……

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই-প্রীতি নেই-করুনার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি,
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে হয়
মহৎ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।
– অদ্ভুত আঁধার এক-জীবনানন্দ দাশ’

কেউ বা রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত কেউ বা ধর্মপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে। কেউ বা ব্যস্ত নিয়ে স্বার্থনীতি। কেউ বা কথার লড়াইয়ে, যুক্তির লড়াইয়ে জয়ী বীর পুরুষ। চারিদিকে কোলাহল, কখনও বক্তৃতা, কখনও নিজের দেয়া যুক্তি, স্ব স্ব ক্ষেত্রে আমরা সবাই অসম্ভব পারদর্শী। কম বেশি সবাই স্বার্থবাদী। কেউবা প্রকাশ্যে কেউবা একটু লুকানো। কেউ বা জান্নাতে যাওয়ার জন্য অনেক ব্যকুল। কেউবা আবেগে ক্রন্দন করি। তবে মানুষ হিসেবে মানুষকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমরা কেউই স্বার্থহীন থাকতে পারিনি। মানুষকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে কখনও বা শরীরের রং, কখনও বা শ্রেনী বৈষম্য, কখনও বা গোষ্ঠী গত দ্বন্দ্ব কখনও জাতীয়তা বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। ধর্ম ও অধর্মের লড়াইয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালোবাসার ক্ষেত্রে আমরা বাধার প্রাচীর দুর করতে পারিনি। এখানে আমরা থেকেছি বরাবরই সংকীর্ণ। কখনও বা মতাদর্শের কারনে, কখনও বা একই মতাদর্শের ভেতরে উচু-নিচু মানের কারনে, কখনও শ্রেনীর বৈষম্যের কারনে মানব প্রেম বরাবরই পরাজিত হয়েছে। অবহেলিতরাই বেশি ত্যাগ স্বীকার করে, জীবনে কষ্ট করে অন্যর সূখের কাচামাল সরবরাহ করে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ ইসলামের প্রচার শুরু করার আগে মানুষের ভালোবাসার পাত্র হয়েছিলেন নিজের চারিত্রিক মার্ধুর্য্য দিয়ে। উনি ভালোবাসার বাণী পৌছে দিয়েছিলেন সবার দ্বারে দ্বারে। আমরা কতটুকু ভালোবাসা মানুষের দ্বারে পৌছাতে পারছি একটু ভাববার বিষয় বৈকি। ভালোবাসা না দিয়ে ভালোবাসা আশাকরা বোকামী। মানুষের মনে স্থান পেতে হলে শুধু মাত্র মানুষের জন্য বেশি বেশি কাজ করা উচিত। শুধু মাত্র মানব কল্যানে। এখানে আমরা পিছিয়ে অনেক অনেক দুর। সমাজের কিছু মানুষকে আমরা কখনো বা মানুষই মনে করিনা, কখনও নিজেদের জান্নাতবাসী ভেবে তাদেরকে নরকের আগুনে দেখে আচ লাগার ভয়ে তাদের দিকে চেয়ে তাকাইনা। অথচ একটুখানী ভালো দৃষ্টিভংগীই হয়ত পারে সকল মন্দ দুর করে সুন্দর এক সমাজ গড়তে
হে মানব যদি বিশ্বাস কর স্রস্টার বিশালতায় –
তবে কেন নিজেকে এত ক্ষুদ্র কর নীচতায় !
যদি বিশ্বাস কর আদম-হাওয়া, এডামস-ইভ কিংবা মন্যু- সীতায়-
তবে জেনো সকলে তোমার ভ্রাতাই ।
যদি শুনে থাক গল্প হাবিল-কাবিলের-
তবে জেনো নিশ্চয় আছে কারসাজি ইবলিসের ।
হে মানব রঞ্জিত কোরনা আর হাত ভ্রাতার রক্তে –
নিমজ্জিত হয়োনা আর আদিম পঙ্কে ।
এস আলোর পথে , উদ্ভাসিত হও প্রজ্ঞায় –
সৃষ্টির সেরা জীব তুমি – দীক্ষিত হও মানবতায় ।

ড. আর্থার আলিসনের (ড. আব্দুল্লাহ আলিসন) ইসলাম গ্রহনের কাহিনী

শিক্ষা কখনো মানুষকে পৌছে দেয় দাম্ভিকতার শীর্ষে কখনও বা মানুষের হৃদয়কে করে দেয় কোমল, করে দেয় প্রশান্ত হৃদয়, সঠিক শিক্ষা সত্যের আলোয় মানুষকে উদ্ভাসিত করে তোলে। ইসলাম বিষয়ে অনুসন্ধান মানুষে বিমোহিত করে তোলে। কিছু সময় তা মানুষের কল্পনাকেও হার মানায়। কিছু নন মুসলিমের ইসলাম গ্রহনের পেছনে অনেক মজার এবং চমকপ্রদ কাহিনী থাকে, এমনি একটি নাম হলো প্রফেসর আর্থার আলিসন ইসলাম গ্রহনের পর যার নাম প্রফেসর আব্দুল্লাহ আলিসন হয়েছিলো। তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ছিলেন, তিনি British Society for Psychological and Spiritual Studies এর প্রেসিডেন্ট হিসেবেও অনেক বছর দ্বায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার স্ট্যাডি অফ রেলিজিয়ন নামক কোর্সের মাধ্যমে তিনি ইসলামের বিষয়ে পরিচিত হন। ইসলামকে অন্য ধর্ম গুলোর সাথে তুলনামূলক আলোচনা, অন্যানা মতবাদ যেমন হিন্দুত্ববাদ ও বৌদ্ধ মতবাদের সাথে আলোচনা এবং চিন্তা করে দেখলেন ইসলামের সাথে তার জন্মগত প্রকৃতির অনেক মিল আছে।

১৯৮৫ সালে প্রথম Islamic International Conference on the Medical Inimitability কনফারেন্সে আমন্ত্রিত হয়ে ড. আলিসন তার দুটি পেপার উপস্থাপন করেন।

তার প্রথম পেপারটি ছিলোঃ “the psychological and spiritual methods of therapy in the light of the Holy Quran”,
দ্বিতীয়টি ছিলোঃ “sleep and death in the light of the Quranic verse 39:42″

কনফারেন্সে উপস্থাপিত কুরআনের বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন দেখে, কনফারেন্সের সমাপ্তি পর্বে ড. আলিসন ইসলাম গ্রহন করেন।

একটি আরব সাপ্তাহিককে দেয়া সাক্ষাতকারে তার ইসলাম গ্রহনের কাহিনী বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেনঃ

” মেডিক্যাল ইনইমিটাবিলিটি (যার নকল করা যায় না) ইন কুরআনের উপর করফারেন্স চলাকালে আমি অনুধাবন করতে পেরছিলাম যে পার্থক্যটা ছিলো বেশ চমৎকার। তারপর আমি বিশ্বাস করতে সক্ষম হইযে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যেটি আমার জন্মগত প্রকৃতি এবং আচরনের সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে আমি অনুভব করতে পেরেছিলাম যে বিশ্বকে নিয়ন্ত্রনের জন্য একজন গড আছেন এবং তিনিই হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা।”

“এজন্য যখনই ইসলাম বিষয়ে পড়াশোনা করতাম, আমি দেখতে পেয়েছিলাম যে এটি কখনই যুক্তি এবং বিজ্ঞানের সাথে সংঘর্ষ/দ্বন্দ্ব তৈরী করে না। আমি বিশ্বাস করি যে এটিই নাযিলকৃত ধর্ম যেটি এক এবং অদ্বিতীয় গড (আল্লাহ) নাযিল করেছেন। যেহেতু আমি সত্যকে অনুধাবন করতে পেরেছিলাম তাই দুটি বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছি। যে মূহুর্তে আমি তা উচ্চারন আমি একধরনের আরাম, স্বস্তি এবং সন্তোষ মেশানো অদ্ভুত এবং অবর্ণনীয় অনুভূতিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলাম।”

প্রফেসর আব্দুল্লাহ আলিসন কনফারেন্সে সূরা যুমারের ৪২ নং আয়াতের অর্থ এবং ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। “আল্লাহ মানুষের প্রাণ হরণ করেন তার মৃত্যুর সময়, আর যে মরে না, তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার মৃত্যু অবধারিত করেন, তার প্রাণ ছাড়েন না এবং অন্যান্যদের ছেড়ে দেন এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।”

সূরা আরাফঃ ১৫৫
“তুমি যাকে ইচ্ছা এতে পথ ভ্রষ্ট করবে এবং যাকে ইচ্ছা সরলপথে রাখবে। তুমি যে আমাদের রক্ষক-সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং আমাদের উপর করুনা কর। তাছাড়া তুমিই তো সর্বাধিক ক্ষমাকারী।”

আল্লাহ যাকে ইচ্ছে হেদায়াত দান করেন, সরল পথে পরিচালিত করেন। শিক্ষা যেন আমাদের মধ্যে দাম্ভিকতা তৈরী না করে এবং তা যেন আমাদের ধ্বংসের কারন হয়ে না দাঁড়ায়। এই দোয়াই করি।

সমাজ সংষ্কারে স্কুলের ভূমিকা

পরিবার যদি হয় একটি বীজ উতপাদন কেন্দ্র, স্কুল হলো নার্সারী, শিক্ষকরা হলেন এর মালী। ক্ষেত ভালো হলে বীজ ভালো হয়, আর সেই বীজ যদি ভালো কোন মালীর নার্সারীতে যায় তাহলে সেখান থেকে ভালো চারা উতপন্ন সম্ভব এবং সেখান থেকে ভালো ফল/ফসল পাওয়া সম্ভব। ক্ষেতে আগাছা থাকলে বীজ বিশুদ্ধ হয় না। তেমনি বীজ যদি ভালো না হয় চারা গাছও ভালো হয়না। পোকায় ধরে, অনেক রকম রোগে আক্রান্ত হয়।

উন্নত বিশ্বের শিশুরা স্কুলের দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। স্কুলের বাচ্চাদের এমন কিছু নেই যে শিক্ষা দেয়া হয় না। প্রতোযোগিতাপূর্ণ ভোগবাদী সমাজে বাচ্চাদের বেশি সময় দিতে না পারার দরুন স্কুলের শিক্ষক/শিক্ষিকা কিংবা পরিবেশ যেমন হয় বাচ্চারা সেভাবে বড় হয়ে উঠে।

এসব স্কুলে বাচ্চাদের পাঠিয়ে আপনি যদি নিশ্চিন্তে থাকেন, তাহলে দেরিতে হলেও বুঝতে পারবেন আপনার বাচ্চা আপনার মত হয়নি বাচ্চা হয়েছে সেই রাষ্ট্রের সেই সমাজের চাহিদার মত। আপনি যদি মুসলিম হন যদি নিজের বাচ্চাকে নিজেদের মত আধো-বাংগালী এবং আধো মুসলিম দেখতে চান বাচ্চা ১৮ পেরুলেই বুঝতে পারবেন কোথায় যেন সমস্যা হয়েছে, বুঝতে পারবেন আপনিতো এমনটি চান নি কিন্তু কিছু করার থাকবেনা কারন আপনি এমন এক সমাজে বাস করছেন সেখানে আপনার নিজের বাচ্চাও আপনার না মানে সে রাষ্ট্রের সম্পদ। রাষ্ট্র চাইবে তার সম্পদকে রাষ্ট্রের আদর্শের মত করতে। কিন্তু আপনার আদর্শ যদি আপনার সমাজ যদি ভিন্ন হয় তাহলে আপনাকে চিন্তা করতে শুরুতেই, দিতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক। আপনি আপনার বাচ্চাকে বকা দিলে স্কুলের শিক্ষক ঠিকই বুঝে নেয় কিন্তু স্কুলে কি খাওয়াচ্ছে বাচ্চাদের সেটি যদি আপনি চিন্তা করেন এই ভেবে যে সুইডেন বা কানাডা বা অ্যামেরিকার স্কুলে পড়ছে চিন্তার কি তাহলে ভূল করবেন।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শিশুদের উপর পরিবারের প্রভাব এখনও যথেষ্ট বিদ্যমান। তবে বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং সংষ্কারে স্কুল কলেজ গুলো অগ্রনী ভূমিকা পালন করতে পারে। স্কুল কলেজ গুলিতে রাষ্ট্রের আর্দশের আদলে শিশুদের বড় করে তুললে পরিবর্তীতে সমাজে দ্বন্দ্ব এবং বিরোধের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। আপনার স্কুলের পরিবেশ কি রকম সেটিই বলে দিবে আপনার স্কুল নামের নার্সারীর চারা গাছগুলো কেমন হবে। সুতরাং যদি সমাজকে পরিবর্তন করতে হয়, যদি মানুষের চিন্তাকে পরিশুদ্ধ করতে হয়, তাহলে রাষ্ট্রের পাশাপাশি মালী স্বরূপ শিক্ষক সমাজের ভূমিকা অপরিসীম। কিছু দ্বায়িত্ব নিজ থেকে পালন করতে হয়। মালী রুপী শিক্ষক সমাজ বাংলাদেশ নামক ভূ–খন্ড টিকে সোনার ছেলে নামক চারাগাছের নার্সারীতে পরিনত করতে অগ্রনী ভূমিকা রাখুক সেই কামনায়।

শিরোনামহীন ভাবনা

পৃথিবী এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। টেকনোলজির বিশ্বয়কর উন্নতি মানুষকে দিচ্ছে নিত্য নতুন সব আবিষ্কারের সংবাদ। যারা নিজেদের ছেলে মেয়ের দুষ্টামীতে অতি বিরক্ত কিংবা ভাবছেন ছেলেটিকে একটি সুবোধ বালক হিসেবে গড়ে তুলবেন হয়ত অদুর ভবিষ্যতে জিন মডিফিকেইশনের মাধ্যমে সেটিও সম্ভব হবে। হয়ত টাকা দিয়ে ইচ্ছেমত নিজেদের বাচ্চাদের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করিয়ে নিতে পারবেন সহসাই। তবে এর কতটুকু পরিবর্তন সম্ভব সেটি হয়ত সময়ই বলে দিবে। তবে সম্প্রতি চায়নার একদল গবেষক থ্যালাসেমিয়ার জন্য দ্বায়ী মানব জিনকে মডিফাই করার গবেষনা শুরু করেছেন। যদিও তারা ১০০ ভাগ সফল হতে পারেনি এবং মানুষের জিন নিয়ে এ ধরনের গবেষনা রিসার্চ ইথিকস সমর্থন করে না তবে অদুর ভবিষ্যতে হয়ত কোন পাগলাটে গবেষক অসম্ভব কিছু হাজির করবেন সবার সামনে।

হয়ত আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই মানুষকে সময়ের পরিবর্তনের অনেক কিছু বিষয়ে নলেজ দান করেন এভাবে সময়ের সাথে নলজের বৈচিত্রে নতুন নতুন প্রজন্ম নতুন ধরনের এক্সপেরিয়েন্সের সম্মুখীন হয়। আগে মানুষ যা অসম্ভব ভাবত আজ তার অনেক কিছুই সম্ভব আবার অনেক অসম্ভব অসম্ভবই থেকে গেছে। যেমন কিছুদিন আগে Sergio Canavero নামে ইতালীর এক গবেষক (annual conference of the American Academy of Neurological and Orthopaedic Surgeons (AANOS) ) অ্যামেরিকান এক কনফারেন্সে মানুষের মাথা প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। এর কত টুকুই বা সম্ভব সেটির সময় না আসলে হয়ত কেউ ধারনাই করতে পারবেনা। আজ থেকে ৪০০ বছর আগের কেউ হয়ত চিন্তায় করেনি ইন্টারনেট এবং ফেইসবুকের কথা।

বিশ্বাস-অবিশ্বাস, সম্ভব-অসম্ভবের দোলাচলে পৃথিবী এগিয়ে চলেছে তার গতিতে, আমরা নিজেদের জীবন ও মত-বিশ্বাস নিয়ে লড়াই করে সময়ের স্রোতে হারিয়ে ফেলছি নিজেদের। জীবন এক অদ্ভুত জিনিস, সবাইকে চলে যেতে হবে জেনেও আমরা অসীমের পথে টিকে থাকার সংগ্রামে কখনও হারছি কখনো বা জিতছি কখনো কাউকে ঠকিয়ে কখনো বা মিথ্যা অভিনয় করে। হয়ত মত-পথ-বিশ্বাস নামক জিনিসগুলোর মধ্যে মানুষ বেচে থাকার কারন খুজে পায় সবশেষে মত-পথ-বিশ্বাস হয়ত বেচে থাকে আমরা হারিয়ে যাই সময় নামক ব্ল্যাকহোলে। ৩০ পেরিয়ে তাই জীবনটাকে বড় অদ্ভূত মনেহয়। বসে বসে কিংবা ব্যস্ততার আড়ালে এক মহাসত্য নিজেদের নশ্বরতাকে আলিংগন করার জন্য আমরা ছুটছি হয়ত নিজেদের অজান্তে। সেই যাত্রাপথটা সবার মসৃণ হোক, মানবতার বিকাশে আমাদের বিলীনতা আগদের অস্তিত্বের জন্য আনন্দদায়ক হোক!

শিক্ষক এবং শিক্ষাদান

বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে অনেকেরই ইচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে। কিন্তু শিক্ষক সে কি জন্য হবে বা শিক্ষক হয়ে ছাত্রদের কি দিবে এটা হয়ত অনেকেই ভাবে না। নলেজ জানলেই যে ভালো শিক্ষক হওয়া যায় এটি বেশির ভাগ সময়ই ঠিক না। নলেজ আহরন আর নলেজের ট্রান্সমিশন এক জিনিস না। অনেকে হয়ত অনেক নলেজ আহরন করতে পারে কিন্তু ছাত্রদের মাঝে সেটার ট্রান্সমিশের সঠিক ধারনা না থাকায় শিক্ষাদান অনেক সময় হয়ে উঠে বিরক্তির কারন। আবার শিক্ষাদানের চেয়ে টাকা পয়সা অর্জন বা সমাজে সন্মান অর্জনে বেশি নজর থাকায় শিক্ষাদানকে এফেকটিভ করতে কোন চেষ্টাই করা হয় না। এমন হওয়ার কারন হলো সমাজের প্রতি আমাদের দর্শন আমাদের দৃষ্টিভংগি। আমরা যদি সব পেশাকেই সন্মান করতে পারতাম তাহলে যে যে পেশাকে ভালোবাসে সে সে পেশাকে বেছে নিতে পারত। ফলে সবাই সবার সামর্থ্যর সবটুকু দিয়ে সমাজের সব ক্ষেত্রে সঠিক এবং যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারতো।

আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের ছাত্র তখন আমাদের এক স্যার ক্লাশে ঢুকেই বলত এই সাবজেক্ট পরে কি করবা, অথচ উনার উচিত ছিলো ছাত্রদের কে তৈরী করে দেয়া, লড়াই করার মানসিকতা তৈরী করে দেয়া , একজন ছাত্র যাতে তার মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা করা চেষ্টা করা। অথচ এমনটি হয়নি কারন উনি যে শিক্ষক হয়েছেন এটি হয়ত ও নিজেও এনজয় করতে পারেন না, সমাজের অন্যান্য পেশাতে সন্মান না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পেশাকে বেচে নিয়ে নিজের সন্মান বাচিয়ে রেখে অনেক ছাত্রের জীবনের স্বপ্নকেই হয়ত চুরমার করে দিচ্ছেন সেদিকে হয়ত ভ্রুক্ষেপ করারও অবকাশ নেই।

বিদেশে ছাত্র শিক্ষকের ইভাল্যুয়েশন করে, প্রতিটি কোর্সে শিক্ষকদের শিক্ষাদানের ইভাল্যুয়েশন ফর্ম থাকে যেটি ছাত্রদের দিয়ে পুরন করিয়ে নিয়ে নিজের শিক্ষাদানের লেভেল যাচাইয়ের একটি ক্ষেত্র রাখা হয় যাতে করে শিক্ষাদানকে আরো ভালো করা যায় এবং যাতে করে ছাত্ররা শিক্ষাকে আনন্দের সাথে গ্রহন করতে পারে। আমাদের দেশে এসবের ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষাদান কিছুটা বা অনেক সময় ছাত্রদের জন্য এক ধরনের মানসিক নির্যাতনের স্বরূপ হিসেবে দেখা যায়। শিক্ষকদের মাঝে এসবের চর্চা তৈরী করে শিক্ষাদানকে আরো আধুনিক এবং ছাত্রদের জন্য উপভোগ্য হিসেবে তৈরী করা যেতে পারে।

আবার বিদেশে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় যেমনঃ ক্যাথিড্রাল লেকচার, প্রব্লেম বেইস লার্নিং। শিক্ষাকে আনন্দময় করতে নানা রকম পদ্ধতি প্রয়োগ করে ছাত্রের একই ধরনের লেকচারের প্রতি অরুচী দুর করা হয়। প্রতিটি কোর্সকে ক্যাথিড্রাল লেকচার, ছাত্রদের সেমিনার, গ্রুপ ল্যাবে ভাগ করে উপভোগ্য করে তোলা হয় তেমনি শিক্ষরাও নানাভাবে ছাত্রদের মেধার স্বাভাবিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। ছাত্রদের উতসাহদান একটি অন্যতম বিষয়। আমাদের দেশে ছাত্র শিক্ষকদের চেয়ে বেশি জানা পাপ। যদি এমন কোন প্রশ্ন করে যেটা শিক্ষকের জানা নেই তাহলে শিক্ষক প্রায়ই ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয় পাছে না তার দূর্বলতা প্রকাশ হয়ে পড়ে। কিন্তু উন্নত বিশ্বে ছাত্র শিক্ষকের মধ্যে সহপাঠীর মত আচরন বিরাজ করে ফলে সহজ পরিবেশে ছাত্ররা যেমন নিজেদের জানার আগ্রহ সহজেই প্রকাশ করতে পারে তেমনি শিক্ষকও ছাত্রদের বিষয়ে জেনে সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে।

প্রি-স্কুল বা প্রাইমারী স্কুল গুলোতে বিভিন্ন জিনিস শিক্ষাদানের পাশাপাশি ছাত্রদেরকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষন করা হয়। যাতে করে তাদের মধ্যে মনের বিকাশ হয় স্বাভাবিকভাবে। আমারা যেমন বইয়ে পড়ি রাস্তা পার হতে জেব্রা ক্রোসিংয়ের মাধ্যমে পার হতে হয় সেখানে উন্নত বিশ্বে ছোট ছোট বাচ্ছা গুলোকে দলবেধে রাস্তায় নিয়ে গিয়ে শেখানো হয় কিভাবে রাস্তা পার হতে হবে, কিভাবে সিগন্যাল বুঝে দাড়াতে হবে। এখানে ছোট ছোট বাচ্ছা গুলোকে সব কিছুই হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে ছোট বেলা থেকে তাদের মধ্যে আত্নসন্মানবোধ তৈরী করে দেয়া হয়। আমাদের দেশের মায়েরা যেসব বাচ্চার টয়লেট করার পর পরিষ্কার করে দনে ঐরকম বাচ্চারা এখানে নিজের কাজ নিজেই করা শেখে কারন স্কুলেই ওদের সব শিক্ষা দেয়া হয় হাতে কলমে ফলে একটি সুস্থ্য এবং আত্ননির্ভরশীল শ্রেনী তৈরী হয় এভাবে একটি আন্তনির্ভরশীল জাতি তৈরী হয়। আমাদের দেশে বার বার রাস্তার সিগনাল বাতির পরিবর্তন করা হয় কিন্তু ছোট ছোটো বাচ্চাগুলোকে যদি শিক্ষাদান শুরু করে দেয়া হয় তাহলে একটি সময় পর সমাজে একটি সচেতন শ্রেনী তৈরী হবে যারা কিনা দেশটাকে পরিবর্তন করতে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারবে।

সমাজ ও দেশকে পরিবর্তন করতে চাইলে শিক্ষা ও শিক্ষাদানের পদ্ধতির পরিবর্তন আবশ্যক। কারন শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বাস্তব জ্ঞানের প্রসার না ঘঠাতে পারলে জাতির বাস্তব কোন পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়।

দেশের শিক্ষার পরিবর্তনের জন্য ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে থেকে জেলা পর্যায়ে সেরা শিক্ষক এবং ছাত্র নির্বাচন করে ছাত্র ও শিক্ষকদের গ্রুপ তৈরী করে সেসব ছাত্র-শিক্ষকদের দেশের ছাত্র ও শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে উন্নত বিশ্বে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে এতে করে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিনিময় ঘটবে ফলে সেই প্রতিনিধি দেশের বিদ্যমান সমাজের মধ্যে তার শেয়ারের মাধ্যমে কিছু শিখতে পারবে।

একদল ভালো শিক্ষক যেমন একদল ভালো ছাত্র তৈরীতে ভূমিকা রাখতে পারে তেমনি একদল ভালো ছাত্র একটি জাতি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে। আর তাই শিক্ষকদের শিক্ষাদানের ব্যাপারে আরো বেশি যত্নশীল হওয়া যেমন প্রয়োজন তেমনি শিক্ষক সমাজকে সময়োপযোগী করে তোলার জন্য রাষ্ট্রের ভূমিকাও আবশ্যক।

এলোমেলো চিন্তা

ছেলেটার অনেক পরিবর্তন হয়েছে বা মেয়েটা কেমন জানি হয়ে গেছে বাইরে থেকে অথবা দোস্ত জানিস ঐ বন্ধুটি কেমন জানি হয়ে গেছে আগের মত আর আমাদের সম্পর্ক ভালো নেই। সময়ের সাথে মানুষের পরিবর্তন হয়, এই পরিবর্তনের দায় পুরোটাই হয়ত শরীরের ভেতরের সিগনাল গুলোর পরিবর্তনের ফসল। একজন মানুষ পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হলে তার শরীরের ভেতরে অনেক কিছু পরিবর্তন ঘটে তার ফল স্বরূপ বাইরের পরিবর্তন চোখে পরে অথচ মানুষের ভেতরের পরিবর্তনের কথা কেউই চিন্তা করে না। একজন মানুষ ট্রেসে থাকলে তার শরীরেও স্ট্রেস হরমোন নিঃসরন হয় ফলে সেই হরমোনের প্রভাবে শরীরে বা আচরনগত ও পরিবর্তন ঘটে। হয়ত এই পরিবর্তনে মানুষটির কোন হাত নেই পরিবেশই এর জন্য দ্বায়ী কিন্তু আমরা পরিবেশের কথা বা মানুষটির অবস্থার কথা চিন্তা করি কদাচিতই।

অন্যান্য প্রানীর মত মানুষও পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করে ফলে তার মনস্তাত্তিক যে পরিবর্তন ঘটে তার প্রভাব আচরনে পরিলক্ষিত হয়। যার ভেতর যে হরমোনের বা সিগন্যাল মলিক্যুলের নিঃসরন হয় তার আচরন ও সেভাবে পরিবর্তিত হয়। এজন্য মানুষের আচরনগত সমস্যার সমাধানে কাউন্সিলিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে স্কুলে কোন বাচ্চার যদি পড়ায় মনোযোগ না দেখে বা মনমরা দেখে তারা সাথে সাথে ব্যাপারটি নিয়ে ডিসকাস করে বাচ্চার কোন সমস্যা হয়েছে কিনা বের করে তার ব্যবস্থাগ্রহন করে, আবার অনেকের মধ্যে লার্নিং ডিসঅরডার থাকে তার জন্য হয়ত একটু অন্যরকম কেয়ার দরকার হয় যেগুলোর চর্চা আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই বললেই চলে।

কিছুদিন আগে পাশের ল্যাবের একজন গবেষক আলোচনা করছিলো যে মানুষ সুইসাইড কেনো করে সেটা নিয়ে তারা গবেষনা করছে। তাদের পরিকল্পনা হলো সুইসাইড যারা করতে গিয়ে ফেইল করেছে সেগুলোর শরীরের মধ্যে কোন ধরনের হরমোনের নিঃসরন বেশি সেটা বের করা, আবার যাদের মধ্যে উদ্ভ্রান্ত, উদাসীন ভাব আছে সেগুলো ও যাচাই করা সেগুলো থেকে বের করা যে সুইসাইডের আগে মানুষের মধ্যে কি ধরনের হরমোন বা সিগন্যাল মলিকিউলের নিঃসরন হয়।

সুন্দর সমাজ বিনির্মানের জন্য তাই সমাজের মানুষদের প্রতি আমাদের দর্শনের পরিবর্তন করতে হবে। মানুষের প্রতি স্বাভাবিক আচরন হয়ত অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। সমাজে মানুষের মধ্যে হতাশা আসে শ্রদ্ধা থেকে বঞ্চিত হয়ে। আর হতাশা থেকে একটি রোগাগ্রস্থ শ্রেনীর উদ্ভব হয়।

উন্নত বিশ্বে একটি জিনিস অনেক ভালো সেটি হলো এখানে মানুষের পেশা শ্রদ্ধার পথে বাধা হয়ে দাড়ায় না। সবাই মানুষ হিসেবে মানুষকে শ্রদ্ধা করে। আবার টাকা পয়সা কার বেশি এগুলোও এখানে ফ্যাক্টর না, এখানে যে যার অবস্থানে থেকে অন্যের শ্রদ্ধা থেকে বঞ্চিত হয় না। ফলে যে যে পেশাতে আনন্দ পায় সে সে পেশাকেই বেছে নেয়। আবার টাকা পয়সার মানুষের শ্রদ্ধার জন্য ফ্যাক্টর না হওয়ায় অবৈধ উপারে টাকা কামানোর ধান্ধাও কারো থাকেনা। ফলে সামাজিকভাবে একটি সুস্থ পরিবেশ বিরাজ করে ফলে এখানে মেধার বিকাশ হয় স্বভাবতই।

সুতরাং পরষ্পর শ্রদ্ধাশীল একটি সমাজ বিনির্মান করতে পারলে সমাজে স্বাভাবিক সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করবে। আবার কাউন্সিলিং এর মাধ্যমের মানসিক সমস্যার গুলোর সমাধানে জোড় দিলে সমাজের তরুনদের মধ্যে যেমন স্বাভাবিক মনের অবস্থা বিকাশ করবে তেমনি মেধার স্বাভাবিক বিকাশ হবে স্বভাবতই।

নাস্তিকতা যেমন একটি ফ্যাশন, ইসলামিষ্ট হওয়ার প্রতিযোগিতাও একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে।

নাস্তিকতা যেমন একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে দুঃখের বিষয় হলো ইসলামিষ্ট হওয়ার প্রতিযোগিতাও একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে অনেকের মধ্যে ইসলামের প্রতি বাহ্যিক ভালোবাসা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিক সেভাবে তার ভেতরে ইসলামের গ্রোথ সেভাবে হয়নি। ইসলাম যেমন সবার জন্য সহজ তেমনি ভালো মুমিন, মুসলিম হওয়া তেমন সহজ। একজন ভালো মুসলিম হতে হলে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষনের ব্যাপার। এজন্যই ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে তাযকিয়া, তারবিয়া হতো বেশি বেশি। রমজান আসলে রাসুল (সাঃ) নাকি ইবাদত কে ভাগ ভাগ করে দিতেন, দিতেন বেলা তাযকিয়া, তারিবিয়া এবং সাহাবাদের সাথে নানারকম শলা পরামর্শে কাটাতেন আর রাতের বেলা মহান প্রভুর সান্নিধ্যে কাটিয়ে দিতেন। এটি করতেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ)। উনার সাহাবাগন ও ছিলেন উনার যোগ্য সাথী।
এমন অনেক সাহাবা আছে রাসুল (সাঃ) বললেন যে সে জান্নাতি। আর এক সাহাবা তার সাথী ভাইয়ের পিছু নিলেন যে সে কি এমন ইবাদত করে যে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এমন কথা বললেন। এরকম ছিলো তাদের ইবাদতের বেশির ভাগই ঘটত লোকচক্ষুর অন্তরালে। আবার ইসলামের কোন কিছু বিষয়ে কেউই নিজস্ব কোন ফতোয়া দিতেন না। রাসুল (সাঃ) এর কথার উল্লেখ করে বলতেন রাসুল (সাঃ) কে এভাবে বলতে শুনেছি। মুসলিমদের মধ্যে সম্পর্ক ছিলো অনেক মধুর। যখন ইসলামের বিষয়ে একত্রিত হত তখন তারা দুনিয়ার স্বার্থ ভূলে গিয়ে সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় কাজ করত, একই লক্ষ্যপানে জীবন বাজী রেখে লড়াই করত। তখন ইগো, দুনিয়াবী স্বার্থ কোন কিছুই তাদের সামনে বাধা হয়ে দাড়াতে পারতো না। কোন বিষয়ে মতামতের বিরোধ দেখা দিলে তারা পরষ্পরকে সংশোধন করত উত্তম নছিহতের মাধ্যমে। তারা এরূপ করতে সক্ষম হয়েছিলেন শুধুমাত্র দুটি কারনে, প্রথমত, তাদের লক্ষ্য ছিলো আল্লাহ সন্তুষ্টি, দ্বিতীয়ত, তাদের ইসলামী জীবন, সাংগাঠিনক জীবন অতিবাহিত হয়েছিলো সার্বক্ষনিক তাযকিয়া ও তারবিয়ার মাধ্যমে।

দুঃখ হলেও সত্য যে, আমরা দুরাকাত নামায পড়েই ফতোয়া দেয়া শুরু করি, ইসলামের সীপাহসালার বনে যাই। ইসলামের কঠোর অনুশীলন, এবং সাংগাঠনিক বা সামষ্টিক জীবনের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন না থাকায় আমরা সাংগাঠনিক জীবন শুরু করেই নিজেদের আমীর/ শেখ ভাবা শুরু করে দেই। অথচ অনেকেই আছে কুরআন শরীফই পড়তে পারিনা। প্রশ্ন হলো যে ব্যক্তি কুরআন পড়তে যানে না, তার ফতোয়া দেয়ার যোগ্যতা কতটুকু?? কুরআনের প্রথম শব্দ “পড়” সেই আল্লাহর কিতাবের প্রতি যে অন্ধ সে কিভাবে ইসলামের সীপাহসালার হবে??

ছোট এই জীবনে যতটুকু শিখেছি, ইসলাম শুধু নামাজ পড়া, বা বিশাল এক জুব্বা পড়ে বেড়ানো না, ইসলাম হলো একটি সংষ্কৃতি, ইসলাম হলো একটি জীবন বিধান। সেনাবাহিনীর একজন সদস্যকে যুদ্ধের ময়দানে জীবন বাচাতে হলে যেমন নানারকম কৌশল আয়ত্ত করতে হয়, তার প্রশিক্ষন নিতে হয় ঠিক তেমনি একজন মুসলিম হতে হলে, একজন ভালো মুমিন বা তাক্বয়াবান হতে হলে নিজের ঈমান বাচানোর নানারকম কসরত শিখতে হয়। সাথী ভাইদের সাথের আচরন, অন্যভাইদের সাথে আচরন, ইসলামী নীতির মধ্যে সাংগঠন পরিচালনার পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন নিতে হয়। যারা এসব প্রশিক্ষনের মধ্যে দিয়ে যায় না তাদের মধ্যে সমস্যা তৈরী, ভালো করতে গিয়ে খারাপ করে বসে। সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক যদি স্টেনগান ঠিকমত চালানো না জানে বাংলা রাইফেল শিখে যদি স্টেনগান হাতে নেয় তাহলে সবার জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাড়াতে পারে। আবার একজন অস্ত্রধারী সৈনিকের যদি ক্রোধ দমনের জন্য প্রশিক্ষন না থাকে তাহলে সেটিও অন্যর ক্ষতির কারন হতে পারে।

আবেগ দিয়ে হয়ত উপরের ভালোভালা প্রকাশ করা যায়। বাস্তব ভালোবাসা প্রকাশ করতে দরকার হয় ত্যাগ। ইসলামের জন্য ত্যাগ, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ। এই ত্যাগ অনেক রকম হতে পারে। সময়ের ত্যাগ হতে পারে, কষ্ট করে কুরআন শিখাটাও একটা ত্যাগ হতে পারে।

তবে যে যাই করি, দিন শেষে, জীবনের শেষে ব্যক্তিমানুষকে একাকীই তার সৃষ্টিকর্তার কাছে তার জীবনের হিসেব পেশ করতে হবে। তাই ব্যক্তিগতভাবে আমরা আল্লাহর কাছে নিজেদের কতটুকু সমর্পিত করেছি আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেটিই দেখবেন।

আল্লাহ আমাদেরকে বেশি বেশি আমল করার তৌফিক দান করুন, (আমীন)

ডঃ জাফর ইকবাল

মানুষ যত বড়ই শিক্ষা অর্জন করুক না কেন তার মুখের ভাষা, অন্যর প্রতি তার আচরন এবং সমাজ নিয়ে তার দর্শনই তার শিক্ষার গভীরতা নিয়ে সম্যক ধারনা উপস্থাপন করে।

ডঃ ইউনুস এবং হুমায়ুন আহমেদের সাথে ড. জাফর ইকবালের তুলনা চলেনা এই কারনে যে ড. ইউনুস এবং হুমায়ুন আহমেদরা নিজেদের কাজ করে গেছেন, সমাজে বিভেদের বাণী শোনায়নি। একজন সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ নিয়ে কাজ করেছেন আর একজন সমাজকে সাহিত্যের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। বলা হয় সাহিত্য সমাজের দর্পন স্বরূপ আর সেই দর্পনকে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে সুন্দরভাবে সাজিয়েছেন হুমায়ুন আহমেদ। এই দুজন কথা বলেন সামষ্ঠিক বিষয় নিয়ে, একটি জাতি একটি দেশ নিয়ে। এখানেই জাফর ইকবাল এদের থেকে আলাদা জাফর ইকবাল গঠনের চেয়ে ভাংগতে বেশি পছন্দ করেন। তিনি সমাজের একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব করেন আর অপর একটি অংশকে তিনি ঘৃণা করেন, সমালোচনা করেন। মহত ব্যক্তিরা খুব কমই পক্ষপাতদুষ্ট হয়। যারা সমাজের সংষ্কার করেছিলেন তারা বরাবরই সমাজের জন্য কাজ করেছেন কোন গোষ্ঠির জন্য নয়। জাফর ইকবাল এখানেই পিছিয়ে। মানুষের সমালোচনা করলে সেই সমালোচনার জবাব গ্রহনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। আর সেই সমালোচনায় যখন মুখের ভাষা ব্যবহার করা হয় তখন অন্য পক্ষের মুখের ভাষাকে হজম করার শক্তিও অর্জন করতে হয়।

মানুষ যত বড়ই শিক্ষা অর্জন করুক না কেন তার মুখের ভাষা, অন্যর প্রতি তার আচরন এবং সমাজ নিয়ে তার দর্শনই তার শিক্ষার গভীরতা নিয়ে সম্যক ধারনা উপস্থাপন করে। সমাজের প্রতিনিধিত্ব করতে হলে ভালোবাসার কথা ছড়াতে হয়, সংশোধন করতে চাইলে তার ভাষাটা কোমল এবং সুন্দর হলে সংশোধন দ্রুত হয়। কাউকে আক্রমন করে ঘৃণা ছড়িয়ে সমাজে সম্মানের আসনে কেউই নিজেকে অধিষ্ঠিত করতে পারেনি। সাময়িক হয়ত উম্মাদনা সৃষ্টি করতে পেরেছে কিন্তু মানুষের মনের আসনে স্থান পেতে হলে নিজেকে বিভেদের উর্ধ্বে রেখে মানুষের জন্য ভাবতে হয়, মানুষের জন্য কাজ করতে হয়।

দেশপ্রেম

সুইডিশ ল্যাংগুয়েজ ক্লাশে এক বাংলাদেশিকে একজন জিগ্গেস করলো যে তুমি কোন দেশ থেকে এসেছো??
তার উত্তর দেয়া দেখে চরম মাথা গরম হয়ে গেলো, ভাগ্গিস আমি রাগ করলে আমি চিতকার করিনা।

সে উত্তর দিলো… আগে ভারত ছিলো… মানে আগে ভারতের মধ্যে ছিলো তারপর পাকিস্তান… এখন ভারতীয় উপমহাদেশে।
তখন পাশে বসা ইন্ডিয়ান ছেলেটা বললো যে সোজা করে উত্তর দিলেই তো হয়।

কিরাম লাগে?? গতকাল থেকে মাথা থেকে এটা নামাতেই পারছিনা। কেমন মানুষদের জন্ম দেয় সোনার বাংলা যারা নিজেদের পরিচয় দিতে কুন্ঠবোধ করে। এরাই হলো আসল রাজাকার। কিছু বাংলাদেশি আছে বিদেশে আইসা নিজেদের দেশের নামতো উজ্জ্বল করার চেষ্টা করে না, বরং এদের কাছে বাংলাদেশ নামটি হলো একটি লজ্জ্বার বিষয়। বিশ্বাস করুন বা না করুন এমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। অনেকেই আছে যারা রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করে ইন্ডিয়ার নাম ব্যবহার করে আবার এনারাই মুখের ফেনা তুলে বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলে।

একদিন এক বাংগালীর সাথে কথা বললে সে যে বাংলাদেশি তার চেয়ে বড় বিষয় তার কাছে “লাল পাসপোর্ট” (বিদেশি সিটিজেন) আছে। এসব মানুষই টাকা ইনকাম করে ঢাকায় ফ্লাট কিনে আর বিদেশি কালচার কে তাদের নেক্সট প্রজন্মের মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্রান্সফার করে। হাফপ্যান্ট কালচার মূলত এই শ্রেনীর মানুষের কল্যানেই বাংলাদেশে প্রসার লাভ করেছে। এনাদের কাছে সাদা চামড়া আর লাল পাসপোর্ট হলো তাদের সব।

যারা বাংলাদেশে রাজাকার নিয়ে বেশ চিন্তিত তাদের উচিত এসব মানুষদের দিকে নজর দেয়া। তিতা হলেও সত্য যে যারা দেশে রাজাকার শব্দ তুলে মুখে ফেনা তুলছে এদের অনেকেই বিদেশে এসে অ্যাসাইলাম সিক করে সেই রাজাকার হয়েই। আওয়ামী লীগার রা জামায়াত হয়ে বিদেশে অ্যাসাইলাম সিক করে। এটিই বাস্তবতা। রাজনীতি হলো একটি ব্যবসা ঠকানোর ব্যবসা। একটি ইল্যুশন, যেখানে কোন সল্যুশন থাকেনা, মানুষকে ঠকিয়ে নিজের ফায়দা লোটাই হলো সল্যুশন।

মানুষের জন্য কাজ করা এখন আর রাজনীতির উদ্দেশ্য নয়। রাজনীতি হলো এখন কে কাকে ব্যবহার করে আখের গোছাতে পারে তার ধান্ধা।

দেশপ্রেম একটি চেতনা, এটি দেশকে ঘৃণা করা না, এটি মানুষ এবং সমাজকে ভাগ করা না। দেশপ্রেম মানেই হলো সকলকে নিয়ে একটি সুখী জাতির স্বপ্ন দেখা। দেশপ্রেম মানেই হলো প্রতিক্ষনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা, নিজের সামর্থ্যটুকু দিয়ে দেশের সন্মানকে, দেশের নামটাকে সবার কাছে উন্নত রাখা। এটিই দেশপ্রেম। দেশপ্রেম ব্যক্তির অনুধাবনের বিষয়, এটি ব্যক্তিগতভাবেই আগে করা লাগে। দেশপ্রেম মানে আওয়ামী, বিএনপি করা বা অন্যকোন দল করা নয়। যারা এসব বলে তাদের দ্বারা আপনি ব্যবহৃত হচ্ছেন কিনা চিন্তা করে দেখার বিষয়। দেশপ্রেম কখনও মানুষকে ঘৃণা করতে শেখায় না, দেশপ্রেম প্রেম শেখায় সে প্রেম শুধুমাত্র মানচিত্রের জন্য নয়, বা শুধুমাত্র ভূ-খন্ডের জন্যও নয়, এই প্রেম দেশের সকল মানুষের প্রতি, দেশের সকল সম্পদের প্রতি।

সবার মধ্যে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত হোক। এই কামনাই করি।

এলোমেলো ছড়া

দেশ ছেড়ে প্রবাসীর বেশে
পড়ে আছি অনিশ্চয়তার এক দেশে।
সকাল বেলা সূর্য্য দেখে ভাববেন
দিনটা কাটবে ভালোই
খানিক বাদে চোখ মেললেই দেখবেন
আকাশ টা ছেয়ে গেছে কালোয়।
মাঝে মাঝে আকাশটাতে
জমে মেঘের মেলা
মেঘ-বৃষ্টি আর সূর্য্যি মামার
লুকোচুরী খেলা।
সকাল বেলা সূর্য্য হাসে
দুপুর বেলা বৃষ্টি
বিকেল বেলা বসন্ত আসে
রাত্রিটা এক আজব সৃষ্টি।
অফিস শেষে রাত্রি বেলা
ফিরবেন যখন বাসায়
সূর্য্য তখনো জেগে আছে
অন্ধকারের আশায়।
রাত্রি বেলা জ্বলে আলো
দিনের বেলা কালো
মানুষ গুলোরে মনে হবে
অনেক বুঝি ভালো।
হাসি মুখে থ্যাংকু বললে
ভাববেন জবটা বুঝি হলো
বাড়ি ফিরে মেইল টা দেখে
মনটা হবে কালো।
আজব দেশের আজব মানুষ
আজব সব কারবার
কারো সাথে নেই কেউ
সবাই যার যার তার তার।