গবেষনা ল্যাবের পলিটিক্স

 

জীবন হলো এক অদ্ভূত জিনিস। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জটিলতায় পরিপূর্ণ। কি ব্যক্তি জীবন, কি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব জায়গায় পলিটক্স। কোথায় যেন শুনেছিলাম কেউ একজন বলেছিলো যে, তোমরা রাজনীতি করো কিন্তু পলিটিক্স করোনা। উনার মতে পলিটিক্স হলো নোংরা জিনিস। গ্রামীন পরিবেশে শৈশব কাটানো আমার জীবনটা ছিলো অনেক সহজ সরল। ছোট বেলায় যখন গ্রামে থাকতাম আমি খেলতে যেতাম সবার সাথে। আমার ঠিক উপরের বড় ভাইটি গ্রামীন কিছু খেলা ভালো খেলতে পারতো, যেমনঃ মার্বেল খেলা, দিয়াশলাইয়ের খোলস দিয়ে খেলা, তারপর পয়সা দিয়ে দান মারা 🙂 আমি এসব খুব একটা পারতাম না তবে আমার বড় ভাইয়ের জিনিস গুলো হাতে ধরে রাখতাম। এখন আর সেই ছোট নেই। দেশ ছেড়ে বহুদুরে।

ছোট বেলায় ভাবতাম হয় ডাক্তার হবো নয়ত ডক্টর হবো। আল্লাহ পরের আশাটা পুরন করার পথে। প্রায় ৫ বছর আছি গবেষনায়। ছা্ত্রহিসেবে আমি মধ্যবিত্ত 😛 তাই আমার মনের মত ল্যাবে কাজ করার সুযোগের চেষ্টা করতে পারিনি। একাডেমিক ছাত্র হিসেবে যেমন মধ্যবিত্ত অর্থনৈতিকভাবেও ছিলাম মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন ছোট সদস্য। বিদেশে আসার কিছুদিন পরই চিন্তায় পরে গেলাম কি করা যায়, জীবনের সংগ্রামে পড়ে গেলাম। দেশে থাকলে হয়ত বিসিএস এ একটা পজিশন নিতাম। সুতরাং পিএইচডি পজিশনটা পাওয়া সোনর হরিনের মত হয়ে উঠলো। আল্লাহর রহমতে পেয়ে গেলাম। আলহামদুলিল্লাহ! ল্যাব সুপারভাইজর মানুষ হিসেবে ভালো।

তবে গবেষনার কাজ শুরু করার কিছুদিন পর কিছু কিছু বিষয় বুঝতে পারলাম, যে গবেষনায় ধরন আলাদা হলেও রাজনীতি আছে। আর একটি জিনিস বুঝলাম গবেষনা যেমন একটি প্যাশনের ব্যাপার তবে অনেক মানুষ আছে গবেষনা করে শখের বশে, অথবা কেউ করে ব্যবসা হিসেবে। নিজের পাবলিকেশনে দেখবেন আর একজন প্রথম অথার হয়ে বসে আছে। খুব পরিশ্রম করে কাজ করলেন প্রফেসর এসে বললো তাড়াতাড়ি ডিফেন্স দাও। ৪ বছরের কাজ ৩ বছরে শেষ করলাম, যাতে করে শেষ বছরটায় আরো বেশি কাজ করে আরো ভালো একটি পাবলিশন করা যায়, দেখা গেল প্রফেসর এসে বলছে জলদি ডিফেন্স দাও। মধ্যবি্ত্তের বিড়ম্বনা! 😛

জীবনের প্রতিটি জিনিসের মধ্যেই জটিলতা, পলিটিক্স আর বিড়ম্বনায় ভরপুর। সে তুলনায় আগের গ্রামীন জীবনকে আমার কাজে বেশি সরল মনেহয়। কারন সেখানকার মানুষগুলো অল্পতেই জীবনে সূখী হতে পারে। তবে ইদানিং শহুরে পলিটিক্সের ছোয়া গ্রামে লাগার কারনে গ্রামীন সমাজের সৌন্দর্য্য নষ্ট হয়ে গেছে।
তবে যাহাই ঘটুক জীবনকে উপভোগ করতে পারার মধ্যে প্রকৃত সূখ নিহিত। জীবনে পাওয়া না পাওয়ার হিসেব না করে শুধু সামনে এগুনোর মধ্যেই সফলতা। জীবনকে কারো সাথে তুলনা না করে নিজের জীবনকে নিজের মতে করে যাপন করার মধ্যে ই মূলতঃ প্রকৃত শান্তি। প্রত্যেকটি মানুষ আলাদা, প্রত্যেকটি মানুষের পেছনের ইতিহাস, পেছনের পরিবেশ আলাদা। সুতরাং প্রত্যেকটি মানুষের আউটকাম ও আলাদা হবে, সবার আউটকামের তাৎপর্য্যও আলাদা। তবে সমাজের সব মানুষের কাজের তাৎপর্য আছে তাই সবার কাজকে সবার সন্মান করা উচিত।

যেখানে যাই ঘটুক গবেষনার ল্যাব গুলো থেকে পলিটিক্স দুরে থাক এই কামনা করি। 😉

জীবনবোধ

মোবাইলের হেডফোনটা পকেটে রাখার পর প্রয়োজনের সময় বের করলে অনেক প্যাচ/জট লেগে যায়। মাথায়ই আসেনা এত প্যাচ কেমনে লাগে! মনেহয় বাবুই পাখির বাসার মত প্যাচ।আমাদের ল্যাবের আর একজন ৪৬ বছর বয়সী পিএইচডি স্টুডেন্টকে জট গুলো দেখানোর পর সে তার হেডসেট টা দেখালো সুন্দর করে সাজানো। সে বললো এভাবেই সে পকেটে রাখে। আমার এক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু প্রতি ইয়ারে দেখেছি নোট গুছিয়ে রাখতো। এভাবে গুছিয়ে রাখার কারনেই তার রেজাল্ট ভালো হতো। যদিও অগোছালো মানুষগুলোর মাথায় বুদ্ধি বেশি থাকে, কারন অগোছালো মানুষগুলো একটু ড্যাম কেয়ারের হয়, সিচুয়েশন মানিয়ে নিতে পারে, স্ট্রেস নিতে পারে। তবে সাজানো গুছানো লাইফে ঝক্কি ঝামেলা হয় খুব কমই।
 
গুছিয়ে না রাখলে হেডফোনটা বের করে জট খুলতেই অনেক সময় চলে যায়, জীবনকে গুছিয়ে রাখতে না পারলে জীবন নানা জটের মধ্যে পড়ে যায়। একটার পর আর একটা জটে,জীবনের ক্ষয় হতে থাকে। সময়ের কাজ তাই সময়ে করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবন নানা জটের পাকে ঘুরতে থাকে, মানুষ জট থেকে বের হওয়ার সংগ্রামে তখন ছুটতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু জট থেকে মুক্ত হওয়া তখন আর হয়ে উঠেনা। এক জট থেকে র এক জট।
 
২০ এর পরে জীবনবোধ আর ৩০ পেরিয়ে জীবনবোধের যে বিশাল পার্থক্য সেটি কেবল বয়স হলেই বুঝা সম্ভব। ২০ এর জীবনবোধ হলো ঝড়ো বাতাসে উড়ন্ত ঘুড়ির মত। রোমাঞ্চ আর উত্তজনায় ভরপুর, কখনও মনেহয় হয়ত ফেটেই যাবে বাতাসে, কখনও একদিন তো কখনও আর একদিন, এই বুঝি সুতা ছেড়ে উড়ে পরে যায় কোথাও তারপরও ভ্রুক্ষেপ থাকেনা কোথাও।
 
আর ৩০ এর জীবনবোধ হলো, মৃদু কোমল বাতাসে উড়ন্ত ঘুড়ি, যার মধ্যে উত্তজনা কম, শুধু উড়তেই থাকে তার মধ্যে পড়ে যাওয়ার লক্ষন খুব একটা দেখা যায় না যদি সুতাটা মজবুদ থাকে তো।
 
মানুষ ইচ্ছে করলেও হয়ত তার পূর্বের সময়ে ফিরতে পারে না। আর শৈশবও হয়ত হারিয়ে যায় কালের গর্ভে, কারন সব প্রজন্মের শৈশব এক হয় না। এখনো ভাবি গ্রামে বর্ষার টইটুম্বুর পানিতে কলা গাছের ভেলায় চড়িয়ে কাটানো শৈশবের আনন্দ এখনকার সময়ের শৈশব হয়ত পুকুরের পানিতে ডুবে উপভোগ করার চেষ্টা করে।
 
জীবনবোধটি আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস।
 
সবার জীবন সাজানো গুছানো হোক, জীবনের জট কাটিয়ে জীবন টা সবার সহজ সরল হোক, এই কামনা করি।

স্নো (তুষাঢ়) প্রেমিক এবং কাদা প্রেমিক

শৈশব কেটেছে গ্রামে, তাই গ্রাম আমার প্রানকে যেন উজ্জ্বিবীত করে তোলে। গ্রাম ছেড়ে শহরমূখী হতে হয়েছিলো যখন আমি ক্লাশ ফোরের ছাত্র। এরপর যখনই গ্রামে যেতাম গিয়ে প্রথমে আমাদের পুকুরপাড়ে যেতাম সেখানে দাড়িয়ে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ধানক্ষেত দেখলে মনের মধ্যে অন্যরকম এক শান্তি বয়ে আসত। এরপরই দেখতাম আমার লাগানো গাছ গুলো কেমন আছে, গাছগুলোকে এখনো অনেক মিস করি, দেশে গেলে গ্রামে যাই শুধুমাত্র গাছগুলোকে দেখার জন্য। সবুজ গাছ আমার প্রয়ি আর বাংলার আকাশের নীল। যখন ছোট ছিলাম বর্ষায় গ্রামে মাছ ধরতে যেতাম কাদা মাখা ক্ষেতে। মাঝে মাঝে জমি কর্দমাক্ত করে হা-ডু-ডু খেলতাম তার আনন্দ বলে শেষ করা যাবেনা। সেই সময়ের আনন্দগুলো ছিলো অনেক প্রানবন্ত। আর শহুরে আনন্দ হলো ভুতুরে।

সেই প্রানের গ্রাম সোনার দেশ ছেড়ে বহুদুরে আললান্টিকের পাড়ে, বাল্টিকের তীড়ে পরে আছি বেশ ক বছর। বিদেশে আসা আমার কাছে বাড়তি কোন আনন্দ বয়ে আনেনি কখনও। কেনো জানি আমার কাছে এটি বিশেষ কোনো ব্যাপার মনে হয় না। কারন সংক্ষিপ্ত এই জীবনে কোথাও স্থায়ী থাকার সুযোগ নেই, কারন আমাদের মৃত্যু অবধারিত। সুতরাং কোথায় আছি এটির চেয়ে কেমন আছি তা খুব বেশি বিবেচ্য। এই বিবেচনা যদি আমরা উল্টো করে করি তাহলেই আমরা আমাদের শান্ত মনকে না পাওয়ার বদনায় ভিজিয়ে দেই।

বিদেশে আসার পর তুষাঢ় পড়া জিনিসটি নিয়ে মাঝে মাঝে মনেহয় একটু লিখবো। প্রায়ই দেখা যায় বিদেশে বসবাসরত বাংগালীরা তুষাঢ়কেই যেন জীবনের সবচেয়ে বড় বেশি পাওয়া মনে করে। স্নো পড়ার সাথে স্নোর সাথে নিজেদের বিভিন্ন আংগীকে ছবি মনেহয় স্নোর উপর হাটতে পারাতেই জীবনের চরম সার্থকতা। আসলে এগুলো মাঝে মাঝে আমাদের হীনমন্যতাই প্রকাশ করে। বিদেশে বসবাস করার সময় বিদেশের জিনিসগুলোকে আমরা যেভাবে গুরুত্বদিয়ে প্রকাশ করি অথচ তারচেয়ে কয়েক গুন সুন্দর জিনিস আমাদের বাংলাদেশের আনাচে কানাচে পড়ে থাকে। আমরা এগুলোতে নিজেদের সন্মান মনে করতে পারি না, আর একটি প্রধান কারন হলো আমরা নিজেদের সন্মান করতে শিখিনা। আমাদের মধ্যে আত্নশ্রদ্ধাবোধের চরম ঘাটতি। এরফলে আমাদের দেশের সুন্দর গ্রামগুলোর যে সৌন্দর্য্য সেগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমরা খুব বেশি বড় মনেকরি না। এর কারন হলো আমরা আমাদের যা আছে সেটিকে সন্মান করিনা। আর এটি করতে না পারা বা করতে না শেখার কারনেই আমরা অনেক সময় কারন ছাড়াই দুঃখী হয়ে যাই। আমারতো মনেহয় বাংলাদেশের মত সুন্দর এক দেশে জন্ম এর জন্যই সূখি হওয়া উচিত। বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থা নেই, বোমাবাজী নেই, হিন্দু-মুসলমান বা ধর্মে ধর্মে মারামারি নেই গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষগুলো অল্পতে কিভাবে সুখী থাকা যায় তার জ্বলন্ত উদাহরন।

গ্রাম যখন মাঠভরে ধানক্ষেতে ভরে যায় তখন তার উপরে বাতাসের তরংগ অদ্ভূত সুন্দর এক পরিবেশের সৃষ্টি করে। পড়ন্ত বিকেলে সবুজ মাঠের উপর গ্রামীন ছেলেগুলোর খেলাধুলার মধ্যেও এক ধরনের প্রশান্তি। শেষ বিকেলে গ্রামমিন আকাসে বাড়ি ফেরা পাখীদের ঝাক আর কলরব এক স্বর্গীয় পরিবেশের তৈরী করে। আমরা অবশ্য এগুলো ভূলতে বসেছি এক অজানা চাওয়ার কারনে, আমরা ভাবি দেশান্তরী হলেই শান্তি অবশ্য কারনো আছে কারন মানুষ, সমাজ যখন অর্থকে বেশি বেশি সন্মান দেয়া শুরু করে, সমাজে যখন সন্মানের জায়গায় প্রভাব-প্রতিপত্তির বিস্তার ও প্রতিযোগিতা শুরু হয় তখন মানুষের মধ্যে টাকাওয়ালা হওয়ার বাসনা মানুষের মনের সৌন্দর্য্য কে নষ্ট করে দেয় ফলে মানসিক সৌন্দর্য্যহীন এক গ্রামীন সমাজ গড়ে উঠে। ফলে হারিয়ে যায় গ্রামীন সমাজের মূল ভিত্তি ভ্রাতৃত্ববোধ।

আমাদের গ্রামকে নিয়ে কাজ করতে হবে, বাংলাদেশের সমাজের মূল ভিত্তি যে গ্রামীন ট্রাডিশন সেগুলোকে ফিরিয়ে আনতে হবে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষের যে ঐতিহ্যগত গ্রাম সেটি ফিরে আসবে। হয়ত আবার কোন কবি কবিতা লিখবে “ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড় ছোট ছোট গ্রামগুলি”।

গ্রামীন সমাজের সৌন্দয্য ফিরিয়ে আনতে হলে, আইনের শাসনের পাশাপাশি গ্রামীন সমাজে বিনিয়োগের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে। গ্রামীন স্কুল কলেজগুলোতে গ্রামীন ট্রাডিশনগুলোর উপর আলোচনা, সংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সেই বোধগুলোকে ফিরিয়ে আনার বা ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই মানুষ একটুখানি শান্তি স্বস্তির জন্য গ্রামকেই বেছে নিবে।

তিন তরুনের পায়ে পুলিশের গুলি আমার প্রতিক্রিয়া

তোমরা পারো না তাইলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দাও। কিন্তু দেশের সম্ভাবনাময় তরুনদের পংগু করে তো জাতির ভবিষ্যতকেই পংগু করে দিচ্ছো। জাতির বিবেক এখন ফেরারী আসামী। কার্তুজে ভরা বন্দুকের নল প্রতিপক্ষ দলের তরুনের পায়ের গোড়ালী নয়ত বা পাজরের দিকে আজ হায়েনার হিংস্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে….

অনেকদিন আগে একটি নাটক দেখেছিলাম। শান্ত স্বভাবের এক তরুনের জীবন নিয়ে ছোট একটি সিকুয়েন্স ছিলো। তরুনটি ছিলো অনেক শান্ত স্বভাবের কারো সাথে উচ্চস্বরে কথা বলতো না। কেউ তাকে খারাপ কথা বললেও এড়িয়ে চলত। হঠাৎ তরুনটির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র চলে আসে। অস্ত্র হাতে আসার সাথে সাথে শান্ত তরুনটির মেজাজ কেমন জানি বদলে গেলো। সামান্য ব্যাপারে তার রাগ, ক্রোধ প্রকাশ পেতে থাকলো। কথায় কথায় সেই আগ্নেয়াস্ত্রের গরম তার আচরনে প্রকাশ পেতে থাকলো এভাবেই একদিন সে অপরাধী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরলো।

পুলিশের হাতে অস্ত্র থাকার কারনে তাদের বেশি দ্বায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তাদের পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রাখা উচিত, যাতে করে নিজেদের রাগ-ক্রোধকে দমন করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। তাদের উপর যে দ্বায়িত্ব তার গুরুত্বও অনেক বেশি। তাই অস্ত্রধারী এসব বাহিনীর মানুষদের বেশি বেশি মনুষ্যত্ববোধের ট্রেনিং থাকা উচিত।

সুইডেন পুলিশদের দেখলে মনেহয় মাটির মানুষ। বিশেষ করে কোথাও কোনো ইয়াং ছেলে বেয়াদবি করলে, বা ট্রেনে কেউ কাউকে ডিসটার্ব করলে পুলিশের আচরন গুলো দেখলে মনেহয় ইশ! বাংলাদেশের পুলিশ গুলো যদি এমন হতো? সুইডিশ পুলিশদেরকে কারো গায়ে হাত দিতে ও দেখিনি। কেউ বেয়াদবি করলে পুলিশ কত সময় নিয়ে যে বোঝায় দেখলেই ভালো লাগে। পুলিশদের মধ্যে ধৈর্য্য, সহনশীলতা চোখে পড়ার মত। পুলিশের এমনই হওয়া উচিত। এখানে পুলিশ হয় মানুষের সেবা করতে, বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ হয়, টাকা আর ক্ষমতার জন্য (যদিও পুলিশদের অনেক কষ্ট করতে হয়), এই জন্যই পুলিশের জবের উদ্দেশ্যকে সার্ভ না করে নিজেদের খায়েস পুরুনে সদা ব্যস্ত থাকে বেশির ভাগ পুলিশ। এটিও হয় সমাজের দৃষ্টিভংগির কারনে। বাংলাদেশে টাকা না জমালে, ক্ষমতা না থাকলে জীবনকে সিকিউর মনেকরা হয় না। অথচ দৃষ্টিভংগির একটু পরিবর্তন ঘটালেই জীবনের নিরাপত্তাবোধের যে ধারনা সেটিরও পরিবর্তন হতে পারে।

পুলিশের জব যে একটি দ্বায়িত্বপূর্ণ জব, এটাতে যেমন অনেক কষ্ট আছে, অনেক ক্ষমতাও আছে। একটু ইচ্ছে করলেই মানুষের অধিকার রক্ষা করায় যেমন সহজেই ঠিক তেমনি অধিকার হরন করাও যায় মূহুর্তেই। তাই মানুষ হিসেবে পুলিশের বেশি সচেতন হওয়া উচিত। পাশাপাশি সমাজের সব মানুষদেরও পুলিশকে সহযোগিতা ও সন্মান করা উচিত যাতে করে পুলিশরা কষ্টের পর নিজেদের ছোট না ভাবতে পারে। বাংলাদেশ সরকার পুলিশদের পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি অফিসারদের বেতন বাড়িয়ে দিয়ে বিশেষ সুবিধা দিতে পারে (যদিও এটি চিন্তা করা বাহুল্য) যাতে করে পুলিশরা অর্থের দিকে, রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে নিজেদের দ্বায়িত্ববোধ বাচিয়ে রাখতে পারে।

মানুষের ভিতর ভয়ানক একধরনের অস্ত্র আছে সেটি হলো পাশবিকতা। এই পাশবিকতাকে মানুষ নিয়ন্ত্রনে রাখে তার বিবেক নামক ভালোর প্রভাব দিয়ে। সমাজে যখন ন্যায় প্রতিষ্ঠিত থাকে তখন এসব ভালো মানুষের বিবেক তার পাশবিকতাকে নিয়ন্ত্রন করে ধৈর্য আর ক্ষমার মাধ্যমে। তবে সমাজে যখন বিশৃংখলা দেখা দেয়, যখন অন্যায়ের রাজত্ব কায়েম হতে থাকে, অন্যায় ভাবে যখন মানুষের বিবেককে আঘাতের পর আঘাত করে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়া হয়, তখন বিবেক হেরে যায় পাশবিকতার কাছে তখন মানুষ হিংস্র হয়ে উঠে প্রতিশোধের আগুনে। মানুষের যখন বেচে থাকা মৃত্যুর সমান হয়ে যায় তখন মানুষের মধ্যে “সারভাইভাল অফ দ্যা ফিটেস্ট নামক থিওরি” কাজ করে মানুষ সুস্থ্যভাবে বেচে থাকার এক অদম্য লড়াইয়ে নিজেকে সামীল করে আর তখন বন্দুকের নলের গুলি বের হওয়ার আগেই হয়ত নিরিহ মানুষগুলো হায়েনার মত নিজেদের রূপ দেখাতে শুরু করে বিবেক তখন চেয়ে চেয়ে দেখে পশুত্বের কাছে মানবিকতার পরাজয়কে আর শয়তান তখন দুরে দাড়িয়ে হাসে…..

আশাকরি সুদিন ফিরে আসবে, তরুন না নিশ্চিন্তে নিজেদের মত করে বাচার অধিকার ফিরে পারে…

সংগঠনের সমালোচনা ব্যক্তিগত অভিমতঃবাইয়াত

অনেক ভাই মাঝে মাঝেই বলে প্রানের সংগঠন। আমার কাছে বিষয়টি একটু খটকা লাগে যখন এই প্রানের সংগঠনের কথা বলতে গিয়ে প্রায়শঃ অনেকেই ইমোশনাল হয়ে পড়ে। তখন একটি ইকুয়েশন মেলানোর চেষ্টা করি

সংগঠন=ইসলাম ; এটা কি আসলেই একটি সঠিক ইকুয়েশন? ইকুয়াল হওয়া নিয়ে কি আমরা ভাবি??

সংগঠন বলতেই আমরা বেহুশ, আমার কাছে মনেহয় সংগঠনের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারনেই পলিটিক্স নামক ধুম্রজাল প্রায়শই আমাদের আমল এবং চিন্তার মাঝে ভেজাল ঢ়ুকে দেয়। সংগঠনকে অবশ্যই ভালোবাসতে হবে, কিন্তু সেটি অন্ধভাবে নয়। অন্ধভাবে ভালোবাসলে তো আমরা আবু জেহেল এবং আবু লাহাবদের মতই অন্ধ ভাবে বাপ-দাদা রেখে যাওয়া জিনিসকে আকড়ে ধরলাম।

ইসলাম গতিশীল, যারা বলে প্রানের সংগঠন তারা যদি প্রানের সংগঠনের জায়গায় প্রানের ইসলাম বলতো তাহলে বেশি ভালো শোনাতো। কারন হলো মানুষ বৈশিষ্ট্যগত ভাবে যা ভালোবেসে বড় হয় সেটাকেই বড় ভাবতে শেখে, ফলে যা কিছু সে বিচার করে সেই ছাকনির আলোকেই বিচার করে যা সে ধারনা লাভ করে আশেপাশের পরিবেশ থেকে। ফলে অনেক সময় সংগঠনের স্বার্থ এবং ইসলাম কিংবা আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরী হয়। মানুষের ভালোবাসার সংগঠনের গতিশীলতার জন্য, আমরা নিজের অজান্তেই অনেক কিছু মেনে নেই যা হয়ত রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের পরিপন্থী। আবার অনেক সময় এমনও দেখা যায় মতের অমিলের কারনে হয়ত অনেক সম্ভবনাময় কর্মীর মান উন্নয়ন কিংবা খুব ভালো আমলের কেউ দ্বায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এটি হয় কারন সংগঠনের স্বার্থ সবার আগে থাকে আর যেহেতু আমরা সংগঠনকে সেভাবেই ভালোবাসি তাই অনেক সময় সংগঠনের স্বার্থ বলতে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই বুঝি, কিন্তু সমস্যা দাড়ায় যদি সেই স্বার্থের আদায় রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের পথে না হয়। তখন হয়ত এসব মনে থাকেনা। আর সমালোচনা সেতো আনুগত্যের বড় খেলাপ।
To be muslim বইটির শেষ অধ্যায়ে বাইয়াতের গুরুত্ব নিয়ে কিছু লিখা আছে। লেখক সুন্দরভাবে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেছেন যে কাকে বাইয়াত দেয়া যাবে।

আবার বর্তমান সময়ে নানা ধরনের সংগঠন এবং নানা ধরনের মতভেদ, মত পার্থক্য তৈরী হওয়ায় বাইয়াত জিনিসটি একটি জটিল বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়। আমি হয়ত কেউ না এসব বলার। তবে কিছু প্রশ্নের উত্তর আমি খুজে ফিরি,

যেমন ধরুন আমি কোন ইসলামী সংগঠনের কাছে বাইয়াত নিলাম, যে আল্লাহর ও রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্য করব। করলাম ভাবোভাবে। এই দুই আনুগত্য নিয়ে হয়ত কারো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা দেয় সংগঠনের আনুগত্যএর ব্যাপারে। বাইয়াত নিয়ে অনেক সময় শুধুমাত্র মত পার্থক্যের কারনে বাইয়াত ছিনিয়ে নেয়া হয়। এখন প্রশ্ন হলো এই বাইয়াত ছিনিয়ে নেয়া বা বাতিল করার যোগ্যতা কারা রাখে?? আবার কেউ যদি কোন সংগঠন হতে বাইয়াত বাতিলে সম্মুখীন হয় সে যদি অন্য ইসলামী সংগঠনে যুক্ত হয় তাহলে সে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) এর বরখেলাপ করে কিনা??

আবার সে যদি অন্য ইসলামী সংগঠনে যুক্ত হয় তাহলে আগের সংগঠনের সেই উখুয়াতের আদর্শে উদ্ভুদ্ধ ভ্রাতৃসকল তাকে কিভাবে দেখে?? এগুলো আসলেই জটিল সাংগাঠনিক বিষয়। যদিও আমার মত ছোট ক্লাশের মানুষের কাছে এগুলো বোধগম্য নয় তবে মাঝে মাঝে এই বাইয়াত জিনিসটা ধাধায় ফেলে দেয় । আবার যখন তখন যখন কারো বাইয়াত কেড়ে নেয়া হয়, তখন এই ধাধা আরো বেড়ে যায়। যেমন ধরুন, আমি একটি ইসলামি সংগঠন যুক্ত থাকলাম বাইয়াত নিলাম, যদি আমি আর একটি ইসলামী সংগঠনে প্রোগ্রামে যাই এবং সেখানে যদি রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের বরখেলাম হয় এমন ঘটনা না হয় তাহলে আমার বাইয়াত কেড়ে নেয়া যাবে কিনা, বা নিলে সেটিও রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের সাথে যায় কিনা? এই বাইয়াত দেয়া এবং নেয়াকে যদি দুভাবে ভাগ করা যায়, এবং সেভাবে বিষয় গুলো দেখা হয় তাহলে প্রশ্ন কম তৈরী হবে, বাইয়াত আর ছেলেখেলার বিষয় মনে হবে না।

যেমন বাইয়াতকে দুই ভাগে ভাগ করা যাইতে পারে…।
১) সাংগাঠনিক শৃংখলা মেনে নেয়ার বাইয়াত
২) আল্লাহ এবং রাসুল (সাঃ) কে সর্বোতভাবে মেনে চলার বাইয়াত।

যদিও কেউ সাংগাঠনিক কোন শৃংখলা ভংগ করে তাহলে সেটিকে সাংগাঠনিক বাইয়াত নাম দিয়ে সেটির মুল্যয়ন করা যেতে পারে। আর কেউ যদি সাংগঠনের কাজ করার সময় আল্লাহ এবং রাসুল (সাঃ) আনুগত্যের কোন বরখেলাপ করে তাহলে তার মূল্যয়ন অন্যভাবে হওয়া উচিত। তাহলে একটি বিষয় ভালো হবে, সাংগাঠনিক ভাইয়াত কেড়ে নিলেও কেউ সংগঠন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেনা। তানা হলে, সংগঠনের সিন্ধান্তের বাইরে গেলে যে ইসলামের বাইরে চলে গেলো এমন একটি মনোভাব কর্মীদের মধ্যে তৈরী এবং এই কর্মীরা যখন দ্বায়িত্বশীল হয় তখন এটি আরো বেশি প্রভাব বিস্তার করে।

 

ইনশাল্লাহ এই বিষয় নিয়ে কুরআন এবং হাদীস নিয়ে স্ট্যাডি করার ইচ্ছে আছে।

স্ট্যানডার্ড যখন দূষিত হয় তখন দূষনহীন কোন কিছু খুজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্ট্যানডার্ড যখন দূষিত হয় তখন দূষনহীন কোন কিছু খুজে পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্তমান সময়ে অনুকরনীয় আদর্শ খুজে পাওয়া দুষ্কর। সেটা ধর্মভিত্তিকই হোক আর রাজনৈতিক ই হোক। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম সহজ লভ্য হওয়ায়, তথ্যের বিনিময় সহজলভ্য হওয়ার ফলে মানুষের থিওরীটিক্যাল জ্ঞানের সাথে প্রাকটিক্যাল জ্ঞানের ব্যবধান ক্রমশ বর্ধমান। ফলে একজন মানুষ যখন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়, বা চলার পথে বাধার সম্মুখীন হয় তখন সে প্রাকটিক্যাল জ্ঞানের ভিত্তিতে রিএ্যাকট করার পরিবর্তে থিওরীটিক্যাল জ্ঞানের ভিত্তিতে রিএ্যাক্ট করে ফলে অনেক ক্ষেত্রে মানুষের দ্বারা ভূল ব্যাখ্যা উপস্থাপিত হয় যেটি হয়ত স্ট্যানডার্ড বা আদর্শ কোন কিছু থেকে অনেক দুরে। মানুষ যখন কোন জ্ঞানকে নিজের মধ্যে প্রতিফলিত করতে পারে তখন সে সেই জ্ঞানের ধারক হয়ে যায় তখন তার সামনে সেই জ্ঞান সম্পর্কিত কোন কিছু সামনে আসলে সে আত্নীকৃত জ্ঞানের আলোকে তার মোকাবেলা করে, ফলে তখন আদর্শ বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। অপর পক্ষে মানুষ সৃষ্টিগতভাবে প্রানী শ্রেনির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে যদি সে জ্ঞানকে নিজের মধ্যে প্রতিফলিত না করে তাহলে কোন কিছু তার সামনে আসলে সে প্রানীসূলভ আচরনে তার মোকাবেলা করে ফলে সেসব ক্ষেত্রে মানুষের প্রানীগত আচরনের বৈশিষ্ট্যগুলো প্রতিফলিত হয়। মানুষ প্রানী হওয়ার মানুষ অনুকরনীয়, তাই মানুষের সামনে যথাযথ আদর্শের উপস্থিত না থাকলে মানুষ অনুকরন করার তেমন খুজে পায় না ফলে ভূল পথে পা ফেলার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আবার জ্ঞানের সহজলভ্যতায় মানুষ আদর্শ সম্বন্ধে অবগত হয়েও তার সঠিক এবং পূর্ণাংগ উপস্থিতি না থাকায় মানুষ অনুকরন এবং অনুসরন করা থেকে বিরত থাকে। আর এই আদর্শের পূর্নাংগ উপস্থিতি না থাকার প্রধান কারন হিসেবে আমার মনেহয় আমাদের অর্জিত জ্ঞানের সাথে চরিত্রে প্রতিফলিত জ্ঞানের ব্যবধান। ফলে নেতার কোন কর্মী নেতার অবর্তমানে কিংবা কোন সাধারন মানুষ অগোচরে নেতার গীবত করে। কারন কথিত আদর্শের বাণী থেকে নেতার চারিত্রিক বিচ্যুততা।

সুতরাং পৃথিবীকে একটি সুন্দর বাসযোগ্য ভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের মধ্যে আদর্শের সঠিক চর্চা করা দরকার। এবং নিজেদেরকে বাস্তব আদর্শ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে মানুষ তাদের সামনে অনুসরনীয় কিছু খুজে পাবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যাদের যোগ্যতা আছে তাদের অনুসরনীয় আদর্শিক মানুষ হওয়ার তৌফিক দিন।

চায়ের একটি বিশেষ রেসিপি।

যারা চা পানে বিরক্ত, চায়ের নেশা ছাড়তে কষ্ট হচ্ছে নতুন কিছু ভাবছেন। তাদের জন্য চায়ের একটি বিশেষ রেসিপি।

লাইম বা বাংলায় যেটাকে আমরা পাতি লেবু বলে জানি তবে যদি ব্ল্যাল পাতি লেবু পাওয়া তাহলে আরো বেশি টেষ্টি হবে। কালোটিতে একটু তেল তেলে ভাব থাকে। যারা দেশের বাহিরে আছেন তারা খুব সহজেই পেয়ে যাবেন ড্রাইড ব্লাক লাইম। আর যদি কালোটি না পান তাহলে সবুজটি দিয়ে একবার টেষ্ট করে দেখতে পারেন। যাদের বাড়িতে পাতি লেবুর গাছ আছে তারা লেবু রোদে শুকিয়ে ফেলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন।

প্রথমে পানি গরম করে নিন তারপর সেই গরম পানিতে শুকনা লেবুটি টুকরা করে দিয়ে দিন কিছুক্ষন ভালোভাবে সিদ্ধ করুন। দেখবেন যখন পানি ফুটছে তখন পাত্রটি নামিয়ে রাখুন তাহলে টুকরা গুলো নিচে বসে যাবে তখন আপনার চা রেডি। ডায়াবেটিস রোগীরা চিনি ছাড়া পান করবেন।

unnameddried-limes-75g-limu-omani-limoo-omani-black-lime-6716-p

SONY DSC

dried-black-lime

এই চা পানের উপকারীতা,
চায়ের রাসায়নিক উপাদান থেকে আপনি দুরে থাকতে পারবেন। চায়ের মধ্যে অতিরিক্ত লেবু ব্যবহার না করলেও চলবে। এটি আপনাকে কিনতে হবে না বাড়ির লেবু ব্যবহার করতে পারেন। ঠান্ডাজনিত রোগে এটি অনেক উপকারী। নিচে চায়ের রং দেখলে আপনার মনেই হবে না যে আপনি অন্য কিছু পান করছেন, মনে হবে লেবু চা। সুতরাং আজই ট্রাই করুন। নিচে আপনাদের জন্য তৈরী চায়ের ছবি ও লেবুর ছবি দেয়া হলো।

শিরোনামহীন ভাবনা

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো মায়ের পেট/গর্ভ। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরিহ, পাপহীন মাসুম হলো গর্ভের বাচ্চা। যাদের সন্ত্রাসের কারন মায়ের পেটের বাচ্চা রেহাই পায় না তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। মজার বিষয় এসব সন্ত্রাসীই দেশে এখন পুলিশের আশ্রয়ে অপরাধ করে সদর্পে ঘুরে বেরাচ্ছা। আর নিরীহ স্কুল মাদ্রাসায় পড়া ছোট ছোট শিশু বালককে অ্যারেষ্ট করে জেলে নেয়া হচ্ছে।

দেশে গিয়েছিলাম, অনেকেই বললো ডিবি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে তোকে অ্যারেষ্ট করে মামলা দিবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার এলাকার ছোট ভাই দেশে গিয়ে শুনি সে আমারই এলাকার যুবলীগের ইউনিয়ন সভাপতি তাকে ফোন দিলাম। সে বললো ভাই বাসায় থাইকেন না একটু নিরাপদে থাকেন। এরপর আইনশৃংখলা বাহিনীতে কর্মরত এক ফ্রেন্ডকে বললাম দোস্ত এই অবস্থা পুলিশ হয়রানি করছে, তারা ভাসায় শিবির করলেই কেন পুলিশ হয়রানি করবে। শিবির যে কেউ করতেই পারে। বন্ধু হয়ত কাজে অনেক ব্যস্ত থাকে হয়ত দেশের প্রতিদিনের খবরের কাগজ পড়ার সময় খুব কম পায়। যাহোক এক বন্ধুর আত্নীয় এক এআইজির কাছে গিয়ে কথা বলার সুযোগ হলো। উনি ভালো পরামর্শ দিলেন কিন্তু যখন বললাম যে মামা পুলিশ আমাকে হয়রানি করছে, আমার নামে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে পুলিশ সেগুলোকে সঠিক মনে করেই হয়রানি করছে। সেই এআইজি মামার ভাষায় দেশের অবস্থা এমন হয়ে যায়নি মানুষ পুলিশকে যা বলবে পুলিশ তাই বিশ্বাস করবে। কি করে উনাকে বুঝাবো আমার অবস্থা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা। হয়ত উনিও অনেক ব্যস্ত থাকেন কাজে সময় পান না পত্রিকা পড়তে। এত বড় মানুষ সময় কম পাওয়াই স্বাভাবিক।

মনেপড়ে গেলো ইসলামের স্বর্ণযুগের মুসলিম শাসকদের কথা।
সে সময় মুসলিমদের জয় জয়কার। বিশাল এক সাম্রাজ্যর শাসক ছিলেন মুসলিম শাসক রা তারপর প্রত্যেকটি নাগরিকের জানমানের ব্যাপারে তারা ছিলেন সজাগ।

গতকাল শুনলাম খুলনায় ১৫০ জন মাদ্রাসার ছাত্রকে অ্যারেষ্ট করে জেলে নিয়ে গেছেন ক্ষমতাধর পুলিশ বাহিনী। এই ছাত্রগুলোর অপরাধ কি হয়ত পুলিশ নিজেও জানেনা। যাহোক হয়ত এই ছাত্ররাই মানুষের মধ্যে পড়ে না।

আমার এলাকার এক ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, নাম রাসেল। বেশ কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের ছেলেরা দিন দুপুরে পুলিশের সামনেই তার একটা পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তার অপরাধ শিবির করে সে। তার পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাকেই পুলিশ রা অ্যারেষ্ট করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে দেশে গেলে সৈয়দপুরে ছেলে হিসেবে তার সাথে পরিচয় হলো, আমাকে তার আতংকের কথা জানালো যে ভাই দেশে থাকলে আমারে আবার ধরে নিয়ে যাবে একটু সাহায্য করেন। আমি ভেবেছিলাম দেশে এখনও কিছু ভালো মানুষ আছে ছেলেটা তরুন বয়ষে পা হারালো আবার তাকে কেন জেলে নিয়ে যাবে। দুদিন পর জানালো ভাই অনেক ভয়ে পরীক্ষা দি্চ্ছি ছাত্রলীগের ছেলেরা আমারে মেরে ফেলার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রেও আসে। যাহোক দু-মাস আগে শুনলাম পরীক্ষা দিতে গিয়ে পুলিশ তাকে অ্যারেষ্ট করে জেলে দিয়েছে।
প্রশ্ন হলো যারা তার পা টা বিচ্ছিন্ন করলো তাদের শাস্তি কে দিবে? পুলিশ যদি নিজেদের মানুষ মনে করে তাহলে তাদের মনে এসব অন্যায় হয়ত বিবেক কে নাড়া দেয়ার কথা। পুলিশরা ব্যস্ত সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে তাই যারা অসহায় তাদের হৃদয়ের কান্না পুলিশের হৃদয়ে পৌছানোর মত উপায় নেই।

মাঝে মাঝে কিছু ভাইয়ের অসহায়ত্ব দেখে, কাহিনী শুনে সত্যি কান্না চলে আসে। যে আসলেই কি আমরা মানুষ। আওয়ামী লীগ হোক আর শিবির ই হোক সবাইতো এক দেশের সন্তান।

যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন ৪ দলীয় জোট ক্ষমতায়। ক্যাম্পাসে শিবিরের মিছিল দেখেলেই বুঝা যেত মানুষ আসলেই শিবিরকে কত ভালোবাসে। এই ভালোবাসা ক্ষমতার নয়, এই ভালোবাসা নিরাপদ বোধের আর এই নিরাপত্তা জীবনের মান-সন্মানের। শিবির ক্যাম্পাসে থাকলে অনৈতিক কাজ কম হয়। এই কারনেই অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদ্রাসা বলত। আমার ক্যাম্পাসে পড়াকালীন সময়ে সৈয়দ আমীর আলী হলে ছিলাম ঐ হলে ছাত্রলীগের অনেক ছেলে ছিলো কিন্তু কখনও শুনিনি শিবিরের কেউ তাদের গায়ে হাত তুলেছে। মজার বিষয় হলো আমার রূমমেট ছিলো শিবিরের ব্লগ সভাপতি তার মামাতো ভাই নাম ফিরোজ দিনাজপুর বাড়ি তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ করত, সেটি সেই সময়ের হল সভাপতি কুষ্টিয়ার আক্তার ভাইও ভালো করে জানতেন বরং উনি এসে ফাজলামি করতেন যে এরা ঘষা আওয়ামী লীগ কখনও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। সেই ফিরোজ শিবিরের সীটে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয় চান্সও পায় ম্যানেজেমেন্টে সেই ফিরোজই পড়ে আমীর আলী হলের ছাত্রলীগের আহবায়ক হওয়ার জন্য লবিং গ্রুপিং করে পড়ে সেই ক্যাম্পাসে শিবিরতো বটে সাধারন ছাত্রদের জন্য আতংক হয়ে দাড়ায় তার নাম হয় পেড়েক ফিরোজ। কারন চাদা না পেলে সে নাকি গায়ে পেড়েক মারত।

ঐ সময়ে হলে অনেকেই ছিলো ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো কিন্তু কেউ কারো দ্বারা আঘাত পেয়েছে বলে শুনিনি। অথচ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর শিবিরের নিরীহ ছেলেদের মেরে তাদেরই আবার পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা অহরহই ঘটছে। এসব ঘটনায় সাধারন ছাত্রও বাদ যাচ্ছে না।

আমার এলাকার ছেলে হায়দার আলী আমাকে মামা বলে ডাকে। বেচারা কোন রাজনীতিই করতো না অথচ ছাত্রলীগ তাকেও শিবির বলে ধরিয়ে দেয় এখন বিসিএস পেয়েও বেচারার চাকরী হচ্ছে না। ভাইভার রেজাল্ট নাকি আটকিয়ে রেখেছে। এসব ঘটনার সাথে পুলিশ অতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ পুলিশের কাছে এসব খবর নাকি পৌছায় না।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের রাজনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশকে জাতিগতভাবে সংকটে ফেলতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রতাক্ষভূমিকা রাখছে। সমাজে এক শ্রেনীর মানুষ এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছে, বাড়ীছাড়া হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে অসংখ্যা মানুষ।

আওয়ামীলীগের শিক্ষিত ভালো মানুষ গুলোর উচিত, এমন নোংরা রাজনীতি না করা। রাজনীতিকে আদর্শ দিয়ে, নিজেদের কাজ দিয়ে মোকাবেলার চেষ্টা করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুলিশকে আরো ক্ষমতাধর করুক। তাদের কানকে বড় করে দিন। তাদের মধ্যে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের দ্বায়িতবোধকে বাড়িয়ে দিন এই কামনা করি।

সবশেষে, আমার এক বন্ধু আমার ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে ক্যানাডা থেকে ফোন দিয়ে বলছে শোন; দেশকে নিয়ে ভাবার জন্য ১৬ কোটি মানুষ আছে, তুই বিদেশে আছিস বাইরে থাকার চেষ্টা কর দেশের জন্য চিন্তা বাদ দে”

বর্তমান অবস্থায় তার পরামর্শ সত্যিই অনেক ভালো। কিন্তু গ্রাম বাংলায় বেড়ে উঠা মানুষগুলো তাদের মাতৃভূমির প্রতি আসক্তি কি সহজেই ছাড়তে পারে? যেদিন সমাজের ভালোমানুষ গুলো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভূলে সম্মিলিত কন্ঠে অন্যায়কে অন্যায় বলবে, ন্যায়ের জয়গান গাইবে, মানবতার জন্য কাজ করবে সমাজের সবাইকে নিজেদের মত একজন মনে করবে। সেদিনই মানবতার জয় হবে, সেদিন ই আমরা সভ্য বাংলাদেশি হতে পারব।

ডাঃ মীম এবং সালমা ইসলামঃ বাংলাদেশ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে খবরটি নিয়ে অনেক মাতামাতি চলছে। আমার কাছে ঘটনাটি খুবই স্বাভাবিক মনে হয়েছে। আমরা যখন আমাদের অজান্তেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই তখন সেই অন্যায়যে আমাদের দিকে ধাবিত হয়ে আসবেনা এটা আশা করা নিতান্তই বোকামী।

ডাঃ মীম এবং সালমা ইসলাম সমাজের দুটি চরিত্র। এই চরিত্র দুটির মধ্যে একটি চরিত্র সালমা ইসলাম আমাদেরই সৃষ্টি। আমাদের কারো ভোটে তিনি আমাদের মানে সমাজ নিয়ন্ত্রকদের একজন। আমরা যখন নীতিহীন মানুষদের নির্বাচিত করি, যখন ভোটের উল্লাসে শরীক হয়ে আমরা আনন্দে মেতে উঠি তখন হয়ত খেয়াল করিনা এই নীতিহীন মানুষগুলোর নখের আচড় একদিন আমাকে আপনাকে রক্তাক্ত করতে পারে।
প্রতিবাদ করতে হলে, অন্যায়কে সমাজ থেকে দূর করতে হলে অন্যা্য়ের প্রতিবাদে যদি আপন পর ভাবনা তৈরী করেন তাহলে সেটি সমাজ থেকে দূর হবে না। এর শিকার সবাইকেই হতে হবে। আজকে আমি আগামীতে আপনি। কারন নীতিহীন, মানুষরূপী হায়েনাদের চরিত্র একই থাকে। সমাজে আপনার চারপাশের মানুষ গুলো যখন অন্যায়ের শিকার হয়, যখন অন্যায়ভাবে নিরিহ তরুনদের ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালানো হয়, যখন ক্রস ফায়ারের নামে কোন মায়ের বুকের সন্তানকে কেড়ে নেয়া হয় তখন আপনি, আমি যদি চুপ করে থাকি, তখন যদি আপনার মানব হৃদয়ে রক্তক্ষরন না হয়, তখন যদি আপনার মনে প্রতিবাদের ঝড় না উঠে, তখন যদি আপনি নিজেকে অত্যাচারীতের একজন ভাবতে না পারেন তাহলে বুঝবেন সেই অন্যায়ের সমর্থকদের মধ্যে আপনি আমিও শামীল। সেই অন্যায়েই বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন সময়ে ছোবল মারছে সমাজের সবাইকে।
সমাজ থেকে অন্যায় দূর করতে হলে অন্যায়কে অন্যায় ভাবতে শিখুন। সব অন্যায় এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিজেদের কলমকে চালু রাখুন। নিজেদের প্রজাতি হলে প্রতিবাদ করবেন অন্য কারো প্রতি অন্যায় হলে চুপ করে থাকবেন তাহলে আপনিও সেই অন্যায়ের নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছেন। এগিয়ে আসুন সবার জন্য। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার জন্য যারা অন্যায়ভাবে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তাদের পাশেও দাড়ান। কারন অন্যায় কারীরা একই গোষ্ঠিভুক্ত যখন তারা প্রতিরোধরের সম্মুখীন হয় না তখন তাদের সমর্থক ও সাহস বেড়ে যায় সমাজে অন্যায়ের রাজত্ব কায়েম হয়, বর্তমান বাংলাদেশে সেটিই হয়েছে।
ডাঃ এর মধ্যেও অনেকেই আছে ভূয়া সার্টিফিকেইট ব্যবসা করে। আমি নিজেই এর স্বাক্ষী। পড়াশোনা করে ডাঃ না হয়ে অনেকেই আছে অমানুষ হয় আপনারা যারা ডাঃ চেয়ে নিজেদের মানুষ বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তাদের উচিত এমন ডাঃ দের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। তাহলে দেখবেন সবাইকে অন্যায়কে ঘৃণা করছে।
যেদিন আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে শিখবো, যেদিন সমাজের সবাইকে একটি পরিবারের সদস্য ভেবে ট্রিট করতে পারবো, যেদিন বিভিন্ন প্রজাতিতে নিজেদের ভাগ করা ভূলে যাবো, সবাইকে এক পরিবারের সদস্য ভেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখবো সেদিনই আমরা মানুষ হতে পারবো, সেদিনই সমাজে মানুষের রাজত্ব কায়েম হবে। তার আগে অন্যায়ের প্রতিনিধিদের রাজত্ব চলবে, একটু গুতা খাইতেই হবে, কাউকে কম কাউকে বেশি। আমরা গুতা খেয়ে বড় ই তাই গুতা খাওয়াটা আমাদের অভ্যসে পরিনত হয়েছে। সুতরাং একটু গুতাগুতি না হয় খাই। চেতার কি আছে।
আমাদের মনের যে সুপ্ত অন্যায়গুলো আছে সেগুলোর বহিপ্রকাশ হলো সালমা নামক চরিত্র। সালমারা আর কেউ নন, আমাদের মানুষ স্বত্তার ভেতর যে অন্যায়ের দানব আছে তার বাহ্যিক রূপ মাত্র। কারন সালমাদের আমরাই নেতা বানাই। জয় হোক সালমাদের।

বাংলাদেশ ভ্রমনঃ কিছু কথা এবং কিছু ব্যাথা

দেশে গিয়েছিলাম আমার ক্যামেরাটা সাথে নিয়ে, ইচ্ছে ছিলো দেশে গিয়ে বর্ষার কিছু রং এর ছবি তুলবো, ঘাস ফড়িং, প্রজাপতি আর দেশিয় পাখিদের বন্দী করে রাখবো ডিজিটাল ফ্রেমে। ইচ্ছে ছিলো গতবারের মত গ্রামের গিয়ে প্রকৃতির মাঝে অস্তগামী সূর্য্যের লাল ছবি তুলবো, গ্রামের দুরন্ত বালকের নির্মল হাসির ছবি তুলবো। ইচ্ছে ঈদটিকে উদযাপন করবো সবার সাথে সেটিও হয়নি।

ইচ্ছে ছিলো অনেক কিছুর। তবে ইচ্ছেগুলো খুব বেশি দামী ছিলো না। কিন্তু কোথায় যেন বদলে গেছে আমার ফেলে আসা সময়গুলো, বদলে গেছে আমার সেই গ্রামের মানুষগুলো, হয়ত বদলে গেছে প্রকৃতি, হয়ত পরিবেশ প্রকৃতি আমাদের আর আপন ভাবতে পারছেনা। কোথায় যেন অসামন্জস্যতা, কোথায় যেন অমিল।

তবে বাসার বেডে শুয়ে জানালায় উকি দেয়া আকাশ দেখেছিলাম, মনে হয়েছিলো আকাশের রংটা ঠিকই আছে, দেখেছিলাম বাসার আংগিনায় শালিক পাখির মুখ থেকে আহার গুলো নেয়ার জন্য দৃশ্য, বাচ্চা গুলোর আদুরে চিতকার। ছবি তুলতে গিয়ে পারিনি তারা এসেছিলো ক্ষনিকের জন্য।

ফিরে আসার শেষ কয়দিন আকাশটা কেমনজানি আপন মনে হয়েছিলো। আকাশের নীল রংটা কাছে ডাকছিলো সাথে গাছের সবুজ।

তবে মানুষগুলোর রং বদলে গেছে। আগের সাদা মানুষগুলো জীবনের জটিল হিসেবে কুটিল হয়ে উঠেছে। মানুষ নামী প্রানীগুলো এখন আর সেই সাদা মনের মানুষ নেই সবাই কেমন জানি মানুষের মুখোশে বন্য হায়েনার মত হয়ে উঠছে, কিসের জেন নেশা, মনে হয়েছে পুরো দেশটা একটি জংগল হয়ে উঠেছে যেখানে প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের তীর‍্র আকাংখা হয়ে উঠেছে মূখ্য। বিত্তহীন মানুষগুলোর চিত্ত কেমন জানি কলুষিত হয়ে উঠেছে, মানুষগুলো বিত্তের তীব্র মোহে কেমন জানি বদলে গেছে, সেখানে চেষ্টা করে বড় হওয়ার চেয়ে মানুষকে ঠকিয়ে বড় হওয়ার আকাংখাই মনেহয় মূখ্য হয়ে উঠেছে, সততা আর ন্যায়ের জায়গায় এখন অসততাই সমাজের নীতি হয়ে দাড়িয়েছে। সেখানে কেউ নীরব থেকে অন্যায়ের জয়গান গাইছে আর কেউ ঘটনায় জড়িয়ে ক্ষনিকের আদিম উল্লাসে মেতে উঠছে।

দেশে গিয়ে দেখলাম শুধুমাত্র মতাদর্শের পার্থক্যের কারনে একজন মানুষকে কিভাবে বার বার জেলে যেতে হয়। দেখলাম স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে কিভাবে মানুষকে নিজের বাড়ি ছেড়ে রাতের পর রাত পালিয়ে থাকতে হয়। দেখলাম কিভাবে মানুষের মুখোশধারী সমাজপতিরা তথাকথিত ভালো মানুষগুলো সেগুলোকে উতসাহ দিয়ে নিজেদের পশুত্বের প্রকাশ করছে, দেখলাম কিভাবে মানুষ ন্যায়কে সুকৌশলে এড়িয়ে যায়।

সৈয়দপুরের হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম ভাই, যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম তখন থেকে মানুষটাকে জানি। কখনোই কারো সাথে ঝগড়া বা রাগ করে কথা বলেছে শুনিনি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারনে বেচারা নিরিহ মানুষটাকে কয়েকবার ধরে নিয়ে চোর-পুলিশ খেলা খেলছে আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা। ধরে নিয়ে মাইর, টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া, রাজনীতি যাতে না করে সেজন্য শারীরিক অত্যাচার করা বেশি টাকা পাইলে ছেড়ে দেয়া, এসবের মধ্যে বেচারার জীবন চলছে। আসার আগে কথা হলো বললেন আবার অন্য এলাকার একটা মামলা দিয়েছে, হয়ত আবার কোনদিন পুলিশ ধরবে, মারবে। আমরা সমাজের ভালোমানুষ গুলো মনের বিকৃত আনন্দে পুলকিত হবো, প্রতিপক্ষের একজন মাইর খাচ্ছে শুনে আমরা আদিম বিকৃত আনন্দে উল্লাস করবো।

এভাবে আর কতদিন?? আমরা কি পারি না মানুষ হতে?? মানুষের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে?? আমরা কি পারিনা মানুষকে ভালোবাসতে??

হয়ত অনেকেই বলবে দেশে এমন অবস্থা নেই, তাদের প্রতি অনুরোধ একবার নিজেকে মানুষ ভেবে চারপাশে তাকান দেখবেন আমরা মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করছি, আমরা সমাজের অপরাজনীতির ফাদে বন্দী হয়ে মানবতার অপমান করছি, দেখবেন সমাজের ভালো ছেলেটি এখন পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়, চোর-বদমাশ-গুন্ডা-নেশাখোর রা এখন নিশ্চিন্তে ঘুমায়। আর সেই ঘুমের ব্যবস্থা আমরাই করে দিয়েছি। কারন আমরা অপরাজনীতির গড়া সমাজনীতির কাছে নিজেদের স্বত্তাকে বিক্রি করে দিয়েছি নিছক নোংরা রাজনৈতিক স্বার্থে।

প্রত্যাশা একটাই, সবাই সবাইকে ভালোবাসুক, নিজ ভূমে সবাই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারুক, বাংলাদেশের মানুষগুলোর মধ্যে আগের সেই শ্রদ্ধাবোধ ফিরে আসুক। পুলিশগুলো সমাজের ভালো মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিখুক।

“আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম

হিন্দু বাড়িতে যাত্রা গান হইত
নিমন্ত্রণ দিত আমরা যাইতাম
জারি গান, বাউল গান
আনন্দের তুফান
গাইয়া সারি গান নৌকা দৌড়াইতাম

বর্ষা যখন হইত,
গাজির গান আইত,
রংগে ঢংগে গাইত
আনন্দ পাইতাম ।।
কে হবে মেম্বার,
কে বা গ্রাম সরকার
আমরা কি তার খবরও লইতাম ।।
হায়রে আমরা কি তার খবরও লইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম ।।

বিবাদ ঘটিলে
পঞ্চায়েতের বলে
গরীব কাংগালে
বিচার পাইতাম ।।
মানুষ ছিল সরল
ছিল ধর্ম বল ।।
এখন সবাই পাগল
বড়লোক হইতাম ।।

আগে কি………

করি ভাবনা
সেই দিন আর পাব নাহ
ছিল বাসনা সুখি হইতাম ।।
দিন হতে দিন
আসে যে কঠিন
করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম….”

সবাই ভালো থাকুক!