ড. আর্থার আলিসনের (ড. আব্দুল্লাহ আলিসন) ইসলাম গ্রহনের কাহিনী

শিক্ষা কখনো মানুষকে পৌছে দেয় দাম্ভিকতার শীর্ষে কখনও বা মানুষের হৃদয়কে করে দেয় কোমল, করে দেয় প্রশান্ত হৃদয়, সঠিক শিক্ষা সত্যের আলোয় মানুষকে উদ্ভাসিত করে তোলে। ইসলাম বিষয়ে অনুসন্ধান মানুষে বিমোহিত করে তোলে। কিছু সময় তা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। কিছু নন মুসলিমের ইসলাম গ্রহনের পেছনে অনেক মজার এবং চমকপ্রদ কাহিনী থাকে, এমনি একটি নাম হলো প্রফেসর আর্থার আলিসন ইসলাম গ্রহনের পর যার নাম প্রফেসর আব্দুল্লাহ আলিসন হয়েছিলো। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ছিলেন, তিনি British Society for Psychological and Spiritual Studies এর প্রেসিডেন্ট হিসেবেও অনেক বছর দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার স্ট্যাডি অফ রেলিজিয়ন নামক কোর্সের মাধ্যমে তিনি ইসলামের বিষয়ে পরিচিত হন। ইসলামকে অন্য ধর্ম গুলোর সাথে তুলনামূলক আলোচনা, অন্যানা মতবাদ যেমন হিন্দুত্ববাদ ও বৌদ্ধ মতবাদের সাথে আলোচনা এবং চিন্তা করে দেখলেন ইসলামের সাথে তার জন্মগত প্রকৃতির অনেক মিল আছে।

১৯৮৫ সালে প্রথম Islamic International Conference on the Medical Inimitability কনফারেন্সে আমন্ত্রিত হয়ে ড. আলিসন তার দুটি পেপার উপস্থাপন করেন।

তার প্রথম পেপারটি ছিলোঃ “the psychological and spiritual methods of therapy in the light of the Holy Quran”,
দ্বিতীয়টি ছিলোঃ “sleep and death in the light of the Quranic verse 39:42″

কনফারেন্সে উপস্থাপিত কুরআনের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন দেখে, কনফারেন্সের সমাপ্তি পর্বে ড. আলিসন ইসলাম গ্রহন করেন।

একটি আরব সাপ্তাহিককে দেয়া সাক্ষাতকারে তার ইসলাম গ্রহনের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেনঃ

” মেডিক্যাল ইনইমিটাবিলিটি (যার নকল করা যায় না) ইন কুরআনের উপর করফারেন্স চলাকালে আমি অনুধাবন করতে পেরছিলাম যে পার্থক্যটা ছিলো বেশ চমৎকার। তারপর আমি বিশ্বাস করতে সক্ষম হইযে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেটি আমার জন্মগত প্রকৃতি এবং আচরনের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আমি অনুভব করতে পেরেছিলাম যে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রনের জন্য একজন গড আছেন এবং তিনিই হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা।”

“এজন্য যখনই ইসলাম বিষয়ে পড়াশোনা করতাম, আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে এটি কখনই যুক্তি এবং বিজ্ঞানের সাথে সংঘর্ষ/দ্বন্দ্ব তৈরী করে না। আমি বিশ্বাস করি যে এটিই নাযিলকৃত ধর্ম যেটি এক এবং অদ্বিতীয় গড (আল্লাহ) নাযিল করেছেন। যেহেতু আমি সত্যকে অনুধাবন করতে পেরেছিলাম তাই দুটি বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি। যে মূহুর্তে আমি তা উচ্চারন আমি একধরনের আরাম, স্বস্তি এবং সন্তোষ মেশানো অদ্ভুত এবং অবর্ণনীয় অনুভূতিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলাম।”

প্রফেসর আব্দুল্লাহ আলিসন কনফারেন্সে সূরা যুমারের ৪২ নং আয়াতের অর্থ এবং ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। “আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।”

সূরা আরাফঃ ১৫৫
“তুমি যাকে ইচ্ছা এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথে রাখবে। তুমি যে আমাদের রক্ষক-সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী।”

আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হেদায়াত দান করেন, সরল পথে পরিচালিত করেন। শিক্ষা যেন আমাদের মধ্যে দাম্ভিকতা তৈরী না করে এবং তা যেন আমাদের ধ্বংসের কারন হয়ে না দাঁড়ায়। এই দোয়াই করি।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s