বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড এবং কিছু ভাবনা

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু (?) দের হত্যা সেটি মিডিয়ায় জোড়ালো ফোকাস, সেই সাথে সাইট ইনটেল এর বিবৃতি, বিএনপি কোন এক নেতার সাথে ইসরাইলির ছবি প্রকাশ সেটিকে মিডিয়ায় জোরালো তুলে ধরা সেই সাথে ভারত পন্থী বুদ্ধিজীবিদের বিএনপি জামায়াতের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক খুজার চেষ্টা, পুলিশের স্ত্রীর হত্যা স্বারাষ্ট্রমন্ত্রীর মোসাদের কানেকশনের সাথে বিএনপি-জামায়াতের সংযোগ খুজার চেষ্টা, খুজার চেষ্টা খারাপ না কিন্তু সেটিকে ফ্যাক্ট হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা, আওয়ামীলীগের সাথে বাংলাদেশের জামায়াত বিদ্বেষী ইসলামী দল গুলোর সাথে সম্পর্কন্নোয়নের চেষ্টা, জামায়াতের নেতৃবিন্দের ফাসি। সব গুলোকে যদি কেউ সুক্ষ্নভাবে চিন্তা করে তাহলে একটি প্রশ্ন প্রথমে সামনে ভেসে উঠে যে লাভ কার? হুমম, আসলেই লাভটি কার?

সবার নাম বার বার আসে, আসে মোসাদের নাম ইসরাইলের নাম, ভারতের “RAW” এর নামটি কেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী উচ্চারন করলেন না?

নেতৃবিন্দের একের পর এক ফাসি, থানা ইউনিয়ন পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের নেতারে পিটিয়ে কোমড় ভেংগে দিয়েছে সরকারী বাহিনী। এক একটি হত্যাকান্ডের আগে বা পরে জামায়াত নেতাদের ফাসি দিয়ে হত্যা কান্ড গুলোর দায়ভার অত্যাচারে ক্লান্ত জামায়াত-শিবিরের উপর চাপায়ে কাউকে বাচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না তো??

যে ইসরাইলের বিরোধীতা করাটাই জামায়াত-শিবিরদের আদর্শ সেখানে ইসরাইলের সাথে জামায়াত-বিএনপি সম্পর্ক খোজার মধ্যে কিছুটা দূর্গন্ধ পাওয়া যায় বৈকি।

এমনও তো হতে পারে,

ভারতের “RAW” এর সাথে ইসরাইলের মোসাদের সম্পর্ক অনেক পুরনো, অনেকেই হয়ত জানেনা বাংলাদেশে ভারতের বর্তমান রাস্টদূত আগে ইসরাইলে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরট ছিলো। তাকে বাংলাদেশে সরিয়ে এনে ভারত অবশ্যই কোন এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টায় আছে।

হতে পারে
ভারতের “RAW” এর এজেন্ট রা বাংলাদেশে মাঝে মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অখ্যাত কাউকে হত্যা করলো, সাথে সাথে ভারতের “RAW” এর পেইড এজেন্ট নিউজ পেপার গুলো সেটিকে হেডলাইন করে ফলাও করে প্রচার করলো, ঐদিকে সাইট ইনটেল কে এই সংবাদ সরবরাহ করলো, সাথে সাথে সাইট ইনটেল সেটি তাদের টুইট থেকে টুইট করলো, বাংলাদেশের সরকার দলীয় লোকজন সেটিকে জংগী আখ্যায়িত করলো এবং তার সাথে জামায়াত- বিএনপির সংযোগের মন গড়া তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরলো।

সংখ্যা লঘুদের হত্যা করে আওয়ামীলীগ দুটি ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করছে, এবং সেটি করে কারো কাছ থেকে সুবিধা আদায় করছে।

১) সংখ্যালঘু হত্যা করে দ্বায়ভার জামায়াত-বিএনপির উপর দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ থেকে জামায়াত নেতাদের ফাসির বৈধতার নৈতিক সমর্থন আদায় করে নেয়া, বিরোধী দলীয় নেতাদের কোনঠাসা করে রাখা। এর মাধ্যমে ভারতকে নিজেদের দলীয় স্বার্থের পাশে রাখা।

২) বাংলাদেশের মানুষদের মাঝে ক্রমাগত হত্যাকান্ড ঘটিয়ে জামায়াত-বিএনপির উপর দোষ চাপিয়ে আতংকের পরিবেশ তৈরী করে ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করা।

সংখ্যা লঘু মারা গেছে এক বছরে হয়ত ১০ জনের বেশি হবেনা। এক ইউনিয়ন ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। যে ইলেকশনে জামায়াতের কোন উপস্থিতি ছিলো না, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় এই ১২৬ জন মানুষকে হত্যা কারা করলো?? বেশির ভাগ এ মারা গেছে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে। এক বাসের আগুন দিয়ে ৭ জন মারা যাওয়ার মিথ্যা মামলায় যদি বিএনপির সব নেতাদের ধরে জেলে নেয়া যায়, দু-একজন মারার কারনে সুপ্রীম কমান্ডের দায় ভার জামায়াত নেতাদের উপর দিয়ে যদি তাদের ফাসির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এক ইলেকশনে ১২৬ জন মানুষের প্রান হানীর দ্বায়ভার নিয়ে কারো না কারো ফাসি হওয়া উচিত। হয় এর দ্বায়ভার সরকারের নয়ত ইলেকশন কমিশনের।

১২৬ জন মানুষ যে দলের দলীয় কোন্দলে মারা যাইতে পারে সে দলের দলীয় আদর্শ সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কতটুকু গ্রহনযোগ্য কতটুকু সমর্থন যোগ্য সেটিই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন।

হয়ত সময়ই সব কিছুর উত্তর দিবে, মাঝখানে কিছু আহাজারি থেকেই যাবে, সময়ের নিয়ম এটিই। জীবনটা কে দুর থেকে তাকিয়ে দেখলে মনেহয় সত্য সবাই বুঝে, কিন্তু সেটিকে উপলব্ধির কোথায় যেন সীমাবদ্ধতা।

রমজানে মানুষের মনের সেই সীমাবদ্ধতা দুর হোক, মানুষের বিবেক শয়তানের শৃংখল থেকে মুক্তি পাক! আমরা সবাই মিলে দেশটাকে দেশের মানুষগুলো ভালোবাসি এই কামনাই করি।

#SaveBangladesh #Bangladesh