বৈশাখের সংষ্কৃতিঃ আমার সরল অব্যকরনিক ভাবনা

ইসলাম পূর্ব কুরাইশ সমাজে নানা রকম কুসংষ্কার ও অপপ্রথা বিদ্যমান ছিলো। সবাই নগ্ন হয়ে কাবা শরীফ তাওয়াফ করত। প্রত্যেক নবী রাসুল ছিলেন মূলত সমাজ সংষ্কারক। সমাজ থেকে কু-প্রথাগুলোকে দুর করে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ পূনর্গঠনই ছিলো সবার উদ্দেশ্য। ইসলাম আসার পরে সকল কুসংষ্কারের অবসান হয়। ততকালীন আরব সমাজের লোকগুলো সকল ধরনের কু-প্রথা ত্যাগ করে ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহন করে। ইসলামের ছায়াতলে আসার সাথে সাথে সকল মুসলিম বাপ দাদার আমলের সকল প্রথা ভূলে গিয়ে ইসলাম ভিত্তিক জীবন গঠন করে।

ততকালীন আরবের লোকেরা আরবী ভাষা জানত বলেই অনেকে ই ইসলাম বুঝেও গ্রহন করেনি শুধুমাত্র বাপ-দাদাদের করা সকল কুসংষ্কৃতিকে ত্যাগ করতে হবে বলে। আবু জেহেল ইসলামের কলেমা ভালোভাবেই বুঝত কিন্তু সে জানত যে সেটা মেনে নিলে তাকে বাপ দাদার প্রথা ত্যাগ করে কুরাআন ভিত্তিক জীবন গঠন করতে হবে। ফলে সে ইসলাম কবুল করেনি। এরকম আরো অনেকেই আছে যারা বুঝেও ইসলাম কবুল করেনি শুধুমাত্র বাপ দাদার সংষ্কৃতিকে ত্যাগ করতে হবে বলে।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
“আমি আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে সুসংবাদাতা ও সতর্ককারী রূপে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” সূরা সাবাঃ ২৮

এমনভাবে দেখা যায় ইব্রাহিম (আঃ) এর সময়ে বাপের মূর্তিপুজার বিরুদ্ধে রূখে দাড়াতে। এভাবে সকল নবী রাসুল গন সমাজের কুসংষ্কারগুলো মূলে আঘাত হেনেছিলেন ফলে সমাজে ব্যাপক আলোড়ন তৈরী হয়েছিলো।

ইসলাম আসার পূর্বে বাংলার মাটি বৌদ্ধ ও হিন্দু সংষ্কৃতিতে পরিপূর্ন ছিলো। সংষ্কৃতিরও ধর্ম আছে। ইসলাম এক্ষেত্রে সকল ধরনের কুসংষ্কার মুক্ত। তাই ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলো বা মানুষের জাত শত্রু শয়তান মানুষকে বিভিন্নভাবে ধোকা দেয়ার জন্য ফন্দি তৈরী করে চেষ্টা করে কিভাবে তাকে আল্লাহর স্মরন থেকে দুরে রাখা যায়। কখনও নিজেদের বাপ-দাদার সংষ্কৃতি, কখনও বা ভূ-জাতিগত সংষ্কৃতির কথা, কখনও আধুনিকতার নামে মানুষকে তাদের স্রষ্টার দেয়া রহমতের চাদর থেকে বের করে নিয়ে আসে। মানুষের মনকে ভোগবাদী করে তোলে ভূলিয়ে রাখে ফলে মানুষ অন্ধভাবে দেশীয় কালচার, স্বদেশী সংষ্কৃতি বিভিন্নরকম শব্দ ব্যবহার করে নিজেদেরকে শয়তানের সাথে কম্পমাইজ করে ফেলে শয়তানের পাতা ফাদে পা দেয়। শয়তানের ফাদে পা দিয়ে মানুষ হয়ে উঠে সংষ্কৃতি প্রেমী। দেশীয় সংষ্কৃতির কথা যখন মাথায় প্রকট হয়ে দেখা দেয় তখন মুসলিম হিসেবে নিজের পরিচয়টা গৌন হয়ে যায় ফলে মুসলিম হিসেবে যে তার করনীয় সেটি আর সামনে থাকেনা। ফলে মুসলিম পরিচয় নিয়েও সে সংষ্কৃতির নামে নানা ধরনের অনৈসলামিক কাজ করে যায়।

কুরআন পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলতেছেনঃ
“হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তো এ নির্দেশই তোমাদিগকে দেবে যে, তোমরা অন্যায় ও অশ্লীল কাজ করতে থাক এবং আল্লাহর প্রতি এমন সব বিষয়ে মিথ্যারোপ কর যা তোমরা জান না।”
সূরা বাকারাঃ১৬৮-১৬৯

বাংলাদেশের পহেলা বৈশাখে বিদ্যমান যে সংষ্কৃতি সেটি মূলত ইসলাম বিমূখতার একটি ধাপ। সংষ্কৃতির নামে অতি কৌশলে মানুষকে ইসলামী সংষ্কৃতি থেকে দুরে রেখে তাদের আল্লাহ প্রেমকে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। ১৬ কোটির লোকের বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা, রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে মানুষ সাময়িক স্বস্থির জন্য হলেও এসব কু-সংষ্কৃতির মধ্যে জড়িয়ে পরছে। বৈশাখের মংগল শোভা যাত্রার নামে শিরকের কাজ যেমন করা হচ্ছে ঠিক তেমনি যৌনতাকেও উষ্কে দেয় এমন সব কাজকে উতসাহিত করা হচ্ছে।

আমরা যদি এখনই সচেতন না হই তাহলে অদুর ভবিষ্যতে আমাদের সকলকে এর ভুক্তভোগী হতে হবে। সুতরাং সাবধান! নিজে বাচতে চাইলে, নিজেদের বাচ্চাদের জাহান্নামের আগুন থেকে বাচতে এবং দুনিয়ার অসন্মান থেকে বাচতে হলে আমাদের সচেতন হয়ে ধর্মভিত্তিক জীবন যাপন করে পরিচ্ছন জীবন ব্যবস্থাকে উতসাহিত করতে হবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে বলেছেনঃ
“মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তায়ালা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।”
সূরা আত-তাহরীমঃ ৬

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s