মতামতের বৈচিত্র‍্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

মতের বৈচিত্র‍্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে যখন আপনি কোন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। সবার মতামত একই রকম হলে সিদ্ধান্ত গ্রহন হয়ত সহজ হয় কিন্তু সবচেয়ে ভালো পরামর্শটা বেচে নেয়ার অপশন তখন থাকেনা। এজন্যই রাসুল (সাঃ) সাহাবা (রাঃ) দের মধ্যে কোন বিষয়ে চিন্তার ভিন্নতাকে ভালো বলেছেন।

মতের উপর দৃঢ় থাকা বা অটল থাকা বা মতকে সর্বাধিক সঠিক মনেকরা সব সময় ঠিক না। ধরুন আপনি যখন নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তখন যদি অটল থাকেন হয়ত লাভ বেশি হতে পারে। কিন্তু আপনি সামষ্টিক কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন বা নিয়ে ফেলবেন তখন আপনি নিজের মতের উপর কঠোরতা অবলম্বন করলে, ভালো কিছুর সম্ভাবনা থাকলে সেটি আর হয়ে উঠবেনা। আর সামষ্টিক কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু আমানতদারীর বিষয়টি জড়িত তাই সামষ্টিক বিষয়কে সামষ্টিক দৃষ্টিকোন থেকে পর্যালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন ব্যক্তিমানুষ ইগো, ক্রোধ দ্বারা কমবেশি তাড়িত। সুতরাং কঠোরতা অনেক সময় সামষ্টিক আমানতদারীতাকে গৌণ করে তুলে, মানুষ অন্যের ভালোর চিন্তায় এত মগ্ন হয়ে পড়ে যে আল্লাহর লিখিত তা্ক্বদীর তখন অদৃশ্য হয়ে দাড়ায়। এজন্যই অনেক সময় কোন কিছুর ফল ভালো না হলে আমরা মেনে নিতে পারিনা কারন ব্যক্তি মানুষের গুন গুলো তখন ভর করে ফলে আল্লাহর যে ইচ্ছে থাকতে পারে সেটি কিছুটা গৌণ হয়ে দাড়ায়।

যেমন ধরুন আপনি কোন একটি কাজ করতে গেলেন, পারলেন না, আবার চেষ্টা করলেন পারলেন না, আপনি করতে চাইলেন এক ভাবে আর একজন বললো আর একভাবে আপনি করলেন আবার পারলেন ন. হলোনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা আফসোস করি, দোষ দেই কারন তখন আমরা তাক্বদীরের উপর যে বিশ্বাস সেটির ঘাটতির মধ্যে পড়ে যাই। ধরুন আপনি আপনার পরিবার, বাচ্চার জন্য সবভাবে চেষ্টা করলেন হলো না, সমানভাবে চেষ্টা করলেন আপনি ভাবলেন এক হলো আরএক।

যেটি বলতে চাচ্ছিলাম, আমার কাছে মনেহয় সামষ্টিক কোন বিষয়ে ধৈর্য্য অবলম্বন করা, মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, এবং সামষ্টিক আমানতকে মনে রেখে নরম হৃদয়ে পথ চলার মধ্যে কামিয়াবী আছে। এক; অাল্লাহর দেয়া আমনতের নষ্ট হওয়ার জন্য ভয় যেমন কম থাকে, তেমনি সময় ও পাওয়া যায় শুধরিয়ে নিয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো পথে অগ্রসর হওয়া যায়। দুই: ব্যক্তি মানুষের ইগো, রাগ, ক্রোধকে দমিয়ে সুন্দর মনে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

তবে সবশেষে মুমিনরা সব খানেই আল্লাহর কল্যান খুজে পাওয়ার চেষ্টা করে। মুমিনরা কখনও হতাশ হয় না। তাখলিফ থাকবে, আকাংখা থাকবে, ভবিষ্যত চিন্তায় অস্থিরতা থাকবে এর মাঝেও শান্ত হৃদয়ে আল্লাহর উপর অবিচল থেকে সবার ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে চলার মধ্যেই প্রকৃত মংগল নিহিত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবার হৃদয়কে কোমলতায় ভরে দিক। মনের অস্থিরতা দুর করে প্রশান্ত আত্না দান করুন। এই কামনা করি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

বিলুপ্তির পথে বিয়ে

বৈশ্বয়িক উন্নতির সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে সমাজের প্রথাগুলোর, সমাজের প্রতিষ্ঠান গুলোর। বিয়ে নামক যে প্রথার মাধ্যমে সুন্দর পরিবার তৈরী হয়, সেই বিয়ের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। সমাজের ট্রাডিশনগুলোর পরিবর্তন কত দ্রুত হচ্ছে। কোন কোন দেশে ৫৫-৭৫ ভাগ বাচ্চার জন্ম হচ্ছে বিয়ে ছাড়াই। ব্রাজিলের ৩টি বাচ্চার মধ্যে দুটিই হচ্ছে বিয়ে ছাড়া। ভাবছেন এর বাতাস বাংলাদেশে লাগবেনা?? চিন্তার বিষয় বটে! বিয়ের মাধ্যমে যে পরিবার তৈরী হয় সেই পরিবারে যে বাচ্চাগুলো বড় হয় সেই বাচ্চাগুলো মানসিকতার ধরন হয়ত বিয়ের বহির্ভূত জন্ম নেওয়া বাচ্চাগুলোর মানসিকতা থেকে আলাদা। অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশগুলোতে বিয়ে ধীরে ধীরে জাদুঘরে স্থান করে নিচ্ছে।

20160116_IRC052.png

খুবই শংকার বিষয় হলো ইদানিং বাংলাদেশে তালাকের হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ডিভোর্স পিটিশনের সংখ্যা ছিলো ৮,১৯১ টি, যা পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় বেশি ৭,৬৫৩ টি ছিলো ২০১২ সালে এবং ২০১১ সালে ছিলো ৬৭৭৬ টি এখানে ক্লিক করুন…। তালাকের হার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আমার কাছে মনেহয় সমাজে একধরনের অসহিষ্ণু মানসিকতা কাজ করছে। হয়ত এটি হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের যে ট্রানজিশন পিরিয়ড সেটির কারনে। হয়ত এই পরিবর্তন যে কোন একদিকে হয়ে যাবে। তালাকের হার বৃদ্ধি ধর্মভিত্তিক সমাজের জন্য এই জন্যই আশংকার যে এতে করে সমাজের উপর এক ধরনের চাপ তৈরী হয়, ফলে অন্যায় অব্যবস্থাপনার পথ প্রশস্ত হয়। পরিবারের প্রতি মানুষের একধরনের ঘৃণা তৈরী হয়। আর এই ঘৃণা থেকে মানুষ বৈবাহিক জীবনের চেয়ে বিয়ে না করেও এক সংগে থাকার পথ বেচে নেই, যাতে করে ঝামেলা হলে আলাদা হওয়া যায়।

ইদানিং অনেক প্রাকটিসিং মুসলিমের মধ্যেও এই তালাকের প্রবনতা আছে।
https://purematrimony.com/ এই সাইটটি মুসলিমদের বিয়ের জন্য প্রাকটিসকিং মুসলিম/মুসলিমাহ খুজতে অনেক ভালো ভূমিকা রাখছে। আমি নিজেও কিছুদিন সাইটটি ব্যবহার করেছি। মজার ব্যাপার হলো অনেক ইয়ং মুসলিমাহ আছে যারা তালাক প্রাপ্তা। বিষয়টি নিয়ে আমি ভেবেছিলাম যে কেনো এত অল্প বয়সে তালাকের ঘটনা ঘটছে। আমার কাছে মনেহয় নিজে নিজে ইসলাম শেখার কারনে, ইসলামকে কনটেক্সট বুঝে প্র‍্যাকটিক্যালী না শেখার কারনে। কিছু শিখেও মনের মধ্যে এক ধরনের ধারনা তৈরী করে অসহিষ্ণু মনোভাব তৈরী করে ফলে হঠাত করে অনেক পরিবর্তন কামনা করে যা পরিবারে সমস্যা তৈরী করে ফলস্বরূপ বিচ্ছেদ। এগুলো নিয়ে মুসলিম সমাজে আলোচনা হওয়া দরকার। আমার কাছে মনেহয় বাংলাদেশের মত দেশে উন্নত বিশ্বের মত পরিসংখ্যান তৈরী হওয়ার আগেই শুধুমাত্র রাজনীতির পেছনে না ছুটে সমাজের এই সমস্যা গুলো নিয়ে কাজ করা উচিত। সমাজে যদি সমস্যা থেকে যায় তাহলে রাজনীতির পেছনে সময় নষ্ট করে লাভ কি হবে? রাজনীতির চেয়ে সমাজের এসব সমস্যা নিয়ে কাজ করা উচিত।

20160116_IRC960

বিবেচনায় নেয়ার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে প্রাকটিসিং মুসলিমদের মধ্যেও তালাকের হার বেড়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টির উপর খুব গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা উচিত যাতে করে এটি সমাজে মহামারী আকার ধারন না করে।

ইসলামি রাজনৈতিক দুলগুলো সমাজের এরকম সমস্যা ভিত্তিক কিছু প্রজেক্ট হাতে নিতে পারে। কিছু মানুষকে এগুলোর জন্য কাজ করার জন্য ডেডিকেটেড ভাবে নিয়োগ করতে পারে। তাহলে সমাজের কাছে কাজগুলো প্রসংশিত ও হবে আবার কিছু সমস্যা দুর হবে, সমাজের কাঠামো ঠিক থাকবে, প্রথাগুলো বেচে থাকবে। যা একটি জাতির পরিচয়কে বাচিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

চার্ট দুটির উৎস, দ্যা ইকোনমিষ্ট

আরো কিছু পরিসংখ্যান নিচে দেয়া হলো।

Marital History of U.S. Men from 1940-2012

marital-history-of-men-by-birth-cohorts-2008-2012

যারা জীবনে কখনই বিয়ে করেনি তাদের সংখ্যার হার ১৯৭০-৭৯ সালের মধ্যে দ্রুতই বৃদ্ধি পেয়েছে এই সংখ্যা হয়ত এখন আরো বেশি।

সংগঠনের সমালোচনা ব্যক্তিগত অভিমতঃবাইয়াত

অনেক ভাই মাঝে মাঝেই বলে প্রানের সংগঠন। আমার কাছে বিষয়টি একটু খটকা লাগে যখন এই প্রানের সংগঠনের কথা বলতে গিয়ে প্রায়শঃ অনেকেই ইমোশনাল হয়ে পড়ে। তখন একটি ইকুয়েশন মেলানোর চেষ্টা করি

সংগঠন=ইসলাম ; এটা কি আসলেই একটি সঠিক ইকুয়েশন? ইকুয়াল হওয়া নিয়ে কি আমরা ভাবি??

সংগঠন বলতেই আমরা বেহুশ, আমার কাছে মনেহয় সংগঠনের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারনেই পলিটিক্স নামক ধুম্রজাল প্রায়শই আমাদের আমল এবং চিন্তার মাঝে ভেজাল ঢ়ুকে দেয়। সংগঠনকে অবশ্যই ভালোবাসতে হবে, কিন্তু সেটি অন্ধভাবে নয়। অন্ধভাবে ভালোবাসলে তো আমরা আবু জেহেল এবং আবু লাহাবদের মতই অন্ধ ভাবে বাপ-দাদা রেখে যাওয়া জিনিসকে আকড়ে ধরলাম।

ইসলাম গতিশীল, যারা বলে প্রানের সংগঠন তারা যদি প্রানের সংগঠনের জায়গায় প্রানের ইসলাম বলতো তাহলে বেশি ভালো শোনাতো। কারন হলো মানুষ বৈশিষ্ট্যগত ভাবে যা ভালোবেসে বড় হয় সেটাকেই বড় ভাবতে শেখে, ফলে যা কিছু সে বিচার করে সেই ছাকনির আলোকেই বিচার করে যা সে ধারনা লাভ করে আশেপাশের পরিবেশ থেকে। ফলে অনেক সময় সংগঠনের স্বার্থ এবং ইসলাম কিংবা আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরী হয়। মানুষের ভালোবাসার সংগঠনের গতিশীলতার জন্য, আমরা নিজের অজান্তেই অনেক কিছু মেনে নেই যা হয়ত রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের পরিপন্থী। আবার অনেক সময় এমনও দেখা যায় মতের অমিলের কারনে হয়ত অনেক সম্ভবনাময় কর্মীর মান উন্নয়ন কিংবা খুব ভালো আমলের কেউ দ্বায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এটি হয় কারন সংগঠনের স্বার্থ সবার আগে থাকে আর যেহেতু আমরা সংগঠনকে সেভাবেই ভালোবাসি তাই অনেক সময় সংগঠনের স্বার্থ বলতে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই বুঝি, কিন্তু সমস্যা দাড়ায় যদি সেই স্বার্থের আদায় রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের পথে না হয়। তখন হয়ত এসব মনে থাকেনা। আর সমালোচনা সেতো আনুগত্যের বড় খেলাপ।
To be muslim বইটির শেষ অধ্যায়ে বাইয়াতের গুরুত্ব নিয়ে কিছু লিখা আছে। লেখক সুন্দরভাবে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেছেন যে কাকে বাইয়াত দেয়া যাবে।

আবার বর্তমান সময়ে নানা ধরনের সংগঠন এবং নানা ধরনের মতভেদ, মত পার্থক্য তৈরী হওয়ায় বাইয়াত জিনিসটি একটি জটিল বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়। আমি হয়ত কেউ না এসব বলার। তবে কিছু প্রশ্নের উত্তর আমি খুজে ফিরি,

যেমন ধরুন আমি কোন ইসলামী সংগঠনের কাছে বাইয়াত নিলাম, যে আল্লাহর ও রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্য করব। করলাম ভাবোভাবে। এই দুই আনুগত্য নিয়ে হয়ত কারো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা দেয় সংগঠনের আনুগত্যএর ব্যাপারে। বাইয়াত নিয়ে অনেক সময় শুধুমাত্র মত পার্থক্যের কারনে বাইয়াত ছিনিয়ে নেয়া হয়। এখন প্রশ্ন হলো এই বাইয়াত ছিনিয়ে নেয়া বা বাতিল করার যোগ্যতা কারা রাখে?? আবার কেউ যদি কোন সংগঠন হতে বাইয়াত বাতিলে সম্মুখীন হয় সে যদি অন্য ইসলামী সংগঠনে যুক্ত হয় তাহলে সে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) এর বরখেলাপ করে কিনা??

আবার সে যদি অন্য ইসলামী সংগঠনে যুক্ত হয় তাহলে আগের সংগঠনের সেই উখুয়াতের আদর্শে উদ্ভুদ্ধ ভ্রাতৃসকল তাকে কিভাবে দেখে?? এগুলো আসলেই জটিল সাংগাঠনিক বিষয়। যদিও আমার মত ছোট ক্লাশের মানুষের কাছে এগুলো বোধগম্য নয় তবে মাঝে মাঝে এই বাইয়াত জিনিসটা ধাধায় ফেলে দেয় । আবার যখন তখন যখন কারো বাইয়াত কেড়ে নেয়া হয়, তখন এই ধাধা আরো বেড়ে যায়। যেমন ধরুন, আমি একটি ইসলামি সংগঠন যুক্ত থাকলাম বাইয়াত নিলাম, যদি আমি আর একটি ইসলামী সংগঠনে প্রোগ্রামে যাই এবং সেখানে যদি রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের বরখেলাম হয় এমন ঘটনা না হয় তাহলে আমার বাইয়াত কেড়ে নেয়া যাবে কিনা, বা নিলে সেটিও রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের সাথে যায় কিনা? এই বাইয়াত দেয়া এবং নেয়াকে যদি দুভাবে ভাগ করা যায়, এবং সেভাবে বিষয় গুলো দেখা হয় তাহলে প্রশ্ন কম তৈরী হবে, বাইয়াত আর ছেলেখেলার বিষয় মনে হবে না।

যেমন বাইয়াতকে দুই ভাগে ভাগ করা যাইতে পারে…।
১) সাংগাঠনিক শৃংখলা মেনে নেয়ার বাইয়াত
২) আল্লাহ এবং রাসুল (সাঃ) কে সর্বোতভাবে মেনে চলার বাইয়াত।

যদিও কেউ সাংগাঠনিক কোন শৃংখলা ভংগ করে তাহলে সেটিকে সাংগাঠনিক বাইয়াত নাম দিয়ে সেটির মুল্যয়ন করা যেতে পারে। আর কেউ যদি সাংগঠনের কাজ করার সময় আল্লাহ এবং রাসুল (সাঃ) আনুগত্যের কোন বরখেলাপ করে তাহলে তার মূল্যয়ন অন্যভাবে হওয়া উচিত। তাহলে একটি বিষয় ভালো হবে, সাংগাঠনিক ভাইয়াত কেড়ে নিলেও কেউ সংগঠন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেনা। তানা হলে, সংগঠনের সিন্ধান্তের বাইরে গেলে যে ইসলামের বাইরে চলে গেলো এমন একটি মনোভাব কর্মীদের মধ্যে তৈরী এবং এই কর্মীরা যখন দ্বায়িত্বশীল হয় তখন এটি আরো বেশি প্রভাব বিস্তার করে।

ইনশাল্লাহ এই বিষয় নিয়ে কুরআন এবং হাদীস নিয়ে স্ট্যাডি করার ইচ্ছে আছে।

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

সংগঠন ভাবনাঃ আনুগত্য

আনুগত্য হলো ইসলামী সংগঠন তথা সব ধরনের সংগঠনের জন্য প্রান। আনুগত্য ছাড়া কোন সংগঠনই টিকতে পারে না। কারন আনুগত্যের কারনেই একটি সংগঠনে শৃংখলা টিকে থাকে। তবে ইসলামী সংগঠনের ক্ষেত্রে আনুগত্যের রূম কেমন হবে সেটি রাসুল (সাঃ) বাস্তব উদাহরন পেশ করে গিয়েছেন। বর্তমান সময়ে তাই আনুগত্যের বাস্তব উদাহরন হিসেবে রাসুল (সাঃ) রেখে যাওয়া উদাহরনই আমাদের সামনে একমাত্র চলার পাথেয়। রাসুল (সাঃ) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দু দুবার রাসুল (সাঃ) এর বক্ষ উম্মোচন করেছিলেন, বক্ষকে পরিষ্কার করে সেখান থেকে মানব আকাংখা, এবং অবাধ্যতা দুর করে, বিশ্বাস, আনুগত্য, জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা দিয়ে পরিপূর্ন করে দিয়েছিলেন। তাই মুহাম্মাদ (সাঃ) শুধু মানুষের মধ্যে ই না নবী ও রাসুলদের মধ্যেও শ্রেষ্ঠ রাসুল হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন পাক নাজিল করে মানব জাতিকে তার আনুগত্য করতে বললেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বলতেছেনঃ

4_59
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” সূরা আন নিসাঃ ৫৯

আরবী শব্দ “আতি” মানে হলো “আনুগত্য”। উপরের আয়াত হতে দেখা যায়, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন “আতিউল্লাহ ওয়া আতিউর‍রাসুলা” আল্লাহ এবং রাসুল দুটি শব্দের সাথেই “আতি” যোগ করা হয়েছে অথচ লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হলো যখন বললেন “উলিল আমরি মিনকুম” তখন “আতি” শব্দটি ব্যবহার করলেন না। এখানে আল্লাহ রাব্বুল ইচ্ছে করেই এটি করেন নি কারন আল্লাহ জানতেন যে রাসুল (সাঃ) যে মানুষ গুলো ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করবে তাদের মধ্যে রাগ, ক্রোধ এবং ইগো এগুলো থাকবে ফলে মানুষ বায়াস হয়ে যেতে পারে আবেগের কাছে, ক্রোধের কাছে তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এটিকে “মাশরুত” বা কন্ডিশনাল করে দিয়েছেন।  আবার আনুগত্য করতে গিয়ে যদি কোন ধরনের বিরোধ দেখা দেয় তাহলে আল্লাহ হুকুম করেছেন আল্লাহ এবং তার রাসুলের কাছে ফিরে যেতে, অর্থাত কুরআন এবং হাদীসের স্মরনাপন্ন হতে।

হাদীস
“হযরত আলী (রাঃ) বলেন নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, গোনাহের কাজে কোন আনুগত্য নেই, আনুগত্য শুধু নেক কাজের ব্যাপারে”। (বুখারী, মুসলিম)

যতক্ষন পর্যন্ত আমীর বা নেতার আদেশ আল্লাহকে রাজী খুশি করানোর জন্য হবে ততক্ষন পর্যন্ত তার আনুগত্য করতে হবে।
কুরআনের আনুগত্যের অন্যান্য আয়াত গুলোতে আমীরের কোন কথা আসেনি। যেমন নিচের কয়েকটি আয়াত দেখলেই বুঝা যায়ঃ

4_80

“যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।” সূরা আন-নিসাঃ৮০

47_33

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের (সাঃ) আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না।” সূরা মুহাম্মদঃ৩৩

52.PNG

“”যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর শাস্তি থেকে বেঁচে থাকে তারাই কৃতকার্য।” সূরা নুরঃ৫২

নেতাদের উচিত হলো ন্যায়ভিত্তিক ফায়সালা করা। ন্যায়ভিত্তিক ফায়সালা নেতাদের প্রতি আল্লাহর একধরনের আদেশ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুল (সাঃ) মুসলিমদের নেতা মনোনীত করে উনাকে বলে দিলেনঃ

105

“নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে হৃদয়ঙ্গম করান। আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হবেন না। সূরা আন-নিসাঃ১০৫

নেতারা যেহেতু মানুষের মধ্যে বিচারকের দ্বায়িত্ব পালন করে তাই তাদের কোমল হৃদয়ের অধিকারী হতে হয়। কর্মীদের অবুঝ সন্তানের মত তাদের দেখভাল করতে হয়, এগিয়ে নিতে হয় আল্লাহর পথে। এই কাজ করতে গিয়ে কখনই রাগ হওয়া বা কঠিন হৃদয় হওয়া ঠিক নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বলতেছেনঃ

3_159

“আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করুন এবং কাজে কর্মে তাদের পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করুন আল্লাহ তাওয়াক্কুল কারীদের ভালবাসেন।” সূরা আল-ইমরানঃ১৫৯

কুরআন এবং হাদীসে এরকম আরো অনেক আয়াত এবং হাদীস আছে যেগুলোতে নেতাদের উদ্দেশ্য করে উপদেশ দেয়া হয়েছে। ইসলামি সংগঠনে নেতাদের শুধু কর্মীদের উদ্দেশ্য বয়ান করতে দেখা যায়। কোন কারনে কোন কর্মী যদি নেতার মনোক্ষুন্নের কারন হয়ে দাড়ায়, ক্যাডার ভিত্তি সংগঠন গুলোতে দেখা যায় সামান্য কারনে অনেক সময় দলীয় মানহতে বহিঃষ্কার করা হয়। যা বাইয়াতের মর্যাদাকেই অনেক সময় ক্ষুন্ন করে তোলে। দেখা গেলো কে্উ কোন সংগঠনের সিনিয়র মেম্বার কথার সাথে মিল না হলেই সিনিয়র মেম্বারশীপ পদ বাতিল করে দেয়া হয় যেখানে নেতার/দ্বায়িত্বশীলের কোমল হওয়ার কথা অধঃস্তন কর্মীর কথা শোনার কথা সেখানে স্বেচ্ছাচারীর শাসকের মত এক তরফাভাবে কর্মীরকে হতাশ করে শুধুমাত্র মতের বিরোধ দেখা দেয়ার কারনে কর্মীর মানের সনদ বাতিল করা হয়। এর ফলে বাইয়াত যেমন একটি উপহাসের বস্তু হয়ে উপস্থাপিত হয় ঠিক তেমনি সংগঠনটি ইসলামিকের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক হয়ে পড়ে। ফলে সংগঠনে আধাত্নিক মাধূর্যের ঘাটতি যেমন লক্ষনীয় হয়ে পড়ে ঠিক তেমনি সংগঠনে বিশৃংখলা দেখা দেয় ফলে সাধারন মানুষের উপর আধাত্নিকভাবে/নৈতিক প্রভাব বিস্তারে অক্ষম হয়ে পড়ে। দৃশ্যতঃ সংগঠনে গীবত ও পরচর্চা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পায়, সংগঠনের মূল ভিত্তি “উখূয়াত” কে নষ্ট করে দিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের মত কর্মীদের মধয়ে পারস্পারিক সহযোগিতার স্থানে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরী হয় ফলে সামষ্ঠিক লক্ষ্য অর্জনে সংগঠন ব্যর্থ হয়ে পড়ে।

তাই কোন ইসলামী সংগঠনে আনুগত্যের শিক্ষা কর্মীদের জন্য যত বেশি না প্রয়োজন তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন দ্বায়িত্বশীলদের জন্য। আনুগত্যের মত একটি আমানতকে দ্বায়িতশীলরা যখন ব্যক্তি ইগোর বস্তু বানিয়ে ফেলে তখন কর্মীরা সেখানে অসহায়ের মত দিনাতিপাত করে। তাই ইসলামিক সংগঠনের দ্বায়িত্বশীলদের মধ্যে আনুগত্যের বাস্তব ট্রেনিং খুবই প্রয়োজন। যেখানে আনুগত্যে মানেই হলো নেতার একচ্ছত্র আধিপত্য মনে করা হয় সেসব ক্ষেত্রে বুঝা উচিত আনুগত্যের ভূল উদাহরনই আমরা তৈরী করছি।

হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় মুশরিকদের কঠিন কঠিন শর্ত দেখে অনেক সাহাবীরাই হতাশ হয়ে গিয়েছিলো। রাসুল (সাঃ) যখন মুশরিকদের শর্তে রাজী হয়ে গেলেন, তখন হযরত উমর (রাঃ) খুবই মনোক্ষুন্ন হয়ে রাসুল (সাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন, যে হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি আল্লাহর রাসুল নন? আমরা কি মুসলিম নই?

রাসুল (সাঃ) উনার সাহাবাদের আবেগ বুঝতেন বলেই উনি সাহাবাদের অনেক ভালোবাসতেন। সাহাবা কেরামগনও রাসুল (সাঃ) এর প্রতি যে ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন সেটি নেতার প্রতি আনুগত্যের ও ভালোবাসার ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়েই আছে।

কোন ইসলামী সংগঠনের দ্বায়িত্বশীলদেরই সবার আগে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হয়। নেতারা যদি কোমল হৃদয়ের অধিকারী না হয়, নেতারা যদি হালকা স্বভাবের মানুষের মত শোনা কথায় বিশ্বাস করে রাসুল (সাঃ) হাদীস ভূলে সংগঠনের কাজকে এগিয়ে নিতে চায় তাহলে সেখানে শয়তানেরই লাভ হয়। বর্তমানে অনেক ইসলামী সংগঠনের মধ্যে এরকম কিছু কিছু সমস্যা থেকেই গেছে। একটি সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দ্বায়িত্বশীলের মানকে ধরে রাখার এবং দ্বায়িত্বের মত একটি আমানতের সঠিক ব্যবহারের বাস্তবমূখী ট্রেনিংই পারে একটি ভ্রাতৃত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ইসলামী সমাজ বিনির্মান করতে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবার মধ্যে সেই যোগ্যতা এবং নিজেদেরকে মহসীন বান্দা হিসেবে তৈরী করার তৌফিক দান করুন। ওমা তৌফিক ইল্লাবিল্লা (আমীন)

আনুগত্য মানেই কি নেতার সামনে কাচুমাচু করে কথা বলা? আনুগত্য কেমন হওয়া উচিত…….?

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

নাস্তিকতা যেমন একটি ফ্যাশন, ইসলামিষ্ট হওয়ার প্রতিযোগিতাও একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।

নাস্তিকতা যেমন একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে দুঃখের বিষয় হলো ইসলামিষ্ট হওয়ার প্রতিযোগিতাও একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে অনেকের মধ্যে ইসলামের প্রতি বাহ্যিক ভালোবাসা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিক সেভাবে তার ভেতরে ইসলামের গ্রোথ সেভাবে হয়নি। ইসলাম যেমন সবার জন্য সহজ তেমনি ভালো মুমিন, মুসলিম হওয়া তেমন সহজ। একজন ভালো মুসলিম হতে হলে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষনের ব্যাপার। এজন্যই ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে তাযকিয়া, তারবিয়া হতো বেশি বেশি। রমজান আসলে রাসুল (সাঃ) নাকি ইবাদত কে ভাগ ভাগ করে দিতেন, দিতেন বেলা তাযকিয়া, তারিবিয়া এবং সাহাবাদের সাথে নানারকম শলা পরামর্শে কাটাতেন আর রাতের বেলা মহান প্রভুর সান্নিধ্যে কাটিয়ে দিতেন। এটি করতেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ)। উনার সাহাবাগন ও ছিলেন উনার যোগ্য সাথী।
এমন অনেক সাহাবা আছে রাসুল (সাঃ) বললেন যে সে জান্নাতি। আর এক সাহাবা তার সাথী ভাইয়ের পিছু নিলেন যে সে কি এমন ইবাদত করে যে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এমন কথা বললেন। এরকম ছিলো তাদের ইবাদতের বেশির ভাগই ঘটত লোকচক্ষুর অন্তরালে। আবার ইসলামের কোন কিছু বিষয়ে কেউই নিজস্ব কোন ফতোয়া দিতেন না। রাসুল (সাঃ) এর কথার উল্লেখ করে বলতেন রাসুল (সাঃ) কে এভাবে বলতে শুনেছি। মুসলিমদের মধ্যে সম্পর্ক ছিলো অনেক মধুর। যখন ইসলামের বিষয়ে একত্রিত হত তখন তারা দুনিয়ার স্বার্থ ভূলে গিয়ে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় কাজ করত, একই লক্ষ্যপানে জীবন বাজী রেখে লড়াই করত। তখন ইগো, দুনিয়াবী স্বার্থ কোন কিছুই তাদের সামনে বাধা হয়ে দাড়াতে পারতো না। কোন বিষয়ে মতামতের বিরোধ দেখা দিলে তারা পরষ্পরকে সংশোধন করত উত্তম নছিহতের মাধ্যমে। তারা এরূপ করতে সক্ষম হয়েছিলেন শুধুমাত্র দুটি কারনে, প্রথমত, তাদের লক্ষ্য ছিলো আল্লাহ সন্তুষ্টি, দ্বিতীয়ত, তাদের ইসলামী জীবন, সাংগাঠিনক জীবন অতিবাহিত হয়েছিলো সার্বক্ষনিক তাযকিয়া ও তারবিয়ার মাধ্যমে।

দুঃখ হলেও সত্য যে, আমরা দুরাকাত নামায পড়েই ফতোয়া দেয়া শুরু করি, ইসলামের সীপাহসালার বনে যাই। ইসলামের কঠোর অনুশীলন, এবং সাংগাঠনিক বা সামষ্টিক জীবনের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন না থাকায় আমরা সাংগাঠনিক জীবন শুরু করেই নিজেদের আমীর/ শেখ ভাবা শুরু করে দেই। অথচ অনেকেই আছে কুরআন শরীফই পড়তে পারিনা। প্রশ্ন হলো যে ব্যক্তি কুরআন পড়তে যানে না, তার ফতোয়া দেয়ার যোগ্যতা কতটুকু?? কুরআনের প্রথম শব্দ “পড়” সেই আল্লাহর কিতাবের প্রতি যে অন্ধ সে কিভাবে ইসলামের সীপাহসালার হবে??

ছোট এই জীবনে যতটুকু শিখেছি, ইসলাম শুধু নামাজ পড়া, বা বিশাল এক জুব্বা পড়ে বেড়ানো না, ইসলাম হলো একটি সংষ্কৃতি, ইসলাম হলো একটি জীবন বিধান। সেনাবাহিনীর একজন সদস্যকে যুদ্ধের ময়দানে জীবন বাচাতে হলে যেমন নানারকম কৌশল আয়ত্ত করতে হয়, তার প্রশিক্ষন নিতে হয় ঠিক তেমনি একজন মুসলিম হতে হলে, একজন ভালো মুমিন বা তাক্বয়াবান হতে হলে নিজের ঈমান বাচানোর নানারকম কসরত শিখতে হয়। সাথী ভাইদের সাথের আচরন, অন্যভাইদের সাথে আচরন, ইসলামী নীতির মধ্যে সাংগঠন পরিচালনার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন নিতে হয়। যারা এসব প্রশিক্ষনের মধ্যে দিয়ে যায় না তাদের মধ্যে সমস্যা তৈরী, ভালো করতে গিয়ে খারাপ করে বসে। সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক যদি স্টেনগান ঠিকমত চালানো না জানে বাংলা রাইফেল শিখে যদি স্টেনগান হাতে নেয় তাহলে সবার জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। আবার একজন অস্ত্রধারী সৈনিকের যদি ক্রোধ দমনের জন্য প্রশিক্ষন না থাকে তাহলে সেটিও অন্যর ক্ষতির কারন হতে পারে।

আবেগ দিয়ে হয়ত উপরের ভালোভালা প্রকাশ করা যায়। বাস্তব ভালোবাসা প্রকাশ করতে দরকার হয় ত্যাগ। ইসলামের জন্য ত্যাগ, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ। এই ত্যাগ অনেক রকম হতে পারে। সময়ের ত্যাগ হতে পারে, কষ্ট করে কুরআন শিখাটাও একটা ত্যাগ হতে পারে।

তবে যে যাই করি, দিন শেষে, জীবনের শেষে ব্যক্তিমানুষকে একাকীই তার সৃষ্টিকর্তার কাছে তার জীবনের হিসেব পেশ করতে হবে। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমরা আল্লাহর কাছে নিজেদের কতটুকু সমর্পিত করেছি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেটিই দেখবেন।

আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি আমল করার তৌফিক দান করুন, (আমীন)

আনুগত্য মানেই কি নেতার সামনে কাচুমাচু করে কথা বলা?

গত সপ্তাহে ইক্বমাতে দ্বীন বইয়ের উপর আলোচনা হচ্ছিলো সে আলোচনাতে আনুগত্যকে একটু অন্যভাবে বলা যায় ধরাবাধা আলোচনার বাইরে গিয়ে একটু গভীর আলোচনা করা হয়। আমার কাছে আনুগত্যের সেই ধরনটিই আসল আনুগত্য মনে হয়েছিলো।

আলোচনার সারসংক্ষেপঃ

১) আনুগত্য হতে হবে বাইডিরেক্শনাল

আমীর/লিডার যেমন কর্মীর আনুগত্য কামনা করবে ঠিক তেমনি লিডারকেও কর্মীর ব্যাপারে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে, কর্মীর খোজ খবর নেয়া, ভালো-মন্দের খবর নেয়াও আমীর/লিডারের দায়িত্ব। আমীর/লিডার বা দ্বায়িত্বশীলকে সব সময় মনে রাখতে হবে তিনি শুধুমাত্র আল্লাহর বিধানকে সমুন্নত রাখতেই নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।

২) আমীর/লিডার এর আনুগত্যের মান আর রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্যের মানের সমান নয়।

প্রথমটির ক্ষেত্রে কর্মীরা কোন সমস্যা দেখলে আমীরকে প্রশ্ন করতে পারে বা এখানে আনুগত্যের ব্যাপারে আমীর/লিডার প্রশ্নের উর্ধে নয় কিন্তু রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্যের হলো আবশ্যক এবং নিঃশর্ত সেখানে প্রশ্নের কোন সুযোগ নেই কারন তিনি সরাসরি আল্লাহ থেকে ওহী প্রাপ্ত।

উদাহরন হিসেবে বলা যায়, হযরত উমর (রাঃ) খলিফা থাকাকালীন তিনি ভরা মজলিসে অন্য সাহাবা (রাঃ) এর দ্বারা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছিলেন।

৩) আনুগত্য করতে গিয়ে কর্মীদের স্বতন্ত্র স্বত্তাকে বিকিয়ে দেয়া যাবেনা বা নষ্ট করা যাবেনা।

অনেক সময় দেখা যায় আনুগত্য করতে গিয়ে জ্বি-হুজুর মার্কা আনুগত্য শুরু হয়ে যায়। দ্বায়িত্বশীল কি ভাববেন মনে করে অনেক সময় ইসলামের অনেক বিষয়ে ছাড় দেয়া হয়, এমন কিছু করা যাবে না। ন্যায় কথা বলার সময় ও নাকি কাচুমাচু করতে হবে এমন একটি ধারনা চর্চা করা হয়। কর্মীদের দ্বায়িত্ব হলো আনুগত্যের জন্য সব সময় আল্লাহর উদ্দেশ্য কথাটি মনে রাখা এবং নেতাদের ভূল ধরিয়ে দেয়া।

৪) আনুগত্য একটি কনসেপ্ট,

আনুগত্য মানেই এই না যে, নেতাকে দেখলেই কাচুমাচু করে দাড়াতে হবে, আনুগত্য মানে এই না যে নেতা যা বলবে অন্ধভাবে তাই পালন করতে হবে, আনুগত্য মানে এই না যে, নেতার সামনে হক কথা বলতেই লজ্জ্বায় কাচুমাচু করতে হবে। আনুগত্য মানেই হলো আল্লাহকে সন্টুষ্টির উদ্দেশ্য আল্লাহর দেয়া কোন বিধান পালনের জন্য নেতার আদেশের আনুগত্য করা।

প্রচলিত সিস্টেমে ইসলামি আনুগত্য র দেশীয় ট্রাডিশনকে মিক্সড করে একটি ভিন্ন রকমের আনুগত্যের চর্চা করা হয়। দেশীয় ট্রাডিশনে গুরুজনের সামনে মাথা উচু করে কথা বলা যাবেনা এমন মনে করা হয়, গুরুজনেরা ভূল বললেও সেটির প্রতিবাদ করা যাবেনা বা গেলেও সেটি না মানলে কিছু বলা যাবেনা। আবার দ্বায়িত্বশীল রা আনুগত্যের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনেক সময় সূরা হুজুরাতের কিছু আয়াত তেলওয়াত করে বলে থাকেন যে নেতার চেয়ে গলার স্বর উচু করা যাবেনা। এখানে এটি চিন্তার দাবি রাখে যে সূরায় শুধু রাসুল (সাঃ) এর জন্য বলা হয়েছে নাকি দ্বায়িত্বশীলদের জন্য কারন বর্তমান সময়ে সূরা হুজুরাতের উদাহরন শুধু দায়িত্বশীলদের আনুগত্যের জন্য দেয়া হয়ে থাকে। দ্বায়িত্বশীল রা যদি কোন অন্যায় সিন্ধান্ত নেন এবং কর্মীরা যদি সে বিষয়ে নিজেদের সঠিক অবস্থান জোড়ালোভাবে তুলে ধরেন সেক্ষেত্রে আনুগত্যের বরখেলাপ হয় কিনা বিষয়টি অবশ্যই একটি আলোচনার বিষয় ।

আবার অনেক সময় সংগঠনের ভালো চিন্তার কথা বলে অনেক কিছু চেপে যাওয়ার প্রবনতা দেখা যায় সেগুলো ইসলামী আনুগত্যের মধ্যে পড়ে কিনা ভাবার বিষয়।

দেশীয় ট্রাডিশন এইজন্য বললাম যে, অনেক সময় দেখা যায় গ্রামে দু-বংশের ঝগড়া লাগলে যদি নিজ বংশের কেউ অন্যায় করে তাহলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান করা হলে সেটি হয়ে যায় বংশের আনুগত্যের বরখেলাপ।

ইক্বামাতের দ্বীনের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নৈতিক উন্নয়নের চেয়ে যখন রাষ্ট্রীয় ভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, তখন ভংগুর নৈতিক মান নিয়ে কর্মীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম কায়েমের জন্য বেশি সময় ব্যয় করতে হয় এবং সেটিকে অগ্রাধিকার দেয়ার কারনে ব্যক্তির ঈমানী মান এবং আনুগত্যের ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে সব সময় লক্ষ্য দিতে সফল না হওয়ার কারনে সাংগাঠনিক আনুগত্যের কারনে ইসলামী আনুগত্যের বরখেলাপ হয়ে যেতে পারে। রাসুল (সাঃ) এবং সাহাবা (রাঃ) এর যুগের ঈমান আর আল্লাহর উপর তায়াক্কুল করার ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ের মুসলিমদের অবস্থান অনেক অনেক গুন নিচে। এমন অবস্থায় ব্যক্তির মানুষ হিসেবে রাগ-ক্রোধকে সংবরন করার যোগ্যতা অনেক কম থাকে, আবার অন্যের দ্বারা প্রভাবিত বা আবেগ দ্বারা তাড়িত হওয়ার প্রবনতাও বেশি থাকে এমন অবস্থায় রাজনৈতিক বা সাংগাঠনিক আনুগত্যের বিষয়গুলী অনেক গুরুত্ববহন করে কারন এখানে রাজনৈতিক ক্ষমতা বা দলীয় শক্তি থাকায় ব্যক্তি মানুষের দ্বারা অতি সহজেই অন্যায় সম্পাদিত হতে পারে।

সুতরাং ইসলামী আন্দোলনের ক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলনের দ্বায়িত্বশীল এবং কর্মীদের জন্য আনুগত্য ও ইক্বামাতে দ্বীনের আলোচনা একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

লিডারশিপ কিছু উদাহরন

লিডারশিপ নিয়ে কয়েকটি আলোচনা শুনলাম। আলহামদুলিল্লাহ! অনেক কিছু শিখলাম, দুদিন থেকে আমি খুজছিলাম যে, প্রকৃতিতে লিডারশিপ এর কোন কিছু খুজে পাওয়া যায় কিনা। বেশ কয়েকটি উদাহরন, পেয়েছি যেগুলো অনেক শিক্ষনীয়।
ঈগল পাখির কয়েকটি বৈশিষ্ট্যর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য তিনটি তুলে ধরলাম।
১) ঈগল পাখি সাধারনত ৭০ বছরের মত বাঁচে। মজার ব্যাপার হলো এদের বয়স যখন ৩০-৪০ বছর হয় তখন তাদের একটি শারীরিক পরিবর্তন হয়। কারন এই পুরনো নখ আর শিকারের উপযোগী থাকেনা, তার হাতে দুটো অপশন থাকে হয় মৃত্যু নয়ত শারীরিক পরিবর্তন। তাই সে শারীরিক পরিবর্তনে চলে যায়। তা না হলে সে ৩০ বছরেই মারা যেত। সে সময় এরা উঁচু পাহাড়ের আড়ালে বাসায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে ঈগল নিজের চঞ্চু/ঠোট পাথরে আঘাত করে করে ভেংগে ফেলে যতক্ষন না পুরো ঠোট খসে পড়ে। এরপর সে অপেক্ষ করে নতুন ঠোট বের না পর্যন্ত। এরপর সে তার নখর দিয়ে পাথরে আঘাত করে এভাবে সে তার নিজের পুরাতন নখর কে খুলে ফেলে এবং অপেক্ষা করে নতুন নখরের জন্য। নতুন নখ তৈরী হলে এবার সে তার পালকগুলোলে খুলে ফেলে ঠোট আর নখের মাধ্যমে যতক্ষন না তার শরীর সম্পূর্ণ পালকহীন হয়ে যায়। নতুন পালক উঠা না পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে। এভাবে সে ১৫০ দিন পার করে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য। ১৫০ দিন পর সে নতুন জীবন ফিরে পায়। জীবনের বাঁচার জন্য পরিবর্তন কে মেনে নেওয়া জরূরী।
শিক্ষাঃ ভিশনারী লিডার রা সব সময় ওপেন মাইন্ডের হয়, যখন সারভাইভ করার প্রশ্ন চলে আসে, যখন প্রশ্ন আসে এগিয়ে যাওয়ার প্রকৃতিগতভাবে পরিবর্তন জরূরী হয়ে পড়ে।

২) ঈগল পাখির যখন বাচ্চা একটু বড় হয় তখন সে তার ´বাচ্চাগুলোকে বাসা থেকে বের করে বাইরে ছুড়ে দেয়। যাতে বাচ্চারা সাহসী হতে শিখে ভয় কেটে যায়। এভাবে সে বাচ্চাগুলো কে শিক্ষা দেয়।
শিক্ষাঃ ট্রেনিং খুবই জরূরী যেটি একটি প্রকৃতিগত ব্যাপার।

৩) ঈগল পাখি ঝড়কে পছন্দ করে, ঝড়ো হাওয়ায় সে উড়তে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। ঝড়ের সময় অন্যসব পাখি যখন লুকায় তখন ঈগল পাখি আরামে উড়ে বেড়ায়। ঈগল ঝড়ের বাতাসের গতিকে কাজে লাগিয়ে বাতাসের গতির বেগকে কাজে লাগিয়ে নিজের শক্তির কম ব্যবহার করে উড়ে বেরায়।
শিক্ষাঃ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের দুঃখ, কষ্ট, বাধাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরাও টিকে থাকতে পারি অনেক স্বাচ্ছন্দ্যর সাথে।

কচ্ছপ একটি অদ্ভুত প্রাণী, তার খোলস টা বড়ই অদ্ভুত। প্রতিকূল পরিবেশে সে তার খোলসের নিচে মাথা লুকিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। শরীরের নরম জিনিসগুলোকে রক্ষা করে ক্ষতির হাত থেকে। সে চুপচাপ পড়ে থাকে যাতে কেউ বুঝতে না পারে।

ঠিক তেমনি প্রতিকুল পরিবেশে আমরা নিজেদের ঈমান ও আমল গুলোকে এভাবে রক্ষা করতে পারি। পরিবেশ অনুযায়ী আচরন করা আমাদের জন্য হয়ে উঠতে পারে নতুন সম্ভাবনার।

ইসলামিক লিডারশিপের সংকট প্রকট। লিডারশিপের যেমন সংকট ঠিক তেমনি সংকট লিডার হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মীবাহিনীর। আর এর সব কিছুর মধ্যে বড় সংকট, জীবনের উদ্দেশ্য বা সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারা। আর বুঝতে পারলেও সেই অনুযায়ী কাজ না, ডেডিকেশন না থাকা। পার্থিব ও আখিরাতের জীবনের উদ্দেশ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন না থাকা। ফলে যে গ্যাপ সেটি গ্যাপ এ থাকছে। বরং গ্যাপ আরো বাড়ছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সব দুর্বলতার মাঝেও আমাদের ঈমান ও আমলকে সঠিক বুঝের সাথে করার তওফিক দান করুন। (আমিন)

বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের করনীয়

চারপাশে ভারত ঘেষা তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশে ইসলামী আন্দোলন কতটুকু সফল হতে পারে তার ব্যাখ্যা না হয় নাই দিলাম। কিন্তু কথা হলো বিদ্যমান ইসলামী দলগুলোর দ্বারা ইসলামী আন্দোলন এবং রাজনীতিতে সফলতা কতটুকু??

ইসলাম এবং রাজনীতি সমন্বয়ে গড়া পলিটিক্যাল ইসলাম আর ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে অন্তর্নিহিত কিছু পার্থক্য বিদ্যমান যার কারনে বিদ্যমান ইসলামী দলগুলোর দ্বারা যেমন দ্বীন প্রতিষ্ঠা পুরোপুরি নাও হতে পারে, ঠিক তেমনি রাজনীতিতে সফলতাও সম্ভব নয়। প্রথমে বিদ্যমান কিছু সমস্যা তুলে ধরা যাক।

১) বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ। যেখানে দাতা দেশের সাহায্যর উপর নির্ভর করে দেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় সেখানে দাতা দেশের সাথে সমন্বয় রক্ষা না করে কিভাবে দেশের ক্ষমতায় আরোহন করা সম্ভব বা ইসলামী আন্দোলনের অগ্রনী দলগুলোর রাজনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব?

২) যেসব ইসলামী দলের রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকা নির্ভর করে পশ্চিমা ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলোর উপর সেসব দলের পক্ষে দ্বীনের প্রতিষ্ঠা কতটুকু সম্ভব?

৩) চরম ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ভারতঘেষা একটি ছোট দেশে বিদ্যমান পলিসী নিয়ে রাজনীতির ময়দানে জয়ী হওয়া বা টিকে থাকা কতটুকু সম্ভব?

৪) উপরের সবগুলো প্রতিবন্ধকতার সাথে আপোষ করে ইসলাম নীতির সাথে আপোষ করে কিভাবে টিকে থাকা সম্ভব বা কিভাবে ইসলামী আন্দোলন করা সম্ভব?

তাহলে সম্ভাবনা দুটো
১) হয় ইসলামের সাথে বা ইসলামী বিধানের সাথে আপোষ করে রাজনীতি করে ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই করতে হবে, সেক্ষেত্রে ইক্বামাতে দ্বীনের যে লক্ষ্য সেটা অনেকটাই বিচ্যুত হবে। এবং ইসলাম বিবর্তিত হয়ে মডারেট ইসলাম মানুষের কাছে উপস্থাপিত হবে, পশ্চিমা শক্তি সেটাতে খুশি থাকবে, দেশের জনগন ও ধীরে ধীরে সেই ইসলামের মধ্যে নিজেদেরকে খুজে পাবে । ফলে হাইব্রিড মুসলিম জেনারেশন তৈরী হবে।

২) কারো সাথে আপোষ না করে ইসলামের প্রতিষ্ঠায় নিজেদের লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান ইসলামী আন্দোলনের ধারনা থেকে সরে এসে নিজেদের ঈমানীয়াত এবং আধ্যাত্নিক উন্নতিতে বেশি করে গুরাত্বারোপ করতে হবে। এটি করতে গেলে রাজনীতির ময়দান থেকে হয়ত একটু দুরে সরে যেতে হবে, কিন্তু এটিতে আল্লাহর সাহায্য ও সহযোগিতা বেশি পাওয়া ভালো মুমিন বান্দারা দ্বীনের খেদমতে আরো বেশি নিয়োজিত হবে। কিছু না হোক, ইসলামের আসল রূপ মানুষের কাছে পৌছানো যাবে।

আর যদি বর্তমান অবস্থা চলতে থাকে তাহলে কি ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব?
উত্তর হলো বর্তমান পলিসী দিয়ে একদিকে যেমন রাজনীতির ময়দানে সফল হওয়া অনেক কঠিন ঠিক তেমনি ইক্বামাতে দ্বীনের ক্ষেত্রে সফলতা আশা করাও তেমনি কঠিন।
কঠিন দুভাবে——–
১) রাজনীতির ময়দানে টিকে থেকে ক্ষমতায় যেতে পারলেও ইসলামের মূল চেতনা অনেকটা নষ্ট হয়ে যাবে, যদিও ক্ষমতায় যাওয়া যায় তারপর ও মানুষের মধ্যে রাজনীতি ভর করে থাকার ফলে এতো দিনের ধরে আসা কিছু খারাপ অভ্যস মানুষের বৈশিষ্ট্য রূপ নেবে ফলে, সাম্য ও ন্যায় বিচারে অনেকটা অন্যায় ও অনিয়ম দেখা দিবে।
২) পরনির্ভরশীল দেশ হয়ে দাতা দেশের সাথে বিরোধীতা করে ক্ষমতায় টিকে থাকা মিশরের দিকে তাকালেই বুঝা যায় কতটুকু সম্ভব।

তাহলে উপায়??
১) রাজনীতি এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আলাদা করে ফেলতে হবে। কারন—
ক) বিদ্যমান পলিসীতে রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কারনে ইসলামের চর্চা বা আমলিয়াতের মধ্যে অনেক কমতি দেখা দিচ্ছে বা দিবে, রাজনীতি বা দলীয় স্বার্থ মূখ্য হয়ে উঠার কারনে অনেক সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুপস্থিতিকে সাংগাঠনিক লাভের সাথে আপোষ করা হবে। ফলে আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকে কিছুটা বঞ্চিত হতে হবে।
খ) এভাবে চলতে থাকলে নতুন প্রজন্ম বিদ্যমান রাজনীতি চর্চাকে মূল ইসলাম মনে করবে। ফলে একটি হাইব্রিড জেনারেশন তৈরী হবে। পরে কোনভাবে ক্ষমতায় যেতে করতে পারলেও। এসব তরুনদের মূল ইসলামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে ইসলামের নতুন সংজ্ঞা বা নতুন ধারা তৈরী হবে।

২) রাজনীতিকে দেশের মানুষের মন মানসিকতা এবং ইসলামী মেজাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে, স্বচ্ছ ইমেজের তরুন, শিক্ষিত নেতাদের নিয়ে একটি গনমূখী রাজনৈতিক দল গঠন করতে হবে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সাধারন মানুষের প্রবেশ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সকল শ্রেনীর মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রসারে কাজ করে যেতে হবে।

৩) ইসলামী আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখার জন্য রাজনৈতিক দলের সাথে বা ছায়া সংগঠন হিসেবে একটি আধ্যত্নিক দল বা গ্রুপ তৈরী করতে হবে যারা ইসলামের কঠোর বিধি নিষেধ এর উপর নিজেদের কায়েম রাখবে এবং যাদের দায়িত্ব হবে তাক্বওয়াবান মুমিন তৈরীর কাজ করে যাওয়া। ইসলামের দাওয়াত, ইসলামের প্রসারে তারা নিয়োজিত থাকবে। এবং এই গ্রুপটি মানুষের সামনে একটি দাওয়াতি ও গবেষনা সংগঠন হিসেবে পরিচিত লাভ করবে।

এসব করতে পারলে একদিকে ইসলামের মূল চেতনা টিকে থাকবে। ইসলামের কাজ হবে, অপরদিকে রাজনীতর ময়দানে ইসলামের বিরোধী মনোভাবের দল বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে জয়লাভ সহজ হবে।

ইসলাম বিদ্বেষী ভারত এবং পশ্চিমা কোন গোষ্ঠী খুব সহজে চাইবে না যে তাদের উপর নির্ভর করে কোন দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠ হোক। এরকম বুঝে কেউ যদি চলে তাহলে চরম ভূল হবে। কারন সময় আসলেই যারা সমর্থন দিবে তারাই গোপনে ইসলামিষ্টদের নিধনে কৌশল অবলম্বন করবে। সুতরাং আল্লাহর উপর ভরশা রেখে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। কোন তাড়াহুড়া করে দ্বীন প্রতিষ্ঠা বা ক্ষমতা লাভ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাব অনেকটা দুঃস্বপ্নের মত দেখা দিবে। তাই সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই পারে আগামীর বিজয় ছিনিয়ে আনতে।

আমার সংগঠন ভাবনা।

ছোট বেলা থেকে একটু লাজুক টাইপের ছিলাম। পাশে যেদিন ফুফুর বাসায় বেরাতে যেতাম, ফুফাতো ভাইয়ের টেবিলে চোখ চলে যেত। সাইমুম সিরিজ এর বই আর ইরান এর ম্যাগাজিন নিউজ লেটার বই হাতে চুপচাপ পড়া শুরু করতাম। সেই থেকে ইসলামী ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামী কালচার এর বিষয়ে একটু আধটু আগ্রহ জন্মানো শুরু হলো। আমি আমার সেই ক্লাশ থ্রি-ফোর এর কথা বলছি। এরপর বড় হতে থাকলাম মসজিদে যাতায়াত আস্তে আস্তে বাড়তে থাকল। একটি ব্যাপার লক্ষ্য করলাম আমার মহল্লার কিছু ভাই শুত্রুবার বিকেলে বসে কি যেন আলোচনা করতেন। তবে আমাকে কেউ কখন ও ডাকেনি। ব্যাপারটি আমি তখন বুঝতেই পারিনি আর বুঝার ও চেষ্টা করিনি। ফ্যামিলি একটু ইসলামিক হওয়ার কারনে মসজিদে যাতায়াত এগুলো ছিলো। আমার আম্মা যখন ছোট তখন নানা, নানী আর আমার সেই ছোট আম্মু হজ্জ্ব করে এসেছিলেন, সেই ১৯৬০ সালের দিকে। যাহোক, যখন সাইমুম সিরিজ , দস্যু বনহুর , দস্যু পাঞ্জা, ক্রুসেড সিরিজ বইগুলো পড়তাম কেমন জানি বইয়ের চরিত্রগুলো নাড়া দিয়ে যেত। সাইমুম এর আহমাদ মুসা ব্যাপক নাড়া দিলো। এভাবে স্কুল , কলেজ শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। হলে উঠতে গিয়ে ও উঠা হলোনা আমার বন্ধুর বড় ভাইয়ের কারনে। উনি বললেন যে না হলে থাকা লাগবে না, তোমরা মেস এ চলো। ভাগ্য ভালো ই বলতে হবে, আমরা ক্লাশ শুরু করার একমাস পর ২০০১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়াবহ মারামারি শুরু হলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্টেশন বাজার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হলো। যাহোক হলে না উঠার উপকারীতা একটু উপলব্ধি করলাম। উঠেছিলাম মির্জাপুর মসজিদ এর ছাত্রাবাসে। মসজিদ আর ছা্ত্রাবাস একেবারে লাগানো। মসজিদে ইকামাত দিলে রুম থেকে শোনা যেত। এক অলস ভাই ছিলেন উনি আবার মাঝে মাঝে নিজের রুম থেকে মসজিদের সাথে জামায়াত বদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করতেন। মসজিদে নামাজ যারা পড়তে আসতেন উনারা বেশির ভাগ ই ছিলেন আবার বাংলাদেশ আহলে হাদীস এর লোক, আমাদের ছা্ত্রাবাস এর নাম ছিলো “ছালাফিয়া ছাত্রাবাস”। মসজিদের মসজিদের ঈমাম ও মুয়াজ্জিন আমাদের মেস এ থাকতেন। মাঝে মাঝে উনাদের সাথে ইসলামিক বিষয়ে আলোচনা হত। উনারা শুধু বিদয়াত বিদয়াত বলতেন, এসব দেখে বুখারী শরীফের ২ খন্ড কিনে নিয়ে আসলাম উনাদের সাথে তর্ক করার জন্য। এই তর্ক ই আমার জীবনের জন্য ভালো হয়ে দাড়ালো। সেখান থেকে মুলত ইসলামের বেসিক খুটিনাটি বিষয়গুলো এবং কুরআন ভালো ভাবে শেখা শুরু হলো।
৩ বছর পর হলে সিট পেলাম , সৈয়দ আমীর আলি ৩৪৫ নং রুম এ সিট হলো। রুমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ব্লক সভাপতি আর একজন সাবেক সদস্য ভাই, আর এক সিট আর একজন ছিলো। যাহোক হল এর জীবন শুরু সাথে সাথে নিজের অজান্তেই শুরু হলো সংসঠনের সাথে পথ চলা। আমি রোজ ফজরের নামাজে ডেকে দিতাম শিবিরের দুভাইকে , আমি নিজে আগে থেকে নিয়মিত নামাজ কুরআন পড়তাম। এশার নামাজ পড়ে দেখতাম কিছু ছেলে বসে কি যেন আলোচনা করে। একদিন বসার জন্য ডাক পেলাম, মসজিদের ভেতরে বসলাম। তারপর নিয়মিত বসতে বলত খারাপ লাগত না। আমিও বসতাম। দেখতাম একটু বসার পর বলা হতো, কর্মী ভাইয়েরা চলে যান, সাথী ভাইয়েরা বসেন। আমি আবার ভাবতাম এটা আবার কেমন হলো আমাকে উঠতে হলো আমার চেয়ে জুনিয়র ছেলেরা বসে আছে এতো লজ্জার কথা। ইতোমধ্যে একটি ব্যক্তিগত রিপোর্ট বই ও টেবিলে হাজির হলো। বইয়ের ঘরগুলো খারাপ ছিলোনা রেখে দিলাম। একদিন জিজ্ঞেস করলাম সাথী হলে কি করতে হবে? জানতে পারলাম কিছু ইসলামিক বই পড়তে হবে আর নামাজ, কুরান নিয়মিত পড়তে হবে। যাহোক আমি এমনিতে বই পড়তে ভালোবাসতাম। আর নামাজ ও কুরআন আগে থেকে ই পড়তাম সুতরাং বেশি সময় নিলাম ওখানে বসার যোগ্যতা অর্জন করতে। আমি জেনারেল লাইন এর ছাত্র হলে আরবি লিখতে ও পড়তে পারতাম আর তাই আরবিতে হাদিস গুলো খুব দ্রুত মুখস্ত হয়ে গেলো। তবে বই গুলো পড়তে গিয়ে মূলত ইসলামিক জীবন ব্যবস্থার একটি মুটামুটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করলাম। বই পড়তাম আর সংগঠনের সাথে মিলাতাম আর কোন ব্যতিক্রম দেখলেই অভিযোগ করতাম। এভাবে চলছিল আমার সাংগাঠনিক জীবন। সদস্য হওয়ার টার্গেট নিলাম পড়াশুরু করলাম। ও একটি কথা বলে রাখা ভালো আমি কিন্তু একটি ভালো সাবজেক্টে পড়তাম। হঠাৎ একটি অঘটন ঘটলো তখনকার বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি জেলে চলে গেলেন। দায়িত্বপেলেন বক্তৃতায় ভালো পারদর্শী আর একজন। যাহোক ইতোমধ্যে আর ও একটি দূর্ঘটনা ঘটল, যেটার কারনে আমি খুব ই আপসেট হয়ে পরলাম, এবং কিছুটা সাংগাঠনিক কাজ কমিয়ে দিয়ে, সদস্য হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখে পড়ালেখায় মনযোগ দিলাম। এবং আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো ফল ও পেয়েছি।

আমার সাংগাঠনিক ভাবনার প্রারম্ভিক কিছু আলোচনা করলাম। আসল আলোচনা এখন শুরু করব। ইনশাল্লাহ।

আমি যেদিন থেকে ইসলামী বই পড়া শুরু করলাম, যেদিন থেকে ইসলামের প্রারম্ভিক কালের মুসলিমদের জীবনী জানা শুরু করলাম এবং যেদিন থেকে ইসলামী একটি সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হলাম, সেদিন থেকে একটি সমীকরণ মিলানোর চেষ্টা করেছি। আর সেটা হলো

কুরআন + হাদীস = ইসলামের বিজয়।

যেখানে ব্যতিক্রম দেখেছি অভিযোগ করেছি। কিন্তু আমার কাছে একটি জিনিস মনে হয়েছে। হয়ত আমার ভূল ও হতে পারে আর তা হলো যারা ইসলামিক সংগঠন করেন তাদের বেশির ভাগের মধ্যে ইসলাম এর সঠিক বুঝ এর অভাব আছে। বেশির ভাগ ই না বুঝে আবেগ দিয়ে সংগঠন করে। আর আবেগ দিয়ে সংগঠন করতে গিয়ে সাংগাঠনিক আনুগত্য হয়ত ঠিক ই হয় কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ই আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্যুতি ঘটে। আর এই বিচ্যুতি জেনারেশন টু জেনারেশন চলার কারনে এখন একটু বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে আর হওয়াটাই ইসলাম তথা সবার জন্য ভালো। তার আগে একটি কথা বলে নেই। যারা সংগঠনের গঠনমুলক সমালোচনা কে সংগঠন বিরোধী মনে করেন তাদের বলব আবেগ টা একটু কমিয়ে দিতে। কেউ যদি আল্লার পথে সঠিক নিয়ত নিয়ে চলে তার লজ্জার কি আছে আর ভয় বা কি?? আমার লক্ষই ই যদি হবে জীবনেদ্দেশ্য তাহলে টাকা পয়সা আর সামাজিক প্রতিপত্তির উপর এতো আগ্রহ কেন? অবশ্যই আগ্রহ থাকতে হবে, তবে আগ্রহটা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপরে স্থান পায় তাহলে সমস্যা। সমস্যা হলো তখন ই শরীয়তের বরখেলাফ হয়, তখনি মানুষ বিচ্যুত হয়, বিচ্যুতি ঘটে।

দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠার যে ত্যাগ সে ত্যাগ হয়ত অনেকেই করছে, তাদের সালাম জানাই। কিন্তু শহীদ শহীদ বলে সেসব শহীদের রক্তের উপর দাড়িয়ে যে সংগঠন, যে সংগঠনের হুংকারে আজ বাংলার মাটি কাপার কথা সেখানে আজ দুর থেকে দৃশ্যমান এক প্রদীপ ই মনে হয়। কারন আমার সংগঠন ভাবনা অনুযায়ী এসব দিয়ে সঠিক দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব না। কৌশলের নামে যদি মিথ্যার সাথে আপোষ করতে হয় সেখানে সত্যের গায়ে কিছুটা কালিমা লেগে ই যায়। আজ অনেকেই আজ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। কারন সামাজিক ভাবে প্রতিপত্তি অর্জন না হলে নাকি ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে না। মনেহয় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর কাছ থেকে টেন্ডার কিনেছে।

যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে ত্যাগ আর ভালোবাসার মাধ্যমে সেখানে ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি দিয়ে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। সম্ভব তখনি যখন ইসলামের রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে মানুষের দুয়ারে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যাওয়া হবে ভালোবাসা আর ত্যাগের এক অপূর্ব নিদর্শন হয়ে। মনের মধ্যে ভোগের বাসনা রেখে কখন ই মানুষের ভালোবাসা আদায় সম্ভব না।

আমি সেই সংগঠনের স্বপ্ন দেখি যেটি ইসলামের রঙ্গে রঙ্গিন। যার কর্মী বাহিনীর মাঝে ইসলামী মুভমেন্ট এবং পলিটিক্স এর পার্থক্যের সম্যক ধারণা থাকবে। যাদের মাঝে ভোগ আর বিলাসিতার পরিবর্তে ত্যাগ আর ভালোবাসা স্থান লাভ করবে। যারা সবক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে পারবে। কোন পার্থিব বিষয়কে নয়।

ইসলামী আন্দোলন এবং আমার কিছু ভাবনা ।

আল্লাহর দ্বীনকে আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠা করে শরীয়াত ভিত্তিক ইসলামিক সমাজ বিনির্মান করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ই হলো ইসলামী আন্দোলনের (Islamic Movement) উদ্দেশ্য। ভুলোমনা মানুষকে সঠিক দিক নির্দেশনা দানের জন্য আদিকাল থেকেই এই কাজটি বিভিন্ন রুপে সম্পাদনের চেস্টা করা হয়েছে। আল্লাহর কিছু অনুগত বান্দা এর জন্য চেস্টা সাধনা করে গেছেন। আবির্ভাব হয়েছিলো নবী ও রাসুলগনে। নবী ও রাসুলগন আসার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আমাদের সামনে উপষ্থাপন করা হয়েছে অনূকরণীয় আদর্শ , পেশ করা হয়েছে উত্তম আদর্শ (উসওয়াতুল হাসানা)। আর সেই আদর্শ গুলোকে ধারন, প্রতিফলন এবং প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পড়েছে সেই আদর্শের ধারকদের দাবিদারদের উপর। এইসব আদর্শের পুর্ণাংগ উপস্থাপন এবং আল্লাহর দ্বীনের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব।

আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে তার বান্দাদের মধ্যে চিন্তার ও বুঝের ভারসাম্য থাকার কারনে বিভিন্ন মতের উদভাবন হয়। আর সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসলামী আন্দোলনের গতি-প্রকৃতির মধ্যে ও পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে “গনতন্ত্র” নামক তত্ত্বের উদ্ভাবন এবং বিশ্বব্যাপী এর ব্যাপক গ্রহন যোগ্যতার ফলে ইসলামী আন্দোলনের প্রকৃতি ও পদ্ধতির মধ্যে পরিবর্তন আসে। কিছুটা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে গনতন্ত্র ও ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে সমন্বয় করার চেস্টা করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আদর্শিক মানুষ তৈরীর চেয়ে সংসদে যাওয়ার প্রচেস্টা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে মানুষ এ কারনেই সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সাথে এক করে ফেলছে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য এগুলোকে বেশি কার্যকর মনে করছে। এর ফলে মানুষ আদর্শিক আন্দোলনের চেতনা ও ঈমানী জযবা হারিয়ে ফেলছে এবং সত্য ও মিথ্যার প্রশ্নে আদর্শের দাবিদাররা আপোষহীন থাকতে/হতে পারছেনা। আর এটা পারছেনা বলেই ঈমানীবোধ সম্পন্ন মানুষের সামনে উত্তম আদর্শ পেশ করতে পারছেনা , মানুষকে নৈতিকতার প্রভাবে প্রভাবান্বিত করতে ব্যার্থ হচ্ছে।