রাতের ভাবনাঃ বাংলাদেশ রাজনীতি

যুবক হঠাত উঠে দাড়ায়
মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে বোতল বন্ধী পেট্রল
চোখে মুখে এক আদিম ক্ষুধা
আদিম ক্ষুধায় পেয়ে বসেছে তাকে
ছুটছে ছুটছে সামনেই শিকার
শিকার তাকে ধরতেই হবে
সামনেই যাত্রী বোঝাই গাড়ী
মুহুর্তেই পোড়ামাংসের গন্ধ,
ছোপ ছোপ রক্তের দাগ,
চারিদিকে ভয়ার্ত আর্তনাদ
দুরে কোথাও শয়তানের অট্টহাসি

জীবন তাড়নায় কষ্ট-ক্লেশে ক্লান্ত যুবক
মধ্যরাতে বাড়ি ফেরা, বিছানায় ক্লান্ত শরীর
হঠাত বাড়ির বাইরে বুটের আওয়াজ
দরজায় কারা যেন কড়া নারে
বাবা-মায়ের আহাজারি
যুবককে ধরে নিয়ে কারা যেন
দুরে হঠাত গুলির শব্দ
নীরবতা-ভয়াল রাত্রীর আধার হয় পার
সকালে মর্গে নিথর দেহ

সংগ্রামরত মধ্যবিত্তের পরাজয় হয় রাতের ভয়ংকর অন্ধকারের কাছে। সংগ্রামরত মানুষের পরাজয় হয় পেট্রলবোমা নামক আতংকের কাছে। জয়ীই কেউই হতে পারে না, হয়ও না। জয় হয় শয়তানের, পরাজয় হয় মানবতার, পরাজয় হয় মনুষ্যত্বের।

সুশীলরা সুশীল থাকতে থাকতে পারেনি, কারন তারা সব সয় ন্যায়ের পক্ষে থাকতে পারে নি। শুধুমাত্রের মতবাদের বিরোধীতার কারনে ন্যায়ের পক্ষে না থাকার ফলে জয় হয় শয়তানের। কালোয় ছেয়ে যায় ভালো, আলো হয়ে যায় নিস্প্রভ। নিরপেক্ষ বলে যখন আপনি পার পেতে যান, যখন পানি সত্যকে প্রকাশ করেন না, তখন সেটি পরোক্ষভাবে অন্ধকারকে সমর্থন দেয়। আর সেটি এক সময় সবাইকে গ্রাস করে। আজ অন্ধকার প্রকট, বাংলাদেশ যেন একটি বিশাল জংগল, হিংস্র প্রানীর মত সবাই ছুটছে, কে কার রক্ত পান করবে। আমরা বসে বসে হাত তালি দেই কার কতটা লাশ পড়লো তা গুনে গুনে, অদ্ভূত এক আদিম সূখ অনুভব করি। সমর্থন যোগাই পক্ষের শক্তিকে।

মাঝে মাঝে তাই মনেহয়, সময় এগিয়েছে, কিন্তু আদিমতা, উদ্দামতা কমেনি কোন অংশে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, আমাদের মানুষ হওয়ার যোগ্যতা দিন!

বিজয় মাসের ভাবনা

প্রেম ভালোবাসা যত বেশিনা বাহ্যিক তার চেয়ে বেশি আত্নিক। ভালোবাসা একটি অনুভূতি, একটি অনুভবের বিষয় যে অনুভূতি মানুষকে সর্বদা জাগ্রত রাখে ভালোবাসার জিনিসটির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রতির প্রতি তার দ্বায়িত্বানুভূতিতে। বাংলাদেশে ঈদের জামায়াতে, কিংবা শুক্রবারের নামাজে যেমন মুসলমানের সংখ্যা দেখে অভিভূত হতে হয় ঠিক তেমনি ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ সে মার্চে দেশপ্রেমিক মানুষের সংখ্যা দেখে অভিভূত হতে হয়। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসর যে পরিবেশ তৈরী হয়, তা দেখে আগ্রাসী শক্তির বুকে হয়ত কাপন ধরে যায় সে দিনটির জন্য।
দেশকে ভালোবাসার প্রতিকীস্বরূপ পতাকাকে সন্মান করতে শেখানো একটি জাতিগত ট্রাডিশনের পরিনত হয়েছে। দেশের প্রায় বেশিরভাগ স্কুল কলেজ গুলোতে জাতীয় পতাকাকে সন্মান দেখানো, স্যালুট জানানো একটি নিত্য দিনের দ্বায়িত্ব। অথচ পশ্চিমাদেশগুলোতে স্কুল কিংবা কলেজে পতাকাকে প্রতিদিন স্যালুট দেয়া হয়ত শেখানো হয় না। তবে এখানে সবার মনের মধ্যে দেশেপ্রেমের পরিবেশ তৈরী করে দেয়া হয়, যেটি হয়ত বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
জার্মানী জাতির কোন সদস্যের সংস্পর্শে আসলে অনেকেই বুঝে যায় এরা কতবড় জাতিপ্রেমিক, প্রয়োজন না হলে এরা ইংলিশে কথা বলেনা, ঠিক তেমনি অনেক সুইডিশ আছে প্রয়োজন ছাড়া ইংলিশ বলে না, অথচ এরা যে ইংলিশ এ অনেক পারদর্শী সেটা কথা বলা শুরু করলে বুঝা যায়।
অপর পক্ষে আমরা বাংলাদেশিরা দেশপ্রেমের যে আবেগ নিয়ে চলি, তার সিকিআনা পরিমানও আমাদের কাজে প্রকাশ পায় না। আমরা বাংলাভাষায় কথা না বলতেই পারলেই নিজেদের স্মার্ট ভাবি।
বেশকিছুদিন আগে এক সুইডিশ বাংগালীর সাথে কথা হচ্ছিলো, কথায় কথায় তিনি বললেন, তার লাল পাসপোর্ট আছে (যারা সুইডিশ তাদের পাসপোর্ট লাল হয়), তিনি আরো বললেন তিনি সুইডিশ। আমি একটু ফান করার জন্য বললাম যে আপনিতো বাংলাদেশি, উনি তখন জোড় দিয়ে বললেন যে না, আমার লাল পাসপোর্ট আছে, আমি সুইডিশ। এটি হলো আমাদের দেশপ্রেমের একটি উদাহরন। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি কিভাবে বাংলাদেশি পরিচয় লুকিয়ে বেচে থাকা যায়। হয়ত সবাই করে না তবে বেশির ভাগে যে করা সেটি নিজেদের অন্তরকে প্রশ্ন করলেই বুঝা যাবে। অথচ এইরকম দেশপ্রেম নিয়ে আমরা অনেক গর্বিত, নিজেদের অনন্যা জাতি ভেবে স্বপ্ন দেশি, আহা আমরা কতই না গর্বিত জাতি।
দেশপ্রেমের শিক্ষা নেই আমরা অপরকে ঘৃণা করার মধ্য দিয়ে, যদি অন্যকে ঘৃণা না করতে না পারি তাহলে যেন আমাদের দেশপ্রেমের কোন প্রকাশই ঘটেনা। যে জাতি যত নিচু তাদের মধ্যে শ্রেনীগত দ্বন্দ তৈরী হয় ফলস্শুতিতে তারা একে অপরকে এক ভাই আর ভাইকে এক বন্ধু আর এক বন্ধুকে ঘৃণা করে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটায়।
স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের মন মানসিকতার উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি পরিলক্ষিত হয় নি। দূর্নীতিগ্রস্থ রাজনীতির চর্চা আমাদের তরুন সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রকে আরো বিস্তৃত করছে। জাতি এগিয়ে যাচ্ছে পেছনের দিকে।

বিজয়ের এই মাসে যারা তরুন বাংলাদেশি, যারা জাতির ভবিষ্যত, তারা সবাই বিভেদ ভূলে গিয়ে, সম্মিলিতভাবে জাতিগত পরিচয়কে কিভাবে সমুন্নত করা যায় সেই চেষ্টাই করুক, জাতিগত প্রশ্নে সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করুক, সবাই নিজেদের আদর্শের চেয়ে নিজ দেশের স্বার্থ এবং জাতিগত পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেয়ার শপথ নিক, এটাই হোক বিজয় দিবসের কামনা, এটাই হোক বিজয় মাসের প্রেরনা। এই প্রেরনা বেচে থাক যুগ যুগ সবার মাঝে। আমরা আবার বাংগালী থেকে মানুষ হই, সেই কামনা করি।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!! দেশপ্রেমিক জনতা জিন্দাবাদ!

অগোছালো ভাবনাঃ আগামীতে দেশের রাজনীতি কেমন হবে।

ছোট বেলা থেকে সমাজের মানুষকে নিয়ে চিন্তা করতে ভালো লাগতো। সেই চিন্তা করার অভ্যস টা রয়ে গিয়েছে আজ অবধি। মাঝে মাঝে ই ভাবি কি রকম হবে, ২০ বছরের পরে বাংলাদেশের রাজনীতি? তখনও কি ককটেল ফুটবে? তখনও কি আগুন জ্বলবে?
এসব ভাবতে ভাবতেই মন চলে যায় অনেক পেছনে, সেই পুরনো দিনের রাজনীতিতে। ভাবতাব তখনই কি ককটেল ছিলো? তখনও কি রাজনীতির ময়দানে পিস্তল, শটগান এসব নিয়ে মহড়া চলত?

সময়ের আবর্তনে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মানুষের ব্যবহৃত নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর মধ্যে ও বৈচিত্র চলে আসে। গ্রামে আগের হারিকেন, বা কেরোসিনের বাতির যে প্রচলন আজকে তা অনেকটাই নেই। গ্রামে গ্রামে বৈদ্যুতিক খুটি গুলো সুন্দর ভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মনেপড়ে সেই ছোট বেলায় যখন গ্রামের স্কুলটি পূনঃনির্মান হচ্ছিলো সেখানে মটর গাড়িতে করে ইট-বালি নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েসহ সবাই সেই গাড়ি দেখার জন্য ছুটত। অথচ এখন গ্রামের পরতে পরতে এসব গাড়ি দেখা যায়। আগে গ্রামের গৃহস্থ্য বাড়িতে কাজের ছেলে থাকত সেই সব কাজ করত। এখন গ্রামে আর কাজের ছেলে খুজে পাওয়া যায় না। আবার আগে যেমন সবার বাড়িতে ফলের গাছ দেখা যেত গরু-ছাগল দেখা যেত এখন আর এসব দেখা যায় খুবই কম। সমাজের একটা পরিবর্তন সবার অজান্তে ঘটে গেছে এবং যাচ্ছে। আর সে পরিবর্তন কোন রাজনৈতিক নেতার উপর নির্ভর করে না। ব্যক্তি মানুষের প্রচেষ্টায় যে পরিবর্তন সেই পরিবর্তনের সামগ্রিকরূপ টাই এখন দেখা যায়। এটির জন্য কোন রাজনৈতক গোষ্ঠির অবদান নেই বল্লেই চলে। বরং এসব রাজনৈতিক গোষ্ঠিই এই উন্নতির পথকে দীর্ঘায়িত করে। সে যা বলছিলাম, গ্রামে গেলে আগের মত অলস বা কাজহীন মানুষ চোখে পড়ে কম। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মানুষের মধ্যে চিন্তার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে সমাজের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরী হয়ে গেছে, সবার কাছে সমাজের সুবিধাগুলো পৌছে যাচ্ছে তাই সবাই একই ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে চলছে যেখানে আগে গরীব মানুষের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের সুযোগ ছিলো সামান্যই। আর মানুষের কর্মব্যস্ততা এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার কারনে রাজনীতি নিয়ে মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে, আবার অপর পক্ষে রাজনীতির ভিশন নিয়ে একটি শিক্ষিত শ্রেনীর উন্মেষ ঘটছে। ফলে রাজনৈতিক ময়দানে পরিবর্তন খুবই আসন্ন।
পশ্চিমা দেশগুলোতে দেখা যায় যে, সেখানে রাজনীতি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ থাকেনা। এর কারন হলো সেখানকার সমাজ একটি প্রতিযোগিতামূলক সমাজ। সেখানে মানুষ ব্যক্তি উন্নয়নকে বেশি প্রাধান্য দেয় ফলে রাজনীতি করার মত সময় নষ্ট করার মত কাজকে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করে। আবার প্রতিযোগিতামূলক সমাজ হওয়ার কারনে, কেবল মাত্র ভিশনারী রাজনীতি ই টিকে থাকতে পারে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ। এখানে মানুষের জন্য কর্মসংস্থান না থাকায়, এমনিতেই অনেক মানুষ রাস্তা ঘাটে গল্প করে সময় কাটায়। ফলে রাজনীতির ময়দানে অলস সময় কাটানোর মত অনেক মানুষ পাওয়া যায়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এসব মানুষের যখন চিন্তার পরিবর্তন ঘটবে তখন রাজনীতির ময়দানে এসব মানুষকে আর খুজে পাওয়া যাবে না। এরা ব্যস্ত হয়ে পড়বে ব্যক্তি উন্নয়নে। আবার প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে আগে যেমন রাজপথে মিছিল মিটিং হত, সেটি আর তেমন হবে না। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে রাজনীতির ময়দান রাজপথ থেকে ভার্সুয়াল জগতে বিস্তৃত হবে। ফলে রাজনীতির ময়দানে সহিংশতা কমে যাবে। বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতা তৈরী হবে।

প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সহজলভ্যতার কারনে, সমাজের অল্পন শিক্ষিত মানুষগুলো ও খুব সহজে সঠিক খবর বা তাদের নিজেদের মতামত বা ব্যক্তি চিন্তা অপর মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারবে, ফলে সমাজের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ গুলো প্রযুক্তির আওতায় চলে আসবে।
সমাজে আগের মোড়লতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থানে ব্যক্তিতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। ফলে সমাজে প্রতিটি মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন হয়ে উঠবে এবং দেশের রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

তাই আগামীর রাজনীতি হবে, শিক্ষিত সমাজের রাজনীতি, আগামীর রাজনীতি হবে ভিশনারীদের রাজনীতি, আগামীর রাজনীতি হবে সুষ্ঠ রাজনীতি সেখানে অপরাজনীতির কোন স্থান থাকবেনা। আদর্শহীন, লক্ষহীন রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে সহসাই। তাই যারা সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে বেশি কাজ করবে আগামীর রাজনীতি হবে তাদেরই রাজনীতি। যারা সমাজ ও জাতিগঠনে কাজ করবে রাজনীতির ময়দান থাকবে তাদের দখলে।

মধ্যবিত্তের রাজনীতিঃ প্রসঙ্গ বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা ও পরিবর্তিত হয় অনেকাংশে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানুষকে মুক্ত চিন্তার অধিকারী করে তোলে। ফলে দেখা যায় প্রাচীন রাজতন্ত্র আজ বিলুপ্ত প্রায়। ২০ বছর আগের বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোর সাথে বর্তমান সমাজ কাঠামোর পরিবর্তন লক্ষনীয়। সমাজের মোড়ল শ্রেনীর কাছে প্রান্তিক শ্রেনীর বন্দকী জীবন আজ বিলুপ্ত প্রায়, ফলে মোড়ল শ্রেনীর প্রতি প্রান্তিক শ্রেনীর মানুষের শ্রদ্ধা ও সন্মান লোপ পেয়েছে অনেকাংশে। মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতি নিজেদের কর্তৃত্ব যেমন অনেকটাই পেয়েছে ঠিক তেমনি শিক্ষার অভাবে সেই কর্তৃত্বের অপপ্রয়োগ ঘটে প্রায়ই।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোড়ল শ্রেনীর উপস্থিতির ফলে নেতাকে প্রভুর ন্যায় ভক্তি ও ভালোবাসার পাত্র মনে করা হত। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এমন শ্রেনীর উপস্থিতির ফলে প্রান্তিক শ্রেনী শাসন ও শোষনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সময়ের আবর্তনে প্রান্তিক শ্রেনীর ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর শিক্ষা ক্ষেত্রে অংশগ্রহন ও অগ্রগতি, শিক্ষার সহজ লভ্যতা এবং ফলশ্রুতিতে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা সমাজে একটি বিরাট মুক্ত চিন্তার শ্রেনী তৈরী করেছে। ফলে রাজনীতিতে ও পরিবর্তন অত্যাসন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু পরিবর্তিত মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক শ্রেনীর রাজনীতিতে অংশগ্রহনে অনিহার ফলে রাজনীতিতে অসাধু শ্রেনীর উদ্ভব হয় দ্রুতই। প্রভুশ্রেনীর প্রভু ভক্তি লাভের বাসনা, প্রান্তিক ও মধ্যবিত্তের প্রভু ভক্তিতে অনিহা ও আত্নসন্মানের বৃদ্ধি অসাধু শ্রেনীকে প্রভু শ্রেনীর শাসন ও শোষনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ তৈরী করে দেয়, ফলে সমাজ ও রাজনীতিতে একটি শ্রেনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি হ্রাস পেতে থাকে দ্রুত। রাজনীতির নেতৃত্বে শুন্যতা তৈরী হতে থাকে দ্রুত। ফলে একদিকে ভালো ইমেজের অরাজনৈতিক শ্রেনীর জন্ম হয়, অপরদিকে রাজনীতিতে সব অসাধু শ্রেনী সমাবেশ ঘটে। সমাজে ভালো খারাপের দ্বন্দ্ব ষ্পষ্ট হয়ে উঠে।
শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ , জিয়াউর রহমানের বিএনপি এবং এরশাদের জাতীয় পার্টির উৎপত্তির প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও। পরিবর্তিত অবস্থায় পরে পরিবার কেন্দ্রিক দলে পরিনত হয়, প্রধান তিনটি দল পরিবার কেন্দ্রিক হওয়া, এবং বাংলার মানুষের মধ্যে প্রভুভক্তির কিছুটা বিদ্যমান থাকার ফলে দেশের রাজনীতিতে নেতা তৈরীর ক্ষেত্রে এক ধরনের শুন্যতা সৃষ্টি হয়। যার ফলে গনতন্ত্রে সুন্দর চর্চা ব্যহত হয় এবং অযোগ্য নেতৃত্ব তৈরী হয় এবং সমাজ ও রাজনীতিতে তৈরী হয় বিশৃংখলা। এই বিশৃংখলা পরিস্থিতির সৃষ্টি যেমন একদিনে হয়নি, ঠিক তেমনি এর থেকে পরিত্রানই একদিনে হবে না। পরিবার তন্ত্র থেকে বের হতে না পারলে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির মৃত্যু খুবই সন্নিকটে। দেশও জাতির সংকটময় অবস্থায় এতোদিনের রাজনীতি বিমূখ অর্থনৈতিকভাবে পরিবর্তিত সমাজ রাজনীতির অবস্থা নিয়ে সোচ্চার হওয়া শুরু করছে।
রাজনীতিতে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেনীর অংশগ্রহন যেমন রাজনীতির নেতা তৈরীর শুন্যতা পুরন করে দিতে পারে তেমনি বাংলাদেশে একটি সুস্থ্য রাজনীতির চর্চার ও পথ তৈরি করে দিতে পারে। তাই শিক্ষিত সচেতন শ্রেনীর রাজনীতিতে অংশগ্রহন এমন জরুরী তেমনি এমন সুষ্ঠ রাজনীতির চর্চাকে মানুষের সামনে নিয়ে যাওয়ার দ্বায়িত্ব দেশপ্রেমিক সংবাদ কর্মীদের। সব সৎ মানুষগুলো মিলে একটি সুন্দর দেশ গঠন করা হয় খুব কঠিন না। এজন্য প্রয়োজন নিছক ব্যক্তিস্বার্থ্য পরিহার, অকারনে বিভেদ সৃষ্টি না করে আদর্শিক রাজনীতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যে রাজনৈতিক দল গনতন্ত্রের চর্চা করে তাদের কে দেশের জন্য মানুষের সামনে নিয়ে যাওয়া।

আগামীর বাংলাদেশ হোক একটি সুস্থ্য রাজনীতি চর্চার দেশ। আগামীর বাংলাদেশ হোক শান্তিময় বাংলাদেশ।

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আজকের ভাবনা

যে বিভেদ দ্বন্দ্ব তৈরী হলো বা তৈরী করা হলো, এটি আর থাম্বার নয়, হয়তো শুরু হলো। দীর্ঘ সময়ে মানুষের মনে জমে থাকা বিভেদ আজ কেবল প্রকাশ পাওয়া শুরু করেছে।

১৯৪৭ সালে যখন ভারত থেকে পাকিস্তান আলাদা হয় তখন মূলত ধর্মীয় পরিচয়ের উপর ভিত্তি করেই দুটি দেশের তৈরী হয়েছিলো। কিছুটা পেছনে ফিরে তাকানো যাক, ১২০৪ সালের দিকে বখতিয়ার খিলজির যখন বাংলা জয় করে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন তখন থেকে মূলত বাংলা বিভিন্নভাবে মুসলিমদের দ্বারা শাসিত হয়ে আসছিলো।

তবে বাংলাদেশে মুসলিমদের আগমন ঘটে ১৩ শতকের প্রথম দিকে। ১২০৩ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয়ের মাধ্যমে এদেশে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন। তখন থেকেই মূলত বাংলাদেশে বিভিন্ন মুসলিম ধর্ম প্রচারকদের আগমন ঘটে। প্রখ্যাত মসলিম ধর্ম প্রচারক হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর আগমন ঘটে ১৩০৩ সালে সিলেটে। বৌদ্ধ-হিন্দু সংষ্কৃতি অধ্যুষিত বাংলাদেশ ইসলামের সৌন্দর্যে দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। কয়েক শ বছরের মধ্যে একটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিনত হয়। তবে এত কিছুর পরও বাংলাদেশ ছিলো ধর্মীয় সম্প্রীতির উদাহরন হিসেবে। পার্শ্ববর্তী ভারতে যত ধরনের ধর্মীয় দাঙ্গা হয়েছে সেরকম কোন উদাহরন বাংলাদেশে নেই। এর থেকে এটি প্রমানিত যে, মুসলিমরা দাঙ্গায় বিশ্বাস করেনা। যদি তাই করত বাংলাদেশে হয়ত কোন হিন্দু বাস করতে পারতো না।

কিন্তু কথা হলো এরকম একটি শান্তিময় দেশে াহঠাৎ ইসলামি দল নিষিদ্ধ কিংবা সেক্যুলার দেশ করার প্রচারনা কেন শুরু হলো। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ইসলাম কতটুকু বাধা হয়ে দাড়িয়েছে?? কই পাকিস্তানের মত তো কেউ এখানে বোম্ব মারেনা। সেরকম উল্লেখ করার মত ধর্মীয় দাঙ্গা সেটাও নেই। তাহলে আজ হঠাৎ এরকম আওয়াজ বা কেন??

বাংলাদেশে সরকার যখন চরমভাবে ব্যর্থ ঠিক তখনই এরকম একটি ইস্যু সামনে নিয়ে আসা হলো যাতে করে সাধারন মানুষের মাথা নষ্ট করে দেয়া যায়। বিশ্ব রাজনীতিতে যখন সন্ত্রাসবাদের পক্ষে বিপক্ষের নামে সকল মুসলিম দেশে সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন চলছে, তখন সবদিক থেকে ব্যর্থ একটি সরকার সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে একটি পরিস্থিত তৈরী করে তার ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। একদিকে যুদ্ধাপরাধের কথা বলে ডিজিটাল প্রজন্মকে ডিজিটালের থাবায় হিপনোটাইজ করে রেখেছে অপরদিকে ইসলাম কে চরম পন্থা হিসেবে তুলে ধরার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা শুরু করেছে। যদি কোনভাবে দেশের ইসলামকে, মুসলিম সমাজকে জঙ্গীরুপে তুলে ধরা যায় বিশ্বমোড়লদের কাছে , তাহলে সেই মুসলিমদের রক্তের উপরে যদি অত্যাচারিতের বালা খানা তৈরী হয় তবু দেখার কেউ থাকবে না। আওয়ামী-বাম সরকার পরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এগিয়ে যাচ্ছে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে।

এরূপ অবস্থায় বাংলার মুসলিম সমাজের উচিৎ একটি টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়া। চারদিকে ভারত বেষ্টিত, একটি হিন্দু সংষ্কৃতির বলয়ে অবস্থান করে, প্রথাগতভাবে হয়ত আন্দোলন করে আর এগুনো যাবেনা। প্রয়োজন নীতির পরিবর্তন। যে দেশের মানুষ ইসলামী বিধিবিধান নিয়ে সচেতন নয় সেখানে হয়ত শরীয়া ভিত্তিক সমাজ গঠনের যে আন্দোলন তা টেকসই না। বাংলাদেশে মুষ্টিমেয় লোক ছাড়া ইসলামি আইন ও বিধিবিধান নিয়ে সচেতন লোক পাওয়া দুষ্কর। আর তাই গ্রামে গেলে দেখবেন ইসলাম বলতে শুধু আবেগটাই আছে, আর কিছু ই নাই। ইসলামী শরিয়তের বিধান নিয়ে মোটেও মাথা ব্যাথা নেই এসব মানুষদের। তবে একটি জায়গায় এরা খুব আবেগী আর তা হলো তাদের নবী এবং তাদের ধর্ম কেউ কটুক্তি করতে পারবেনা। কিন্তু তারা যে প্রতিনিয়ত তাদের নবীজীর আদেশের অবমাননা করে চলেছে সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই। আর তাই এই রকম একটি জনগোষ্ঠি নিয়ে শরীয়া ভিত্তিক সমাজ গঠনের চিন্তা নিতান্তই বোকামী।

তবে আপাততো সংকট থেকে উত্তরনের জন্য সকল ইসলামী দলগুলোকে এক হয়ে কাজ করে যেতে হবে। সরকার জেনে বুঝে উস্কানী দিচ্ছে যে মুসলিম রা টুপি পরে রাস্তায় নামুক তাহলে এদের জঙ্গী প্রমান করে বিশ্বমোড়লদের নজরকারা যাবে।

পরামর্শঃ
১) সংকটকে সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করা।
২) সবগুলো ইসলামী দল মিলে একটি জোট গঠন করা। (ইসলামি কোয়ালিশন ফ্রন্ট অথবা ইসলামী ব্রাদারহুড এরকম কিছু নাম দেয়া) যেহেতু সবার প্রথম উদ্দেশ্য একই রকম সেহেতু আপাতত একটি উদ্দেশ্য একতাবদ্ধ হওয়া। বড় দল হিসেবে জামায়াতের কিছু ছাড় দেয়া।
৩) যদি জোট গঠন করা সম্ভব না হয়, বড় ইসলামি দলগুলোর পলিসী ও নাম পরিবর্তন করে, ইসলাম ও ন্যাশনালিজমের মিশ্রনে একটি দল গঠন করা।

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নিজস্ব ভাবনা

একদিকে প্রতিবেশি ভারতের প্রতাক্ষ মদদে বেপরোয়া আওয়ামীলীগ, ভারতের আশ্বাসে নিরব বিএনপি, ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার ঘুমন্ত সাধারন মানুষ অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের পথিকৃৎ, অস্তিত্বের লড়াইয়ে একাকী হয়ে পড়া জামায়াত ও তার অংগ সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির।

যে ধরনের প্রচার ই হোক তা পরোক্ষভাবে জামায়াত-শিবিরের বিপক্ষেই কাজ করছে। সাধারন মানুষের রাজাকার আন্দোলন যখন সেক্যুলার বনাম ইসলাম পন্থী প্রচারনা লাভ করলো, ঠিক তখন ই সেক্যুলারদের নিজস্ব পদ্ধতিতে আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য হয়ত কিছু নতুন উপাদান খুজে পেলো। সেক্যুলার দের জয় জয়কার এই একবিংশ শতাব্দীতে দেশিয় আন্দোলন যখন সেক্যুলার বনাম ইসলাম পন্থী হিসেবে পুরোপুরি চিহ্নিত হবে তখন হয়ত জামায়াত-শিবির বৈদেশিক সমর্থন অনেকাংশে হারিয়ে ফেলবে। দেশীয় মানুষের অনুভবের শক্তিহীনতা, দেশের মিডিয়ার একচোখা নীতি অধিকন্তু সরকারের ইতিহাসের স্মরনীয় দমন-নিপীড়নে জামায়াত-শিবির বড় অসহায় হয়ে পড়েছে। হয়ত এই অসহায়ত্ব তাদের আন্দোলন থেকে দমাতে পারবেনা কিন্তু যে প্রতাক্ষ বিরোধ সৃষ্টি হলো সেটি হয় সংকটত্তোর বাংলাদেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি তথা ইসলামি রাজনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের মানুষের ইসলাম বিমূখতা স্পষ্টত লক্ষনী্য, এই অবস্থায় সংকট কালীন সময়গুলোতে মানুষের আবেগ ও প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষন ও সেটা নিয়ে চিন্তা একান্ত জরূরী। যাতে করে সংকট উত্তরনের পর নতুন কৌশল নীতি ঠিক করা যায়। ৪০ কিংবা ৭০ দশকের নীতি আবেগ দিয়ে হয়ত বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতি সম্ভব নয়। এটি বুঝতে হয়ত অনেক দেরী হয়ে যাবে।

হয়ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট আওয়ামীলীগের জন্য ই। যখন ছাত্রলীগের অপরাধ চরম আকার ধরন করলো, যখন সরকারের মন্ত্রীসভার সবক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া শুরু করলো, যখন পুরো বিশ্ব আওয়ামী সরকারের ব্যর্থা নিয়ে একে কে মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করলো ঠিক তখন ই, অতিসুকৌশলে মিথ্যার ধারকদের চিরাচরিত সেই নিয়মে সুক্ষ্নষঢযন্ত্র শুরু করে দিলো।

কোন রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো প্রতিপক্ষের ষঢ়যন্ত্র বুঝতে না পারা। আর সেটি এখন বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ইসলাম পন্থিদের জন্য। অধিকন্তু চারিদিকে ভারতবেষ্টিত থাকার কারনে, ভারতীয় কালচারের প্রভাব ও বেশ লক্ষনীয়। আর তাই পৃথিবীর অন্যন্যা ইসলামি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর অনেক চিন্তা করে এগুনো উচিত।

সাধারন মানুষ, যারা মনে করছে জামায়াতের সাথে সাধারনের লড়াই তারা মূলত একচোখা মিডিয়ার কারনে অন্ধ হয়ে গেছে। শাহবাগের আন্দোলনে যখন নাস্তিকরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে, যেখানে তাদের খাওয়া করচ সরকার বহন করছে, যেখানে পুলিশ প্রটেকশনে তারা থাকতে পারছে, সেখানে একটু চিন্তা করা হয়ত জরূরী ছিলো। হয়ত আপনারা বুঝার আগে অনেক দেরী হয়ে যাবে।

সে যাই হোক, এই অসম লড়াইয়ে যদি জামায়াত হেরে যায় তাহলে এর পরিনতি হয়তো সবাইকেই ভোগ করতে হবে। গত ৪ বছরে যারা চোখ খোলা রেখে পত্রিকর খবর পড়েছেন তারা হয়ত বুঝতে পারবে। আর যদি জামায়াত তার ঈমানী শক্তিতে জিতে যায় তাহলে হয়ত এর সুফলটাও সবাই ভোগ করবে। অন্তত বিগত ৪০ বছর ধরে যারা জামায়াত কে চোখ খোলা রেখে পর্যবেক্ষন করেছে তারা বুঝতে পারবে।

শেষে কিছু ঘটনা উল্লেখ করব যেগুলো হয়ত সাধারন মানুষ দাবী করতে পারত।
১) শেয়ার বাজারের ৩৫ হাজার কোটি টাকার চুরি।
২) সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেংকারী
৩) রেলওয়ে গেইট নামে বড় ধরনের চুরি।
৪) পদ্মা সেতুতে বড় ধরনের চুরি।
৫) হত্যাকান্ডের কথা না বা বললাম। যে সাধারন মানুষ গুলো গত ৪ বছরে আওয়ামী সরকার কর্তৃক মানুষ হত্যার বিচার চায় না, যে সাধারান মানুষগুলো রাজপথে মানুষ হত্যার বিচার চায় না, তারা যে সাধারন বিবেক সম্পন্ন মানুষ না এটি বিবেক সম্পন্ন মানুষ মাত্রই বুঝতে পারে।

শেখ হাসিনা যখন ১০ টাকার চাল খাওয়ানোর কথা বলে ভোট আদায় করেছিলো তখন হয়ত কেউ বুঝতে পারেননি যে, শেখ হাসিনার কৌশল। হয়ত আজ ও বুঝবেন না শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের কৌশল। যেদিন বুঝতে পারবেন সেদিন দেখবেন আপনার পরিবারের কেউ আওয়ামী সোনার ছেলে দ্বারা ধর্ষিত, হয়ত দেখবেন আপনার পরিবারের কেউ গুম, হয়ত দেখবেন বাবার সামনে ছেলের খুনের দৃশ্য।

যারা লড়াই করে সত্যের জন্য, তারা হয়ত হার জিতের জন্য লড়াই করেনা। তারা লড়াই করে আদর্শের জন্য। তারা লড়াই করে একটি মানবতার মতবাদকে প্রতিষ্ঠার জন্য। যারা জামায়াত-শিবিরের মৃত্যুকে চোখ বুঝে উপভোগ করছেন, কিংবা ধ্বংস কামনা করছেন। গত ৪০ বছরের রেকর্ড গুলো চিন্তা করুন, না পারলে গত ৪ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের কথা ভাবুন। আর যদি দুঃশাসনে আপনার মুক্তি খুজে থাকেন। তাহলে সৃষ্টিকর্তা হয়ত সেই দুঃশাসন দিয়ে জামায়াত-শিবিরের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করাবেন। সৃষ্টিকর্তা কারো চাওয়া অপূর্ণ রাখনেনা। কাউকে দেন দুনিয়ার জীবনে কাউকে হয়ত আখিরাতের জীবনে।

কলুষিত রাজনৈতিকদের দুষিত দেশপ্রেমে বন্দী ডিজিটাল প্রজন্ম।

মানুষ লড়াই করে শান্তির জন্য, লড়াই করে বিভেদকে প্রশমিত করার জন্য। আজব এক জাতি আমরা, নোংরা রাজনৈতিকদের দ্বারা আমারাও কলুষিত করছি, আমাদের নিজেদের ভ্রাতৃত্ববোধকে। দেশপ্রেমের নামে আমরা নিজেদের সুসম্পর্ক বিনষ্ট করছি। এটা তো স্বাধীনতার লড়াই না? আমরা কেউ ই দেশকে কম ভালোবাসিনা।

দেশপ্রেমের নামে নিজেদের মধ্যে হিংসা আর হানাহানি হয়ত দেশপ্রেমকেই কলংকিত করে। এক দেশে বাস করে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দার জন্য যারা বিভেদ তৈরী করে তারা মূলত দেশপ্রেমের নামে মানুষের আবেগকে কাজি লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ আদায়ের মত ঘৃণ্য ষঢ়যন্ত্র করে তারা মূলত জাতির দুষমন। যারা দেশপ্রেমের নামে দেশের প্রতিষ্ঠান নষ্ট করে , তারা আর যাই হোক দেশপ্রেমিক হতে পারেনা। দেশপ্রেমের সংজ্ঞায় হয়ত এটি পড়েনা। যারা দেশপ্রেমের নামে গনমাধ্যমের কন্ঠরোধ করে সেটি দেশপ্রেম হয় কি করে?? একটি দলের কুকর্ম লিখলে যদি দেশপ্রেমের বিরোধী হয়, তাহলে বলতে হবে আমরা আজব এক জগতে বাস করছি। হয়ত এসবের নাম ই হলো ফ্যাসিবাদ। দেশের শিক্ষিত এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষের উচিত এসবের বিরোধিতা করা।

আমি, আমরা সবাই চাই, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হোক, কিন্তু বিচারের নামে প্রহসন আমরাও চাই না। দেখুন বিচার করছে সরকার , ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। যদি বিচারে কোন সমস্যা হয়, সেটি করছে আওয়ামীলীগ। কিন্তু এখানে ইসলামি ব্যাংক ই বা আসলে কেন? আর রেটিনা কোচিং আসলো কেমনে?? একটু কি আপনাদের চিন্তা হয় না, এসব কেন করছেন?? পারলে আওয়ামীলীগের আস্তানায় আগুন দিন্? এসব ভাবুন। গনতান্ত্রিক দেশে সব মত, পথ থাকনে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে হানাহানি কেন?? আপনারা সরকারের কাছে দাবি জানান, সেখানে অন্য রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা কেন আর ইসলামি রাজনীতির বিরোধীতা কেন?? অন্য দলের বিরোধীতা করলে আপনারা নিরপেক্ষ হলেন কিভাবে?? আপনারা যেমন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন, ধীরে ধীরে আপনাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী সরকার ফ্যাসিবাদকে উষ্কে দিচ্ছে, আপনাদের অজান্তে। আর সেটি হলে আমাদের সবার জন্য খারাপ বৈকি ভালো কিছু হবে না। সময় সকল অন্যায়ের বিচার করে। আজ যেমন আপনারা একটি দলের ছত্রছায়ায় করছেন, নিজেরাও বুঝতে চাচ্ছেন না। আগামীতে হয়ত আপনারাই দেশদ্রোহী হবেন, সময়ই আপনাদের বিচার করবে এটাই স্বাভাবিক, এটাই জগতের নিয়ম। তাই পারতপক্ষে উচিত সুযোগের অপব্যবহার না করা। কারন সুযোগের অপব্যবহার ই মানুষকে অন্যায় পথে ঠেলে দেয়। আর সময় তা লিখে রাখে তার আপন ডায়রীতে। কে জানে, হয়ত আপনি, নয়ত আপনার ছেলে মেয়েরা আপনার দেশপ্রেমের বিচার দেখবে দেশদ্রোহী হিসেবে। যাদের আপনি শাহবাগের গল্প শোনাবেন, সময় ই হয়ত আপনাকে একজন আবেগী, চরমপন্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিবে, সেদিন হয়ত আপনার ও কিছু করার থাকবেনা।

মানুষের ধর্ষন করে মূলত আবেগের কারনে, যৌন আকাঙ্খার কারনে। আর সে যৌন আকাঙ্খা মানুষের সব সময় থাকেনা। যখন মানুষ যৌন আকাঙ্খায় ব্যাকুল হয়ে যায়, প্রয়োজন পড়ে শারিরিক চাহিদা মেটানোর। আর যদি মানষের বিবেক সে কাজ না করে তখন কোন বিচার ই করতে পারেনা, হেরে যায় আবগের কাছে, চাহিদার কাছে। তখন সে নিজের আপন মেয়েকে ও ধর্ষন করতে দ্বিধাবোধ করেনা। সমাজে পরিচিত হয় ধর্ষকরুপে। হয়ত সে নিজেও উত্তেজনা থেকে গেলে বুঝতে পারে যে সে কত বড় ভূল করে ফেলেছে, কিন্তু তখন কিছু করার থাকেনা। সে নতুন পরিচয় পায়, আর সে পরিচয় সমাজে আর সব বাবাদের লজ্জিত করে। এই উত্তেজনা বা আবেগ নামক জিনিসকে যে যত বেশি নিয়ন্ত্রন করতে পারে, সেই বেশি ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তার চারিত্রিক দৃঢ়তা সবার কাছে হয় প্রশংসিত। আবেগ যেমন মানুষকে প্রেমিক পুরুষ হিসেবে পরিচয় দান করে, লেখা হয় কাব্য গ্রন্থ, তাজমহলের মত সৌধ নির্মানে মানুষকে অনুপ্রেরনা সাহস দান করে, আবার সেই আবেগেই মানুষকে সমাজে নীচ-হীন পশুরুপে পরিচিত করে তোলে। এটি এমন এক অস্ত্র সঠিক সময়ে এর সঠিক ব্যবহার মানুষকে করে তুলে অনুসরনীয়। সময় তার ডায়রীতে লিখে রাখে তাদের নাম। কিন্তু যদি এই আবেগ হিংসা কিংবা ক্রোধ হয়ে প্রকাশ লাভ করে তাহলে সেটি মানুষকে ভালো কিছু এনে দেয় না। এনে দেয় ধ্বংস। সমাজে সে ইতর হিসেবে পরিচিত লাভ করে। এবং সময় ই তার বিচার করে তার আইনে।

দেশপ্রেমিক মূলত তারাই যারা নিজের দেশের নামকে স্মরনীয় করে রাখতে পেরেছে আমন মহিমায়। সময় ই তাদের মনে রেখেছে। তারা হয়ত দেশপ্রেম বলে স্লোগান দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। তারা দেশপ্রেমকে নিজেদের মধ্যে ধারন করতে পেরেছিলো। এটি মূলত বুকে ধারন করতে হয়, প্রমান করতে হয় কাজে।

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪০ বছর হয়ে গেলো। এখন দেশপ্রেম বলে নিজেদের মধ্যে বিভেদ করলে হয়ত সংঘাত ই বাড়বে, দেশের কোন উন্নতি হবেনা। বরং এখন নিজেদের মেধাশ্রম দিয়ে দেশের নামকে উজ্জ্বল করার সময়। দেশকে ভালো কিছু এনে দিতে পারলে সেটি ই হবে দেশপ্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন। সুশিক্ষিত ও যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষদের অনুপস্থিতির কারনে, রাজনীতিতে কলুষিত ব্যাক্তিদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারনে স্বাভাবিক বিবেকবোধ তথা মানবতাবোধের অবনতি ক্রমশঃ লক্ষনীয়। ফলে সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে রাজনীতির পালাবদল হয়ে পড়েছে অসম্ভব এক বস্তু। ফলে প্রতিনিয়ত তৈরী হচ্ছে সংকট আর সে সংকটের বলি হচ্ছি আমি ও আপনি। কেউ মরছি, কেউ মারছি। কেউ উপভোগ করছি চেয়ে। মানুষের মধ্যে তখন ই স্বাভাবিক চিন্তাবোধ লোপ পায় যখন মানুষ অন্যায়ে বসবাস করে। আমরা অন্যায় বেষ্টিত সমাজে বসবাস করতে করতে স্বাভাবিক ও সুস্থ চিন্তা থেকে অনকে দুরে চলে এসছি । এখন আমরা মারতে ও মরতে কোন বোধ ই অনুভব করতে পারিনা।

সে যাই হোক, পরিশেষে বলবো। ইতিহাসের আবর্তন ঘটে। ধনী গরিব হয়, গরিব হয় ধনী। রাজা চাকর হয়, চাকর হয় রাজা। দিল্লির মুঘল বলেন, বা বাংলার সিরাজের বংশধর বলেন, বা ঢাকার নবাব বলেন, খোজ নিয়ে দেখেন অনেকেই হয়ত আর সেই জৌলুসের মধ্যে নেই। আবার খোজ নিয়ে দেখেন সেই সময়ের নবাবের চাকর আজ আলিশান প্রাসাদের বাস করছে। আবার হয়ত এসব চাকর রাজা হবে কোন একদিন। হিটলার অনেক প্রতাপশালী ছিলো সেই হিটলারকেও মরতে হয়েছে। আজকে যেভাবে আমরা অন্য একটি মতাদর্শের মানুষদের যেভাবে অত্যাচার করছি, যেভাবে হত্যা করছি, যেভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছি, সময় হয়ত একদিন আপনাকে, আমাকে তার বিচারের কাঠগরায় দাড় করিয়ে দিবে। হয়ত আপনি, আমি নতুবা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম হবে এর শিকার। ভালোবাসা পূর্ণ আচরন ও পরিবেশ ই পারে কেবল ভালোবাসা দিতে, পারে শান্তি বয়ে আনতে। আর আমরা আমাদের পরিবেশকে কিভাবে তৈরী করছি বা রেখে যাচ্ছি সটি হয়ত সময় ই বিচার করবে।

এসব উপলব্দি করেই হয়ত কবি বলতে চেয়েছেন।

“নতুন প্রজন্মের কাছে বাসযোগ্য করে যাবো পৃথিবী এ মোর দৃঢ় অঙ্গিকার”

আশাকরি আমি, আপনি আমরা সবাই এই অঙ্গিকার কে মনেরেখে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কাছে মনোনিবেশ করব। এটাই হোক আমাদের আগামীর প্রত্যাশা।

আসুন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সহ সব রাজনৈতিক দলকে পরিহার করে আমরা নতুন একটা দল করি নাম দেই “স্বতন্ত্র পার্টি”

দেশ সামনে না হেটে পেছনে হাটা শুরু করছে এই আওয়ামী বিএনপি খেলা আর ভালো লাগছে না। তাই তরুণ সমাজকে আহ্বান জানাই আমরা একটি নতুন দল গঠন করি। যেটার নাম হবে “স্বতন্ত্র দল”।
আঞ্চলিক রাজনৈতিক লক্ষ্য ই হবে দলটির সামগ্রিক লক্ষ্য। নিজ নিজ অঞ্চলের লোকজন নিজদের নেতা নির্বাচন করবে এবং সব আঞ্চলিক নেতা মিলে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন হবে। আঞ্চলিক নেতারা সেটা প্রতাক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে। এটা যদিও প্রচলিত পদ্ধতির মতো কিন্তু দলের কেন্দ্রীয় কাঠামো না থাকায় কোন রাজনৈতিক বিশৃংখলা হবেনা। সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত ভাবে সত হতে হবে। আর প্রার্থী নির্বাচনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক পরিষদ থাকবে। যার সদস্য হবে দেশের গ্রহনযোগ্য ও জ্ঞানী দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরা।

সব আঞ্চলিক নেতা রা নিজ নিজ অঞ্চল থেকে নির্বাচন করে নির্বাচিত হলে সেই সব স্বতন্ত্র নির্বাচিত সাংসদ রা সবাই মিলে সরকার গঠন করবে। এবং

সংবিধানের অনেক পরিবর্তন আনতে হবে।
মূলনীতি
১) ন্যায়বিচার ।
২) রাষ্ট্রের এককভাবে কোন ধর্মীয় বি্শ্বাস থাকবে না, তবে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা শব্দটিও রাখা যাবে না , বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা শব্দটি যুক্ত থাকবে।
৩) কোন মতবাদ ই থাকবে না, বরং সম্পদের সুষম বন্টন , ও মানবতাবোধকে অগ্রাধীকার ভিত্তিতে অর্থ ব্যবস্থার বিন্যাস করতে হবে।
৪) সামগ্রিক ভাবে ব্যক্তি অধিকার কে সন্মান প্রদর্শন ই হবে রাষ্ট্রীয় মুলনীতি।

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর সামাজিক শোষন ও অবিচার হাত থেকে মানবতাকে রক্ষা কল্পে আজকের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন আমরা কোন দলে আবদ্ধ না থেকে দেশকে নিয়ে একটু মুক্তভাবে চিন্তা করি। আমরা সবাই সবাইকে সন্মান করতে শিখি। কাউকে অযথা গালি গালাজ, মিথ্যা দোষারোপ থেকে নিজেদের বাচিয়ে সকটি সার্বজনীন সমাজ বিনির্মান করি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত উদ্যাগ একটি সফল সামাজিক আন্দলনের রূপ দান করে। আমরা গ্লোবাল ফ্যামিলি কনসেপ্ট কে ধারন করে সামনে এগিয়ে যাই। গ্লোবাল ফ্যামিলি কনসেপ্ট এর মূল স্লোগান হবে আপনার ভাই, আমার ভাই ও আপনার বোন ,আমার বোন। আমরা নিজেদের ফ্যামিলিকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাই আসুন আজ আমরা আমাদের নিজের মহল্লা , থানা তথা নিজেদের সমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই।