শিরোনামহীন ভাবনা

পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা হলো মায়ের পেট/গর্ভ। পৃথিবীর সবচেয়ে নিরিহ, পাপহীন মাসুম হলো গর্ভের বাচ্চা। যাদের সন্ত্রাসের কারন মায়ের পেটের বাচ্চা রেহাই পায় না তারাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী। মজার বিষয় এসব সন্ত্রাসীই দেশে এখন পুলিশের আশ্রয়ে অপরাধ করে সদর্পে ঘুরে বেরাচ্ছা। আর নিরীহ স্কুল মাদ্রাসায় পড়া ছোট ছোট শিশু বালককে অ্যারেষ্ট করে জেলে নেয়া হচ্ছে।

দেশে গিয়েছিলাম, অনেকেই বললো ডিবি পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়েছে তোকে অ্যারেষ্ট করে মামলা দিবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আমার এলাকার ছোট ভাই দেশে গিয়ে শুনি সে আমারই এলাকার যুবলীগের ইউনিয়ন সভাপতি তাকে ফোন দিলাম। সে বললো ভাই বাসায় থাইকেন না একটু নিরাপদে থাকেন। এরপর আইনশৃংখলা বাহিনীতে কর্মরত এক ফ্রেন্ডকে বললাম দোস্ত এই অবস্থা পুলিশ হয়রানি করছে, তারা ভাসায় শিবির করলেই কেন পুলিশ হয়রানি করবে। শিবির যে কেউ করতেই পারে। বন্ধু হয়ত কাজে অনেক ব্যস্ত থাকে হয়ত দেশের প্রতিদিনের খবরের কাগজ পড়ার সময় খুব কম পায়। যাহোক এক বন্ধুর আত্নীয় এক এআইজির কাছে গিয়ে কথা বলার সুযোগ হলো। উনি ভালো পরামর্শ দিলেন কিন্তু যখন বললাম যে মামা পুলিশ আমাকে হয়রানি করছে, আমার নামে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে পুলিশ সেগুলোকে সঠিক মনে করেই হয়রানি করছে। সেই এআইজি মামার ভাষায় দেশের অবস্থা এমন হয়ে যায়নি মানুষ পুলিশকে যা বলবে পুলিশ তাই বিশ্বাস করবে। কি করে উনাকে বুঝাবো আমার অবস্থা আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা। হয়ত উনিও অনেক ব্যস্ত থাকেন কাজে সময় পান না পত্রিকা পড়তে। এত বড় মানুষ সময় কম পাওয়াই স্বাভাবিক।

মনেপড়ে গেলো ইসলামের স্বর্ণযুগের মুসলিম শাসকদের কথা।
সে সময় মুসলিমদের জয় জয়কার। বিশাল এক সাম্রাজ্যর শাসক ছিলেন মুসলিম শাসক রা তারপর প্রত্যেকটি নাগরিকের জানমানের ব্যাপারে তারা ছিলেন সজাগ।

গতকাল শুনলাম খুলনায় ১৫০ জন মাদ্রাসার ছাত্রকে অ্যারেষ্ট করে জেলে নিয়ে গেছেন ক্ষমতাধর পুলিশ বাহিনী। এই ছাত্রগুলোর অপরাধ কি হয়ত পুলিশ নিজেও জানেনা। যাহোক হয়ত এই ছাত্ররাই মানুষের মধ্যে পড়ে না।

আমার এলাকার এক ছোট ভাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে, নাম রাসেল। বেশ কিছুদিন আগে ছাত্রলীগের ছেলেরা দিন দুপুরে পুলিশের সামনেই তার একটা পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, তার অপরাধ শিবির করে সে। তার পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাকেই পুলিশ রা অ্যারেষ্ট করে থানায় নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে দেশে গেলে সৈয়দপুরে ছেলে হিসেবে তার সাথে পরিচয় হলো, আমাকে তার আতংকের কথা জানালো যে ভাই দেশে থাকলে আমারে আবার ধরে নিয়ে যাবে একটু সাহায্য করেন। আমি ভেবেছিলাম দেশে এখনও কিছু ভালো মানুষ আছে ছেলেটা তরুন বয়ষে পা হারালো আবার তাকে কেন জেলে নিয়ে যাবে। দুদিন পর জানালো ভাই অনেক ভয়ে পরীক্ষা দি্চ্ছি ছাত্রলীগের ছেলেরা আমারে মেরে ফেলার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রেও আসে। যাহোক দু-মাস আগে শুনলাম পরীক্ষা দিতে গিয়ে পুলিশ তাকে অ্যারেষ্ট করে জেলে দিয়েছে।
প্রশ্ন হলো যারা তার পা টা বিচ্ছিন্ন করলো তাদের শাস্তি কে দিবে? পুলিশ যদি নিজেদের মানুষ মনে করে তাহলে তাদের মনে এসব অন্যায় হয়ত বিবেক কে নাড়া দেয়ার কথা। পুলিশরা ব্যস্ত সন্ত্রাসীদের রক্ষা করতে তাই যারা অসহায় তাদের হৃদয়ের কান্না পুলিশের হৃদয়ে পৌছানোর মত উপায় নেই।

মাঝে মাঝে কিছু ভাইয়ের অসহায়ত্ব দেখে, কাহিনী শুনে সত্যি কান্না চলে আসে। যে আসলেই কি আমরা মানুষ। আওয়ামী লীগ হোক আর শিবির ই হোক সবাইতো এক দেশের সন্তান।

যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন ৪ দলীয় জোট ক্ষমতায়। ক্যাম্পাসে শিবিরের মিছিল দেখেলেই বুঝা যেত মানুষ আসলেই শিবিরকে কত ভালোবাসে। এই ভালোবাসা ক্ষমতার নয়, এই ভালোবাসা নিরাপদ বোধের আর এই নিরাপত্তা জীবনের মান-সন্মানের। শিবির ক্যাম্পাসে থাকলে অনৈতিক কাজ কম হয়। এই কারনেই অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়কে মাদ্রাসা বলত। আমার ক্যাম্পাসে পড়াকালীন সময়ে সৈয়দ আমীর আলী হলে ছিলাম ঐ হলে ছাত্রলীগের অনেক ছেলে ছিলো কিন্তু কখনও শুনিনি শিবিরের কেউ তাদের গায়ে হাত তুলেছে। মজার বিষয় হলো আমার রূমমেট ছিলো শিবিরের ব্লগ সভাপতি তার মামাতো ভাই নাম ফিরোজ দিনাজপুর বাড়ি তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগ করত, সেটি সেই সময়ের হল সভাপতি কুষ্টিয়ার আক্তার ভাইও ভালো করে জানতেন বরং উনি এসে ফাজলামি করতেন যে এরা ঘষা আওয়ামী লীগ কখনও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। সেই ফিরোজ শিবিরের সীটে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেয় চান্সও পায় ম্যানেজেমেন্টে সেই ফিরোজই পড়ে আমীর আলী হলের ছাত্রলীগের আহবায়ক হওয়ার জন্য লবিং গ্রুপিং করে পড়ে সেই ক্যাম্পাসে শিবিরতো বটে সাধারন ছাত্রদের জন্য আতংক হয়ে দাড়ায় তার নাম হয় পেড়েক ফিরোজ। কারন চাদা না পেলে সে নাকি গায়ে পেড়েক মারত।

ঐ সময়ে হলে অনেকেই ছিলো ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো কিন্তু কেউ কারো দ্বারা আঘাত পেয়েছে বলে শুনিনি। অথচ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর শিবিরের নিরীহ ছেলেদের মেরে তাদেরই আবার পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার মত ন্যাক্কারজনক ঘটনা অহরহই ঘটছে। এসব ঘটনায় সাধারন ছাত্রও বাদ যাচ্ছে না।

আমার এলাকার ছেলে হায়দার আলী আমাকে মামা বলে ডাকে। বেচারা কোন রাজনীতিই করতো না অথচ ছাত্রলীগ তাকেও শিবির বলে ধরিয়ে দেয় এখন বিসিএস পেয়েও বেচারার চাকরী হচ্ছে না। ভাইভার রেজাল্ট নাকি আটকিয়ে রেখেছে। এসব ঘটনার সাথে পুলিশ অতপ্রোতভাবে জড়িত। অথচ পুলিশের কাছে এসব খবর নাকি পৌছায় না।

ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের রাজনীতি নষ্ট হয়ে গেছে। বাংলাদেশকে জাতিগতভাবে সংকটে ফেলতে আওয়ামীলীগের রাজনীতি প্রতাক্ষভূমিকা রাখছে। সমাজে এক শ্রেনীর মানুষ এখন আতংকে দিন কাটাচ্ছে, বাড়ীছাড়া হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে অসংখ্যা মানুষ।

আওয়ামীলীগের শিক্ষিত ভালো মানুষ গুলোর উচিত, এমন নোংরা রাজনীতি না করা। রাজনীতিকে আদর্শ দিয়ে, নিজেদের কাজ দিয়ে মোকাবেলার চেষ্টা করা।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পুলিশকে আরো ক্ষমতাধর করুক। তাদের কানকে বড় করে দিন। তাদের মধ্যে মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের দ্বায়িতবোধকে বাড়িয়ে দিন এই কামনা করি।

সবশেষে, আমার এক বন্ধু আমার ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে ক্যানাডা থেকে ফোন দিয়ে বলছে শোন; দেশকে নিয়ে ভাবার জন্য ১৬ কোটি মানুষ আছে, তুই বিদেশে আছিস বাইরে থাকার চেষ্টা কর দেশের জন্য চিন্তা বাদ দে”

বর্তমান অবস্থায় তার পরামর্শ সত্যিই অনেক ভালো। কিন্তু গ্রাম বাংলায় বেড়ে উঠা মানুষগুলো তাদের মাতৃভূমির প্রতি আসক্তি কি সহজেই ছাড়তে পারে? যেদিন সমাজের ভালোমানুষ গুলো রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভূলে সম্মিলিত কন্ঠে অন্যায়কে অন্যায় বলবে, ন্যায়ের জয়গান গাইবে, মানবতার জন্য কাজ করবে সমাজের সবাইকে নিজেদের মত একজন মনে করবে। সেদিনই মানবতার জয় হবে, সেদিন ই আমরা সভ্য বাংলাদেশি হতে পারব।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s