মানুষ কেন এত হিংস্র??

গত কয়েকদিন ফেইসবুকে সিরিয়ান শিশুদের রক্তমাখা মুখগুলো দেখে গিন্নীর মন খারাপ মানুষ কেমনে পারে এমন হিংস্র হতে। শুধু ক্ষমতার জন্য নিজেদের মধ্যে এমন হিংস্রতা কতটুকু কাম্য? ফেইসবুকের ধারনা যখন ছিলোনা তখন হয়ত মানুষ শুধু শুনত যে অমুক জায়গায় যুদ্ধ চলছে, এতগুলো মানুষ মারা গেছে। অনেকে হয়ত সংবাদপত্রে যতটুকু দেখায় ততটুকু দেখতে পারত। অনেকেই সংবাদও দেখতনা এসবের কোন কিছু তাদের চিন্তার জগতে প্রভাব ফেলত না। বিশ্বায়নের যুগে মানুষ যখনই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা শুরু করেছে তখনই মানুষের জগৎও বড় হয়ে গিয়েছে। বিশ্বের কোন প্রান্তে কি হচ্ছে তা বেশি বেশি মানুষের চিন্তার জগৎকে নাড়া দিচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ার কারনে মানুষ এমন কিছু দেখতে পাচ্ছে যা হয়ত পারত না। প্রশ্ন থেকে যায় এতে মানুষের লাভ বেশি নাকি ক্ষতি বেশি?? মানুষ যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বেশি বেশি সোচ্চার হচ্ছে তেমনি হিংস্রতা ও পাশবিকতার ভয়াল চিত্রগুলো মানুষের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো মানুষ সোস্যাল মিডিয়ায় হিংস্রতা ও পাশবিকতার ছবি, ভিডিও ও সংবাদগুলো দেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে যতটুকু লাভ করতে পারতেছি তার চেয়ে এই ভয়াল ছবি ও ভিডিও গুলো দেখে আমাদের মনোজগতে নেগেটিভ প্রভাব বেশি পড়ছে কিনা এটি হয়ত ভাবার বিষয়। হিংস্রতাতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি নাতো? হয়ত আমাদের মধ্যে সংবেদনশীলতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। হয়ত হিংস্রতাকে দেখে কিছু মানুষের মনে হিংস্রতা বাসা বেধে বসছে।

মানুষের হিংস্রতার কারন কি? একজন মানুষ কেন অন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলে?
দার্শনিক থমাস হোব্বেস এর মতে “মানুষ জন্মগতভাবেই হিংস্র” আর এক দার্শনিক জ্যাকুইস রুশোর মতে “মানুষ সাধারনত শান্তিপ্রিয়”। ন্যাচার জার্নালের একটি গবেষনা পেপার গবেষকরা ম্যামালদের হিংস্রতার ফাইলোজেনেটিক রুট খোজার চেষ্টা করেছেন। তারা ম্যামালদের লিথাল এ্যাগ্রেশনের সাথে সোস্যাল বিহ্যাভিয়ার এবং টেরিটোরিয়ালিটির সম্পর্ক দেখিয়েছেন। যেসব ম্যামাল সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাদের মধ্যে হিংস্রতার মাত্রা অনেক বেশি। যেসব ম্যামাল প্রজাতি সলিটারি এবং টেরিটোরিয়াল না তাদের মধ্যে হিংস্রতা অনেক কম। মনুষ্য প্রজাতি সোস্যাল এবং টেরিটোরিয়াল তাই মানুষের মধ্যে হিংস্রতা বেশি। Socio-political organization গুলো ও মানুষের হিংস্রতার উপর প্রভাব ফেলে। টেরিটোরিয়াল ডিসপিউট, রিসোর্স প্রেসার, পপুলেশন এবং পলিটিক্যাল স্ট্যাটাসের প্রতিযোগিতা মানুষের মধ্যে হিংস্রতার অন্যতম কারন। পপুলেশনের ধরন অর্থাৎ সমাজ ও গোত্রের ধরন গুলো ও হিংস্রতার মাত্রার উপর প্রভাব ফেলে।
মজার বিষয় হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের মধ্যে হিংস্রতা আছে বলে তাদের চলার জন্য চলার নির্দেশনা সহ সুন্দর পথ বলে দিয়েছেন। মানুষ স্বভাবগতভাবে টেরিটোরিয়াল হলেও ইসলাম মানুষকে আঞ্চলিকতার গন্ডি পেরিয়ে সীমানাহীন এক সমাজের চিন্তা মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছে। মানুষে মানুষের সম্পর্ককে ভাই-ভাই সম্পর্কে পরিনত করে দিয়েছে ফলে কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে সে দুর দেশে অন্য মুসলিমকে ভাই বলতে শিখেছে। কেউ সঠিকভাবে ইসলাম পালন করলে জাতিয়তাবাদের সংকীর্নতাকে পরিহার করতে শেখে ফলে আঞ্চলিক জাতিয়তার দোহাই দিয়ে সংঘাত হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় অনেকাংশে। আবার ইসলাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছে সেটি কেউ ফলো করলে ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতা তৈরীর সম্ভবনাও থাকেনা। যার উদাহরন আমরা আমাদের দেশেই দেখতে পাই। ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগে, লীগে-লীগে খুনোখুনি হতে দেখলেও শিবিরে-শিবিরে, জামায়াতে-জামায়াতে মারামারি তো দুরের কথা গালাগালি পর্যন্ত হয় না সেখানে কোন প্রতিযোগিতা থাকেনা থাকে কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে চলার প্রেরনা।

হিংস্রতা আছে থাকবেই। প্রশ্ন হলো হিংস্রতাকে নিয়ন্ত্রন করার যে কৌশল আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বাতলে দিয়েছেন সেটি আমরা মেনে চলবো কিনা। যদি সেটি কেউ মেনে না চলি তাহলে তার ফল আমাদের চোখের সামনে বর্তমান।

https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5273376282874147

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s