জীবন যেখানে যেমন

গতকাল রাত ১১ টার দিকে বাসায় ফিরছিলাম, বাস থেকে নামার পর একটু সামনে এগুতেই দেখি এক ৮০-৯০ বছরের বৃদ্ধা ওয়াকার নিয়ে হাটছে। যেটা দেখে মনটা খারাপ লাগছিলো মহিলাটির মাথা নুয়ে পড়েছিলো ঠিক হাটের কাছে পুরো বাকা হয়ে অত রাতে একলা রাস্তায় যাচ্ছে কোথায় যেন, ভাবছিলাম কি জীবন?? আজ আবার যখন বাসায় ফিরছিলাম রাত সাড়ে ১০ টা বাজে, ঠিক একই রাস্তায় আবার সেই বৃদ্ধা ঠিক একইভাবে শরীর পুরো ৯০ ডিগ্রি বেকে হেটে হেটে সামনে এগুচ্ছে। আজ দেখে অন্যরকম মনে হলো, যে জীবন এখানে এমনি, সবাই নিজের পায়ে চলাকেই হয়ত সন্মানজনক মনে করে। এখানেই সবাই জীবনকে এভাবেই মেনে নিয়েছে। তাই হয়ত বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েও হয়ত অনেকের মনেহয় এটাই স্বাভাবিক। আমি আগে যে ল্যাবে থিসিস করছিলাম, ওখানে এক মিশরীয় ভদ্রলোক ছিলেন, উনার এক ছেলে। ছেলের যখন বিয়ে হলো তখন ছেলে আলাদা বাসায় উঠলো। ওকে জিজ্ঞেস করছিলাম, তোমার তো একটাই ছেলে বড় বাসায় একসাথে থাকলেই তো পারো, তোমাদের দেখাশোনার জন্য ভালো হতো।

ও তখন জবাব দিয়েছিলো, সে এখন বড় হয়েছে তার আলাদা বাসায় থাকাটাই স্বাভাবিক।

জীবন এক রকম হলেও, জীবনের উপাদান গুলো ভিন্ন। জীবনের রং, জীবনের এই ঘটনাগুলো এমনই কোথাও যেটি স্বাভাবিক ঠিক সেটি ই অন্য কোথাও অস্বাভাবিক। জীবনের সংজ্ঞাও তাই মানুষভেদে, শ্রেনী ভেদে ভিন্ন রকম।

জীবনের বাহ্যিকতা দেখে অনেক সময় মুগ্ধ হয়ে পড়ে, বাস্তবতা হলো জীবনের ভালো-মন্দ রূপ দুটি সব খানেই বিদ্যমান।

জীবন ধারনের উপকরন গুলোর সহজলভ্যতার হয়ত পার্থক্য থাকে, শারীরিক পুষ্টির অভাব জায়গা ভেদে ভিন্ন থাকতে পারে তবে মানসিক পুষ্টির অভাবটা কমবেশি সব খানেই বিদ্যমান।

আমরা শারীরিক পুষ্টির জন্য যুদ্ধ করলেও মানসিক পুষ্টির জন্য সামান্য কষ্ট করতেও প্রস্তুত নই, তাই সম্পদ ভরা এই দুনিয়ায় বড় বড় অট্টলিকা, বিশাল বিশাল বাগান তৈরী হলেও শান্তিময় সমাজ বিনির্মান তাই এখনো অধরা।

সুন্দর সমাজ, সুন্দর পৃথিবীর জন্য দরকার সুন্দর মানসিক সৌন্দর্য্যের মানুষ। সবার মন সৃষ্টিকর্তার দেয়া রংয়ে রঞ্জিত হোক এই কামনা করি।

মতামতের বৈচিত্র‍্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

মতের বৈচিত্র‍্যতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে যখন আপনি কোন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন। সবার মতামত একই রকম হলে সিদ্ধান্ত গ্রহন হয়ত সহজ হয় কিন্তু সবচেয়ে ভালো পরামর্শটা বেচে নেয়ার অপশন তখন থাকেনা। এজন্যই রাসুল (সাঃ) সাহাবা (রাঃ) দের মধ্যে কোন বিষয়ে চিন্তার ভিন্নতাকে ভালো বলেছেন।

মতের উপর দৃঢ় থাকা বা অটল থাকা বা মতকে সর্বাধিক সঠিক মনেকরা সব সময় ঠিক না। ধরুন আপনি যখন নিজের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তখন যদি অটল থাকেন হয়ত লাভ বেশি হতে পারে। কিন্তু আপনি সামষ্টিক কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাবেন বা নিয়ে ফেলবেন তখন আপনি নিজের মতের উপর কঠোরতা অবলম্বন করলে, ভালো কিছুর সম্ভাবনা থাকলে সেটি আর হয়ে উঠবেনা। আর সামষ্টিক কোন বিষয়ের ক্ষেত্রে যেহেতু আমানতদারীর বিষয়টি জড়িত তাই সামষ্টিক বিষয়কে সামষ্টিক দৃষ্টিকোন থেকে পর্যালোচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারন ব্যক্তিমানুষ ইগো, ক্রোধ দ্বারা কমবেশি তাড়িত। সুতরাং কঠোরতা অনেক সময় সামষ্টিক আমানতদারীতাকে গৌণ করে তুলে, মানুষ অন্যের ভালোর চিন্তায় এত মগ্ন হয়ে পড়ে যে আল্লাহর লিখিত তা্ক্বদীর তখন অদৃশ্য হয়ে দাড়ায়। এজন্যই অনেক সময় কোন কিছুর ফল ভালো না হলে আমরা মেনে নিতে পারিনা কারন ব্যক্তি মানুষের গুন গুলো তখন ভর করে ফলে আল্লাহর যে ইচ্ছে থাকতে পারে সেটি কিছুটা গৌণ হয়ে দাড়ায়।

যেমন ধরুন আপনি কোন একটি কাজ করতে গেলেন, পারলেন না, আবার চেষ্টা করলেন পারলেন না, আপনি করতে চাইলেন এক ভাবে আর একজন বললো আর একভাবে আপনি করলেন আবার পারলেন ন. হলোনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা আফসোস করি, দোষ দেই কারন তখন আমরা তাক্বদীরের উপর যে বিশ্বাস সেটির ঘাটতির মধ্যে পড়ে যাই। ধরুন আপনি আপনার পরিবার, বাচ্চার জন্য সবভাবে চেষ্টা করলেন হলো না, সমানভাবে চেষ্টা করলেন আপনি ভাবলেন এক হলো আরএক।

যেটি বলতে চাচ্ছিলাম, আমার কাছে মনেহয় সামষ্টিক কোন বিষয়ে ধৈর্য্য অবলম্বন করা, মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, এবং সামষ্টিক আমানতকে মনে রেখে নরম হৃদয়ে পথ চলার মধ্যে কামিয়াবী আছে। এক; অাল্লাহর দেয়া আমনতের নষ্ট হওয়ার জন্য ভয় যেমন কম থাকে, তেমনি সময় ও পাওয়া যায় শুধরিয়ে নিয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো পথে অগ্রসর হওয়া যায়। দুই: ব্যক্তি মানুষের ইগো, রাগ, ক্রোধকে দমিয়ে সুন্দর মনে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

তবে সবশেষে মুমিনরা সব খানেই আল্লাহর কল্যান খুজে পাওয়ার চেষ্টা করে। মুমিনরা কখনও হতাশ হয় না। তাখলিফ থাকবে, আকাংখা থাকবে, ভবিষ্যত চিন্তায় অস্থিরতা থাকবে এর মাঝেও শান্ত হৃদয়ে আল্লাহর উপর অবিচল থেকে সবার ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে চলার মধ্যেই প্রকৃত মংগল নিহিত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবার হৃদয়কে কোমলতায় ভরে দিক। মনের অস্থিরতা দুর করে প্রশান্ত আত্না দান করুন। এই কামনা করি।

আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।