আওয়ামী লীগের চেতনা ব্যবসা

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো ধরনের প্রপাগান্ডা চালায় তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 😉

২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ধর্মীয় বোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে, তাহলে ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।😴

চেতনার খেসারত ১৪ বছর, ধর্মের খেসারত ১০ বছর 
গালি দেয়া দুরের কথা বঙ্গবন্ধুকে কেউ যদি স্বাধীনতার ঘোষক মানতে রাজি না হয়, বিরোধিতা করে তাহলে এই চেতনার আইনের ১৪ বছর জেলে পচতে হবে। আবার কেউ যদি ধর্মের ব্যাপারে কটুক্তি করে তার সাজা ১০ বছর। মজার ব্যাপার হলো ধর্মের ব্যাপারে মুক্তচিন্তার কথা বলা হলেও তথাকথিত চেতনার ব্যাপারে কারো দ্বি-মত করার সুযোগ রাখা হয়নি। মুক্তিযুক্ত এবং স্বাধীনতা নিয়ে তরুন প্রজন্মের কারোরই নেগেটিভ ধারনা করার সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে যখন দলীয় অপরাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যখন তাকে মুক্তভাবে সার্বজনীন করার বদলে চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কৌশল অবলম্বন করা হয়, তখন তরুন প্রজন্মের কিছু অংশ এই অপচিন্তার বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক বিরোধীতাকে যখন দেশ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল অবলম্বন করা হয় তখন সুকৌশলে একদলীয় আদর্শকে অন্য সবার কাধে চাপানোর চেতন বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করা হয়। কোন দেশেই এরকম জংলী আইন নেই। খোদ ভারতে ও এই ধরনের আইন নেই। ভারতেও অনেকেই আছে মহাত্না গান্ধীকে আদর্শ মানতে নারাজ। যখন দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনৈতিক দল ইশতেহার দিতে ব্যর্থ হয়, যখন উন্নয়নমূখী ভিশন প্রণয়নে দলীয় কর্মক্ষমতা লোপ পায় তখন ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলো চাপিয়ে দেয়ার রাজনীতি শুরু করে, যা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে দৃশ্যমান।

চেতনার ব্যবসা যতদিন ভালোভাবে চলবে ততদিন ভোটাধিকারের সুষ্ঠপ্রয়োগ হবে না, ভিশনারী নেতৃত্ব দেশের শাসনযন্ত্রে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবেনা। আর মেকি চেতনাকে দুরে ঠেলে ভিশানরী নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে দেয়ার দ্বায়িত্ব দেশের প্রত্যেকটি ভোটারের।

যারা চেতনার কথা বলে দূর্নীতিকে লালন করে, সন্ত্রাসকে পালন করে তারা মূলত ব্যবসাই করে। চেতনার আড়ালে কার্যসিদ্ধি।

বিঃদ্রঃ বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে বলা উদ্দেশ্য না। আইন হবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করার বিরুদ্ধে শাস্তির। বঙ্গবন্ধুর জীবনের যে অংশটুকু দেশের স্বাধীনতার সাথে জড়িত সেই অংশটুকু আইনের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু পুরো ব্যক্তি মানুষকে নিয়ে এত বড় আইন এক ধরনের স্বৈরাচার মনোবৃত্তি প্রকাশ করে। যারা জিয়াউর রহমান কে স্বাধিনতার ঘোষক হিসেবে মনে করে তাদের কি সবার জেলে যেতে হবে??

স্বৈরাচার

ফাঁসিতে টলেনা যারা
গ্রেপ্তারে করিবে কেমনে দমন?
ভালো কি হতো না? যদি-
সিংহাসনের মায়া ও প্রতিহিংসা ভুলে
কাঁধে কাঁধ মিলে দেশটি করিতে শাসন!!

চাষা বলে যদি কৃষককে দাও ছুড়ে ফেলে
রৌদ্র-বৃষ্টি ভুলে কে ফলাবে শষ্য সারা দেশ জুড়ে
প্রতিপক্ষ বলে জেল ভরো যদি নিরিহ মানুষ দিয়ে
শুধরাবে কে তোমায়, তোমার ভুলে?

তোষামোধে হও যদি অন্ধ
মিছিল মিটিংয়ে শুধু পাও গন্ধ
কোথায় যাবে বাকস্বাধীনতা
কোথায় গনতন্ত্র?

 

নো-বে-ল

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
রাজনীতির ডামাডোলে মরে জীবনের আশা।
ত্রান নিয়ে রাজা ছুটে
নোবেলে নামটি হয় যদি তাজা।

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
দলীয় পরিচয়ে খুনিরা পেয়ে যায় ছাড়া।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাই
নিরীহ মানুষ পাচ্ছে আজীবন সাজা।

যেখানে কাঁদেনা বিবেক ফুটেনা ভাষা
ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের বন্দীদশা
নোবেলে না ঘুচে যদি কষ্ট-দূর্দশা
তবে তা নিয়ে কেন এত আশা???

যদি কাঁদে বিবেক ফুটে মুখের ভাষা
জিন্দা যদি হয় মানবতাবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
ন্যায় ও সাম্য যদি পায় প্রতিষ্ঠা
নোবেলে তখন বাড়বে মনুষ্য মর্যাদা।

 

 

 

 

 

দেশ ভ্রমন: বাংলাদেশ

15895563_282774662158798_568869729578531696_o

কংলাক পাহাড়, সাজেক, রাংগামাটি, বাংলাদেশ

Alutila

আলুটিলা গুহা

17022527_10211795758560240_7159918014910967727_n

লেকশোর রিসোর্ট, কাপ্তাই লেক

কংলাক পাহাড়, সাজেক, বাংলাদেশ

কংলাক পাহাড়, সাজেক, বাংলাদেশ

17390820_287753631660901_4865397924904305258_o

ভাটির ফুল (লোকাল ভাষা, সৈয়দপুর)

হিমছড়ি, কক্সবাজার, বাংলাদেশ

হিমছড়ি, কক্সবাজার, বাংলাদেশ

কক্সবাজার, বাংলাদেশ

কক্সবাজার, বাংলাদেশ

লংলাক পাহাড়, সাজেক, বাংলাদেশ

লংলাক পাহাড়, সাজেক, বাংলাদেশ

17191444_10211904854887580_4697516404760572586_n

হিমছড়ি পাহাড়

…… রাজনীতি

…………রাজনীতিটা হলো এক ধাঁধাঁ
সাদা হয় কালো, কালো হয় সাদা
ভালোকিছু করতে গেলে আসে শুধুই বাধা
দিনশেষে বলে আম-জনতা, রাজনীতিকরা হলো সব গাধা……….
সত্য সব বলতে গেলে পড়ে নাকি ঠাডা
তারপরও…………………………….
পদ।, পদবী ও জব পেতে রাজনীতিকের পা হয় চাটা
এসব শুনে রাজনীতিকরা বলে এ আবার কোন ব্যাডা………
😉

বীনা ডি কস্টার নেয়া ২০০২ সালে ডক্টর জিওফ্রে ডেভিসের সাক্ষাৎকার এবং সেটিকে নিয়ে মিথ্যার বেশাতি

ধর্ষন মাত্রই নিন্দনীয়

ডক্টর জিওফ্রে ডেভিস। বীনা ডি কস্টা বলে এক ভদ্রমহিলা ২০০২ সালে ডক্টর জিওফ্রে ডেভিসের সিডনিতে একটা সাক্ষাৎকার নেন যুদ্ধ পরবর্তী এদেশের নারীদের অবস্থা জানার জন্য। এখানে মূল সাক্ষাৎকারটি দেয়া হলো।

এখানে মূল সাক্ষাৎকারটি দেয়া হলো।” ধর্ষন এবং হত্যা মাত্রই পরিত্যাজ্য। সত্যকে সত্যভাবে উপস্থাপন জাতির নতুন প্রজন্মের জন্য খুবই জরূরী। আমরা অনেক সময় ঘটনাকে নিজেদের মত করে প্রচার করতে অভ্যস্ত। কস্তার এই সাক্ষাৎকারটিকে অনেকেই বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। প্রথম ফেইসবুকে দেখলাম এক ভদ্রলোক কস্তার সাক্ষাৎকারটিকে সূত্র হিসেবে তুলে ধরে লিখেছেন, ডাঃ ডেভিড জিওফ্রে বলেছেন ১০০০০০ মহিলা ও শিশু গর্ভপাত করানো হয়। এখানে সংখ্যাগত অমিল লক্ষ্যনীয়, লিখাটিতে বলা হয়েছে ডাঃ জিওফ্রে বাংলাদেশে ৬ মাস ছিলেন, এবং তিনি বলেছেন দৈনিক প্রায় ১০০ জন করে গর্ভপাত করিয়েছিলো।

muktijuddho
উনি ধর্ষনের কথা সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেননি। এখন যদি গর্ভপাতই ধরা হয়, তাহলে দৈনিক ১০০ গড়ে ৬ মাসে সংখ্যা দাড়াঁয় ১৮০০০ জন, তাহলে ১০০০০০ জন আসলো কোথা থেকে?? আবার যুক্তির খাতিরে যদি ধরে নেয়া হয় যে একটু কম বেশি হতে পারে, তবে কোন উপস্থাপিত সংখ্যা যদি আসল সংখ্যা থেকে ৫ গুন বেশি হয় তাহলে ধরে নেয়া যায় যে কোথাও না কোথাও মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয়েছে।
আবার বলছি ধর্ষন মাত্রই নিন্দনীয়, এখানে পাকিস্তানীদের পক্ষে সাফাই কিংবা রাজাকারদের পক্ষে বলার জন্য বিভ্রান্তিকর লিখার বিপক্ষে লিখা না, লিখার আসল উদ্দেশ্য সত্য ঘটনাকে যাতে সবাই বুঝতে পারে সেটি তুলে ধরা।
ডাঃ জিওফ্রের সাক্ষাৎকারের সন্ধানে ইন্টারনেট সার্চ দিলে ডাঃ ডেভিড জিওফ্রে কে নিয়ে উকিপিডিয়ায় একটা লিখা পেলাম, লিখাটিতে
ডাঃ ডেভিড জিওফ্রে কে নিয়ে উকিপিডিয়ায় একটা লিখা পেলাম
মজার বিষয় হলো লিখাটিতে উল্লেখ ছিলো যে ডাঃ ডেভিড জিওফ্রে এস্টিমেট করেছেন যে ৪০০০০০ লাখ মহিলা ও শিশু ধর্ষনের শিকার হয়, সেখানে আরো উল্লেখ করে যে আল বদর এবং আল শামস, এবং তাদের সহযোগীরা এসব ধর্ষনে জড়িত, এখানেও সূত্র হিসেবে সাক্ষাৎকারটিকে ব্যবহার করা হয় কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সাক্ষাৎকারটিতে আল শামস এবং আল বদরের কোন কথা উল্লেখ নেই,। আমি লিখাটি এডিট করে সাক্ষাৎকারে উল্লেখিত সঠিক তথ্যনুসারে লিখি

“According to Davis around 100 women and children per day were performing abortion who had been raped by the Pakistani armed forces”।

ক্ষনিক পরে আমার কাছে নোটিফিকেশন আসলো আমি নাকি ভূল তথ্য দিয়ে এডিট করেছি, আমার উচিত সাক্ষাৎকারের সঠিক তথ্যকে তুলে ধরা। সে আবার লিখাটিকে আগের মত করে, নিজের মনগড়া তথ্য দিয়ে তার মত করে লিখে। আমি আর একবার সাক্ষাৎকারটি পড়লাম। আমার চোখে কোথাও আল বদর, আল শামস চোখে পড়লো না। আমি সেই লেখককে বার্তা প্রেরন করলাম উকিপিডিয়া টক অপশনের মাধ্যমে যে তার উচিত সঠিক তথ্য তুলে ধরা, এবং সঠিক ভাবে তথ্যকে ব্যবহার করা। এবং ইথিকস মেইনটেইন করা।
পরে দেখি আমার দেয়া তথ্য অনুসারে লিখাটি পরিবর্তন করেছে।

পরে দেখি আমার দেয়া তথ্য অনুসারে লিখাটি পরিবর্তন করেছে

মিথ্যা তথ্য দিয়ে সত্যকে প্রমান করার কিছু নেই। পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা কোন ভূলবার নয়, ক্ষমার অযোগ্য। আমরা সব সময় ধর্ষন এবং হত্যাকে ঘৃণা করি, এবং ন্যায়বিচার দাবি করি।

কিন্তু উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে তরুন প্রজন্মকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশের মধ্যে বিভেদ তৈরী, মিথ্যার উপর আশ্রিত ভবিষ্যত প্রজন্ম আমরা কামনা করিনা। উন্নত জাতি গঠনে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাকে অসৎ উদ্দেশ্য রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার রোধে আমাদেরকে সত্য প্রকাশের জন্য, মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। এভাবে মনগড়া অনেক ভুল তথ্য দিয়ে উকিপিডিয়ায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক বিভ্রান্তিকর ব্লগ তৈরি করে সেগুলোকে রেফেরেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নিজেদের সংবাদ পত্রে প্রথমে ভূল তথ্য পরিবেশন করে, পরে সেই পেপারকেই সূত্র ধরে উদ্দেশ্যপূর্ণ ভাবে ব্যবহার  করা হয়, যা গ্রহনযোগ্য নয়। তাহলে সত্যের উপর ভিত্তি করে যে প্রজন্ম গড়ে উঠবে তার ভিত হবে অনেক মজবুত। বিজয়ের মাসে আমাদের প্রত্যাশা হোক বিভেদমুক্ত সমাজের, ব্যক্তিস্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও পারাস্পারিক শ্রদ্ধাশীল একটি জাতি গঠনের।

আমার প্রিয় বাংলাদেশ, আমি তোমায় ভালোবাসি
যত দুরে থাকি না কেন, হৃদয়ে তোমায় রাখি
তোমায় অনেক ভালোবাসি!!

বাংলাদেশ ভ্রমন

দেশে সার্বিকভাবে মানুষের চলার গতি বেড়েছে। শৈশবে আমাদের গ্রামে একটা রিকশাও ছিলো না দুটো গ্রাম মিলে হয়ত দুটা একটা রিকশা পাওয়া যেত। গরুর গাড়ী ছিলো প্রধান মাধ্যম। দিন অনেকখানি বদলে গিয়েছে। প্রতিবছরই যাই আর নতুন কিছু চোখে পড়ে। গরুর গাড়ি থেকে রিকশা এরপর গিয়ে দেখলাম অটোরিকশাগুলোয় ভরে গিয়েছে পুরো শহর। অটোরিকশার সাথে পাল্লা দিতে প্যাডেল চালিত রিকশায়ও ইঞ্জিন লাগিয়েছে চালকরা। মজার র‍্যাপার হলো গ্রামে আগে যেখানে কাজের লোক কাজের জন্য ধর্না দিত এখন বাসায় কাজের মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আগে সৈয়দপুরে বিমান ছিলো সপ্তাহে ১ টা তাও মাঝে মধ্যে বন্ধ থাকতো। এখন সেখানে দৈনিক ৪-৫ টি বিমান যাতায়াত করছে। মানুষ চা পান করতে করতে রাজধানীতে পৌছে বাজার করে আবার ৩৫০ কিমি পাড়ি দিয়ে বাড়ি পৌছতে পারছে।

এই চলার গতি বাড়ার পেছনে কাজ করছে প্রতিযোগিতার মনোভাব, সাথে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতা মানুষের জীবন নিয়ে দৃষ্টিভংগি পাল্টে দিয়েছে। মানুষ নিজের অধিকার এবং আত্নসম্মান নিয়ে এখন অনেক সচেতন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কারনে মানুষ স্ব-নির্ভরশীল হওয়ার কারনে সামাজিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্যে দৃশ্যমান ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন গ্রাম মোড়লের কর্তৃত্ব মানুষ মানেনা কারন মানুষ আগে যেমন অন্যের উপর অনেক নির্ভরশীল ছিলো এখন সেই নির্ভরশীলতার পরিমান কমেছে অনেকখানি। তবে এর পুরো কৃতিত্ব আমি রাষ্ট্রকে দিবো না এই কৃতিত্বের বেশির ভাগই শ্রমজীবি মানুষদের।

তবে মানুষের শরীর যেভাবে গতিশীলতা পেয়েছে, মানুষের মনের গতি সেভাবে বাড়েনি। শারীরিক গতিশীলতার জন্য যে উপরকরন দরকার সেগুলোর সহজলভ্যতা মানসিকভাবে গতিশীল হওয়ার উপকরন গুলোর অভাববোধকে অদৃশ্য করে রেখেছে। ফলে মানুষের মননশীলতার বিকাশ অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার সাথে তাল মেলাতে পারছেনা ফলে সমাজে অস্থিরতা বেড়েছে। বাড়াটাই স্বাভাবিক। শরীরের পুষ্টির জন্য মানুষ যখন সংগ্রামে ব্যস্ত, মানুষ যখন সমাজে নিজের আসন প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত সেখানে সবার অজান্তেই মন নামক জিনিসটি ক্ষুধায় কাতর হয়ে মৃতপ্রায় হয়ে বেচে আছে। ফলে মানুষের সামাজিক বন্ধন, পারিবারিক বন্ধন গুলো, সম্পর্ক গুলোর মধ্যে সমস্যা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

আমার কাছে মনেহয় বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সামাজিক আন্দোলনের জন্য দৃশ্যমান এজেন্ডা থাকা উচিত। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি সমাজে যাতে করে নৈতিকতার মানের উন্নতি হয়, যাতে করে সুস্থ মানসিক বিকাশও ত্বরাণ্বিত হয় সে বিষয়ে কাজ করা উচিত। নাহলে ধীরে ধীরে আমরা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিংবা পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে থাকবো।

অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে মানুষের শরীর ও মানসিকতার বিকাশ হোক। নৈতিকভাবে শক্ত সমাজ গড়ে উঠুক এই কামনা সব সময়ের জন্য।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড এবং কিছু ভাবনা

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু (?) দের হত্যা সেটি মিডিয়ায় জোড়ালো ফোকাস, সেই সাথে সাইট ইনটেল এর বিবৃতি, বিএনপি কোন এক নেতার সাথে ইসরাইলির ছবি প্রকাশ সেটিকে মিডিয়ায় জোরালো তুলে ধরা সেই সাথে ভারত পন্থী বুদ্ধিজীবিদের বিএনপি জামায়াতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক খুজার চেষ্টা, পুলিশের স্ত্রীর হত্যা স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর মোসাদের কানেকশনের সাথে বিএনপি-জামায়াতের সংযোগ খুজার চেষ্টা, খুজার চেষ্টা খারাপ না কিন্তু সেটিকে ফ্যাক্ট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা, আওয়ামীলীগের সাথে বাংলাদেশের জামায়াত বিদ্বেষী ইসলামী দল গুলোর সাথে সম্পর্কন্নোয়নের চেষ্টা, জামায়াতের নেতৃবিন্দের ফাসি। সব গুলোকে যদি কেউ সুক্ষ্নভাবে চিন্তা করে তাহলে একটি প্রশ্ন প্রথমে সামনে ভেসে উঠে যে লাভ কার? হুমম, আসলেই লাভটি কার?

সবার নাম বার বার আসে, আসে মোসাদের নাম ইসরাইলের নাম, ভারতের “RAW” এর নামটি কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী উচ্চারন করলেন না?

নেতৃবিন্দের একের পর এক ফাসি, থানা ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের নেতারে পিটিয়ে কোমড় ভেংগে দিয়েছে সরকারী বাহিনী। এক একটি হত্যাকান্ডের আগে বা পরে জামায়াত নেতাদের ফাসি দিয়ে হত্যা কান্ড গুলোর দায়ভার অত্যাচারে ক্লান্ত জামায়াত-শিবিরের উপর চাপায়ে কাউকে বাচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না তো??

যে ইসরাইলের বিরোধীতা করাটাই জামায়াত-শিবিরদের আদর্শ সেখানে ইসরাইলের সাথে জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক খোজার মধ্যে কিছুটা দূর্গন্ধ পাওয়া যায় বৈকি।

এমনও তো হতে পারে,

ভারতের “RAW” এর সাথে ইসরাইলের মোসাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো, অনেকেই হয়ত জানেনা বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান রাস্টদূত আগে ইসরাইলে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরট ছিলো। তাকে বাংলাদেশে সরিয়ে এনে ভারত অবশ্যই কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টায় আছে।

হতে পারে
ভারতের “RAW” এর এজেন্ট রা বাংলাদেশে মাঝে মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অখ্যাত কাউকে হত্যা করলো, সাথে সাথে ভারতের “RAW” এর পেইড এজেন্ট নিউজ পেপার গুলো সেটিকে হেডলাইন করে ফলাও করে প্রচার করলো, ঐদিকে সাইট ইনটেল কে এই সংবাদ সরবরাহ করলো, সাথে সাথে সাইট ইনটেল সেটি তাদের টুইট থেকে টুইট করলো, বাংলাদেশের সরকার দলীয় লোকজন সেটিকে জংগী আখ্যায়িত করলো এবং তার সাথে জামায়াত- বিএনপির সংযোগের মন গড়া তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরলো।

সংখ্যা লঘুদের হত্যা করে আওয়ামীলীগ দুটি ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে, এবং সেটি করে কারো কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে।

১) সংখ্যালঘু হত্যা করে দ্বায়ভার জামায়াত-বিএনপির উপর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ থেকে জামায়াত নেতাদের ফাসির বৈধতার নৈতিক সমর্থন আদায় করে নেয়া, বিরোধী দলীয় নেতাদের কোনঠাসা করে রাখা। এর মাধ্যমে ভারতকে নিজেদের দলীয় স্বার্থের পাশে রাখা।

২) বাংলাদেশের মানুষদের মাঝে ক্রমাগত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে জামায়াত-বিএনপির উপর দোষ চাপিয়ে আতংকের পরিবেশ তৈরী করে ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করা।

সংখ্যা লঘু মারা গেছে এক বছরে হয়ত ১০ জনের বেশি হবেনা। এক ইউনিয়ন ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যে ইলেকশনে জামায়াতের কোন উপস্থিতি ছিলো না, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় এই ১২৬ জন মানুষকে হত্যা কারা করলো?? বেশির ভাগ এ মারা গেছে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে। এক বাসের আগুন দিয়ে ৭ জন মারা যাওয়ার মিথ্যা মামলায় যদি বিএনপির সব নেতাদের ধরে জেলে নেয়া যায়, দু-একজন মারার কারনে সুপ্রীম কমান্ডের দায় ভার জামায়াত নেতাদের উপর দিয়ে যদি তাদের ফাসির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এক ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষের প্রান হানীর দ্বায়ভার নিয়ে কারো না কারো ফাসি হওয়া উচিত। হয় এর দ্বায়ভার সরকারের নয়ত ইলেকশন কমিশনের।

১২৬ জন মানুষ যে দলের দলীয় কোন্দলে মারা যাইতে পারে সে দলের দলীয় আদর্শ সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কতটুকু গ্রহনযোগ্য কতটুকু সমর্থন যোগ্য সেটিই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।

হয়ত সময়ই সব কিছুর উত্তর দিবে, মাঝখানে কিছু আহাজারি থেকেই যাবে, সময়ের নিয়ম এটিই। জীবনটা কে দুর থেকে তাকিয়ে দেখলে মনেহয় সত্য সবাই বুঝে, কিন্তু সেটিকে উপলব্ধির কোথায় যেন সীমাবদ্ধতা।

রমজানে মানুষের মনের সেই সীমাবদ্ধতা দুর হোক, মানুষের বিবেক শয়তানের শৃংখল থেকে মুক্তি পাক! আমরা সবাই মিলে দেশটাকে দেশের মানুষগুলো ভালোবাসি এই কামনাই করি।

#SaveBangladesh #Bangladesh

… প্রতিটি ইঞ্চির মালিক দিল্লি।

182348_1

মিনা ফারার ফেসবুক থেকে

 

হাসিনার অস্বাভাবিক কর্মকান্ডে যারাই নিজের চুল নিজে ছিঁড়ছেন, তাদের জন্য দারুণ সুসংবাদ। সুযোগ্য বন্ধু উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উন তার নিন্দুকদেরকে উন্নতি দেখানোর জন্য, ভয়ানক এক লংকাকান্ড করে ফেলেছে। যে দেশের মানুষের বস্তি ভাড়া দেয়ার ক্ষমতা নেই, কার কথা শোনে কিম জং? ৮ কিলোটনের হাইড্রোজেন বোমা ফাটিয়ে পশ্চিমাদেরকে দেখিয়ে দিলো, কতো উন্নত দেশ উত্তর কোরিয়া? বোমা ফাটানোর ভিডিওতে দেখালো, লক্ষ লক্ষ কোরিয়ান রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত তালি দিচ্ছে আর কিম জং-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ঠিক যেমন বাংলাদেশে।

এবার মিলিয়ে দেখুন। ব্রিটিশের কারাগারে বসে ১৯৪২ সনে ইন্দিরাকে জহওরলালের লেখা পত্রগুলো নিয়ে বইটিতে অখন্ড ভারতের কথা বারবার লেখা। ভারত ভাগের জন্য গান্ধিকে হত্যা করেছিলো আরএসআর, যে দলের সদস্য ছিলেন মোদি। পাকিস্তানে গিয়ে মোদির কদমবুচি রাজনীতি, রাজনাথ সিং-দের অখন্ড ভারতের প্রচার আরএসআর-এর তরফ থেকে অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠায় নানান কর্মকান্ড হাতে নেয়া, সর্বোপরি বাংলাদেশের সঙ্গে বিজেপির কিছু সন্দেহজনক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবশেষে আর দুঃখ করার কিছু নাই। বিজেপি-বিজেবি সব একাকার হয়ে গেছে। বাস্থব মানতেই হবে, অখন্ড ভারতের রাজনীতিতে প্রথম বলি ৭১ সনে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা বাংলাদেশ। ওরা ধরেই নিয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশ এক। বীর্য কন্ঠে আরএসআর-এর মুখপাত্র ঘোষণা করলো, “ভিয়েতনাম-জার্মান এক হলে বাংলাদেশ-ভারত কেন এক হবে না। অবশ্যই হবে।” বিজেপি-বিজেবি সব একাকার, কিছু বুঝলেন?

কাকতালীয় বটে, মনে হচ্ছে আমি যেন গণক। বাংলাদেশের ভবিষ্যত বলে দিচ্ছি একটার পর একটা। আজ পাকিস্তান যা বললো, গত লেখায় আমি আগে বলেছি । পাকিস্তান বললো, “জামায়েতের নেতাদেরকে ফাঁসি দিচ্ছে ভারত।” আরো বললো, “বাংলাদেশের লোকেরা হয়তো ইতস্তত বোধ করে কিন্তু ভারত চাইছে জামায়েত নিষিদ্ধ হোক।” লেখাটি পড়ে আমি বাকরুদ্ধ।

বাপ-বেটি দুইজনেরই কাজ, গণতন্ত্রের লেজে আগুন দিয়ে আমৃত্যু ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্থ। কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে তাকে। তার যন্ত্রণায় আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলো ইনু, তাহের, রাশেদ খান মেনন এবং সিরাজ শিকদারেরা। এরাই মুজিব হত্যাকান্ডের ঢাকে বাড়ি দিয়েছিলো। তার অত্যাচারেই মেজর জলিলের মতো মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মুজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয়েছিলো। ভারতের বুদ্ধিতে রক্ষিবাহিনী নামে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্যারালেল মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে সকলের পাছায় আগুন দিয়ে সেকি জঘন্য অত্যাচার! স্বাধীন দেশের মানুষ হতবাক, হায়-হায়! ভয়ে লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু দেশ ছেড়ে আমাদের সামনে দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেলো। তখন আমি কলেজের ছাত্রী। ১ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবিতে আমার স্বর্গীয় পিতাকে ময়মনসিংহ জেলের পায়খানায় ৩ দিন বন্দি রেখে সিগারেটের আগুনে তার চামড়া পুড়িয়ে দিয়েছিলো রক্ষিবাহিনী। প্রতিবাদে অর্ধদিবস হরতাল করেনি শেরপুরবাসী? সেদিনের রক্ষিবাহিনীর অত্যাচারের সঙ্গে আজকের পার্থক্য একটাই, আপেল গাছ থেকে বেশি দূরে পড়ে না। আমার একটি অভিযোগও মিথ্যা হলে মাগুরলীগকে প্রমাণ করতে হবে, আমার দেবতাতুল্য পিতার জান খারাপ করে দেয় নাই এবং শেরপুরের সংখ্যালঘুদেরকে চাঁদার দাবিতে গ্রেফতার করে ডিমথেরাপি দেয় নাই? আরো প্রমাণ করতে হবে, দেশজুড়ে তখন দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, চাঁদাবাজ এবং মজুতদারদের সংস্কৃতি সৃষ্টি করে নাই? তখনকার অবস্থা ৭১এর চেয়েও ভয়ানক ছিলো এবং এসবই ঐতিহাসিক সত্য। কেন বলছি এসব কথা? যারা মুক্তিযুদ্ধ করে নাই, দেখে নাই কিংবা পাকিস্তানীদের কোলে বসে সজীব ওয়াজেদকে সিএমএইচ-এ প্রসব করলো, একমাত্র সেইসব কারজাইদের পক্ষেই রক্ষিবাহিনী থেকে বিজেবি, শিমলা চুক্তি থেকে দেশ বিক্রির চুক্তি, হাসিনার আমলে যতো চুক্তি… জনতাকে অন্ধকারে রেখে সম্ভব করলো দিল্লি।

মনে হচ্ছে বাপের মতোই জামায়েত-শিবিরকে আন্ডারগ্রাউন্ডে পাঠানোর প্রস্থতি শেষ। বিএনপির অতীত কবরে, বর্তমান অন্ধকারে, ভবিষ্যত কারাগারে। আসিতেছে এতিমের টাকা চুরির অভিযোগে খালেদার ২৫ বছরের জেল, যদিও নিজেদের পাছায় লক্ষ ছিদ্র। কিম জং উনের সুযোগ্য বন্ধু এবং চেয়ারম্যান মুজিবের যোগ্য উত্তরাধিকারী স্যার হাসিনার দুই হাতে ভারতের হ্যান্ডকাপ। তাদের ইচ্ছার বাইরে কিছুই করার সাধ্য নেই বরং টোপ দিয়েছে ২০০ বছরের ক্ষমতা। প্রথম কিস্তিতে ২০২১ এবং ২০৪২ দিয়ে পরীক্ষা। সফল হলে, উত্তর কোরিয়ার মতোই বংশানুক্রমে চলবে দুইখন্ড ভারতের ছত্রছায়ায় একখন্ড রাজনীতি। পাকিস্তানের আগেই আমি ভবিষ্যতবাণী করেছিলাম। নিজামীর ফাঁসি বাংলাদেশ দেয়নি, কারোটাই দেয়নি বাংলাদেশ। দিতে পারে না কারণ বাংলাদেশিরা তাদের ক্ষমাশীল হৃদয়ের জন্য দেশে-বিদেশে নন্দিত। এইরকমের নিষ্ঠুর কর্মকান্ড বাংলাদেশ কখনোই করবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তলে তলে আওয়ামী মন্ত্রীরাও ৪৪ বছর পর প্রমাণ ছাড়াই এইভাবে বানোয়াট ফাঁসি দেয়ায় বিব্রত এবং শংকিত। শুধুমাত্র দিল্লির তরফ থেকে ২০০ বছরের ক্ষমতার গ্যারান্টি না পেলে তোফায়েল-ইনুরা বহু আগেই আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিতো। কারণ তারাও দেখছে, সোস্যাল মিডিয়ায় হাসিনাসহ নানান মন্ত্রীদের সঙ্গে সংসদে এদের কাড়িকাড়ি ছবি। এটাও দেখছে, বারবার বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় আজ যাদেরকে ফাঁসি দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে নিয়ে এরশাদ এবং খালেদা বিরোধী আন্দোলনে। সুতরাং সাক্ষুস প্রমাণ সত্ত্বেও, ফাঁসি দিচ্ছে কেন? আমার বিশ্বাস, একটি ফাঁসিও হাসিনা দেয়নি বরং দিল্লির ইচ্ছা পূরণে বাধ্য হয়ে ভয়ংকর কাজে লিপ্ত হয়েছে। এককথায়, তাকে দিয়ে ভারতের কাজটি করিয়ে নিচ্ছে।

জঙ্গি নিধনের নামে ভারতবর্ষ জুড়ে অঘোষিত মার্শল ল’। জঙ্গি গন্ধ পেলেই ফাঁসি দিচ্ছে। হিটলারের মতোই হাসিনার বিরুদ্ধেও জনগণের যে জনরোষ, নির্বাচন হলে ৯৫ ভাগ ভোট পাবে বিএনপি। কিন্তু দিল্লির ইচ্ছায় বিএনপি-জামায়েতের গায়ে জঙ্গির সিল মারতে বাধ্য হলো হাসিনা, এটাই বিরোধীদলকে ধ্বংসের লাল ফরমান। জঙ্গির সিল দেওয়ার পর, কেন বাঁচিয়ে রাখবে দিল্লি? আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ক্ষমতায় আসামাত্র বিএনপি-জামায়েতকে জঙ্গি দল হিসেবে অভিহিত করলো আওয়ামী লীগ। মাথার গোবর ফেলে কিছু মস্তিষ্ক রোপণ করেন। বিএনপি-জামায়েতকে পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্যই দিল্লির নীলনকশা এগুলো। এই কারণেই বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মেরুদন্ডবান অফিসারদেরকে হত্যা করে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে বিজেবি।

আপনারা যদি গত ৬ মাসের বক্তব্য লক্ষ্য করেন, যদি বডিল্যাংগুয়েজ পরীক্ষা করেন, দেখবেন, হাসিনা এবং মন্ত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে এই বাংলাদেশ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। মনে হবে তারা অন্য গ্রহের কথা বলছে। তাদের অস্বাভাবিক বক্তব্য দুইটা- ১) সন্ত্রাস, ২) উন্নতি। উন্নতির নামে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের হাতে হাতকড়া লাগাচ্ছে বিদেশিরা আর সন্ত্রাসের নামে ট্রাইবুন্যাল খাড়া করে একটার পর একটা ফাঁসি। দেখবেন, জামায়েতের ১ম এবং ২য় সারির প্রতিটি নেতারই ফাঁসি হবে এবং যতোই আপত্তি আসুক কোনকিছুতেই কাজ হবে না। এর কারণ, এই অঞ্চলের মোড়ল ভারত একটি উদীয়মান অর্থনীতি। ভারত চায় না এমনকিছুই করবে না পশ্চিমারা। মোদির হ্যান্ডশেক এবং কদমবুচি বোঝার মতো মস্তিষ্ক শেষ করে ফেলেছে মিডিয়া প্রপাগান্ডা দিয়ে। প্রতিটি ফাঁসির হুকুম গণভবনে পৌঁছে দিচ্ছে দিল্লি এবং যথারীতি রায়ের ১২ ঘন্টায় ফাঁসি। বিচারকেরা অসহায় এবং সাফাই সাক্ষিরা টাকা পেলেই খুশি। মনে রাখবেন, আজ বাংলাদেশে যেসকল অস্বাভাবিক কর্মকান্ড অব্যাহত, কোনটাই বাংলাদেশিদের মস্তিষ্কপ্রসূত নয়। বাংলাদেশিরা এতোটা নিষ্ঠুর কখনোই নয়। হলে ৭৩ সনেই যা করার করে ফেলতো। ৪৪ বছর পর বিএনপির বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার মামলা এবং ট্রাইবুন্যাল গঠন করে ফাঁসির প্রতিটি ইঞ্চির মালিক দিল্লি। ফাঁসি দিচ্ছে দিল্লি সুতরাং ২০০ বছরের ক্ষমতার গ্যারান্টি তথ্যবাবার পরিবারকে দিলে, কি করার আছে আওয়ামী লীগের?

আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি, খালেদাকে সন্ত্রাসী মনে করে মোদি। হোটেল সোনারগাঁয়ে মোদি-খালেদার বৈঠকে বারবার এই সন্ত্রাসের কথাই জিজ্ঞেস করলো মোদি এবং ১০ ট্রাক অস্ত্রের প্রশ্নে ক্ষতবিক্ষত করলো খালেদাকে। এরপর আপনারা কি করে ভাবেন, নিজামীদের ফাঁসি না হয়ে খালস হবে? দিল্লি যতোদিন পর্যন্ত বন্ধ না করবে, ফাঁসি চলবে। প্রমাণস্বরূপ, সামসুদ্দিন মানিক যে নাকি একাধিক ফাঁসির রায় লিখলো, সেই এখন টকশো এবং ইমরান সর্দারদের মিছিলে একস্বরে কথা বলছে। বিচারক মানিক খালেদাকে পাকিস্তান চলে যেতে বলছে। মনে রাখবেন, ইমরান সর্দার, বিচারপতি মানিক, মিডিয়া মেশিন, ট্রাইবুন্যাল… প্রতিটি ইঞ্চির মালিক দিল্লি।