বিলুপ্তির পথে বিয়ে

বৈশ্বয়িক উন্নতির সাথে সাথে বদলে যাচ্ছে সমাজের প্রথাগুলোর, সমাজের প্রতিষ্ঠান গুলোর। বিয়ে নামক যে প্রথার মাধ্যমে সুন্দর পরিবার তৈরী হয়, সেই বিয়ের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। সমাজের ট্রাডিশনগুলোর পরিবর্তন কত দ্রুত হচ্ছে। কোন কোন দেশে ৫৫-৭৫ ভাগ বাচ্চার জন্ম হচ্ছে বিয়ে ছাড়াই। ব্রাজিলের ৩টি বাচ্চার মধ্যে দুটিই হচ্ছে বিয়ে ছাড়া। ভাবছেন এর বাতাস বাংলাদেশে লাগবেনা?? চিন্তার বিষয় বটে! বিয়ের মাধ্যমে যে পরিবার তৈরী হয় সেই পরিবারে যে বাচ্চাগুলো বড় হয় সেই বাচ্চাগুলো মানসিকতার ধরন হয়ত বিয়ের বহির্ভূত জন্ম নেওয়া বাচ্চাগুলোর মানসিকতা থেকে আলাদা। অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশগুলোতে বিয়ে ধীরে ধীরে জাদুঘরে স্থান করে নিচ্ছে।

20160116_IRC052.png

খুবই শংকার বিষয় হলো ইদানিং বাংলাদেশে তালাকের হার আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে ডিভোর্স পিটিশনের সংখ্যা ছিলো ৮,১৯১ টি, যা পূর্বের বছরগুলোর তুলনায় বেশি ৭,৬৫৩ টি ছিলো ২০১২ সালে এবং ২০১১ সালে ছিলো ৬৭৭৬ টি এখানে ক্লিক করুন…। তালাকের হার যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আমার কাছে মনেহয় সমাজে একধরনের অসহিষ্ণু মানসিকতা কাজ করছে। হয়ত এটি হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের যে ট্রানজিশন পিরিয়ড সেটির কারনে। হয়ত এই পরিবর্তন যে কোন একদিকে হয়ে যাবে। তালাকের হার বৃদ্ধি ধর্মভিত্তিক সমাজের জন্য এই জন্যই আশংকার যে এতে করে সমাজের উপর এক ধরনের চাপ তৈরী হয়, ফলে অন্যায় অব্যবস্থাপনার পথ প্রশস্ত হয়। পরিবারের প্রতি মানুষের একধরনের ঘৃণা তৈরী হয়। আর এই ঘৃণা থেকে মানুষ বৈবাহিক জীবনের চেয়ে বিয়ে না করেও এক সংগে থাকার পথ বেচে নেই, যাতে করে ঝামেলা হলে আলাদা হওয়া যায়।

ইদানিং অনেক প্রাকটিসিং মুসলিমের মধ্যেও এই তালাকের প্রবনতা আছে।
https://purematrimony.com/ এই সাইটটি মুসলিমদের বিয়ের জন্য প্রাকটিসকিং মুসলিম/মুসলিমাহ খুজতে অনেক ভালো ভূমিকা রাখছে। আমি নিজেও কিছুদিন সাইটটি ব্যবহার করেছি। মজার ব্যাপার হলো অনেক ইয়ং মুসলিমাহ আছে যারা তালাক প্রাপ্তা। বিষয়টি নিয়ে আমি ভেবেছিলাম যে কেনো এত অল্প বয়সে তালাকের ঘটনা ঘটছে। আমার কাছে মনেহয় নিজে নিজে ইসলাম শেখার কারনে, ইসলামকে কনটেক্সট বুঝে প্র‍্যাকটিক্যালী না শেখার কারনে। কিছু শিখেও মনের মধ্যে এক ধরনের ধারনা তৈরী করে অসহিষ্ণু মনোভাব তৈরী করে ফলে হঠাত করে অনেক পরিবর্তন কামনা করে যা পরিবারে সমস্যা তৈরী করে ফলস্বরূপ বিচ্ছেদ। এগুলো নিয়ে মুসলিম সমাজে আলোচনা হওয়া দরকার। আমার কাছে মনেহয় বাংলাদেশের মত দেশে উন্নত বিশ্বের মত পরিসংখ্যান তৈরী হওয়ার আগেই শুধুমাত্র রাজনীতির পেছনে না ছুটে সমাজের এই সমস্যা গুলো নিয়ে কাজ করা উচিত। সমাজে যদি সমস্যা থেকে যায় তাহলে রাজনীতির পেছনে সময় নষ্ট করে লাভ কি হবে? রাজনীতির চেয়ে সমাজের এসব সমস্যা নিয়ে কাজ করা উচিত।

20160116_IRC960

বিবেচনায় নেয়ার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশে প্রাকটিসিং মুসলিমদের মধ্যেও তালাকের হার বেড়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টির উপর খুব গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা উচিত যাতে করে এটি সমাজে মহামারী আকার ধারন না করে।

ইসলামি রাজনৈতিক দুলগুলো সমাজের এরকম সমস্যা ভিত্তিক কিছু প্রজেক্ট হাতে নিতে পারে। কিছু মানুষকে এগুলোর জন্য কাজ করার জন্য ডেডিকেটেড ভাবে নিয়োগ করতে পারে। তাহলে সমাজের কাছে কাজগুলো প্রসংশিত ও হবে আবার কিছু সমস্যা দুর হবে, সমাজের কাঠামো ঠিক থাকবে, প্রথাগুলো বেচে থাকবে। যা একটি জাতির পরিচয়কে বাচিয়ে রাখতে সাহায্য করবে।

চার্ট দুটির উৎস, দ্যা ইকোনমিষ্ট

আরো কিছু পরিসংখ্যান নিচে দেয়া হলো।

Marital History of U.S. Men from 1940-2012

marital-history-of-men-by-birth-cohorts-2008-2012

যারা জীবনে কখনই বিয়ে করেনি তাদের সংখ্যার হার ১৯৭০-৭৯ সালের মধ্যে দ্রুতই বৃদ্ধি পেয়েছে এই সংখ্যা হয়ত এখন আরো বেশি।

সংগঠনের সমালোচনা ব্যক্তিগত অভিমতঃবাইয়াত

অনেক ভাই মাঝে মাঝেই বলে প্রানের সংগঠন। আমার কাছে বিষয়টি একটু খটকা লাগে যখন এই প্রানের সংগঠনের কথা বলতে গিয়ে প্রায়শঃ অনেকেই ইমোশনাল হয়ে পড়ে। তখন একটি ইকুয়েশন মেলানোর চেষ্টা করি

সংগঠন=ইসলাম ; এটা কি আসলেই একটি সঠিক ইকুয়েশন? ইকুয়াল হওয়া নিয়ে কি আমরা ভাবি??

সংগঠন বলতেই আমরা বেহুশ, আমার কাছে মনেহয় সংগঠনের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তির কারনেই পলিটিক্স নামক ধুম্রজাল প্রায়শই আমাদের আমল এবং চিন্তার মাঝে ভেজাল ঢ়ুকে দেয়। সংগঠনকে অবশ্যই ভালোবাসতে হবে, কিন্তু সেটি অন্ধভাবে নয়। অন্ধভাবে ভালোবাসলে তো আমরা আবু জেহেল এবং আবু লাহাবদের মতই অন্ধ ভাবে বাপ-দাদা রেখে যাওয়া জিনিসকে আকড়ে ধরলাম।

ইসলাম গতিশীল, যারা বলে প্রানের সংগঠন তারা যদি প্রানের সংগঠনের জায়গায় প্রানের ইসলাম বলতো তাহলে বেশি ভালো শোনাতো। কারন হলো মানুষ বৈশিষ্ট্যগত ভাবে যা ভালোবেসে বড় হয় সেটাকেই বড় ভাবতে শেখে, ফলে যা কিছু সে বিচার করে সেই ছাকনির আলোকেই বিচার করে যা সে ধারনা লাভ করে আশেপাশের পরিবেশ থেকে। ফলে অনেক সময় সংগঠনের স্বার্থ এবং ইসলাম কিংবা আল্লাহর সন্তুষ্টির মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরী হয়। মানুষের ভালোবাসার সংগঠনের গতিশীলতার জন্য, আমরা নিজের অজান্তেই অনেক কিছু মেনে নেই যা হয়ত রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের পরিপন্থী। আবার অনেক সময় এমনও দেখা যায় মতের অমিলের কারনে হয়ত অনেক সম্ভবনাময় কর্মীর মান উন্নয়ন কিংবা খুব ভালো আমলের কেউ দ্বায়িত্ব থেকে বঞ্চিত হয়। এটি হয় কারন সংগঠনের স্বার্থ সবার আগে থাকে আর যেহেতু আমরা সংগঠনকে সেভাবেই ভালোবাসি তাই অনেক সময় সংগঠনের স্বার্থ বলতে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই বুঝি, কিন্তু সমস্যা দাড়ায় যদি সেই স্বার্থের আদায় রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের পথে না হয়। তখন হয়ত এসব মনে থাকেনা। আর সমালোচনা সেতো আনুগত্যের বড় খেলাপ।
To be muslim বইটির শেষ অধ্যায়ে বাইয়াতের গুরুত্ব নিয়ে কিছু লিখা আছে। লেখক সুন্দরভাবে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেছেন যে কাকে বাইয়াত দেয়া যাবে।

আবার বর্তমান সময়ে নানা ধরনের সংগঠন এবং নানা ধরনের মতভেদ, মত পার্থক্য তৈরী হওয়ায় বাইয়াত জিনিসটি একটি জটিল বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়। আমি হয়ত কেউ না এসব বলার। তবে কিছু প্রশ্নের উত্তর আমি খুজে ফিরি,

যেমন ধরুন আমি কোন ইসলামী সংগঠনের কাছে বাইয়াত নিলাম, যে আল্লাহর ও রাসুল (সাঃ) এর আনুগত্য করব। করলাম ভাবোভাবে। এই দুই আনুগত্য নিয়ে হয়ত কারো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা দেয় সংগঠনের আনুগত্যএর ব্যাপারে। বাইয়াত নিয়ে অনেক সময় শুধুমাত্র মত পার্থক্যের কারনে বাইয়াত ছিনিয়ে নেয়া হয়। এখন প্রশ্ন হলো এই বাইয়াত ছিনিয়ে নেয়া বা বাতিল করার যোগ্যতা কারা রাখে?? আবার কেউ যদি কোন সংগঠন হতে বাইয়াত বাতিলে সম্মুখীন হয় সে যদি অন্য ইসলামী সংগঠনে যুক্ত হয় তাহলে সে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) এর বরখেলাপ করে কিনা??

আবার সে যদি অন্য ইসলামী সংগঠনে যুক্ত হয় তাহলে আগের সংগঠনের সেই উখুয়াতের আদর্শে উদ্ভুদ্ধ ভ্রাতৃসকল তাকে কিভাবে দেখে?? এগুলো আসলেই জটিল সাংগাঠনিক বিষয়। যদিও আমার মত ছোট ক্লাশের মানুষের কাছে এগুলো বোধগম্য নয় তবে মাঝে মাঝে এই বাইয়াত জিনিসটা ধাধায় ফেলে দেয় । আবার যখন তখন যখন কারো বাইয়াত কেড়ে নেয়া হয়, তখন এই ধাধা আরো বেড়ে যায়। যেমন ধরুন, আমি একটি ইসলামি সংগঠন যুক্ত থাকলাম বাইয়াত নিলাম, যদি আমি আর একটি ইসলামী সংগঠনে প্রোগ্রামে যাই এবং সেখানে যদি রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের বরখেলাম হয় এমন ঘটনা না হয় তাহলে আমার বাইয়াত কেড়ে নেয়া যাবে কিনা, বা নিলে সেটিও রাসুল (সাঃ) সুন্নাতের সাথে যায় কিনা? এই বাইয়াত দেয়া এবং নেয়াকে যদি দুভাবে ভাগ করা যায়, এবং সেভাবে বিষয় গুলো দেখা হয় তাহলে প্রশ্ন কম তৈরী হবে, বাইয়াত আর ছেলেখেলার বিষয় মনে হবে না।

যেমন বাইয়াতকে দুই ভাগে ভাগ করা যাইতে পারে…।
১) সাংগাঠনিক শৃংখলা মেনে নেয়ার বাইয়াত
২) আল্লাহ এবং রাসুল (সাঃ) কে সর্বোতভাবে মেনে চলার বাইয়াত।

যদিও কেউ সাংগাঠনিক কোন শৃংখলা ভংগ করে তাহলে সেটিকে সাংগাঠনিক বাইয়াত নাম দিয়ে সেটির মুল্যয়ন করা যেতে পারে। আর কেউ যদি সাংগঠনের কাজ করার সময় আল্লাহ এবং রাসুল (সাঃ) আনুগত্যের কোন বরখেলাপ করে তাহলে তার মূল্যয়ন অন্যভাবে হওয়া উচিত। তাহলে একটি বিষয় ভালো হবে, সাংগাঠনিক ভাইয়াত কেড়ে নিলেও কেউ সংগঠন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেনা। তানা হলে, সংগঠনের সিন্ধান্তের বাইরে গেলে যে ইসলামের বাইরে চলে গেলো এমন একটি মনোভাব কর্মীদের মধ্যে তৈরী এবং এই কর্মীরা যখন দ্বায়িত্বশীল হয় তখন এটি আরো বেশি প্রভাব বিস্তার করে।

 

ইনশাল্লাহ এই বিষয় নিয়ে কুরআন এবং হাদীস নিয়ে স্ট্যাডি করার ইচ্ছে আছে।

… প্রতিটি ইঞ্চির মালিক দিল্লি।

182348_1

মিনা ফারার ফেসবুক থেকে

 

হাসিনার অস্বাভাবিক কর্মকান্ডে যারাই নিজের চুল নিজে ছিঁড়ছেন, তাদের জন্য দারুণ সুসংবাদ। সুযোগ্য বন্ধু উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উন তার নিন্দুকদেরকে উন্নতি দেখানোর জন্য, ভয়ানক এক লংকাকান্ড করে ফেলেছে। যে দেশের মানুষের বস্তি ভাড়া দেয়ার ক্ষমতা নেই, কার কথা শোনে কিম জং? ৮ কিলোটনের হাইড্রোজেন বোমা ফাটিয়ে পশ্চিমাদেরকে দেখিয়ে দিলো, কতো উন্নত দেশ উত্তর কোরিয়া? বোমা ফাটানোর ভিডিওতে দেখালো, লক্ষ লক্ষ কোরিয়ান রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত তালি দিচ্ছে আর কিম জং-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ঠিক যেমন বাংলাদেশে।

এবার মিলিয়ে দেখুন। ব্রিটিশের কারাগারে বসে ১৯৪২ সনে ইন্দিরাকে জহওরলালের লেখা পত্রগুলো নিয়ে বইটিতে অখন্ড ভারতের কথা বারবার লেখা। ভারত ভাগের জন্য গান্ধিকে হত্যা করেছিলো আরএসআর, যে দলের সদস্য ছিলেন মোদি। পাকিস্তানে গিয়ে মোদির কদমবুচি রাজনীতি, রাজনাথ সিং-দের অখন্ড ভারতের প্রচার আরএসআর-এর তরফ থেকে অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠায় নানান কর্মকান্ড হাতে নেয়া, সর্বোপরি বাংলাদেশের সঙ্গে বিজেপির কিছু সন্দেহজনক কর্মকান্ডের মাধ্যমে অবশেষে আর দুঃখ করার কিছু নাই। বিজেপি-বিজেবি সব একাকার হয়ে গেছে। বাস্থব মানতেই হবে, অখন্ড ভারতের রাজনীতিতে প্রথম বলি ৭১ সনে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা বাংলাদেশ। ওরা ধরেই নিয়েছে ভারত এবং বাংলাদেশ এক। বীর্য কন্ঠে আরএসআর-এর মুখপাত্র ঘোষণা করলো, “ভিয়েতনাম-জার্মান এক হলে বাংলাদেশ-ভারত কেন এক হবে না। অবশ্যই হবে।” বিজেপি-বিজেবি সব একাকার, কিছু বুঝলেন?

কাকতালীয় বটে, মনে হচ্ছে আমি যেন গণক। বাংলাদেশের ভবিষ্যত বলে দিচ্ছি একটার পর একটা। আজ পাকিস্তান যা বললো, গত লেখায় আমি আগে বলেছি । পাকিস্তান বললো, “জামায়েতের নেতাদেরকে ফাঁসি দিচ্ছে ভারত।” আরো বললো, “বাংলাদেশের লোকেরা হয়তো ইতস্তত বোধ করে কিন্তু ভারত চাইছে জামায়েত নিষিদ্ধ হোক।” লেখাটি পড়ে আমি বাকরুদ্ধ।

বাপ-বেটি দুইজনেরই কাজ, গণতন্ত্রের লেজে আগুন দিয়ে আমৃত্যু ক্ষমতায় থাকার বন্দোবস্থ। কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে তাকে। তার যন্ত্রণায় আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলো ইনু, তাহের, রাশেদ খান মেনন এবং সিরাজ শিকদারেরা। এরাই মুজিব হত্যাকান্ডের ঢাকে বাড়ি দিয়েছিলো। তার অত্যাচারেই মেজর জলিলের মতো মুক্তিযোদ্ধাদেরকে মুজিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হয়েছিলো। ভারতের বুদ্ধিতে রক্ষিবাহিনী নামে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্যারালেল মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে সকলের পাছায় আগুন দিয়ে সেকি জঘন্য অত্যাচার! স্বাধীন দেশের মানুষ হতবাক, হায়-হায়! ভয়ে লক্ষ লক্ষ সংখ্যালঘু দেশ ছেড়ে আমাদের সামনে দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেলো। তখন আমি কলেজের ছাত্রী। ১ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবিতে আমার স্বর্গীয় পিতাকে ময়মনসিংহ জেলের পায়খানায় ৩ দিন বন্দি রেখে সিগারেটের আগুনে তার চামড়া পুড়িয়ে দিয়েছিলো রক্ষিবাহিনী। প্রতিবাদে অর্ধদিবস হরতাল করেনি শেরপুরবাসী? সেদিনের রক্ষিবাহিনীর অত্যাচারের সঙ্গে আজকের পার্থক্য একটাই, আপেল গাছ থেকে বেশি দূরে পড়ে না। আমার একটি অভিযোগও মিথ্যা হলে মাগুরলীগকে প্রমাণ করতে হবে, আমার দেবতাতুল্য পিতার জান খারাপ করে দেয় নাই এবং শেরপুরের সংখ্যালঘুদেরকে চাঁদার দাবিতে গ্রেফতার করে ডিমথেরাপি দেয় নাই? আরো প্রমাণ করতে হবে, দেশজুড়ে তখন দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, চাঁদাবাজ এবং মজুতদারদের সংস্কৃতি সৃষ্টি করে নাই? তখনকার অবস্থা ৭১এর চেয়েও ভয়ানক ছিলো এবং এসবই ঐতিহাসিক সত্য। কেন বলছি এসব কথা? যারা মুক্তিযুদ্ধ করে নাই, দেখে নাই কিংবা পাকিস্তানীদের কোলে বসে সজীব ওয়াজেদকে সিএমএইচ-এ প্রসব করলো, একমাত্র সেইসব কারজাইদের পক্ষেই রক্ষিবাহিনী থেকে বিজেবি, শিমলা চুক্তি থেকে দেশ বিক্রির চুক্তি, হাসিনার আমলে যতো চুক্তি… জনতাকে অন্ধকারে রেখে সম্ভব করলো দিল্লি।

মনে হচ্ছে বাপের মতোই জামায়েত-শিবিরকে আন্ডারগ্রাউন্ডে পাঠানোর প্রস্থতি শেষ। বিএনপির অতীত কবরে, বর্তমান অন্ধকারে, ভবিষ্যত কারাগারে। আসিতেছে এতিমের টাকা চুরির অভিযোগে খালেদার ২৫ বছরের জেল, যদিও নিজেদের পাছায় লক্ষ ছিদ্র। কিম জং উনের সুযোগ্য বন্ধু এবং চেয়ারম্যান মুজিবের যোগ্য উত্তরাধিকারী স্যার হাসিনার দুই হাতে ভারতের হ্যান্ডকাপ। তাদের ইচ্ছার বাইরে কিছুই করার সাধ্য নেই বরং টোপ দিয়েছে ২০০ বছরের ক্ষমতা। প্রথম কিস্তিতে ২০২১ এবং ২০৪২ দিয়ে পরীক্ষা। সফল হলে, উত্তর কোরিয়ার মতোই বংশানুক্রমে চলবে দুইখন্ড ভারতের ছত্রছায়ায় একখন্ড রাজনীতি। পাকিস্তানের আগেই আমি ভবিষ্যতবাণী করেছিলাম। নিজামীর ফাঁসি বাংলাদেশ দেয়নি, কারোটাই দেয়নি বাংলাদেশ। দিতে পারে না কারণ বাংলাদেশিরা তাদের ক্ষমাশীল হৃদয়ের জন্য দেশে-বিদেশে নন্দিত। এইরকমের নিষ্ঠুর কর্মকান্ড বাংলাদেশ কখনোই করবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তলে তলে আওয়ামী মন্ত্রীরাও ৪৪ বছর পর প্রমাণ ছাড়াই এইভাবে বানোয়াট ফাঁসি দেয়ায় বিব্রত এবং শংকিত। শুধুমাত্র দিল্লির তরফ থেকে ২০০ বছরের ক্ষমতার গ্যারান্টি না পেলে তোফায়েল-ইনুরা বহু আগেই আওয়ামী লীগ ছেড়ে দিতো। কারণ তারাও দেখছে, সোস্যাল মিডিয়ায় হাসিনাসহ নানান মন্ত্রীদের সঙ্গে সংসদে এদের কাড়িকাড়ি ছবি। এটাও দেখছে, বারবার বিরোধীদলে থাকা অবস্থায় আজ যাদেরকে ফাঁসি দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে নিয়ে এরশাদ এবং খালেদা বিরোধী আন্দোলনে। সুতরাং সাক্ষুস প্রমাণ সত্ত্বেও, ফাঁসি দিচ্ছে কেন? আমার বিশ্বাস, একটি ফাঁসিও হাসিনা দেয়নি বরং দিল্লির ইচ্ছা পূরণে বাধ্য হয়ে ভয়ংকর কাজে লিপ্ত হয়েছে। এককথায়, তাকে দিয়ে ভারতের কাজটি করিয়ে নিচ্ছে।

জঙ্গি নিধনের নামে ভারতবর্ষ জুড়ে অঘোষিত মার্শল ল’। জঙ্গি গন্ধ পেলেই ফাঁসি দিচ্ছে। হিটলারের মতোই হাসিনার বিরুদ্ধেও জনগণের যে জনরোষ, নির্বাচন হলে ৯৫ ভাগ ভোট পাবে বিএনপি। কিন্তু দিল্লির ইচ্ছায় বিএনপি-জামায়েতের গায়ে জঙ্গির সিল মারতে বাধ্য হলো হাসিনা, এটাই বিরোধীদলকে ধ্বংসের লাল ফরমান। জঙ্গির সিল দেওয়ার পর, কেন বাঁচিয়ে রাখবে দিল্লি? আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, ক্ষমতায় আসামাত্র বিএনপি-জামায়েতকে জঙ্গি দল হিসেবে অভিহিত করলো আওয়ামী লীগ। মাথার গোবর ফেলে কিছু মস্তিষ্ক রোপণ করেন। বিএনপি-জামায়েতকে পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্যই দিল্লির নীলনকশা এগুলো। এই কারণেই বিডিআর হত্যাকান্ড ঘটিয়ে মেরুদন্ডবান অফিসারদেরকে হত্যা করে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে বিজেবি।

আপনারা যদি গত ৬ মাসের বক্তব্য লক্ষ্য করেন, যদি বডিল্যাংগুয়েজ পরীক্ষা করেন, দেখবেন, হাসিনা এবং মন্ত্রীদের বক্তব্যের সঙ্গে এই বাংলাদেশ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। মনে হবে তারা অন্য গ্রহের কথা বলছে। তাদের অস্বাভাবিক বক্তব্য দুইটা- ১) সন্ত্রাস, ২) উন্নতি। উন্নতির নামে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে বাংলাদেশের হাতে হাতকড়া লাগাচ্ছে বিদেশিরা আর সন্ত্রাসের নামে ট্রাইবুন্যাল খাড়া করে একটার পর একটা ফাঁসি। দেখবেন, জামায়েতের ১ম এবং ২য় সারির প্রতিটি নেতারই ফাঁসি হবে এবং যতোই আপত্তি আসুক কোনকিছুতেই কাজ হবে না। এর কারণ, এই অঞ্চলের মোড়ল ভারত একটি উদীয়মান অর্থনীতি। ভারত চায় না এমনকিছুই করবে না পশ্চিমারা। মোদির হ্যান্ডশেক এবং কদমবুচি বোঝার মতো মস্তিষ্ক শেষ করে ফেলেছে মিডিয়া প্রপাগান্ডা দিয়ে। প্রতিটি ফাঁসির হুকুম গণভবনে পৌঁছে দিচ্ছে দিল্লি এবং যথারীতি রায়ের ১২ ঘন্টায় ফাঁসি। বিচারকেরা অসহায় এবং সাফাই সাক্ষিরা টাকা পেলেই খুশি। মনে রাখবেন, আজ বাংলাদেশে যেসকল অস্বাভাবিক কর্মকান্ড অব্যাহত, কোনটাই বাংলাদেশিদের মস্তিষ্কপ্রসূত নয়। বাংলাদেশিরা এতোটা নিষ্ঠুর কখনোই নয়। হলে ৭৩ সনেই যা করার করে ফেলতো। ৪৪ বছর পর বিএনপির বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার মামলা এবং ট্রাইবুন্যাল গঠন করে ফাঁসির প্রতিটি ইঞ্চির মালিক দিল্লি। ফাঁসি দিচ্ছে দিল্লি সুতরাং ২০০ বছরের ক্ষমতার গ্যারান্টি তথ্যবাবার পরিবারকে দিলে, কি করার আছে আওয়ামী লীগের?

আবারো মনে করিয়ে দিচ্ছি, খালেদাকে সন্ত্রাসী মনে করে মোদি। হোটেল সোনারগাঁয়ে মোদি-খালেদার বৈঠকে বারবার এই সন্ত্রাসের কথাই জিজ্ঞেস করলো মোদি এবং ১০ ট্রাক অস্ত্রের প্রশ্নে ক্ষতবিক্ষত করলো খালেদাকে। এরপর আপনারা কি করে ভাবেন, নিজামীদের ফাঁসি না হয়ে খালস হবে? দিল্লি যতোদিন পর্যন্ত বন্ধ না করবে, ফাঁসি চলবে। প্রমাণস্বরূপ, সামসুদ্দিন মানিক যে নাকি একাধিক ফাঁসির রায় লিখলো, সেই এখন টকশো এবং ইমরান সর্দারদের মিছিলে একস্বরে কথা বলছে। বিচারক মানিক খালেদাকে পাকিস্তান চলে যেতে বলছে। মনে রাখবেন, ইমরান সর্দার, বিচারপতি মানিক, মিডিয়া মেশিন, ট্রাইবুন্যাল… প্রতিটি ইঞ্চির মালিক দিল্লি।