মানুষ কেন এত হিংস্র??

গত কয়েকদিন ফেইসবুকে সিরিয়ান শিশুদের রক্তমাখা মুখগুলো দেখে গিন্নীর মন খারাপ মানুষ কেমনে পারে এমন হিংস্র হতে। শুধু ক্ষমতার জন্য নিজেদের মধ্যে এমন হিংস্রতা কতটুকু কাম্য? ফেইসবুকের ধারনা যখন ছিলোনা তখন হয়ত মানুষ শুধু শুনত যে অমুক জায়গায় যুদ্ধ চলছে, এতগুলো মানুষ মারা গেছে। অনেকে হয়ত সংবাদপত্রে যতটুকু দেখায় ততটুকু দেখতে পারত। অনেকেই সংবাদও দেখতনা এসবের কোন কিছু তাদের চিন্তার জগতে প্রভাব ফেলত না। বিশ্বায়নের যুগে মানুষ যখনই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা শুরু করেছে তখনই মানুষের জগৎও বড় হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের কোন প্রান্তে কি হচ্ছে তা বেশি বেশি মানুষের চিন্তার জগৎকে নাড়া দিচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ার কারনে মানুষ এমন কিছু দেখতে পাচ্ছে যা হয়ত পারত না। প্রশ্ন থেকে যায় এতে মানুষের লাভ বেশি নাকি ক্ষতি বেশি?? মানুষ যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেশি বেশি সোচ্চার হচ্ছে তেমনি হিংস্রতা ও পাশবিকতার ভয়াল চিত্রগুলো মানুষের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় হিংস্রতা ও পাশবিকতার ছবি, ভিডিও ও সংবাদগুলো দেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যতটুকু লাভ করতে পারতেছি তার চেয়ে এই ভয়াল ছবি ও ভিডিও গুলো দেখে আমাদের মনোজগতে নেগেটিভ প্রভাব বেশি পড়ছে কিনা এটি হয়ত ভাবার বিষয়। হিংস্রতাতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি নাতো? হয়ত আমাদের মধ্যে সংবেদনশীলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। হয়ত হিংস্রতাকে দেখে কিছু মানুষের মনে হিংস্রতা বাসা বেধে বসছে।

মানুষের হিংস্রতার কারন কি? একজন মানুষ কেন অন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলে?
দার্শনিক থমাস হোব্বেস এর মতে “মানুষ জন্মগতভাবেই হিংস্র” আর এক দার্শনিক জ্যাকুইস রুশোর মতে “মানুষ সাধারনত শান্তিপ্রিয়”। ন্যাচার জার্নালের একটি গবেষনা পেপার গবেষকরা ম্যামালদের হিংস্রতার ফাইলোজেনেটিক রুট খোজার চেষ্টা করেছেন। তারা ম্যামালদের লিথাল এ্যাগ্রেশনের সাথে সোস্যাল বিহ্যাভিয়ার এবং টেরিটোরিয়ালিটির সম্পর্ক দেখিয়েছেন। যেসব ম্যামাল সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাদের মধ্যে হিংস্রতার মাত্রা অনেক বেশি। যেসব ম্যামাল প্রজাতি সলিটারি এবং টেরিটোরিয়াল না তাদের মধ্যে হিংস্রতা অনেক কম। মনুষ্য প্রজাতি সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাই মানুষের মধ্যে হিংস্রতা বেশি। Socio-political organization গুলো ও মানুষের হিংস্রতার উপর প্রভাব ফেলে। টেরিটোরিয়াল ডিসপিউট, রিসোর্স প্রেসার, পপুলেশন এবং পলিটিক্যাল স্ট্যাটাসের প্রতিযোগিতা মানুষের মধ্যে হিংস্রতার অন্যতম কারন। পপুলেশনের ধরন অর্থাৎ সমাজ ও গোত্রের ধরন গুলো ও হিংস্রতার মাত্রার উপর প্রভাব ফেলে।
মজার বিষয় হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের মধ্যে হিংস্রতা আছে বলে তাদের চলার জন্য চলার নির্দেশনা সহ সুন্দর পথ বলে দিয়েছেন। মানুষ স্বভাবগতভাবে টেরিটোরিয়াল হলেও ইসলাম মানুষকে আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে সীমানাহীন এক সমাজের চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। মানুষে মানুষের সম্পর্ককে ভাই-ভাই সম্পর্কে পরিনত করে দিয়েছে ফলে কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে সে দুর দেশে অন্য মুসলিমকে ভাই বলতে শিখেছে। কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে জাতিয়তাবাদের সংকীর্নতাকে পরিহার করতে শেখে ফলে আঞ্চলিক জাতিয়তার দোহাই দিয়ে সংঘাত হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় অনেকাংশে। আবার ইসলাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটি কেউ ফলো করলে ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতা তৈরীর সম্ভবনাও থাকেনা। যার উদাহরন আমরা আমাদের দেশেই দেখতে পাই। ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগে, লীগে-লীগে খুনোখুনি হতে দেখলেও শিবিরে-শিবিরে, জামায়াতে-জামায়াতে মারামারি তো দুরের কথা গালাগালি পর্যন্ত হয় না সেখানে কোন প্রতিযোগিতা থাকেনা থাকে কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে চলার প্রেরনা।

হিংস্রতা আছে থাকবেই। প্রশ্ন হলো হিংস্রতাকে নিয়ন্ত্রন করার যে কৌশল আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাতলে দিয়েছেন সেটি আমরা মেনে চলবো কিনা। যদি সেটি কেউ মেনে না চলি তাহলে তার ফল আমাদের চোখের সামনে বর্তমান।

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

অবাধ্য ছেলের পিতার প্রতি উমর (রাঃ) এর নসিহত

হযরত উমর (রাঃ) এর সময়ে এক লোক তার ছেলেকে নিয়ে উমর (রাঃ) কাছে গেলেন ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন, হে আমিরুল মুমিনিন আমার এই ছেলে আমার অবাধ্য, সে আমার কোন কথা শুনেনা এরকম অনেক অভিযোগ করলো। উমর (রাঃ) বৃদ্ধ বাবার কথা শুনলেন এবং তরুন বালককে ডেকে উপদেশ দিতে শুরু করলেন, তোমার বাবা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তোমার উচিত তোমার বাবার অধিকার পুরন করা।
তরুন সেই বালক জিজ্ঞেস করলো আমি কি একটি প্রশ্ন করতে পারি হে আমিরুল মুমিনিন? উমর (রাঃ) বললেন অবশ্যই, বলো তোমার প্রশ্ন কি? বালক বললো, আমার কি কোন অধিকার নেই? আমার অধিকার গুলো কি? হযরত উমর (রাঃ) বালকের কাছে তার অধিকার গুলো ব্যাখ্যা করে বললেন।
বাবা-মায়ের প্রতি বাচ্চাদের প্রথম অধিকার হলো, বাবা-মায়ের উচিত উত্তম স্ত্রী বা স্বামী খুঁজে নেয়া। বাচ্চা জন্মের পূর্বেই ভবিষ্যত বাচ্চার অধিকার হলো সঠিক স্ত্রী বা স্বামীকে খুঁজে নেয়া। এর একটি কারন হলো যদি কেউ উত্তম স্বামী কিংবা স্ত্রীকে সিলেক্ট করে তাহলে বাচ্চাদেরো উত্তম উপায়ে লালন-পালন করা সহজ হয়। যদি কেউ বিয়ে শুধুমাত্র সৌন্দর্য্যের জন্য কিংবা সম্পদের জন্য বা যদি কেউ এমন কাউকে বিয়ে করে যে সঠিকভাবে কথা বলতেই পারে না, সব সময় ঝগড়াঝাটি করে তাহলে এমন বাবা-মা হতে কেমন সন্তান আশা করা যাবে। এটি পুরুষ-মহিলা সবার ক্ষেত্রে প্রযোগ্য। বিয়ের আগেই শুধু সৌন্দর্য্য চিন্তা না করে চিন্তা করা উচিত এই পুরুষটি আবার সন্তানের বাবা হিসেবে যোগ্য কিনা কিংবা এই মেয়েটি আবার ভবিষ্যত সন্তানের মা হিসেবে যোগ্য কিনা। ইসলামী শরীয়তে এরজন্য সুন্দর পদ্ধতি বলে দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি উমর (রাঃ) বলেছেন সেটি হলো, তোমার বাবার দ্বিতীয় কর্তব্য হলো তোমার সুন্দর নাম দেয়া। সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম। যে নামে ডাকলেই বাবা-মায়ের প্রশান্তি লাগে। অনেক সময় এমন নাম দেয়া হয় যাতে ওয়েস্টার্ন ওয়েস্টার্ন ভাব থাকে। অনেকেই এটাকে স্মার্টনেসের পার্ট হিসেবে মনেকরে। এটি ঠিক না।
তৃতীয় যে অধিকারের কথা উমর (রাঃ) উল্লেখ করেছিলেন,
তুমি যখন বড় হওয়া শুরু করবে প্রথম যে জিনিসটি তোমাকে শিক্ষা দিতে হবে সেটি হলো আল-কুরআন। কুরআন নির্দেশিত পথে সন্তানকে লালন-পালন করা। তখন বালকটি উমর (রাঃ) বললো হে উমর আপনি আমিরুল মুমিনিন, আমি বলতে চাই আমার বাবা কোনটাই পুরন করেননি। বালকটি বললো যে আমার বাবা পথের এক মহিলাকে বিয়ে করেছে। বালকটি বললো আমাকে একটা সাংঘাতিক নাম দিয়েছে এবং কুরআন কি জিনিস আমি কিছুই জানিনা, আমাকে কুরআন কি শিক্ষা দেয়া হয়নি। তখন উমর (রাঃ) ডাইভার্ট হয়ে বাবার বললেন তুমি তোমার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে এসেছো অথচ তুমি এমন একজন বাবা যে তোমার ছেলের একটি অধিকারও পূরন করোনি। তুমি বলতে এসেছো যে আমার ছেলে অবাধ্য, কোন কথা শুনেনা।
আমাদের সমাজে স্বামীদের অধিকার নিয়ে যেমন বেশি আলোচনা হয় ঠিক তেমনি বাবা-মায়ের অধিকার নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। দেখবেন অনেক সিনেমা নাটক তৈরী হয়েছে শুধুমাত্র বাবা-মায়ের অধিকারকে তুলে ধরার জন্য। সন্তানের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয় খুব কম। অথচ সন্তানের অধিকারের প্রতি মনোযোগী হলে পিতা-মাতার অধিকারের ব্যাপারে সন্তানরা এমনিতেই মনোযোগী হয়ে যাবে।
লেখাটি মুফতি মেনকের আলোচনা হতে নেয়া হয়েছে।
সন্তানের অধিকারের ব্যাপারে আরো দেখতে ও পড়তে পারেন।

থার্টি ফার্ষ্ট নাইট আমরা কেন উদযাপন করবো?

31 ডিসেম্বর রাত, 1 জানুয়ারীর সন্ধিক্ষনে নববর্ষের যে উদযাপন তার অনেক গুলো কারনের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কারন হলো গ্রীক দেবতা Janus (https://en.wikipedia.org/wiki/Janus) যার নাম অনুসারে Gregorian calendar (https://en.wikipedia.org/wiki/Gregorian_calendar) বা solar calendar এর প্রথম মাসের নাম জানুয়ারী। Pope Gregory XIII এর নামানুসারে Gregorian নামকরন করা হয়। গ্রীক দেবতা Janus কে বলা হয় গড অফ বিগিনিং & এন্ড, গড ওফ টাইম, গড অফ গেইটওয়ে, গড অফ প্যাসাজ এন্ড ডুয়ালিটি। গ্রীক এই দেবতাকে দুটি মুখের মাধ্যমে চিত্রায়িত করা হয়, একটি ফেইস সামনের দিকে বা ভবিষ্যতের সময়গুলো দেখতে পায় বলে মনেকরা হয় অন্যটি পেছনে বা অতীতকে মনেকরার প্রতীক হিসেবে। অন্য একটি সূত্রমতে যিশু খ্রিষ্টের নামকরন এবং খৎনা উদযাপনের দিনকে ১ জানুয়ারী উদযাপনের কারন হিসেবে দেখানো হয়েছে। (https://en.wikipedia.org/wiki/New_Year%27s_Day)

ইউরোপের দেশগুলোতে তুষাঢ় পড়া শুরু করে অক্টোবর মাস থেকে স্থানভেদে সময়ের আংশিক পরিবর্তন হতে পারে তবে কম বেশি এই সময় থেকে ঠান্ডা পড়া শুরু হয় দিনের লেংথ কমে যাওয়া চোখে পড়া শুরু করে। যেসব দেশ নর্থপোলের কাছাকাছি সেসব দেশে এটি আরো বেশি পরিলক্ষিত হয় ২১ ডিসেম্বর দিনের আলোর পরিমান সবচেয়ে কম থাকে এরপর আবার দিনের আলোর পরিমান বেশি হতে শুরু হয়। ১ জানুয়ারী হতে পরিবর্তন একটু চোখে পড়া শুরু করে। তাই এসব দেশে ১ জানুয়ারীকে একটি পরিবর্তনের সময়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত”। [আবু দাউদঃ ৩৫১৪]

আমরা অনেক কিছু যা বুঝে উদযাপন করি, যেগুলো আমাদের কোন উপকরে আসেনা যেগুলোতে আমাদের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পায় না। বেয়াহাপনা করার জন্য শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ধোকায় ফেলে দেয়। প্রত্যেক নবী ও রাসুল গন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পাঠিয়েছেন শুধুমাত্র মানুষের এসব খামখেয়ালীকে শুধরানোর জন্য। প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময় যেসব খারাপ বা বহুদা কাজ গুলো মানুষ করত সেগুলোর প্রায় সবগুলোই বর্তমানে আমাদের মধ্যে চর্চিত হচ্ছে। মানুষ নিজেদের সবকিছুকে দেখানোর এবং নতুন কিছু করার প্রবনতা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে অনেক সময় মানুষ নিজেদের পরিচয়ও ভূলে যায়।

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাদের দু’টি দিন ছিল, যেখানে তারা খেলা-ধুলা করত। তিনি বললেনঃ এ দু’টি দিন কি? তারা বললঃ আমরা এতে জাহিলি যুগে খেলা-ধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দু’টি দিন দিয়েছেনঃ ১। ঈদুল আদহা ও ২। ঈদুল ফিতর”। (আবু দাউদঃ ১১৩৪, আহমদঃ ১৩২১০)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর সময় মূর্তি পূজা এবং তারকা পূজা বিদ্যমান ছিলো, ঠিক সমসাময়িক সময়ে হযরত লূত (আঃ) এর সময়ে সমকামীতা, রাহাজানী প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের প্রবনতা ছিলো। প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের বর্তমান সংষ্করন হলো নাইটক্লাব ও ডিস্কো সংস্কৃতি।
এরকম অনেক প্রকার কাজ আছে যেগুলো আমরা না বুঝে শুধুমাত্র হুজুগে করি খেয়ালের বশবর্তী হয়ে যেগুলো ঠিক না।

যেকোন ধরনের বেহুদা কাজ যেগুলো মানুষের উপকার করতে পারে না বরং ক্ষতি করে হোক না সেটা আর্থিকভাবে ইসলাম সেটি করতে নিরুতসাহিত করেছে। আমরা অনেক সময় প্রকাশ্য না করলেও উদযাপনে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপস্থিত থেকে পরোক্ষভাবে এগুলোকে উতসাহ করি যেগুলো আমাদের পরিচয়ের মাঝে দেয়াল তৈরী করে ফেলে।

আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেনঃ

“হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু”। (সূরা বাকারাঃ ২০৮)

যারা আমরা নিজেদের মুসলিমবলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি তাদের জন্য বর্তমান সময়টা খুবই চ্যালেঞ্জিং। একদিকে আমাদের বিবেক অন্যদিকে সমাজের অধিকাংশের গোমরাহী। অনেক সময় বাপ-দাদাদের উদাহরন দেয়া হয়, ঠিক এমনিভাবে প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময়ে মানুষ বাপ-দাদাদের উদাহরন দিয়ে তাওহীদের দাওয়াতের বিরুদ্ধাচরন করেছিলো যা বর্তমানেও চলছে। অনেকেই বেহায়াপনাকে উন্নতসমাজের সংস্কৃতি বলে নিজেরাও সামীল হচ্ছে।

পবিত্র কুরআনের সূরা আলাক্বের ৬-৭ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলছেন ”বস্ত্ততঃ মানুষ যখন দেখে যে, সে কারু মুখাপেক্ষী নয়, তখন সে বেপরওয়া হয়’
বস্তুতঃ বিপদে পড়লে আমরা যে আল্লাহকে ডাকা শুরু করি, বিপদ কেটে গেলে আবার অনাচারে লিপ্ত হই এটিকে ইংগিত করেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সতর্ক করতে এটি বলেছেন।

এবং সূরা যুখরফের ৪০-৪৩ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলতেছেন

”এমনিভাবে আপনার পূর্বে আমি যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে চলছি।” যুখরুফ ৪৩/২৩
বাবা-দাদারা ভূল করে আসলে, সমাজে ভূল কোন প্রথা চালু থাকলে আমরা সেটিকেই আকড়ে ধরে থাকতে চাই।

সূরা ইসরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো বলতেছেন ”যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার অবস্থাপন্ন লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। তখন সে জনগোষ্টীর উপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তাকে উঠিয়ে আছাড় দেই।” ইসরা ১৭/১৬
সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষকে আমরা অনুসরক করতে বেশি পছন্দকরি যদিও অনেক সময় তারা ভূল পথে নিজেদের চালিত করে। ভূলপথে জীবন যাপন করে তারপরও আমরা এসব করে নিজেদের সমাজের উচু শ্রেনীর মধ্যে ভাবার ভান ধরি।

সুতরাং যেগুলো ইসলামের সংষ্কৃতি নয় সেগুলো থেকে শরীর ও মনকে দূরে রেখে আমাদেরকে সমাজের সামনে উদাহরন হিসেবে পেশ করাই হোক আমাদের জীবনের লক্ষ্য। ইসলামী মুল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা যায়, মানুষের জন্য কাজ করা যায় এর উদাহরন তৈরীই হোক আমাদের উদ্দেশ্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেও না”। (সূরা আলে-ইমরানঃ ১০২)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকল প্রকার বেহুদাকাজ হতে দুরে রাখুক, যাতে সবাই মুসলিম ও মুমিন হয়ে মৃত্যুবরন করতে পারি এই দোয়া করি। (আমীন)

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

বাবা হওয়ার অভিজ্ঞতা

বাবা হওয়ার ৪০ দিন পূর্ণ হলো, আলহামদুলিল্লাহ। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো হুট করে ঘটে কিন্তু এক একটি ঘটনা জীবনের পথকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়। নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে এসে দাঁড়ায়। এই চ্যালেঞ্জকে সামলে নিতে না পারলে জীবন হয়ে উঠে বন্ধুর। মজার বিষয় হলো বিয়ের আগে অনেকেই বলবে বিয়ে করতে কিন্তু বিয়ের পর জীবন কেমন চলে সেটি খোঁজ নেয়ার মানুষদের খুঁজে পাওয়া যায় না। এটি নেগেটিভ কারনে বলছিনা, জীবনটা এমনই। সব মানুষের জীবনেই সংগ্রাম করে চলতে হয়। জীবনের চ্যালেঞ্জগুলোকে মানুষকে একাকী মোকাবেলা করেই পথ চলতে হয়। আপনার বেবি নেই অনেকেই বলবে আরে আপনার বেবি নেই। নানা প্রশ্ন। বেবি হওয়ার পর জীবনের সব বাস্তবতা যখন সামনে এসে দাঁড়াবে তখন একাকী চলতে হবে সব সামলে। সব বাবার জীবনই এমন।

বাবা হওয়ার অনুভূতি কি জিনিস তখনও হয়ত পুরোটা অনুভব করতে পারিনি। মায়ের গর্ভের বেবিটাকে ডাক দেয়া নড়াচড়া করলে একটু পুলকিত হওয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলো। বেবির এক্সপেকটেড ডেলিভারি ডেট ছিলো ১৮ নভেম্বর। সবাই বলছিলো প্লাস/মাইনাস ২ সপ্তাহ। কিন্তু ১৮ নভেম্বর এর ৩-৪ দিন আগেও কোন লক্ষন দেখা যাচ্ছিলো না। আমি বেবির মাকে বলছিলাম দেখো তোমার বেবি ঠিক সময় আসবে। সে একদিন বেশি বা কম থাকতে চায় না। আল্লাহ তার জন্য যেটা নির্ধারন করেছে সেদিনই চলে আসবে ইনশাল্লাহ। কোন লক্ষন ছাড়াই ১৭ নভেম্বর সকাল শুরু হলো। সন্ধার দিকে বেবির মায়ের পেইন। আমাদের কোন অভিজ্ঞতা ছিলো না। আমি একটু অন্যরকম মানসিকতার মানুষ। গিন্নিকে বলেছিলাম কাউকে বলার দরকার নেই অচথা সবাই টেনসন করবে। আমাদের হেলপ ও করতে পারবে না। শুধু ফোন দিয়ে আরো স্ট্রেস বাড়িয়ে দিবে। তারচেয়ে আল্লাহর রহমতে সব কিছু ভালোভাবে হোক তারপর জানাবো। সুতরাং দুজন মিলে আল্লার রহমতের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। প্রথমে ভাবছিলাম পেইন অন্য কিছুর। কিন্তু পেইনের ইনটেনসিটি বাড়া শুরু করলো। গিন্নি ডাঃ মানুষ বললাম কি করা যায়। দুজন মিলে পেইনকে অবজারভ করা শুরু করলাম যে ফ্রিকুয়েন্সি কেমন। যেহেতু অ্যাকটিভ লেবার না হলে এসব দেশে হসপিটালে ভর্তি করায় না এবং যেহেতু আমরা সিউর ছিলাম না। তাই ফ্রিকুয়েন্সি এবং ইনটেনসিটি নোট ডাইন করা শুরু করলাম। ১ ঘন্টা তারপর আরো এক ঘন্টা অবজারভ করার পর। সিউর হলাম যে লেবার পেইন। কিন্তু অপেক্ষা করতে লাগলাম দেখি কি করা যায়। ১৮ নভেম্বর রাত ২ টা। গিন্নির পেইন অনেক বেশি হতে লাগলো। অবশেষে হসপিটালে ফোন দিলাম। আমি কথা বলার পর গিন্নিকে দিলাম। যখন সে বললো ফ্রিকুয়েন্সি ১০ মিনিটের কম আবার বেবির ম্যুভমেন্ট কমে গেছে সুতরাং নার্স বললো রাতেই হসপিটালে যেতে চেকআপ করাবে। কোন প্রস্তুতি ছাড়াই হসপিটালে রওনা দিলাম। হসপিটালে গিয়ে চেকআপ করানোর পর বলা হলো হসপিটালে রাতটা থাকতে। ভাবলাম রাত শেষ হলেই বুঝি বাসা যেতে পারবো। এক কাপড়েই থেকে গেলাম পুরো রাত পার হয়ে সকাল হলো। ইউরোপের সিস্টেম হলো লেবার রুমে প্যারেন্টের থাকা আবশ্যকীয়। প্রতিটি মুহুর্ত এক একটি অভিজ্ঞতা। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর থেকে বিকাল ১৮ই নভেম্বর। নতুন জীবনকে আলোর মুখ দেখাতে দেখছিলাম পেইন স্কেলের অসহায়ত্ব, আর ভাবছিলাম এজন্যই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মা দেরকে মর্যাদা দিয়েছেন। জন্মের আগ থেকে খাবারের অরুচি দিয়ে যার শুরু মানসিক পেইন থেকে শারীরিক পেইন। অতঃপর ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় আল্লাহ বাবুকে আলোর মুখ দেখালেন। বেচারা বের হয়ে এলেন আম্বিলিক্যাল কর্ডকে গলায় পেচিয়ে। নার্সদের চেহারায় উদ্বিগ্নতা ধরা পড়লো। বেবির নিশ্বাস নেই কয়েক সেকেন্ড। আমি কেমন জানি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়েছিলাম কি করবো, একদিকে গিন্নিকে সাপোর্ট দেয়া অন্যদিকে বেবির এই অবস্থা। একজন নার্স বললো-“ইউ শুড সি হোয়াট উই আর ডুয়িং উইথ ইউর বেবি” দৌড়ে গেলাম। বেবিকে অক্সিজেন সাপোর্ট দিলো ৩০ সেকেন্ডের মত তারপর সে কান্না শুরু করলো। অবশেষে স্ট্রেস কিছুটা কমলো। এরপর বেবিকে ওর মায়ের কাছে দিলে বেবি কিছুটা শান্ত হলো।
একদিন হাসপাতালে থাকার পর বাসায় ফিরলাম সব কিছু ঠিকঠাক দেখে। এখানে নিয়ম হলো একদিন পর একজন নার্স বাসায় এসে বেবিকে চেক করে যাবে সব ঠিক আছে কিনা। সে এসে চেপ করে দেখলো বেবির বিলিরুবিন অনেক বেশি। সুতরাং আবার হাসাপাতালে ছুটা। হাসপাতালে গিয়ে নিচ থেকে ফটোথেরাপি দিয়েও যখন বিলিরুবিন নিচে নামছিলোনা তখন উপর নিচ দু পাশ থেকেই ফটোথেরাপী দিয়ে ৭ দিন পর বিলিরুবিনের লেভেল রিস্ক লেভেল এর নিচে নামলো। এরপর বাসায় রওনা হলাম। বাবু ঠিক তার এক্সপেকটেড ডেইটের দিনেই তার নতুন পৃথিবীতে এসেছে আলহামদুলিল্লাহ। সেই ১৮ নভেম্বর থেকে জীবনের রুটিন পুরো চেঞ্জ হয়ে গেছে। প্রথম যে জিনিসটার কোন নিয়ম থাকেনা সেটি হলো ঘুম। আমি কি আরাম করে ঘুমাতাম সেটির আর কোন রুটিন থাকলোনা। বেবির মায়ের তো কোন কিছুরই রুটিন থাকলোনা। তবে মজার ব্যাপার হলো বাবুর কান্না শুনে খারাপ লাগেনা এটি হয়ত আল্লাহর রহমত সব বাবা মায়ের প্রতি, কোন বাবা মাই নিজের বেবির উপর বিরক্ত হয় না। কেমন একধরনের অটো দ্বায়িত্ব চলে আসে। এবং সব কিছুর উপর বেবিকে প্রাইওরিটি দিয়ে নিজেদের অন্যকাজ গুলোর প্রাইওরিটি ঠিক করা। এটাই হয়ত জীবন, এটাই জীবনের নিয়ম।
লিখার উদ্দেশ্য হলো, একজন বেবির জন্য মা বাবাকে কত কিছু সাক্রিফাইস করা লাগে তার শুরুটা হয়ত বুঝতে পেরেছি। যদিও আমি নিজের বাবা মাকে কখনই কষ্ট দেয় এমন কাজ করিনি। তারপর নিজেদের বেবি হওয়ার পর উপলব্ধি করতে পারলাম যে একজন মা কে কত কিছু সাক্রিফাইস করা লাগে, কত কষ্ট কত পেইন সহ্য করতে হয় শুধু একটি বেবিকে জন্ম দিতে এরপর জীবনের সব কিছুর থেকে কিছু না কিছু সাক্রিফাইস করে সন্তানকে বড় করে তোলে শুধুমাত্র সন্তানদের মুখে হাসি দেখার জন্য। একজন বাবাও অনেক সাক্রিফাইস করে যদিও মা দের তুলনায় অনেক কম। সেদিন আমার এক বন্ধু বলছিলো যে আস্তে আস্তে যত ত্যাগ করবি মায়া তত বাড়বে। হয়ত ব্যাপারটি এমনই ত্যাগের কারনে মায়া বাড়ে।

আমরা বড় হয়ে অনেকে হয়ত ভূলে যাই সেই শিশুকালের মা-বাবার ত্যাগের কথা। ভূলে যাই কত রাত ঘুমহীন কেটেছে শুধুমাত্র বেবিকে ঘুম পাড়ানোর জন্য। পৃথিবীর সব মা-বাবাই এই ত্যাগ গুলো করে। কিন্তু আমরা কজন সন্তানই বা পাড়ি সেই ত্যাগী মা-বাবাদের জন্য এক রাতের ঘুম নষ্ট করতে। নিজেদের ইনকাম থেকে মা-বাবাকে আগে প্রাইওরিটি দিতে। নিজেদের সূখের আগে মা-বাবার সূখকে প্রাইওরিটি দিতে।
আসুন যাদের মা-বাবা বেচে আছে, আমরা তাদের প্রতি আমাদের দ্বায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করি। আল্লাহ আমাদের কাজকে সহজ করে দিবেন, ইনশাল্লাহ।

সবাই আমাদের ছোট বাবুটার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যাতে তাকে মুত্তাক্বী হিসেবে কবুল করে। (আমীন)।

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

বাংলাদেশ ভ্রমন

দেশে সার্বিকভাবে মানুষের চলার গতি বেড়েছে। শৈশবে আমাদের গ্রামে একটা রিকশাও ছিলো না দুটো গ্রাম মিলে হয়ত দুটা একটা রিকশা পাওয়া যেত। গরুর গাড়ী ছিলো প্রধান মাধ্যম। দিন অনেকখানি বদলে গিয়েছে। প্রতিবছরই যাই আর নতুন কিছু চোখে পড়ে। গরুর গাড়ি থেকে রিকশা এরপর গিয়ে দেখলাম অটোরিকশাগুলোয় ভরে গিয়েছে পুরো শহর। অটোরিকশার সাথে পাল্লা দিতে প্যাডেল চালিত রিকশায়ও ইঞ্জিন লাগিয়েছে চালকরা। মজার র‍্যাপার হলো গ্রামে আগে যেখানে কাজের লোক কাজের জন্য ধর্না দিত এখন বাসায় কাজের মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আগে সৈয়দপুরে বিমান ছিলো সপ্তাহে ১ টা তাও মাঝে মধ্যে বন্ধ থাকতো। এখন সেখানে দৈনিক ৪-৫ টি বিমান যাতায়াত করছে। মানুষ চা পান করতে করতে রাজধানীতে পৌছে বাজার করে আবার ৩৫০ কিমি পাড়ি দিয়ে বাড়ি পৌছতে পারছে।

এই চলার গতি বাড়ার পেছনে কাজ করছে প্রতিযোগিতার মনোভাব, সাথে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতা মানুষের জীবন নিয়ে দৃষ্টিভংগি পাল্টে দিয়েছে। মানুষ নিজের অধিকার এবং আত্নসম্মান নিয়ে এখন অনেক সচেতন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কারনে মানুষ স্ব-নির্ভরশীল হওয়ার কারনে সামাজিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্যে দৃশ্যমান ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন গ্রাম মোড়লের কর্তৃত্ব মানুষ মানেনা কারন মানুষ আগে যেমন অন্যের উপর অনেক নির্ভরশীল ছিলো এখন সেই নির্ভরশীলতার পরিমান কমেছে অনেকখানি। তবে এর পুরো কৃতিত্ব আমি রাষ্ট্রকে দিবো না এই কৃতিত্বের বেশির ভাগই শ্রমজীবি মানুষদের।

তবে মানুষের শরীর যেভাবে গতিশীলতা পেয়েছে, মানুষের মনের গতি সেভাবে বাড়েনি। শারীরিক গতিশীলতার জন্য যে উপরকরন দরকার সেগুলোর সহজলভ্যতা মানসিকভাবে গতিশীল হওয়ার উপকরন গুলোর অভাববোধকে অদৃশ্য করে রেখেছে। ফলে মানুষের মননশীলতার বিকাশ অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার সাথে তাল মেলাতে পারছেনা ফলে সমাজে অস্থিরতা বেড়েছে। বাড়াটাই স্বাভাবিক। শরীরের পুষ্টির জন্য মানুষ যখন সংগ্রামে ব্যস্ত, মানুষ যখন সমাজে নিজের আসন প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত সেখানে সবার অজান্তেই মন নামক জিনিসটি ক্ষুধায় কাতর হয়ে মৃতপ্রায় হয়ে বেচে আছে। ফলে মানুষের সামাজিক বন্ধন, পারিবারিক বন্ধন গুলো, সম্পর্ক গুলোর মধ্যে সমস্যা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

আমার কাছে মনেহয় বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সামাজিক আন্দোলনের জন্য দৃশ্যমান এজেন্ডা থাকা উচিত। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি সমাজে যাতে করে নৈতিকতার মানের উন্নতি হয়, যাতে করে সুস্থ মানসিক বিকাশও ত্বরাণ্বিত হয় সে বিষয়ে কাজ করা উচিত। নাহলে ধীরে ধীরে আমরা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিংবা পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে থাকবো।

অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে মানুষের শরীর ও মানসিকতার বিকাশ হোক। নৈতিকভাবে শক্ত সমাজ গড়ে উঠুক এই কামনা সব সময়ের জন্য।

জীবন যেখানে যেমন

গতকাল রাত ১১ টার দিকে বাসায় ফিরছিলাম, বাস থেকে নামার পর একটু সামনে এগুতেই দেখি এক ৮০-৯০ বছরের বৃদ্ধা ওয়াকার নিয়ে হাটছে। যেটা দেখে মনটা খারাপ লাগছিলো মহিলাটির মাথা নুয়ে পড়েছিলো ঠিক হাটের কাছে পুরো বাকা হয়ে অত রাতে একলা রাস্তায় যাচ্ছে কোথায় যেন, ভাবছিলাম কি জীবন?? আজ আবার যখন বাসায় ফিরছিলাম রাত সাড়ে ১০ টা বাজে, ঠিক একই রাস্তায় আবার সেই বৃদ্ধা ঠিক একইভাবে শরীর পুরো ৯০ ডিগ্রি বেকে হেটে হেটে সামনে এগুচ্ছে। আজ দেখে অন্যরকম মনে হলো, যে জীবন এখানে এমনি, সবাই নিজের পায়ে চলাকেই হয়ত সন্মানজনক মনে করে। এখানেই সবাই জীবনকে এভাবেই মেনে নিয়েছে। তাই হয়ত বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েও হয়ত অনেকের মনেহয় এটাই স্বাভাবিক। আমি আগে যে ল্যাবে থিসিস করছিলাম, ওখানে এক মিশরীয় ভদ্রলোক ছিলেন, উনার এক ছেলে। ছেলের যখন বিয়ে হলো তখন ছেলে আলাদা বাসায় উঠলো। ওকে জিজ্ঞেস করছিলাম, তোমার তো একটাই ছেলে বড় বাসায় একসাথে থাকলেই তো পারো, তোমাদের দেখাশোনার জন্য ভালো হতো।

ও তখন জবাব দিয়েছিলো, সে এখন বড় হয়েছে তার আলাদা বাসায় থাকাটাই স্বাভাবিক।

জীবন এক রকম হলেও, জীবনের উপাদান গুলো ভিন্ন। জীবনের রং, জীবনের এই ঘটনাগুলো এমনই কোথাও যেটি স্বাভাবিক ঠিক সেটি ই অন্য কোথাও অস্বাভাবিক। জীবনের সংজ্ঞাও তাই মানুষভেদে, শ্রেনী ভেদে ভিন্ন রকম।

জীবনের বাহ্যিকতা দেখে অনেক সময় মুগ্ধ হয়ে পড়ে, বাস্তবতা হলো জীবনের ভালো-মন্দ রূপ দুটি সব খানেই বিদ্যমান।

জীবন ধারনের উপকরন গুলোর সহজলভ্যতার হয়ত পার্থক্য থাকে, শারীরিক পুষ্টির অভাব জায়গা ভেদে ভিন্ন থাকতে পারে তবে মানসিক পুষ্টির অভাবটা কমবেশি সব খানেই বিদ্যমান।

আমরা শারীরিক পুষ্টির জন্য যুদ্ধ করলেও মানসিক পুষ্টির জন্য সামান্য কষ্ট করতেও প্রস্তুত নই, তাই সম্পদ ভরা এই দুনিয়ায় বড় বড় অট্টলিকা, বিশাল বিশাল বাগান তৈরী হলেও শান্তিময় সমাজ বিনির্মান তাই এখনো অধরা।

সুন্দর সমাজ, সুন্দর পৃথিবীর জন্য দরকার সুন্দর মানসিক সৌন্দর্য্যের মানুষ। সবার মন সৃষ্টিকর্তার দেয়া রংয়ে রঞ্জিত হোক এই কামনা করি।

চোখের দৃষ্টি এবং অন্তরদৃষ্টি, আল্লাহর কি অপূর্ব সৃষ্টি

চোখ মানুষের অমুল্য সম্পদ। যারা চোখ দিয়ে একবার পৃথিবীকে দেখেছে, কোন কারনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেললে চোখ হারানোর ব্যাথা, চোখ থাকার মর্ম তারাই বুঝতে পারে। অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায় করে চোখ ফিরে পেতে। পৃথিবীর রূপ-সৌন্দর্য্য, চারপাশের প্রকৃতি, বাগানের ফুলের সৌন্দর্য এগুলো দেখার জন্য ছটপট করে মানুষের মন। সৃষ্টিকর্ত চোখ দিয়েছে পৃথিবীর সৌন্দর্য্য কে উপলব্ধি করার জন্য, সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি কত সুন্দর সেটি দেখার জন্য।

সৃষ্টিকর্তা মানুষের মন নামক একটি জিনিস দিয়েছে। মানুষের অন্তরদৃষ্টি বলে একটি জিনিস আছে। এই অন্তরদৃষ্টির সাথে রয়েছে সৃষ্টিকর্তার সরাসরি সম্পর্ক। যে হৃদয় অন্তরদৃষ্টি দিয়ে সৃষ্টিকর্তার সৌন্দর্য্য, সৃষ্টিকর্তার রহমত ও করুনা কে দেখতে পায় সেই হৃদ্য হল প্রশান্ত হৃদ্য। কারো এই অন্তরদৃষ্টি হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের অন্তরের যে সৌন্দর্য্য সেটি হারিয়ে যায়। তবে মজার বিষয় হলো মানুষ চোখ হারালে সহজেই উপলব্ধি করতে পারে এবং তার জন্য তার সমস্ত চেষ্টা নিয়োজিত রাখে। কিন্তু তার অন্তরদৃষ্টি হারিয়ে ফেললে, নষ্ট করে ফেললে সেটি যেমন সে বুঝতেই পারে না ঠিক তেমনি তার জন্য মানুষ ন্যুনতম সময়ো ব্যয় করতে প্রস্তত থাকেনা। অথচ মানুষের চোখের চেয়ে বড় মুল্যবান হলো মানুষের অন্তরের দৃষ্টি। কারন চোখের সংযোগ ক্ষনস্থায়ী, নশ্বর সব জিনিসের সাথে আর মানুষের অন্তরদৃষ্টির সংযোগ এক অবিনশ্বর সৃষ্টিকর্তার সাথে।

মহান সৃষ্টিকর্তা সবার অন্তরদৃষ্টিকে স্বর্গীয় সৌন্দ

জীবনবোধ

মোবাইলের হেডফোনটা পকেটে রাখার পর প্রয়োজনের সময় বের করলে অনেক প্যাচ/জট লেগে যায়। মাথায়ই আসেনা এত প্যাচ কেমনে লাগে! মনেহয় বাবুই পাখির বাসার মত প্যাচ।আমাদের ল্যাবের আর একজন ৪৬ বছর বয়সী পিএইচডি স্টুডেন্টকে জট গুলো দেখানোর পর সে তার হেডসেট টা দেখালো সুন্দর করে সাজানো। সে বললো এভাবেই সে পকেটে রাখে। আমার এক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধু প্রতি ইয়ারে দেখেছি নোট গুছিয়ে রাখতো। এভাবে গুছিয়ে রাখার কারনেই তার রেজাল্ট ভালো হতো। যদিও অগোছালো মানুষগুলোর মাথায় বুদ্ধি বেশি থাকে, কারন অগোছালো মানুষগুলো একটু ড্যাম কেয়ারের হয়, সিচুয়েশন মানিয়ে নিতে পারে, স্ট্রেস নিতে পারে। তবে সাজানো গুছানো লাইফে ঝক্কি ঝামেলা হয় খুব কমই।
 
গুছিয়ে না রাখলে হেডফোনটা বের করে জট খুলতেই অনেক সময় চলে যায়, জীবনকে গুছিয়ে রাখতে না পারলে জীবন নানা জটের মধ্যে পড়ে যায়। একটার পর আর একটা জটে,জীবনের ক্ষয় হতে থাকে। সময়ের কাজ তাই সময়ে করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। সময়ের সাথে সাথে মানুষের জীবন নানা জটের পাকে ঘুরতে থাকে, মানুষ জট থেকে বের হওয়ার সংগ্রামে তখন ছুটতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু জট থেকে মুক্ত হওয়া তখন আর হয়ে উঠেনা। এক জট থেকে র এক জট।
 
২০ এর পরে জীবনবোধ আর ৩০ পেরিয়ে জীবনবোধের যে বিশাল পার্থক্য সেটি কেবল বয়স হলেই বুঝা সম্ভব। ২০ এর জীবনবোধ হলো ঝড়ো বাতাসে উড়ন্ত ঘুড়ির মত। রোমাঞ্চ আর উত্তজনায় ভরপুর, কখনও মনেহয় হয়ত ফেটেই যাবে বাতাসে, কখনও একদিন তো কখনও আর একদিন, এই বুঝি সুতা ছেড়ে উড়ে পরে যায় কোথাও তারপরও ভ্রুক্ষেপ থাকেনা কোথাও।
 
আর ৩০ এর জীবনবোধ হলো, মৃদু কোমল বাতাসে উড়ন্ত ঘুড়ি, যার মধ্যে উত্তজনা কম, শুধু উড়তেই থাকে তার মধ্যে পড়ে যাওয়ার লক্ষন খুব একটা দেখা যায় না যদি সুতাটা মজবুদ থাকে তো।
 
মানুষ ইচ্ছে করলেও হয়ত তার পূর্বের সময়ে ফিরতে পারে না। আর শৈশবও হয়ত হারিয়ে যায় কালের গর্ভে, কারন সব প্রজন্মের শৈশব এক হয় না। এখনো ভাবি গ্রামে বর্ষার টইটুম্বুর পানিতে কলা গাছের ভেলায় চড়িয়ে কাটানো শৈশবের আনন্দ এখনকার সময়ের শৈশব হয়ত পুকুরের পানিতে ডুবে উপভোগ করার চেষ্টা করে।
 
জীবনবোধটি আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস।
 
সবার জীবন সাজানো গুছানো হোক, জীবনের জট কাটিয়ে জীবন টা সবার সহজ সরল হোক, এই কামনা করি।

তিন তরুনের পায়ে পুলিশের গুলি আমার প্রতিক্রিয়া

তোমরা পারো না তাইলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দাও। কিন্তু দেশের সম্ভাবনাময় তরুনদের পংগু করে তো জাতির ভবিষ্যতকেই পংগু করে দিচ্ছো। জাতির বিবেক এখন ফেরারী আসামী। কার্তুজে ভরা বন্দুকের নল প্রতিপক্ষ দলের তরুনের পায়ের গোড়ালী নয়ত বা পাজরের দিকে আজ হায়েনার হিংস্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে….

অনেকদিন আগে একটি নাটক দেখেছিলাম। শান্ত স্বভাবের এক তরুনের জীবন নিয়ে ছোট একটি সিকুয়েন্স ছিলো। তরুনটি ছিলো অনেক শান্ত স্বভাবের কারো সাথে উচ্চস্বরে কথা বলতো না। কেউ তাকে খারাপ কথা বললেও এড়িয়ে চলত। হঠাৎ তরুনটির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র চলে আসে। অস্ত্র হাতে আসার সাথে সাথে শান্ত তরুনটির মেজাজ কেমন জানি বদলে গেলো। সামান্য ব্যাপারে তার রাগ, ক্রোধ প্রকাশ পেতে থাকলো। কথায় কথায় সেই আগ্নেয়াস্ত্রের গরম তার আচরনে প্রকাশ পেতে থাকলো এভাবেই একদিন সে অপরাধী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরলো।

পুলিশের হাতে অস্ত্র থাকার কারনে তাদের বেশি দ্বায়িত্বশীল হওয়া উচিত। তাদের পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা রাখা উচিত, যাতে করে নিজেদের রাগ-ক্রোধকে দমন করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। তাদের উপর যে দ্বায়িত্ব তার গুরুত্বও অনেক বেশি। তাই অস্ত্রধারী এসব বাহিনীর মানুষদের বেশি বেশি মনুষ্যত্ববোধের ট্রেনিং থাকা উচিত।

সুইডেন পুলিশদের দেখলে মনেহয় মাটির মানুষ। বিশেষ করে কোথাও কোনো ইয়াং ছেলে বেয়াদবি করলে, বা ট্রেনে কেউ কাউকে ডিসটার্ব করলে পুলিশের আচরন গুলো দেখলে মনেহয় ইশ! বাংলাদেশের পুলিশ গুলো যদি এমন হতো? সুইডিশ পুলিশদেরকে কারো গায়ে হাত দিতে ও দেখিনি। কেউ বেয়াদবি করলে পুলিশ কত সময় নিয়ে যে বোঝায় দেখলেই ভালো লাগে। পুলিশদের মধ্যে ধৈর্য্য, সহনশীলতা চোখে পড়ার মত। পুলিশের এমনই হওয়া উচিত। এখানে পুলিশ হয় মানুষের সেবা করতে, বাংলাদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুলিশ হয়, টাকা আর ক্ষমতার জন্য (যদিও পুলিশদের অনেক কষ্ট করতে হয়), এই জন্যই পুলিশের জবের উদ্দেশ্যকে সার্ভ না করে নিজেদের খায়েস পুরুনে সদা ব্যস্ত থাকে বেশির ভাগ পুলিশ। এটিও হয় সমাজের দৃষ্টিভংগির কারনে। বাংলাদেশে টাকা না জমালে, ক্ষমতা না থাকলে জীবনকে সিকিউর মনেকরা হয় না। অথচ দৃষ্টিভংগির একটু পরিবর্তন ঘটালেই জীবনের নিরাপত্তাবোধের যে ধারনা সেটিরও পরিবর্তন হতে পারে।

পুলিশের জব যে একটি দ্বায়িত্বপূর্ণ জব, এটাতে যেমন অনেক কষ্ট আছে, অনেক ক্ষমতাও আছে। একটু ইচ্ছে করলেই মানুষের অধিকার রক্ষা করায় যেমন সহজেই ঠিক তেমনি অধিকার হরন করাও যায় মূহুর্তেই। তাই মানুষ হিসেবে পুলিশের বেশি সচেতন হওয়া উচিত। পাশাপাশি সমাজের সব মানুষদেরও পুলিশকে সহযোগিতা ও সন্মান করা উচিত যাতে করে পুলিশরা কষ্টের পর নিজেদের ছোট না ভাবতে পারে। বাংলাদেশ সরকার পুলিশদের পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি অফিসারদের বেতন বাড়িয়ে দিয়ে বিশেষ সুবিধা দিতে পারে (যদিও এটি চিন্তা করা বাহুল্য) যাতে করে পুলিশরা অর্থের দিকে, রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহৃত হওয়া থেকে নিজেদের দ্বায়িত্ববোধ বাচিয়ে রাখতে পারে।

মানুষের ভিতর ভয়ানক একধরনের অস্ত্র আছে সেটি হলো পাশবিকতা। এই পাশবিকতাকে মানুষ নিয়ন্ত্রনে রাখে তার বিবেক নামক ভালোর প্রভাব দিয়ে। সমাজে যখন ন্যায় প্রতিষ্ঠিত থাকে তখন এসব ভালো মানুষের বিবেক তার পাশবিকতাকে নিয়ন্ত্রন করে ধৈর্য আর ক্ষমার মাধ্যমে। তবে সমাজে যখন বিশৃংখলা দেখা দেয়, যখন অন্যায়ের রাজত্ব কায়েম হতে থাকে, অন্যায় ভাবে যখন মানুষের বিবেককে আঘাতের পর আঘাত করে ছিন্ন ভিন্ন করে দেয়া হয়, তখন বিবেক হেরে যায় পাশবিকতার কাছে তখন মানুষ হিংস্র হয়ে উঠে প্রতিশোধের আগুনে। মানুষের যখন বেচে থাকা মৃত্যুর সমান হয়ে যায় তখন মানুষের মধ্যে “সারভাইভাল অফ দ্যা ফিটেস্ট নামক থিওরি” কাজ করে মানুষ সুস্থ্যভাবে বেচে থাকার এক অদম্য লড়াইয়ে নিজেকে সামীল করে আর তখন বন্দুকের নলের গুলি বের হওয়ার আগেই হয়ত নিরিহ মানুষগুলো হায়েনার মত নিজেদের রূপ দেখাতে শুরু করে বিবেক তখন চেয়ে চেয়ে দেখে পশুত্বের কাছে মানবিকতার পরাজয়কে আর শয়তান তখন দুরে দাড়িয়ে হাসে…..

আশাকরি সুদিন ফিরে আসবে, তরুন না নিশ্চিন্তে নিজেদের মত করে বাচার অধিকার ফিরে পারে…

নিষ্ঠুর জনপদ

নিষ্ঠুরতায় দেশটা হয়েছে শেষ
এরমাঝেই আমরা আছি বেশ!

কখনও লাঠির বারি কখনও বা খুন্তির ছ্যাকা
কখনো হাতে পায়ে ধরে, আর্তনাদ উঠে হৃদয় কাপা!

কখনো বেওয়ারিশ লাশ, কখনও বা হচ্ছে মানুষ গুম
এরমাঝে আমাদের হচ্ছে ব্যাপক ঘুম!

গাড়ির গ্যাস পেটে ভরে কখনও বা করি অট্টহাসি
নিষ্ঠুরতার গাংগে মোরা বেশ ভালো আছি!

কারো মুখে সংগীত, কারো হাতে গান (বন্দুক)
সেলফি নিয়ে কেউবা আছে ব্যস্ত
পাইলে মন্তরীগন দেশটা গিলতো নাকি আস্ত!

তারপরো নিষ্ঠুরতায় মোরা আছি বেশ
মনে স্বপ্ন সুখের ঘুম হোক না আগে শেষ!