বাংলাদেশ ভ্রমন

দেশে সার্বিকভাবে মানুষের চলার গতি বেড়েছে। শৈশবে আমাদের গ্রামে একটা রিকশাও ছিলো না দুটো গ্রাম মিলে হয়ত দুটা একটা রিকশা পাওয়া যেত। গরুর গাড়ী ছিলো প্রধান মাধ্যম। দিন অনেকখানি বদলে গিয়েছে। প্রতিবছরই যাই আর নতুন কিছু চোখে পড়ে। গরুর গাড়ি থেকে রিকশা এরপর গিয়ে দেখলাম অটোরিকশাগুলোয় ভরে গিয়েছে পুরো শহর। অটোরিকশার সাথে পাল্লা দিতে প্যাডেল চালিত রিকশায়ও ইঞ্জিন লাগিয়েছে চালকরা। মজার র‍্যাপার হলো গ্রামে আগে যেখানে কাজের লোক কাজের জন্য ধর্না দিত এখন বাসায় কাজের মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আগে সৈয়দপুরে বিমান ছিলো সপ্তাহে ১ টা তাও মাঝে মধ্যে বন্ধ থাকতো। এখন সেখানে দৈনিক ৪-৫ টি বিমান যাতায়াত করছে। মানুষ চা পান করতে করতে রাজধানীতে পৌছে বাজার করে আবার ৩৫০ কিমি পাড়ি দিয়ে বাড়ি পৌছতে পারছে।

এই চলার গতি বাড়ার পেছনে কাজ করছে প্রতিযোগিতার মনোভাব, সাথে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছলতা মানুষের জীবন নিয়ে দৃষ্টিভংগি পাল্টে দিয়েছে। মানুষ নিজের অধিকার এবং আত্নসম্মান নিয়ে এখন অনেক সচেতন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কারনে মানুষ স্ব-নির্ভরশীল হওয়ার কারনে সামাজিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্যে দৃশ্যমান ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এখন গ্রাম মোড়লের কর্তৃত্ব মানুষ মানেনা কারন মানুষ আগে যেমন অন্যের উপর অনেক নির্ভরশীল ছিলো এখন সেই নির্ভরশীলতার পরিমান কমেছে অনেকখানি। তবে এর পুরো কৃতিত্ব আমি রাষ্ট্রকে দিবো না এই কৃতিত্বের বেশির ভাগই শ্রমজীবি মানুষদের।

তবে মানুষের শরীর যেভাবে গতিশীলতা পেয়েছে, মানুষের মনের গতি সেভাবে বাড়েনি। শারীরিক গতিশীলতার জন্য যে উপরকরন দরকার সেগুলোর সহজলভ্যতা মানসিকভাবে গতিশীল হওয়ার উপকরন গুলোর অভাববোধকে অদৃশ্য করে রেখেছে। ফলে মানুষের মননশীলতার বিকাশ অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার সাথে তাল মেলাতে পারছেনা ফলে সমাজে অস্থিরতা বেড়েছে। বাড়াটাই স্বাভাবিক। শরীরের পুষ্টির জন্য মানুষ যখন সংগ্রামে ব্যস্ত, মানুষ যখন সমাজে নিজের আসন প্রতিষ্ঠায় ব্যস্ত সেখানে সবার অজান্তেই মন নামক জিনিসটি ক্ষুধায় কাতর হয়ে মৃতপ্রায় হয়ে বেচে আছে। ফলে মানুষের সামাজিক বন্ধন, পারিবারিক বন্ধন গুলো, সম্পর্ক গুলোর মধ্যে সমস্যা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

আমার কাছে মনেহয় বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সামাজিক আন্দোলনের জন্য দৃশ্যমান এজেন্ডা থাকা উচিত। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার পাশাপাশি সমাজে যাতে করে নৈতিকতার মানের উন্নতি হয়, যাতে করে সুস্থ মানসিক বিকাশও ত্বরাণ্বিত হয় সে বিষয়ে কাজ করা উচিত। নাহলে ধীরে ধীরে আমরা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিংবা পরিবার কেন্দ্রিক হয়ে পড়ে থাকবো।

অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে মানুষের শরীর ও মানসিকতার বিকাশ হোক। নৈতিকভাবে শক্ত সমাজ গড়ে উঠুক এই কামনা সব সময়ের জন্য।