চায়ের একটি বিশেষ রেসিপি।

যারা চা পানে বিরক্ত, চায়ের নেশা ছাড়তে কষ্ট হচ্ছে নতুন কিছু ভাবছেন। তাদের জন্য চায়ের একটি বিশেষ রেসিপি।

লাইম বা বাংলায় যেটাকে আমরা পাতি লেবু বলে জানি তবে যদি ব্ল্যাল পাতি লেবু পাওয়া তাহলে আরো বেশি টেষ্টি হবে। কালোটিতে একটু তেল তেলে ভাব থাকে। যারা দেশের বাহিরে আছেন তারা খুব সহজেই পেয়ে যাবেন ড্রাইড ব্লাক লাইম। আর যদি কালোটি না পান তাহলে সবুজটি দিয়ে একবার টেষ্ট করে দেখতে পারেন। যাদের বাড়িতে পাতি লেবুর গাছ আছে তারা লেবু রোদে শুকিয়ে ফেলে সেটি ব্যবহার করতে পারেন।

প্রথমে পানি গরম করে নিন তারপর সেই গরম পানিতে শুকনা লেবুটি টুকরা করে দিয়ে দিন কিছুক্ষন ভালোভাবে সিদ্ধ করুন। দেখবেন যখন পানি ফুটছে তখন পাত্রটি নামিয়ে রাখুন তাহলে টুকরা গুলো নিচে বসে যাবে তখন আপনার চা রেডি। ডায়াবেটিস রোগীরা চিনি ছাড়া পান করবেন।

unnameddried-limes-75g-limu-omani-limoo-omani-black-lime-6716-p

SONY DSC

dried-black-lime

এই চা পানের উপকারীতা,
চায়ের রাসায়নিক উপাদান থেকে আপনি দুরে থাকতে পারবেন। চায়ের মধ্যে অতিরিক্ত লেবু ব্যবহার না করলেও চলবে। এটি আপনাকে কিনতে হবে না বাড়ির লেবু ব্যবহার করতে পারেন। ঠান্ডাজনিত রোগে এটি অনেক উপকারী। নিচে চায়ের রং দেখলে আপনার মনেই হবে না যে আপনি অন্য কিছু পান করছেন, মনে হবে লেবু চা। সুতরাং আজই ট্রাই করুন। নিচে আপনাদের জন্য তৈরী চায়ের ছবি ও লেবুর ছবি দেয়া হলো।

শিরোনামহীন ভাবনা

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো মায়ের পেট/গর্ভ। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরিহ, পাপহীন মাসুম হলো গর্ভের বাচ্চা। যাদের সন্ত্রাসের কারন মায়ের পেটের বাচ্চা রেহাই পায় না তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। মজার বিষয় এসব সন্ত্রাসীই দেশে এখন পুলিশের আশ্রয়ে অপরাধ করে সদর্পে ঘুরে বেরাচ্ছা। আর নিরীহ স্কুল মাদ্রাসায় পড়া ছোট ছোট শিশু বালককে অ্যারেষ্ট করে জেলে নেয়া হচ্ছে।

দেশে গিয়েছিলাম, অনেকেই বললো ডিবি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে তোকে অ্যারেষ্ট করে মামলা দিবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার এলাকার ছোট ভাই দেশে গিয়ে শুনি সে আমারই এলাকার যুবলীগের ইউনিয়ন সভাপতি তাকে ফোন দিলাম। সে বললো ভাই বাসায় থাইকেন না একটু নিরাপদে থাকেন। এরপর আইনশৃংখলা বাহিনীতে কর্মরত এক ফ্রেন্ডকে বললাম দোস্ত এই অবস্থা পুলিশ হয়রানি করছে, তারা ভাসায় শিবির করলেই কেন পুলিশ হয়রানি করবে। শিবির যে কেউ করতেই পারে। বন্ধু হয়ত কাজে অনেক ব্যস্ত থাকে হয়ত দেশের প্রতিদিনের খবরের কাগজ পড়ার সময় খুব কম পায়। যাহোক এক বন্ধুর আত্নীয় এক এআইজির কাছে গিয়ে কথা বলার সুযোগ হলো। উনি ভালো পরামর্শ দিলেন কিন্তু যখন বললাম যে মামা পুলিশ আমাকে হয়রানি করছে, আমার নামে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে পুলিশ সেগুলোকে সঠিক মনে করেই হয়রানি করছে। সেই এআইজি মামার ভাষায় দেশের অবস্থা এমন হয়ে যায়নি মানুষ পুলিশকে যা বলবে পুলিশ তাই বিশ্বাস করবে। কি করে উনাকে বুঝাবো আমার অবস্থা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা। হয়ত উনিও অনেক ব্যস্ত থাকেন কাজে সময় পান না পত্রিকা পড়তে। এত বড় মানুষ সময় কম পাওয়াই স্বাভাবিক।

মনেপড়ে গেলো ইসলামের স্বর্ণযুগের মুসলিম শাসকদের কথা।
সে সময় মুসলিমদের জয় জয়কার। বিশাল এক সাম্রাজ্যর শাসক ছিলেন মুসলিম শাসক রা তারপর প্রত্যেকটি নাগরিকের জানমানের ব্যাপারে তারা ছিলেন সজাগ।

গতকাল শুনলাম খুলনায় ১৫০ জন মাদ্রাসার ছাত্রকে অ্যারেষ্ট করে জেলে নিয়ে গেছেন ক্ষমতাধর পুলিশ বাহিনী। এই ছাত্রগুলোর অপরাধ কি হয়ত পুলিশ নিজেও জানেনা। যাহোক হয়ত এই ছাত্ররাই মানুষের মধ্যে পড়ে না।

আমার এলাকার এক ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, নাম রাসেল। বেশ কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের ছেলেরা দিন দুপুরে পুলিশের সামনেই তার একটা পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তার অপরাধ শিবির করে সে। তার পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাকেই পুলিশ রা অ্যারেষ্ট করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে দেশে গেলে সৈয়দপুরে ছেলে হিসেবে তার সাথে পরিচয় হলো, আমাকে তার আতংকের কথা জানালো যে ভাই দেশে থাকলে আমারে আবার ধরে নিয়ে যাবে একটু সাহায্য করেন। আমি ভেবেছিলাম দেশে এখনও কিছু ভালো মানুষ আছে ছেলেটা তরুন বয়ষে পা হারালো আবার তাকে কেন জেলে নিয়ে যাবে। দুদিন পর জানালো ভাই অনেক ভয়ে পরীক্ষা দি্চ্ছি ছাত্রলীগের ছেলেরা আমারে মেরে ফেলার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রেও আসে। যাহোক দু-মাস আগে শুনলাম পরীক্ষা দিতে গিয়ে পুলিশ তাকে অ্যারেষ্ট করে জেলে দিয়েছে।
প্রশ্ন হলো যারা তার পা টা বিচ্ছিন্ন করলো তাদের শাস্তি কে দিবে? পুলিশ যদি নিজেদের মানুষ মনে করে তাহলে তাদের মনে এসব অন্যায় হয়ত বিবেক কে নাড়া দেয়ার কথা। পুলিশরা ব্যস্ত সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে তাই যারা অসহায় তাদের হৃদয়ের কান্না পুলিশের হৃদয়ে পৌছানোর মত উপায় নেই।

মাঝে মাঝে কিছু ভাইয়ের অসহায়ত্ব দেখে, কাহিনী শুনে সত্যি কান্না চলে আসে। যে আসলেই কি আমরা মানুষ। আওয়ামী লীগ হোক আর শিবির ই হোক সবাইতো এক দেশের সন্তান।

যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন ৪ দলীয় জোট ক্ষমতায়। ক্যাম্পাসে শিবিরের মিছিল দেখেলেই বুঝা যেত মানুষ আসলেই শিবিরকে কত ভালোবাসে। এই ভালোবাসা ক্ষমতার নয়, এই ভালোবাসা নিরাপদ বোধের আর এই নিরাপত্তা জীবনের মান-সন্মানের। শিবির ক্যাম্পাসে থাকলে অনৈতিক কাজ কম হয়। এই কারনেই অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদ্রাসা বলত। আমার ক্যাম্পাসে পড়াকালীন সময়ে সৈয়দ আমীর আলী হলে ছিলাম ঐ হলে ছাত্রলীগের অনেক ছেলে ছিলো কিন্তু কখনও শুনিনি শিবিরের কেউ তাদের গায়ে হাত তুলেছে। মজার বিষয় হলো আমার রূমমেট ছিলো শিবিরের ব্লগ সভাপতি তার মামাতো ভাই নাম ফিরোজ দিনাজপুর বাড়ি তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ করত, সেটি সেই সময়ের হল সভাপতি কুষ্টিয়ার আক্তার ভাইও ভালো করে জানতেন বরং উনি এসে ফাজলামি করতেন যে এরা ঘষা আওয়ামী লীগ কখনও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। সেই ফিরোজ শিবিরের সীটে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয় চান্সও পায় ম্যানেজেমেন্টে সেই ফিরোজই পড়ে আমীর আলী হলের ছাত্রলীগের আহবায়ক হওয়ার জন্য লবিং গ্রুপিং করে পড়ে সেই ক্যাম্পাসে শিবিরতো বটে সাধারন ছাত্রদের জন্য আতংক হয়ে দাড়ায় তার নাম হয় পেড়েক ফিরোজ। কারন চাদা না পেলে সে নাকি গায়ে পেড়েক মারত।

ঐ সময়ে হলে অনেকেই ছিলো ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো কিন্তু কেউ কারো দ্বারা আঘাত পেয়েছে বলে শুনিনি। অথচ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর শিবিরের নিরীহ ছেলেদের মেরে তাদেরই আবার পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা অহরহই ঘটছে। এসব ঘটনায় সাধারন ছাত্রও বাদ যাচ্ছে না।

আমার এলাকার ছেলে হায়দার আলী আমাকে মামা বলে ডাকে। বেচারা কোন রাজনীতিই করতো না অথচ ছাত্রলীগ তাকেও শিবির বলে ধরিয়ে দেয় এখন বিসিএস পেয়েও বেচারার চাকরী হচ্ছে না। ভাইভার রেজাল্ট নাকি আটকিয়ে রেখেছে। এসব ঘটনার সাথে পুলিশ অতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ পুলিশের কাছে এসব খবর নাকি পৌছায় না।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের রাজনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশকে জাতিগতভাবে সংকটে ফেলতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রতাক্ষভূমিকা রাখছে। সমাজে এক শ্রেনীর মানুষ এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছে, বাড়ীছাড়া হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে অসংখ্যা মানুষ।

আওয়ামীলীগের শিক্ষিত ভালো মানুষ গুলোর উচিত, এমন নোংরা রাজনীতি না করা। রাজনীতিকে আদর্শ দিয়ে, নিজেদের কাজ দিয়ে মোকাবেলার চেষ্টা করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুলিশকে আরো ক্ষমতাধর করুক। তাদের কানকে বড় করে দিন। তাদের মধ্যে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের দ্বায়িতবোধকে বাড়িয়ে দিন এই কামনা করি।

সবশেষে, আমার এক বন্ধু আমার ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে ক্যানাডা থেকে ফোন দিয়ে বলছে শোন; দেশকে নিয়ে ভাবার জন্য ১৬ কোটি মানুষ আছে, তুই বিদেশে আছিস বাইরে থাকার চেষ্টা কর দেশের জন্য চিন্তা বাদ দে”

বর্তমান অবস্থায় তার পরামর্শ সত্যিই অনেক ভালো। কিন্তু গ্রাম বাংলায় বেড়ে উঠা মানুষগুলো তাদের মাতৃভূমির প্রতি আসক্তি কি সহজেই ছাড়তে পারে? যেদিন সমাজের ভালোমানুষ গুলো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভূলে সম্মিলিত কন্ঠে অন্যায়কে অন্যায় বলবে, ন্যায়ের জয়গান গাইবে, মানবতার জন্য কাজ করবে সমাজের সবাইকে নিজেদের মত একজন মনে করবে। সেদিনই মানবতার জয় হবে, সেদিন ই আমরা সভ্য বাংলাদেশি হতে পারব।

ডাঃ মীম এবং সালমা ইসলামঃ বাংলাদেশ

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে খবরটি নিয়ে অনেক মাতামাতি চলছে। আমার কাছে ঘটনাটি খুবই স্বাভাবিক মনে হয়েছে। আমরা যখন আমাদের অজান্তেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই তখন সেই অন্যায়যে আমাদের দিকে ধাবিত হয়ে আসবেনা এটা আশা করা নিতান্তই বোকামী।

ডাঃ মীম এবং সালমা ইসলাম সমাজের দুটি চরিত্র। এই চরিত্র দুটির মধ্যে একটি চরিত্র সালমা ইসলাম আমাদেরই সৃষ্টি। আমাদের কারো ভোটে তিনি আমাদের মানে সমাজ নিয়ন্ত্রকদের একজন। আমরা যখন নীতিহীন মানুষদের নির্বাচিত করি, যখন ভোটের উল্লাসে শরীক হয়ে আমরা আনন্দে মেতে উঠি তখন হয়ত খেয়াল করিনা এই নীতিহীন মানুষগুলোর নখের আচড় একদিন আমাকে আপনাকে রক্তাক্ত করতে পারে।
প্রতিবাদ করতে হলে, অন্যায়কে সমাজ থেকে দূর করতে হলে অন্যা্য়ের প্রতিবাদে যদি আপন পর ভাবনা তৈরী করেন তাহলে সেটি সমাজ থেকে দূর হবে না। এর শিকার সবাইকেই হতে হবে। আজকে আমি আগামীতে আপনি। কারন নীতিহীন, মানুষরূপী হায়েনাদের চরিত্র একই থাকে। সমাজে আপনার চারপাশের মানুষ গুলো যখন অন্যায়ের শিকার হয়, যখন অন্যায়ভাবে নিরিহ তরুনদের ধরে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার চালানো হয়, যখন ক্রস ফায়ারের নামে কোন মায়ের বুকের সন্তানকে কেড়ে নেয়া হয় তখন আপনি, আমি যদি চুপ করে থাকি, তখন যদি আপনার মানব হৃদয়ে রক্তক্ষরন না হয়, তখন যদি আপনার মনে প্রতিবাদের ঝড় না উঠে, তখন যদি আপনি নিজেকে অত্যাচারীতের একজন ভাবতে না পারেন তাহলে বুঝবেন সেই অন্যায়ের সমর্থকদের মধ্যে আপনি আমিও শামীল। সেই অন্যায়েই বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন সময়ে ছোবল মারছে সমাজের সবাইকে।
সমাজ থেকে অন্যায় দূর করতে হলে অন্যায়কে অন্যায় ভাবতে শিখুন। সব অন্যায় এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে নিজেদের কলমকে চালু রাখুন। নিজেদের প্রজাতি হলে প্রতিবাদ করবেন অন্য কারো প্রতি অন্যায় হলে চুপ করে থাকবেন তাহলে আপনিও সেই অন্যায়ের নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছেন। এগিয়ে আসুন সবার জন্য। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার জন্য যারা অন্যায়ভাবে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তাদের পাশেও দাড়ান। কারন অন্যায় কারীরা একই গোষ্ঠিভুক্ত যখন তারা প্রতিরোধরের সম্মুখীন হয় না তখন তাদের সমর্থক ও সাহস বেড়ে যায় সমাজে অন্যায়ের রাজত্ব কায়েম হয়, বর্তমান বাংলাদেশে সেটিই হয়েছে।
ডাঃ এর মধ্যেও অনেকেই আছে ভূয়া সার্টিফিকেইট ব্যবসা করে। আমি নিজেই এর স্বাক্ষী। পড়াশোনা করে ডাঃ না হয়ে অনেকেই আছে অমানুষ হয় আপনারা যারা ডাঃ চেয়ে নিজেদের মানুষ বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তাদের উচিত এমন ডাঃ দের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। তাহলে দেখবেন সবাইকে অন্যায়কে ঘৃণা করছে।
যেদিন আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসতে শিখবো, যেদিন সমাজের সবাইকে একটি পরিবারের সদস্য ভেবে ট্রিট করতে পারবো, যেদিন বিভিন্ন প্রজাতিতে নিজেদের ভাগ করা ভূলে যাবো, সবাইকে এক পরিবারের সদস্য ভেবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখবো সেদিনই আমরা মানুষ হতে পারবো, সেদিনই সমাজে মানুষের রাজত্ব কায়েম হবে। তার আগে অন্যায়ের প্রতিনিধিদের রাজত্ব চলবে, একটু গুতা খাইতেই হবে, কাউকে কম কাউকে বেশি। আমরা গুতা খেয়ে বড় ই তাই গুতা খাওয়াটা আমাদের অভ্যসে পরিনত হয়েছে। সুতরাং একটু গুতাগুতি না হয় খাই। চেতার কি আছে।
আমাদের মনের যে সুপ্ত অন্যায়গুলো আছে সেগুলোর বহিপ্রকাশ হলো সালমা নামক চরিত্র। সালমারা আর কেউ নন, আমাদের মানুষ স্বত্তার ভেতর যে অন্যায়ের দানব আছে তার বাহ্যিক রূপ মাত্র। কারন সালমাদের আমরাই নেতা বানাই। জয় হোক সালমাদের।

বাংলাদেশ ভ্রমনঃ কিছু কথা এবং কিছু ব্যাথা

দেশে গিয়েছিলাম আমার ক্যামেরাটা সাথে নিয়ে, ইচ্ছে ছিলো দেশে গিয়ে বর্ষার কিছু রং এর ছবি তুলবো, ঘাস ফড়িং, প্রজাপতি আর দেশিয় পাখিদের বন্দী করে রাখবো ডিজিটাল ফ্রেমে। ইচ্ছে ছিলো গতবারের মত গ্রামের গিয়ে প্রকৃতির মাঝে অস্তগামী সূর্য্যের লাল ছবি তুলবো, গ্রামের দুরন্ত বালকের নির্মল হাসির ছবি তুলবো। ইচ্ছে ঈদটিকে উদযাপন করবো সবার সাথে সেটিও হয়নি।

ইচ্ছে ছিলো অনেক কিছুর। তবে ইচ্ছেগুলো খুব বেশি দামী ছিলো না। কিন্তু কোথায় যেন বদলে গেছে আমার ফেলে আসা সময়গুলো, বদলে গেছে আমার সেই গ্রামের মানুষগুলো, হয়ত বদলে গেছে প্রকৃতি, হয়ত পরিবেশ প্রকৃতি আমাদের আর আপন ভাবতে পারছেনা। কোথায় যেন অসামন্জস্যতা, কোথায় যেন অমিল।

তবে বাসার বেডে শুয়ে জানালায় উকি দেয়া আকাশ দেখেছিলাম, মনে হয়েছিলো আকাশের রংটা ঠিকই আছে, দেখেছিলাম বাসার আংগিনায় শালিক পাখির মুখ থেকে আহার গুলো নেয়ার জন্য দৃশ্য, বাচ্চা গুলোর আদুরে চিতকার। ছবি তুলতে গিয়ে পারিনি তারা এসেছিলো ক্ষনিকের জন্য।

ফিরে আসার শেষ কয়দিন আকাশটা কেমনজানি আপন মনে হয়েছিলো। আকাশের নীল রংটা কাছে ডাকছিলো সাথে গাছের সবুজ।

তবে মানুষগুলোর রং বদলে গেছে। আগের সাদা মানুষগুলো জীবনের জটিল হিসেবে কুটিল হয়ে উঠেছে। মানুষ নামী প্রানীগুলো এখন আর সেই সাদা মনের মানুষ নেই সবাই কেমন জানি মানুষের মুখোশে বন্য হায়েনার মত হয়ে উঠছে, কিসের জেন নেশা, মনে হয়েছে পুরো দেশটা একটি জংগল হয়ে উঠেছে যেখানে প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের তীর‍্র আকাংখা হয়ে উঠেছে মূখ্য। বিত্তহীন মানুষগুলোর চিত্ত কেমন জানি কলুষিত হয়ে উঠেছে, মানুষগুলো বিত্তের তীব্র মোহে কেমন জানি বদলে গেছে, সেখানে চেষ্টা করে বড় হওয়ার চেয়ে মানুষকে ঠকিয়ে বড় হওয়ার আকাংখাই মনেহয় মূখ্য হয়ে উঠেছে, সততা আর ন্যায়ের জায়গায় এখন অসততাই সমাজের নীতি হয়ে দাড়িয়েছে। সেখানে কেউ নীরব থেকে অন্যায়ের জয়গান গাইছে আর কেউ ঘটনায় জড়িয়ে ক্ষনিকের আদিম উল্লাসে মেতে উঠছে।

দেশে গিয়ে দেখলাম শুধুমাত্র মতাদর্শের পার্থক্যের কারনে একজন মানুষকে কিভাবে বার বার জেলে যেতে হয়। দেখলাম স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে কিভাবে মানুষকে নিজের বাড়ি ছেড়ে রাতের পর রাত পালিয়ে থাকতে হয়। দেখলাম কিভাবে মানুষের মুখোশধারী সমাজপতিরা তথাকথিত ভালো মানুষগুলো সেগুলোকে উতসাহ দিয়ে নিজেদের পশুত্বের প্রকাশ করছে, দেখলাম কিভাবে মানুষ ন্যায়কে সুকৌশলে এড়িয়ে যায়।

সৈয়দপুরের হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম ভাই, যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম তখন থেকে মানুষটাকে জানি। কখনোই কারো সাথে ঝগড়া বা রাগ করে কথা বলেছে শুনিনি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারনে বেচারা নিরিহ মানুষটাকে কয়েকবার ধরে নিয়ে চোর-পুলিশ খেলা খেলছে আমাদের পুলিশ ভাইয়েরা। ধরে নিয়ে মাইর, টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া, রাজনীতি যাতে না করে সেজন্য শারীরিক অত্যাচার করা বেশি টাকা পাইলে ছেড়ে দেয়া, এসবের মধ্যে বেচারার জীবন চলছে। আসার আগে কথা হলো বললেন আবার অন্য এলাকার একটা মামলা দিয়েছে, হয়ত আবার কোনদিন পুলিশ ধরবে, মারবে। আমরা সমাজের ভালোমানুষ গুলো মনের বিকৃত আনন্দে পুলকিত হবো, প্রতিপক্ষের একজন মাইর খাচ্ছে শুনে আমরা আদিম বিকৃত আনন্দে উল্লাস করবো।

এভাবে আর কতদিন?? আমরা কি পারি না মানুষ হতে?? মানুষের মতামতকে শ্রদ্ধা করতে?? আমরা কি পারিনা মানুষকে ভালোবাসতে??

হয়ত অনেকেই বলবে দেশে এমন অবস্থা নেই, তাদের প্রতি অনুরোধ একবার নিজেকে মানুষ ভেবে চারপাশে তাকান দেখবেন আমরা মনুষ্যত্বকে ধ্বংস করছি, আমরা সমাজের অপরাজনীতির ফাদে বন্দী হয়ে মানবতার অপমান করছি, দেখবেন সমাজের ভালো ছেলেটি এখন পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়ায়, চোর-বদমাশ-গুন্ডা-নেশাখোর রা এখন নিশ্চিন্তে ঘুমায়। আর সেই ঘুমের ব্যবস্থা আমরাই করে দিয়েছি। কারন আমরা অপরাজনীতির গড়া সমাজনীতির কাছে নিজেদের স্বত্তাকে বিক্রি করে দিয়েছি নিছক নোংরা রাজনৈতিক স্বার্থে।

প্রত্যাশা একটাই, সবাই সবাইকে ভালোবাসুক, নিজ ভূমে সবাই নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারুক, বাংলাদেশের মানুষগুলোর মধ্যে আগের সেই শ্রদ্ধাবোধ ফিরে আসুক। পুলিশগুলো সমাজের ভালো মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিখুক।

“আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম

হিন্দু বাড়িতে যাত্রা গান হইত
নিমন্ত্রণ দিত আমরা যাইতাম
জারি গান, বাউল গান
আনন্দের তুফান
গাইয়া সারি গান নৌকা দৌড়াইতাম

বর্ষা যখন হইত,
গাজির গান আইত,
রংগে ঢংগে গাইত
আনন্দ পাইতাম ।।
কে হবে মেম্বার,
কে বা গ্রাম সরকার
আমরা কি তার খবরও লইতাম ।।
হায়রে আমরা কি তার খবরও লইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম ।।

বিবাদ ঘটিলে
পঞ্চায়েতের বলে
গরীব কাংগালে
বিচার পাইতাম ।।
মানুষ ছিল সরল
ছিল ধর্ম বল ।।
এখন সবাই পাগল
বড়লোক হইতাম ।।

আগে কি………

করি ভাবনা
সেই দিন আর পাব নাহ
ছিল বাসনা সুখি হইতাম ।।
দিন হতে দিন
আসে যে কঠিন
করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম….”

সবাই ভালো থাকুক!

জীবনে ভালোভাবে বেচে থাকার জন্য কি দরকার হয়?

একজন জিজ্ঞেস করলো জীবনে ভালোভাবে বেচে থাকার জন্য কি দরকার হয়?

প্রশ্নটা অনেক জটিল মনেহলেও অনেক সহজ। জীবনকে আমরা কখনই জীবনের মত ভাবতে শিখিনা। জীবনকে আমরা সিনেমার মত মনেকরি বলে এসব প্রশ্নের উত্তর খুজে ফিরি। অবশ্য উত্তর দিয়েছিলাম একটি সুস্থ্য মন দরকার, সুস্থ্য মনকে সুস্থ্য রাখতে পারে এমন একটি মানসিকতা দরকার, আর জীবনকে বুঝে চলার অভ্যস থাকা দরকার।

আপনি যখন জীবনে অন্যর মত হওয়ার চেষ্টা করবেন তখনি সমস্য শুরু দিবেন। প্রত্যেকটি মানুষের জীবন এক একটি গল্প। এই গল্পগুলো কখনই এক হয় না। কারন গল্পের উপকরন গুলো এক থাকেনা। কিন্তু আমরা বরাবরই মিলাতে চাই। তুলনা করতে চাই, অন্যের মত পেতে চাই, হতে চাই। এসবে নিজের মধ্যে মনস্তাত্তিক দ্বন্দ্ব তৈরী করে ফলশ্রুতিতে আমরা মন নামক একটি সুন্দর নদীর স্বাভাবিক গতি পথে বাধার তৈরী করি ফলে মন অশান্ত হয়ে উঠে, ঝড় উঠে বৃষ্টি ঝড়ে।

ভালো থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজের মত করে নিজের ভূবনটাকে নিয়ে পথ চলা, নিজের মন নামক নদীকে নিজের বিবেক নামক শাসকের অধিনে নিয়ে গিয়ে মন নামক নদীর গতিকে স্বাভাবিক রাখার ব্যবস্থা করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূখকে মানুষের জন্য সৃষ্ট করেছেন। আল্লাহ চান সবাই সূখি হোক। ভালো থাকতে সবাই পারে না। ভালোথাকতে কিভাবে হয় সেটি রেল লাইনের ধারে পড়ে থাকা পুড়াতন কোন বগিতে বসবাসরত শিশুদের মুখের হাসির দিকে তাকালে উপলব্ধি করা যায় কিংবা ঢাকায় পথশিশুদের মুখের হাসি কিংবা গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া মানুষগুলো মুখের হাসির দিকে তাকালেই উপলব্ধি করা যায় আসলে সূখ কিসে পাওয়া, ভালোথাকা কারে কয়। যারা এই হাসি গুলোর মধ্যে সূখ খুজে পায়না তাড়া যত বড়ই হোক না কেন, বাহিরে তাদের ভূড়ি ভূড়ি থাকনা কেন তাদের মনে সূখ বলে কিছু নেই।

যখন আপনি কাজ শেষে রাতের বেলা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন, সেদিন ভাববেন আপনি ভালো আছেন। যখন দেখবেন চিন্তায় আপনার ঘুম আসছেনা তখন জানবেন আপনি এমন কিছু আশা করছেন যা আপনার সাধ্যের বাহিরে কিংবা আপনি তার জন্য নিজেকে তৈরী করেননি।

সুস্থ্য চিন্তা মানুষকে সফল করে তোলে, অসুস্থ্য চিন্তা মানুষকে করে তোলে রোগী। সুস্থ্য চিন্তা মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে দেয়, অসুস্থ্য চিন্তা বিনিদ্র রজনী পাড় করে আপনার হৃদয়ে ভয়ংকর রোগের বাসা তৈরি করে।

সবশেষে যখন আপনি আপনার মত করে আপনাকে আবিষ্কার করতে পারবেন সেদিন আপনি ভালো থাকার উপায় পেয়ে যাবেন। পৃথিবীর অনেক কিছুই সিনেমার মত। মেকি, ছলনা আর অভিনয়ে ভরপুর এই জীবন। এটাই জীবন মানুষকে ফেরেস্তা ভাবতে গেলে যেমন আপনি অসুখী হবেন, তেমনি জীবনটাকে আপনার মত করে চাইলেও অসুখী হবেন।

যা আছে তাই নিয়ে সুখী থাকুন, নিজের সময়টাকে কাজে দিয়ে নিজের সামর্থ্যর সবটুকু ব্যবহার করে নিজের মত করে সফল হোন এবং সেটাকেই আপনার প্রাপ্য ভাবুন ভালো থাকবেন।

দুনিয়ার সবাই সুখী হোক, ভালো থাকুক!

……

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই-প্রীতি নেই-করুনার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি,
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।
– অদ্ভুত আঁধার এক-জীবনানন্দ দাশ’

কেউ বা রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত কেউ বা ধর্মপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। কেউ বা ব্যস্ত নিয়ে স্বার্থনীতি। কেউ বা কথার লড়াইয়ে, যুক্তির লড়াইয়ে জয়ী বীর পুরুষ। চারিদিকে কোলাহল, কখনও বক্তৃতা, কখনও নিজের দেয়া যুক্তি, স্ব স্ব ক্ষেত্রে আমরা সবাই অসম্ভব পারদর্শী। কম বেশি সবাই স্বার্থবাদী। কেউবা প্রকাশ্যে কেউবা একটু লুকানো। কেউ বা জান্নাতে যাওয়ার জন্য অনেক ব্যকুল। কেউবা আবেগে ক্রন্দন করি। তবে মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমরা কেউই স্বার্থহীন থাকতে পারিনি। মানুষকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে কখনও বা শরীরের রং, কখনও বা শ্রেনী বৈষম্য, কখনও বা গোষ্ঠী গত দ্বন্দ্ব কখনও জাতীয়তা বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। ধর্ম ও অধর্মের লড়াইয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমরা বাধার প্রাচীর দুর করতে পারিনি। এখানে আমরা থেকেছি বরাবরই সংকীর্ণ। কখনও বা মতাদর্শের কারনে, কখনও বা একই মতাদর্শের ভেতরে উচু-নিচু মানের কারনে, কখনও শ্রেনীর বৈষম্যের কারনে মানব প্রেম বরাবরই পরাজিত হয়েছে। অবহেলিতরাই বেশি ত্যাগ স্বীকার করে, জীবনে কষ্ট করে অন্যর সূখের কাচামাল সরবরাহ করে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ ইসলামের প্রচার শুরু করার আগে মানুষের ভালোবাসার পাত্র হয়েছিলেন নিজের চারিত্রিক মার্ধুর্য্য দিয়ে। উনি ভালোবাসার বাণী পৌছে দিয়েছিলেন সবার দ্বারে দ্বারে। আমরা কতটুকু ভালোবাসা মানুষের দ্বারে পৌছাতে পারছি একটু ভাববার বিষয় বৈকি। ভালোবাসা না দিয়ে ভালোবাসা আশাকরা বোকামী। মানুষের মনে স্থান পেতে হলে শুধু মাত্র মানুষের জন্য বেশি বেশি কাজ করা উচিত। শুধু মাত্র মানব কল্যানে। এখানে আমরা পিছিয়ে অনেক অনেক দুর। সমাজের কিছু মানুষকে আমরা কখনো বা মানুষই মনে করিনা, কখনও নিজেদের জান্নাতবাসী ভেবে তাদেরকে নরকের আগুনে দেখে আচ লাগার ভয়ে তাদের দিকে চেয়ে তাকাইনা। অথচ একটুখানী ভালো দৃষ্টিভংগীই হয়ত পারে সকল মন্দ দুর করে সুন্দর এক সমাজ গড়তে
হে মানব যদি বিশ্বাস কর স্রস্টার বিশালতায় –
তবে কেন নিজেকে এত ক্ষুদ্র কর নীচতায় !
যদি বিশ্বাস কর আদম-হাওয়া, এডামস-ইভ কিংবা মন্যু- সীতায়-
তবে জেনো সকলে তোমার ভ্রাতাই ।
যদি শুনে থাক গল্প হাবিল-কাবিলের-
তবে জেনো নিশ্চয় আছে কারসাজি ইবলিসের ।
হে মানব রঞ্জিত কোরনা আর হাত ভ্রাতার রক্তে –
নিমজ্জিত হয়োনা আর আদিম পঙ্কে ।
এস আলোর পথে , উদ্ভাসিত হও প্রজ্ঞায় –
সৃষ্টির সেরা জীব তুমি – দীক্ষিত হও মানবতায় ।

ড. আর্থার আলিসনের (ড. আব্দুল্লাহ আলিসন) ইসলাম গ্রহনের কাহিনী

শিক্ষা কখনো মানুষকে পৌছে দেয় দাম্ভিকতার শীর্ষে কখনও বা মানুষের হৃদয়কে করে দেয় কোমল, করে দেয় প্রশান্ত হৃদয়, সঠিক শিক্ষা সত্যের আলোয় মানুষকে উদ্ভাসিত করে তোলে। ইসলাম বিষয়ে অনুসন্ধান মানুষে বিমোহিত করে তোলে। কিছু সময় তা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। কিছু নন মুসলিমের ইসলাম গ্রহনের পেছনে অনেক মজার এবং চমকপ্রদ কাহিনী থাকে, এমনি একটি নাম হলো প্রফেসর আর্থার আলিসন ইসলাম গ্রহনের পর যার নাম প্রফেসর আব্দুল্লাহ আলিসন হয়েছিলো। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ছিলেন, তিনি British Society for Psychological and Spiritual Studies এর প্রেসিডেন্ট হিসেবেও অনেক বছর দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার স্ট্যাডি অফ রেলিজিয়ন নামক কোর্সের মাধ্যমে তিনি ইসলামের বিষয়ে পরিচিত হন। ইসলামকে অন্য ধর্ম গুলোর সাথে তুলনামূলক আলোচনা, অন্যানা মতবাদ যেমন হিন্দুত্ববাদ ও বৌদ্ধ মতবাদের সাথে আলোচনা এবং চিন্তা করে দেখলেন ইসলামের সাথে তার জন্মগত প্রকৃতির অনেক মিল আছে।

১৯৮৫ সালে প্রথম Islamic International Conference on the Medical Inimitability কনফারেন্সে আমন্ত্রিত হয়ে ড. আলিসন তার দুটি পেপার উপস্থাপন করেন।

তার প্রথম পেপারটি ছিলোঃ “the psychological and spiritual methods of therapy in the light of the Holy Quran”,
দ্বিতীয়টি ছিলোঃ “sleep and death in the light of the Quranic verse 39:42″

কনফারেন্সে উপস্থাপিত কুরআনের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন দেখে, কনফারেন্সের সমাপ্তি পর্বে ড. আলিসন ইসলাম গ্রহন করেন।

একটি আরব সাপ্তাহিককে দেয়া সাক্ষাতকারে তার ইসলাম গ্রহনের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেনঃ

” মেডিক্যাল ইনইমিটাবিলিটি (যার নকল করা যায় না) ইন কুরআনের উপর করফারেন্স চলাকালে আমি অনুধাবন করতে পেরছিলাম যে পার্থক্যটা ছিলো বেশ চমৎকার। তারপর আমি বিশ্বাস করতে সক্ষম হইযে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেটি আমার জন্মগত প্রকৃতি এবং আচরনের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আমি অনুভব করতে পেরেছিলাম যে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রনের জন্য একজন গড আছেন এবং তিনিই হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা।”

“এজন্য যখনই ইসলাম বিষয়ে পড়াশোনা করতাম, আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে এটি কখনই যুক্তি এবং বিজ্ঞানের সাথে সংঘর্ষ/দ্বন্দ্ব তৈরী করে না। আমি বিশ্বাস করি যে এটিই নাযিলকৃত ধর্ম যেটি এক এবং অদ্বিতীয় গড (আল্লাহ) নাযিল করেছেন। যেহেতু আমি সত্যকে অনুধাবন করতে পেরেছিলাম তাই দুটি বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি। যে মূহুর্তে আমি তা উচ্চারন আমি একধরনের আরাম, স্বস্তি এবং সন্তোষ মেশানো অদ্ভুত এবং অবর্ণনীয় অনুভূতিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলাম।”

প্রফেসর আব্দুল্লাহ আলিসন কনফারেন্সে সূরা যুমারের ৪২ নং আয়াতের অর্থ এবং ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। “আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।”

সূরা আরাফঃ ১৫৫
“তুমি যাকে ইচ্ছা এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথে রাখবে। তুমি যে আমাদের রক্ষক-সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী।”

আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হেদায়াত দান করেন, সরল পথে পরিচালিত করেন। শিক্ষা যেন আমাদের মধ্যে দাম্ভিকতা তৈরী না করে এবং তা যেন আমাদের ধ্বংসের কারন হয়ে না দাঁড়ায়। এই দোয়াই করি।

সমাজ সংষ্কারে স্কুলের ভূমিকা

পরিবার যদি হয় একটি বীজ উতপাদন কেন্দ্র, স্কুল হলো নার্সারী, শিক্ষকরা হলেন এর মালী। ক্ষেত ভালো হলে বীজ ভালো হয়, আর সেই বীজ যদি ভালো কোন মালীর নার্সারীতে যায় তাহলে সেখান থেকে ভালো চারা উতপন্ন সম্ভব এবং সেখান থেকে ভালো ফল/ফসল পাওয়া সম্ভব। ক্ষেতে আগাছা থাকলে বীজ বিশুদ্ধ হয় না। তেমনি বীজ যদি ভালো না হয় চারা গাছও ভালো হয়না। পোকায় ধরে, অনেক রকম রোগে আক্রান্ত হয়।

উন্নত বিশ্বের শিশুরা স্কুলের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। স্কুলের বাচ্চাদের এমন কিছু নেই যে শিক্ষা দেয়া হয় না। প্রতোযোগিতাপূর্ণ ভোগবাদী সমাজে বাচ্চাদের বেশি সময় দিতে না পারার দরুন স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষিকা কিংবা পরিবেশ যেমন হয় বাচ্চারা সেভাবে বড় হয়ে উঠে।

এসব স্কুলে বাচ্চাদের পাঠিয়ে আপনি যদি নিশ্চিন্তে থাকেন, তাহলে দেরিতে হলেও বুঝতে পারবেন আপনার বাচ্চা আপনার মত হয়নি বাচ্চা হয়েছে সেই রাষ্ট্রের সেই সমাজের চাহিদার মত। আপনি যদি মুসলিম হন যদি নিজের বাচ্চাকে নিজেদের মত আধো-বাংগালী এবং আধো মুসলিম দেখতে চান বাচ্চা ১৮ পেরুলেই বুঝতে পারবেন কোথায় যেন সমস্যা হয়েছে, বুঝতে পারবেন আপনিতো এমনটি চান নি কিন্তু কিছু করার থাকবেনা কারন আপনি এমন এক সমাজে বাস করছেন সেখানে আপনার নিজের বাচ্চাও আপনার না মানে সে রাষ্ট্রের সম্পদ। রাষ্ট্র চাইবে তার সম্পদকে রাষ্ট্রের আদর্শের মত করতে। কিন্তু আপনার আদর্শ যদি আপনার সমাজ যদি ভিন্ন হয় তাহলে আপনাকে চিন্তা করতে শুরুতেই, দিতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক। আপনি আপনার বাচ্চাকে বকা দিলে স্কুলের শিক্ষক ঠিকই বুঝে নেয় কিন্তু স্কুলে কি খাওয়াচ্ছে বাচ্চাদের সেটি যদি আপনি চিন্তা করেন এই ভেবে যে সুইডেন বা কানাডা বা অ্যামেরিকার স্কুলে পড়ছে চিন্তার কি তাহলে ভূল করবেন।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শিশুদের উপর পরিবারের প্রভাব এখনও যথেষ্ট বিদ্যমান। তবে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং সংষ্কারে স্কুল কলেজ গুলো অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে পারে। স্কুল কলেজ গুলিতে রাষ্ট্রের আর্দশের আদলে শিশুদের বড় করে তুললে পরিবর্তীতে সমাজে দ্বন্দ্ব এবং বিরোধের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। আপনার স্কুলের পরিবেশ কি রকম সেটিই বলে দিবে আপনার স্কুল নামের নার্সারীর চারা গাছগুলো কেমন হবে। সুতরাং যদি সমাজকে পরিবর্তন করতে হয়, যদি মানুষের চিন্তাকে পরিশুদ্ধ করতে হয়, তাহলে রাষ্ট্রের পাশাপাশি মালী স্বরূপ শিক্ষক সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। কিছু দ্বায়িত্ব নিজ থেকে পালন করতে হয়। মালী রুপী শিক্ষক সমাজ বাংলাদেশ নামক ভূ–খন্ড টিকে সোনার ছেলে নামক চারাগাছের নার্সারীতে পরিনত করতে অগ্রনী ভূমিকা রাখুক সেই কামনায়।

শিরোনামহীন ভাবনা

পৃথিবী এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। টেকনোলজির বিশ্বয়কর উন্নতি মানুষকে দিচ্ছে নিত্য নতুন সব আবিষ্কারের সংবাদ। যারা নিজেদের ছেলে মেয়ের দুষ্টামীতে অতি বিরক্ত কিংবা ভাবছেন ছেলেটিকে একটি সুবোধ বালক হিসেবে গড়ে তুলবেন হয়ত অদুর ভবিষ্যতে জিন মডিফিকেইশনের মাধ্যমে সেটিও সম্ভব হবে। হয়ত টাকা দিয়ে ইচ্ছেমত নিজেদের বাচ্চাদের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করিয়ে নিতে পারবেন সহসাই। তবে এর কতটুকু পরিবর্তন সম্ভব সেটি হয়ত সময়ই বলে দিবে। তবে সম্প্রতি চায়নার একদল গবেষক থ্যালাসেমিয়ার জন্য দ্বায়ী মানব জিনকে মডিফাই করার গবেষনা শুরু করেছেন। যদিও তারা ১০০ ভাগ সফল হতে পারেনি এবং মানুষের জিন নিয়ে এ ধরনের গবেষনা রিসার্চ ইথিকস সমর্থন করে না তবে অদুর ভবিষ্যতে হয়ত কোন পাগলাটে গবেষক অসম্ভব কিছু হাজির করবেন সবার সামনে।

হয়ত আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই মানুষকে সময়ের পরিবর্তনের অনেক কিছু বিষয়ে নলেজ দান করেন এভাবে সময়ের সাথে নলজের বৈচিত্রে নতুন নতুন প্রজন্ম নতুন ধরনের এক্সপেরিয়েন্সের সম্মুখীন হয়। আগে মানুষ যা অসম্ভব ভাবত আজ তার অনেক কিছুই সম্ভব আবার অনেক অসম্ভব অসম্ভবই থেকে গেছে। যেমন কিছুদিন আগে Sergio Canavero নামে ইতালীর এক গবেষক (annual conference of the American Academy of Neurological and Orthopaedic Surgeons (AANOS) ) অ্যামেরিকান এক কনফারেন্সে মানুষের মাথা প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। এর কত টুকুই বা সম্ভব সেটির সময় না আসলে হয়ত কেউ ধারনাই করতে পারবেনা। আজ থেকে ৪০০ বছর আগের কেউ হয়ত চিন্তায় করেনি ইন্টারনেট এবং ফেইসবুকের কথা।

বিশ্বাস-অবিশ্বাস, সম্ভব-অসম্ভবের দোলাচলে পৃথিবী এগিয়ে চলেছে তার গতিতে, আমরা নিজেদের জীবন ও মত-বিশ্বাস নিয়ে লড়াই করে সময়ের স্রোতে হারিয়ে ফেলছি নিজেদের। জীবন এক অদ্ভুত জিনিস, সবাইকে চলে যেতে হবে জেনেও আমরা অসীমের পথে টিকে থাকার সংগ্রামে কখনও হারছি কখনো বা জিতছি কখনো কাউকে ঠকিয়ে কখনো বা মিথ্যা অভিনয় করে। হয়ত মত-পথ-বিশ্বাস নামক জিনিসগুলোর মধ্যে মানুষ বেচে থাকার কারন খুজে পায় সবশেষে মত-পথ-বিশ্বাস হয়ত বেচে থাকে আমরা হারিয়ে যাই সময় নামক ব্ল্যাকহোলে। ৩০ পেরিয়ে তাই জীবনটাকে বড় অদ্ভূত মনেহয়। বসে বসে কিংবা ব্যস্ততার আড়ালে এক মহাসত্য নিজেদের নশ্বরতাকে আলিংগন করার জন্য আমরা ছুটছি হয়ত নিজেদের অজান্তে। সেই যাত্রাপথটা সবার মসৃণ হোক, মানবতার বিকাশে আমাদের বিলীনতা আগদের অস্তিত্বের জন্য আনন্দদায়ক হোক!

এলোমেলো চিন্তা

ছেলেটার অনেক পরিবর্তন হয়েছে বা মেয়েটা কেমন জানি হয়ে গেছে বাইরে থেকে অথবা দোস্ত জানিস ঐ বন্ধুটি কেমন জানি হয়ে গেছে আগের মত আর আমাদের সম্পর্ক ভালো নেই। সময়ের সাথে মানুষের পরিবর্তন হয়, এই পরিবর্তনের দায় পুরোটাই হয়ত শরীরের ভেতরের সিগনাল গুলোর পরিবর্তনের ফসল। একজন মানুষ পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হলে তার শরীরের ভেতরে অনেক কিছু পরিবর্তন ঘটে তার ফল স্বরূপ বাইরের পরিবর্তন চোখে পরে অথচ মানুষের ভেতরের পরিবর্তনের কথা কেউই চিন্তা করে না। একজন মানুষ ট্রেসে থাকলে তার শরীরেও স্ট্রেস হরমোন নিঃসরন হয় ফলে সেই হরমোনের প্রভাবে শরীরে বা আচরনগত ও পরিবর্তন ঘটে। হয়ত এই পরিবর্তনে মানুষটির কোন হাত নেই পরিবেশই এর জন্য দ্বায়ী কিন্তু আমরা পরিবেশের কথা বা মানুষটির অবস্থার কথা চিন্তা করি কদাচিতই।

অন্যান্য প্রানীর মত মানুষও পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে ফলে তার মনস্তাত্তিক যে পরিবর্তন ঘটে তার প্রভাব আচরনে পরিলক্ষিত হয়। যার ভেতর যে হরমোনের বা সিগন্যাল মলিক্যুলের নিঃসরন হয় তার আচরন ও সেভাবে পরিবর্তিত হয়। এজন্য মানুষের আচরনগত সমস্যার সমাধানে কাউন্সিলিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে স্কুলে কোন বাচ্চার যদি পড়ায় মনোযোগ না দেখে বা মনমরা দেখে তারা সাথে সাথে ব্যাপারটি নিয়ে ডিসকাস করে বাচ্চার কোন সমস্যা হয়েছে কিনা বের করে তার ব্যবস্থাগ্রহন করে, আবার অনেকের মধ্যে লার্নিং ডিসঅরডার থাকে তার জন্য হয়ত একটু অন্যরকম কেয়ার দরকার হয় যেগুলোর চর্চা আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই বললেই চলে।

কিছুদিন আগে পাশের ল্যাবের একজন গবেষক আলোচনা করছিলো যে মানুষ সুইসাইড কেনো করে সেটা নিয়ে তারা গবেষনা করছে। তাদের পরিকল্পনা হলো সুইসাইড যারা করতে গিয়ে ফেইল করেছে সেগুলোর শরীরের মধ্যে কোন ধরনের হরমোনের নিঃসরন বেশি সেটা বের করা, আবার যাদের মধ্যে উদ্ভ্রান্ত, উদাসীন ভাব আছে সেগুলো ও যাচাই করা সেগুলো থেকে বের করা যে সুইসাইডের আগে মানুষের মধ্যে কি ধরনের হরমোন বা সিগন্যাল মলিকিউলের নিঃসরন হয়।

সুন্দর সমাজ বিনির্মানের জন্য তাই সমাজের মানুষদের প্রতি আমাদের দর্শনের পরিবর্তন করতে হবে। মানুষের প্রতি স্বাভাবিক আচরন হয়ত অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। সমাজে মানুষের মধ্যে হতাশা আসে শ্রদ্ধা থেকে বঞ্চিত হয়ে। আর হতাশা থেকে একটি রোগাগ্রস্থ শ্রেনীর উদ্ভব হয়।

উন্নত বিশ্বে একটি জিনিস অনেক ভালো সেটি হলো এখানে মানুষের পেশা শ্রদ্ধার পথে বাধা হয়ে দাড়ায় না। সবাই মানুষ হিসেবে মানুষকে শ্রদ্ধা করে। আবার টাকা পয়সা কার বেশি এগুলোও এখানে ফ্যাক্টর না, এখানে যে যার অবস্থানে থেকে অন্যের শ্রদ্ধা থেকে বঞ্চিত হয় না। ফলে যে যে পেশাতে আনন্দ পায় সে সে পেশাকেই বেছে নেয়। আবার টাকা পয়সার মানুষের শ্রদ্ধার জন্য ফ্যাক্টর না হওয়ায় অবৈধ উপারে টাকা কামানোর ধান্ধাও কারো থাকেনা। ফলে সামাজিকভাবে একটি সুস্থ পরিবেশ বিরাজ করে ফলে এখানে মেধার বিকাশ হয় স্বভাবতই।

সুতরাং পরষ্পর শ্রদ্ধাশীল একটি সমাজ বিনির্মান করতে পারলে সমাজে স্বাভাবিক সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করবে। আবার কাউন্সিলিং এর মাধ্যমের মানসিক সমস্যার গুলোর সমাধানে জোড় দিলে সমাজের তরুনদের মধ্যে যেমন স্বাভাবিক মনের অবস্থা বিকাশ করবে তেমনি মেধার স্বাভাবিক বিকাশ হবে স্বভাবতই।