যে উদযাপন তার অনেক গুলো কারনের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কারন হলো গ্রীক দেবতা Janus (https://en.wikipedia.org/wiki/Janus) যার নাম অনুসারে Gregorian calendar (https://en.wikipedia.org/wiki/Gregorian_calendar) বা solar calendar এর প্রথম মাসের নাম জানুয়ারী। Pope Gregory XIII এর নামানুসারে Gregorian নামকরন করা হয়। গ্রীক দেবতা Janus কে বলা হয় গড অফ বিগিনিং & এন্ড, গড ওফ টাইম, গড অফ গেইটওয়ে, গড অফ প্যাসাজ এন্ড ডুয়ালিটি। গ্রীক এই দেবতাকে দুটি মুখের মাধ্যমে চিত্রায়িত করা হয়, একটি ফেইস সামনের দিকে বা ভবিষ্যতের সময়গুলো দেখতে পায় বলে মনেকরা হয় অন্যটি পেছনে বা অতীতকে মনেকরার প্রতীক হিসেবে। অন্য একটি সূত্রমতে যিশু খ্রিষ্টের নামকরন এবং খৎনা উদযাপনের দিনকে ১ জানুয়ারী উদযাপনের কারন হিসেবে দেখানো হয়েছে। (https://en.wikipedia.org/wiki/New_Year%27s_Day)

ইউরোপের দেশগুলোতে তুষাঢ় পড়া শুরু করে অক্টোবর মাস থেকে স্থানভেদে সময়ের আংশিক পরিবর্তন হতে পারে তবে কম বেশি এই সময় থেকে ঠান্ডা পড়া শুরু হয় দিনের লেংথ কমে যাওয়া চোখে পড়া শুরু করে। যেসব দেশ নর্থপোলের কাছাকাছি সেসব দেশে এটি আরো বেশি পরিলক্ষিত হয় ২১ ডিসেম্বর দিনের আলোর পরিমান সবচেয়ে কম থাকে এরপর আবার দিনের আলোর পরিমান বেশি হতে শুরু হয়। ১ জানুয়ারী হতে পরিবর্তন একটু চোখে পড়া শুরু করে। তাই এসব দেশে ১ জানুয়ারীকে একটি পরিবর্তনের সময়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত”। [আবু দাউদঃ ৩৫১৪]

আমরা অনেক কিছু যা বুঝে উদযাপন করি, যেগুলো আমাদের কোন উপকরে আসেনা যেগুলোতে আমাদের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পায় না। বেয়াহাপনা করার জন্য শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ধোকায় ফেলে দেয়। প্রত্যেক নবী ও রাসুল গন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পাঠিয়েছেন শুধুমাত্র মানুষের এসব খামখেয়ালীকে শুধরানোর জন্য। প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময় যেসব খারাপ বা বহুদা কাজ গুলো মানুষ করত সেগুলোর প্রায় সবগুলোই বর্তমানে আমাদের মধ্যে চর্চিত হচ্ছে। মানুষ নিজেদের সবকিছুকে দেখানোর এবং নতুন কিছু করার প্রবনতা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে অনেক সময় মানুষ নিজেদের পরিচয়ও ভূলে যায়।

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাদের দু’টি দিন ছিল, যেখানে তারা খেলা-ধুলা করত। তিনি বললেনঃ এ দু’টি দিন কি? তারা বললঃ আমরা এতে জাহিলি যুগে খেলা-ধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দু’টি দিন দিয়েছেনঃ ১। ঈদুল আদহা ও ২। ঈদুল ফিতর”। (আবু দাউদঃ ১১৩৪, আহমদঃ ১৩২১০)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর সময় মূর্তি পূজা এবং তারকা পূজা বিদ্যমান ছিলো, ঠিক সমসাময়িক সময়ে হযরত লূত (আঃ) এর সময়ে সমকামীতা, রাহাজানী প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের প্রবনতা ছিলো। প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের বর্তমান সংষ্করন হলো নাইটক্লাব ও ডিস্কো সংস্কৃতি।
এরকম অনেক প্রকার কাজ আছে যেগুলো আমরা না বুঝে শুধুমাত্র হুজুগে করি খেয়ালের বশবর্তী হয়ে যেগুলো ঠিক না।

যেকোন ধরনের বেহুদা কাজ যেগুলো মানুষের উপকার করতে পারে না বরং ক্ষতি করে হোক না সেটা আর্থিকভাবে ইসলাম সেটি করতে নিরুতসাহিত করেছে। আমরা অনেক সময় প্রকাশ্য না করলেও উদযাপনে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপস্থিত থেকে পরোক্ষভাবে এগুলোকে উতসাহ করি যেগুলো আমাদের পরিচয়ের মাঝে দেয়াল তৈরী করে ফেলে।

আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেনঃ

“হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু”। (সূরা বাকারাঃ ২০৮)

যারা আমরা নিজেদের মুসলিমবলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি তাদের জন্য বর্তমান সময়টা খুবই চ্যালেঞ্জিং। একদিকে আমাদের বিবেক অন্যদিকে সমাজের অধিকাংশের গোমরাহী। অনেক সময় বাপ-দাদাদের উদাহরন দেয়া হয়, ঠিক এমনিভাবে প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময়ে মানুষ বাপ-দাদাদের উদাহরন দিয়ে তাওহীদের দাওয়াতের বিরুদ্ধাচরন করেছিলো যা বর্তমানেও চলছে। অনেকেই বেহায়াপনাকে উন্নতসমাজের সংস্কৃতি বলে নিজেরাও সামীল হচ্ছে।

পবিত্র কুরআনের সূরা আলাক্বের ৬-৭ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলছেন ”বস্ত্ততঃ মানুষ যখন দেখে যে, সে কারু মুখাপেক্ষী নয়, তখন সে বেপরওয়া হয়’
বস্তুতঃ বিপদে পড়লে আমরা যে আল্লাহকে ডাকা শুরু করি, বিপদ কেটে গেলে আবার অনাচারে লিপ্ত হই এটিকে ইংগিত করেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সতর্ক করতে এটি বলেছেন।

এবং সূরা যুখরফের ৪০-৪৩ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলতেছেন

”এমনিভাবে আপনার পূর্বে আমি যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে চলছি।” যুখরুফ ৪৩/২৩
বাবা-দাদারা ভূল করে আসলে, সমাজে ভূল কোন প্রথা চালু থাকলে আমরা সেটিকেই আকড়ে ধরে থাকতে চাই।

সূরা ইসরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো বলতেছেন ”যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার অবস্থাপন্ন লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। তখন সে জনগোষ্টীর উপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তাকে উঠিয়ে আছাড় দেই।” ইসরা ১৭/১৬
সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষকে আমরা অনুসরক করতে বেশি পছন্দকরি যদিও অনেক সময় তারা ভূল পথে নিজেদের চালিত করে। ভূলপথে জীবন যাপন করে তারপরও আমরা এসব করে নিজেদের সমাজের উচু শ্রেনীর মধ্যে ভাবার ভান ধরি।

সুতরাং যেগুলো ইসলামের সংষ্কৃতি নয় সেগুলো থেকে শরীর ও মনকে দূরে রেখে আমাদেরকে সমাজের সামনে উদাহরন হিসেবে পেশ করাই হোক আমাদের জীবনের লক্ষ্য। ইসলামী মুল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা যায়, মানুষের জন্য কাজ করা যায় এর উদাহরন তৈরীই হোক আমাদের উদ্দেশ্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেও না”। (সূরা আলে-ইমরানঃ ১০২)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকল প্রকার বেহুদাকাজ হতে দুরে রাখুক, যাতে সবাই মুসলিম ও মুমিন হয়ে মৃত্যুবরন করতে পারি এই দোয়া করি। (আমীন)

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

আত্নীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক, সামার ক্যাম্প ২০১৭

এবার সামার ক্যাম্পের থিম ছিলো
“Improve connectivity with family and community”
খুব বেশি লেকচার ছিলো না। তবে যে দু- একটি ছিলো তার মধ্যে ছিলো অনেক শিক্ষনীয় কিছু। মাহবুবুল আলম ভাইয়ের লেকচার ছিলো “Lesson from muhammad (sm) on connecting with family and society”
এখানে তিনি সুন্দরভাবে পরিবার ও কম্যুনিটির সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে সেটি কুরআন এবং হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিছু উদাহরন কিছু কথা ছিলো সত্যিই অনেক সুন্দর।

আমরা জানি শেষ বিচারের দিন আল্লাহর রাব্বুল আলামিনের সামনে আমাদের সব কাজের হিসেব দেয়া লাগবে। উনি হবেন বিচারক। তবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিছু বিষয় আগেই ফয়সালা করে দিয়েছেন। তো মাহবুব ভাই একটি সুন্দর হাদিস বলেছিলেন

“রাসুল (সাঃ) বলেন, আল্লাহ তা´য়ালা যখন সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করলেন, তখন ´রেহেম (আত্নীয়তা)` উঠে দাঁড়ালো/উঠে দাড়িয়ে আল্লাহর কোমড় ধরল। আল্লাহ তা´য়ালা বললেন তুমি কি চাও? সে বলল, এটি হলো আত্নীয়তার ছিন্নকারী হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনার স্থান! তিনি বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমার সাথে সম্পর্ক রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবো। যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্ন করব।? রেহেম বললো জ্বী, হ্যা প্রভু! তিনি বললেন এটি তো তোমারই জন্য।

রাসুল (সাঃ) আরো বললেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমিই রহমান (দয়ালু), আমার নাম (রহমান) থেকেই `রাহেম` (আত্নীয়তার বন্ধন)- এর নাম নির্গত করেছি। সুতরাং যে আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে আমি তার সাথে বজায় রাখব এবং যে তা ছিন্ন করবে আমি আমা হতে তাকে ছিন্ন করব। ” আল- আদাবুল মুফরাদ, হাদীস/৫৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন পাকে বলেছেন, “ক্ষমতা লাভ করলে, সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্নীয়তা বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদেরকে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন। ” সূরা মুহাম্মাদঃ ২২

কাল কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ বিচার নেয়া শুরু করলে কেউই রেহাই পাবেনা । যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কিছু থাকবে না, সেদিন যদি আল্লাহ কাউকে লানত দেয় তাহলে তার কোন রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।

অপর এক হাদিসে আছে কোন এক সাহাবা রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকি এবং যদি সেই আত্নীয় আমার প্রতি খারাপ আচরন করে তাহলে, তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, তুমি যদি তার প্রতি ভালো আচরন করো এবং সে তোমার প্রতি খারাপ আচরন করে তাহলে এটি এমন যে, তুমি তার মূখে ছাই নিক্ষেপ করছো।
অর্থাৎ সে নিজে বেঁচে যাবে কিন্তু ঐ ব্যাক্তির উপর আল্লাহর লানত পড়বে।

মাহবুব ভাই খুব সুন্দর একটি উদাহরন দিয়েছিলেন।
কিয়ামতের সময় আসলে কি ঘটবে? পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে সব উলট পালট হয়ে যাবে। নক্ষত্র গুলো স্থানচ্যুত হয়ে ছুটোছুটি করবে। পাহাড় গুলো তুলার মত উড়বে।

উনি প্রশ্ন করেছিলেন, আত্নীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এতো কঠোর নির্দেশ কেন দিলেন? বা সম্পর্ক জিনিসটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

গ্যালাক্সিতে গ্রহ, তারকারাজী এবং নানা পদার্থের মধ্যে একটি সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সুন্দর সম্পর্কের কারনে যে যার কক্ষপথে একটি সুনির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে। কাল কিয়ামতের দিনে আল্লাহ শুধু এদের মধ্যে যে সম্পর্ক বিদ্যমান সেটি নষ্ট করে দিবেন ফলে সম্পর্কহীন হয়ে ছন্দ হারিয়ে ছুটো-ছুটি শুরু করে দিবে। একে অপরের সাথে সংঘর্ষে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। কিয়ামত সংঘটিত হবে।

আত্নীয় এবং প্রতিবেশিদের সাথে সম্পর্ক গুলো ও এমন। যদি সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেখানে শান্তি থাকেনা। যদি সম্পর্ক খুব বেশি খারাপ হয়ে যায় তাহলে সেই জায়গায় ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও সব কিছু তছনচ হয়ে যায়। এজন্য আত্নীয়তার সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার যেখানে একটি ইউনিট সেখানে পরিবার দূর্বল হলে সেই সমাজই দূর্বল হয়ে পড়ে। শক্তিশালী শান্তিময় পরিবার গঠন ইসলামের অন্যতম মূল বিষয়। পরিবার শক্তিশালী হলে, সেই পরিবার নিয়ে গঠিত সমাজ তথা রাস্ট্র ও শক্তিশালী হয় ও শান্তিময় হয়। ইসলাম যেখানে শান্তির বানী শোনায় সেখানে পরিবার শান্তিময় হলে গোটা দুনিয়ায় তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য।

রাসুল (সাঃ) তার মৃত্যু শয্যায় উম্মতকে সাবধান করে বলেছেন, “তোমাদের আত্নীয় স্বজন, তোমার আত্নীয়-স্বজন (সম্পর্কে সাবধান হও)” ছহীহ জামে´ হা/৮৯৪, সনদ সহীহ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আত্নীয়-স্বজনের সম্পর্কের ব্যাপারে আমাদের যত্নশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

বাংলাদেশ ভ্রমন

দেশে সার্বিকভাবে মানুষের চলার গতি বেড়েছে। শৈশবে আমাদের গ্রামে একটা রিকশাও ছিলো না দুটো গ্রাম মিলে হয়ত দুটা একটা রিকশা পাওয়া যেত। গরুর গাড়ী ছিলো প্রধান মাধ্যম। দিন অনেকখানি বদলে গিয়েছে। প্রতিবছরই যাই আর নতুন কিছু চোখে পড়ে। গরুর গাড়ি থেকে রিকশা এরপর গিয়ে দেখলাম অটোরিকশাগুলোয় ভরে গিয়েছে পুরো শহর। অটোরিকশার সাথে পাল্লা দিতে প্যাডেল চালিত রিকশায়ও ইঞ্জিন লাগিয়েছে চালকরা। মজার র‍্যাপার হলো গ্রামে আগে যেখানে কাজের লোক কাজের জন্য ধর্না দিত এখন বাসায় কাজের মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আগে সৈয়দপুরে বিমান ছিলো সপ্তাহে ১ টা তাও মাঝে মধ্যে বন্ধ থাকতো। এখন সেখানে দৈনিক ৪-৫ টি বিমান যাতায়াত করছে। মানুষ চা পান করতে করতে রাজধানীতে পৌছে বাজার করে আবার ৩৫০ কিমি পাড়ি দিয়ে বাড়ি পৌছতে পারছে।

এই চলার গতি বাড়ার পেছনে কাজ করছে প্রতিযোগিতার মনোভাব, সাথে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতা মানুষের জীবন নিয়ে দৃষ্টিভংগি পাল্টে দিয়েছে। মানুষ নিজের অধিকার এবং আত্নসম্মান নিয়ে এখন অনেক সচেতন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কারনে মানুষ স্ব-নির্ভরশীল হওয়ার কারনে সামাজিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্যে দৃশ্যমান ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন গ্রাম মোড়লের কর্তৃত্ব মানুষ মানেনা কারন মানুষ আগে যেমন অন্যের উপর অনেক নির্ভরশীল ছিলো এখন সেই নির্ভরশীলতার পরিমান কমেছে অনেকখানি। তবে এর পুরো কৃতিত্ব আমি রাষ্ট্রকে দিবো না এই কৃতিত্বের বেশির ভাগই শ্রমজীবি মানুষদের।

তবে মানুষের শরীর যেভাবে গতিশীলতা পেয়েছে, মানুষের মনের গতি সেভাবে বাড়েনি। শারীরিক গতিশীলতার জন্য যে উপরকরন দরকার সেগুলোর সহজলভ্যতা মানসিকভাবে গতিশীল হওয়ার উপকরন গুলোর অভাববোধকে অদৃশ্য করে রেখেছে। ফলে মানুষের মননশীলতার বিকাশ অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার সাথে তাল মেলাতে পারছেনা ফলে সমাজে অস্থিরতা বেড়েছে। বাড়াটাই স্বাভাবিক। শরীরের পুষ্টির জন্য মানুষ যখন সংগ্রামে ব্যস্ত, মানুষ যখন সমাজে নিজের আসন প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত সেখানে সবার অজান্তেই মন নামক জিনিসটি ক্ষুধায় কাতর হয়ে মৃতপ্রায় হয়ে বেচে আছে। ফলে মানুষের সামাজিক বন্ধন, পারিবারিক বন্ধন গুলো, সম্পর্ক গুলোর মধ্যে সমস্যা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

আমার কাছে মনেহয় বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সামাজিক আন্দোলনের জন্য দৃশ্যমান এজেন্ডা থাকা উচিত। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি সমাজে যাতে করে নৈতিকতার মানের উন্নতি হয়, যাতে করে সুস্থ মানসিক বিকাশও ত্বরাণ্বিত হয় সে বিষয়ে কাজ করা উচিত। নাহলে ধীরে ধীরে আমরা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিংবা পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে থাকবো।

অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে মানুষের শরীর ও মানসিকতার বিকাশ হোক। নৈতিকভাবে শক্ত সমাজ গড়ে উঠুক এই কামনা সব সময়ের জন্য।

বিজয় মাসের ভাবনা

প্রেম ভালোবাসা যত বেশিনা বাহ্যিক তার চেয়ে বেশি আত্নিক। ভালোবাসা একটি অনুভূতি, একটি অনুভবের বিষয় যে অনুভূতি মানুষকে সর্বদা জাগ্রত রাখে ভালোবাসার জিনিসটির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রতির প্রতি তার দ্বায়িত্বানুভূতিতে। বাংলাদেশে ঈদের জামায়াতে, কিংবা শুক্রবারের নামাজে যেমন মুসলমানের সংখ্যা দেখে অভিভূত হতে হয় ঠিক তেমনি ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ সে মার্চে দেশপ্রেমিক মানুষের সংখ্যা দেখে অভিভূত হতে হয়। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসর যে পরিবেশ তৈরী হয়, তা দেখে আগ্রাসী শক্তির বুকে হয়ত কাপন ধরে যায় সে দিনটির জন্য।
দেশকে ভালোবাসার প্রতিকীস্বরূপ পতাকাকে সন্মান করতে শেখানো একটি জাতিগত ট্রাডিশনের পরিনত হয়েছে। দেশের প্রায় বেশিরভাগ স্কুল কলেজ গুলোতে জাতীয় পতাকাকে সন্মান দেখানো, স্যালুট জানানো একটি নিত্য দিনের দ্বায়িত্ব। অথচ পশ্চিমাদেশগুলোতে স্কুল কিংবা কলেজে পতাকাকে প্রতিদিন স্যালুট দেয়া হয়ত শেখানো হয় না। তবে এখানে সবার মনের মধ্যে দেশেপ্রেমের পরিবেশ তৈরী করে দেয়া হয়, যেটি হয়ত বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
জার্মানী জাতির কোন সদস্যের সংস্পর্শে আসলে অনেকেই বুঝে যায় এরা কতবড় জাতিপ্রেমিক, প্রয়োজন না হলে এরা ইংলিশে কথা বলেনা, ঠিক তেমনি অনেক সুইডিশ আছে প্রয়োজন ছাড়া ইংলিশ বলে না, অথচ এরা যে ইংলিশ এ অনেক পারদর্শী সেটা কথা বলা শুরু করলে বুঝা যায়।
অপর পক্ষে আমরা বাংলাদেশিরা দেশপ্রেমের যে আবেগ নিয়ে চলি, তার সিকিআনা পরিমানও আমাদের কাজে প্রকাশ পায় না। আমরা বাংলাভাষায় কথা না বলতেই পারলেই নিজেদের স্মার্ট ভাবি।
বেশকিছুদিন আগে এক সুইডিশ বাংগালীর সাথে কথা হচ্ছিলো, কথায় কথায় তিনি বললেন, তার লাল পাসপোর্ট আছে (যারা সুইডিশ তাদের পাসপোর্ট লাল হয়), তিনি আরো বললেন তিনি সুইডিশ। আমি একটু ফান করার জন্য বললাম যে আপনিতো বাংলাদেশি, উনি তখন জোড় দিয়ে বললেন যে না, আমার লাল পাসপোর্ট আছে, আমি সুইডিশ। এটি হলো আমাদের দেশপ্রেমের একটি উদাহরন। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি কিভাবে বাংলাদেশি পরিচয় লুকিয়ে বেচে থাকা যায়। হয়ত সবাই করে না তবে বেশির ভাগে যে করা সেটি নিজেদের অন্তরকে প্রশ্ন করলেই বুঝা যাবে। অথচ এইরকম দেশপ্রেম নিয়ে আমরা অনেক গর্বিত, নিজেদের অনন্যা জাতি ভেবে স্বপ্ন দেশি, আহা আমরা কতই না গর্বিত জাতি।
দেশপ্রেমের শিক্ষা নেই আমরা অপরকে ঘৃণা করার মধ্য দিয়ে, যদি অন্যকে ঘৃণা না করতে না পারি তাহলে যেন আমাদের দেশপ্রেমের কোন প্রকাশই ঘটেনা। যে জাতি যত নিচু তাদের মধ্যে শ্রেনীগত দ্বন্দ তৈরী হয় ফলস্শুতিতে তারা একে অপরকে এক ভাই আর ভাইকে এক বন্ধু আর এক বন্ধুকে ঘৃণা করে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটায়।
স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের মন মানসিকতার উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি পরিলক্ষিত হয় নি। দূর্নীতিগ্রস্থ রাজনীতির চর্চা আমাদের তরুন সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রকে আরো বিস্তৃত করছে। জাতি এগিয়ে যাচ্ছে পেছনের দিকে।

বিজয়ের এই মাসে যারা তরুন বাংলাদেশি, যারা জাতির ভবিষ্যত, তারা সবাই বিভেদ ভূলে গিয়ে, সম্মিলিতভাবে জাতিগত পরিচয়কে কিভাবে সমুন্নত করা যায় সেই চেষ্টাই করুক, জাতিগত প্রশ্নে সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করুক, সবাই নিজেদের আদর্শের চেয়ে নিজ দেশের স্বার্থ এবং জাতিগত পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেয়ার শপথ নিক, এটাই হোক বিজয় দিবসের কামনা, এটাই হোক বিজয় মাসের প্রেরনা। এই প্রেরনা বেচে থাক যুগ যুগ সবার মাঝে। আমরা আবার বাংগালী থেকে মানুষ হই, সেই কামনা করি।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!! দেশপ্রেমিক জনতা জিন্দাবাদ!

ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা

আগামীকাল আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। প্রতি বছর মে মাসের ১ তারিখ এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। ১৮৮৬ সালের ৪ মে শিকাগোয় শ্রমিকদের সমাবেশে পুলিশের গুলি বর্ষনকে উপলক্ষ্য করে প্রতি বছর মে মাসে এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। তারপর শ্রমের বৈষম্য শ্রমিকের মজুরীর বৈষম্য প্রকট। প্রতি বছর এরকম হাজারো দিবস পালন করা হয়ে থাকে। অথচ সমাজের বৈষম্য দুরীকরনে কোন বাস্তব পদক্ষেপ না থাকায় এসবের কোন সমাধান হয় না। পত্রিকার পাতা খুললেই প্রতিদিন কোথাও না কোথাও শ্রমিকের উপর নির্যাতন, গৃহ পরিচারীকাদের উপর নির্মম নিষ্ঠুরতা মাঝে মাঝে আমাদের আচরনকে পশুর চেয়ে নির্মম মনে করে দেয়। এর মূল কারন হলো ইসলামের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়া। মানুষে মানুষে শ্রদ্ধাবোধ না থাকা। সেদিন এক প্রফেসর বললেন যে, তোমরা অনেক লাকি যে, তোমরা মুসলিম তোমাদের অ্যালকোহল পান করতে হয় না। আল্লাহর এক নির্দেশ অ্যালকোহল পান হারাম, তাতে সমাজে আমূল পরিবর্তন কোন মুসলিম স্বজ্ঞানে অ্যালকোহন পান করতে পারে না। অথচ হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে প্রচারনা চালিয়ে ও তাদের সমাজে এসবের বাস্তব কোন অগ্রগতি নেই।

এরকম নারী দিবস, মা দিবস আরো কত দিবস। বছরের প্রতিদিন এ একটি করে দিবস পালন করা হয়।

অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে কত সুন্দর নিয়ম বলে দিয়েছেন , যা পালন করলে, আমল করলে সমাজের মধ্যে এসব দিবসের পালন করার দরকার হতো না। ইসলামে মানুষে মানুষে সমতা, ন্যায় ও সাম্যর কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে শ্রমিকের মজুরীর কথাও। ন্যায় ও স্বচ্ছ লেনদেনকে ইসলামে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। সামাজিক ন্যায় বিচার ছাড়া সমাজে শান্তি ও শৃংখলা রক্ষা করা খুবই কঠিন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেছেন,
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত।” সূরা নিসাঃ ১৩৫

এই জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও পেশা নির্বিশেষে পৃথিবীতে সকল মানুষই সমান। ছোট-বড়, ধণী-গরিব, সাদা-কালো, দেশী-বিদেশী বৈধ কাজের জন্য সবার সমানভাবে সন্মান পাওয়ার উচিত।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে বলেছেন,

“হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।” সূরা হুজুরাতঃ ১৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের কে এক আদম (আঃ) আর বিবি হাওয়া থেকে পয়দা করেছেন। মানুষ হিসেবে আমাদের সবার সমান সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই কাউকে ছোট কাউকে বড় করেছেন শুধুমাত্র পরীক্ষা করার জন্য। এর জন্য কিয়ামতে জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন,
”তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।” সূরা আল আনআমঃ১৬৫

সূরা যুখরুফ এর ৩২ নং আয়াতে বলতেছেন,
“তারা কি আপনার পালন কর্তার রহমত বন্টন করে? আমি তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহন করে।”

নবী করীম সাঃ বিদায় হজ্জ্বের ভাষনে বলেছিলেন;
“হে মানুষেরা! অবশ্যই তোমাদের প্রভু একজনই। তোমাদের পিতা একজনই। আরবের উপর অনারবের, অনারবের উপর আরবের, কালোর উপর সাদার, কিংবা সাদার উপর কালোর কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্ব কেবল মাত্র আল্লাহর উপর ভক্তির উপর” মুসনাদ আহমাদ।

ইসলামে শারীরিক শ্রমকে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। যারা নিজের অর্জিত জীবিকা দিয়ে জীবনযাপন তাদেরকে সম্মানিত করা হয়েছে। শ্রমিকের সাথে যখন কাজের চুক্তি অবশ্যই ন্যায় সঙ্গত হওয়া জরূরী। শ্রমিকদের তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য জানানো উচিত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে বলছেন,
“হে বিশ্বাসীগন! তোমরা তোমাদের চুক্তিকে পূর্ণ কর” সূরা মায়েদাঃ ১
নবী করীম সাঃ বলেছেন,
“মুসলিমদের অবশ্যই চুক্তি রক্ষা করে চলা উচিত।” তিরমিযী
শ্রমিকদের সম্মানের সাথে আচরন করা উচিত। ইসলামে শ্রমিকদের সাথে কোমল ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

“আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে। যারা নিজেরাও কার্পন্য করে এবং অন্যকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দান করেছেন স্বীয় অনুগ্রহে-বস্তুতঃ তৈরী করে রেখেছি কাফেরদের জন্য অপমান জনক আযাব।” সূরা নিসাঃ ৩৬-৩৭।

শ্রমিকদের ক্ষমতার বাইরে তাদের উপর কাজের বোঝা চাপিয়ে দেয়া ঠিক না। তাদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ রাখা জরূরী। শ্রমিকেরা আঘাত পেলে তাদের ক্ষতিপুরুনের ব্যবস্থা থাকা উচিত। এবং তাদের কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় থাকা উচিত।

“আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ এসে গেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ন কর এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যদি কম দিয়ো না এবং ভুপৃষ্টের সংস্কার সাধন করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। এই হল তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।” সূরা আল আরাফঃ ৮৫

যারা মাপে কম দেয় তাদেরকে সতর্ক করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন,
“যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ,যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয় এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়।তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে। সেই মহাদিবসে,যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।” সূরা আল মুতাফ্ফিফিনঃ ১-৬
সুতরাং শ্রমিকদেরকেও তাদের মজুরী থেকে যদি বেশি কাজ করিয়ে মজুরী কম দেয়া হয়, তাহলে কাল কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সেদিন আল্লাহর আরসের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।

শ্রমিকদের সঠিক সময়ে তাদের মজুরী দিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
“শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তাদের মজূরী দিয়ে দিও” ইবনে মাজাহ।

শ্রমিকেরা যে পরিশ্রম করে, যে অমানবীয় কষ্ট করে তার প্রতি সম্মান রক্ষা করে, যথাসময়ে তাদের মজুরী দিয়ে দেয়া উচিত। অনেকেই মজুরী দিতে গড়িমসী করে। আবার আমাদের দেশে গার্মেন্টস সেক্টরস গুলোতে খুবই কম মজুরী দেয়া হয়। আল্লাহর কাছে জবাবদিহি থেকে রক্ষা পেতে চাইলে শ্রমিকের মজূরীর ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া জরূরী। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী শ্রমিকদের সাথে আচরন করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

জীবনের স্বার্থকতা কোথায়?

মানুষের জীবনের স্বার্থকতা কোথায় এটা ভেবে কোন কূল কিনারা করতে পারছি না। মনে মনে ভেবেছি যে আসলে জীবনটা কেন? এই যে ছোট থেকে বড় হওয়া। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কত সংগ্রাম, কত সাধনা কেন ই বা এতো কিছু? মানুষে মানুষে কেন ই বা এতো প্রতিযোগিতা? তারপর নিজের চোখের সামনে মা বাবার চলে যাওয়া এবং নিজেদের মৃত্যুর জন্য চেয়ে থাকা। এরকম নানা প্রশ্ন কেন জানি মনটাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। তারপর কত ধর্ম!, কত মত!, কত পথ!, সবাই নিজেদের শ্রেষ্টত্ব তুলে ধরার আপ্রান চেস্টা? কিন্তু আমরা কি সন্তুষ্ট থাকতে পারছি? কেন ই বা পারছিনা? বাংলা খবরের কাগজ খুললেই দেখি প্রতিদিন কত মানুষের কত রকমের যে মৃত্যু হচ্ছে তার কোন ইয়াত্তা নেই। প্রশ্ন জাগে এসব মানুষের জীবনের অর্থ কি? মনেহয় খবরের কাগজের বিষয়বস্তু হওয়ার জন্য ই এদের জন্ম (?)। তারপর ও এসব জীবনের একটা স্বার্থকতা খুজে পাই যে এরা নিজের জীবন দিয়ে অন্তত বাংলার কিছু মানুষের (?) রুজি রোজগারের ব্যবস্থা করে গেলেন। পত্রিকা মালিকের পেপারের কাটতি হবে, রাজনীতি বিদদের রাজনীতি হবে, টিভিতে টকশো হবে, কিছু বিবৃতি আসবে সব কিছুই হবে কিন্তু ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে না। কারন টা কি?

আসলেই কি আমরা মানুষকে নিয়ে ভাবি? আমরা কি আসলেই আদর্শিক রাজণীতিতে বিশ্বাসী? আমরা কি আসলেই গনতন্ত্রে বিশ্বাসী? আমরা কি আসলেই ইসলামী আন্দোলনে বিশ্বাসী? আমরা কি সবাই আমাদের নিজ নিজ আদর্শকে ধরন করতে পারছি? 

এসব পারিনা বলেই কি আমরা আমদের ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য গলাবাজি করি? বাংলাদেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে এখানে যারা বাস করে তারা উতপত্তিগত ভাবে একই শ্রেনীর মানুষ। এদের বর্ণ ও এক। একই জাতির মানুষ। শুধু মাত্র রাজনৈতিক কারনে এত বেশি মৃত্যু বিশ্বের কোথাও বোধ হয় নেই। আর একটা বিষয় বাংলাদেশে যত বুদ্ধিজীবির বাস বিশ্বের কোন দেশে এরকম বুদ্ধিজীবির দেখা খুব কম পাওয়া যায়।

মুক্তবুদ্ধির চর্চা না হলে নাকি একটা জাতি জাতিগত ভাবে উন্নতি লাভ করতে পারেনা। কিন্তু আমরা নিজেদের গনতন্ত্রমনা, মুক্তবুদ্ধির ধারক মনে করে কখন ও এর যথার্থ প্রয়োগ করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে শুরু করে এখন রাস্তার অলিগলি কোথাও আমরা রাজনৈতিক সহাঅবস্থান মেনে নিতে পারিনা। অর্থাত আমরা যা বলি তা আমরা বিশ্বাস করিনা। অথবা আমরা যা বলি তা আমরা বুঝিনা।

আমরা যদি মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থানে সত হওয়ার চেস্টা করি, আমরা যা বিশ্বাস করি তা বুঝে পালন করার চেস্টা করি। এবং মানুষ হিসেবে মানুষকে, মানুষের জীবনকে সন্মান করতে শিখি তাহলে আমরা জাতিগত ভাবে কিছুটা হলেও সভ্য হতে পারব। 

খুব দুঃখ হয় বাংলাদেশে মানুষ গুলো শান্তিতে মরতে ও পারেনা আর মরে ও শান্তি পায়না। কি আজব জাতি আমরা? আর আমরা কিনা নিজেদের নিয়ে খুব গর্ব করি। আসলেই কি গর্ব করার মত কিছু আমাদের।নাকি আমরা নির্বোধ বুঝতে পারিনা।

টিভি সংবাদ পাঠিকা হিসেবে নারী ও কিছু প্রশ্ন

টিভিতে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে নারীদের প্রাধান্য বেশ লক্ষনীয়। সুন্দর ও স্মার্ট তরুনীদের চাহিদা খুবই বেশি। আমার প্রশ্ন হলো নারীদের সংবাদ পাঠিকা হিসেবে প্রাধন্য কি নারীদের বাণিজ্যিকিকরনের নামান্তর না? বিশেষ করে ইসলামি দলগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় যে টিভি চ্যানেল গুলো আছে সেগুলোতে নারীদের ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি? যদি কে্উ দাওয়াতী কাজের যুক্তি দেয়ার কথা ভাবেন তাহলে বলবো অসুন্দর মেয়েদের এখানে সুযোগ কম কেন? শ্রোতাদের চাহিদার কথা বলবেন? যদি উদ্দেশ্য হয় সংবাদ পাঠ আর শ্রোতার উদ্দেশ্য যদি হয় সংবাদ শোনা তাহলে সুন্দর আর অসুন্দরের মধ্যে বৈষম্য কেন? নাকি আমরা বানিজ্যিক স্বার্থে আপোষ করে নিয়েছি? যদি উদ্দেশ্য হয় ভাল চেহারা দিয়ে পাঠকদের আকৃষ্ট করা তাহলে প্রশ্ন এর কতটুকু ঠিক?

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যু এবং আমার কিছু অনুভূতি

লেখাটি মিশুক মুনীরের ব্উয়ের মন্তব্যর প্রেক্ষিতে লেখা। তবে উনাকে রুপক ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

গত কয়েকদিনে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যু নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। যেমনটি হয়নি ৪০ জন ছাত্রের মৃত্যুর পর। যেমনটি হয়নি জাহাজ ডুবিতে ১০০-১৫০ জন মানুষের মৃত্যুর পর। আমার ভাবতে অবাক লাগে যে আমি বা আমরা কেউ ই সাম্যে বিশ্বাস করিনা। হয়তো অনেকে বলবেন যে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর দেশের সম্পদ । হয়তো তাই। কিন্তু যে ৪০ জন ছা্ত্র মারা গেলো তাদের মধ্যে থেকে ও হয়তো উনাদের চেয়ে বড় কেউ হতে পারত। জাহাজ ডুবিতে অনেক মানুষ মারা যায় , আমরা কিন্তু সেসব খেয়াল ই করিনা। সেখান থেকে তো বড় কেউ হতে পারত। কিন্তু অবাক করা বিষয় আমরা অনুভূতির সাম্যে বিশ্বাস করি না। আমরা মানুষের জীবন কে গরীব-ধনী ও নামী- বেনামীতে ভাগ করে ফেলেছি। আর তাই তারেক মাসুদের মৃত্যু আমাকে যেমন কাদায় , রহীমুদ্দিনের মৃত্যু আমাকে কাদায় না। মানুষকে পিটিয়ে যখন মারা হয় তখন আমরা চুপ করে থাকি আমরা ব্যাথিত হই না। আমাদের মানবিক অনুভূতিগুলো আসলে কমে গেছে।
আমাদের প্রধান সমস্যা আমরা বাস্তবতার চেয়ে আবগের দ্বারা বেশি প্রতাড়িত হ্ই। আমরা চিন্তার আগে সিদ্ধান্তে পৌছে যাই মতামত দিয়ে দেই।
তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর দুজন ই দেশের সম্পদ। দেশ দুটি সম্পদ হারিয়েছে। অনেকেই ফেইসবুকে লিখার মাধ্যমে কান্নাকাটি করেছে। নায়ক ইলিয়াস কান্চন যখন নিরাপদ সড়কের জন্য ১০-১৫ বছর ধরে আন্দোলন করছে তখন দেশের কয়জন সম্পদ তার সাথে নিজেদের একাত্নতা ঘোষনা করেছে । আমি কারো সমালোচনা করবোনা শুধু বলবো আমরা একটু বেশি আবেগী। আর এই আবেগের কারনে আমরা বাস্তবতাকে হারিয়ে ফেলি।
টিভি ও চলচিত্র দুটি মাধ্যম ই অনেক শক্তিশালী মাধ্যম। দেশের মানুষকে সচেতন ও প্রভাবিত করার জন্য এদুটি মাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর দুজনই এই দুই মাধ্যমের প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন।
শুধু ড্রাইভার কে দোষ কেন, সরকারকে বা দোষ কেন। হ্যা উনাদের দোষতো অবশ্যই আছে তবে আমরা কম কিসে।
আমাদের একটি একটি করে ভোট নিয়েই কিন্তু সরকার গঠিত হয়। আর সরকারকে দ্বায়ী করলে পারত পক্ষে এটা বললে মনেহয় অযৌক্তিক হবে না যে আমরা নিজেরাই অনেকাশে দ্বায়ী।
একটি একটি মানুষ মিলে একটি একটি মিছিল, একটি একটি মানববন্ধন কই আমরা কি নিরাপদ সড়কের জন্য সোচ্চার?? রাজনৈতিক দলতো আমাদের নিয়ে ই হয়। গরু ছাগলরাতো আর মিছিলে যায় না??
মন্তব্যটি করেছি এজন্য যে উনি স্বজন হারিয়েছেন বলে বুঝেছেন যে কেমন লাগে। কিছুদিন আগে একসাথে ৪০ জন ছাত্র মারা গিয়েছিলো সেদিন কিন্তু উনার অনুভূতি কিন্তু ওরকম ছিলো না। হয়ত কিছুদিন পর দেখবেন উনিও হাসিনা অথবা খালেদার পাশে হাটছে। এমন ই হয়। তাই বলেছি চিপায় না পড়লে কেউ মুখ খুলেনা।

আমরা ৪০ বছর আগের যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে ব্যস্ত। যুদ্ধে কতজন মানুষ মারা গিয়েছিলো আর কারা ই বা মেরেছিলো তাও আজ মিমাংসিত না। কিন্তু স্বাধীনতার গত ৪০ বছরে গড়ে প্রতিদিনে ৩০ জন করে ধরলে ৪৪২০০০ জন মানুষ শুধু একসিডেন্ট আর খুনোখুনিতে মারা গেছে। আমরা কয়জন এসব নিয়ে কথা বলেছি???? যা প্রতিনি্যত আমাদের ভোগাচ্ছে যেটা নিয়ে কোন বিরোধ নেই। সেটা নিয়ে আমরা কিন্তু কেউ কথা বলিনা। কারন আমরা সুবিধাভোগী। আমরা এসব নিয়ে কথা বললে ক্ষমতাসীন দলের ছায়া পাবোনা।
তাই আমি কাউকে দোষ দেইনা। দোষ দেই নিজেকেই। আমি ই বা আমার দ্বায়ীত্ব কতটুকু পালন করি বা করেছি। আর কতটুকু ই বা করব। হয়ত বা এই লিখা পর্যন্ত শেষ। হয়তো একদিন আমি অথবা আমার কেউ মারা যাবে সেদিন আমি উনার মতো ই কাদবো। কিন্তু তারপর সব আগের মতো।
ফেইসবুকে এক ভাইয়ের পোষ্টে মন্তব্য করছিলাম তার প্রতিউত্তরে লিখতে বসে এতো কিছু লিখা। মিশুক মুনীরের স্ত্রীর মন্তব্যর লিংকে বলেছিলাম “যে উনি ঠিকই বলেছেন কিন্তু উনার কথাগুলো কিন্তু স্বামী হারানোর আগে বের হয়নি। আমরা কেউ ই চিপায় না পড়লে কিছু ই বলি না।