কাজের ফাকে দেশ ভাবনা

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাজনীতি করতো বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে স্থান করে দেয়ার জন্য, বাংলাদেশীদের জাতিগত ভাবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করে তোলার জন্য। তবে এখনকার বিএনপির অবস্থা খুবই শোচনীয়।

কিছুদিন আগেও বিএনপি রাজনীতি করতো বিদেশীদের কাছে ভালো ইমেজ ধরে রাখার জন্য। বিএনপি এখন রাজনীতি করে আওয়ামীলীগের কাছে নিজেদের ভালো প্রমান করার জন্য। আওয়ামীলীগ রাজনীতিতে বেচে আছে ভারতের করুনায়, হয়ত কিছুদিন পর বিএনপিকে বেচে থাকতে হবে আওয়ামীলীগের করুনায়। এটাই বাস্তবতা।

শিরোনামহীন ভাবনা

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো মায়ের পেট/গর্ভ। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরিহ, পাপহীন মাসুম হলো গর্ভের বাচ্চা। যাদের সন্ত্রাসের কারন মায়ের পেটের বাচ্চা রেহাই পায় না তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। মজার বিষয় এসব সন্ত্রাসীই দেশে এখন পুলিশের আশ্রয়ে অপরাধ করে সদর্পে ঘুরে বেরাচ্ছা। আর নিরীহ স্কুল মাদ্রাসায় পড়া ছোট ছোট শিশু বালককে অ্যারেষ্ট করে জেলে নেয়া হচ্ছে।

দেশে গিয়েছিলাম, অনেকেই বললো ডিবি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে তোকে অ্যারেষ্ট করে মামলা দিবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার এলাকার ছোট ভাই দেশে গিয়ে শুনি সে আমারই এলাকার যুবলীগের ইউনিয়ন সভাপতি তাকে ফোন দিলাম। সে বললো ভাই বাসায় থাইকেন না একটু নিরাপদে থাকেন। এরপর আইনশৃংখলা বাহিনীতে কর্মরত এক ফ্রেন্ডকে বললাম দোস্ত এই অবস্থা পুলিশ হয়রানি করছে, তারা ভাসায় শিবির করলেই কেন পুলিশ হয়রানি করবে। শিবির যে কেউ করতেই পারে। বন্ধু হয়ত কাজে অনেক ব্যস্ত থাকে হয়ত দেশের প্রতিদিনের খবরের কাগজ পড়ার সময় খুব কম পায়। যাহোক এক বন্ধুর আত্নীয় এক এআইজির কাছে গিয়ে কথা বলার সুযোগ হলো। উনি ভালো পরামর্শ দিলেন কিন্তু যখন বললাম যে মামা পুলিশ আমাকে হয়রানি করছে, আমার নামে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে পুলিশ সেগুলোকে সঠিক মনে করেই হয়রানি করছে। সেই এআইজি মামার ভাষায় দেশের অবস্থা এমন হয়ে যায়নি মানুষ পুলিশকে যা বলবে পুলিশ তাই বিশ্বাস করবে। কি করে উনাকে বুঝাবো আমার অবস্থা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা। হয়ত উনিও অনেক ব্যস্ত থাকেন কাজে সময় পান না পত্রিকা পড়তে। এত বড় মানুষ সময় কম পাওয়াই স্বাভাবিক।

মনেপড়ে গেলো ইসলামের স্বর্ণযুগের মুসলিম শাসকদের কথা।
সে সময় মুসলিমদের জয় জয়কার। বিশাল এক সাম্রাজ্যর শাসক ছিলেন মুসলিম শাসক রা তারপর প্রত্যেকটি নাগরিকের জানমানের ব্যাপারে তারা ছিলেন সজাগ।

গতকাল শুনলাম খুলনায় ১৫০ জন মাদ্রাসার ছাত্রকে অ্যারেষ্ট করে জেলে নিয়ে গেছেন ক্ষমতাধর পুলিশ বাহিনী। এই ছাত্রগুলোর অপরাধ কি হয়ত পুলিশ নিজেও জানেনা। যাহোক হয়ত এই ছাত্ররাই মানুষের মধ্যে পড়ে না।

আমার এলাকার এক ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, নাম রাসেল। বেশ কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের ছেলেরা দিন দুপুরে পুলিশের সামনেই তার একটা পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তার অপরাধ শিবির করে সে। তার পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাকেই পুলিশ রা অ্যারেষ্ট করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে দেশে গেলে সৈয়দপুরে ছেলে হিসেবে তার সাথে পরিচয় হলো, আমাকে তার আতংকের কথা জানালো যে ভাই দেশে থাকলে আমারে আবার ধরে নিয়ে যাবে একটু সাহায্য করেন। আমি ভেবেছিলাম দেশে এখনও কিছু ভালো মানুষ আছে ছেলেটা তরুন বয়ষে পা হারালো আবার তাকে কেন জেলে নিয়ে যাবে। দুদিন পর জানালো ভাই অনেক ভয়ে পরীক্ষা দি্চ্ছি ছাত্রলীগের ছেলেরা আমারে মেরে ফেলার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রেও আসে। যাহোক দু-মাস আগে শুনলাম পরীক্ষা দিতে গিয়ে পুলিশ তাকে অ্যারেষ্ট করে জেলে দিয়েছে।
প্রশ্ন হলো যারা তার পা টা বিচ্ছিন্ন করলো তাদের শাস্তি কে দিবে? পুলিশ যদি নিজেদের মানুষ মনে করে তাহলে তাদের মনে এসব অন্যায় হয়ত বিবেক কে নাড়া দেয়ার কথা। পুলিশরা ব্যস্ত সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে তাই যারা অসহায় তাদের হৃদয়ের কান্না পুলিশের হৃদয়ে পৌছানোর মত উপায় নেই।

মাঝে মাঝে কিছু ভাইয়ের অসহায়ত্ব দেখে, কাহিনী শুনে সত্যি কান্না চলে আসে। যে আসলেই কি আমরা মানুষ। আওয়ামী লীগ হোক আর শিবির ই হোক সবাইতো এক দেশের সন্তান।

যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন ৪ দলীয় জোট ক্ষমতায়। ক্যাম্পাসে শিবিরের মিছিল দেখেলেই বুঝা যেত মানুষ আসলেই শিবিরকে কত ভালোবাসে। এই ভালোবাসা ক্ষমতার নয়, এই ভালোবাসা নিরাপদ বোধের আর এই নিরাপত্তা জীবনের মান-সন্মানের। শিবির ক্যাম্পাসে থাকলে অনৈতিক কাজ কম হয়। এই কারনেই অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদ্রাসা বলত। আমার ক্যাম্পাসে পড়াকালীন সময়ে সৈয়দ আমীর আলী হলে ছিলাম ঐ হলে ছাত্রলীগের অনেক ছেলে ছিলো কিন্তু কখনও শুনিনি শিবিরের কেউ তাদের গায়ে হাত তুলেছে। মজার বিষয় হলো আমার রূমমেট ছিলো শিবিরের ব্লগ সভাপতি তার মামাতো ভাই নাম ফিরোজ দিনাজপুর বাড়ি তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ করত, সেটি সেই সময়ের হল সভাপতি কুষ্টিয়ার আক্তার ভাইও ভালো করে জানতেন বরং উনি এসে ফাজলামি করতেন যে এরা ঘষা আওয়ামী লীগ কখনও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। সেই ফিরোজ শিবিরের সীটে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয় চান্সও পায় ম্যানেজেমেন্টে সেই ফিরোজই পড়ে আমীর আলী হলের ছাত্রলীগের আহবায়ক হওয়ার জন্য লবিং গ্রুপিং করে পড়ে সেই ক্যাম্পাসে শিবিরতো বটে সাধারন ছাত্রদের জন্য আতংক হয়ে দাড়ায় তার নাম হয় পেড়েক ফিরোজ। কারন চাদা না পেলে সে নাকি গায়ে পেড়েক মারত।

ঐ সময়ে হলে অনেকেই ছিলো ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো কিন্তু কেউ কারো দ্বারা আঘাত পেয়েছে বলে শুনিনি। অথচ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর শিবিরের নিরীহ ছেলেদের মেরে তাদেরই আবার পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা অহরহই ঘটছে। এসব ঘটনায় সাধারন ছাত্রও বাদ যাচ্ছে না।

আমার এলাকার ছেলে হায়দার আলী আমাকে মামা বলে ডাকে। বেচারা কোন রাজনীতিই করতো না অথচ ছাত্রলীগ তাকেও শিবির বলে ধরিয়ে দেয় এখন বিসিএস পেয়েও বেচারার চাকরী হচ্ছে না। ভাইভার রেজাল্ট নাকি আটকিয়ে রেখেছে। এসব ঘটনার সাথে পুলিশ অতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ পুলিশের কাছে এসব খবর নাকি পৌছায় না।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের রাজনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশকে জাতিগতভাবে সংকটে ফেলতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রতাক্ষভূমিকা রাখছে। সমাজে এক শ্রেনীর মানুষ এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছে, বাড়ীছাড়া হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে অসংখ্যা মানুষ।

আওয়ামীলীগের শিক্ষিত ভালো মানুষ গুলোর উচিত, এমন নোংরা রাজনীতি না করা। রাজনীতিকে আদর্শ দিয়ে, নিজেদের কাজ দিয়ে মোকাবেলার চেষ্টা করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুলিশকে আরো ক্ষমতাধর করুক। তাদের কানকে বড় করে দিন। তাদের মধ্যে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের দ্বায়িতবোধকে বাড়িয়ে দিন এই কামনা করি।

সবশেষে, আমার এক বন্ধু আমার ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে ক্যানাডা থেকে ফোন দিয়ে বলছে শোন; দেশকে নিয়ে ভাবার জন্য ১৬ কোটি মানুষ আছে, তুই বিদেশে আছিস বাইরে থাকার চেষ্টা কর দেশের জন্য চিন্তা বাদ দে”

বর্তমান অবস্থায় তার পরামর্শ সত্যিই অনেক ভালো। কিন্তু গ্রাম বাংলায় বেড়ে উঠা মানুষগুলো তাদের মাতৃভূমির প্রতি আসক্তি কি সহজেই ছাড়তে পারে? যেদিন সমাজের ভালোমানুষ গুলো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভূলে সম্মিলিত কন্ঠে অন্যায়কে অন্যায় বলবে, ন্যায়ের জয়গান গাইবে, মানবতার জন্য কাজ করবে সমাজের সবাইকে নিজেদের মত একজন মনে করবে। সেদিনই মানবতার জয় হবে, সেদিন ই আমরা সভ্য বাংলাদেশি হতে পারব।

ডাঃ মীম এবং সালমা ইসলামঃ বাংলাদেশ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে খবরটি নিয়ে অনেক মাতামাতি চলছে। আমার কাছে ঘটনাটি খুবই স্বাভাবিক মনে হয়েছে। আমরা যখন আমাদের অজান্তেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই তখন সেই অন্যায়যে আমাদের দিকে ধাবিত হয়ে আসবেনা এটা আশা করা নিতান্তই বোকামী।

ডাঃ মীম এবং সালমা ইসলাম সমাজের দুটি চরিত্র। এই চরিত্র দুটির মধ্যে একটি চরিত্র সালমা ইসলাম আমাদেরই সৃষ্টি। আমাদের কারো ভোটে তিনি আমাদের মানে সমাজ নিয়ন্ত্রকদের একজন। আমরা যখন নীতিহীন মানুষদের নির্বাচিত করি, যখন ভোটের উল্লাসে শরীক হয়ে আমরা আনন্দে মেতে উঠি তখন হয়ত খেয়াল করিনা এই নীতিহীন মানুষগুলোর নখের আচড় একদিন আমাকে আপনাকে রক্তাক্ত করতে পারে।
প্রতিবাদ করতে হলে, অন্যায়কে সমাজ থেকে দূর করতে হলে অন্যা্য়ের প্রতিবাদে যদি আপন পর ভাবনা তৈরী করেন তাহলে সেটি সমাজ থেকে দূর হবে না। এর শিকার সবাইকেই হতে হবে। আজকে আমি আগামীতে আপনি। কারন নীতিহীন, মানুষরূপী হায়েনাদের চরিত্র একই থাকে। সমাজে আপনার চারপাশের মানুষ গুলো যখন অন্যায়ের শিকার হয়, যখন অন্যায়ভাবে নিরিহ তরুনদের ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালানো হয়, যখন ক্রস ফায়ারের নামে কোন মায়ের বুকের সন্তানকে কেড়ে নেয়া হয় তখন আপনি, আমি যদি চুপ করে থাকি, তখন যদি আপনার মানব হৃদয়ে রক্তক্ষরন না হয়, তখন যদি আপনার মনে প্রতিবাদের ঝড় না উঠে, তখন যদি আপনি নিজেকে অত্যাচারীতের একজন ভাবতে না পারেন তাহলে বুঝবেন সেই অন্যায়ের সমর্থকদের মধ্যে আপনি আমিও শামীল। সেই অন্যায়েই বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন সময়ে ছোবল মারছে সমাজের সবাইকে।
সমাজ থেকে অন্যায় দূর করতে হলে অন্যায়কে অন্যায় ভাবতে শিখুন। সব অন্যায় এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিজেদের কলমকে চালু রাখুন। নিজেদের প্রজাতি হলে প্রতিবাদ করবেন অন্য কারো প্রতি অন্যায় হলে চুপ করে থাকবেন তাহলে আপনিও সেই অন্যায়ের নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছেন। এগিয়ে আসুন সবার জন্য। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার জন্য যারা অন্যায়ভাবে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তাদের পাশেও দাড়ান। কারন অন্যায় কারীরা একই গোষ্ঠিভুক্ত যখন তারা প্রতিরোধরের সম্মুখীন হয় না তখন তাদের সমর্থক ও সাহস বেড়ে যায় সমাজে অন্যায়ের রাজত্ব কায়েম হয়, বর্তমান বাংলাদেশে সেটিই হয়েছে।
ডাঃ এর মধ্যেও অনেকেই আছে ভূয়া সার্টিফিকেইট ব্যবসা করে। আমি নিজেই এর স্বাক্ষী। পড়াশোনা করে ডাঃ না হয়ে অনেকেই আছে অমানুষ হয় আপনারা যারা ডাঃ চেয়ে নিজেদের মানুষ বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তাদের উচিত এমন ডাঃ দের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। তাহলে দেখবেন সবাইকে অন্যায়কে ঘৃণা করছে।
যেদিন আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে শিখবো, যেদিন সমাজের সবাইকে একটি পরিবারের সদস্য ভেবে ট্রিট করতে পারবো, যেদিন বিভিন্ন প্রজাতিতে নিজেদের ভাগ করা ভূলে যাবো, সবাইকে এক পরিবারের সদস্য ভেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখবো সেদিনই আমরা মানুষ হতে পারবো, সেদিনই সমাজে মানুষের রাজত্ব কায়েম হবে। তার আগে অন্যায়ের প্রতিনিধিদের রাজত্ব চলবে, একটু গুতা খাইতেই হবে, কাউকে কম কাউকে বেশি। আমরা গুতা খেয়ে বড় ই তাই গুতা খাওয়াটা আমাদের অভ্যসে পরিনত হয়েছে। সুতরাং একটু গুতাগুতি না হয় খাই। চেতার কি আছে।
আমাদের মনের যে সুপ্ত অন্যায়গুলো আছে সেগুলোর বহিপ্রকাশ হলো সালমা নামক চরিত্র। সালমারা আর কেউ নন, আমাদের মানুষ স্বত্তার ভেতর যে অন্যায়ের দানব আছে তার বাহ্যিক রূপ মাত্র। কারন সালমাদের আমরাই নেতা বানাই। জয় হোক সালমাদের।

শিক্ষক এবং শিক্ষাদান

বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে অনেকেরই ইচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে। কিন্তু শিক্ষক সে কি জন্য হবে বা শিক্ষক হয়ে ছাত্রদের কি দিবে এটা হয়ত অনেকেই ভাবে না। নলেজ জানলেই যে ভালো শিক্ষক হওয়া যায় এটি বেশির ভাগ সময়ই ঠিক না। নলেজ আহরন আর নলেজের ট্রান্সমিশন এক জিনিস না। অনেকে হয়ত অনেক নলেজ আহরন করতে পারে কিন্তু ছাত্রদের মাঝে সেটার ট্রান্সমিশের সঠিক ধারনা না থাকায় শিক্ষাদান অনেক সময় হয়ে উঠে বিরক্তির কারন। আবার শিক্ষাদানের চেয়ে টাকা পয়সা অর্জন বা সমাজে সন্মান অর্জনে বেশি নজর থাকায় শিক্ষাদানকে এফেকটিভ করতে কোন চেষ্টাই করা হয় না। এমন হওয়ার কারন হলো সমাজের প্রতি আমাদের দর্শন আমাদের দৃষ্টিভংগি। আমরা যদি সব পেশাকেই সন্মান করতে পারতাম তাহলে যে যে পেশাকে ভালোবাসে সে সে পেশাকে বেছে নিতে পারত। ফলে সবাই সবার সামর্থ্যর সবটুকু দিয়ে সমাজের সব ক্ষেত্রে সঠিক এবং যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারতো।

আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র তখন আমাদের এক স্যার ক্লাশে ঢুকেই বলত এই সাবজেক্ট পরে কি করবা, অথচ উনার উচিত ছিলো ছাত্রদের কে তৈরী করে দেয়া, লড়াই করার মানসিকতা তৈরী করে দেয়া , একজন ছাত্র যাতে তার মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা করা চেষ্টা করা। অথচ এমনটি হয়নি কারন উনি যে শিক্ষক হয়েছেন এটি হয়ত ও নিজেও এনজয় করতে পারেন না, সমাজের অন্যান্য পেশাতে সন্মান না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পেশাকে বেচে নিয়ে নিজের সন্মান বাচিয়ে রেখে অনেক ছাত্রের জীবনের স্বপ্নকেই হয়ত চুরমার করে দিচ্ছেন সেদিকে হয়ত ভ্রুক্ষেপ করারও অবকাশ নেই।

বিদেশে ছাত্র শিক্ষকের ইভাল্যুয়েশন করে, প্রতিটি কোর্সে শিক্ষকদের শিক্ষাদানের ইভাল্যুয়েশন ফর্ম থাকে যেটি ছাত্রদের দিয়ে পুরন করিয়ে নিয়ে নিজের শিক্ষাদানের লেভেল যাচাইয়ের একটি ক্ষেত্র রাখা হয় যাতে করে শিক্ষাদানকে আরো ভালো করা যায় এবং যাতে করে ছাত্ররা শিক্ষাকে আনন্দের সাথে গ্রহন করতে পারে। আমাদের দেশে এসবের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষাদান কিছুটা বা অনেক সময় ছাত্রদের জন্য এক ধরনের মানসিক নির্যাতনের স্বরূপ হিসেবে দেখা যায়। শিক্ষকদের মাঝে এসবের চর্চা তৈরী করে শিক্ষাদানকে আরো আধুনিক এবং ছাত্রদের জন্য উপভোগ্য হিসেবে তৈরী করা যেতে পারে।

আবার বিদেশে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় যেমনঃ ক্যাথিড্রাল লেকচার, প্রব্লেম বেইস লার্নিং। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে নানা রকম পদ্ধতি প্রয়োগ করে ছাত্রের একই ধরনের লেকচারের প্রতি অরুচী দুর করা হয়। প্রতিটি কোর্সকে ক্যাথিড্রাল লেকচার, ছাত্রদের সেমিনার, গ্রুপ ল্যাবে ভাগ করে উপভোগ্য করে তোলা হয় তেমনি শিক্ষরাও নানাভাবে ছাত্রদের মেধার স্বাভাবিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। ছাত্রদের উতসাহদান একটি অন্যতম বিষয়। আমাদের দেশে ছাত্র শিক্ষকদের চেয়ে বেশি জানা পাপ। যদি এমন কোন প্রশ্ন করে যেটা শিক্ষকের জানা নেই তাহলে শিক্ষক প্রায়ই ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয় পাছে না তার দূর্বলতা প্রকাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু উন্নত বিশ্বে ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে সহপাঠীর মত আচরন বিরাজ করে ফলে সহজ পরিবেশে ছাত্ররা যেমন নিজেদের জানার আগ্রহ সহজেই প্রকাশ করতে পারে তেমনি শিক্ষকও ছাত্রদের বিষয়ে জেনে সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে।

প্রি-স্কুল বা প্রাইমারী স্কুল গুলোতে বিভিন্ন জিনিস শিক্ষাদানের পাশাপাশি ছাত্রদেরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করা হয়। যাতে করে তাদের মধ্যে মনের বিকাশ হয় স্বাভাবিকভাবে। আমারা যেমন বইয়ে পড়ি রাস্তা পার হতে জেব্রা ক্রোসিংয়ের মাধ্যমে পার হতে হয় সেখানে উন্নত বিশ্বে ছোট ছোট বাচ্ছা গুলোকে দলবেধে রাস্তায় নিয়ে গিয়ে শেখানো হয় কিভাবে রাস্তা পার হতে হবে, কিভাবে সিগন্যাল বুঝে দাড়াতে হবে। এখানে ছোট ছোট বাচ্ছা গুলোকে সব কিছুই হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে ছোট বেলা থেকে তাদের মধ্যে আত্নসন্মানবোধ তৈরী করে দেয়া হয়। আমাদের দেশের মায়েরা যেসব বাচ্চার টয়লেট করার পর পরিষ্কার করে দনে ঐরকম বাচ্চারা এখানে নিজের কাজ নিজেই করা শেখে কারন স্কুলেই ওদের সব শিক্ষা দেয়া হয় হাতে কলমে ফলে একটি সুস্থ্য এবং আত্ননির্ভরশীল শ্রেনী তৈরী হয় এভাবে একটি আন্তনির্ভরশীল জাতি তৈরী হয়। আমাদের দেশে বার বার রাস্তার সিগনাল বাতির পরিবর্তন করা হয় কিন্তু ছোট ছোটো বাচ্চাগুলোকে যদি শিক্ষাদান শুরু করে দেয়া হয় তাহলে একটি সময় পর সমাজে একটি সচেতন শ্রেনী তৈরী হবে যারা কিনা দেশটাকে পরিবর্তন করতে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারবে।

সমাজ ও দেশকে পরিবর্তন করতে চাইলে শিক্ষা ও শিক্ষাদানের পদ্ধতির পরিবর্তন আবশ্যক। কারন শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বাস্তব জ্ঞানের প্রসার না ঘঠাতে পারলে জাতির বাস্তব কোন পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়।

দেশের শিক্ষার পরিবর্তনের জন্য ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে থেকে জেলা পর্যায়ে সেরা শিক্ষক এবং ছাত্র নির্বাচন করে ছাত্র ও শিক্ষকদের গ্রুপ তৈরী করে সেসব ছাত্র-শিক্ষকদের দেশের ছাত্র ও শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে উন্নত বিশ্বে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে এতে করে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় ঘটবে ফলে সেই প্রতিনিধি দেশের বিদ্যমান সমাজের মধ্যে তার শেয়ারের মাধ্যমে কিছু শিখতে পারবে।

একদল ভালো শিক্ষক যেমন একদল ভালো ছাত্র তৈরীতে ভূমিকা রাখতে পারে তেমনি একদল ভালো ছাত্র একটি জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। আর তাই শিক্ষকদের শিক্ষাদানের ব্যাপারে আরো বেশি যত্নশীল হওয়া যেমন প্রয়োজন তেমনি শিক্ষক সমাজকে সময়োপযোগী করে তোলার জন্য রাষ্ট্রের ভূমিকাও আবশ্যক।

দেশপ্রেম

সুইডিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাশে এক বাংলাদেশিকে একজন জিগ্গেস করলো যে তুমি কোন দেশ থেকে এসেছো??
তার উত্তর দেয়া দেখে চরম মাথা গরম হয়ে গেলো, ভাগ্গিস আমি রাগ করলে আমি চিতকার করিনা।

সে উত্তর দিলো… আগে ভারত ছিলো… মানে আগে ভারতের মধ্যে ছিলো তারপর পাকিস্তান… এখন ভারতীয় উপমহাদেশে।
তখন পাশে বসা ইন্ডিয়ান ছেলেটা বললো যে সোজা করে উত্তর দিলেই তো হয়।

কিরাম লাগে?? গতকাল থেকে মাথা থেকে এটা নামাতেই পারছিনা। কেমন মানুষদের জন্ম দেয় সোনার বাংলা যারা নিজেদের পরিচয় দিতে কুন্ঠবোধ করে। এরাই হলো আসল রাজাকার। কিছু বাংলাদেশি আছে বিদেশে আইসা নিজেদের দেশের নামতো উজ্জ্বল করার চেষ্টা করে না, বরং এদের কাছে বাংলাদেশ নামটি হলো একটি লজ্জ্বার বিষয়। বিশ্বাস করুন বা না করুন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। অনেকেই আছে যারা রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করে ইন্ডিয়ার নাম ব্যবহার করে আবার এনারাই মুখের ফেনা তুলে বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলে।

একদিন এক বাংগালীর সাথে কথা বললে সে যে বাংলাদেশি তার চেয়ে বড় বিষয় তার কাছে “লাল পাসপোর্ট” (বিদেশি সিটিজেন) আছে। এসব মানুষই টাকা ইনকাম করে ঢাকায় ফ্লাট কিনে আর বিদেশি কালচার কে তাদের নেক্সট প্রজন্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্রান্সফার করে। হাফপ্যান্ট কালচার মূলত এই শ্রেনীর মানুষের কল্যানেই বাংলাদেশে প্রসার লাভ করেছে। এনাদের কাছে সাদা চামড়া আর লাল পাসপোর্ট হলো তাদের সব।

যারা বাংলাদেশে রাজাকার নিয়ে বেশ চিন্তিত তাদের উচিত এসব মানুষদের দিকে নজর দেয়া। তিতা হলেও সত্য যে যারা দেশে রাজাকার শব্দ তুলে মুখে ফেনা তুলছে এদের অনেকেই বিদেশে এসে অ্যাসাইলাম সিক করে সেই রাজাকার হয়েই। আওয়ামী লীগার রা জামায়াত হয়ে বিদেশে অ্যাসাইলাম সিক করে। এটিই বাস্তবতা। রাজনীতি হলো একটি ব্যবসা ঠকানোর ব্যবসা। একটি ইল্যুশন, যেখানে কোন সল্যুশন থাকেনা, মানুষকে ঠকিয়ে নিজের ফায়দা লোটাই হলো সল্যুশন।

মানুষের জন্য কাজ করা এখন আর রাজনীতির উদ্দেশ্য নয়। রাজনীতি হলো এখন কে কাকে ব্যবহার করে আখের গোছাতে পারে তার ধান্ধা।

দেশপ্রেম একটি চেতনা, এটি দেশকে ঘৃণা করা না, এটি মানুষ এবং সমাজকে ভাগ করা না। দেশপ্রেম মানেই হলো সকলকে নিয়ে একটি সুখী জাতির স্বপ্ন দেখা। দেশপ্রেম মানেই হলো প্রতিক্ষনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, নিজের সামর্থ্যটুকু দিয়ে দেশের সন্মানকে, দেশের নামটাকে সবার কাছে উন্নত রাখা। এটিই দেশপ্রেম। দেশপ্রেম ব্যক্তির অনুধাবনের বিষয়, এটি ব্যক্তিগতভাবেই আগে করা লাগে। দেশপ্রেম মানে আওয়ামী, বিএনপি করা বা অন্যকোন দল করা নয়। যারা এসব বলে তাদের দ্বারা আপনি ব্যবহৃত হচ্ছেন কিনা চিন্তা করে দেখার বিষয়। দেশপ্রেম কখনও মানুষকে ঘৃণা করতে শেখায় না, দেশপ্রেম প্রেম শেখায় সে প্রেম শুধুমাত্র মানচিত্রের জন্য নয়, বা শুধুমাত্র ভূ-খন্ডের জন্যও নয়, এই প্রেম দেশের সকল মানুষের প্রতি, দেশের সকল সম্পদের প্রতি।

সবার মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত হোক। এই কামনাই করি।

রাজাকার ঈমানদার হতে পারে, দেশপ্রেমিক হতে পারে, কিন্তু আওয়ামীলীগ কখনও গনতান্ত্রিক হতে পারে না”

বেশ কয়েকমাস আগে “ব্লাড ডায়মন্ড” ম্যুভিটা দেখেছিলাম। ডায়মন্ড কোম্পানীগুলো নিজেদের স্বার্থে কিভাবে স্থানীয় জনগনের মাঝে ভারী অস্ত্র তুলে দিয়ে তাদের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে কিভাবে কোম্পানীর স্বার্থ আদায় করে, একটি ডায়মন্ডের টুকরার জন্য কতগুলো মানুষের কলিজার টুকরো ঝরে পরে সেটাই হলো ম্যুভিটির প্রতিপাদ্য বিষয়। হয়ত ততকালীন ভারত বর্ষের ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী নিয়ে এমন একটি ম্যুভি তৈরী করা যাবে।
পশ্চিমারা কখনৈ নিজেদের স্বার্থ ছাড়া অন্য কোন মানুষ বা জাতির জন্য কিছু করেনি। বাহির থেকে দেখলে মনেহয় এদের মত মহামানব আর নেই। শুধু ঈমান থাকলে মনেহয় ভালো মুসলিম হয়ে যেত, অনেকেই বলেও তাই। আসলেই কি তাই??

একটু হিসেব করে, চিন্তা করে দেখলে দেখতে পারবেন, যতগুলো জায়গায় মুসলিম রা মারামারি করছে এর সবগুলোতেই পশ্চিমা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত। আর প্রায় সবগুলো বিবাদমান দেশ, গোষ্ঠির মাঝে ভারী অস্ত্রের সরবরাহ করে মূলত এই খোলসধারী পশ্চিমারা। এরা নিজেদের প্রয়োজনে “আল কায়েদা” তৈরী করে তাদের অস্ত্র দিয়ে জংগী তৈরী করে, আবার এই জংগীদের নির্মূল করতে পাকিস্তান সহ অন্য আরব দেশে অস্ত্র বিক্রি করে, আবার এরাই অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করে অন্যায় চুক্তি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ততপর হয়। যেখানে স্বার্থ নেই সেখানে এরা কখনই সময় নষ্ট করে না।

বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় পশ্চিমাদের বিবৃতি, উদ্বেগ প্রকাশ আমার কাছে আইওয়াশ ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। চীনের উত্থানে যুক্তরাষ্ট্রের ভরসা তুলনামূলক ভারত। আবার ভারত সাগরে নজরদারী বাড়াতে এই অন্চলে প্রবেশ করার উপায় দুটি।

১) অনৈতিক চুক্তি
২) জংগী ইস্যু তৈরী করা।

অনৈতিক চুক্তির জন্য দরকার অস্থিতিশীল পরিবেশ। অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করে অনৈতিক সুবিধা আদায়ই হলো পশ্চিমাদের ভাষায় “দাতা গোষ্ঠির দান”। অস্থিতিশীল পরিবেশে দূর্বল ও জনসমর্থনহীন ক্ষমতালোভী সরকারগুলোই হয়ে পরে এদের উত্তম টার্গেট। স্বার্থন্বেষী পশ্চিমারা কখনই দেশপ্রেমিক, জাতিয়তাবাদী সরকার গুলোকে সহজে সমর্থন দিতে চায় না।

জংগী ইস্যুঃ জংগী ইস্যু তৈরীর জন্য বাংলাদেশ এখন খুবই উর্বর ভূমি। ইতোমধ্যে অভিজিত হত্যাকান্ডে আল কায়েদার নাম উঠে এসেছে সেটি আবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউজেও এসেছে। তারমানে হলো বাংলাদেশকে নিয়ে পশ্চিমাদের পরিকল্পনার দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়ে গেছে।

আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় থাকা যতটানা শেখ হাসিনার কৃতিত্ব তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব পশ্চিমা গোষ্ঠির অনৈতিক ততপরতা। ভারত এবং পশ্চিমাদের অনৈতিক দাবিগুলোকে বৈধ চুক্তির মাধ্যমে জায়েজ করে নেয়ার জন্য আওয়ামী সরকারের মত উপযুক্ত এই মুহুর্তে আর কেউ নেই। আওয়ামীলীগের চেয়েও যদি কোন পক্ষ আরো বেশি সুবিধা দিয়ে ক্ষমতা ভাগিয়ে নিতে পারে অথবা যদি আওয়ামী লীগ অনৈতিক কোন দাবি মেনে না নেয় তাহলে সেটি হতে পারে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তনের একটি উপায় অন্যথায় এই মুহুর্তে বিবৃতি বলেন আর জাতিসংঘের দৌড়ঝাপ বলেন সবই হলো বিশেষ গোষ্ঠির স্বার্থে।

আওয়ামীলীগের বর্তমান চরিত্র চলমান থাকলে এমনও এক সময় হয়ত আসবে যখন আওয়ামীলীগের দেশপ্রেমিক অংশটুকু আর আওয়ামীলীগ কে বিশ্বাস করবেনা। তখন হয়ত পরিবর্তন আসতে পারে নতুবা যদি হুজুগে বাংগালী কখনও জেগে উঠে দৌড় দেয়।

সেই স্বপ্ন সত্যি হোক, এই কামনা করি।

অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে, আওয়ামীলীগই বলা শুরু করছে, “রাজাকার (?) ঈমানদার হতে পারে, দেশপ্রেমিক হতে পারে, দেশের আইনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশ ও ইসলামের জন্য মৃত্যুকে সাদরে গ্রহন করতে পারে, কিন্তু আওয়ামীলীগ কখনও গনতান্ত্রিক হতে পারে না”

আওয়ামীলীগ গনতান্ত্রিক হোক, রাজাকার দেশপ্রেমিক হোক, মেরুদন্ডহীন বিএনপি সোজা হোক, জামায়াতের বন্দী দশার অবসান হোক, এরশাদ সুস্থ হোক, দেশের মানুষের মানুষের জন্য সোনার বাংলার জমিন নিরাপদ হোক, সবাই মিলেমিশে একাকার হোক, শান্তিপ্রিয় মানুষের বিজয় হোক, এই কামনাই করি।

বৈশাখের সংষ্কৃতিঃ আমার সরল অব্যকরনিক ভাবনা

ইসলাম পূর্ব কুরাইশ সমাজে নানা রকম কুসংষ্কার ও অপপ্রথা বিদ্যমান ছিলো। সবাই নগ্ন হয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করত। প্রত্যেক নবী রাসুল ছিলেন মূলত সমাজ সংষ্কারক। সমাজ থেকে কু-প্রথাগুলোকে দুর করে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ পূনর্গঠনই ছিলো সবার উদ্দেশ্য। ইসলাম আসার পরে সকল কুসংষ্কারের অবসান হয়। ততকালীন আরব সমাজের লোকগুলো সকল ধরনের কু-প্রথা ত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহন করে। ইসলামের ছায়াতলে আসার সাথে সাথে সকল মুসলিম বাপ দাদার আমলের সকল প্রথা ভূলে গিয়ে ইসলাম ভিত্তিক জীবন গঠন করে।

ততকালীন আরবের লোকেরা আরবী ভাষা জানত বলেই অনেকে ই ইসলাম বুঝেও গ্রহন করেনি শুধুমাত্র বাপ-দাদাদের করা সকল কুসংষ্কৃতিকে ত্যাগ করতে হবে বলে। আবু জেহেল ইসলামের কলেমা ভালোভাবেই বুঝত কিন্তু সে জানত যে সেটা মেনে নিলে তাকে বাপ দাদার প্রথা ত্যাগ করে কুরাআন ভিত্তিক জীবন গঠন করতে হবে। ফলে সে ইসলাম কবুল করেনি। এরকম আরো অনেকেই আছে যারা বুঝেও ইসলাম কবুল করেনি শুধুমাত্র বাপ দাদার সংষ্কৃতিকে ত্যাগ করতে হবে বলে।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
“আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” সূরা সাবাঃ ২৮

এমনভাবে দেখা যায় ইব্রাহিম (আঃ) এর সময়ে বাপের মূর্তিপুজার বিরুদ্ধে রূখে দাড়াতে। এভাবে সকল নবী রাসুল গন সমাজের কুসংষ্কারগুলো মূলে আঘাত হেনেছিলেন ফলে সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তৈরী হয়েছিলো।

ইসলাম আসার পূর্বে বাংলার মাটি বৌদ্ধ ও হিন্দু সংষ্কৃতিতে পরিপূর্ন ছিলো। সংষ্কৃতিরও ধর্ম আছে। ইসলাম এক্ষেত্রে সকল ধরনের কুসংষ্কার মুক্ত। তাই ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলো বা মানুষের জাত শত্রু শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ধোকা দেয়ার জন্য ফন্দি তৈরী করে চেষ্টা করে কিভাবে তাকে আল্লাহর স্মরন থেকে দুরে রাখা যায়। কখনও নিজেদের বাপ-দাদার সংষ্কৃতি, কখনও বা ভূ-জাতিগত সংষ্কৃতির কথা, কখনও আধুনিকতার নামে মানুষকে তাদের স্রষ্টার দেয়া রহমতের চাদর থেকে বের করে নিয়ে আসে। মানুষের মনকে ভোগবাদী করে তোলে ভূলিয়ে রাখে ফলে মানুষ অন্ধভাবে দেশীয় কালচার, স্বদেশী সংষ্কৃতি বিভিন্নরকম শব্দ ব্যবহার করে নিজেদেরকে শয়তানের সাথে কম্পমাইজ করে ফেলে শয়তানের পাতা ফাদে পা দেয়। শয়তানের ফাদে পা দিয়ে মানুষ হয়ে উঠে সংষ্কৃতি প্রেমী। দেশীয় সংষ্কৃতির কথা যখন মাথায় প্রকট হয়ে দেখা দেয় তখন মুসলিম হিসেবে নিজের পরিচয়টা গৌন হয়ে যায় ফলে মুসলিম হিসেবে যে তার করনীয় সেটি আর সামনে থাকেনা। ফলে মুসলিম পরিচয় নিয়েও সে সংষ্কৃতির নামে নানা ধরনের অনৈসলামিক কাজ করে যায়।

কুরআন পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলতেছেনঃ
“হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো এ নির্দেশই তোমাদিগকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাক এবং আল্লাহর প্রতি এমন সব বিষয়ে মিথ্যারোপ কর যা তোমরা জান না।”
সূরা বাকারাঃ১৬৮-১৬৯

বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখে বিদ্যমান যে সংষ্কৃতি সেটি মূলত ইসলাম বিমূখতার একটি ধাপ। সংষ্কৃতির নামে অতি কৌশলে মানুষকে ইসলামী সংষ্কৃতি থেকে দুরে রেখে তাদের আল্লাহ প্রেমকে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। ১৬ কোটির লোকের বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা, রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে মানুষ সাময়িক স্বস্থির জন্য হলেও এসব কু-সংষ্কৃতির মধ্যে জড়িয়ে পরছে। বৈশাখের মংগল শোভা যাত্রার নামে শিরকের কাজ যেমন করা হচ্ছে ঠিক তেমনি যৌনতাকেও উষ্কে দেয় এমন সব কাজকে উতসাহিত করা হচ্ছে।

আমরা যদি এখনই সচেতন না হই তাহলে অদুর ভবিষ্যতে আমাদের সকলকে এর ভুক্তভোগী হতে হবে। সুতরাং সাবধান! নিজে বাচতে চাইলে, নিজেদের বাচ্চাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাচতে এবং দুনিয়ার অসন্মান থেকে বাচতে হলে আমাদের সচেতন হয়ে ধর্মভিত্তিক জীবন যাপন করে পরিচ্ছন জীবন ব্যবস্থাকে উতসাহিত করতে হবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে বলেছেনঃ
“মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তায়ালা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।”
সূরা আত-তাহরীমঃ ৬

দেশ নিয়ে ভাবনা

পিএইচডি ডিগ্রীধারীদের জন্য বিসিএস কোটা তৈরী করা উচিত। এক্ষেত্রে বয়সের সীমা ৩৫ করা যেতে পারে। দেশের জন্য এসব মেধাবীদের ও কাজে লাগানো উচিত। যেভাবে পিএইচডি ডিগ্রীধারীদের সংখ্যা বাড়ছে তাতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসা জরূরী।

১) চিকিতসকদের জন্য গবেষনা আবশ্যক করা জরূরী। অথবা প্রমোশনের জন্য আবশ্যক করা উচিত।

২) চিকিতসা ক্ষেত্রে এমডি-পিএইচডি বা পিএইচডি-এমডি
ডিগ্রীর সিস্টেম চালু করা যেতে পারে, এতে একদিকে চিকিতসকদের শুন্যতা পূরন হবে, অপরদিকে চিকিতসা ক্ষত্রে গবেষনার দ্বার উম্মুক্ত হবে।

৩) স্ব-উদ্যগে ব্যবসা বা ছোট ছোট প্রাইভেট কোম্পানীকে উতসাহের ব্যবস্থা করা করা যেতে পারে। যাতে শিক্ষিত শ্রেনী নিজেদের মেধা ব্যবহার করে কর্মসংস্থান তৈরী করতে পারে এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে।

৪) শিক্ষিত বেকার দের সংখ্যা এবং শিক্ষাখাতে ব্যয় কমাতে টেকনিক্যালের শিক্ষার প্রসার করে অল্প সময়ে চাকুরীর সুযোগ তৈরী করা যেতে পারে এতে করে উচ্চ শিক্ষায় বেশি জনশক্তি/অপ্রয়োজনীয় জনশক্তির প্রবেশ হ্রাস পাবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয় কমে যাবে পাশাপাশি ইনকাম ট্যাক্সের ব্যবস্থা সর্বক্ষেত্রে চালু করলে একটা ব্যালান্স সিস্টেম তৈরী হবে।

…………………………………………

বৈশাখী ভাবনা

প্রফেসর সাইদুর রহমান খান এলেন আমাদের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে। আমরা তখন চতুর্থ বর্ষে পড়ি। বিভাগে অনেকদিন স্ট্যাডি লিভ শেষ করে লাইসা ম্যাডাম আসলেন। পুরো করিডোরে অন্যরকম ভাব যা আগের কয়েকবছর ছিলোনা। অনুষ্ঠান রুমে চারিদিকে মংগল প্রদীপ। স্যার স্টেজে উঠেই অনেক কড়াভাষায় সমালোচনা করলেন মংগল প্রদীপ নিয়ে। মংগল প্রদীপ যে বাংগালীদের কালচার নয় সেটি ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।
আজ ফেইসবুকে মানুষের পোষ্ট দেখে কেন জানি মনে হচ্ছিলো আমরা ব্যাকুল হয়ে উঠেছি নিজেদের আধুনিক প্রমান করতে। হয়ত অনেকেই ব্যাক ডেটেড মনে করবে কিন্তু বাস্তবতা হলো আমরা যা করছি সেটি আমাদের দিকে ফিরে আসবে বাস্তব সত্য হিসেবে। মাঝে মাঝে ভয় হয় আমরা ধর্মহীনতার দিকে ধাবিত হচ্ছিনাতো??
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। যদি আজ থেকে ২০-৩০ বছর পেছনে ফিরে তাকান তাহলে দেখতে পারবেন আজকের বাংগালীর কালচার আর সেসময়ের গ্রাম বাংলার সংষ্কৃতির মধ্যে অমিল অনেক। তাই মাঝে মাঝে ভয় হয় আমরা বাংগালী পরিচয়ও কি ভূলে যাচ্ছি??
বন্য পশুপাখীর মুখোশ পড়ে র‍্যালী করাটা আসেলই কি বাংগালি পরিচয় বহন করে??
সময়ের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে আমরা অজানার দিকে পাড়ি দিচ্ছি। দেশে ক্রমশ দুটি ধারা দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতার একটি ধারা অপরটি ধর্মভিত্তিক ধারা আস্ত আস্তে মানুষ এই দুটি ধারার দিকে বিভক্ত হয়ে পড়ছে ব্যবধান ক্রমশঃ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিগত দিনের বাংলাদেশ হয়ত ভবিষ্যতে অন্য পরিচয়ে পরিচিত লাভ করবে হয়ত সেখানে ধর্মহীনতা/অপধর্মই একটি ধর্ম হয়ে উঠবে। ফলে শান্তিময় ধর্মীয় ধারার সাথে ক্রমশ বর্ধমান ধর্মহীন ধারার সংঘর্ষ আরো ব্যাপকতা লাভ করবে। শান্তিময় ধর্মীয় ধারার মানুষ গুলো সংখ্যালঘুতে পরিনত হবে।

সমাজে যৌনতার ব্যাপকতা লাভ করবে। মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষগুলো নিজেদের স্ট্যাটাস পরিবর্তনের নামে এসবে গা ভাসিয়ে দিয়ে নিজেদের সভ্য প্রমান করতে গিয়ে অনর্দ্বন্দ্বে পতিত হবে। ফলে পুরো সমাজ একটি বর রোগে আক্রান্ত হবে পারিবারিক অনুশাসনের প্রভাব কমে যাওয়ার ফলে পরিবারের কর্তৃত্ব অনেকটা হ্রাস পাবে। দূর্বৃত্ত রাজনৈতিক শক্তিগুলো যৌনতা উস্কে দিয়ে সমাজকে একটি ভোগবাদী সমাজে পরিনত করে রাখবে যাতে করে ধর্মীয় শক্তিগুলোর প্রভাব করার ক্ষমতা হ্রাস পায়।

সব কিছুর মূলে হলো নিজেদের পরিচয় এবং কালচার কে বুঝতে না পারা। আমাদের উচিত আমাদের পরিচয় কে বুঝে সেভাবে পথ চলা, যারা চান আপনার আমার বাচ্চা ইসলামিক পরিবেশে বড় হোক তাদের উচিত এখনই পদক্ষেপ গ্রহন করা নয়ত সময় চলে গেলে বাস্তবতা সামনে দাড়াবে তখন কিছুই করার থাকবে না।

আল্লাহর কাছে দোয়া করি তেমনটি যেন না হয়।

নববর্ষের শুভেচ্ছা না পেয়ে বসে বসে ভাবছেন যারা, তাদের জন্য ধরে এনেছি দূর আকাশের তারা…।।

IMG_2858

আমার বাসার বেলকনি থেকে ফ্লগস্তার আকাশ, উপশালা, সুইডেন।

IMG_2856

উত্তর-পশ্চিম আকাশের তারা, ছবিটি জুম করলে বড়টির পাশে ছোট ছোট অনেক তারা দেখা যাবে, উপশালা, সুইডেন।

IMG_2854

উত্তর-পশ্চিম আকাশের তারা, আমার বাসার বেলকনি থেকে ফ্লগস্তার আকাশ, উপশালা, সুইডেন।

IMG_2849

আমার বাসার বেলকনি থেকে ফ্লগস্তার আকাশ, উপশালা, সুইডেন।

IMG_2861

আমার বাসার বেলকনি থেকে ফ্লগস্তার আকাশ, উপশালা, সুইডেন।