থার্টি ফার্ষ্ট নাইট আমরা কেন উদযাপন করবো?

31 ডিসেম্বর রাত, 1 জানুয়ারীর সন্ধিক্ষনে নববর্ষের যে উদযাপন তার অনেক গুলো কারনের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কারন হলো গ্রীক দেবতা Janus (https://en.wikipedia.org/wiki/Janus) যার নাম অনুসারে Gregorian calendar (https://en.wikipedia.org/wiki/Gregorian_calendar) বা solar calendar এর প্রথম মাসের নাম জানুয়ারী। Pope Gregory XIII এর নামানুসারে Gregorian নামকরন করা হয়। গ্রীক দেবতা Janus কে বলা হয় গড অফ বিগিনিং & এন্ড, গড ওফ টাইম, গড অফ গেইটওয়ে, গড অফ প্যাসাজ এন্ড ডুয়ালিটি। গ্রীক এই দেবতাকে দুটি মুখের মাধ্যমে চিত্রায়িত করা হয়, একটি ফেইস সামনের দিকে বা ভবিষ্যতের সময়গুলো দেখতে পায় বলে মনেকরা হয় অন্যটি পেছনে বা অতীতকে মনেকরার প্রতীক হিসেবে। অন্য একটি সূত্রমতে যিশু খ্রিষ্টের নামকরন এবং খৎনা উদযাপনের দিনকে ১ জানুয়ারী উদযাপনের কারন হিসেবে দেখানো হয়েছে। (https://en.wikipedia.org/wiki/New_Year%27s_Day)

ইউরোপের দেশগুলোতে তুষাঢ় পড়া শুরু করে অক্টোবর মাস থেকে স্থানভেদে সময়ের আংশিক পরিবর্তন হতে পারে তবে কম বেশি এই সময় থেকে ঠান্ডা পড়া শুরু হয় দিনের লেংথ কমে যাওয়া চোখে পড়া শুরু করে। যেসব দেশ নর্থপোলের কাছাকাছি সেসব দেশে এটি আরো বেশি পরিলক্ষিত হয় ২১ ডিসেম্বর দিনের আলোর পরিমান সবচেয়ে কম থাকে এরপর আবার দিনের আলোর পরিমান বেশি হতে শুরু হয়। ১ জানুয়ারী হতে পরিবর্তন একটু চোখে পড়া শুরু করে। তাই এসব দেশে ১ জানুয়ারীকে একটি পরিবর্তনের সময়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখল সে তাদের অন্তর্ভুক্ত”। [আবু দাউদঃ ৩৫১৪]

আমরা অনেক কিছু যা বুঝে উদযাপন করি, যেগুলো আমাদের কোন উপকরে আসেনা যেগুলোতে আমাদের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পায় না। বেয়াহাপনা করার জন্য শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ধোকায় ফেলে দেয়। প্রত্যেক নবী ও রাসুল গন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পাঠিয়েছেন শুধুমাত্র মানুষের এসব খামখেয়ালীকে শুধরানোর জন্য। প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময় যেসব খারাপ বা বহুদা কাজ গুলো মানুষ করত সেগুলোর প্রায় সবগুলোই বর্তমানে আমাদের মধ্যে চর্চিত হচ্ছে। মানুষ নিজেদের সবকিছুকে দেখানোর এবং নতুন কিছু করার প্রবনতা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে অনেক সময় মানুষ নিজেদের পরিচয়ও ভূলে যায়।

“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাদের দু’টি দিন ছিল, যেখানে তারা খেলা-ধুলা করত। তিনি বললেনঃ এ দু’টি দিন কি? তারা বললঃ আমরা এতে জাহিলি যুগে খেলা-ধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার পরিবর্তে তার চেয়ে উত্তম দু’টি দিন দিয়েছেনঃ ১। ঈদুল আদহা ও ২। ঈদুল ফিতর”। (আবু দাউদঃ ১১৩৪, আহমদঃ ১৩২১০)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর সময় মূর্তি পূজা এবং তারকা পূজা বিদ্যমান ছিলো, ঠিক সমসাময়িক সময়ে হযরত লূত (আঃ) এর সময়ে সমকামীতা, রাহাজানী প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের প্রবনতা ছিলো। প্রকাশ্য মজলিসে খারাপ কাজের বর্তমান সংষ্করন হলো নাইটক্লাব ও ডিস্কো সংস্কৃতি।
এরকম অনেক প্রকার কাজ আছে যেগুলো আমরা না বুঝে শুধুমাত্র হুজুগে করি খেয়ালের বশবর্তী হয়ে যেগুলো ঠিক না।

যেকোন ধরনের বেহুদা কাজ যেগুলো মানুষের উপকার করতে পারে না বরং ক্ষতি করে হোক না সেটা আর্থিকভাবে ইসলাম সেটি করতে নিরুতসাহিত করেছে। আমরা অনেক সময় প্রকাশ্য না করলেও উদযাপনে শারীরিক ও মানসিকভাবে উপস্থিত থেকে পরোক্ষভাবে এগুলোকে উতসাহ করি যেগুলো আমাদের পরিচয়ের মাঝে দেয়াল তৈরী করে ফেলে।

আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিচ্ছেনঃ

“হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু”। (সূরা বাকারাঃ ২০৮)

যারা আমরা নিজেদের মুসলিমবলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি তাদের জন্য বর্তমান সময়টা খুবই চ্যালেঞ্জিং। একদিকে আমাদের বিবেক অন্যদিকে সমাজের অধিকাংশের গোমরাহী। অনেক সময় বাপ-দাদাদের উদাহরন দেয়া হয়, ঠিক এমনিভাবে প্রত্যেক নবী ও রাসুলের সময়ে মানুষ বাপ-দাদাদের উদাহরন দিয়ে তাওহীদের দাওয়াতের বিরুদ্ধাচরন করেছিলো যা বর্তমানেও চলছে। অনেকেই বেহায়াপনাকে উন্নতসমাজের সংস্কৃতি বলে নিজেরাও সামীল হচ্ছে।

পবিত্র কুরআনের সূরা আলাক্বের ৬-৭ আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলছেন ”বস্ত্ততঃ মানুষ যখন দেখে যে, সে কারু মুখাপেক্ষী নয়, তখন সে বেপরওয়া হয়’
বস্তুতঃ বিপদে পড়লে আমরা যে আল্লাহকে ডাকা শুরু করি, বিপদ কেটে গেলে আবার অনাচারে লিপ্ত হই এটিকে ইংগিত করেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সতর্ক করতে এটি বলেছেন।

এবং সূরা যুখরফের ৪০-৪৩ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলতেছেন

”এমনিভাবে আপনার পূর্বে আমি যখন কোন জনপদে কোন সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখনই তাদের বিত্তশালীরা বলেছে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে পেয়েছি এক পথের পথিক এবং আমরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে চলছি।” যুখরুফ ৪৩/২৩
বাবা-দাদারা ভূল করে আসলে, সমাজে ভূল কোন প্রথা চালু থাকলে আমরা সেটিকেই আকড়ে ধরে থাকতে চাই।

সূরা ইসরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আরো বলতেছেন ”যখন আমি কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি তখন তার অবস্থাপন্ন লোকদেরকে উদ্ধুদ্ধ করি অতঃপর তারা পাপাচারে মেতে উঠে। তখন সে জনগোষ্টীর উপর আদেশ অবধারিত হয়ে যায়। অতঃপর আমি তাকে উঠিয়ে আছাড় দেই।” ইসরা ১৭/১৬
সমাজের প্রতিষ্ঠিত মানুষকে আমরা অনুসরক করতে বেশি পছন্দকরি যদিও অনেক সময় তারা ভূল পথে নিজেদের চালিত করে। ভূলপথে জীবন যাপন করে তারপরও আমরা এসব করে নিজেদের সমাজের উচু শ্রেনীর মধ্যে ভাবার ভান ধরি।

সুতরাং যেগুলো ইসলামের সংষ্কৃতি নয় সেগুলো থেকে শরীর ও মনকে দূরে রেখে আমাদেরকে সমাজের সামনে উদাহরন হিসেবে পেশ করাই হোক আমাদের জীবনের লক্ষ্য। ইসলামী মুল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেও সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা যায়, মানুষের জন্য কাজ করা যায় এর উদাহরন তৈরীই হোক আমাদের উদ্দেশ্য।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন

“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যথাযথ ভয়। আর তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মারা যেও না”। (সূরা আলে-ইমরানঃ ১০২)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকল প্রকার বেহুদাকাজ হতে দুরে রাখুক, যাতে সবাই মুসলিম ও মুমিন হয়ে মৃত্যুবরন করতে পারি এই দোয়া করি। (আমীন)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s