অবাধ্য ছেলের পিতার প্রতি উমর (রাঃ) এর নসিহত

হযরত উমর (রাঃ) এর সময়ে এক লোক তার ছেলেকে নিয়ে উমর (রাঃ) কাছে গেলেন ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেন, হে আমিরুল মুমিনিন আমার এই ছেলে আমার অবাধ্য, সে আমার কোন কথা শুনেনা এরকম অনেক অভিযোগ করলো। উমর (রাঃ) বৃদ্ধ বাবার কথা শুনলেন এবং তরুন বালককে ডেকে উপদেশ দিতে শুরু করলেন, তোমার বাবা তোমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তোমার উচিত তোমার বাবার অধিকার পুরন করা।
তরুন সেই বালক জিজ্ঞেস করলো আমি কি একটি প্রশ্ন করতে পারি হে আমিরুল মুমিনিন? উমর (রাঃ) বললেন অবশ্যই, বলো তোমার প্রশ্ন কি? বালক বললো, আমার কি কোন অধিকার নেই? আমার অধিকার গুলো কি? হযরত উমর (রাঃ) বালকের কাছে তার অধিকার গুলো ব্যাখ্যা করে বললেন।
বাবা-মায়ের প্রতি বাচ্চাদের প্রথম অধিকার হলো, বাবা-মায়ের উচিত উত্তম স্ত্রী বা স্বামী খুঁজে নেয়া। বাচ্চা জন্মের পূর্বেই ভবিষ্যত বাচ্চার অধিকার হলো সঠিক স্ত্রী বা স্বামীকে খুঁজে নেয়া। এর একটি কারন হলো যদি কেউ উত্তম স্বামী কিংবা স্ত্রীকে সিলেক্ট করে তাহলে বাচ্চাদেরো উত্তম উপায়ে লালন-পালন করা সহজ হয়। যদি কেউ বিয়ে শুধুমাত্র সৌন্দর্য্যের জন্য কিংবা সম্পদের জন্য বা যদি কেউ এমন কাউকে বিয়ে করে যে সঠিকভাবে কথা বলতেই পারে না, সব সময় ঝগড়াঝাটি করে তাহলে এমন বাবা-মা হতে কেমন সন্তান আশা করা যাবে। এটি পুরুষ-মহিলা সবার ক্ষেত্রে প্রযোগ্য। বিয়ের আগেই শুধু সৌন্দর্য্য চিন্তা না করে চিন্তা করা উচিত এই পুরুষটি আবার সন্তানের বাবা হিসেবে যোগ্য কিনা কিংবা এই মেয়েটি আবার ভবিষ্যত সন্তানের মা হিসেবে যোগ্য কিনা। ইসলামী শরীয়তে এরজন্য সুন্দর পদ্ধতি বলে দেয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি উমর (রাঃ) বলেছেন সেটি হলো, তোমার বাবার দ্বিতীয় কর্তব্য হলো তোমার সুন্দর নাম দেয়া। সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম। যে নামে ডাকলেই বাবা-মায়ের প্রশান্তি লাগে। অনেক সময় এমন নাম দেয়া হয় যাতে ওয়েস্টার্ন ওয়েস্টার্ন ভাব থাকে। অনেকেই এটাকে স্মার্টনেসের পার্ট হিসেবে মনেকরে। এটি ঠিক না।
তৃতীয় যে অধিকারের কথা উমর (রাঃ) উল্লেখ করেছিলেন,
তুমি যখন বড় হওয়া শুরু করবে প্রথম যে জিনিসটি তোমাকে শিক্ষা দিতে হবে সেটি হলো আল-কুরআন। কুরআন নির্দেশিত পথে সন্তানকে লালন-পালন করা। তখন বালকটি উমর (রাঃ) বললো হে উমর আপনি আমিরুল মুমিনিন, আমি বলতে চাই আমার বাবা কোনটাই পুরন করেননি। বালকটি বললো যে আমার বাবা পথের এক মহিলাকে বিয়ে করেছে। বালকটি বললো আমাকে একটা সাংঘাতিক নাম দিয়েছে এবং কুরআন কি জিনিস আমি কিছুই জানিনা, আমাকে কুরআন কি শিক্ষা দেয়া হয়নি। তখন উমর (রাঃ) ডাইভার্ট হয়ে বাবার বললেন তুমি তোমার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে এসেছো অথচ তুমি এমন একজন বাবা যে তোমার ছেলের একটি অধিকারও পূরন করোনি। তুমি বলতে এসেছো যে আমার ছেলে অবাধ্য, কোন কথা শুনেনা।
আমাদের সমাজে স্বামীদের অধিকার নিয়ে যেমন বেশি আলোচনা হয় ঠিক তেমনি বাবা-মায়ের অধিকার নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। দেখবেন অনেক সিনেমা নাটক তৈরী হয়েছে শুধুমাত্র বাবা-মায়ের অধিকারকে তুলে ধরার জন্য। সন্তানের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয় খুব কম। অথচ সন্তানের অধিকারের প্রতি মনোযোগী হলে পিতা-মাতার অধিকারের ব্যাপারে সন্তানরা এমনিতেই মনোযোগী হয়ে যাবে।
লেখাটি মুফতি মেনকের আলোচনা হতে নেয়া হয়েছে।
সন্তানের অধিকারের ব্যাপারে আরো দেখতে ও পড়তে পারেন।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s