আওয়ামী লীগের চেতনা ব্যবসা

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো ধরনের প্রপাগান্ডা চালায় তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 😉

২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ধর্মীয় বোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে, তাহলে ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।😴

চেতনার খেসারত ১৪ বছর, ধর্মের খেসারত ১০ বছর 
গালি দেয়া দুরের কথা বঙ্গবন্ধুকে কেউ যদি স্বাধীনতার ঘোষক মানতে রাজি না হয়, বিরোধিতা করে তাহলে এই চেতনার আইনের ১৪ বছর জেলে পচতে হবে। আবার কেউ যদি ধর্মের ব্যাপারে কটুক্তি করে তার সাজা ১০ বছর। মজার ব্যাপার হলো ধর্মের ব্যাপারে মুক্তচিন্তার কথা বলা হলেও তথাকথিত চেতনার ব্যাপারে কারো দ্বি-মত করার সুযোগ রাখা হয়নি। মুক্তিযুক্ত এবং স্বাধীনতা নিয়ে তরুন প্রজন্মের কারোরই নেগেটিভ ধারনা করার সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে যখন দলীয় অপরাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যখন তাকে মুক্তভাবে সার্বজনীন করার বদলে চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কৌশল অবলম্বন করা হয়, তখন তরুন প্রজন্মের কিছু অংশ এই অপচিন্তার বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক বিরোধীতাকে যখন দেশ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল অবলম্বন করা হয় তখন সুকৌশলে একদলীয় আদর্শকে অন্য সবার কাধে চাপানোর চেতন বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করা হয়। কোন দেশেই এরকম জংলী আইন নেই। খোদ ভারতে ও এই ধরনের আইন নেই। ভারতেও অনেকেই আছে মহাত্না গান্ধীকে আদর্শ মানতে নারাজ। যখন দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনৈতিক দল ইশতেহার দিতে ব্যর্থ হয়, যখন উন্নয়নমূখী ভিশন প্রণয়নে দলীয় কর্মক্ষমতা লোপ পায় তখন ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলো চাপিয়ে দেয়ার রাজনীতি শুরু করে, যা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে দৃশ্যমান।

চেতনার ব্যবসা যতদিন ভালোভাবে চলবে ততদিন ভোটাধিকারের সুষ্ঠপ্রয়োগ হবে না, ভিশনারী নেতৃত্ব দেশের শাসনযন্ত্রে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবেনা। আর মেকি চেতনাকে দুরে ঠেলে ভিশানরী নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে দেয়ার দ্বায়িত্ব দেশের প্রত্যেকটি ভোটারের।

যারা চেতনার কথা বলে দূর্নীতিকে লালন করে, সন্ত্রাসকে পালন করে তারা মূলত ব্যবসাই করে। চেতনার আড়ালে কার্যসিদ্ধি।

বিঃদ্রঃ বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে বলা উদ্দেশ্য না। আইন হবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করার বিরুদ্ধে শাস্তির। বঙ্গবন্ধুর জীবনের যে অংশটুকু দেশের স্বাধীনতার সাথে জড়িত সেই অংশটুকু আইনের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু পুরো ব্যক্তি মানুষকে নিয়ে এত বড় আইন এক ধরনের স্বৈরাচার মনোবৃত্তি প্রকাশ করে। যারা জিয়াউর রহমান কে স্বাধিনতার ঘোষক হিসেবে মনে করে তাদের কি সবার জেলে যেতে হবে??

স্বৈরাচার

ফাঁসিতে টলেনা যারা
গ্রেপ্তারে করিবে কেমনে দমন?
ভালো কি হতো না? যদি-
সিংহাসনের মায়া ও প্রতিহিংসা ভুলে
কাঁধে কাঁধ মিলে দেশটি করিতে শাসন!!

চাষা বলে যদি কৃষককে দাও ছুড়ে ফেলে
রৌদ্র-বৃষ্টি ভুলে কে ফলাবে শষ্য সারা দেশ জুড়ে
প্রতিপক্ষ বলে জেল ভরো যদি নিরিহ মানুষ দিয়ে
শুধরাবে কে তোমায়, তোমার ভুলে?

তোষামোধে হও যদি অন্ধ
মিছিল মিটিংয়ে শুধু পাও গন্ধ
কোথায় যাবে বাকস্বাধীনতা
কোথায় গনতন্ত্র?

 

নো-বে-ল

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
রাজনীতির ডামাডোলে মরে জীবনের আশা।
ত্রান নিয়ে রাজা ছুটে
নোবেলে নামটি হয় যদি তাজা।

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
দলীয় পরিচয়ে খুনিরা পেয়ে যায় ছাড়া।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাই
নিরীহ মানুষ পাচ্ছে আজীবন সাজা।

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের বন্দীদশা
নোবেলে না ঘুচে যদি কষ্ট-দূর্দশা
তবে তা নিয়ে কেন এত আশা???

যদি কাঁদে বিবেক ফুটে মুখের ভাষা
জিন্দা যদি হয় মানবতাবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
ন্যায় ও সাম্য যদি পায় প্রতিষ্ঠা
নোবেলে তখন বাড়বে মনুষ্য মর্যাদা।

 

 

 

 

 

…… রাজনীতি

…………রাজনীতিটা হলো এক ধাঁধাঁ
সাদা হয় কালো, কালো হয় সাদা
ভালোকিছু করতে গেলে আসে শুধুই বাধা
দিনশেষে বলে আম-জনতা, রাজনীতিকরা হলো সব গাধা……….
সত্য সব বলতে গেলে পড়ে নাকি ঠাডা
তারপরও…………………………….
পদ।, পদবী ও জব পেতে রাজনীতিকের পা হয় চাটা
এসব শুনে রাজনীতিকরা বলে এ আবার কোন ব্যাডা………
😉

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড এবং কিছু ভাবনা

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু (?) দের হত্যা সেটি মিডিয়ায় জোড়ালো ফোকাস, সেই সাথে সাইট ইনটেল এর বিবৃতি, বিএনপি কোন এক নেতার সাথে ইসরাইলির ছবি প্রকাশ সেটিকে মিডিয়ায় জোরালো তুলে ধরা সেই সাথে ভারত পন্থী বুদ্ধিজীবিদের বিএনপি জামায়াতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক খুজার চেষ্টা, পুলিশের স্ত্রীর হত্যা স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর মোসাদের কানেকশনের সাথে বিএনপি-জামায়াতের সংযোগ খুজার চেষ্টা, খুজার চেষ্টা খারাপ না কিন্তু সেটিকে ফ্যাক্ট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা, আওয়ামীলীগের সাথে বাংলাদেশের জামায়াত বিদ্বেষী ইসলামী দল গুলোর সাথে সম্পর্কন্নোয়নের চেষ্টা, জামায়াতের নেতৃবিন্দের ফাসি। সব গুলোকে যদি কেউ সুক্ষ্নভাবে চিন্তা করে তাহলে একটি প্রশ্ন প্রথমে সামনে ভেসে উঠে যে লাভ কার? হুমম, আসলেই লাভটি কার?

সবার নাম বার বার আসে, আসে মোসাদের নাম ইসরাইলের নাম, ভারতের “RAW” এর নামটি কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী উচ্চারন করলেন না?

নেতৃবিন্দের একের পর এক ফাসি, থানা ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের নেতারে পিটিয়ে কোমড় ভেংগে দিয়েছে সরকারী বাহিনী। এক একটি হত্যাকান্ডের আগে বা পরে জামায়াত নেতাদের ফাসি দিয়ে হত্যা কান্ড গুলোর দায়ভার অত্যাচারে ক্লান্ত জামায়াত-শিবিরের উপর চাপায়ে কাউকে বাচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না তো??

যে ইসরাইলের বিরোধীতা করাটাই জামায়াত-শিবিরদের আদর্শ সেখানে ইসরাইলের সাথে জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক খোজার মধ্যে কিছুটা দূর্গন্ধ পাওয়া যায় বৈকি।

এমনও তো হতে পারে,

ভারতের “RAW” এর সাথে ইসরাইলের মোসাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো, অনেকেই হয়ত জানেনা বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান রাস্টদূত আগে ইসরাইলে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরট ছিলো। তাকে বাংলাদেশে সরিয়ে এনে ভারত অবশ্যই কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টায় আছে।

হতে পারে
ভারতের “RAW” এর এজেন্ট রা বাংলাদেশে মাঝে মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অখ্যাত কাউকে হত্যা করলো, সাথে সাথে ভারতের “RAW” এর পেইড এজেন্ট নিউজ পেপার গুলো সেটিকে হেডলাইন করে ফলাও করে প্রচার করলো, ঐদিকে সাইট ইনটেল কে এই সংবাদ সরবরাহ করলো, সাথে সাথে সাইট ইনটেল সেটি তাদের টুইট থেকে টুইট করলো, বাংলাদেশের সরকার দলীয় লোকজন সেটিকে জংগী আখ্যায়িত করলো এবং তার সাথে জামায়াত- বিএনপির সংযোগের মন গড়া তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরলো।

সংখ্যা লঘুদের হত্যা করে আওয়ামীলীগ দুটি ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে, এবং সেটি করে কারো কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে।

১) সংখ্যালঘু হত্যা করে দ্বায়ভার জামায়াত-বিএনপির উপর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ থেকে জামায়াত নেতাদের ফাসির বৈধতার নৈতিক সমর্থন আদায় করে নেয়া, বিরোধী দলীয় নেতাদের কোনঠাসা করে রাখা। এর মাধ্যমে ভারতকে নিজেদের দলীয় স্বার্থের পাশে রাখা।

২) বাংলাদেশের মানুষদের মাঝে ক্রমাগত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে জামায়াত-বিএনপির উপর দোষ চাপিয়ে আতংকের পরিবেশ তৈরী করে ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করা।

সংখ্যা লঘু মারা গেছে এক বছরে হয়ত ১০ জনের বেশি হবেনা। এক ইউনিয়ন ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যে ইলেকশনে জামায়াতের কোন উপস্থিতি ছিলো না, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় এই ১২৬ জন মানুষকে হত্যা কারা করলো?? বেশির ভাগ এ মারা গেছে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে। এক বাসের আগুন দিয়ে ৭ জন মারা যাওয়ার মিথ্যা মামলায় যদি বিএনপির সব নেতাদের ধরে জেলে নেয়া যায়, দু-একজন মারার কারনে সুপ্রীম কমান্ডের দায় ভার জামায়াত নেতাদের উপর দিয়ে যদি তাদের ফাসির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এক ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষের প্রান হানীর দ্বায়ভার নিয়ে কারো না কারো ফাসি হওয়া উচিত। হয় এর দ্বায়ভার সরকারের নয়ত ইলেকশন কমিশনের।

১২৬ জন মানুষ যে দলের দলীয় কোন্দলে মারা যাইতে পারে সে দলের দলীয় আদর্শ সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কতটুকু গ্রহনযোগ্য কতটুকু সমর্থন যোগ্য সেটিই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।

হয়ত সময়ই সব কিছুর উত্তর দিবে, মাঝখানে কিছু আহাজারি থেকেই যাবে, সময়ের নিয়ম এটিই। জীবনটা কে দুর থেকে তাকিয়ে দেখলে মনেহয় সত্য সবাই বুঝে, কিন্তু সেটিকে উপলব্ধির কোথায় যেন সীমাবদ্ধতা।

রমজানে মানুষের মনের সেই সীমাবদ্ধতা দুর হোক, মানুষের বিবেক শয়তানের শৃংখল থেকে মুক্তি পাক! আমরা সবাই মিলে দেশটাকে দেশের মানুষগুলো ভালোবাসি এই কামনাই করি।

#SaveBangladesh #Bangladesh

বিলুপ্তির পথে বিয়ে

বৈশ্বয়িক উন্নতির সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে সমাজের প্রথাগুলোর, সমাজের প্রতিষ্ঠান গুলোর। বিয়ে নামক যে প্রথার মাধ্যমে সুন্দর পরিবার তৈরী হয়, সেই বিয়ের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। সমাজের ট্রাডিশনগুলোর পরিবর্তন কত দ্রুত হচ্ছে। কোন কোন দেশে ৫৫-৭৫ ভাগ বাচ্চার জন্ম হচ্ছে বিয়ে ছাড়াই। ব্রাজিলের ৩টি বাচ্চার মধ্যে দুটিই হচ্ছে বিয়ে ছাড়া। ভাবছেন এর বাতাস বাংলাদেশে লাগবেনা?? চিন্তার বিষয় বটে! বিয়ের মাধ্যমে যে পরিবার তৈরী হয় সেই পরিবারে যে বাচ্চাগুলো বড় হয় সেই বাচ্চাগুলো মানসিকতার ধরন হয়ত বিয়ের বহির্ভূত জন্ম নেওয়া বাচ্চাগুলোর মানসিকতা থেকে আলাদা। অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশগুলোতে বিয়ে ধীরে ধীরে জাদুঘরে স্থান করে নিচ্ছে।

20160116_IRC052.png

খুবই শংকার বিষয় হলো ইদানিং বাংলাদেশে তালাকের হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ডিভোর্স পিটিশনের সংখ্যা ছিলো ৮,১৯১ টি, যা পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় বেশি ৭,৬৫৩ টি ছিলো ২০১২ সালে এবং ২০১১ সালে ছিলো ৬৭৭৬ টি এখানে ক্লিক করুন…। তালাকের হার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আমার কাছে মনেহয় সমাজে একধরনের অসহিষ্ণু মানসিকতা কাজ করছে। হয়ত এটি হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের যে ট্রানজিশন পিরিয়ড সেটির কারনে। হয়ত এই পরিবর্তন যে কোন একদিকে হয়ে যাবে। তালাকের হার বৃদ্ধি ধর্মভিত্তিক সমাজের জন্য এই জন্যই আশংকার যে এতে করে সমাজের উপর এক ধরনের চাপ তৈরী হয়, ফলে অন্যায় অব্যবস্থাপনার পথ প্রশস্ত হয়। পরিবারের প্রতি মানুষের একধরনের ঘৃণা তৈরী হয়। আর এই ঘৃণা থেকে মানুষ বৈবাহিক জীবনের চেয়ে বিয়ে না করেও এক সংগে থাকার পথ বেচে নেই, যাতে করে ঝামেলা হলে আলাদা হওয়া যায়।

ইদানিং অনেক প্রাকটিসিং মুসলিমের মধ্যেও এই তালাকের প্রবনতা আছে।
https://purematrimony.com/ এই সাইটটি মুসলিমদের বিয়ের জন্য প্রাকটিসকিং মুসলিম/মুসলিমাহ খুজতে অনেক ভালো ভূমিকা রাখছে। আমি নিজেও কিছুদিন সাইটটি ব্যবহার করেছি। মজার ব্যাপার হলো অনেক ইয়ং মুসলিমাহ আছে যারা তালাক প্রাপ্তা। বিষয়টি নিয়ে আমি ভেবেছিলাম যে কেনো এত অল্প বয়সে তালাকের ঘটনা ঘটছে। আমার কাছে মনেহয় নিজে নিজে ইসলাম শেখার কারনে, ইসলামকে কনটেক্সট বুঝে প্র‍্যাকটিক্যালী না শেখার কারনে। কিছু শিখেও মনের মধ্যে এক ধরনের ধারনা তৈরী করে অসহিষ্ণু মনোভাব তৈরী করে ফলে হঠাত করে অনেক পরিবর্তন কামনা করে যা পরিবারে সমস্যা তৈরী করে ফলস্বরূপ বিচ্ছেদ। এগুলো নিয়ে মুসলিম সমাজে আলোচনা হওয়া দরকার। আমার কাছে মনেহয় বাংলাদেশের মত দেশে উন্নত বিশ্বের মত পরিসংখ্যান তৈরী হওয়ার আগেই শুধুমাত্র রাজনীতির পেছনে না ছুটে সমাজের এই সমস্যা গুলো নিয়ে কাজ করা উচিত। সমাজে যদি সমস্যা থেকে যায় তাহলে রাজনীতির পেছনে সময় নষ্ট করে লাভ কি হবে? রাজনীতির চেয়ে সমাজের এসব সমস্যা নিয়ে কাজ করা উচিত।

20160116_IRC960

বিবেচনায় নেয়ার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে প্রাকটিসিং মুসলিমদের মধ্যেও তালাকের হার বেড়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টির উপর খুব গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা উচিত যাতে করে এটি সমাজে মহামারী আকার ধারন না করে।

ইসলামি রাজনৈতিক দুলগুলো সমাজের এরকম সমস্যা ভিত্তিক কিছু প্রজেক্ট হাতে নিতে পারে। কিছু মানুষকে এগুলোর জন্য কাজ করার জন্য ডেডিকেটেড ভাবে নিয়োগ করতে পারে। তাহলে সমাজের কাছে কাজগুলো প্রসংশিত ও হবে আবার কিছু সমস্যা দুর হবে, সমাজের কাঠামো ঠিক থাকবে, প্রথাগুলো বেচে থাকবে। যা একটি জাতির পরিচয়কে বাচিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

চার্ট দুটির উৎস, দ্যা ইকোনমিষ্ট

আরো কিছু পরিসংখ্যান নিচে দেয়া হলো।

Marital History of U.S. Men from 1940-2012

marital-history-of-men-by-birth-cohorts-2008-2012

যারা জীবনে কখনই বিয়ে করেনি তাদের সংখ্যার হার ১৯৭০-৭৯ সালের মধ্যে দ্রুতই বৃদ্ধি পেয়েছে এই সংখ্যা হয়ত এখন আরো বেশি।

… প্রতিটি ইঞ্চির মালিক দিল্লি।

182348_1

মিনা ফারার ফেসবুক থেকে

 

হাসিনার অস্বাভাবিক কর্মকান্ডে যারাই নিজের চুল নিজে ছিঁড়ছেন, তাদের জন্য দারুণ সুসংবাদ। সুযোগ্য বন্ধু উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উন তার নিন্দুকদেরকে উন্নতি দেখানোর জন্য, ভয়ানক এক লংকাকান্ড করে ফেলেছে। যে দেশের মানুষের বস্তি ভাড়া দেয়ার ক্ষমতা নেই, কার কথা শোনে কিম জং? ৮ কিলোটনের হাইড্রোজেন বোমা ফাটিয়ে পশ্চিমাদেরকে দেখিয়ে দিলো, কতো উন্নত দেশ উত্তর কোরিয়া? বোমা ফাটানোর ভিডিওতে দেখালো, লক্ষ লক্ষ কোরিয়ান রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত তালি দিচ্ছে আর কিম জং-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ঠিক যেমন বাংলাদেশে।

এবার মিলিয়ে দেখুন। ব্রিটিশের কারাগারে বসে ১৯৪২ সনে ইন্দিরাকে জহওরলালের লেখা পত্রগুলো নিয়ে বইটিতে অখন্ড ভারতের কথা বারবার লেখা। ভারত ভাগের জন্য গান্ধিকে হত্যা করেছিলো আরএসআর, যে দলের সদস্য ছিলেন মোদি। পাকিস্তানে গিয়ে মোদির কদমবুচি রাজনীতি, রাজনাথ সিং-দের অখন্ড ভারতের প্রচার আরএসআর-এর তরফ থেকে অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠায় নানান কর্মকান্ড হাতে নেয়া, সর্বোপরি বাংলাদেশের সঙ্গে বিজেপির কিছু সন্দেহজনক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবশেষে আর দুঃখ করার কিছু নাই। বিজেপি-বিজেবি সব একাকার হয়ে গেছে। বাস্থব মানতেই হবে, অখন্ড ভারতের রাজনীতিতে প্রথম বলি ৭১ সনে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা বাংলাদেশ। ওরা ধরেই নিয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশ এক। বীর্য কন্ঠে আরএসআর-এর মুখপাত্র ঘোষণা করলো, “ভিয়েতনাম-জার্মান এক হলে বাংলাদেশ-ভারত কেন এক হবে না। অবশ্যই হবে।” বিজেপি-বিজেবি সব একাকার, কিছু বুঝলেন?

কাকতালীয় বটে, মনে হচ্ছে আমি যেন গণক। বাংলাদেশের ভবিষ্যত বলে দিচ্ছি একটার পর একটা। আজ পাকিস্তান যা বললো, গত লেখায় আমি আগে বলেছি । পাকিস্তান বললো, “জামায়েতের নেতাদেরকে ফাঁসি দিচ্ছে ভারত।” আরো বললো, “বাংলাদেশের লোকেরা হয়তো ইতস্তত বোধ করে কিন্তু ভারত চাইছে জামায়েত নিষিদ্ধ হোক।” লেখাটি পড়ে আমি বাকরুদ্ধ।

বাপ-বেটি দুইজনেরই কাজ, গণতন্ত্রের লেজে আগুন দিয়ে আমৃত্যু ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্থ। কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে তাকে। তার যন্ত্রণায় আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলো ইনু, তাহের, রাশেদ খান মেনন এবং সিরাজ শিকদারেরা। এরাই মুজিব হত্যাকান্ডের ঢাকে বাড়ি দিয়েছিলো। তার অত্যাচারেই মেজর জলিলের মতো মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মুজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয়েছিলো। ভারতের বুদ্ধিতে রক্ষিবাহিনী নামে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্যারালেল মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে সকলের পাছায় আগুন দিয়ে সেকি জঘন্য অত্যাচার! স্বাধীন দেশের মানুষ হতবাক, হায়-হায়! ভয়ে লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু দেশ ছেড়ে আমাদের সামনে দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেলো। তখন আমি কলেজের ছাত্রী। ১ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবিতে আমার স্বর্গীয় পিতাকে ময়মনসিংহ জেলের পায়খানায় ৩ দিন বন্দি রেখে সিগারেটের আগুনে তার চামড়া পুড়িয়ে দিয়েছিলো রক্ষিবাহিনী। প্রতিবাদে অর্ধদিবস হরতাল করেনি শেরপুরবাসী? সেদিনের রক্ষিবাহিনীর অত্যাচারের সঙ্গে আজকের পার্থক্য একটাই, আপেল গাছ থেকে বেশি দূরে পড়ে না। আমার একটি অভিযোগও মিথ্যা হলে মাগুরলীগকে প্রমাণ করতে হবে, আমার দেবতাতুল্য পিতার জান খারাপ করে দেয় নাই এবং শেরপুরের সংখ্যালঘুদেরকে চাঁদার দাবিতে গ্রেফতার করে ডিমথেরাপি দেয় নাই? আরো প্রমাণ করতে হবে, দেশজুড়ে তখন দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, চাঁদাবাজ এবং মজুতদারদের সংস্কৃতি সৃষ্টি করে নাই? তখনকার অবস্থা ৭১এর চেয়েও ভয়ানক ছিলো এবং এসবই ঐতিহাসিক সত্য। কেন বলছি এসব কথা? যারা মুক্তিযুদ্ধ করে নাই, দেখে নাই কিংবা পাকিস্তানীদের কোলে বসে সজীব ওয়াজেদকে সিএমএইচ-এ প্রসব করলো, একমাত্র সেইসব কারজাইদের পক্ষেই রক্ষিবাহিনী থেকে বিজেবি, শিমলা চুক্তি থেকে দেশ বিক্রির চুক্তি, হাসিনার আমলে যতো চুক্তি… জনতাকে অন্ধকারে রেখে সম্ভব করলো দিল্লি।

মনে হচ্ছে বাপের মতোই জামায়েত-শিবিরকে আন্ডারগ্রাউন্ডে পাঠানোর প্রস্থতি শেষ। বিএনপির অতীত কবরে, বর্তমান অন্ধকারে, ভবিষ্যত কারাগারে। আসিতেছে এতিমের টাকা চুরির অভিযোগে খালেদার ২৫ বছরের জেল, যদিও নিজেদের পাছায় লক্ষ ছিদ্র। কিম জং উনের সুযোগ্য বন্ধু এবং চেয়ারম্যান মুজিবের যোগ্য উত্তরাধিকারী স্যার হাসিনার দুই হাতে ভারতের হ্যান্ডকাপ। তাদের ইচ্ছার বাইরে কিছুই করার সাধ্য নেই বরং টোপ দিয়েছে ২০০ বছরের ক্ষমতা। প্রথম কিস্তিতে ২০২১ এবং ২০৪২ দিয়ে পরীক্ষা। সফল হলে, উত্তর কোরিয়ার মতোই বংশানুক্রমে চলবে দুইখন্ড ভারতের ছত্রছায়ায় একখন্ড রাজনীতি। পাকিস্তানের আগেই আমি ভবিষ্যতবাণী করেছিলাম। নিজামীর ফাঁসি বাংলাদেশ দেয়নি, কারোটাই দেয়নি বাংলাদেশ। দিতে পারে না কারণ বাংলাদেশিরা তাদের ক্ষমাশীল হৃদয়ের জন্য দেশে-বিদেশে নন্দিত। এইরকমের নিষ্ঠুর কর্মকান্ড বাংলাদেশ কখনোই করবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তলে তলে আওয়ামী মন্ত্রীরাও ৪৪ বছর পর প্রমাণ ছাড়াই এইভাবে বানোয়াট ফাঁসি দেয়ায় বিব্রত এবং শংকিত। শুধুমাত্র দিল্লির তরফ থেকে ২০০ বছরের ক্ষমতার গ্যারান্টি না পেলে তোফায়েল-ইনুরা বহু আগেই আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিতো। কারণ তারাও দেখছে, সোস্যাল মিডিয়ায় হাসিনাসহ নানান মন্ত্রীদের সঙ্গে সংসদে এদের কাড়িকাড়ি ছবি। এটাও দেখছে, বারবার বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় আজ যাদেরকে ফাঁসি দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে নিয়ে এরশাদ এবং খালেদা বিরোধী আন্দোলনে। সুতরাং সাক্ষুস প্রমাণ সত্ত্বেও, ফাঁসি দিচ্ছে কেন? আমার বিশ্বাস, একটি ফাঁসিও হাসিনা দেয়নি বরং দিল্লির ইচ্ছা পূরণে বাধ্য হয়ে ভয়ংকর কাজে লিপ্ত হয়েছে। এককথায়, তাকে দিয়ে ভারতের কাজটি করিয়ে নিচ্ছে।

জঙ্গি নিধনের নামে ভারতবর্ষ জুড়ে অঘোষিত মার্শল ল’। জঙ্গি গন্ধ পেলেই ফাঁসি দিচ্ছে। হিটলারের মতোই হাসিনার বিরুদ্ধেও জনগণের যে জনরোষ, নির্বাচন হলে ৯৫ ভাগ ভোট পাবে বিএনপি। কিন্তু দিল্লির ইচ্ছায় বিএনপি-জামায়েতের গায়ে জঙ্গির সিল মারতে বাধ্য হলো হাসিনা, এটাই বিরোধীদলকে ধ্বংসের লাল ফরমান। জঙ্গির সিল দেওয়ার পর, কেন বাঁচিয়ে রাখবে দিল্লি? আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ক্ষমতায় আসামাত্র বিএনপি-জামায়েতকে জঙ্গি দল হিসেবে অভিহিত করলো আওয়ামী লীগ। মাথার গোবর ফেলে কিছু মস্তিষ্ক রোপণ করেন। বিএনপি-জামায়েতকে পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্যই দিল্লির নীলনকশা এগুলো। এই কারণেই বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মেরুদন্ডবান অফিসারদেরকে হত্যা করে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে বিজেবি।

আপনারা যদি গত ৬ মাসের বক্তব্য লক্ষ্য করেন, যদি বডিল্যাংগুয়েজ পরীক্ষা করেন, দেখবেন, হাসিনা এবং মন্ত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে এই বাংলাদেশ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। মনে হবে তারা অন্য গ্রহের কথা বলছে। তাদের অস্বাভাবিক বক্তব্য দুইটা- ১) সন্ত্রাস, ২) উন্নতি। উন্নতির নামে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের হাতে হাতকড়া লাগাচ্ছে বিদেশিরা আর সন্ত্রাসের নামে ট্রাইবুন্যাল খাড়া করে একটার পর একটা ফাঁসি। দেখবেন, জামায়েতের ১ম এবং ২য় সারির প্রতিটি নেতারই ফাঁসি হবে এবং যতোই আপত্তি আসুক কোনকিছুতেই কাজ হবে না। এর কারণ, এই অঞ্চলের মোড়ল ভারত একটি উদীয়মান অর্থনীতি। ভারত চায় না এমনকিছুই করবে না পশ্চিমারা। মোদির হ্যান্ডশেক এবং কদমবুচি বোঝার মতো মস্তিষ্ক শেষ করে ফেলেছে মিডিয়া প্রপাগান্ডা দিয়ে। প্রতিটি ফাঁসির হুকুম গণভবনে পৌঁছে দিচ্ছে দিল্লি এবং যথারীতি রায়ের ১২ ঘন্টায় ফাঁসি। বিচারকেরা অসহায় এবং সাফাই সাক্ষিরা টাকা পেলেই খুশি। মনে রাখবেন, আজ বাংলাদেশে যেসকল অস্বাভাবিক কর্মকান্ড অব্যাহত, কোনটাই বাংলাদেশিদের মস্তিষ্কপ্রসূত নয়। বাংলাদেশিরা এতোটা নিষ্ঠুর কখনোই নয়। হলে ৭৩ সনেই যা করার করে ফেলতো। ৪৪ বছর পর বিএনপির বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার মামলা এবং ট্রাইবুন্যাল গঠন করে ফাঁসির প্রতিটি ইঞ্চির মালিক দিল্লি। ফাঁসি দিচ্ছে দিল্লি সুতরাং ২০০ বছরের ক্ষমতার গ্যারান্টি তথ্যবাবার পরিবারকে দিলে, কি করার আছে আওয়ামী লীগের?

আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি, খালেদাকে সন্ত্রাসী মনে করে মোদি। হোটেল সোনারগাঁয়ে মোদি-খালেদার বৈঠকে বারবার এই সন্ত্রাসের কথাই জিজ্ঞেস করলো মোদি এবং ১০ ট্রাক অস্ত্রের প্রশ্নে ক্ষতবিক্ষত করলো খালেদাকে। এরপর আপনারা কি করে ভাবেন, নিজামীদের ফাঁসি না হয়ে খালস হবে? দিল্লি যতোদিন পর্যন্ত বন্ধ না করবে, ফাঁসি চলবে। প্রমাণস্বরূপ, সামসুদ্দিন মানিক যে নাকি একাধিক ফাঁসির রায় লিখলো, সেই এখন টকশো এবং ইমরান সর্দারদের মিছিলে একস্বরে কথা বলছে। বিচারক মানিক খালেদাকে পাকিস্তান চলে যেতে বলছে। মনে রাখবেন, ইমরান সর্দার, বিচারপতি মানিক, মিডিয়া মেশিন, ট্রাইবুন্যাল… প্রতিটি ইঞ্চির মালিক দিল্লি।

কাজের ফাকে দেশ ভাবনা

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনীতি করতো বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে স্থান করে দেয়ার জন্য, বাংলাদেশীদের জাতিগত ভাবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করে তোলার জন্য। তবে এখনকার বিএনপির অবস্থা খুবই শোচনীয়।

কিছুদিন আগেও বিএনপি রাজনীতি করতো বিদেশীদের কাছে ভালো ইমেজ ধরে রাখার জন্য। বিএনপি এখন রাজনীতি করে আওয়ামীলীগের কাছে নিজেদের ভালো প্রমান করার জন্য। আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে বেচে আছে ভারতের করুনায়, হয়ত কিছুদিন পর বিএনপিকে বেচে থাকতে হবে আওয়ামীলীগের করুনায়। এটাই বাস্তবতা।

শিরোনামহীন ভাবনা

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো মায়ের পেট/গর্ভ। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরিহ, পাপহীন মাসুম হলো গর্ভের বাচ্চা। যাদের সন্ত্রাসের কারন মায়ের পেটের বাচ্চা রেহাই পায় না তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। মজার বিষয় এসব সন্ত্রাসীই দেশে এখন পুলিশের আশ্রয়ে অপরাধ করে সদর্পে ঘুরে বেরাচ্ছা। আর নিরীহ স্কুল মাদ্রাসায় পড়া ছোট ছোট শিশু বালককে অ্যারেষ্ট করে জেলে নেয়া হচ্ছে।

দেশে গিয়েছিলাম, অনেকেই বললো ডিবি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে তোকে অ্যারেষ্ট করে মামলা দিবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার এলাকার ছোট ভাই দেশে গিয়ে শুনি সে আমারই এলাকার যুবলীগের ইউনিয়ন সভাপতি তাকে ফোন দিলাম। সে বললো ভাই বাসায় থাইকেন না একটু নিরাপদে থাকেন। এরপর আইনশৃংখলা বাহিনীতে কর্মরত এক ফ্রেন্ডকে বললাম দোস্ত এই অবস্থা পুলিশ হয়রানি করছে, তারা ভাসায় শিবির করলেই কেন পুলিশ হয়রানি করবে। শিবির যে কেউ করতেই পারে। বন্ধু হয়ত কাজে অনেক ব্যস্ত থাকে হয়ত দেশের প্রতিদিনের খবরের কাগজ পড়ার সময় খুব কম পায়। যাহোক এক বন্ধুর আত্নীয় এক এআইজির কাছে গিয়ে কথা বলার সুযোগ হলো। উনি ভালো পরামর্শ দিলেন কিন্তু যখন বললাম যে মামা পুলিশ আমাকে হয়রানি করছে, আমার নামে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে পুলিশ সেগুলোকে সঠিক মনে করেই হয়রানি করছে। সেই এআইজি মামার ভাষায় দেশের অবস্থা এমন হয়ে যায়নি মানুষ পুলিশকে যা বলবে পুলিশ তাই বিশ্বাস করবে। কি করে উনাকে বুঝাবো আমার অবস্থা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা। হয়ত উনিও অনেক ব্যস্ত থাকেন কাজে সময় পান না পত্রিকা পড়তে। এত বড় মানুষ সময় কম পাওয়াই স্বাভাবিক।

মনেপড়ে গেলো ইসলামের স্বর্ণযুগের মুসলিম শাসকদের কথা।
সে সময় মুসলিমদের জয় জয়কার। বিশাল এক সাম্রাজ্যর শাসক ছিলেন মুসলিম শাসক রা তারপর প্রত্যেকটি নাগরিকের জানমানের ব্যাপারে তারা ছিলেন সজাগ।

গতকাল শুনলাম খুলনায় ১৫০ জন মাদ্রাসার ছাত্রকে অ্যারেষ্ট করে জেলে নিয়ে গেছেন ক্ষমতাধর পুলিশ বাহিনী। এই ছাত্রগুলোর অপরাধ কি হয়ত পুলিশ নিজেও জানেনা। যাহোক হয়ত এই ছাত্ররাই মানুষের মধ্যে পড়ে না।

আমার এলাকার এক ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, নাম রাসেল। বেশ কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের ছেলেরা দিন দুপুরে পুলিশের সামনেই তার একটা পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তার অপরাধ শিবির করে সে। তার পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাকেই পুলিশ রা অ্যারেষ্ট করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে দেশে গেলে সৈয়দপুরে ছেলে হিসেবে তার সাথে পরিচয় হলো, আমাকে তার আতংকের কথা জানালো যে ভাই দেশে থাকলে আমারে আবার ধরে নিয়ে যাবে একটু সাহায্য করেন। আমি ভেবেছিলাম দেশে এখনও কিছু ভালো মানুষ আছে ছেলেটা তরুন বয়ষে পা হারালো আবার তাকে কেন জেলে নিয়ে যাবে। দুদিন পর জানালো ভাই অনেক ভয়ে পরীক্ষা দি্চ্ছি ছাত্রলীগের ছেলেরা আমারে মেরে ফেলার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রেও আসে। যাহোক দু-মাস আগে শুনলাম পরীক্ষা দিতে গিয়ে পুলিশ তাকে অ্যারেষ্ট করে জেলে দিয়েছে।
প্রশ্ন হলো যারা তার পা টা বিচ্ছিন্ন করলো তাদের শাস্তি কে দিবে? পুলিশ যদি নিজেদের মানুষ মনে করে তাহলে তাদের মনে এসব অন্যায় হয়ত বিবেক কে নাড়া দেয়ার কথা। পুলিশরা ব্যস্ত সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে তাই যারা অসহায় তাদের হৃদয়ের কান্না পুলিশের হৃদয়ে পৌছানোর মত উপায় নেই।

মাঝে মাঝে কিছু ভাইয়ের অসহায়ত্ব দেখে, কাহিনী শুনে সত্যি কান্না চলে আসে। যে আসলেই কি আমরা মানুষ। আওয়ামী লীগ হোক আর শিবির ই হোক সবাইতো এক দেশের সন্তান।

যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন ৪ দলীয় জোট ক্ষমতায়। ক্যাম্পাসে শিবিরের মিছিল দেখেলেই বুঝা যেত মানুষ আসলেই শিবিরকে কত ভালোবাসে। এই ভালোবাসা ক্ষমতার নয়, এই ভালোবাসা নিরাপদ বোধের আর এই নিরাপত্তা জীবনের মান-সন্মানের। শিবির ক্যাম্পাসে থাকলে অনৈতিক কাজ কম হয়। এই কারনেই অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদ্রাসা বলত। আমার ক্যাম্পাসে পড়াকালীন সময়ে সৈয়দ আমীর আলী হলে ছিলাম ঐ হলে ছাত্রলীগের অনেক ছেলে ছিলো কিন্তু কখনও শুনিনি শিবিরের কেউ তাদের গায়ে হাত তুলেছে। মজার বিষয় হলো আমার রূমমেট ছিলো শিবিরের ব্লগ সভাপতি তার মামাতো ভাই নাম ফিরোজ দিনাজপুর বাড়ি তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ করত, সেটি সেই সময়ের হল সভাপতি কুষ্টিয়ার আক্তার ভাইও ভালো করে জানতেন বরং উনি এসে ফাজলামি করতেন যে এরা ঘষা আওয়ামী লীগ কখনও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। সেই ফিরোজ শিবিরের সীটে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয় চান্সও পায় ম্যানেজেমেন্টে সেই ফিরোজই পড়ে আমীর আলী হলের ছাত্রলীগের আহবায়ক হওয়ার জন্য লবিং গ্রুপিং করে পড়ে সেই ক্যাম্পাসে শিবিরতো বটে সাধারন ছাত্রদের জন্য আতংক হয়ে দাড়ায় তার নাম হয় পেড়েক ফিরোজ। কারন চাদা না পেলে সে নাকি গায়ে পেড়েক মারত।

ঐ সময়ে হলে অনেকেই ছিলো ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো কিন্তু কেউ কারো দ্বারা আঘাত পেয়েছে বলে শুনিনি। অথচ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর শিবিরের নিরীহ ছেলেদের মেরে তাদেরই আবার পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা অহরহই ঘটছে। এসব ঘটনায় সাধারন ছাত্রও বাদ যাচ্ছে না।

আমার এলাকার ছেলে হায়দার আলী আমাকে মামা বলে ডাকে। বেচারা কোন রাজনীতিই করতো না অথচ ছাত্রলীগ তাকেও শিবির বলে ধরিয়ে দেয় এখন বিসিএস পেয়েও বেচারার চাকরী হচ্ছে না। ভাইভার রেজাল্ট নাকি আটকিয়ে রেখেছে। এসব ঘটনার সাথে পুলিশ অতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ পুলিশের কাছে এসব খবর নাকি পৌছায় না।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের রাজনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশকে জাতিগতভাবে সংকটে ফেলতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রতাক্ষভূমিকা রাখছে। সমাজে এক শ্রেনীর মানুষ এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছে, বাড়ীছাড়া হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে অসংখ্যা মানুষ।

আওয়ামীলীগের শিক্ষিত ভালো মানুষ গুলোর উচিত, এমন নোংরা রাজনীতি না করা। রাজনীতিকে আদর্শ দিয়ে, নিজেদের কাজ দিয়ে মোকাবেলার চেষ্টা করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুলিশকে আরো ক্ষমতাধর করুক। তাদের কানকে বড় করে দিন। তাদের মধ্যে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের দ্বায়িতবোধকে বাড়িয়ে দিন এই কামনা করি।

সবশেষে, আমার এক বন্ধু আমার ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে ক্যানাডা থেকে ফোন দিয়ে বলছে শোন; দেশকে নিয়ে ভাবার জন্য ১৬ কোটি মানুষ আছে, তুই বিদেশে আছিস বাইরে থাকার চেষ্টা কর দেশের জন্য চিন্তা বাদ দে”

বর্তমান অবস্থায় তার পরামর্শ সত্যিই অনেক ভালো। কিন্তু গ্রাম বাংলায় বেড়ে উঠা মানুষগুলো তাদের মাতৃভূমির প্রতি আসক্তি কি সহজেই ছাড়তে পারে? যেদিন সমাজের ভালোমানুষ গুলো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভূলে সম্মিলিত কন্ঠে অন্যায়কে অন্যায় বলবে, ন্যায়ের জয়গান গাইবে, মানবতার জন্য কাজ করবে সমাজের সবাইকে নিজেদের মত একজন মনে করবে। সেদিনই মানবতার জয় হবে, সেদিন ই আমরা সভ্য বাংলাদেশি হতে পারব।

শেষ রাতের ভাবনা

বল্টুলে তার শিক্ষক প্রশ্ন করছে…
আচ্ছা বল্টু বলতো তুই পড়াশোনা করে কি হতে চাস?
বল্টুঃ স্যার আমি বিয়ে করতে চাই।
শিক্ষকঃ আহা তাতো বুঝলাম, কিন্তু ধর এইযে প্রাইমারী স্কুলে পড়ছিস এভাবে পড়াশোনা করে কি হতে চাস?
বল্টুঃ প্রাইমারী স্কুল শেষ করে হাইস্কুল পড়ব তারপর বিয়ে করবো।
শিক্ষক যতবারই প্রশ্ন করে ততবারই বল্টু বলে যে সে বিয়ে করবে। এরপর শিক্ষক তার বিয়ের ইচ্ছে দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

আমার দুইরুমমেট বাসায় রাতে একসাথে হলে একজন বেশ গল্প জমে উঠে। তো একজন আর একজনকে বলছে যে ভাই আপনি সব কিছুতেই রাজনীতি জড়িয়ে ফেলেন কেন??
তবে শুধু উনি না বাংলাদেশের আমরা সবাই সব কিছুর মধ্যে রাজনীতি জড়িয়ে ফেলি। দুজন ব্যক্তি একসাথে হলেই রাজনীতির তর্ক জুড়িয়ে দেই। সুইডেনে আছি ৭ বছর হতে চললো এখানে লোকজন রাজনীতিতো দুরের কথা কেউ কারো সাথে তেমন কথাই বলেন না। কোথাও যাচ্ছে বই হাতে নিয়ে পড়ে। বাচ্চাদের মুখে কি যেন ঢুকে দেয় বাচ্চারা মুখ বন্ধ করে চুষতে থাকে। এখানকার কুকুর গুলোও চিতকার করে খুব কম। এটাকেই সভ্য জাতি বলে কিনা জানিনা। তাহলে এখানকার কুকুর গুলোকেও সভ্য বলা যায়। সভ্য বলেই হয়ত এরা কুকুরকে সাথে নিয়ে ঘুমায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বলেন আর ছাত্র বলেন যে যার কাজে ব্যস্ত কোথাও রাজনীতির গন্ধ বলতে নেই। শুধু ভোটের সময় ভোট দিয়ে আসে সবাই। এজন্যই এরা এত উন্নত যে যার কাজ করে যায়, যে যার পজিশনে কিভাবে সর্বোচ্চ স্থানে জায়গা করে নে্য়া যায় সেই চিন্তা করে। গবেষক রা রাতদিন গবেষনা নিয়েই থাকে। এটাই দেশপ্রেম এরা নিজেদের কর্মের মাধ্যমে জাতিসত্ত্বাকে উচু করে তুলে। রাজনীতি নিয়ে সবাই মাথায় ঘামায় না, তবে ভোটের ব্যাপারে এরা খুবই সচেতন। পুলিশের কাজ পুলিশ করে, পিয়নের কাজ পিয়ন করে। একদিন আমার সুপারভাইজর আমাকে বললো যে, সুইডেনে কাউকে ফোর্স দিয়ে কখনো কিছু বলোনা। যে যার মত করে কাজ করবে এটাই এখানকার নিয়ম।

বাংলাদেশের মানুষ এত দেশপ্রেমিক যে সবার রাজনীতি নিয়ে মাথা না ঘামালে ঠিকমত ঘুম হয়না। অবস্থা এমন যে রাজনীতির চিন্তার মধ্যে আমরা দেশপ্রেম খুজেফিরি। কৃষক থেকে শুরু করে সরকারী চাকুরীজীবি সবার মধ্যে রাজনীতি রাজনীতি সবাইকে খেয়ে ফেলেছে। ফলে কেউ ই কারো কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না। একজন পুলিশের কাজ হলো শান্তি শৃংখলা বজায় রাখা তেমনি একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাজ হলো ছাত্রদের উন্নত শিক্ষা দানের ব্যবস্থা করা, গবেষনায় নিজেকে নিবদ্ধ রাখা। কিন্তু রাজনীতি নিয়ে সবার মাথা ঘামানোর ফলে বা সবার রাজনীতির সাথে নিজেদের দ্বায়িত্ববোধটুকুর মিশ্রন ঘটানোর ফলে রাজনীতিই তখন দ্বায়িত্ব নির্ধারন করে দেয়, সবাই তখন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে ফলে সমাজে বিশৃংখলা তৈরী হয়।

রাজনীতিকে যদি আমরা জীবনের দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে দুরে পারি তাহলে সবার মধ্যে দ্বায়িত্ববোধ চলে আসবে। সবার সবার এক ধরনের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক বিরাজ করবে।

আসুন আমরা রাজনীতিকে নিজেদের মানবীয় জীবনের পরিধি থেকে অনেক দুরে ঠেলে দিয়ে সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ন সমাজ বিনির্মান করি। তাহলে কিছু না হোক সবাই শান্তিতে থাকতে পারবে। দেশের কুকুর গুলো হয়ত মানুষকে দেখে কিছু শিখতে পারবে। সুইডেনে আাসার পর এখারকার কাক পাখি দেখে অবাক হয়েছিলাম, এখানকার মানুষগুলো অনেক লম্বা লম্বা কিন্তু শুধু কাক পাখিই ছোট ছোট। চিন্তা করলাম কাক ছোট হওয়ার কারন। কারন খুজতে গিয়ে দেখলাম এসব দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা কম তাই কাক তাদের খাবার জন্য আবর্জনা খুজে পায় না ফলে বৃদ্ধি কম। অপরদিকে বাংলাদেশের কাক যেমন বড় বড় তাদের গলার কর্কশ শব্দ বেশ বিরক্তিকর। শুধুমাত্র কাক পাখি দেখেই একজন সচেতন মানুষ বুঝতে পারবে দেশটি কত নোংরা। আর এমন নোংরা পরিবেশে নোংরা মানুষ গুলো্য় রাজত্ব করতে পারে। নিজেদের ভালো রাখার জন্য রাজত্বের লড়াইয়ের চেয়ে দরকার পরিবেশ ঠিক রাখা। তাহলে নোংরা কলুষিত মানুষগুলো নিজেদের শাসক হতে পারবেনা।

আসুন রাজনীতি নিয়ে নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ দ্বায়িত্বটুকু ঠিকভাবে পালন করি। তাহলে পাশের মানুষটি তার অধিকার পেয়ে যাবে।