মানুষ কেন এত হিংস্র??

গত কয়েকদিন ফেইসবুকে সিরিয়ান শিশুদের রক্তমাখা মুখগুলো দেখে গিন্নীর মন খারাপ মানুষ কেমনে পারে এমন হিংস্র হতে। শুধু ক্ষমতার জন্য নিজেদের মধ্যে এমন হিংস্রতা কতটুকু কাম্য? ফেইসবুকের ধারনা যখন ছিলোনা তখন হয়ত মানুষ শুধু শুনত যে অমুক জায়গায় যুদ্ধ চলছে, এতগুলো মানুষ মারা গেছে। অনেকে হয়ত সংবাদপত্রে যতটুকু দেখায় ততটুকু দেখতে পারত। অনেকেই সংবাদও দেখতনা এসবের কোন কিছু তাদের চিন্তার জগতে প্রভাব ফেলত না। বিশ্বায়নের যুগে মানুষ যখনই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা শুরু করেছে তখনই মানুষের জগৎও বড় হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের কোন প্রান্তে কি হচ্ছে তা বেশি বেশি মানুষের চিন্তার জগৎকে নাড়া দিচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ার কারনে মানুষ এমন কিছু দেখতে পাচ্ছে যা হয়ত পারত না। প্রশ্ন থেকে যায় এতে মানুষের লাভ বেশি নাকি ক্ষতি বেশি?? মানুষ যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেশি বেশি সোচ্চার হচ্ছে তেমনি হিংস্রতা ও পাশবিকতার ভয়াল চিত্রগুলো মানুষের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় হিংস্রতা ও পাশবিকতার ছবি, ভিডিও ও সংবাদগুলো দেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যতটুকু লাভ করতে পারতেছি তার চেয়ে এই ভয়াল ছবি ও ভিডিও গুলো দেখে আমাদের মনোজগতে নেগেটিভ প্রভাব বেশি পড়ছে কিনা এটি হয়ত ভাবার বিষয়। হিংস্রতাতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি নাতো? হয়ত আমাদের মধ্যে সংবেদনশীলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। হয়ত হিংস্রতাকে দেখে কিছু মানুষের মনে হিংস্রতা বাসা বেধে বসছে।

মানুষের হিংস্রতার কারন কি? একজন মানুষ কেন অন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলে?
দার্শনিক থমাস হোব্বেস এর মতে “মানুষ জন্মগতভাবেই হিংস্র” আর এক দার্শনিক জ্যাকুইস রুশোর মতে “মানুষ সাধারনত শান্তিপ্রিয়”। ন্যাচার জার্নালের একটি গবেষনা পেপার গবেষকরা ম্যামালদের হিংস্রতার ফাইলোজেনেটিক রুট খোজার চেষ্টা করেছেন। তারা ম্যামালদের লিথাল এ্যাগ্রেশনের সাথে সোস্যাল বিহ্যাভিয়ার এবং টেরিটোরিয়ালিটির সম্পর্ক দেখিয়েছেন। যেসব ম্যামাল সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাদের মধ্যে হিংস্রতার মাত্রা অনেক বেশি। যেসব ম্যামাল প্রজাতি সলিটারি এবং টেরিটোরিয়াল না তাদের মধ্যে হিংস্রতা অনেক কম। মনুষ্য প্রজাতি সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাই মানুষের মধ্যে হিংস্রতা বেশি। Socio-political organization গুলো ও মানুষের হিংস্রতার উপর প্রভাব ফেলে। টেরিটোরিয়াল ডিসপিউট, রিসোর্স প্রেসার, পপুলেশন এবং পলিটিক্যাল স্ট্যাটাসের প্রতিযোগিতা মানুষের মধ্যে হিংস্রতার অন্যতম কারন। পপুলেশনের ধরন অর্থাৎ সমাজ ও গোত্রের ধরন গুলো ও হিংস্রতার মাত্রার উপর প্রভাব ফেলে।
মজার বিষয় হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের মধ্যে হিংস্রতা আছে বলে তাদের চলার জন্য চলার নির্দেশনা সহ সুন্দর পথ বলে দিয়েছেন। মানুষ স্বভাবগতভাবে টেরিটোরিয়াল হলেও ইসলাম মানুষকে আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে সীমানাহীন এক সমাজের চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। মানুষে মানুষের সম্পর্ককে ভাই-ভাই সম্পর্কে পরিনত করে দিয়েছে ফলে কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে সে দুর দেশে অন্য মুসলিমকে ভাই বলতে শিখেছে। কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে জাতিয়তাবাদের সংকীর্নতাকে পরিহার করতে শেখে ফলে আঞ্চলিক জাতিয়তার দোহাই দিয়ে সংঘাত হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় অনেকাংশে। আবার ইসলাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটি কেউ ফলো করলে ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতা তৈরীর সম্ভবনাও থাকেনা। যার উদাহরন আমরা আমাদের দেশেই দেখতে পাই। ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগে, লীগে-লীগে খুনোখুনি হতে দেখলেও শিবিরে-শিবিরে, জামায়াতে-জামায়াতে মারামারি তো দুরের কথা গালাগালি পর্যন্ত হয় না সেখানে কোন প্রতিযোগিতা থাকেনা থাকে কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে চলার প্রেরনা।

হিংস্রতা আছে থাকবেই। প্রশ্ন হলো হিংস্রতাকে নিয়ন্ত্রন করার যে কৌশল আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাতলে দিয়েছেন সেটি আমরা মেনে চলবো কিনা। যদি সেটি কেউ মেনে না চলি তাহলে তার ফল আমাদের চোখের সামনে বর্তমান।

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

থার্টি ফার্ষ্ট নাইট আমরা কেন উদযাপন করবো?

31 ডিসেম্বর রাত, 1 জানুয়ারীর সন্ধিক্ষনে নববর্ষের যে উদযাপন তার অনেক গুলো কারনের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কারন হলো গ্রীক দেবতা Janus (https://en.wikipedia.org/wiki/Janus) যার নাম অনুসারে Gregorian calendar (https://en.wikipedia.org/wiki/Gregorian_calendar) বা solar calendar এর প্রথম মাসের নাম জানুয়ারী। Pope Gregory XIII এর নামানুসারে Gregorian নামকরন করা হয়। গ্রীক দেবতা Janus কে বলা হয় গড অফ বিগিনিং & এন্ড, গড ওফ টাইম, গড অফ গেইটওয়ে, গড অফ প্যাসাজ এন্ড ডুয়ালিটি। গ্রীক এই দেবতাকে দুটি মুখের মাধ্যমে চিত্রায়িত করা হয়, একটি ফেইস সামনের দিকে বা ভবিষ্যতের সময়গুলো দেখতে পায় বলে মনেকরা হয় অন্যটি পেছনে বা অতীতকে মনেকরার প্রতীক হিসেবে। অন্য একটি সূত্রমতে যিশু খ্রিষ্টের নামকরন এবং খৎনা উদযাপনের দিনকে ১ জানুয়ারী উদযাপনের কারন হিসেবে দেখানো হয়েছে। (https://en.wikipedia.org/wiki/New_Year%27s_Day)

ইউরোপের দেশগুলোতে তুষাঢ় পড়া শুরু করে অক্টোবর মাস থেকে স্থানভেদে সময়ের আংশিক পরিবর্তন হতে পারে তবে কম বেশি এই সময় থেকে ঠান্ডা পড়া শুরু হয় দিনের লেংথ কমে যাওয়া চোখে পড়া শুরু করে। যেসব দেশ নর্থপোলের কাছাকাছি সেসব দেশে এটি আরো বেশি পরিলক্ষিত হয় ২১ ডিসেম্বর দিনের আলোর পরিমান সবচেয়ে কম থাকে এরপর আবার দিনের আলোর পরিমান বেশি হতে শুরু হয়। ১ জানুয়ারী হতে পরিবর্তন একটু চোখে পড়া শুরু করে। তাই এসব দেশে ১ জানুয়ারীকে একটি পরিবর্তনের সময়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত”। [আবু দাউদঃ ৩৫১৪]

আমরা অনেক কিছু যা বুঝে উদযাপন করি, যেগুলো আমাদের কোন উপকরে আসেনা যেগুলোতে আমাদের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পায় না। বেয়াহাপনা করার জন্য শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ধোকায় ফেলে দেয়। প্রত্যেক নবী ও রাসুল গন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পাঠিয়েছেন শুধুমাত্র মানুষের এসব খামখেয়ালীকে শুধরানোর জন্য। প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময় যেসব খারাপ বা বহুদা কাজ গুলো মানুষ করত সেগুলোর প্রায় সবগুলোই বর্তমানে আমাদের মধ্যে চর্চিত হচ্ছে। মানুষ নিজেদের সবকিছুকে দেখানোর এবং নতুন কিছু করার প্রবনতা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে অনেক সময় মানুষ নিজেদের পরিচয়ও ভূলে যায়।

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাদের দু’টি দিন ছিল, যেখানে তারা খেলা-ধুলা করত। তিনি বললেনঃ এ দু’টি দিন কি? তারা বললঃ আমরা এতে জাহিলি যুগে খেলা-ধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দু’টি দিন দিয়েছেনঃ ১। ঈদুল আদহা ও ২। ঈদুল ফিতর”। (আবু দাউদঃ ১১৩৪, আহমদঃ ১৩২১০)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর সময় মূর্তি পূজা এবং তারকা পূজা বিদ্যমান ছিলো, ঠিক সমসাময়িক সময়ে হযরত লূত (আঃ) এর সময়ে সমকামীতা, রাহাজানী প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের প্রবনতা ছিলো। প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের বর্তমান সংষ্করন হলো নাইটক্লাব ও ডিস্কো সংস্কৃতি।
এরকম অনেক প্রকার কাজ আছে যেগুলো আমরা না বুঝে শুধুমাত্র হুজুগে করি খেয়ালের বশবর্তী হয়ে যেগুলো ঠিক না।

যেকোন ধরনের বেহুদা কাজ যেগুলো মানুষের উপকার করতে পারে না বরং ক্ষতি করে হোক না সেটা আর্থিকভাবে ইসলাম সেটি করতে নিরুতসাহিত করেছে। আমরা অনেক সময় প্রকাশ্য না করলেও উদযাপনে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপস্থিত থেকে পরোক্ষভাবে এগুলোকে উতসাহ করি যেগুলো আমাদের পরিচয়ের মাঝে দেয়াল তৈরী করে ফেলে।

আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেনঃ

“হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু”। (সূরা বাকারাঃ ২০৮)

যারা আমরা নিজেদের মুসলিমবলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি তাদের জন্য বর্তমান সময়টা খুবই চ্যালেঞ্জিং। একদিকে আমাদের বিবেক অন্যদিকে সমাজের অধিকাংশের গোমরাহী। অনেক সময় বাপ-দাদাদের উদাহরন দেয়া হয়, ঠিক এমনিভাবে প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময়ে মানুষ বাপ-দাদাদের উদাহরন দিয়ে তাওহীদের দাওয়াতের বিরুদ্ধাচরন করেছিলো যা বর্তমানেও চলছে। অনেকেই বেহায়াপনাকে উন্নতসমাজের সংস্কৃতি বলে নিজেরাও সামীল হচ্ছে।

পবিত্র কুরআনের সূরা আলাক্বের ৬-৭ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলছেন ”বস্ত্ততঃ মানুষ যখন দেখে যে, সে কারু মুখাপেক্ষী নয়, তখন সে বেপরওয়া হয়’
বস্তুতঃ বিপদে পড়লে আমরা যে আল্লাহকে ডাকা শুরু করি, বিপদ কেটে গেলে আবার অনাচারে লিপ্ত হই এটিকে ইংগিত করেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সতর্ক করতে এটি বলেছেন।

এবং সূরা যুখরফের ৪০-৪৩ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলতেছেন

”এমনিভাবে আপনার পূর্বে আমি যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে চলছি।” যুখরুফ ৪৩/২৩
বাবা-দাদারা ভূল করে আসলে, সমাজে ভূল কোন প্রথা চালু থাকলে আমরা সেটিকেই আকড়ে ধরে থাকতে চাই।

সূরা ইসরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো বলতেছেন ”যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার অবস্থাপন্ন লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। তখন সে জনগোষ্টীর উপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তাকে উঠিয়ে আছাড় দেই।” ইসরা ১৭/১৬
সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষকে আমরা অনুসরক করতে বেশি পছন্দকরি যদিও অনেক সময় তারা ভূল পথে নিজেদের চালিত করে। ভূলপথে জীবন যাপন করে তারপরও আমরা এসব করে নিজেদের সমাজের উচু শ্রেনীর মধ্যে ভাবার ভান ধরি।

সুতরাং যেগুলো ইসলামের সংষ্কৃতি নয় সেগুলো থেকে শরীর ও মনকে দূরে রেখে আমাদেরকে সমাজের সামনে উদাহরন হিসেবে পেশ করাই হোক আমাদের জীবনের লক্ষ্য। ইসলামী মুল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা যায়, মানুষের জন্য কাজ করা যায় এর উদাহরন তৈরীই হোক আমাদের উদ্দেশ্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেও না”। (সূরা আলে-ইমরানঃ ১০২)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকল প্রকার বেহুদাকাজ হতে দুরে রাখুক, যাতে সবাই মুসলিম ও মুমিন হয়ে মৃত্যুবরন করতে পারি এই দোয়া করি। (আমীন)

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা

বাবা হওয়ার ৪০ দিন পূর্ণ হলো, আলহামদুলিল্লাহ। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো হুট করে ঘটে কিন্তু এক একটি ঘটনা জীবনের পথকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়। নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দাঁড়ায়। এই চ্যালেঞ্জকে সামলে নিতে না পারলে জীবন হয়ে উঠে বন্ধুর। মজার বিষয় হলো বিয়ের আগে অনেকেই বলবে বিয়ে করতে কিন্তু বিয়ের পর জীবন কেমন চলে সেটি খোঁজ নেয়ার মানুষদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি নেগেটিভ কারনে বলছিনা, জীবনটা এমনই। সব মানুষের জীবনেই সংগ্রাম করে চলতে হয়। জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোকে মানুষকে একাকী মোকাবেলা করেই পথ চলতে হয়। আপনার বেবি নেই অনেকেই বলবে আরে আপনার বেবি নেই। নানা প্রশ্ন। বেবি হওয়ার পর জীবনের সব বাস্তবতা যখন সামনে এসে দাঁড়াবে তখন একাকী চলতে হবে সব সামলে। সব বাবার জীবনই এমন।

বাবা হওয়ার অনুভূতি কি জিনিস তখনও হয়ত পুরোটা অনুভব করতে পারিনি। মায়ের গর্ভের বেবিটাকে ডাক দেয়া নড়াচড়া করলে একটু পুলকিত হওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো। বেবির এক্সপেকটেড ডেলিভারি ডেট ছিলো ১৮ নভেম্বর। সবাই বলছিলো প্লাস/মাইনাস ২ সপ্তাহ। কিন্তু ১৮ নভেম্বর এর ৩-৪ দিন আগেও কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছিলো না। আমি বেবির মাকে বলছিলাম দেখো তোমার বেবি ঠিক সময় আসবে। সে একদিন বেশি বা কম থাকতে চায় না। আল্লাহ তার জন্য যেটা নির্ধারন করেছে সেদিনই চলে আসবে ইনশাল্লাহ। কোন লক্ষন ছাড়াই ১৭ নভেম্বর সকাল শুরু হলো। সন্ধার দিকে বেবির মায়ের পেইন। আমাদের কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না। আমি একটু অন্যরকম মানসিকতার মানুষ। গিন্নিকে বলেছিলাম কাউকে বলার দরকার নেই অচথা সবাই টেনসন করবে। আমাদের হেলপ ও করতে পারবে না। শুধু ফোন দিয়ে আরো স্ট্রেস বাড়িয়ে দিবে। তারচেয়ে আল্লাহর রহমতে সব কিছু ভালোভাবে হোক তারপর জানাবো। সুতরাং দুজন মিলে আল্লার রহমতের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। প্রথমে ভাবছিলাম পেইন অন্য কিছুর। কিন্তু পেইনের ইনটেনসিটি বাড়া শুরু করলো। গিন্নি ডাঃ মানুষ বললাম কি করা যায়। দুজন মিলে পেইনকে অবজারভ করা শুরু করলাম যে ফ্রিকুয়েন্সি কেমন। যেহেতু অ্যাকটিভ লেবার না হলে এসব দেশে হসপিটালে ভর্তি করায় না এবং যেহেতু আমরা সিউর ছিলাম না। তাই ফ্রিকুয়েন্সি এবং ইনটেনসিটি নোট ডাইন করা শুরু করলাম। ১ ঘন্টা তারপর আরো এক ঘন্টা অবজারভ করার পর। সিউর হলাম যে লেবার পেইন। কিন্তু অপেক্ষা করতে লাগলাম দেখি কি করা যায়। ১৮ নভেম্বর রাত ২ টা। গিন্নির পেইন অনেক বেশি হতে লাগলো। অবশেষে হসপিটালে ফোন দিলাম। আমি কথা বলার পর গিন্নিকে দিলাম। যখন সে বললো ফ্রিকুয়েন্সি ১০ মিনিটের কম আবার বেবির ম্যুভমেন্ট কমে গেছে সুতরাং নার্স বললো রাতেই হসপিটালে যেতে চেকআপ করাবে। কোন প্রস্তুতি ছাড়াই হসপিটালে রওনা দিলাম। হসপিটালে গিয়ে চেকআপ করানোর পর বলা হলো হসপিটালে রাতটা থাকতে। ভাবলাম রাত শেষ হলেই বুঝি বাসা যেতে পারবো। এক কাপড়েই থেকে গেলাম পুরো রাত পার হয়ে সকাল হলো। ইউরোপের সিস্টেম হলো লেবার রুমে প্যারেন্টের থাকা আবশ্যকীয়। প্রতিটি মুহুর্ত এক একটি অভিজ্ঞতা। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকাল ১৮ই নভেম্বর। নতুন জীবনকে আলোর মুখ দেখাতে দেখছিলাম পেইন স্কেলের অসহায়ত্ব, আর ভাবছিলাম এজন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মা দেরকে মর্যাদা দিয়েছেন। জন্মের আগ থেকে খাবারের অরুচি দিয়ে যার শুরু মানসিক পেইন থেকে শারীরিক পেইন। অতঃপর ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় আল্লাহ বাবুকে আলোর মুখ দেখালেন। বেচারা বের হয়ে এলেন আম্বিলিক্যাল কর্ডকে গলায় পেচিয়ে। নার্সদের চেহারায় উদ্বিগ্নতা ধরা পড়লো। বেবির নিশ্বাস নেই কয়েক সেকেন্ড। আমি কেমন জানি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়েছিলাম কি করবো, একদিকে গিন্নিকে সাপোর্ট দেয়া অন্যদিকে বেবির এই অবস্থা। একজন নার্স বললো-“ইউ শুড সি হোয়াট উই আর ডুয়িং উইথ ইউর বেবি” দৌড়ে গেলাম। বেবিকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিলো ৩০ সেকেন্ডের মত তারপর সে কান্না শুরু করলো। অবশেষে স্ট্রেস কিছুটা কমলো। এরপর বেবিকে ওর মায়ের কাছে দিলে বেবি কিছুটা শান্ত হলো।
একদিন হাসপাতালে থাকার পর বাসায় ফিরলাম সব কিছু ঠিকঠাক দেখে। এখানে নিয়ম হলো একদিন পর একজন নার্স বাসায় এসে বেবিকে চেক করে যাবে সব ঠিক আছে কিনা। সে এসে চেপ করে দেখলো বেবির বিলিরুবিন অনেক বেশি। সুতরাং আবার হাসাপাতালে ছুটা। হাসপাতালে গিয়ে নিচ থেকে ফটোথেরাপি দিয়েও যখন বিলিরুবিন নিচে নামছিলোনা তখন উপর নিচ দু পাশ থেকেই ফটোথেরাপী দিয়ে ৭ দিন পর বিলিরুবিনের লেভেল রিস্ক লেভেল এর নিচে নামলো। এরপর বাসায় রওনা হলাম। বাবু ঠিক তার এক্সপেকটেড ডেইটের দিনেই তার নতুন পৃথিবীতে এসেছে আলহামদুলিল্লাহ। সেই ১৮ নভেম্বর থেকে জীবনের রুটিন পুরো চেঞ্জ হয়ে গেছে। প্রথম যে জিনিসটার কোন নিয়ম থাকেনা সেটি হলো ঘুম। আমি কি আরাম করে ঘুমাতাম সেটির আর কোন রুটিন থাকলোনা। বেবির মায়ের তো কোন কিছুরই রুটিন থাকলোনা। তবে মজার ব্যাপার হলো বাবুর কান্না শুনে খারাপ লাগেনা এটি হয়ত আল্লাহর রহমত সব বাবা মায়ের প্রতি, কোন বাবা মাই নিজের বেবির উপর বিরক্ত হয় না। কেমন একধরনের অটো দ্বায়িত্ব চলে আসে। এবং সব কিছুর উপর বেবিকে প্রাইওরিটি দিয়ে নিজেদের অন্যকাজ গুলোর প্রাইওরিটি ঠিক করা। এটাই হয়ত জীবন, এটাই জীবনের নিয়ম।
লিখার উদ্দেশ্য হলো, একজন বেবির জন্য মা বাবাকে কত কিছু সাক্রিফাইস করা লাগে তার শুরুটা হয়ত বুঝতে পেরেছি। যদিও আমি নিজের বাবা মাকে কখনই কষ্ট দেয় এমন কাজ করিনি। তারপর নিজেদের বেবি হওয়ার পর উপলব্ধি করতে পারলাম যে একজন মা কে কত কিছু সাক্রিফাইস করা লাগে, কত কষ্ট কত পেইন সহ্য করতে হয় শুধু একটি বেবিকে জন্ম দিতে এরপর জীবনের সব কিছুর থেকে কিছু না কিছু সাক্রিফাইস করে সন্তানকে বড় করে তোলে শুধুমাত্র সন্তানদের মুখে হাসি দেখার জন্য। একজন বাবাও অনেক সাক্রিফাইস করে যদিও মা দের তুলনায় অনেক কম। সেদিন আমার এক বন্ধু বলছিলো যে আস্তে আস্তে যত ত্যাগ করবি মায়া তত বাড়বে। হয়ত ব্যাপারটি এমনই ত্যাগের কারনে মায়া বাড়ে।

আমরা বড় হয়ে অনেকে হয়ত ভূলে যাই সেই শিশুকালের মা-বাবার ত্যাগের কথা। ভূলে যাই কত রাত ঘুমহীন কেটেছে শুধুমাত্র বেবিকে ঘুম পাড়ানোর জন্য। পৃথিবীর সব মা-বাবাই এই ত্যাগ গুলো করে। কিন্তু আমরা কজন সন্তানই বা পাড়ি সেই ত্যাগী মা-বাবাদের জন্য এক রাতের ঘুম নষ্ট করতে। নিজেদের ইনকাম থেকে মা-বাবাকে আগে প্রাইওরিটি দিতে। নিজেদের সূখের আগে মা-বাবার সূখকে প্রাইওরিটি দিতে।
আসুন যাদের মা-বাবা বেচে আছে, আমরা তাদের প্রতি আমাদের দ্বায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের কাজকে সহজ করে দিবেন, ইনশাল্লাহ।

সবাই আমাদের ছোট বাবুটার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যাতে তাকে মুত্তাক্বী হিসেবে কবুল করে। (আমীন)।

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

আগামীর প্রত্যাশা হানাহানি মুক্ত ধরিত্রী

যখন অনেক ছোট ছিলাম কোথাও একটু গন্ডগোল বাঁধলে ছুটে যেতাম দেখার জন্য। ছোট বেলায় গ্রামেই ছিলাম। গ্রামে সাধারনত বড় ধরনের ঝগড়া হত না। পরিসর যত বড় হতে থাকলো মানুষে মানুষে মারামারি দেখার অভিজ্ঞতা তত বেশি হতে লাগল। গ্রাম থেকে যখন শহরে গেলাম। দেখতাম মাঝে মধ্যেই মহল্লার ছেলেদের সাথে পাশের মহল্লার ছেলেদের মারামারি। যদিও পরবর্তিতে সেটি অনেক কমে গিয়েছিলো। সেটি কমে গিয়ে সেখানে এখন স্থান নিয়েছে রাজনৈতিক বিষয় গুলো। মাঝে মধ্যেই ভাবতাম বড় শহর গুলোর মানুষ মনেহয় একটু বেশি সভ্য ঝগড়াঝাটি কম। সেসময়ে নিজ মহল্লা ছাড়া বাইরের জগত নিয়ে মাথা ঘামানোর মত বুদ্ধি হয়ত হয়নি। স্কুল কলেজের জীবন শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আংগিনায় পা দিলাম। ২০০১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী জীবনের সবচেয়ে বড় ধরনের মারামারি দেখার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের যাত্রা শুরু করেছিলাম। শিক্ষিত মানুষের উন্মত্ততা, ধ্বংসলীলা, লুট ও অগ্নিসংযোগ নিজের চোখের সামনে দেখেছিলাম।
জীবনের পরিসর যত বড় হতে লাগল মানুষে মানুষে হানাহানি দেখার অভিজ্ঞতা তত বৃদ্ধি পেতে থাকল। বিদেশে এসে সংগ্রামমূখর ব্যস্ত জীবনে যখনই ল্যাপটপ ওপেন করে সোস্যাল মিডিয়ার পেইজগুলোতে ঢুকি তখনই বিভৎসতা গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে। সামান্য কারনে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও জাতিগত ভিন্নতার কারনে মানুষ কত হিংস্র হয়ে উঠতে পারে তা আগে কখনো হয়ত কল্পনাও করতে পারিনি।
ভাবতাম অতীতের সময় গুলো হয়ত ভালো ছিলো। কিন্তু ইতিহাস বলে নিকট অতীত ও দুর-অতীতেও মানুষে মানুষে হানাহানি ছিলো। মানুষে মানুষে হানাহানি গুলো বার বার যখন চোখের সামনে আসে তখন মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে নিজের কাছে প্রশ্ন তৈরি হয়।

একজন মানুষ সাংঘাতিক রকমের অস্ত্র নিজের মধ্যে ধারন করে চলেছে যুগ যুগান্তর। মানুষ নিজেই এক একটি এটম বোম। মানুষের হাত-পা ই এক একটি সাংঘাতিক রকমের অস্ত্র।

এই অস্ত্রগুলোর সঠিক ব্যবহার কিভাবে নিশ্চিত করা যায় তার জন্যই যুগে যুগে সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত উত্তম চরিত্রে কিছু মানুষ যাদেরকে সৃষ্টিকর্তা নিজের প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ ধর্মের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে খুব কমই। ধর্মের সোনালী দিন গুলো ব্যতীত বেশির ভাগ সময়েই মানুষে মানুষে হানাহানি ছিলো ই। মানুষের এ্যানিম্যাল অংশটির চর্চা ছিলো ই। এর কারনে সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবধি ভাল-মন্দের দ্বন্দ্ব চলছেই….. হয়ত চলবেই….. এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্ম….

মাঝে মাঝেই বিজ্ঞানের কিছু বিষয়কে অবিশ্বাস্য বলে মনেহয়। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞানের কিছু বিষয় যেমন ভূল প্রমানিত হয় আবার তেমনি ধর্মের সাথে কিছু বিষয়ের ঐক্যমতও সৃষ্টহয়। সত্য ধর্মের বিষয় গুলো চিরন্তন সত্য।

অ্যামেরিকান একটি এ্যানিমেশন ম্যুভি জুটোপিয়া। টিভি দেখার সময় খুব একটা হয় না। বউয়ের সাথে বসে একটু দেখার সুযোগ হয়েছিলো। যতটুকু দেখেছিলাম সেখানে দেখলাম অনেক ম্যামাল কে বিভিন্ন চরিত্রে দেখানো হয়েছে। মহিষ, বাঘ, সিংহ, শিয়াল, খরগোস সবাই একসাথে বিভিন্ন রকম কাজ করছে। কারো সাথে কারো গন্ডগোল নেই, হঠাৎ কিছু ম্যামাল হারিয়ে যায়। এদের খুজতে বের করার দ্বায়িত্ব পড়ে খরগোশের উপর। খরগোশ একদিন ব্রীফ করে যে প্রানীর হিংস্রতা একটি বায়োলজিক্যাল ব্যাপার। পড়ে তদন্তে খরগোশ আর শিয়াল মিলে বের করে যে আসলে একটি অসাধু চক্র এক ধরনের ফুলের নির্যাস গোপনে অন্য প্রানীর শরীরে ইনজেক্ট করার কারনে প্রানী গুলো হিংস্র হয়ে উঠছে। হতে পারে খাদ্যাভ্যস প্রানীর হিংস্রতা সৃষ্টির জন্য কিছুটা দ্বায়ী। যদিও নিরামিষভোজী (?)/উদ্ভিদভোজী মানুষ গুলো নিরীহ হতে পারেনি। হয়ত এটি একটি গবেষনার বিষয় হতে পারে।

জীন এডিটিং নিয়ে মানুষের গবেষনা এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য জীনকে টার্গেট করে গবেষনা এখন অনেক গুরু্ত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রোগের জন্য জীন গবেষনার পাশাপাশি কিছু গবেষক হয়ত অন্য রকম কিছু গবেষনাও চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মনুষ্য সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় গুলোর কারনে যদি জীনের পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের খারাপ আচরন গুলোর নিয়ন্ত্রন সম্ভব হতো বা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য গুলোর আংশিক পরিবর্তন করে সভ্য সমাজ বিনির্মান করানো যেত এরকম চিন্তা হয়ত অনেক আগেই শুরু হয়েছে, হলে কি খারাপ হবে?? যদিও কতটুকু সম্ভব সময়েই তার উত্তর পাওয়া যাবে।

ধর্ম ও বিজ্ঞান দুটো ই তো সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে মিমাংসার জন্য অনেক স্কলার রা আছেন।

কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখতেই পারি মানুষে মানুষে হানাহানিবিহীন সুন্দর এক সমাজ। যেখানে চোখ খুললেই মানুষের বিভিৎস লাশ দেখতে হবে না, যেখানে কান পাতলেই মানুষের মর্মান্তিক আত্নচিৎকার ভেসে আসবে না। শুধুই থাকবে ভালোবাসাপূর্ণ শান্তিময় সুন্দর এক পৃথিবী।

….নয়ত সব যুগে এভাবেই হয়ত স্বপ্নরা ঘুরে ফিরে চলে যায় ফেরার দেশে…এভাবেই হয়ত চলবে নিরন্তর….অতপর সমাপ্তি… সবকিছুর।

তারপরও আসুন না আমরা নিজের অবস্থান থেকে একটু মানবিক হওয়ার চেষ্টা করি। নিজেদের মতভেদের জায়গা গুলো থেকে বের হয়ে মতৈক্যর জায়গায় একসাথে গিয়ে যাই……

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড এবং কিছু ভাবনা

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু (?) দের হত্যা সেটি মিডিয়ায় জোড়ালো ফোকাস, সেই সাথে সাইট ইনটেল এর বিবৃতি, বিএনপি কোন এক নেতার সাথে ইসরাইলির ছবি প্রকাশ সেটিকে মিডিয়ায় জোরালো তুলে ধরা সেই সাথে ভারত পন্থী বুদ্ধিজীবিদের বিএনপি জামায়াতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক খুজার চেষ্টা, পুলিশের স্ত্রীর হত্যা স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর মোসাদের কানেকশনের সাথে বিএনপি-জামায়াতের সংযোগ খুজার চেষ্টা, খুজার চেষ্টা খারাপ না কিন্তু সেটিকে ফ্যাক্ট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা, আওয়ামীলীগের সাথে বাংলাদেশের জামায়াত বিদ্বেষী ইসলামী দল গুলোর সাথে সম্পর্কন্নোয়নের চেষ্টা, জামায়াতের নেতৃবিন্দের ফাসি। সব গুলোকে যদি কেউ সুক্ষ্নভাবে চিন্তা করে তাহলে একটি প্রশ্ন প্রথমে সামনে ভেসে উঠে যে লাভ কার? হুমম, আসলেই লাভটি কার?

সবার নাম বার বার আসে, আসে মোসাদের নাম ইসরাইলের নাম, ভারতের “RAW” এর নামটি কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী উচ্চারন করলেন না?

নেতৃবিন্দের একের পর এক ফাসি, থানা ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের নেতারে পিটিয়ে কোমড় ভেংগে দিয়েছে সরকারী বাহিনী। এক একটি হত্যাকান্ডের আগে বা পরে জামায়াত নেতাদের ফাসি দিয়ে হত্যা কান্ড গুলোর দায়ভার অত্যাচারে ক্লান্ত জামায়াত-শিবিরের উপর চাপায়ে কাউকে বাচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না তো??

যে ইসরাইলের বিরোধীতা করাটাই জামায়াত-শিবিরদের আদর্শ সেখানে ইসরাইলের সাথে জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক খোজার মধ্যে কিছুটা দূর্গন্ধ পাওয়া যায় বৈকি।

এমনও তো হতে পারে,

ভারতের “RAW” এর সাথে ইসরাইলের মোসাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো, অনেকেই হয়ত জানেনা বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান রাস্টদূত আগে ইসরাইলে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরট ছিলো। তাকে বাংলাদেশে সরিয়ে এনে ভারত অবশ্যই কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টায় আছে।

হতে পারে
ভারতের “RAW” এর এজেন্ট রা বাংলাদেশে মাঝে মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অখ্যাত কাউকে হত্যা করলো, সাথে সাথে ভারতের “RAW” এর পেইড এজেন্ট নিউজ পেপার গুলো সেটিকে হেডলাইন করে ফলাও করে প্রচার করলো, ঐদিকে সাইট ইনটেল কে এই সংবাদ সরবরাহ করলো, সাথে সাথে সাইট ইনটেল সেটি তাদের টুইট থেকে টুইট করলো, বাংলাদেশের সরকার দলীয় লোকজন সেটিকে জংগী আখ্যায়িত করলো এবং তার সাথে জামায়াত- বিএনপির সংযোগের মন গড়া তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরলো।

সংখ্যা লঘুদের হত্যা করে আওয়ামীলীগ দুটি ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে, এবং সেটি করে কারো কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে।

১) সংখ্যালঘু হত্যা করে দ্বায়ভার জামায়াত-বিএনপির উপর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ থেকে জামায়াত নেতাদের ফাসির বৈধতার নৈতিক সমর্থন আদায় করে নেয়া, বিরোধী দলীয় নেতাদের কোনঠাসা করে রাখা। এর মাধ্যমে ভারতকে নিজেদের দলীয় স্বার্থের পাশে রাখা।

২) বাংলাদেশের মানুষদের মাঝে ক্রমাগত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে জামায়াত-বিএনপির উপর দোষ চাপিয়ে আতংকের পরিবেশ তৈরী করে ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করা।

সংখ্যা লঘু মারা গেছে এক বছরে হয়ত ১০ জনের বেশি হবেনা। এক ইউনিয়ন ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যে ইলেকশনে জামায়াতের কোন উপস্থিতি ছিলো না, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় এই ১২৬ জন মানুষকে হত্যা কারা করলো?? বেশির ভাগ এ মারা গেছে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে। এক বাসের আগুন দিয়ে ৭ জন মারা যাওয়ার মিথ্যা মামলায় যদি বিএনপির সব নেতাদের ধরে জেলে নেয়া যায়, দু-একজন মারার কারনে সুপ্রীম কমান্ডের দায় ভার জামায়াত নেতাদের উপর দিয়ে যদি তাদের ফাসির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এক ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষের প্রান হানীর দ্বায়ভার নিয়ে কারো না কারো ফাসি হওয়া উচিত। হয় এর দ্বায়ভার সরকারের নয়ত ইলেকশন কমিশনের।

১২৬ জন মানুষ যে দলের দলীয় কোন্দলে মারা যাইতে পারে সে দলের দলীয় আদর্শ সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কতটুকু গ্রহনযোগ্য কতটুকু সমর্থন যোগ্য সেটিই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।

হয়ত সময়ই সব কিছুর উত্তর দিবে, মাঝখানে কিছু আহাজারি থেকেই যাবে, সময়ের নিয়ম এটিই। জীবনটা কে দুর থেকে তাকিয়ে দেখলে মনেহয় সত্য সবাই বুঝে, কিন্তু সেটিকে উপলব্ধির কোথায় যেন সীমাবদ্ধতা।

রমজানে মানুষের মনের সেই সীমাবদ্ধতা দুর হোক, মানুষের বিবেক শয়তানের শৃংখল থেকে মুক্তি পাক! আমরা সবাই মিলে দেশটাকে দেশের মানুষগুলো ভালোবাসি এই কামনাই করি।

#SaveBangladesh #Bangladesh

জীবন যেখানে যেমন

গতকাল রাত ১১ টার দিকে বাসায় ফিরছিলাম, বাস থেকে নামার পর একটু সামনে এগুতেই দেখি এক ৮০-৯০ বছরের বৃদ্ধা ওয়াকার নিয়ে হাটছে। যেটা দেখে মনটা খারাপ লাগছিলো মহিলাটির মাথা নুয়ে পড়েছিলো ঠিক হাটের কাছে পুরো বাকা হয়ে অত রাতে একলা রাস্তায় যাচ্ছে কোথায় যেন, ভাবছিলাম কি জীবন?? আজ আবার যখন বাসায় ফিরছিলাম রাত সাড়ে ১০ টা বাজে, ঠিক একই রাস্তায় আবার সেই বৃদ্ধা ঠিক একইভাবে শরীর পুরো ৯০ ডিগ্রি বেকে হেটে হেটে সামনে এগুচ্ছে। আজ দেখে অন্যরকম মনে হলো, যে জীবন এখানে এমনি, সবাই নিজের পায়ে চলাকেই হয়ত সন্মানজনক মনে করে। এখানেই সবাই জীবনকে এভাবেই মেনে নিয়েছে। তাই হয়ত বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েও হয়ত অনেকের মনেহয় এটাই স্বাভাবিক। আমি আগে যে ল্যাবে থিসিস করছিলাম, ওখানে এক মিশরীয় ভদ্রলোক ছিলেন, উনার এক ছেলে। ছেলের যখন বিয়ে হলো তখন ছেলে আলাদা বাসায় উঠলো। ওকে জিজ্ঞেস করছিলাম, তোমার তো একটাই ছেলে বড় বাসায় একসাথে থাকলেই তো পারো, তোমাদের দেখাশোনার জন্য ভালো হতো।

ও তখন জবাব দিয়েছিলো, সে এখন বড় হয়েছে তার আলাদা বাসায় থাকাটাই স্বাভাবিক।

জীবন এক রকম হলেও, জীবনের উপাদান গুলো ভিন্ন। জীবনের রং, জীবনের এই ঘটনাগুলো এমনই কোথাও যেটি স্বাভাবিক ঠিক সেটি ই অন্য কোথাও অস্বাভাবিক। জীবনের সংজ্ঞাও তাই মানুষভেদে, শ্রেনী ভেদে ভিন্ন রকম।

জীবনের বাহ্যিকতা দেখে অনেক সময় মুগ্ধ হয়ে পড়ে, বাস্তবতা হলো জীবনের ভালো-মন্দ রূপ দুটি সব খানেই বিদ্যমান।

জীবন ধারনের উপকরন গুলোর সহজলভ্যতার হয়ত পার্থক্য থাকে, শারীরিক পুষ্টির অভাব জায়গা ভেদে ভিন্ন থাকতে পারে তবে মানসিক পুষ্টির অভাবটা কমবেশি সব খানেই বিদ্যমান।

আমরা শারীরিক পুষ্টির জন্য যুদ্ধ করলেও মানসিক পুষ্টির জন্য সামান্য কষ্ট করতেও প্রস্তুত নই, তাই সম্পদ ভরা এই দুনিয়ায় বড় বড় অট্টলিকা, বিশাল বিশাল বাগান তৈরী হলেও শান্তিময় সমাজ বিনির্মান তাই এখনো অধরা।

সুন্দর সমাজ, সুন্দর পৃথিবীর জন্য দরকার সুন্দর মানসিক সৌন্দর্য্যের মানুষ। সবার মন সৃষ্টিকর্তার দেয়া রংয়ে রঞ্জিত হোক এই কামনা করি।

মতামতের বৈচিত্র‍্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

মতের বৈচিত্র‍্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে যখন আপনি কোন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। সবার মতামত একই রকম হলে সিদ্ধান্ত গ্রহন হয়ত সহজ হয় কিন্তু সবচেয়ে ভালো পরামর্শটা বেচে নেয়ার অপশন তখন থাকেনা। এজন্যই রাসুল (সাঃ) সাহাবা (রাঃ) দের মধ্যে কোন বিষয়ে চিন্তার ভিন্নতাকে ভালো বলেছেন।

মতের উপর দৃঢ় থাকা বা অটল থাকা বা মতকে সর্বাধিক সঠিক মনেকরা সব সময় ঠিক না। ধরুন আপনি যখন নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তখন যদি অটল থাকেন হয়ত লাভ বেশি হতে পারে। কিন্তু আপনি সামষ্টিক কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন বা নিয়ে ফেলবেন তখন আপনি নিজের মতের উপর কঠোরতা অবলম্বন করলে, ভালো কিছুর সম্ভাবনা থাকলে সেটি আর হয়ে উঠবেনা। আর সামষ্টিক কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু আমানতদারীর বিষয়টি জড়িত তাই সামষ্টিক বিষয়কে সামষ্টিক দৃষ্টিকোন থেকে পর্যালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন ব্যক্তিমানুষ ইগো, ক্রোধ দ্বারা কমবেশি তাড়িত। সুতরাং কঠোরতা অনেক সময় সামষ্টিক আমানতদারীতাকে গৌণ করে তুলে, মানুষ অন্যের ভালোর চিন্তায় এত মগ্ন হয়ে পড়ে যে আল্লাহর লিখিত তা্ক্বদীর তখন অদৃশ্য হয়ে দাড়ায়। এজন্যই অনেক সময় কোন কিছুর ফল ভালো না হলে আমরা মেনে নিতে পারিনা কারন ব্যক্তি মানুষের গুন গুলো তখন ভর করে ফলে আল্লাহর যে ইচ্ছে থাকতে পারে সেটি কিছুটা গৌণ হয়ে দাড়ায়।

যেমন ধরুন আপনি কোন একটি কাজ করতে গেলেন, পারলেন না, আবার চেষ্টা করলেন পারলেন না, আপনি করতে চাইলেন এক ভাবে আর একজন বললো আর একভাবে আপনি করলেন আবার পারলেন ন. হলোনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা আফসোস করি, দোষ দেই কারন তখন আমরা তাক্বদীরের উপর যে বিশ্বাস সেটির ঘাটতির মধ্যে পড়ে যাই। ধরুন আপনি আপনার পরিবার, বাচ্চার জন্য সবভাবে চেষ্টা করলেন হলো না, সমানভাবে চেষ্টা করলেন আপনি ভাবলেন এক হলো আরএক।

যেটি বলতে চাচ্ছিলাম, আমার কাছে মনেহয় সামষ্টিক কোন বিষয়ে ধৈর্য্য অবলম্বন করা, মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, এবং সামষ্টিক আমানতকে মনে রেখে নরম হৃদয়ে পথ চলার মধ্যে কামিয়াবী আছে। এক; অাল্লাহর দেয়া আমনতের নষ্ট হওয়ার জন্য ভয় যেমন কম থাকে, তেমনি সময় ও পাওয়া যায় শুধরিয়ে নিয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো পথে অগ্রসর হওয়া যায়। দুই: ব্যক্তি মানুষের ইগো, রাগ, ক্রোধকে দমিয়ে সুন্দর মনে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

তবে সবশেষে মুমিনরা সব খানেই আল্লাহর কল্যান খুজে পাওয়ার চেষ্টা করে। মুমিনরা কখনও হতাশ হয় না। তাখলিফ থাকবে, আকাংখা থাকবে, ভবিষ্যত চিন্তায় অস্থিরতা থাকবে এর মাঝেও শান্ত হৃদয়ে আল্লাহর উপর অবিচল থেকে সবার ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে চলার মধ্যেই প্রকৃত মংগল নিহিত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবার হৃদয়কে কোমলতায় ভরে দিক। মনের অস্থিরতা দুর করে প্রশান্ত আত্না দান করুন। এই কামনা করি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

Writing thesis………. :)

Few days to go…. Gonna finish five years journey… Very hard time…..

Writing PhD thesis on “Roles of Nitric Oxide in Gut Permeability and Motility”

When I was in my childhood I Dreamt to be an MD or a PhD. Allah has accepted me for second one and gave me chance to work for PhD. Though I don´t have much excitement in me but I felt by having a PhD degree is a kind of responsibility toward scientific community to contribute and solve the problem for mankind. To me it is not about just holding a degree but it meant a lots to me. To me PhDs should take responsibility not only to solve the problem but also to take initiative to create job for fellow students. Hope I will have opportunity to do something for the common people……………………. 🙂

 

Keep me in your prayer.

 

Looking for future position in medical research…. 😉

সূখ কি পোষ্ট করা যায়??

ফেইসবুক হাজার মানুষের হাজার রকমের পোষ্ট। পোষ্টের ধরন যে কত প্রকার হতে পারে তার ইয়ত্তা নেই। কে কখন কোথায় গেলো, কখন বউয়ের সাথে কি খাইলো, কোথায় ঘুরতে গেলো এগুলোর ছবি। এগুলো দিয়ে কি সূখ প্রকাশ করা যায়?? নাকি ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়??
ভালোবাসা কি এত মেকি? সূখ কি এতই সস্তা একটা ছবি দিয়ে সূখি থাকা প্রকাশ করা যায়?

মানুষের অন্তর ক্ষনিত আনন্দ ও ক্ষনিক ভালোলাগার বিষয়গুলোর প্রতি বেশি আসক্ত। নিজেদের ভালোথাকা মানুষকে বুঝিয়ে লাভ? 🙂 আর সেটি যদি স্বামী-বউ হয় তাহলে সেটি আরো বেশি চিন্তার বিষয়। কারন স্বামী এবং বউয়ের একান্ত কাটানো মানে ঘুরতে গিয়ে কাটানো সময়, একসাথে খাওয়ার সময়ের ছবি মানুষের সাথে শেয়ার করার অর্থ বুঝা খুব একটা কঠিন না। আপনি আমি যখন এগুলো শেয়ার দেই তখন এর মধ্যে মানুষকে দেখানোর একটি প্রচ্ছন্ন ভাব থাকে। দেখানো। এই দেখানো জিনিসটি আসলেই খুব একটা পজিটিভ না। কারন মানুষকে দেখানোর প্রবনতা আসলে এক ধরনের গরীব অন্তরের কাজ। যে অন্তরগুলো মানুষকে দেখিয়ে সূখ অনুভব করে। এগুলোর মধ্যে ভালাইও কিছু নেই। আগের যুগের মানুষের মধ্যে সূখ ছিলোনা? ছিলো সেখানে সম্পর্ক গুলো ছিলো আরো বেশি ভালো আরো বেশি মধুর। আগের সম্পর্ক গুলোর মধ্যে ছিলো একধরনের শ্রদ্ধা এবং খাটি ভালোবাসার বন্ধন। আর এখন সেটি এখন ক্ষনস্থায়ী এক ধরনের অনুভূতি।

এগুলো হওয়ার কারনই হলো মানুষের অন্তরের যে সৌন্দর্য্য তার অবনতির ফল। মানুষের অন্তর যখন স্রষ্টার জিকির থেকে দুরে অবস্থান করে তখন মানুষ নিজেদের ভালোলাগার জিনিসগুলো স্রস্টার সাথে শেয়ারের পরিবর্তে কমন মানুষের সাথে শেয়ার করে পরিতৃপ্তি খুজেফিরে। এগুলো হলো অতৃপ্ত আত্নার অনুভূতির প্রকাশ।

চোখের দৃষ্টি এবং অন্তরদৃষ্টি, আল্লাহর কি অপূর্ব সৃষ্টি

চোখ মানুষের অমুল্য সম্পদ। যারা চোখ দিয়ে একবার পৃথিবীকে দেখেছে, কোন কারনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললে চোখ হারানোর ব্যাথা, চোখ থাকার মর্ম তারাই বুঝতে পারে। অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায় করে চোখ ফিরে পেতে। পৃথিবীর রূপ-সৌন্দর্য্য, চারপাশের প্রকৃতি, বাগানের ফুলের সৌন্দর্য এগুলো দেখার জন্য ছটপট করে মানুষের মন। সৃষ্টিকর্ত চোখ দিয়েছে পৃথিবীর সৌন্দর্য্য কে উপলব্ধি করার জন্য, সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি কত সুন্দর সেটি দেখার জন্য।

সৃষ্টিকর্তা মানুষের মন নামক একটি জিনিস দিয়েছে। মানুষের অন্তরদৃষ্টি বলে একটি জিনিস আছে। এই অন্তরদৃষ্টির সাথে রয়েছে সৃষ্টিকর্তার সরাসরি সম্পর্ক। যে হৃদয় অন্তরদৃষ্টি দিয়ে সৃষ্টিকর্তার সৌন্দর্য্য, সৃষ্টিকর্তার রহমত ও করুনা কে দেখতে পায় সেই হৃদ্য হল প্রশান্ত হৃদ্য। কারো এই অন্তরদৃষ্টি হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের অন্তরের যে সৌন্দর্য্য সেটি হারিয়ে যায়। তবে মজার বিষয় হলো মানুষ চোখ হারালে সহজেই উপলব্ধি করতে পারে এবং তার জন্য তার সমস্ত চেষ্টা নিয়োজিত রাখে। কিন্তু তার অন্তরদৃষ্টি হারিয়ে ফেললে, নষ্ট করে ফেললে সেটি যেমন সে বুঝতেই পারে না ঠিক তেমনি তার জন্য মানুষ ন্যুনতম সময়ো ব্যয় করতে প্রস্তত থাকেনা। অথচ মানুষের চোখের চেয়ে বড় মুল্যবান হলো মানুষের অন্তরের দৃষ্টি। কারন চোখের সংযোগ ক্ষনস্থায়ী, নশ্বর সব জিনিসের সাথে আর মানুষের অন্তরদৃষ্টির সংযোগ এক অবিনশ্বর সৃষ্টিকর্তার সাথে।

মহান সৃষ্টিকর্তা সবার অন্তরদৃষ্টিকে স্বর্গীয় সৌন্দ