আগামীর প্রত্যাশা হানাহানি মুক্ত ধরিত্রী

যখন অনেক ছোট ছিলাম কোথাও একটু গন্ডগোল বাঁধলে ছুটে যেতাম দেখার জন্য। ছোট বেলায় গ্রামেই ছিলাম। গ্রামে সাধারনত বড় ধরনের ঝগড়া হত না। পরিসর যত বড় হতে থাকলো মানুষে মানুষে মারামারি দেখার অভিজ্ঞতা তত বেশি হতে লাগল। গ্রাম থেকে যখন শহরে গেলাম। দেখতাম মাঝে মধ্যেই মহল্লার ছেলেদের সাথে পাশের মহল্লার ছেলেদের মারামারি। যদিও পরবর্তিতে সেটি অনেক কমে গিয়েছিলো। সেটি কমে গিয়ে সেখানে এখন স্থান নিয়েছে রাজনৈতিক বিষয় গুলো। মাঝে মধ্যেই ভাবতাম বড় শহর গুলোর মানুষ মনেহয় একটু বেশি সভ্য ঝগড়াঝাটি কম। সেসময়ে নিজ মহল্লা ছাড়া বাইরের জগত নিয়ে মাথা ঘামানোর মত বুদ্ধি হয়ত হয়নি। স্কুল কলেজের জীবন শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আংগিনায় পা দিলাম। ২০০১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী জীবনের সবচেয়ে বড় ধরনের মারামারি দেখার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের যাত্রা শুরু করেছিলাম। শিক্ষিত মানুষের উন্মত্ততা, ধ্বংসলীলা, লুট ও অগ্নিসংযোগ নিজের চোখের সামনে দেখেছিলাম।
জীবনের পরিসর যত বড় হতে লাগল মানুষে মানুষে হানাহানি দেখার অভিজ্ঞতা তত বৃদ্ধি পেতে থাকল। বিদেশে এসে সংগ্রামমূখর ব্যস্ত জীবনে যখনই ল্যাপটপ ওপেন করে সোস্যাল মিডিয়ার পেইজগুলোতে ঢুকি তখনই বিভৎসতা গুলো চোখের সামনে ভেসে উঠে। সামান্য কারনে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও জাতিগত ভিন্নতার কারনে মানুষ কত হিংস্র হয়ে উঠতে পারে তা আগে কখনো হয়ত কল্পনাও করতে পারিনি।
ভাবতাম অতীতের সময় গুলো হয়ত ভালো ছিলো। কিন্তু ইতিহাস বলে নিকট অতীত ও দুর-অতীতেও মানুষে মানুষে হানাহানি ছিলো। মানুষে মানুষে হানাহানি গুলো বার বার যখন চোখের সামনে আসে তখন মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থান নিয়ে নিজের কাছে প্রশ্ন তৈরি হয়।

একজন মানুষ সাংঘাতিক রকমের অস্ত্র নিজের মধ্যে ধারন করে চলেছে যুগ যুগান্তর। মানুষ নিজেই এক একটি এটম বোম। মানুষের হাত-পা ই এক একটি সাংঘাতিক রকমের অস্ত্র।

এই অস্ত্রগুলোর সঠিক ব্যবহার কিভাবে নিশ্চিত করা যায় তার জন্যই যুগে যুগে সৃষ্টিকর্তা প্রেরিত উত্তম চরিত্রে কিছু মানুষ যাদেরকে সৃষ্টিকর্তা নিজের প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মানুষ ধর্মের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে খুব কমই। ধর্মের সোনালী দিন গুলো ব্যতীত বেশির ভাগ সময়েই মানুষে মানুষে হানাহানি ছিলো ই। মানুষের এ্যানিম্যাল অংশটির চর্চা ছিলো ই। এর কারনে সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবধি ভাল-মন্দের দ্বন্দ্ব চলছেই….. হয়ত চলবেই….. এক প্রজন্ম থেকে আর এক প্রজন্ম….

মাঝে মাঝেই বিজ্ঞানের কিছু বিষয়কে অবিশ্বাস্য বলে মনেহয়। সময়ের সাথে সাথে বিজ্ঞানের কিছু বিষয় যেমন ভূল প্রমানিত হয় আবার তেমনি ধর্মের সাথে কিছু বিষয়ের ঐক্যমতও সৃষ্টহয়। সত্য ধর্মের বিষয় গুলো চিরন্তন সত্য।

অ্যামেরিকান একটি এ্যানিমেশন ম্যুভি জুটোপিয়া। টিভি দেখার সময় খুব একটা হয় না। বউয়ের সাথে বসে একটু দেখার সুযোগ হয়েছিলো। যতটুকু দেখেছিলাম সেখানে দেখলাম অনেক ম্যামাল কে বিভিন্ন চরিত্রে দেখানো হয়েছে। মহিষ, বাঘ, সিংহ, শিয়াল, খরগোস সবাই একসাথে বিভিন্ন রকম কাজ করছে। কারো সাথে কারো গন্ডগোল নেই, হঠাৎ কিছু ম্যামাল হারিয়ে যায়। এদের খুজতে বের করার দ্বায়িত্ব পড়ে খরগোশের উপর। খরগোশ একদিন ব্রীফ করে যে প্রানীর হিংস্রতা একটি বায়োলজিক্যাল ব্যাপার। পড়ে তদন্তে খরগোশ আর শিয়াল মিলে বের করে যে আসলে একটি অসাধু চক্র এক ধরনের ফুলের নির্যাস গোপনে অন্য প্রানীর শরীরে ইনজেক্ট করার কারনে প্রানী গুলো হিংস্র হয়ে উঠছে। হতে পারে খাদ্যাভ্যস প্রানীর হিংস্রতা সৃষ্টির জন্য কিছুটা দ্বায়ী। যদিও নিরামিষভোজী (?)/উদ্ভিদভোজী মানুষ গুলো নিরীহ হতে পারেনি। হয়ত এটি একটি গবেষনার বিষয় হতে পারে।

জীন এডিটিং নিয়ে মানুষের গবেষনা এগিয়ে চলেছে। বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য জীনকে টার্গেট করে গবেষনা এখন অনেক গুরু্ত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রোগের জন্য জীন গবেষনার পাশাপাশি কিছু গবেষক হয়ত অন্য রকম কিছু গবেষনাও চালিয়ে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মনুষ্য সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় গুলোর কারনে যদি জীনের পরিবর্তন ঘটিয়ে মানুষের খারাপ আচরন গুলোর নিয়ন্ত্রন সম্ভব হতো বা মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য গুলোর আংশিক পরিবর্তন করে সভ্য সমাজ বিনির্মান করানো যেত এরকম চিন্তা হয়ত অনেক আগেই শুরু হয়েছে, হলে কি খারাপ হবে?? যদিও কতটুকু সম্ভব সময়েই তার উত্তর পাওয়া যাবে।

ধর্ম ও বিজ্ঞান দুটো ই তো সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি। ধর্ম ও বিজ্ঞান নিয়ে দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে মিমাংসার জন্য অনেক স্কলার রা আছেন।

কিন্তু আমরা স্বপ্ন দেখতেই পারি মানুষে মানুষে হানাহানিবিহীন সুন্দর এক সমাজ। যেখানে চোখ খুললেই মানুষের বিভিৎস লাশ দেখতে হবে না, যেখানে কান পাতলেই মানুষের মর্মান্তিক আত্নচিৎকার ভেসে আসবে না। শুধুই থাকবে ভালোবাসাপূর্ণ শান্তিময় সুন্দর এক পৃথিবী।

….নয়ত সব যুগে এভাবেই হয়ত স্বপ্নরা ঘুরে ফিরে চলে যায় ফেরার দেশে…এভাবেই হয়ত চলবে নিরন্তর….অতপর সমাপ্তি… সবকিছুর।

তারপরও আসুন না আমরা নিজের অবস্থান থেকে একটু মানবিক হওয়ার চেষ্টা করি। নিজেদের মতভেদের জায়গা গুলো থেকে বের হয়ে মতৈক্যর জায়গায় একসাথে গিয়ে যাই……

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s