অবাধ্য ছেলের পিতার প্রতি উমর (রাঃ) এর নসিহত

হযরত উমর (রাঃ) এর সময়ে এক লোক তার ছেলেকে নিয়ে উমর (রাঃ) কাছে গেলেন ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন, হে আমিরুল মুমিনিন আমার এই ছেলে আমার অবাধ্য, সে আমার কোন কথা শুনেনা এরকম অনেক অভিযোগ করলো। উমর (রাঃ) বৃদ্ধ বাবার কথা শুনলেন এবং তরুন বালককে ডেকে উপদেশ দিতে শুরু করলেন, তোমার বাবা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তোমার উচিত তোমার বাবার অধিকার পুরন করা।
তরুন সেই বালক জিজ্ঞেস করলো আমি কি একটি প্রশ্ন করতে পারি হে আমিরুল মুমিনিন? উমর (রাঃ) বললেন অবশ্যই, বলো তোমার প্রশ্ন কি? বালক বললো, আমার কি কোন অধিকার নেই? আমার অধিকার গুলো কি? হযরত উমর (রাঃ) বালকের কাছে তার অধিকার গুলো ব্যাখ্যা করে বললেন।
বাবা-মায়ের প্রতি বাচ্চাদের প্রথম অধিকার হলো, বাবা-মায়ের উচিত উত্তম স্ত্রী বা স্বামী খুঁজে নেয়া। বাচ্চা জন্মের পূর্বেই ভবিষ্যত বাচ্চার অধিকার হলো সঠিক স্ত্রী বা স্বামীকে খুঁজে নেয়া। এর একটি কারন হলো যদি কেউ উত্তম স্বামী কিংবা স্ত্রীকে সিলেক্ট করে তাহলে বাচ্চাদেরো উত্তম উপায়ে লালন-পালন করা সহজ হয়। যদি কেউ বিয়ে শুধুমাত্র সৌন্দর্য্যের জন্য কিংবা সম্পদের জন্য বা যদি কেউ এমন কাউকে বিয়ে করে যে সঠিকভাবে কথা বলতেই পারে না, সব সময় ঝগড়াঝাটি করে তাহলে এমন বাবা-মা হতে কেমন সন্তান আশা করা যাবে। এটি পুরুষ-মহিলা সবার ক্ষেত্রে প্রযোগ্য। বিয়ের আগেই শুধু সৌন্দর্য্য চিন্তা না করে চিন্তা করা উচিত এই পুরুষটি আবার সন্তানের বাবা হিসেবে যোগ্য কিনা কিংবা এই মেয়েটি আবার ভবিষ্যত সন্তানের মা হিসেবে যোগ্য কিনা। ইসলামী শরীয়তে এরজন্য সুন্দর পদ্ধতি বলে দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি উমর (রাঃ) বলেছেন সেটি হলো, তোমার বাবার দ্বিতীয় কর্তব্য হলো তোমার সুন্দর নাম দেয়া। সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম। যে নামে ডাকলেই বাবা-মায়ের প্রশান্তি লাগে। অনেক সময় এমন নাম দেয়া হয় যাতে ওয়েস্টার্ন ওয়েস্টার্ন ভাব থাকে। অনেকেই এটাকে স্মার্টনেসের পার্ট হিসেবে মনেকরে। এটি ঠিক না।
তৃতীয় যে অধিকারের কথা উমর (রাঃ) উল্লেখ করেছিলেন,
তুমি যখন বড় হওয়া শুরু করবে প্রথম যে জিনিসটি তোমাকে শিক্ষা দিতে হবে সেটি হলো আল-কুরআন। কুরআন নির্দেশিত পথে সন্তানকে লালন-পালন করা। তখন বালকটি উমর (রাঃ) বললো হে উমর আপনি আমিরুল মুমিনিন, আমি বলতে চাই আমার বাবা কোনটাই পুরন করেননি। বালকটি বললো যে আমার বাবা পথের এক মহিলাকে বিয়ে করেছে। বালকটি বললো আমাকে একটা সাংঘাতিক নাম দিয়েছে এবং কুরআন কি জিনিস আমি কিছুই জানিনা, আমাকে কুরআন কি শিক্ষা দেয়া হয়নি। তখন উমর (রাঃ) ডাইভার্ট হয়ে বাবার বললেন তুমি তোমার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে এসেছো অথচ তুমি এমন একজন বাবা যে তোমার ছেলের একটি অধিকারও পূরন করোনি। তুমি বলতে এসেছো যে আমার ছেলে অবাধ্য, কোন কথা শুনেনা।
আমাদের সমাজে স্বামীদের অধিকার নিয়ে যেমন বেশি আলোচনা হয় ঠিক তেমনি বাবা-মায়ের অধিকার নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। দেখবেন অনেক সিনেমা নাটক তৈরী হয়েছে শুধুমাত্র বাবা-মায়ের অধিকারকে তুলে ধরার জন্য। সন্তানের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয় খুব কম। অথচ সন্তানের অধিকারের প্রতি মনোযোগী হলে পিতা-মাতার অধিকারের ব্যাপারে সন্তানরা এমনিতেই মনোযোগী হয়ে যাবে।
লেখাটি মুফতি মেনকের আলোচনা হতে নেয়া হয়েছে।
সন্তানের অধিকারের ব্যাপারে আরো দেখতে ও পড়তে পারেন।

আত্নীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক, সামার ক্যাম্প ২০১৭

এবার সামার ক্যাম্পের থিম ছিলো
“Improve connectivity with family and community”
খুব বেশি লেকচার ছিলো না। তবে যে দু- একটি ছিলো তার মধ্যে ছিলো অনেক শিক্ষনীয় কিছু। মাহবুবুল আলম ভাইয়ের লেকচার ছিলো “Lesson from muhammad (sm) on connecting with family and society”
এখানে তিনি সুন্দরভাবে পরিবার ও কম্যুনিটির সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে সেটি কুরআন এবং হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিছু উদাহরন কিছু কথা ছিলো সত্যিই অনেক সুন্দর।

আমরা জানি শেষ বিচারের দিন আল্লাহর রাব্বুল আলামিনের সামনে আমাদের সব কাজের হিসেব দেয়া লাগবে। উনি হবেন বিচারক। তবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কিছু বিষয় আগেই ফয়সালা করে দিয়েছেন। তো মাহবুব ভাই একটি সুন্দর হাদিস বলেছিলেন

“রাসুল (সাঃ) বলেন, আল্লাহ তা´য়ালা যখন সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করলেন, তখন ´রেহেম (আত্নীয়তা)` উঠে দাঁড়ালো/উঠে দাড়িয়ে আল্লাহর কোমড় ধরল। আল্লাহ তা´য়ালা বললেন তুমি কি চাও? সে বলল, এটি হলো আত্নীয়তার ছিন্নকারী হতে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনার স্থান! তিনি বললেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমার সাথে সম্পর্ক রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবো। যে তোমাকে ছিন্ন করবে, আমিও তাকে ছিন্ন করব।? রেহেম বললো জ্বী, হ্যা প্রভু! তিনি বললেন এটি তো তোমারই জন্য।

রাসুল (সাঃ) আরো বললেন, “আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমিই রহমান (দয়ালু), আমার নাম (রহমান) থেকেই `রাহেম` (আত্নীয়তার বন্ধন)- এর নাম নির্গত করেছি। সুতরাং যে আত্নীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে আমি তার সাথে বজায় রাখব এবং যে তা ছিন্ন করবে আমি আমা হতে তাকে ছিন্ন করব। ” আল- আদাবুল মুফরাদ, হাদীস/৫৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন পাকে বলেছেন, “ক্ষমতা লাভ করলে, সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্নীয়তা বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতিই আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদেরকে বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন। ” সূরা মুহাম্মাদঃ ২২

কাল কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ বিচার নেয়া শুরু করলে কেউই রেহাই পাবেনা । যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া কিছু থাকবে না, সেদিন যদি আল্লাহ কাউকে লানত দেয় তাহলে তার কোন রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়।

অপর এক হাদিসে আছে কোন এক সাহাবা রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি আত্নীয়তার সম্পর্ক রক্ষার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকি এবং যদি সেই আত্নীয় আমার প্রতি খারাপ আচরন করে তাহলে, তখন রাসুল (সাঃ) বললেন, তুমি যদি তার প্রতি ভালো আচরন করো এবং সে তোমার প্রতি খারাপ আচরন করে তাহলে এটি এমন যে, তুমি তার মূখে ছাই নিক্ষেপ করছো।
অর্থাৎ সে নিজে বেঁচে যাবে কিন্তু ঐ ব্যাক্তির উপর আল্লাহর লানত পড়বে।

মাহবুব ভাই খুব সুন্দর একটি উদাহরন দিয়েছিলেন।
কিয়ামতের সময় আসলে কি ঘটবে? পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে সব উলট পালট হয়ে যাবে। নক্ষত্র গুলো স্থানচ্যুত হয়ে ছুটোছুটি করবে। পাহাড় গুলো তুলার মত উড়বে।

উনি প্রশ্ন করেছিলেন, আত্নীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এতো কঠোর নির্দেশ কেন দিলেন? বা সম্পর্ক জিনিসটি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

গ্যালাক্সিতে গ্রহ, তারকারাজী এবং নানা পদার্থের মধ্যে একটি সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সুন্দর সম্পর্কের কারনে যে যার কক্ষপথে একটি সুনির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে। কাল কিয়ামতের দিনে আল্লাহ শুধু এদের মধ্যে যে সম্পর্ক বিদ্যমান সেটি নষ্ট করে দিবেন ফলে সম্পর্কহীন হয়ে ছন্দ হারিয়ে ছুটো-ছুটি শুরু করে দিবে। একে অপরের সাথে সংঘর্ষে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। কিয়ামত সংঘটিত হবে।

আত্নীয় এবং প্রতিবেশিদের সাথে সম্পর্ক গুলো ও এমন। যদি সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেখানে শান্তি থাকেনা। যদি সম্পর্ক খুব বেশি খারাপ হয়ে যায় তাহলে সেই জায়গায় ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও সব কিছু তছনচ হয়ে যায়। এজন্য আত্নীয়তার সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার যেখানে একটি ইউনিট সেখানে পরিবার দূর্বল হলে সেই সমাজই দূর্বল হয়ে পড়ে। শক্তিশালী শান্তিময় পরিবার গঠন ইসলামের অন্যতম মূল বিষয়। পরিবার শক্তিশালী হলে, সেই পরিবার নিয়ে গঠিত সমাজ তথা রাস্ট্র ও শক্তিশালী হয় ও শান্তিময় হয়। ইসলাম যেখানে শান্তির বানী শোনায় সেখানে পরিবার শান্তিময় হলে গোটা দুনিয়ায় তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য।

রাসুল (সাঃ) তার মৃত্যু শয্যায় উম্মতকে সাবধান করে বলেছেন, “তোমাদের আত্নীয় স্বজন, তোমার আত্নীয়-স্বজন (সম্পর্কে সাবধান হও)” ছহীহ জামে´ হা/৮৯৪, সনদ সহীহ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আত্নীয়-স্বজনের সম্পর্কের ব্যাপারে আমাদের যত্নশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন। (আমীন)

সংগঠন ভাবনাঃ আনুগত্য

আনুগত্য হলো ইসলামী সংগঠন তথা সব ধরনের সংগঠনের জন্য প্রান। আনুগত্য ছাড়া কোন সংগঠনই টিকতে পারে না। কারন আনুগত্যের কারনেই একটি সংগঠনে শৃংখলা টিকে থাকে। তবে ইসলামী সংগঠনের ক্ষেত্রে আনুগত্যের রূম কেমন হবে সেটি রাসুল (সাঃ) বাস্তব উদাহরন পেশ করে গিয়েছেন। বর্তমান সময়ে তাই আনুগত্যের বাস্তব উদাহরন হিসেবে রাসুল (সাঃ) রেখে যাওয়া উদাহরনই আমাদের সামনে একমাত্র চলার পাথেয়। রাসুল (সাঃ) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দু দুবার রাসুল (সাঃ) এর বক্ষ উম্মোচন করেছিলেন, বক্ষকে পরিষ্কার করে সেখান থেকে মানব আকাংখা, এবং অবাধ্যতা দুর করে, বিশ্বাস, আনুগত্য, জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা দিয়ে পরিপূর্ন করে দিয়েছিলেন। তাই মুহাম্মাদ (সাঃ) শুধু মানুষের মধ্যে ই না নবী ও রাসুলদের মধ্যেও শ্রেষ্ঠ রাসুল হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআন পাক নাজিল করে মানব জাতিকে তার আনুগত্য করতে বললেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বলতেছেনঃ

4_59
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা বিচারক তাদের। তারপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর-যদি তোমরা আল্লাহ ও কেয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই কল্যাণকর এবং পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম।” সূরা আন নিসাঃ ৫৯

আরবী শব্দ “আতি” মানে হলো “আনুগত্য”। উপরের আয়াত হতে দেখা যায়, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন “আতিউল্লাহ ওয়া আতিউর‍রাসুলা” আল্লাহ এবং রাসুল দুটি শব্দের সাথেই “আতি” যোগ করা হয়েছে অথচ লক্ষ্যনীয় ব্যাপার হলো যখন বললেন “উলিল আমরি মিনকুম” তখন “আতি” শব্দটি ব্যবহার করলেন না। এখানে আল্লাহ রাব্বুল ইচ্ছে করেই এটি করেন নি কারন আল্লাহ জানতেন যে রাসুল (সাঃ) যে মানুষ গুলো ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করবে তাদের মধ্যে রাগ, ক্রোধ এবং ইগো এগুলো থাকবে ফলে মানুষ বায়াস হয়ে যেতে পারে আবেগের কাছে, ক্রোধের কাছে তাই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এটিকে “মাশরুত” বা কন্ডিশনাল করে দিয়েছেন।  আবার আনুগত্য করতে গিয়ে যদি কোন ধরনের বিরোধ দেখা দেয় তাহলে আল্লাহ হুকুম করেছেন আল্লাহ এবং তার রাসুলের কাছে ফিরে যেতে, অর্থাত কুরআন এবং হাদীসের স্মরনাপন্ন হতে।

হাদীস
“হযরত আলী (রাঃ) বলেন নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, গোনাহের কাজে কোন আনুগত্য নেই, আনুগত্য শুধু নেক কাজের ব্যাপারে”। (বুখারী, মুসলিম)

যতক্ষন পর্যন্ত আমীর বা নেতার আদেশ আল্লাহকে রাজী খুশি করানোর জন্য হবে ততক্ষন পর্যন্ত তার আনুগত্য করতে হবে।
কুরআনের আনুগত্যের অন্যান্য আয়াত গুলোতে আমীরের কোন কথা আসেনি। যেমন নিচের কয়েকটি আয়াত দেখলেই বুঝা যায়ঃ

4_80

“যে লোক রসূলের হুকুম মান্য করবে সে আল্লাহরই হুকুম মান্য করল। আর যে লোক বিমুখতা অবলম্বন করল, আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ), তাদের জন্য রক্ষণাবেক্ষণকারী নিযুক্ত করে পাঠাইনি।” সূরা আন-নিসাঃ৮০

47_33

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর, রসূলের (সাঃ) আনুগত্য কর এবং নিজেদের কর্ম বিনষ্ট করো না।” সূরা মুহাম্মদঃ৩৩

 

52.PNG

“”যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর শাস্তি থেকে বেঁচে থাকে তারাই কৃতকার্য।” সূরা নুরঃ৫২

নেতাদের উচিত হলো ন্যায়ভিত্তিক ফায়সালা করা। ন্যায়ভিত্তিক ফায়সালা নেতাদের প্রতি আল্লাহর একধরনের আদেশ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুল (সাঃ) মুসলিমদের নেতা মনোনীত করে উনাকে বলে দিলেনঃ

105

“নিশ্চয় আমি আপনার প্রতি সত্য কিতাব অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে ফয়সালা করেন, যা আল্লাহ আপনাকে হৃদয়ঙ্গম করান। আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হবেন না। সূরা আন-নিসাঃ১০৫

নেতারা যেহেতু মানুষের মধ্যে বিচারকের দ্বায়িত্ব পালন করে তাই তাদের কোমল হৃদয়ের অধিকারী হতে হয়। কর্মীদের অবুঝ সন্তানের মত তাদের দেখভাল করতে হয়, এগিয়ে নিতে হয় আল্লাহর পথে। এই কাজ করতে গিয়ে কখনই রাগ হওয়া বা কঠিন হৃদয় হওয়া ঠিক নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বলতেছেনঃ

3_159

“আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন পক্ষান্তরে আপনি যদি রাগ ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতো। কাজেই আপনি তাদের ক্ষমা করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করুন এবং কাজে কর্মে তাদের পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করুন আল্লাহ তাওয়াক্কুল কারীদের ভালবাসেন।” সূরা আল-ইমরানঃ১৫৯

কুরআন এবং হাদীসে এরকম আরো অনেক আয়াত এবং হাদীস আছে যেগুলোতে নেতাদের উদ্দেশ্য করে উপদেশ দেয়া হয়েছে। ইসলামি সংগঠনে নেতাদের শুধু কর্মীদের উদ্দেশ্য বয়ান করতে দেখা যায়। কোন কারনে কোন কর্মী যদি নেতার মনোক্ষুন্নের কারন হয়ে দাড়ায়, ক্যাডার ভিত্তি সংগঠন গুলোতে দেখা যায় সামান্য কারনে অনেক সময় দলীয় মানহতে বহিঃষ্কার করা হয়। যা বাইয়াতের মর্যাদাকেই অনেক সময় ক্ষুন্ন করে তোলে। দেখা গেলো কে্উ কোন সংগঠনের সিনিয়র মেম্বার কথার সাথে মিল না হলেই সিনিয়র মেম্বারশীপ পদ বাতিল করে দেয়া হয় যেখানে নেতার/দ্বায়িত্বশীলের কোমল হওয়ার কথা অধঃস্তন কর্মীর কথা শোনার কথা সেখানে স্বেচ্ছাচারীর শাসকের মত এক তরফাভাবে কর্মীরকে হতাশ করে শুধুমাত্র মতের বিরোধ দেখা দেয়ার কারনে কর্মীর মানের সনদ বাতিল করা হয়। এর ফলে বাইয়াত যেমন একটি উপহাসের বস্তু হয়ে উপস্থাপিত হয় ঠিক তেমনি সংগঠনটি ইসলামিকের চেয়ে বেশি রাজনৈতিক হয়ে পড়ে। ফলে সংগঠনে আধাত্নিক মাধূর্যের ঘাটতি যেমন লক্ষনীয় হয়ে পড়ে ঠিক তেমনি সংগঠনে বিশৃংখলা দেখা দেয় ফলে সাধারন মানুষের উপর আধাত্নিকভাবে/নৈতিক প্রভাব বিস্তারে অক্ষম হয়ে পড়ে। দৃশ্যতঃ সংগঠনে গীবত ও পরচর্চা ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পায়, সংগঠনের মূল ভিত্তি “উখূয়াত” কে নষ্ট করে দিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনের মত কর্মীদের মধয়ে পারস্পারিক সহযোগিতার স্থানে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরী হয় ফলে সামষ্ঠিক লক্ষ্য অর্জনে সংগঠন ব্যর্থ হয়ে পড়ে।

তাই কোন ইসলামী সংগঠনে আনুগত্যের শিক্ষা কর্মীদের জন্য যত বেশি না প্রয়োজন তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন দ্বায়িত্বশীলদের জন্য। আনুগত্যের মত একটি আমানতকে দ্বায়িতশীলরা যখন ব্যক্তি ইগোর বস্তু বানিয়ে ফেলে তখন কর্মীরা সেখানে অসহায়ের মত দিনাতিপাত করে। তাই ইসলামিক সংগঠনের দ্বায়িত্বশীলদের মধ্যে আনুগত্যের বাস্তব ট্রেনিং খুবই প্রয়োজন। যেখানে আনুগত্যে মানেই হলো নেতার একচ্ছত্র আধিপত্য মনে করা হয় সেসব ক্ষেত্রে বুঝা উচিত আনুগত্যের ভূল উদাহরনই আমরা তৈরী করছি।

হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় মুশরিকদের কঠিন কঠিন শর্ত দেখে অনেক সাহাবীরাই হতাশ হয়ে গিয়েছিলো। রাসুল (সাঃ) যখন মুশরিকদের শর্তে রাজী হয়ে গেলেন, তখন হযরত উমর (রাঃ) খুবই মনোক্ষুন্ন হয়ে রাসুল (সাঃ) কে প্রশ্ন করেছিলেন, যে হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি আল্লাহর রাসুল নন? আমরা কি মুসলিম নই?

রাসুল (সাঃ) উনার সাহাবাদের আবেগ বুঝতেন বলেই উনি সাহাবাদের অনেক ভালোবাসতেন। সাহাবা কেরামগনও রাসুল (সাঃ) এর প্রতি যে ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছেন সেটি নেতার প্রতি আনুগত্যের ও ভালোবাসার ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়েই আছে।

কোন ইসলামী সংগঠনের দ্বায়িত্বশীলদেরই সবার আগে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হয়। নেতারা যদি কোমল হৃদয়ের অধিকারী না হয়, নেতারা যদি হালকা স্বভাবের মানুষের মত শোনা কথায় বিশ্বাস করে রাসুল (সাঃ) হাদীস ভূলে সংগঠনের কাজকে এগিয়ে নিতে চায় তাহলে সেখানে শয়তানেরই লাভ হয়। বর্তমানে অনেক ইসলামী সংগঠনের মধ্যে এরকম কিছু কিছু সমস্যা থেকেই গেছে। একটি সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দ্বায়িত্বশীলের মানকে ধরে রাখার এবং দ্বায়িত্বের মত একটি আমানতের সঠিক ব্যবহারের বাস্তবমূখী ট্রেনিংই পারে একটি ভ্রাতৃত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ইসলামী সমাজ বিনির্মান করতে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবার মধ্যে সেই যোগ্যতা এবং নিজেদেরকে মহসীন বান্দা হিসেবে তৈরী করার তৌফিক দান করুন। ওমা তৌফিক ইল্লাবিল্লা (আমীন)

 

আনুগত্য মানেই কি নেতার সামনে কাচুমাচু করে কথা বলা? আনুগত্য কেমন হওয়া উচিত…….?

রমজানের রোযা

রমজানের রোযা

রমজান (সাওম) হল ইসলামের পাঁচটি পিলার/খুঁটির একটি এবং ইসলামিক ক্যালেন্ডারে নবম মাস। রোজা ফারসি শব্দ। এর আরবি হচ্ছে সওম। বহুবচন সিয়াম। “সাওম” শব্দের অর্থ “বিরত” থাকা। রোযা অর্থ হলো আল্লাহর উদ্দেশ্য সূর্য্যদয় থেকে সূর্য্যস্ত পর্যন্ত খাওয়া, পান করা, ধুমপান করা এবং স্বামী-স্ত্রীর শারীরিক মেলামেশা থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেনঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী হও। সূরা বাকারা”, আয়াত-১৮৩। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ আরো বলেন- “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে পায় সে যেন রোজা রাখে।“ সূরা বাকারা,আয়াত-১৮৫। হজরত সাহ্ল ইবনে সা’দ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে। তারমধ্যে একটি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ বুখারীঃ ভল-৩, ৩১, ন-১২০)

রমজানে রোযার ফজিলত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “রমজান মাস এলে জান্নাতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত রাখা হয় জাহান্নামের দ্বারসমূহ রুদ্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৮০০)

শবক্বদরঃ

লাইলাতুল ক্বদেরর (বরকতময় রজনী): মহান আল্লাহ বলেন, “লাইলাতুল ক্বদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাত্রে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হন প্রত্যেক কাজে, তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিময় এ রজনী, ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত।“ (সূরা আল ক্বদর: ৩-৫)রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে লাইলাতুল কাদর জেগে ইবাদত করল তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।”

রমজানের তারাবিহের ফজিলত

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবের সাথে রমজানের তারাবিহ আদায় করল তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্য এক হাদিসে এভাবে ইরশাদ করেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি ইমামের সাথে ইমাম তার নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নামাজ আদায় করবে তার জন্য তা সারা রাত জেগে ইবাদত করা হিসেবে গণ্য হবে।”

রোজার পুরস্কার আল্লাহ স্বয়ং নিজে প্রদান করবেন: একটি হাদিসে কুদসিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ বলেন, “বনি আদমের সকল আমল তার জন্য, অবশ্য রোজার কথা আলাদা, কেননা রোজা আমার জন্য এবং আমিই এর পুরস্কার দেবো।“ (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৮০৫)

রোজা রাখা গোনাহের কাফফারা স্বরূপ এবং ক্ষমালাভের কারণ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রামাদান মাসে রোজা রাখবে, তার পূর্বের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।“ (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৯১০)

রোজা জান্নাত লাভের পথ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যাকে বলা হয় ‘রাইয়ান’। কিয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে রোজাদারগণ প্রবেশ করবে। অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না….. রোজাদারগণ প্রবেশ করলে এ দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে আর কেউ সেখান দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।“ (সহীহ বুখারি, হাদিস নং ১৭৯৭)

রোজা জাহান্নামের অগ্নি থেকে মুক্তিলাভের ঢাল: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন : যে বান্দাহ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখে আল্লাহ তার মাঝে এবং জাহান্নামের মাঝে ৭০ বছরের দূরত্ব তৈরি করেন। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৮৯৪)

রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মিসকের সুগন্ধির চেয়েও উত্তম: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তার শপথ! রোজাদারের মুখের গন্ধ কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে মিসকের চেয়েও সুগন্ধিময়।“ (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৮৯৪)

রোজা ইহপরকালে সুখশান্তি লাভের উপায়: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “রোজাদারের জন্য দুটো খুশির সময় রয়েছে। একটি হলো ইফতারের সময় এবং অন্যটি স্বীয় প্রভু আল্লাহর সাথে মিলিত হওয়ার সময়। (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৮০৫)

আল্লাহর রাস্তায় বেশি বেশি দান সদকা করা

ইমাম বুখারী ইবনে আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মানুষের চেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। আর রমজান মাসে যখন জিবরাইল তার সাথে সাক্ষাতে মিলিত হতেন তখন তিনি আরো দানশীল হয়ে উঠতেন…। জিবরাইলের সাক্ষাতে তিনি বেগবান বায়ুর চেয়েও বেশি দানশীল হয়ে উঠতেন।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩০৪৮)

কুরআন তেলাওয়াত করা এবং এর মর্ম উপলব্ধি করা

ইবনু আববাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “জিবরাইল রামাদানের প্রতি রাতে এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাকে নিয়ে কুরআন পাঠ করতেন।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৩০৪৮)

নবী করিম (সা) ঘোষণা করেছেন, “যারা রমজান মাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত রোজা পালন করেছে, তারা ওই দিনের মতো নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তাদের মাতা তাদের নিষ্পাপরূপে প্রসব করেছিলেন।”

ইবনে ওমর (রা.) হাফসা (রা.) হতে এবং তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

“من لم يبت الصيام قبل الفجر فلا صيام له”

যে ব্যক্তি সুবহে সাদেক উদয় হওয়ার পূর্বে-রাতেই রোজা রাখা স্থির করে না তার রোজা বিশুদ্ধ হয় না।( আহমাদ ২৮৭/৬, তিরমিজি ৭৩০ আবু দাউদ ২৪৫৪)

রোজার নিয়ত

নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিনশাহরি রামাদ্বনাল মুবারাকি ফারদ্বাল্লাকা ইয়া আল্লাহ ফাতাক্বাববাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাসসামীয়ু’ল আ’লীম।

ইফতারের দোয়া

আল্লাহুম্মা ছুমতুলাকা ওয়া তাওয়াক্কালতু আ’লা রিজক্বিকা ওয়া আফতারতু বি রাহমাতিকা ইয়া আর্ হামার রাহিমীন।

অর্থঃ “ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোযা রেখেছি এবং তোমার দেয়া রিযিক আহার করে ইফতার করছি।“

রোজা ভঙ্গের কারণ সমুহঃ

১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে।

২. স্ত্রী সহবাস করলে ।

৩. কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙ্গবে না)।

৪. ইচ্ছকৃত মুখভরে বমি করলে।

৫. নস্য গ্রহণ করা, নাকে বা কানে ওষধ বা তৈল প্রবেশ করালে।

৬. জবরদস্তি করে কেহ রোজা ভাঙ্গালে ।

৭. ইনজেকশান বা স্যালাইরনর মাধ্যমে দেমাগে ওষধ পৌছালে।

৮. কংকর পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে।

৯. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল সুর্যাস্ত হয়নি।

১১. দাঁত হতে ছোলা পরিমান খাদ্য-দ্রব্য গিলে ফেললে।

১২. ধূমপান করা, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালায়ে ধোয়া গ্রহন করলে।

১৩. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে ।

১৪. রাত্রি আছে মনে করে সোবহে সাদিকের পর পানাহার করলে।

১৫. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে স্বামী-স্ত্রী সহবাস অথবা পানাহার করে তবে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে।

রোজার মাকরুহগুলো

  • অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো
  • কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা
  • গড়গড় করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে
  • ইচ্ছাকৃত মুখে থুথু জমা করে গলাধঃকরণ করা
  • গীবত, গালা-গালি ও ঝগড়া-ফাসাদ করা।
  • কয়লা চিবিয়ে অথবা পাউডার, পেস্ট ও মাজন ইত্যাদি দ্বারা দাঁত পরিষ্কার করা
  • যেসব কারণে রোজা না রাখলে ক্ষতি নেই তবে কাযা আদায় করতে হবেঃ
  • কোনো অসুখের কারণে রোযা রাখার শক্তি হারিয়ে ফেললে অথবা অসুখ বৃদ্ধির ভয় হলে। তবে পরে তা কাযা করতে হবে।
  • গর্ভবতী স্ত্রী লোকের সন্তান বা নিজের প্রাণ নাশের আশঙ্কা হলে রোজা ভঙ্গ করা বৈধ তবে কাযা করে দিতে হবে।
  • যেসব স্ত্রী লোক নিজের বা অপরের সন্তানকে দুধ পান করান রোজা রাখার ফলে যদি দুধ না আসে তবে রোজা না রাখার অনুমতি আছে কিন্তু পরে কাযা আদায় করতে হবে।
  • শরিয়তসম্মত মুসাফির অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি আছে। তবে রাখাই উত্তম।
  • কোনো রোগীর ক্ষুধা বা পিপাসা এমন পর্যায়ে চলে গেল এবং কোনো দ্বীনদার মুসলিম চিকিৎসকের মতে রোজা ভঙ্গ না করলে তখন মৃত্যুর আশঙ্কা আছে। তবে রোযা ভঙ্গ করা ওয়াজিব। পরে তা কাযা করতে হবে।
  • হায়েজ-নেফাসগ্রস্ত (বিশেষ সময়ে) নারীদের জন্য রোজা রাখা জায়েজ নয়। পরবর্তীতে কাযা করতে হবে।

শরীয়ত যা বর্জন করতে নির্দেশ দিয়েছে

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি (রোজা রেখে) মিথ্যা কথা ও সে অনুযায়ী কাজ করা বর্জন করে না তবে তার শুধু খাদ্য ও পানীয় বর্জন করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৮০৪). অন্য আরেকটি হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের কেউ রোজার দিনে অশ্লীল কথা যেন না বলে এবং শোরগোল ও চেঁচামেচি না করে। কেউ তাকে গালমন্দ করলে বা তার সাথে ঝগড়া করলে শুধু বলবে, আমি রোজাদার।’’ (সহীহ বুখারী, হাদিস নং ১৮০৫)

(সংগৃহীত এবং সংকলিত)

ড. আর্থার আলিসনের (ড. আব্দুল্লাহ আলিসন) ইসলাম গ্রহনের কাহিনী

শিক্ষা কখনো মানুষকে পৌছে দেয় দাম্ভিকতার শীর্ষে কখনও বা মানুষের হৃদয়কে করে দেয় কোমল, করে দেয় প্রশান্ত হৃদয়, সঠিক শিক্ষা সত্যের আলোয় মানুষকে উদ্ভাসিত করে তোলে। ইসলাম বিষয়ে অনুসন্ধান মানুষে বিমোহিত করে তোলে। কিছু সময় তা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। কিছু নন মুসলিমের ইসলাম গ্রহনের পেছনে অনেক মজার এবং চমকপ্রদ কাহিনী থাকে, এমনি একটি নাম হলো প্রফেসর আর্থার আলিসন ইসলাম গ্রহনের পর যার নাম প্রফেসর আব্দুল্লাহ আলিসন হয়েছিলো। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ছিলেন, তিনি British Society for Psychological and Spiritual Studies এর প্রেসিডেন্ট হিসেবেও অনেক বছর দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার স্ট্যাডি অফ রেলিজিয়ন নামক কোর্সের মাধ্যমে তিনি ইসলামের বিষয়ে পরিচিত হন। ইসলামকে অন্য ধর্ম গুলোর সাথে তুলনামূলক আলোচনা, অন্যানা মতবাদ যেমন হিন্দুত্ববাদ ও বৌদ্ধ মতবাদের সাথে আলোচনা এবং চিন্তা করে দেখলেন ইসলামের সাথে তার জন্মগত প্রকৃতির অনেক মিল আছে।

১৯৮৫ সালে প্রথম Islamic International Conference on the Medical Inimitability কনফারেন্সে আমন্ত্রিত হয়ে ড. আলিসন তার দুটি পেপার উপস্থাপন করেন।

তার প্রথম পেপারটি ছিলোঃ “the psychological and spiritual methods of therapy in the light of the Holy Quran”,
দ্বিতীয়টি ছিলোঃ “sleep and death in the light of the Quranic verse 39:42″

কনফারেন্সে উপস্থাপিত কুরআনের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন দেখে, কনফারেন্সের সমাপ্তি পর্বে ড. আলিসন ইসলাম গ্রহন করেন।

একটি আরব সাপ্তাহিককে দেয়া সাক্ষাতকারে তার ইসলাম গ্রহনের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেনঃ

” মেডিক্যাল ইনইমিটাবিলিটি (যার নকল করা যায় না) ইন কুরআনের উপর করফারেন্স চলাকালে আমি অনুধাবন করতে পেরছিলাম যে পার্থক্যটা ছিলো বেশ চমৎকার। তারপর আমি বিশ্বাস করতে সক্ষম হইযে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেটি আমার জন্মগত প্রকৃতি এবং আচরনের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আমি অনুভব করতে পেরেছিলাম যে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রনের জন্য একজন গড আছেন এবং তিনিই হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা।”

“এজন্য যখনই ইসলাম বিষয়ে পড়াশোনা করতাম, আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে এটি কখনই যুক্তি এবং বিজ্ঞানের সাথে সংঘর্ষ/দ্বন্দ্ব তৈরী করে না। আমি বিশ্বাস করি যে এটিই নাযিলকৃত ধর্ম যেটি এক এবং অদ্বিতীয় গড (আল্লাহ) নাযিল করেছেন। যেহেতু আমি সত্যকে অনুধাবন করতে পেরেছিলাম তাই দুটি বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি। যে মূহুর্তে আমি তা উচ্চারন আমি একধরনের আরাম, স্বস্তি এবং সন্তোষ মেশানো অদ্ভুত এবং অবর্ণনীয় অনুভূতিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলাম।”

প্রফেসর আব্দুল্লাহ আলিসন কনফারেন্সে সূরা যুমারের ৪২ নং আয়াতের অর্থ এবং ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। “আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।”

সূরা আরাফঃ ১৫৫
“তুমি যাকে ইচ্ছা এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথে রাখবে। তুমি যে আমাদের রক্ষক-সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী।”

আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হেদায়াত দান করেন, সরল পথে পরিচালিত করেন। শিক্ষা যেন আমাদের মধ্যে দাম্ভিকতা তৈরী না করে এবং তা যেন আমাদের ধ্বংসের কারন হয়ে না দাঁড়ায়। এই দোয়াই করি।

নাস্তিকতা যেমন একটি ফ্যাশন, ইসলামিষ্ট হওয়ার প্রতিযোগিতাও একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।

নাস্তিকতা যেমন একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে দুঃখের বিষয় হলো ইসলামিষ্ট হওয়ার প্রতিযোগিতাও একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে অনেকের মধ্যে ইসলামের প্রতি বাহ্যিক ভালোবাসা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিক সেভাবে তার ভেতরে ইসলামের গ্রোথ সেভাবে হয়নি। ইসলাম যেমন সবার জন্য সহজ তেমনি ভালো মুমিন, মুসলিম হওয়া তেমন সহজ। একজন ভালো মুসলিম হতে হলে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষনের ব্যাপার। এজন্যই ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে তাযকিয়া, তারবিয়া হতো বেশি বেশি। রমজান আসলে রাসুল (সাঃ) নাকি ইবাদত কে ভাগ ভাগ করে দিতেন, দিতেন বেলা তাযকিয়া, তারিবিয়া এবং সাহাবাদের সাথে নানারকম শলা পরামর্শে কাটাতেন আর রাতের বেলা মহান প্রভুর সান্নিধ্যে কাটিয়ে দিতেন। এটি করতেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ)। উনার সাহাবাগন ও ছিলেন উনার যোগ্য সাথী।
এমন অনেক সাহাবা আছে রাসুল (সাঃ) বললেন যে সে জান্নাতি। আর এক সাহাবা তার সাথী ভাইয়ের পিছু নিলেন যে সে কি এমন ইবাদত করে যে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এমন কথা বললেন। এরকম ছিলো তাদের ইবাদতের বেশির ভাগই ঘটত লোকচক্ষুর অন্তরালে। আবার ইসলামের কোন কিছু বিষয়ে কেউই নিজস্ব কোন ফতোয়া দিতেন না। রাসুল (সাঃ) এর কথার উল্লেখ করে বলতেন রাসুল (সাঃ) কে এভাবে বলতে শুনেছি। মুসলিমদের মধ্যে সম্পর্ক ছিলো অনেক মধুর। যখন ইসলামের বিষয়ে একত্রিত হত তখন তারা দুনিয়ার স্বার্থ ভূলে গিয়ে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় কাজ করত, একই লক্ষ্যপানে জীবন বাজী রেখে লড়াই করত। তখন ইগো, দুনিয়াবী স্বার্থ কোন কিছুই তাদের সামনে বাধা হয়ে দাড়াতে পারতো না। কোন বিষয়ে মতামতের বিরোধ দেখা দিলে তারা পরষ্পরকে সংশোধন করত উত্তম নছিহতের মাধ্যমে। তারা এরূপ করতে সক্ষম হয়েছিলেন শুধুমাত্র দুটি কারনে, প্রথমত, তাদের লক্ষ্য ছিলো আল্লাহ সন্তুষ্টি, দ্বিতীয়ত, তাদের ইসলামী জীবন, সাংগাঠিনক জীবন অতিবাহিত হয়েছিলো সার্বক্ষনিক তাযকিয়া ও তারবিয়ার মাধ্যমে।

দুঃখ হলেও সত্য যে, আমরা দুরাকাত নামায পড়েই ফতোয়া দেয়া শুরু করি, ইসলামের সীপাহসালার বনে যাই। ইসলামের কঠোর অনুশীলন, এবং সাংগাঠনিক বা সামষ্টিক জীবনের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন না থাকায় আমরা সাংগাঠনিক জীবন শুরু করেই নিজেদের আমীর/ শেখ ভাবা শুরু করে দেই। অথচ অনেকেই আছে কুরআন শরীফই পড়তে পারিনা। প্রশ্ন হলো যে ব্যক্তি কুরআন পড়তে যানে না, তার ফতোয়া দেয়ার যোগ্যতা কতটুকু?? কুরআনের প্রথম শব্দ “পড়” সেই আল্লাহর কিতাবের প্রতি যে অন্ধ সে কিভাবে ইসলামের সীপাহসালার হবে??

ছোট এই জীবনে যতটুকু শিখেছি, ইসলাম শুধু নামাজ পড়া, বা বিশাল এক জুব্বা পড়ে বেড়ানো না, ইসলাম হলো একটি সংষ্কৃতি, ইসলাম হলো একটি জীবন বিধান। সেনাবাহিনীর একজন সদস্যকে যুদ্ধের ময়দানে জীবন বাচাতে হলে যেমন নানারকম কৌশল আয়ত্ত করতে হয়, তার প্রশিক্ষন নিতে হয় ঠিক তেমনি একজন মুসলিম হতে হলে, একজন ভালো মুমিন বা তাক্বয়াবান হতে হলে নিজের ঈমান বাচানোর নানারকম কসরত শিখতে হয়। সাথী ভাইদের সাথের আচরন, অন্যভাইদের সাথে আচরন, ইসলামী নীতির মধ্যে সাংগঠন পরিচালনার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন নিতে হয়। যারা এসব প্রশিক্ষনের মধ্যে দিয়ে যায় না তাদের মধ্যে সমস্যা তৈরী, ভালো করতে গিয়ে খারাপ করে বসে। সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক যদি স্টেনগান ঠিকমত চালানো না জানে বাংলা রাইফেল শিখে যদি স্টেনগান হাতে নেয় তাহলে সবার জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। আবার একজন অস্ত্রধারী সৈনিকের যদি ক্রোধ দমনের জন্য প্রশিক্ষন না থাকে তাহলে সেটিও অন্যর ক্ষতির কারন হতে পারে।

আবেগ দিয়ে হয়ত উপরের ভালোভালা প্রকাশ করা যায়। বাস্তব ভালোবাসা প্রকাশ করতে দরকার হয় ত্যাগ। ইসলামের জন্য ত্যাগ, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ। এই ত্যাগ অনেক রকম হতে পারে। সময়ের ত্যাগ হতে পারে, কষ্ট করে কুরআন শিখাটাও একটা ত্যাগ হতে পারে।

তবে যে যাই করি, দিন শেষে, জীবনের শেষে ব্যক্তিমানুষকে একাকীই তার সৃষ্টিকর্তার কাছে তার জীবনের হিসেব পেশ করতে হবে। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমরা আল্লাহর কাছে নিজেদের কতটুকু সমর্পিত করেছি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেটিই দেখবেন।

আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি আমল করার তৌফিক দান করুন, (আমীন)

Brotherhood in Islam

One day, a group of young men from the tribes of Aws and Khazraj (two tribes from `Arabia that had been at war for countless years, however under the shadow of Islam and true faith, were able to come together as brothers of one another and have love rule between them both) were sitting together.

A Jew from Madinah named Shas ibn Qais who was very jealous of the unity that had been brought about between these two tribes, entered into their gathering and through the shrewdness that he possessed, started to speak about and remind them about the bitter moments that had transpired between these two tribes during the battle of Ba`ath before the coming of Islam. He spoke in such a manner that he was able to instigate the youth of both tribes to reach for their swords causing them to re-ignite the war of Ba`ath.

The Prophet (blessings of Allah be upon him and his progeny) was informed of what was transpiring and he himself went to this gathering and gave a speech in which he mentioned, “Islam made you brothers of one another and commanded you to remove any form of hatred or grudges that remain in your heart.”

When the speech of the Prophet reached to this phase, the deafening sound of crying and weeping could be heard and in order to attest to the religious brotherhood that existed amongst themselves, they began to hug each other and asked Allah (Glorified and Exalted is He) for forgiveness.

Today there are many Shas ibn Qais in our society……..

বৈশাখের সংষ্কৃতিঃ আমার সরল অব্যকরনিক ভাবনা

ইসলাম পূর্ব কুরাইশ সমাজে নানা রকম কুসংষ্কার ও অপপ্রথা বিদ্যমান ছিলো। সবাই নগ্ন হয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করত। প্রত্যেক নবী রাসুল ছিলেন মূলত সমাজ সংষ্কারক। সমাজ থেকে কু-প্রথাগুলোকে দুর করে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ পূনর্গঠনই ছিলো সবার উদ্দেশ্য। ইসলাম আসার পরে সকল কুসংষ্কারের অবসান হয়। ততকালীন আরব সমাজের লোকগুলো সকল ধরনের কু-প্রথা ত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহন করে। ইসলামের ছায়াতলে আসার সাথে সাথে সকল মুসলিম বাপ দাদার আমলের সকল প্রথা ভূলে গিয়ে ইসলাম ভিত্তিক জীবন গঠন করে।

ততকালীন আরবের লোকেরা আরবী ভাষা জানত বলেই অনেকে ই ইসলাম বুঝেও গ্রহন করেনি শুধুমাত্র বাপ-দাদাদের করা সকল কুসংষ্কৃতিকে ত্যাগ করতে হবে বলে। আবু জেহেল ইসলামের কলেমা ভালোভাবেই বুঝত কিন্তু সে জানত যে সেটা মেনে নিলে তাকে বাপ দাদার প্রথা ত্যাগ করে কুরাআন ভিত্তিক জীবন গঠন করতে হবে। ফলে সে ইসলাম কবুল করেনি। এরকম আরো অনেকেই আছে যারা বুঝেও ইসলাম কবুল করেনি শুধুমাত্র বাপ দাদার সংষ্কৃতিকে ত্যাগ করতে হবে বলে।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
“আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” সূরা সাবাঃ ২৮

এমনভাবে দেখা যায় ইব্রাহিম (আঃ) এর সময়ে বাপের মূর্তিপুজার বিরুদ্ধে রূখে দাড়াতে। এভাবে সকল নবী রাসুল গন সমাজের কুসংষ্কারগুলো মূলে আঘাত হেনেছিলেন ফলে সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তৈরী হয়েছিলো।

ইসলাম আসার পূর্বে বাংলার মাটি বৌদ্ধ ও হিন্দু সংষ্কৃতিতে পরিপূর্ন ছিলো। সংষ্কৃতিরও ধর্ম আছে। ইসলাম এক্ষেত্রে সকল ধরনের কুসংষ্কার মুক্ত। তাই ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলো বা মানুষের জাত শত্রু শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ধোকা দেয়ার জন্য ফন্দি তৈরী করে চেষ্টা করে কিভাবে তাকে আল্লাহর স্মরন থেকে দুরে রাখা যায়। কখনও নিজেদের বাপ-দাদার সংষ্কৃতি, কখনও বা ভূ-জাতিগত সংষ্কৃতির কথা, কখনও আধুনিকতার নামে মানুষকে তাদের স্রষ্টার দেয়া রহমতের চাদর থেকে বের করে নিয়ে আসে। মানুষের মনকে ভোগবাদী করে তোলে ভূলিয়ে রাখে ফলে মানুষ অন্ধভাবে দেশীয় কালচার, স্বদেশী সংষ্কৃতি বিভিন্নরকম শব্দ ব্যবহার করে নিজেদেরকে শয়তানের সাথে কম্পমাইজ করে ফেলে শয়তানের পাতা ফাদে পা দেয়। শয়তানের ফাদে পা দিয়ে মানুষ হয়ে উঠে সংষ্কৃতি প্রেমী। দেশীয় সংষ্কৃতির কথা যখন মাথায় প্রকট হয়ে দেখা দেয় তখন মুসলিম হিসেবে নিজের পরিচয়টা গৌন হয়ে যায় ফলে মুসলিম হিসেবে যে তার করনীয় সেটি আর সামনে থাকেনা। ফলে মুসলিম পরিচয় নিয়েও সে সংষ্কৃতির নামে নানা ধরনের অনৈসলামিক কাজ করে যায়।

কুরআন পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলতেছেনঃ
“হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো এ নির্দেশই তোমাদিগকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাক এবং আল্লাহর প্রতি এমন সব বিষয়ে মিথ্যারোপ কর যা তোমরা জান না।”
সূরা বাকারাঃ১৬৮-১৬৯

বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখে বিদ্যমান যে সংষ্কৃতি সেটি মূলত ইসলাম বিমূখতার একটি ধাপ। সংষ্কৃতির নামে অতি কৌশলে মানুষকে ইসলামী সংষ্কৃতি থেকে দুরে রেখে তাদের আল্লাহ প্রেমকে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। ১৬ কোটির লোকের বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা, রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে মানুষ সাময়িক স্বস্থির জন্য হলেও এসব কু-সংষ্কৃতির মধ্যে জড়িয়ে পরছে। বৈশাখের মংগল শোভা যাত্রার নামে শিরকের কাজ যেমন করা হচ্ছে ঠিক তেমনি যৌনতাকেও উষ্কে দেয় এমন সব কাজকে উতসাহিত করা হচ্ছে।

আমরা যদি এখনই সচেতন না হই তাহলে অদুর ভবিষ্যতে আমাদের সকলকে এর ভুক্তভোগী হতে হবে। সুতরাং সাবধান! নিজে বাচতে চাইলে, নিজেদের বাচ্চাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাচতে এবং দুনিয়ার অসন্মান থেকে বাচতে হলে আমাদের সচেতন হয়ে ধর্মভিত্তিক জীবন যাপন করে পরিচ্ছন জীবন ব্যবস্থাকে উতসাহিত করতে হবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে বলেছেনঃ
“মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তায়ালা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।”
সূরা আত-তাহরীমঃ ৬