“টু বি অ্যা মুসলিম- ফাতি ইয়াকান” প্রথম ভাগ

সূচনা/প্রারম্ভিকা

১.১ ধর্মবিশ্বাস (আক্বীদা)

যে মানুষ ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহন করেছে তার জন্য প্রথম কাজ হলো জ্ঞানের কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষা এবং উপাদানকে বুঝা এবং গ্রহন করা যা শুধুমাত্র ওহীর মাধ্যমে পাওয়া যায়। সেসব জ্ঞানকে বলা হয় ধর্মবিশ্বাস বা আক্বীদা। সকল নবীদের (আঃ) দ্বারাই সঠিক আক্বীদার প্রকাশ ঘটেছে এবং আরো সঠিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে কুরআন এবং রাসুল (সাঃ) এর সুন্নতে। মানুষ আক্বীদা শিক্ষালাভ করে পূর্ববর্তী মুসলিম এবং বিখ্যাত আলেমদের কাছ হতে যারা ইসলামের উপর তাদের ভক্তি এবং সঠিক জ্ঞানের প্রদর্শন করেছিলেন।

মুসলিমদের আক্বীদাকে নিচের পাচটি বিশ্বাসে বিভক্ত করা যায়; আল্লাহতে বিশ্বাস; শেষ বিচারের দিন; ফেরেশতাদের মাধ্যমে ওহীর নাজীল হওয়া; কুরআন এবং রাসূল (সাঃ); যাকাত; এবং সালাত, যা সূরা বাক্বারার ১৭৭ আয়াতে বর্ণনা করেছেনঃ

“”সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।” সূরা বাক্বারাঃ ১৭৭

১.১.১. আল্লাহ

১) এই বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান, এবং যার কোন সাহায্যের দরকার নেই। এটি অবশ্য এই বিশ্বের সৌন্দর্য্য ও জটিলতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বিশ্বের সকল অংশের অস্তিত্বের জন্য একে অপরের সাহায্য লাগে। একক কোন কিছুই বাচতে পারে না অন্যদের ছাড়া।

সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য পরিকল্পনা এবং লালন পালন ছাড়া এরকম সৌন্দর্য্যেময় একটি পৃথিবীর অস্তিত্ব সম্ভব নয়।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেছেনঃ

“যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।”সূরা আল-আম্বিয়াঃ ২২

২) আল্লাহ উদ্দেশ্য নিয়ে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, এবং এবং সকল কিছুর জন্য স্বর্গীয় উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে । আল্লাহ স্বয়ং সম্পূর্ণের গুণে গুণান্বিত, সুতরানহ তিনি যা কিছু করেন সবকিছুর উদ্দেশ্য ও সংলগ্নতা আছে। আল্লাহর নবী (আঃ) , রাসূল (সাঃ) এবং তার নিজের কথার মাধ্যমে কেবল এই পৃথিবী সৃষ্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানা যায়।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।” সূরা আল-মুমিনুনঃ ১১৫-১১৬

৩) ইহজগতের জীবনের উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহকে জানা, তার উপাসনা করা, তার ইবাদত করা।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে। আল্লাহ তায়ালাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।” সূরা আয্-যারিয়াতঃ ৫৬-৫৮

৪) আল্লাহর গুন সীমাহীন। কুরআনে ৯৯ টি গুনের উল্লেখ করা হয়েছে এবং অনেক আয়াতেই সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তার সম্পূর্ণতার কথা বলা হয়েছে। এসব গুনাবলীর মধ্যে আল-কাইয়্যুম, আল-মুক্বাদ্দাম, এবং আল-বাক্বী তার সৃষ্টি থেকে তাকে স্বতন্ত্র করেছে। তার কোন সন্তান নেই, তার পিতা নেই, এবং তার কোন সংগীও নেই। তার কোন সাহায্যের দরকার হয় না কিন্তু তার সৃষ্টি জীব-জন্তুর সাহায্যে দরকার হয়। তিনি গুণে, কাজে, এবং পরিচালনায় স্বতন্ত্র। তিনি আল-আলীম (সর্বজ্ঞানী), আল হাভী (চিরজীবি), আত ওয়াসী, এবং অজানা নানা গুণে গুণান্বিত

১.১.২ শেষ বিচার

১) জান্নাত মুমিনের জন্য পুরুষ্কার এবং জাহান্নামের আগুন হলো অবিশ্বাসীদের জন্য শাস্তি।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুলা আলামিন বলেছেনঃ

“এমনি ভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” সূরা আশ-শুরাঃ৭

২) সকল মানুষ তাদের চেষ্টা এবং ইচ্ছার মাধ্যমে ভালো কাজ করতে পারে এবং খারাপ থেকে দুরে থাকতে পারে, কিন্তু কেউই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ভালো কাজ করতে পারে না।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।”

সূরা আশ-শামসঃ৭-১০

“প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী; কিন্তু ডানদিকস্থরা,তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অপরাধীদের সম্পর্কে বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে? তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না, আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম। এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।” সূরা আল-মুদ্দাচ্ছিরঃ ৩৮-৪৬

৩) মানুষ একাকী থাক বা না থাক তাকে আল্লাহর কাছাকাছি থাকা উচিত।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন, তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।”

সূরা আল-মুজাদিলাঃ ৭

 পরবর্তী রিসালাত, যাকাত, নামাজ

” টু বি অ্যা মুসলিম” অনুবাদ প্রথম ভাগ-০১

সূচনা/প্রারম্ভিকা

ধর্মবিশ্বাস (আক্বীদা) আল্লাহ (সৃষ্টিকর্তা) শেষ বিচার

১.১.৩. রিসালাত

১) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবী ও রাসুলদের আসমানী কিতাব দিয়ে প্রেরন করেছেন যাতে করে সকল মুসলিম আল্লাহ, এই পৃথিবীতে তাদের উদ্দেশ্য, এবং তাদের শেষ গন্তব্য সম্বন্ধে জানতে পারে।

আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রাসুলের মধ্যে রাসুল (সাঃ) হলেন সর্বশেষ নবী। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআন নামক চিরস্থায়ী মু´যেজা দিয়ে তাকে সাহায্য করেছেন এবং শক্তিশালী করেছেন।

২) আইন তৈরীর ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। কেউই আল্লাহর আইন বা শা´রিয়া কে অগ্রাহ্য করতে পারেনা। ইজতিহাদ কিংবা শা´রিয়া হতে আইন তৈরীর ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের ক্ষমতা সীমিত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে সোপর্দ। ইনিই আল্লাহ আমার পালনকর্তা আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।” সূরা আশ-শুরাঃ ১০

৩) তায়্বিল (কুরআন এবং হাদীসের ব্যাখ্যা) এর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রজন্মের মুসলিমদের ঐতিহ্য এবং মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিম আলেমদের দ্বারা কুরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা ঐতিহ্যবাদী এবং সংষ্কারবাদী কিংবা আধুনিকতাবাদীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত না ।

১.১.৪. যাকাত/দানশীলতা

মানুষকে এমনভাবে আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত যাতে করে তার হৃদয় সর্বদা আল্লাহর খোজে ব্যস্ত থাকে। আল্লাহর প্রতি এই ভালোবাসা একজন মানুষকে ভালো কাজ, ত্যাগ, এবং আল্লাহর জন্য সংগ্রাম করতে এত বেশি উদ্বুদ্ধ করবে যে, এই ক্ষনস্থা্যী পৃথিবীর প্রতি তার ভালোবাসা, এবং তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসা তাকে ভালো কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে না।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।” সূরা আত-তওবাঃ ২৪

যদি কেউ ঈমানের স্বাদ পেতে পছন্দ করে তাহলে আল্লাহর জন্য তার ত্যাগ স্বীকার করা উচিত।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

“যাদের কাছে তিনটি জিনিস আছে তারা ঈমানের স্বাদ গ্রহন করবে, সেগুলো হলো, অন্যকিছুর চেয়ে আল্লাহ ও তার রাসুল (সাঃ) এর প্রতি ভালোবাসা, শুধু আল্লাহর জন্যই অন্যের প্রতি ভালোবাসা, এবং দোযখের আগুনের প্রতি নিক্ষেপ হওয়ার মত কুফরির দিকে প্রত্যাবর্তিত হওয়াকে ঘৃণা করা। (বুখারী)”

১.১.৫. ইবাদত

১) একজন মানুষের উচিত আল্লাহর উপাসনা করা এবং তার সাথে শরীক না করা বা তার প্রতিদ্বন্দী কাউকে স্বীকার না করা। একজন মুসলিম আল্লাহর ইবাদত করে কারন আল্লাহর রাব্বুল আলামিন তার নবী রাসুলের এর মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে।” সূরা আন-নাহলঃ ৩৬

২) প্রত্যেক মুসলিমের উচিত আল্লাহর গুনবাচক নামসমূহ জানা এবং বুঝা।

আবু হুরায়রা (রাঃ) একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

“আল্লাহর ৯৯ টি নাম আছে, ১০০ থেকে একটি কম; তোমাদের মধ্যে যারা সেগুলো মুখস্ত করবে তাদের স্থান হবে জান্নাতে। আল্লাহ হলেন বিজোড় এবং আল্লাহ বিজোড় জিনিস পছন্দ করেন। (বুখারী)”

৩) আল্লাহর নাম গুলো পড়ার মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরন করা উচিত। মানুষের হৃদয়ের আরোগ্য লাভের আল্লাহর এরকম স্মরন বা জিকির ই হলো উত্তম ঔষুধ। দুনিয়ার সমস্যাগুলোর সাথে সংগ্রামের জন্যও এটি একটি কার্যকরী অস্ত্র।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবী (সাঃ) কে বলেছেনঃ

“যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।” সূরা আর-র´দঃ ২৮

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী।” সূরা আয-যুখরুফঃ ৩৬

৪) আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে মানুষের চিন্তা করা উচিত।, তবে আল্লাহর নিজস্বতা নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়।

নবী (সাঃ) একটি হাদীসে বলেছেনঃ

“আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা কর তবে আল্লাহর স্বত্তা নিয়ে নয় কারন তোমরা তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে না।”

এই হাদীসটি আবু নুঈয়াম কর্তৃক আল-হিলায়াহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, এবং আল-আসফিহানি কর্তৃক তারঘিব উইয়া-তারহিব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।)

৫) একজন মানুষকে শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করা উচিত। আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার থেকে পৃথক হওয়ার ভয় মানুষকে সকল প্রকার নিষিদ্ধ জিনিস হতে বিরত থাকতে শক্তি যোগায়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” সূরা আল-মূলকঃ ১২

৬) একজন মানুষকে প্রত্যেকটি কাজের জন্য আল্লাহর উপর নির্ভর করা উচিত এবং তায়াক্বুল অবলম্বন করা উচিত (আল্লাহর উপর আস্থা)। এটি তার মধ্যে এমন ধরনের দায়িত্ববোধ তৈরী করে যে, সে যা কিছু করে সব কিছুতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।” সূরা আত-তালাক্বঃ ৩

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ

“আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হও, এবং আল্লাহ তোমাদের রক্ষা করবেন। আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হও, তাহলে তোমরা তোমাদের সামনে তাকে দেখতে পাবে। যদি তোমাদের মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে আল্লাহকেই জিজ্ঞেস কর; যদি তোমাদের সাহায্যের প্রয়োজন পরে, তাহলে আল্লাহর কাছে ই সাহায্য চাও। জেনে রাখ যদি সমগ্র জাতি তোমাদের উপকার করতে চায়, তাহলে তারা ততটুকু উপকারই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমাদের জন্য বরাদ্ধ রেখেছেন, তারা তোমাদের ততটুকু ক্ষতিই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন। (তিরমিজি)

৭) আল্লাহ করুনা এবং সীমাহীন নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত। শুকরিয়া আদায় ধর্মের একটি অংশ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর।” সূরা আন-নাহলঃ ৭৮

“তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরিণী। যাতে তারা তার ফল খায়। তাদের হাত একে সৃষ্টি করে না। অতঃপর তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না কেন?”সূরা ইয়াসীনঃ ৩৩-৩৫

যারা আল্লাহকে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে তাদের জন্য দয়া-করুনা বাড়িয়ে দিতে আল্লাহ প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।” সূরা ইব্রাহিমঃ ৭

৮) আল্লাহর কাছে অনুশোচনা এবং ইসতিগফার করা উচিত। এই ধরনের অনুশোচনা মানুষের ঈমানকে পরিশুদ্ধ করে এবং তার হৃদয়ের মধ্যে ধীরে ধীরে স্থিরতা এবং প্রশান্তি প্রদান করে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“যে গোনাহ, করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।” সূরা আন-নিসাঃ ১১০

“তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না। তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবণ যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান।” সূরা আল-ইমরানঃ১৩৫-১৩৬

বিঃদ্রঃ “To be a muslim-Fathi Yakan” বইটি অনুবাদের চেষ্টা করছি। কোথাও ভূল হলে সংশোধন করে দিলে উপকৃত হবো।

সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

“টু বি অ্যা মুসলিম”- ফাতি ইয়াকান, সূচনা/প্রারম্ভিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর! রাসুল (সাঃ) এর শান্তি ও রহমত বর্ষন হোক।

এই বইটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশটিতে সেসব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা বিশ্বাস এবং কাজে একজন মুসলিমকে ধারন করতে হয় বা প্রতিফলন ঘটাতে হয়। অনেক মানুষ মুসলিম হয় শুধুমাত্র পরিচয়ের মাধ্যমে, কারন তারা মুসলিম পিতা-মাতা হতে জন্মসূত্রে মুসলিম। তারা হয়ত জানেনা যে প্রকৃত ইসলাম কি এবং মুসলিম হওয়ার জন্য কি কি কাজ করা লাগে, এবং এই কারনে তারা অনেক ধর্মনিরপেক্ষ জীবন যাপন করে। এই প্রথম অংশে মুসলিমদের জ্ঞানী এবং সত্যিকার মুসলিম হওয়ার কর্তব্য সমুহ আলোচনা বা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বইয়ের দ্বিতীয় অংশে ইসলামের একজন কর্মী এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মীর কি দায়িত্ব-কর্তব্য তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি আন্দোলনের প্রকৃতি এবং এর লক্ষ্য, দর্শন, এবং কৌশল পড়ন্তু ইসলামী আন্দোলনের একজন সদস্যের প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্বে বিশেষ করে আরব বিশ্বে ইসলামী আন্দোলনের ব্যর্থ হওয়ার কারন হলো ইসলামী আন্দোলন এবং সমাজ জীবনে আধাত্নিক শুন্যতা। এমন অবস্থায় ইসলামের মূলনীতি এবং প্রতিষ্ঠান গুলো হারিয়ে যায়। ইসলামি আন্দোলন ভেংগে পড়ে যখন পশ্চিমা কালচারে অভ্যস্ত নেতারা কঠিন চ্যালেন্জের মুখোমুখি হয়। এসব নেতা এবং আন্দোলন এবং সরকারের নিয়ম সমূহ এবং অর্থনীতি যা তারা চাপিয়ে দিয়েছিলো তা ভেংগে পড়ে কারন সেসবের কোন ভালো ভিত্তি ছিলোনা। তারা ব্যর্থ হয়েছিলো কারন সেসব কৃত্রিমভাবে তৈরী এবং অন্য কালচার থেকে নকল করা ছিলো এবং তা মুসলিম সম্প্রদায়কে উপস্থাপন করতো না। এ কারনে তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলো। এই অবস্থাকে মানব শরীরে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের সাথে তুলনা করা যায়। যদিও শরীর এটিকে স্বল্প সময়ের জন্য ব্যাথা সহ সহ্য করতে পারে অবশেষে কিডনিকে বাদ দেয়া লাগে এবং সে মারা যায়।

যখন মুসলিম উম্মাহর অসুস্থ্যতা তীব্র হয়, তখন খুব কম মুসলিমই ইসলামিক নীতির উপর ইসলামী সমাজ গঠন নিয়ে চিন্তা করে। অপরপক্ষে অধিকাংশ মুসলিম গড়া নীতি এবং পদ্ধতি আমদানী করে, যা বাইরে থেকে ভালো মনে হয় কিন্তু সত্যিকার ভাবে তা একেবারে ত্রুটিপূর্ণ হয় এবং সহজে বিচ্যুত হয় এবং ভেংগে পড়ে।

এসব ঘটনার সাথে খাপখাওয়নোর প্রথম ধাপটি ছিলো একচ্ছত্র পুঁজিবাদ। এটি সমাজ, অর্থনীতি এবং রাজনীতির মুল্যবোধকে বিষাক্ত করে তোলে, এবং মুসলিমদের পরিচয় ধ্বংস করে, সংষ্কৃতি। এটি ১৯৪৮ সাথে ইসলামের বিধ্বংসী পরাজয়ের কারন ছিলো।

এই তিক্ত অভিজ্ঞতা ছাড়াও মুসলিমরা জাহিলী এবং পৌত্তলিক প্রথার হাতে বন্দী থেকে গেছে যা বিদেশ থেকে শুরু হয়েছিলো। যদি ১৯৪৮ সালের পরাজয়ের কারন হয়, পশ্চিমাদের অনুসরন, তাহলে ১৯৬৭ সালের পরাজয়ের কারন ছিলো ইউরোপের বাম-পন্থী সর্বহারা বিশেষভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুসরন। এসবের মিথ্যা দ্বারা বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়েছিলো তারা পরাজয়ের আবর্তে নিমজ্জিত হয়েছিলো, এবং তাদের সমাজতান্ত্রিক জোটের তারা পরিত্যাগ হয়েছিলো/ বর্জিত হয়েছিলো।

এসব তিক্ত অভিজ্ঞতা মুসলিমদেরকে তাদের সরকারের উপোর এবং তাদের শুন্য আশ্বাসের উপড় আশাহত করেছিলো/ আশা হারিয়ে ফেলেছিলো। এসব অসহ্য অভিজ্ঞতা তাদেরকে বাস্তবায় জাগিয়ে তুলেছিলো যে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো তাদেরকে পিষে ফেলতে একত্রিত হয়েছিলো। ইউরোপ-অ্যামেরিকার পশ্চিমা পুজিবাদ এবং রাশিয়ার পশ্চিমার সমাজতন্ত্র “ডানপন্থী এবং বামপন্থী” দুটো ই। শেষে মুসলিমরা শিখতে শুরু করলো যে, তাদের মধ্যে যে শুন্যতা কখনই হোয়াইট হাউসের প্রোগ্রাম, ক্রেমলিন পরিকল্পনা, মার্ক্সের চিন্তা, এবং লেলিন, অথবা চে গুয়েভারা এবং হো চি মিন কারো দ্বারাই পরিপূর্ন হবে না।

মুসলিম উম্মাহকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিমদের স্বতন্ত্র করেছেন অন্যদের থেকে যাতে করে বিশ্বের সকল মানুষ সার্বজনীন সত্যে এবং ন্যায়বিচারের প্রয়োগ ঘটিয়ে তাদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনকে উন্নত করতে পারে। মুসলিম এই পরিচয়ের স্বীকৃতি ই হলো বিশ্বের চিন্তা ও রাজনীতির জগতে বিপ্লব ঘটানোর জন্য মুসলিমদের প্রথম পদক্ষেপ।

চলবে…….

অনেক শব্দের বানানে ভূল আছে যা কি-বোর্ড জটিলতার কারনে হয়েছে। পরে ঠিক করে নিবো ইনশাল্লাহ। পুরো বইটি ধাপে ধাপে ট্রান্সলেইট করার প্লান আছে। সবাই সাথে থাকুন।

“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ” বাকি অংশ

“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।প্রথম অংশ

“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় অংশ

শেষ অংশ আত্ননিয়ন্ত্রন অধ্যয়

সন্দেহপ্রবন রোগই হলো মারাত্নক যা শয়তানের কাছে পরাজিত লোকদের আক্রমন করে।। তারা যা করে তার সবকিছুতে শয়তান তাদের অনিশ্চিত অনুভব করায় যাতে করে তারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।

এই বিষয়ে রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ” নিশ্চয়, শয়তান আদম সন্তানদের থামানোর জন্য বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করে। সে ইসলামকে আঘাত করার মাধ্যমে তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করে, বলেঃ “তুমি কেন তোমার এবং তোমার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহন করছো্।” আদম সন্তান শয়তানকে অবগ্গা করে ইসলাম গ্রহন করে। তারপর শয়তান আল্লাহর জন্য হিজরতের বিরোধিতা করে তাদের থামানোর চেষ্টা করে, বলেঃ ” তুমি তোমার বাড়ী এবং জন্মস্থানকে পরিত্যাগ করে কেন হিজরত করছো?” আদম সন্তান শয়তানকে অবগ্গা করে এবং হিজরত করে। তারপর শয়তান জিহাদকে আঘাত করে তাদের থামানোর চেষ্টা করে, বলেঃ “জিহাদে লিপ্ত হয়ে তুমি কি করছো? এর মাধ্যমে তুমি লড়াই করবে এবং নিহিত হবে, এবং তোমার স্ত্রী অন্যকে বিয়ে করবে এবং তোমার সবকিছু ভাগ হয়ে যাবে।” কিন্তু আদম সন্তান তাকে অবগ্গা করবে এবং জিহাদে লিপ্ত হবে। তারপর রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “যে এসব করে এবং মৃত্যুবরন করে সে জান্নাতে যাওয়ার অধিকার অর্জন করে।” (নাসাই)

কুরাআনে আল্লাহ বলেনঃ “তারা শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করি।” সূরা আল-হাশরঃ ১৬

শয়তানের প্রলোভন এবং খোশখেয়াল হতে মানুষকে পরিত্রান পেতে এবং এই শত্রুকে পরাভূত করতে ইসলাম অনেক অস্ত্র বলে দিয়েছে। প্রথমত মানুষের নিজের দূর্বলতা জানতে হবে। শয়তান কিভাবে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে, সে বিষয়ে স্কলাররা কিছু উপদেশ দিয়েছেঃ

১) লোভ-শত্রুতাঃ অন্যকে বিশ্বাস অন্যরা নিজেদের চেষ্টায় যা অর্জন করেছে তাতে তৃপ্ত বোধ করার মাধ্যমে মানুষ এসবের মোকাবেলা করতে পারে।
২) জীবনের প্রতি ভালোবাসাঃ হঠাত মৃত্যুকে স্মরন করার মাধ্যমে মানুষ এর মোকাবেলা করতে পারে।
৩) অলসতা এবং বিলাসতা প্রেমঃ কষ্টের শেষ আছে কিন্তু ভালো জিনিসের কোন শেষ নেই এই চিন্তা করার মাধ্যমে মানুষ এর মোকাবেলা করতে পারে।
৪) গর্বঃ আল্লাহর উদারতার শুকরিয়া আদায় এবং আল্লাহর শাস্তির ভয় করে এর মোকাবেলা করা যায়।
৫) অহংকার এবং অসন্মানঃ আল্লাহর দেয়া মর্যাদা এবং অধিকারকে স্মরন করে এসব থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।
৬) দ্বেষঃ মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে যা অর্জনকরে তাতে তৃপ্ত থাকার গুন অর্জন করে এবং বান্দার প্রতি আল্লাহর দান এবং পুরুষ্কার গ্রহন করার মাধ্যমে এই দোষ থেকে নিজেদের দুরে রাখা যায়।
৭) আত্ন-প্রশংসা এবং প্রশংসা ক্ষুধাঃ নিজের মধ্যে সততা এবং আন্তরিকতা গুন অর্জন করে এই দোষ থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।
৮) লালসাঃ নিজেদের নশ্বরতা এবং সকল জিনিসের অনিবার্য ধ্বংস এবং আল্লাহর অবিনশ্বরতা, আল্লাহর পুরুষ্কারের নিশ্চয়তা স্মরন করা এবং অন্য মানুষের সাহায্যর উপর নিরর্থক নির্ভরশীলতার কথা চিন্তা করে এই দোষ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী শয়তানের প্ররোচনা থেকে পরিত্রান পাওয়ার সহজ উপায় হলো সকল কাজের শুরুতে আল্লাহকে স্মরন করার মাধ্যমে। এই বিষয়ে
আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ

আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন বিশ্বাসীদের পেছনে লেগে থাকা শয়তান কিভাবে দেখা করেছিলো অবিশ্বাসীদের পেছনে লেগে থাকা শয়তানের সাথেঃ
অবিশ্বাসীদের জন্য যে শয়তান বিশ্বাসীদের জন্য শয়তানের তুলনায় অনেক মোটা/স্থুলকায় অপরপক্ষে বিশ্বাসীদের পেছনে লেগে থাকা শয়তান অনেক শুকনা/চিকন এবং অসুখী। বিশ্বাসীদের জন্য যে শয়তান তাকে অবিশ্বাসীদের শয়তান জিজ্ঞেস করলো করলো সে এত শুকনা/ক্ষীনকায় এবং অসুখী কেন? সে বললোঃ আমি যখন কোন মানুষকে পরীক্ষা করতে যাই, যখনই সে খাইতে যেত, সে আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া শুরু করত ফলে সেটি আমাকে ক্ষুধার্ত করে দিত। যখনই সে কোন কিছু পান করত সে আল্লাহর নাম উল্লেখ করত সেটি আমাকে তৃষ্নার্ত করে দিত। আবার যখন সে কাপড় পরিধান করত সে আল্লাহর নাম নিত ফলে আমি নগ্ন অনুভব করতাম। যখন সে চুলে ক্রিম ব্যবহার করত সে আল্লাহর নাম উল্লেখ করত ফলে সেটি আমার চুলকে শুষ্ক করে দিত। তখন অবিশ্বাসীদের শয়তান বললোঃ “কিন্তু যখন আমি মানুষের কাছে যেতাম তারা কখনই এসব করতোনা যা তুমি উল্লেখ করলে ফলে আমি তাদের খাবার, তাদের পানীয় এবং কাপড় শেয়ার করতাম।”

অন্যভাবে শয়তানকে প্রতিরোধ করত হলে বিলাসী খাবার গ্রহন এড়িয়ে চলা ভালো যদিও সেটি হালাল এবং পরিষ্কার।

কারন আল্লাহ বলেনঃ “হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।” সূরা আল-আ´রাফঃ ৩১

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় শয়তান আদম সন্তানদের মাঝে সেভাবে দ্রুত চলে যেভাবে রক্ত প্রবাহিত হয়, সুতরাং ক্ষুধার মাধ্যমে শয়তানের পথকে রুদ্ধ করে দাও।” (আহমাদ)

কুরআন অধ্যয়ন করে, আল্লাহর জিকির করে এবং তওবার মাধ্যমে ও শয়তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা যায়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় শয়তান আদম সন্তানের কলব/ হৃদয়কে আক্রমন করে, যখনই কোন আদম সন্তান আল্লাহর জিকির করে, তখন শয়তান পালিয়ে যায়, কিন্তু যখন তারা আল্লাহকে ভূলে যায় তখন শয়তান তাদের কলব/হৃদয় খেয়ে ফেলে।”

হঠকারী আচরন পরিত্যাগ করে এবং সবকিছুতেই সতর্কতা অবলম্বন করেও শয়তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা যায়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “হঠকারীতা শয়তানের পক্ষ থেকে এবং সতর্কতা আল্লাহর পক্ষ থেকে।”

যদিও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের জীবনে নিয়মানুবর্তিতা এবং জীবনে নিয়ন্ত্রন নিয়ে আসা।

কুরআনের নিম্নের শিক্ষা স্মরন করাঃ “যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে।” সূরা আল-আ´রাফঃ২০১

বই অনুবাদঃ To Be A Muslim, ফাতি ইয়াকান


পূর্বের অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন “আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
 

মানুষের আত্নার যৌক্তিক ভাগটি মন নামে পরিচিত এবং আধাত্নিক ভাগটি বু্দ্ধি বা স্পিরিট নামে পরিচিত, যা বস্তুগত জিনিসের (শরীর) উপর বিজয় লাভে সাহায্য করে, যদি মন এবং স্পিরিট কে অভিজ্ঞতা এবং স্টাডির মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান সহ সরবরাহ করা হয়। এই ধরনের জ্ঞানই ভাল-মন্দের মধ্যে পার্থক্য নির্নয় করে , একজনকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায় তাই মানুষ আল্লাহর শক্তি ও মাহাত্য সম্বন্ধে জানতে পারে। আল্লাহ তার ওহীতে এটাই বুঝিয়েছেন।

“অনুরূপ ভাবে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ, জন্তু, চতুষ্পদ প্রাণী রয়েছে। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাময়।” সূরা ফাতিরঃ ২৮

রাসুল (সাঃ) বলেনঃ
আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের উপর সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো মানুষের মন এবং স্পিরিট।” তিরমিজি
একদা রাসুল (সাঃ) বলেন, “আলী ইবন আবি তালিবঃ একজন মানুষ তার আল্লাহর নিকট বিভিন্নভাবে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে, তুমি জ্ঞানের মাধ্যমে তার নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা কর।” সবচেয়ে বড় অর্জনটি আসে মন এবং স্পিরিট থেকে। কারন এগুলোই মানুষকে সঠিক পথে ধাবিত করে এবং খারাপ পথ থেকে বিরত রাখে। এবং এজন্যই ইসলাম আমাদেরকে জ্ঞান আরোহন করতে উৎসাহিত করে যাতে এবং আমাদের দ্বীনের জ্ঞানকে গভীরতর করতে উৎসাহিত করে যাতে করে আমাদের মন ভালো-মন এবং সঠিক-বেঠিকের পার্থক্য বুঝতে পারে।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ কাউকে যদি ভালো কিছু দিতে চান তাহলে তিনি তাকে দ্বীনের বুঝ দান করেন।”

যারা শুধুমাত্র উপাসনা করে তাদের চেয়ে শিক্ষিত মানুষের সুবিধা হলো যেমন,আমার সাহাবাদের মধ্যে সর্বনিম্ম মানুষের উপর আমার সুবিধা।
এই সুবিধাগুলো আসে নৈতিক মানের অবস্থা থেকে এবং আমাদের বিশ্বাসকে গভীরতর করা এবং বিশ্বের রহস্যকে আবিষ্কার করার উপর জ্ঞানের ভূমিকা থেকে। একজন সজাগ বিশ্বাসীর মন ভাল-মন্দ, সঠিক-বেঠিক, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে পারে কারন এমন বিশ্বাসীর সচেতনতা থাকে যা তাদের আল্লাহর আলোয় দেখতে সহায়তা করে।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেনঃ
“অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের উপর এক অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতিই নেই।” সূরা আন-নুরঃ৪০

আধাত্নিক আলোকে নির্বাপিত করা যায়, শুধুমাত্র অন্যায় কর্মের দ্বারা, ক্রমাগতভাবে অন্যায় অবস্থার মধ্যে অবস্থান করে, এবং ইচ্ছাকৃত পাপ কাজ করা এবং পাপ করার পর কখনও তওবা না চাওয়ার মাধ্যমে।

রাসূল (সাঃ) বলেনঃ “যদি কোন মানুষ পাপ করে তাহলে তার আত্না তার কাছ থেকে চরমভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়”

আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ “যখন আমি ওসমানের (রাঃ) সাথে দেখা করার জন্য রওনা হলাম, আমি একজন মহিলাকে দেখলাম। আমি মহিলাকে পূর্নদৃষ্টিতে দেখলাম এবং আমি তার সৌন্দর্য্য সাথে করে নিয়ে গেলাম। যখন আমি প্রবেশ করলাম, ওসমান (রাঃ) বললোঃ “তোমাদের মধ্যে একজন এই ঘরে প্রবেশ করেছো আমাকে দেখার জন্য অথচ এখনও দুচোখে ব্যাভিচারের চিহ্ন রয়ে গিয়েছে। তোমরা কি জানোনা যে মানুষ চোখ দিয়েও ব্যাভিচার করতে পারে!” তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, “নবী (সাঃ) এর পরে কি কোন ওহী নাজিল হয়েছে?” ওসমান (রাঃ) উত্তর দিলেন, “না, কিন্তু আমার মতামত উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং পরিষ্কার প্রমান এবং সতর্ক বিবেচনার উপর ভিত্তি করে বলা।”

আধ্যাত্নিক পরাজয়ের চিহ্ন

যখন কারো হৃদয় স্থবির হয়ে যায়, মন যখন বিকৃত হয়ে পড়ে, এবং যখন কারো হৃদয় অন্ধকারে ডুবে থাকে, বিশেষত শয়তানের সাথে সুষ্পষ্টত পরাজয়ের পর তখন তার হৃদয়ে শয়তানের সকল দরজা খুলে যায়। তখন শয়তানী শক্তি আদম সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পরে যেমন রক্ত তাদের শরীরে ছড়িয়ে পরে। আমাদের অবশ্যই এই বিপদের জন্য সজাগ থাকা লাগবে এবং মনে রাখতে হবে যখন কারো আত্নার প্রতিরক্ষা কমে যায় তখন শয়তান তার কাছে বন্ধু হয়ে যায়।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেনঃ
“শয়তান তাদেরকে বশীভূত করে নিয়েছে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণ ভূলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। সাবধান, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।” সূরা আল-মুজাদিলাঃ ১৯

কুরআন আমাদের বলে যে, শয়তান হলো মানুষের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ শত্রু, যে আল্লাহর কাছে ঘোষনা দিয়েছিলো জান্নাত থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর। শয়তান বলেছিলোঃ

“সে (শয়তান) বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো।রপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।” সূরা আল-আ´রাফঃ১৬-১৭

চলবে… পরের পোষ্টে

বইটি একটু একটু করে অনুবাদ করার চেষ্টা করছি। অনেকদিন বাংলা চর্চা না থাকায় কিছু কিছু জায়গায় হয়ত সঠিক বাংলা ব্যবহার করতে পারিনি পরে ঠিক করে নিবো ইনশাল্লাহ। 

পাশ্চাত্য অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াত

পাশ্চাত্য অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াত
মূল লেখকঃ খুররম মুরাদ
অনুবাদঃ আব্দুল হালিম
অধ্যয়ঃ অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা
তিনটি প্রশ্নঃ
একটি অপ্রিয় সত্য উচ্চারনের মাধ্যমে শুরু করি। আমরা পাশ্চাত্যের অমুসলিমদের মধ্যে কোন দাওয়াত করছিনা বললেই চলে। প্রকৃতপক্ষে আমরা বিশ্বের কোথাও দাওয়াতী কাজ করছিনা। কেন? প্রথমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা উচিৎ। বড় পরিসরে, এক বিলিয়ন মুসলিম উম্মাত হিসেবে অথবা একটি মুসলিম দেশ এবং জাতি হিসেবে আমাদের লক্ষ্য এবং অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে দাওয়াহর কোন স্থান নেই। আমাদের জাতীয় সম্পদের কোন কিছুই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে লাগানো হচ্ছে না। একই রকম ভাবে যেসব মুসলিম কম্যুনিটি গুলো অমুসলিম দেশগুলোতে বসবাস করে, তারা প্রতিবেশির প্রতি দাওয়াতি কাজে খুব উদাসীন। আমরা তাদের উপর কোন প্রভাব তৈরী করতে পারি না যদিও পাশ্চাত্যের দেশগুলোর অনেকগুলোতে আমরা শক্তিশালী। ক্ষুদ্র পরিসরে ছোট ইসলামিক গ্রুপ, ব্যক্তির মধ্যে এরকম দাওয়াতি কাজের ঘাটতি পরিলক্ষিত।
দ্বিতীয়তঃ ছোটখাট যাই আমরা করছি সেটি খুব বেশি ফলপ্রসূ হচ্ছে না। আবার যদি প্রশ্ন করা হয় কেন তাহলে সেটি হবে আমাদের সামনে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তৃতীয় প্রশ্নটি হওয়া উচিৎ অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াতী কাজের জন্য ইসলাম নিয়ে আমাদের ধারনা, দা্ওয়াতী কাছের ধরন, এবং পদ্ধতিসমূহ কি সঠিক??
সেগুলো কি সংশোধন বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন? যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তা কিভাবে?

বেসিক ফ্রেমওয়ার্ক
প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেয়ার আগে তিনটি মূলনীতি উল্লেখ করা যাক যার উপর ভিত্তি পুরো আলোচনাটি করা হয়েছে। প্রথমতঃ অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামের দা্ওয়াতী কাজ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে না, করা উচিৎ নয়। মুসলিমের ইসলামী জীবনের কেন্দ্রে এর অপস্থানকে বুঝতে না পারা পর্যন্ত আমরা দাওয়াতী কাজকে অধিগ্রহন করি না। সত্য ও ন্যায়ের সাক্ষ্যকে স্বীকৃতি দানের মিশনে আমরা যে যাত্রা এবং সংগ্রাম করে যাই দাওয়াতী কাজ তার অবিচ্ছেদ্য অংশ না হওয়ার পর্যন্ত আমরা আমাদের শক্তি ও সামর্থ্যকে দাওয়াতী কাজে নিয়োজিত করি না।

বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করতে হলেঃ
অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত ইসলামের অস্তিত্বের জন্য একটি নিছক গৌণ বিষয় বা শাখা হওয়া উচিৎ না। এটাকে গৌণ কাজ হিসেবে এটি অনুসৃত হতে পারে না। এটা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে উদ্ভুত ঘটনা হওয়া উচিত না, অথবা একটি দৈবিক ক্রিয়াকলাপের আনুষঙ্গিক হওয়া উচিত নয়. উদাহরণস্বরূপ, এটিকে অন্যান্য ধর্মের দ্বারা মিশনারি কার্যক্রমের একটি প্রতিক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়. এইভাবে অগ্রসর হলে, এটি এখন ক্ষতিগ্রস্থ হবে যেমন এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দ্বিতীয়তঃ অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতী কাজের সমস্যা এবং তার সমাধানের ধারনাগত এবং পদ্ধতিগত সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরন এবং আলোচনায় সঠিক সফল হতে পারবো না যতক্ষন না আমরা এটিকে ইসলামে একটি যথাযোগ্য স্থান দেই, যতক্ষন না আমরা পুরো বিষয়টিকে মুসলিমদের সামগ্রিক অবস্থার সাথে বিবেচনা না করি।

পরবর্তী পোষ্টে থাকছে…
মুসলিমদের সামগ্রিক অবস্থা
সীমাবদ্ধতা
(চলবে)

বইঃ ক্রাইসিস ইন মুসলিম মাইন্ড. (একটি অংশের কাঁটা ছেড়া অনুবাদ)

বইঃ ক্রাইসিস ইন মুসলিম মাইন্ড
মূল লেখকঃ আব্দুল-হামিদ আ: আবু সুলায়মান।

মুসলিমের নৈতিক দ্বায়িত্বঃ
একজন মুসলিম তার ইচ্ছাশক্তি এবং সামর্থ্যর ব্যবহার করে নিজের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য বুঝতে পারে, নিজেদের দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে করে জান্নাতে তার অবস্থান নিশ্চিত করে। যদি সে তার ইচ্ছাশক্তি এবং নিজের সামর্থ্যকে নিজের সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে পুরনের জন্য ব্যবহার না করে অন্য কোন উদ্দেশ্য ব্যবহার কর‍ে, (যেমনঃ শোষনে, দূর্নীতে ব্যবহার) তাহলে সে তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে, সে তার দ্বায়িত্বের মর্যাদাকে কলুষিত করবে, এবং সে তার নিজের জন্মের উদ্দেশ্য নষ্ট করে ফেলবে। তখন তার অবস্থান হবে জাহান্নামের নিম্ন স্তরে।
কুরআন পাকের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের দ্বায়িত-কর্তব্য বলে দিয়েছেন।

“বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।” সূরা আল কাহফ, ১১০।

“যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।” সূরা আল-মূলকঃ ২।

“হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” সূরা আল বাকারাঃ ১৬৮।

“আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তদ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।” সূরা আল-কাসাস, ৭৭।
“ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোন রূপ অবিচার করা হবে না।” সূরা আল-বাকারাঃ ২৮১।

“আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।” সূরা আন-নূরঃ৯০।

“যে সৎকাজ করছে, সে নিজের কল্যাণার্থেই তা করছে, আর যে অসৎকাজ করছে, তা তার উপরই বর্তাবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।” সূরা আল জাসিয়াহঃ১৫।

“কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না।এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে,তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে।অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।” সূরা আন-নাজমঃ ৩৮-৪১।

“অতঃপর সবাইকে সত্যিকার প্রভু আল্লাহর কাছে পৌঁছানো হবে। শুনে রাখ, ফয়সালা তাঁরই এবং তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করবেন।” সূরা আল-আনআমঃ৬২।

“অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।” সূরা আজ-যালযালঃ ৭-৮।

খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম মনের অনন্য দ্বায়িত্বানুভূতিই ইসলামের প্রারম্ভিককালের মুসলিমদেরকে সেই সময়ের সকল জাতি-গোষ্ঠির কাছে ভালোবাসা এবং ত্যাগের ঐতিহাসিক উদাহরন নজীর পেশ করতে সাহায্য করেছিলো। এই গুনটির কারনেই তৎকালীন মুসলিমরা লোভ, প্রতারনা, গর্ব থেকে মূক্ত ছিলো এবং সম্পদ আহোরন এবং মজুদ করার প্রতি তাদের অনীহা তাদের অন্য সবার থেকে পৃথক করেছিলো। যারা পার্থিব সম্পদ আহোরনে যত উৎসাহী ছিলো ঠিক ততটাই অনুৎসাহী ছিলো সম্পদ মজুদ করতে। কুরআন পাকে যাদের বর্ণনা করা হয়েছে তারা ছিলো তাদেরই মধ্যে।

“তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে।তারা বলেঃ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।” সূরা আল ইনসানঃ৮-৯।
একজন মুসলিম সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হতে পারেনা কারন সে নিশ্চিত করে জানে যে, এই পৃথিবীতে তার মনের শান্তি এবং তার ভাগ্য নির্ভর করছে চেষ্টা, সাধনা এবং ত্যাগের প্রতি তার দ্বায়িত্ব এবং জীবনে ভালো কাজ করার উপর।
তাওহীদের উপর সঠিক বিশ্বাসে মুসলিমরা তাদের সঠিক পথ খুজে পাবে এবং সাফল্যমন্ডিত হবে। খলিফাহ হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে মুসলিমরা সামনে অগ্রসর হবে এবং সাফল্যমন্ডিত হবে। সঠিক কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে মুসলিমরা পজিটিভ এবং প্রোডাক্টিভ হবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও সঠিক বুঝ দান করুন। সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)