উপদেশ গ্রহনের সুন্দর ঘটনা

একদিন উমর (রাঃ) একটি বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির জানালা দিয়ে তাকালেন (তিনি এটি করতেন শুধুমাত্র মানুষকে খারাপ কাজ থেকে নিষেধ বা ভালো কাজের উপদেশ দানের জন্য), তিনি দেখলেন যে, একজন মুসলিম ভাই অ্যালকোহল পান করছে। উনি দ্রুত তার বাসায় প্রবেশ করলেন এবং তাকে বললেন যে তুমি তো হারাম কাজ করছো। তখন ঐ লোকটি উমর (রাঃ) কে বললো যে, আমি একটি হারাম করছি আর আপনি তো তিনটি হারাম কাজ করলেন। 

এক) আপনি অন্যর বাড়ির জানালা দিয়ে তাকিয়েছেন।
দুই) আপনি অনুমতি না নিয়ে অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করেছেন।
তিন) আপনি নিশ্চিত না হয়ে অনুমান করে বলেছেন যে, আমি অ্যালকোহল পান করছি। 

তখন উমর (রাঃ) বললেন যে, তুমি ঠিকই বলেছ। বলে উনি চলে গেলেন।
এর কিছুদিন পর উমর (রাঃ) মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন সেই সময়ে ঐ লোক মসজিদে প্রবেশ করে পেছনে বসলেন। খুতবা শেষ করে উমর (রাঃ) ঐ লোকের কাছে গেলেন গিয়ে চারপাশে তাকিয়ে চুপচুপে বললেন যে, দেখ! সেদিনের পর আমি আর কারো বাড়ির জানালার দিকে তাকাই না। আর আমি তোমার ঐ ঘটনাকে কারো কাছে বলিনি।
তখন ঐ লোক বললো যে, আমিও সেদিন থেকে আর অ্যালকোহল পান করিনা।

কি সুন্দর ছিলো উপদেশ দেয়া আর উপদেশ গ্রহন করার ঘটনা গুলো, অথচ কেউ আমাদের উপদেশ দিলে আমরা অনেক সময় ভালোভাবে গ্রহন করতে পারি না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুল (সাঃ) ও তার সাহাবা (রাঃ) চরিত্রের মত চারিত্রিক গুনাবলী দান করুন। (আমীন!)

অসহায় ভালোবাসা

একদা জীবনের সব আবেগ অনুভূতিগুলো ((ভালোবাসা, কষ্ট, সুখ, অহমিকা, ঐশ্বর্য্য, জ্ঞান এবং সময়)সমূদ্রের এক দ্বীপে অবসরে ভ্রমনে গেলো। তারা তাদের নিজেদের মতই ভালো সময় কাটালো। হঠাত করে ঝড়ের পূর্বাভাস ঘোষনা করা হলো এবং দ্বীপটি খুব দ্রুত খালি করতে বলা হলো। ঘোষনার সাথে সাথে সবার মাঝে ঘরে ফেরার তাড়া শুরু হয়ে গেল। সবাই নৌকার দিকে ছুটলো, খারাপ নৌকাগুলোও দ্রুত ভালো করা হলো।

এতকিছু পরও ভালোবাসা দ্রুত দ্বীপটি ছেড়ে যেতে অনীহা দেখালো। তখনই অনেক কিছু করার বাকি ছিলো। আকাশে হঠাত কালো মেঘ জমতে শুরু করলো। তখন ভালোবাসা বুঝতে পারলো যে দ্বীপটি দ্রুত ত্যাগ করার সময় এসে গেছে। কিন্তু ততক্ষনে সব নৌকা ছেড়ে চলে গিয়েছে। ভালোবাসা চারদিকে আশা নিয়ে তাকালো।

তখনই ঐশ্বর্য পাশ দিয়ে একটি আলিশান নৌকায় করে যাচ্ছিলো,
ভালোবাসা চিতকার করে বললো ঐশ্বর্য আমাকে কি তোমার নৌকায় নিতে পারবে?
ঐশ্বর্য বললো না, আমার নৌকা মূল্যবান সম্পদে পরিপূর্ণ, সোনা, রূপা দিয়ে ভর্তি সেখানে তোমার জন্য কোন জায়গা খালি নেই।

খানিকপরে অহমিকা যাচ্ছিলো একটি সুন্দর নৌকায় চড়ে। ভালোবাসা চিতকার করে বললো, তুমি কি আমাকে সাহায্য করতে পারবা?
অহমিকা বললো, না, তোমাকে নেয়া যাবেনা, তোমাকে নিলে আমার নৌকা তোমার পায়ের কাদায় নষ্ট হয়ে যাবে।

কিছুক্ষন পর দুঃখ পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, পুনরায় ভালোবাসা তাকে বললো তুমি কি আমাকে নিতে পারবা,
দুঃখ বললো না, আমি তোমাকে নিতে পারবোনা আমি অনেক কষ্টে আছি।

যখন সুখ পাশ দিয়ে যাচ্চিলো, ভালোবাসা তাকে ও বললো কিন্তু সুখ আনন্দে এত ব্যস্ত ছিলো চারদিকে তাকানোর সে প্রয়োজন বোধটুকু করলো না।

একটু পর ভালোবাসা ক্লান্ত ও মর্মাহত বোধ করতে লাগলো।
ঠিক সেই সময়ে কে যেন হঠাত করে ঢাকলো যে, ভালোবাসা আসো আমি তোমাকে সাথে নিবো।
ভালোবাসা বুঝতে পারলো না যে কে এত উদার হয়ে ডাকলো। সে দ্রুত লাফ দিয়ে নৌকায় উঠলো, নিরাপদ পৌছতে পারবে ভেবে স্বস্তি বোধ করলো।
নৌকায় উঠেই ভালোবাসা জ্ঞানকে দেখতে পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো “জ্ঞান তুমি কি জানো কে এত উদার হয়ে আমাকে সাহায্য করলো যখন কেউ আমাকে সাহায্য করলো না?”
জ্ঞান হেসে বললো, “ওহ, সময় তোমাকে ডেকেছে”
ভালোবাসা আরো আশ্চর্য্য হয়ে ভাবতে লাগলো যে, “কেন সময় তার জন্য থামলো, কেন তাকে নিরাপদ স্থানে পৌছে দেও্য়ার জন্য নৌকায় তুলে নিলো”
জ্ঞান বিজ্ঞের হাসি হেসে বললো, “একমাত্র সময়ই জানে তোমার মহানুভবতা এবং তোমার সামর্থ্য কি। শুধুমাত্র ভালোবাসাই পারে এই পৃথিবীকে সুখ এবং শান্তিময় করতে”।

এখান থেকে শিক্ষা হলোঃ যখন আমরা সম্পদশালী হই তখন ভালোবাসাকে এড়িয়ে যাই। যখন আমরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবি তখন ভালোবাসাকে ভূলে যাই। এমনকি সুখ ও দুঃখেও আমরা ভালোবাসাকে অনেক সময় ভূলে যাই।
শুধুমাত্র সময়ে আমরা ভালোবাসা অনুভব করি এবং এর গুরুত্ব বুঝতে পারি।
সুতরাং আর দেরি কেন, চলুন না আজ থেকে ভালোবাসাকে জীবনের একটু অংশ করে নেই।

সুখের জন্য ছোটা……. (শিক্ষনীয় গল্প)

একদিন এক শিক্ষক ক্লাশে ঢুকে সব ছাত্রকে একটি করে বেলুন দিয়ে বেলুনে যার যার নাম লিখতে বললেন। সবার নাম লিখা হয়ে গেলে শিক্ষক বেলুনগুলো সংগ্রহ করলেন। বেলুন গুলো নিয়ে পাশের একটি কক্ষে রাখলেন।
এরপর শিক্ষক সব ছাত্রকে ৫ মিনিট সময় দিয়ে তাদের নিজের নাম সম্বলিত বেলুনটি খুঁজতে বললেন। সবাই হুড়মুড় করে ঐ কক্ষে ঢুকলো, হন্যে হয়ে খুজতে লাগলো সবাই চিৎকার, হইহুল্লোর শুরু করলো কিন্তু কেউই ৫ মিনিটে কারো বেলুন খুঁজে পেলো না উপরন্তু অনেক বেলুন নষ্ট হয়ে গেলো।
এরপর শিক্ষক একই ভাবে আর একটি কক্ষে আবার সব বেলুন দিয়ে যেকোন একটি করে বেলুন খুঁজতে বললেন। এবার সবাই একটি করে বেলুন পেলো।

এবার শিক্ষক সবাইকে বললেন, ঠিক এমনটি আমাদের জীবনে ঘটে। সবাই হন্যে হয়ে চারিদিকে সুখ খুঁজে বেড়ায় কিন্তু কেউ ই জানে না সুখ কোথায়। আসলে একজনের সুখ অন্যজনের সুখের মধ্যে নিহিত রয়েছে। তোমরা অন্যকে সুখী কর, তাহলে নিজেদের সুখটা পেয়ে যাবে।

সুতরাং অন্যকে সুখী করার চেষ্টা করলে নিজের সুখ পাওয়া যায়। তাই আসুন আমরা অন্যের সুখে নিজেদের সুখ খোঁজার চেষ্টা করি।

শিক্ষনীয় গল্প

There was a blind girl who hated herself just because she was blind. She hated everyone, except her loving boyfriend. He was always there for her. She said that if she could only see the world, she would marry her boyfriend.

One day, someone donated a pair of eyes to her and then she could see everything, including her boyfriend. Her boyfriend asked her, “now that you can see the world, will you marry me?”

The girl was shocked when she saw that her boyfriend was blind too, and refused to marry him. Her boyfriend walked away in tears, and later wrote a letter to her saying:

“Just take care of my eyes dear.”

This is how human brain changes when the status changed. Only few remember what life was before, and who’s always been there even in the most painful situations.

অলসতা করলে রিজিক মিলে না (শিক্ষনীয় গল্প)

এক ব্যক্তি একদিন একটি বুনো বিড়ালকে দেখল যে, তার হাত-পা কাটা। তা দেখে সে অবাক হয়ে গেল যে, এটা কেমন করে বাঁচে। কিভাবে নিজের খাদ্য সংগ্রহ করে। এটা ভেবে সে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে ধ্যানে মগ্ন হয়ে রইল। কিছুক্ষন পর দেখল যে, একটি বাঘ একটি খেক শিয়াল শিকার করে নিয়ে এলো এবং ঐখানে বসে শিয়ালটি খেল। বাদবাকী যা ছিলো, ঐখানে ফেলে চলে গেল। তা দেখে লোকটির দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, রিযিকদাতা যাকে ইচ্ছে রিযিক পৌছে দেন। রিযিক নিজের শক্তির ওপর অর্জন করা নির্ভর করে না। তা ভেবে সেখান হতে রওয়ানা হয়ে গেল এবং মনে মনে স্থির করল যে, পিঁপড়ার ন্যায় নির্জনে এক কোণে গিয়ে বসে থাকব। কয়েকদিন নির্জনে বসে আল্লাহর পানে চেয়ে রইলো যে, তিনি রিযিক পাঠিয়ে দেবেন। তার জন্য কোন ব্যক্তি করল না অর্থাৎ নিজের আত্নীয়-স্বজন বা অন্য কেউই তাকে খাদ্য দিল না এবং কেউ তার জন্য চিন্তাও করল না। অবশেষে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। তখন আর সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইল, তখন সে একটি আওয়াজ শুনতে পেল, হে কমিনা! উঠ যাও এবং হিংস্র বাঘের ন্যায় হও, নিজেকে হাত-পা কাটা বিড়ালের ন্যায় বানাইও না। এভাবে চেষ্টা কর যেন বাঘের ন্যায় কামাই করে অন্যকে খাওয়াইতে পার। বিড়ালের ন্যায় জুটা খেয়ে কেন জীবন ধারন করবে? যার ঘাড় বাঘের ন্যায় মোটা, সে যদি বিড়ালের ন্যায় পড়ে থাকে,তবে সে কুকুরের চেয়েও অধম। নিজের হাতে জোরে কামাই কর,অন্যকে খাওয়াও। অন্যোর উপর নির্ভর কর না। মানুষের মত কষ্ট স্বীকার কর, অন্যকে শান্তি দাও।

শিক্ষনীয় গল্প-জীবনের গুরত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে করা

একজন দর্শনের প্রফেসর একদিন ক্লাশে ঢুকে তার সামনের টেবিলের উপর কিছু জিনিস রেখে দাড়ালেন। যখন ক্লাশ শুরু হলো তখন কোন কিছু না বলে একটি বড় স্বচ্ছ কাচের খালি কলস নিলের এবং সেটি কিছু বড় বড় কৌণিক পাথর নিয়ে সেটি ভর্তি করলেন। এরপর ছাত্রদের জিগ্গেস করলেন যে, কলস ভর্তি কিনা? ছাত্ররা বললো যে, হ্যা ভর্তি। এরপর কিছু গোলাকার পাথর তুলে নিয়ে কলসীর মধ্যে ঢেলে দিলেন সেগুলো ফাকা জায়গাগুলোতে গড়িয়ে পড়লো। এরপর প্রফেসর জিগ্গেস করলেন যে, কলস পূর্ণ হয়েছে কিনা, তখন ছাত্ররা বললো যে হ্যা পূর্ণ হয়েছে। এরপর প্রফেসর বালূর বাক্স বালু নিয়ে কলসের মধ্যে ঢেলে দিলেন ফলে বালুগুলো ফাকা জায়গাগুলোতে গিয়ে পুরো কলস ভর্তি করে দিলো। এরপর আবার প্রফেসর ছাত্রদের জিগ্গেস করলেন যে, কলস পরিপূর্ণ হয়েছে কিনা, ছাত্ররা বললো যে এখন আর কোন ফাকা জায়গা নেই। এরপর প্রফেসর ছাত্রদের বললেন, এখন তোমরা মনেকর যে, কলসটি তোমাদের জীবন। আর কলসের ভিতর যে বড় বড় পাথরগুলো আছে সেগুলো হলো তোমাদের পরিবার, তোমাদের জীবন সংগী, তোমাদের স্বাস্থ্য, তোমাদের বাচ্চাকাচ্চা- এগুলো জীবনের খুবই গুরত্বপূর্ণ, অন্য সবকিছু ছেড়ে চলে গেলেও এগুলো থাকার কারনে তোমাদের জীবন পরিপূর্ণ মনে হবে। গোলাকার পাথরগুলো হলো এমনসব জিনিস যেমন, চাকুরী, বাড়ী, গাড়ী। বালু হলো বাকীসব ছোটো খাটো জিনিস। “তোমরা যদি কলসীতে প্রথমে বালু ঢেলে দাও তাহলে এটি সেটাকে প্রথমেই পরিপূর্ণ করে দিবে, সেখানে বড় বড় পাথর এবং অপেক্ষাকৃত ছোট গোলাকার পাথরগুলোর জায়গা হবে না। জীবনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সাদৃস্য দেখা যায়, যদি তোমরা তোমাদের সকল সময় এবং শক্তি ছোটখাটো জিনিসের জন্য ব্যায় কর তাহলে তোমরা কখনই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর জন্য জায়গা খুজে পাবে না। তাই জীবনের সেসব জিনিসের দিকে বেশি মনোযোগ দাও যেগুলো জীবনে সুখী হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের বাচ্চাদের সাথে সময় ব্যায় কর, নিজের জীবন সংগীদের বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাও।” “বড় বড় পাথরগুলোর যত্ন আগে নাও, যেটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার দাও। বাকি সব হলো বালু”