আওয়ামী লীগের চেতনা ব্যবসা

মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো ধরনের প্রপাগান্ডা চালায় তাহলে ১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 😉

২৮ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ধর্মীয় বোধ ও অনুভূতিতে আঘাত করে, তাহলে ১০ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।😴

চেতনার খেসারত ১৪ বছর, ধর্মের খেসারত ১০ বছর 
গালি দেয়া দুরের কথা বঙ্গবন্ধুকে কেউ যদি স্বাধীনতার ঘোষক মানতে রাজি না হয়, বিরোধিতা করে তাহলে এই চেতনার আইনের ১৪ বছর জেলে পচতে হবে। আবার কেউ যদি ধর্মের ব্যাপারে কটুক্তি করে তার সাজা ১০ বছর। মজার ব্যাপার হলো ধর্মের ব্যাপারে মুক্তচিন্তার কথা বলা হলেও তথাকথিত চেতনার ব্যাপারে কারো দ্বি-মত করার সুযোগ রাখা হয়নি। মুক্তিযুক্ত এবং স্বাধীনতা নিয়ে তরুন প্রজন্মের কারোরই নেগেটিভ ধারনা করার সুযোগ নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে যখন দলীয় অপরাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যখন তাকে মুক্তভাবে সার্বজনীন করার বদলে চাপিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কৌশল অবলম্বন করা হয়, তখন তরুন প্রজন্মের কিছু অংশ এই অপচিন্তার বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক বিরোধীতাকে যখন দেশ ও স্বাধীনতার বিরোধিতা হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল অবলম্বন করা হয় তখন সুকৌশলে একদলীয় আদর্শকে অন্য সবার কাধে চাপানোর চেতন বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করা হয়। কোন দেশেই এরকম জংলী আইন নেই। খোদ ভারতে ও এই ধরনের আইন নেই। ভারতেও অনেকেই আছে মহাত্না গান্ধীকে আদর্শ মানতে নারাজ। যখন দেশ ও জাতির উন্নয়নে রাজনৈতিক দল ইশতেহার দিতে ব্যর্থ হয়, যখন উন্নয়নমূখী ভিশন প্রণয়নে দলীয় কর্মক্ষমতা লোপ পায় তখন ব্যর্থ রাজনৈতিক দলগুলো চাপিয়ে দেয়ার রাজনীতি শুরু করে, যা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে দৃশ্যমান।

চেতনার ব্যবসা যতদিন ভালোভাবে চলবে ততদিন ভোটাধিকারের সুষ্ঠপ্রয়োগ হবে না, ভিশনারী নেতৃত্ব দেশের শাসনযন্ত্রে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবেনা। আর মেকি চেতনাকে দুরে ঠেলে ভিশানরী নেতৃত্বকে সামনে এগিয়ে দেয়ার দ্বায়িত্ব দেশের প্রত্যেকটি ভোটারের।

যারা চেতনার কথা বলে দূর্নীতিকে লালন করে, সন্ত্রাসকে পালন করে তারা মূলত ব্যবসাই করে। চেতনার আড়ালে কার্যসিদ্ধি।

বিঃদ্রঃ বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে বলা উদ্দেশ্য না। আইন হবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করার বিরুদ্ধে শাস্তির। বঙ্গবন্ধুর জীবনের যে অংশটুকু দেশের স্বাধীনতার সাথে জড়িত সেই অংশটুকু আইনের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু পুরো ব্যক্তি মানুষকে নিয়ে এত বড় আইন এক ধরনের স্বৈরাচার মনোবৃত্তি প্রকাশ করে। যারা জিয়াউর রহমান কে স্বাধিনতার ঘোষক হিসেবে মনে করে তাদের কি সবার জেলে যেতে হবে??

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s