রাতের ভাবনাঃ বাংলাদেশ রাজনীতি

যুবক হঠাত উঠে দাড়ায়
মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে বোতল বন্ধী পেট্রল
চোখে মুখে এক আদিম ক্ষুধা
আদিম ক্ষুধায় পেয়ে বসেছে তাকে
ছুটছে ছুটছে সামনেই শিকার
শিকার তাকে ধরতেই হবে
সামনেই যাত্রী বোঝাই গাড়ী
মুহুর্তেই পোড়ামাংসের গন্ধ,
ছোপ ছোপ রক্তের দাগ,
চারিদিকে ভয়ার্ত আর্তনাদ
দুরে কোথাও শয়তানের অট্টহাসি

জীবন তাড়নায় কষ্ট-ক্লেশে ক্লান্ত যুবক
মধ্যরাতে বাড়ি ফেরা, বিছানায় ক্লান্ত শরীর
হঠাত বাড়ির বাইরে বুটের আওয়াজ
দরজায় কারা যেন কড়া নারে
বাবা-মায়ের আহাজারি
যুবককে ধরে নিয়ে কারা যেন
দুরে হঠাত গুলির শব্দ
নীরবতা-ভয়াল রাত্রীর আধার হয় পার
সকালে মর্গে নিথর দেহ

সংগ্রামরত মধ্যবিত্তের পরাজয় হয় রাতের ভয়ংকর অন্ধকারের কাছে। সংগ্রামরত মানুষের পরাজয় হয় পেট্রলবোমা নামক আতংকের কাছে। জয়ীই কেউই হতে পারে না, হয়ও না। জয় হয় শয়তানের, পরাজয় হয় মানবতার, পরাজয় হয় মনুষ্যত্বের।

সুশীলরা সুশীল থাকতে থাকতে পারেনি, কারন তারা সব সয় ন্যায়ের পক্ষে থাকতে পারে নি। শুধুমাত্রের মতবাদের বিরোধীতার কারনে ন্যায়ের পক্ষে না থাকার ফলে জয় হয় শয়তানের। কালোয় ছেয়ে যায় ভালো, আলো হয়ে যায় নিস্প্রভ। নিরপেক্ষ বলে যখন আপনি পার পেতে যান, যখন পানি সত্যকে প্রকাশ করেন না, তখন সেটি পরোক্ষভাবে অন্ধকারকে সমর্থন দেয়। আর সেটি এক সময় সবাইকে গ্রাস করে। আজ অন্ধকার প্রকট, বাংলাদেশ যেন একটি বিশাল জংগল, হিংস্র প্রানীর মত সবাই ছুটছে, কে কার রক্ত পান করবে। আমরা বসে বসে হাত তালি দেই কার কতটা লাশ পড়লো তা গুনে গুনে, অদ্ভূত এক আদিম সূখ অনুভব করি। সমর্থন যোগাই পক্ষের শক্তিকে।

মাঝে মাঝে তাই মনেহয়, সময় এগিয়েছে, কিন্তু আদিমতা, উদ্দামতা কমেনি কোন অংশে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, আমাদের মানুষ হওয়ার যোগ্যতা দিন!

আজকের বাংগালী আইটেম ছড়া

IMG_1393

যাহারা ভাবিছেন বিদেশে বসিয়া না হয় খাচ্ছে খাক
দেশি চানাচুর আর মুড়ি
কিন্তু তাই বলে কি করে সম্ভব ডালপুড়ি??

তাহাদের বলি ভাই আমরা বাংগালী জাত
মাঝে মাঝে ই চলে কাচামরিচ আর পান্তাভাত।

বাংগালীরা ভোজন রসিক তাই
২০০-৩০০ পাড়ি দিয়ে কিনে বাংগালী খাবার
রান্না হলে পরে মুহুর্তেই হয়ে যায় শাবার

দেশে বসিয়া যাহারা ভাবিছেন আমাদের আছে
রাস্তার ধারে টি-স্টল আর মিষ্টি হাড়ি হাড়ি
আমাদের এখানে বাংগালী প্রোগ্রামে পাওয়া যায়
পিয়াজু-সন্দেশ আর মিষ্টি বাড়ি বাড়ি

শীতের পিঠা খেয়ে যাহারা হাসছেন তৃপ্তির হাসি
তাহাদের বলি
আমরাও খাই চিনিগুড়া চালের পোলাও আর খাসি।

দেশে-বিদেশে বসিয়া যাহারা খুজছেন সূখের অনুভূতি
নিজের ভেতরে তাহা তালাশ করুন
পেয়ে যাবেন সূখের দ্যুতি।

IMG_1395 IMG_1394

আমার জীবনে “স” “শ” এর প্রভাব :)

কাকতলীয় হলেও সত্য জীবনের বেশির ভাগ ঘটনার সাথে এই আদ্য অক্ষরের মানুষ এবং স্থান/জায়গা গুলো জড়িয়ে আছে।

আমার বংশীয় টাইটেল “সরকার”
জন্ম “সোনাখুলী” গ্রামে
থানা “সৈয়দপুর”
আমার প্রাইমারী স্কুলের
প্রধান শিক্ষকের নাম “শাহজাহান”
প্রাইমারী শেষ করে হাইস্কুলে ভর্তি হওয়ার সময়
স্কুলের অপশন ছিলো টেকনিক্যাল নয়ত ক্যান্ট পাবলিক। ক্যান্টে ভর্তি হয়েছিলাম, কিন্তু ইচ্ছে ছিলো টেকনিক্যাল স্কুলে। টেকনিক্যালে অপেক্ষামান তালিকায় ছিলাম।
যে ব্যক্তি ভর্তি হতে খুব সাহায্য করেছিলেন তিনি ছিলেন সৈয়দপুরের ডাঃ “সাত্তার” হোসেন।

এরপর ভর্তির দুবছর পর প্রিন্সিপাল হিসেবে পেয়েছিলাম, “সালাম” স্যার কে।

স্কুলে যাতায়াতে যে ভাইটি মাঝে মাঝে নিজের সাইকেলে উঠিয়ে বাসায় নিয়ে যেতেন উনি হলেন “সবুজ” ভাই।

স্কুলে যে স্যারকে বেশি ক্লাশ টিচার হিসেবে পেয়েছিলাম “সিদ্দিক” স্যার।

কলেজে যে ম্যাডাম সবচেয়ে বেশি পড়াশোনার খোজ নিতেন, যিনি ইসলামের ব্যাপারে সচেতন হতে অনুপ্রেরনা দিয়েছিলেন,
“সুলতানা জেসমিন” ম্যাডাম।

যে স্যারটি এক পরীক্ষায় খাতা নিয়েছিলেন “সারোয়ার জাহান”

কলেজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যে ছাত্রাবাসে বেশি ছিলাম তার নাম “সালাফিয়া”

সেই ছাত্রাবাস ছিলো মসজিদের সেই মসজিদের সভাপতির নাম ছিলো “সাত্তার”

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যে স্যার বায়োকেমিষ্ট্র পড়তে পরামর্শ দিয়েছিলেন, যারা অনুপ্ররনা ইয়ার লস না দিয়ে বায়োকেমিষ্ট্রি পড়েছিলাম উনি কলেজের সেই “সালাম” স্যার।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যে সমিতির/সংগঠনের সাথে প্রথম থেকে জড়িত ছিলাম, “সৈয়দপুর সমিতি”।

তৃতীয় বর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় হলে উঠে হলে সীট পেতে সাহায্য করেছিলেন শিবিরের হল সভাপতি “সাত্তার” ভাই।

ইসলামী সংগঠনের সাথে জড়িয়ে পড়েছিলাম, যে ভাই ইসলামী মানোন্নয়ের জন্য শফথ দিয়েছিলেন, “সালেহী” ভাই।

দেশের পড়াশোনা শেষ করে দেশের বাইরে যে দেশে পড়তে আসলাম সেটি হলো “সুইডেন”

সুইডেনে প্রথম যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই তার নাম “Skovde”

Skovde থেকে যেখানে থাকতে আসলাম সে জায়গার নাম “স্টকহোল্ম”

স্টকহোল্মের যে জায়গায় সবচেয়ে বেশি ছিলাম, “স্যাতরা”

বায়োমেডিসিন এ মাস্টার্স শেষ করে যার কাছে থিসিস করেছিলাম, “ড. শহিদুল ইসলাম”

সে হসপিটালে মাস্টার্স থিসিস করি “সোদার খুইহুসেট”

সুইডেনে যে ভাই মাঝে মাঝে পরামর্শ দিতেন গবেষনার বিষয়ে উনি হলেন “সাইফুল” ভাই।

যার ভালো রিকমেন্ডেইশন পিএইচডি পজিশন পাইতে সাহায্য করেছে তিনি হলেন আমার মাস্টার্স সুপারভাইজর “শহিদুল ইসলাম”

স্টকহোল্ম থেকে উপশালায় চলে আসার পর যে জায়গায় আছি তার নাম, “স্যান্ডেলস গতান”

যার বাড়িতে আছি তার নাম “সাদেকুল ইসলাম”

হয়ত জীবনের সামনের দিন গুলোতে “স” “শ” য়েরা এভাবেই ঘোরাঘোরি করবে। 🙂 😉

“স্মৃতিচারণ” “শার্ট ইন করার অভ্যস করো নয়ত ঘাটতি থেকে যাবে”

কথাটি বলেছিলেন আমাদের সবার প্রিয় কামরুন্নাহার ম্যাডাম। প্রতিদিন সকালে স্কুলে ঢুকলেই একটু পর ডি-বক্সে দাঁড়াতে হত পিটি করতে। কবীর স্যার একদিকে বাঁশের কঞ্চি নিয়ে দাড়িয়ে থাকতেন। স্যারের কাজ ছিলো কেউ শার্ট ইন করেছে কিনা্? জুতা পরেছে কিনা, বেল্ট আছে কিনা স্কুল ইউনিফরম পড়ে এসেছে কিনা এসব দেখা। পিটি শেষে যখন সবাই লাইন ধরে বিল্ডিং এর ভেতরে প্রবেশ করতাম তখন অনেক সময় স্যার ম্যাডামেরা দাড়িয়ে থাকতেন। আমি বরাবরই শার্ট ইন করা পছন্দ করতাম না। একদিন পিটি শেষে শার্ট আগের অবস্থায় রেখে দিলাম, সবাই লাইন ধরে স্কুল বিল্ডিংএ প্রবেশ করার সময় ম্যাডাম দেখলেন আমার শার্ট ইন করা নেই।

সেদিন বললেন যে, “হালিম শার্ট ইন করার অভ্যস করো, নয়ত এটা তোমার ঘাটতি থেকে যাবে”।
সেই ঘাটতি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি।

নাহার ম্যাডাম সবাইকে নিজের বাচ্চার মত দেখতেন। উনাকে সবাই অনেক শ্রদ্ধা করতো। কারন উনার মধ্যে শিক্ষকের চেয়ে বড় গুন ছিলো যে উনি যা কিছু বলতেন আন্তরিকতা নিয়ে বলতেন এবং সবাইকে সমানভাবে দেখতেন।

ম্যাডামের বাসায় আমরা প্রাইভেট পড়তে যেতাম সকাল ৮ তার দিকে। ম্যাডাম আমাদের সাথে বসতেন আর ম্যাডামের স্বামী দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমাদের সাথে গল্প জুড়িয়ে দিতেন। খুবই ভালো মানুষ ছিলেন ম্যাডামের স্বামী। আমাদের বন্ধু ছিলো মোজাহারুল নাম প্রাইভেট যখন ই পড়া শুরু হত সে ম্যাডামের স্বামীর সাথে কবুতর আলু এসব নিয়ে গল্প শুরু করে দিত। ভালো এ লাগতো।

একটি মজার ঘটনা বলি, ক্লাশ এইট অথবা নাইনের সাময়িক পরীক্ষার সময়। টেকনিক্যালের সবাই জানে যে পরীক্ষা চলাকালীন বইগুলো সাধারনত সামনে স্যারদের বসার স্থানের নিচে অথবা রুমের দরজার বাইরে রাখা হত। পরীক্ষা যথারীতি শুরু হলো। অনেকেই ওয়াশরুমে যাওয়া শুরু করলো। আমার ও যাওয়া দরকার হলো বের হলাম। ফেরার সময় আমাদের এক বন্ধু ছিলো বেচারা করলো কি দরজার পাশে বই নিয়ে দেখা শুরু করলো পরীক্ষা চলাকালীন সময়ই। ঠিক সে সময়ে নাহার ম্যাডাম হাজির, ম্যাডাম ঐ বন্ধুকে ভালোভাবে জানতেন, খুবই সহজ সরল ছেলে ছিলো। তার হাতে বই দেখে বললেন “…… বলো আমি হাসবো না কাদবো?” বেচারা লজ্জা পেয়ে দে দৌড়। ম্যাডাম কে সবাই শ্রদ্ধা করত। উনি খুব একটা মারধোর করতেন না। তাই উনাকে সবাই ভয়ের চেয়ে শ্রদ্ধাই করত বেশি। এরকম শিক্ষক আছে বলেই ভালো মানুষ তৈরী হয়। শিক্ষকরা সবাই বরাবরই ভালো ই হয়। তবে ছাত্রদের আন্তরিকতা নিয়ে বড় করানোটা সবাই করতে জানেনা। যেটি নাহার ম্যাডামের একটি বড় গুন।

ম্যাডামের সাথে আরো কিছু স্যারের নাম উল্লেখ না করলেই নয়। জেহাদী স্যার অসম্ভব ভালো মানুষ, স্যারের হাতের লিখা আমার খুবই পছন্দ ছিলো। তবে জেহাদী স্যারের একটি বিষয় আমি খুব ভাবতাম যে, স্যার ইসলাম শিক্ষা পড়াতেন আবার ইংলিশ ও পড়াতেন। ভাবতাম মাদ্রাসায় পড়ে ইংলিশে ভালো হলেন কি করে? ঐ সময়ে ছোট ছিলাম বুঝতাম না। স্যার কবিতাও লিখতেন ঐ সময়ে।

নেক্সট পোষ্টে বাকি স্যার গুলোকে নিয়ে লিখবো।

একটি পোষ্ট লিখবো শুধুমাত্র আমাদের সবার প্রিয় সালাম স্যারকে নিয়ে। একজন মানুষের মধ্যে কত গুন যে থাকতে পারে সেটি স্যারকে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবেনা। ছাত্রদের নিয়ে ভাবতে হয়, এই বিষয়টি স্যারের মাধ্যমেই আমরা প্রথম বুঝতে পারি। উনি ছাত্রদের মনিটর করার জন্য সন্ধ্যার পর ছাত্রদের বাসায় বাসায় শিক্ষক পাঠিয়ে খোজ নেয়ার নিয়ম চালু করেছিলেন।
(চলবে…..)

“স্মৃতিচারণ”

“স্মৃতিচারণ”

১৯৯৮ সালের কথা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। পদার্থ প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা। যথারীতি পরীক্ষক আমাদের আফতাব স্যার। এসএসসির পদার্থ মানেই হলো সরলদোলকের বব আর স্ক্র-গজ নিয়ে নাড়াচারা করা। আফতাব স্যার চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে আছেন। সবাই একে একে স্যার এর কাছ থেকে সরলদোলকের বব নিচ্ছিলো। আমার টার্ন আসলো আমি বব নিতে গেলাম। মনে মনে ভাবছিলাম ইশ যদি টেষ্ট পরীক্ষার বব টা পাই, তাহলে সব মূখস্ত লিখে দিতাম। ঐ সময়ে কেন জানি সব কিছু মুখস্ত হয়ে যেত।

সে যাই হোক যথারীতি স্যার এর টেবিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম যদি সেই ববটা পাই। এভাবে ভাবতে ভাবতে স্যারের কাছে যখন গেলাম। স্যার ও বব হাতে নিলেন দেখলাম সেই ববটাই যেটি আমি টেষ্ট পরীক্ষায় ব্যবহার করেছি। ববটার হুক একটু বাকা ছিলো

স্যার বব হাতে নিলেন আর আমি মনে মনে খুশি হলাম। কিন্তু আমার খুশি বেশিক্ষন থাকলোনা যখন দেখলাম স্যার ববটা আমাকে না দিয়ে রেখে দিলেন। আমার ভাব দেখে স্যার বললেন, এটি তোমাকে দেয়া যাবেনা তুমি এটি আগে ব্যবহার করেছো।
এই ছিলো আফতাব স্যারের অনেক গুনের মধ্যে একটি। আমরা দুই-শাখা মিলে ১৩০ ছাত্র-ছাত্রী ছিলাম তখন। এত গুলোর ছাত্রছাত্রীর মাঝে ও কি করে স্যার মনে রেখেছিলেন যে ঐ ববটি আমি ব্যবহার করেছিলাম তা আজো আমার বোধগম্য হয়নি। সৈয়দপুরে ম্যাথমেটিশিয়ান বলতে তখন একজনই ছিলেন আফতাব স্যার। এই স্যারের কত ছাত্র যে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়েছে তার হিসেব নেই।

অনেকেই বড় বড় হয়ে স্কুল কলেজের স্যারদের ভূলে যায়, অথচ স্কুল কলেজের স্যাররাই এক একজন মানুষ তৈরী করেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৈরী করা জিনিসকে নাড়ানাড়া করেন।

স্যার কিছুদিন আগে মারা গেছেন। দোয়া করি স্যার জান্নাতবাসী হোন।

অনেকদিন ভাবছিলাম স্কুলের স্যারদের নিয়ে কিছু লিখবো। ভাবছি নেক্সট পোষ্টটি দিবো আমার স্কুল কলেজের স্যারদের নিয়ে। অনেক ভালো লাগে স্কুল কলেজের কথা ভাবতে। সময়গুলো অনেক ভালো ছিলো।
ভালো ছিলেন সব স্যার-ম্যাডাম রা।

মধ্যবিত্তের বিড়ম্বনা

মধ্যবিত্ত হওয়ার ঝামেলাই অন্যরকম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা আর বিড়ম্বনা। আসুন দেখা যাক সেটা কেমন–
মধ্যবিত্ত পরিবারঃ
সর্বদা চ্যালেঞ্জ আর চ্যালেঞ্জ। কোন কিছু ই আরাম করে করতে পারবেন না। ধরেন আপনি পরিবারের বড় ছেলে কলেজ জীবন শেষ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেন না। নো উপায়, ছোটোদের কথা ভেবে হয়তো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবেন না। আবার ধরেন অনেক শখ একটি বাইক কিনবেন বন্ধুদের মত, না এখানেই কোন চান্স নেই। ভাবলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেন এখন একটু ঘুরবেন, আরাম টাইম পাস করবেন, উপায় নেই টিউশনি করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ। ভাববেন জলদি বিয়েটা করে সংসারী হবেন, কোন চান্স নেই পরিবারকে সাপোর্ট দিতে হবে, অতঃপর বেলা শেষে বিয়ে। বিয়ে করলেন নিজের পরিবার হলো, ভাবলেন কিছু টাকা ব্যবসা করবেন, শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করলেন, কারন আপনি নিজেও মধ্যবিত্ত চাকুরী করেন সরাসরি ব্যবসা করার সময় নেই, টাকা বেশি হতে লাগল আপনিও স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন, অতঃপর হঠাৎ একদিন দেখলেন আবুল মাল মুহিত বলছে আপনি ফটকা বাজ। আপনার মাথায় হাত আপনার টাকা সব শেষ।

মধ্যবিত্ত বিয়ের বরঃ
মধ্যবিত্ত বিয়ের বর মানে হলো যার বিয়ের যোগ্যতা মধ্যবিত্ত শ্রনীতে পরে। যেমন , আপনি সাইজে মধ্যবিত্ত, উচ্চতায় মধ্যবিত্ত, বিয়ে করতে যাবেন, দেখবেন মেয়েদের চাহিদার মধ্যে আপনি নাই। ধরলেন আপনি সাইজে পাড় পাইলেন, এরপর মোহোরানায় গিয়ে ধরা আপনার সব সম্পত্তির চেয়েও মোহরানা বেশি। কোন চান্স নেই।

মধ্যবিত্ত প্রেমিকঃ
যার প্রেমের অভিজ্ঞতা মধ্যবিত্ত শ্রেনীর। আপনি জীবনের অনেক শখ করে একটা মেয়েকে পছন্দ করলেন, দুদিন পড় আপনার প্রেম নাই হয়ে গেলো কারন , আপনি প্রেমিকার খাবার বা রিক্সা ভাড়ার বিল দিতে পারলেন না।

মধ্যবিত্ত ছাত্রঃ
মধ্যবিত্ত ছাত্র হলো যাদের পড়াশোনায় মূলধন কম। সর্বদা ভয় এই বুঝি রেজাল্ট খারাপ হয়। মুলধন কম থাকায় প্রচুর পরিশ্রম করলেন। পাশ করে দেখলেন আপনি মধ্যবিত্ত রেজাল্ট করেছেন। এবার চাকুরী করতে যাবেন, আপনি মধ্যবিত্ত আপনার নাই বড়লোক মামা, আবার আপনি উচ্চিবিত্ত রেজাল্টাধারী ও না, সুতরাং আপনার চাকুরী নাই। যাহোক কোনমতে একটি চাকুরী ম্যানেজ করলেন, সেখানেও সর্বদা ভয়, কারন আপনার কোম্পানী মধ্যবিত্ত কোম্পানী ক্লোজ হওয়ার ভয়।

আপনি মধ্যবিত্ত বাবাঃ
বিয়ে করলেন ভাবলেন এবার বুঝি জীবনে সুখ আসলো। বিয়ের বছর না ঘুরতে পরিবারে নতুন সদস্য। খরচের খাতায় নতুন জিনিস যোগ হতে শুরু করলো। সাথে সাথে আপনার কপালের ভাঁজও বাড়তে লাগলো। মেয়ে বড় হয়েছে বিয়ে দিবেন। মধ্যবিত্ত বাবা যৌতুকের টাকা নাই। এদিকে মেয়ের বয়স ও চলে যাচ্চে। অতঃপর উপায় না দেখে অপাত্রে কন্যাদান করলেন। বিয়ে দিলেন আপনার জামাই ও মধ্যবিত্ত ভাবলেন বিয়ে দিয়ে রক্ষা পেলেন, না এখানে শেষ নাই, মাস ঘুরতেই দেখবেন মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে আপনার বাড়িতে, টাকা দরকার।

মধ্যবিত্ত বৃদ্ধ জীবনঃ
আপনি মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বয়স্ক একজন মানুষ। চাকুরী শেষ ভাবলেন এখান বাকি জীবনটা পেনশন পেয়ে আরামে কাটাবেন।পেনশনে যাওয়ার সাথে সাথে দেখবেন নিজের বড় করা বাচ্চাগুলো ফিরে তাকানো ভূলে যাচ্ছে। আর যদি গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেন তাহলে ঐদিন বাচ্চারা হাজির টাকা শেষ। জীবনটা যাবে ধুঁকে ধুঁকে।

জীবন শেষ মারা গেলেনঃ আপনি মধ্যবিত্ত ইমানদার, মধ্যবিত্ত মুসলিম।ইমান ও আমলে আপনি মধ্যবিত্ত, জীবনে ভালোভাবে নামাজ আদায় করেননি, অলসতা করেছেন, কুরান পড়েননি। মারা যাওয়ার সাথে কবরে ফেরেশতা এসে হাজির আপনার বকেয়া নামাজের হিসেব চাইবে। আল্লাহ আপনাকে যে জীবন দিয়েছিলো সেগুলোর হিসেব চাইবে। আপনিতো মধ্যবিত্ত মানুষ, আপনার জীবনের অর্ধেক হিসেব খুঁজে পাচ্ছেন না। উপায় কি কবরে গিয়ে মধ্যবিত্ত জীবন যাপন মানে কষ্ট আর বিড়ম্বনার জীবন যাপন করতে হবে।
কবরের জীবন শেষ এবার বিচারের পালা। ভাবলেন এবার বুঝি রক্ষা পাবেন। বিচার হলো আপনি মধ্যবিত্তের পুরুষ্কার নিজের জন্য জায়গা পেলেন জান্নাত-জাহান্নামের মাঝে। একদিকে আযাব যন্ত্রনা দেখে মানসিক কষ্ট আর একদিকে জান্নাতের সুখ দেখে আফসোস করবেন। ভাববেন মধ্যবিত্ত জীবনটা আসলে অপয়া। তাই সিদ্ধান্ত নিলেন যদি আল্লাহ সুযোগ দেয় র একবার তাহলে অন্তত একজন উচ্চবিত্ত মুমিন, মুসলিম হয়ে মারা যাবেন। এই সান্ত্বনা নিয়ে আপনার বাকি জীবন চলতে লাগল।

মধ্যবিত্ত শ্রেনীর লোকদের প্রতি, আসুন আমরা উচ্চবিত্ত মুমিন হওয়ার চেষ্টা করি। এটির জন্য টাকা পয়সা লাগেনা, কষ্টো বেশি লাগেনা। একটু আগ্রহ হলেই উচ্চবিত্ত মুমিনের খাতায় নাম লেখানো যাবে। ইনশাল্লাহ।

বিঃদ্রঃ মধ্যবিত্ত শ্রেনীর কষ্টের মাঝে যে ভালোবাসা-মমতা বর্তমান থাকে সেটি একেবারে নিখাঁদ। তারমধ্যে কৃত্রিমতা থাকেনা। 🙂 🙂