জীবন ডায়েরী-০৩

২০০৮ সাল, অ্যাপলিকেশন করলাম সুইডেন এ। কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভালো বা মন্দ এসব বাচ-বিচার না করেই Skövde তে এক বন্ধু/সহপাঠী ২০০৭ এ চলে গিয়েছিলো সেখানে ভর্তির জন্য দরখাস্ত করলাম। চান্স পেয়ে গেলাম, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে সুইডেনে চেল আসলাম, ১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সালে। আমি দেখতে ইয়ং ছেলেদের মতই ছিলাম। ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজ এর এক বিমানে রওনা দিলাম আর এক ছোটো ভাইয়ের সাথে (সে এক বছর জুনিয়র)। বিমান বন্দরে নেমে যখন সুইডেনগামী বিমানে উঠতে গেলাম কাউকে আটকালোনা আমারে দাড় করালো ভর্তির পেপারসগুলো সে দেখতে চাইলো। আমার ভর্তির কাগজগুলো ছিলো মেইন লাগেইজ এর সাথে হ্যান্ডব্যাগে নিতে ভূলে গিয়েছিলাম। যাই হোক অবশেষে রক্ষা হলো। সুইডেনে নেমেই দেখি ইয়া বড় বড় সব সিকিউরিটি গার্ড দাড়িয়ে আছে। এখানেও আমারে আটকায় জিগ্গেস করা শুরু করলো। তুমি কি করতে এসেছো?? ব্যবসা?? আমি বললাম যে পড়ার জন্য এসেছি। যা হোক সব কাজ শেষ করে রওনা দিলাম বন্ধু মামুনের বাসায়। সে একটু ফাস্ট। দু-টিনটি বড় বর ব্যাগ নিয়ে সে দৌড়াইতে বললো, বললো সুইডেনে সবাই নাকি দৌড়ের উপর থাকে। নতুন অভিগ্গতা হলো। একদিন তার বাসায় থেকে রওনা দিলাম Skövde এর দিকে। ওখানে গিয়ে ভালৈ লাগলো কিছুদিন পর আর বাকি বন্ধুরা চলে আসলো। একটি ব্যাপার উল্লেখ করা জরূরী যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমরাই প্রথম যারা একসাথে ৮ জন একই ডিপার্টমেন্ট থেকে পড়ার উদ্দেশ্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলো। সুইডেনে এ এসেই কিভাবে টাকা সেইভ করে চলা যায় সবার মাথায় একই চিন্তা শুরু হলো, কাজের সন্ধান ও শুরু হয়ে গেলো। শেষমেশ একটি পেপার জব মানে নিউজপেপার ডিস্ট্রিবিউটরের জব পেয়ে গেলাম, দুজন মিলে করতাম। সবাই মিলে একসাথে থাকায় সময় গুলো দ্রুত কেটে গেলো। আমরা বায়োমেডিসিন প্রোগ্রামে এসেছিলাম। থিওরী শেষ করে থিসিস করার উদ্দেশ্য রাজধানী শহর (স্টকহোল্ম) এ রওনা দিলাম। এসে এক বাসায় ৬ জন বন্ধু একসাথে উঠলাম। জবের জন্য ছুটাছুটি করা, থিসিসের জন্য লিখালেখি আর সপ্তাহান্তে বাসায় বাংলা পার্টির আয়োজন করে সময়গুলো কাটছিলো। দু-এক বন্ধু চলার মত জব পেয়ে গেলো। আমি পেপার বিলি করে থিসিসের জন্য লিখালেখি করতে করতে থিসিস পেয়ে গেলাম। থিসিস শেষ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হলাম। এক বাংলা গ্রোসারী দোকানে পার্ট টাইম জব করতাম আর থিসিস করতাম এভাবে একদিন থিসিস শেষ হয়ে গেলো। এরপর শুরু হলো আসল সমস্যা। জীবনের কিছু কঠিন সময়। কি করব?? কোন ওড জব করবো, পিএইচডি পজিশনের জন্য অপেক্ষা করব নাকি দেশে ব্যাক করে বিসিএস ট্রাই করবো। কারন বিসিএসের চিন্তা সব সময় মাথায় কাজ করত। কিছু বন্ধু জবও পেয়ে গেলো। মানুষকে অনুরোধ করা বা মানুষের পেছনে জবের জন্য তেল দেয়া আমার অভ্যসে ছিলোনা। এখানেও জীবনের কিছু বাস্তব অভিগ্গতার সম্মুখীন হলাম। এক বন্ধু মুটামুটি ভালো বেতনের জব পেয়ে গিয়ে একটা পজিশন তৈরী করে নিলো। তাকে জবের জন্য বলেও জব পাচ্ছিলাম না। যদিও সে আমার বন্ধু ছিলো সে অবশ্য অনেক মানুষকে জব দিয়েছিলো। কিন্তু আমার ব্যাপারে কেনো জানি একটু অন্যরকম ছিলো হয়ত ইসলামী সংগঠন করতাম তাই। অবশেষে আর এক বন্ধুর অনুরোধে সে ৩ ঘন্টার একটি কাজ দিলো। ৩ মাস কাজ করলাম করার পর আমার কাজ আরো বেশি পাওয়ার কথা এবং আমার নিজের নামে কাজ হওয়ার কথা। বন্ধু টি অন্য ছেলেদের কাজে সহায়তা করলো আমাকে বললো তুই অন্য জব দেখ, সে একথাও বললো তোর সুইডেনে আসাই ঠিক হয়নি দেশে থাকলে ই পারতি।
আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে পরিকল্পনা পরিবর্তন করলাম। উপশালা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলাম এ্যাপ্লাইড বায়োটেকনোলগিতে, পাশাপাশি দীপন ভাইয়ের সহায়তায় একটি রাতের পেপার ডিস্ট্রিবিউটরের জব পেয়ে গেলাম। পরিকল্পনা ছিলো বায়োটেক এ মাস্টার্স করবো পাশাপাশি পিএইচডির জন্য অ্যাপ্লিকেশন করবো আর বিসিএসের জন্য পড়ব। রাতের নিউজপেপার ডিস্ট্রিবিউটরের জব জীবনে চিন্তা করিনি আমি বাড়ির ছোট ছেলে ছিলাম। ছাত্রও খুব খারাপ ছিলাম না, যাই হোক আমি সব কিছু মেনে নিয়ে সামনে চলতে অভ্যস্ত ছিলাম এবং রিজিকের জন্য আল্লাহর উপর সব সময় নির্ভরশীল ছিলাম।
দু-রাত পেপার দিয়ে অনেক কষ্ট অনুভব করছিলাম। তৃতীয়দিন গেলাম না অসুস্থতার কথা বলে। ইতোমধ্যে আমার থিসিস সুপারভাইজরকে নিয়মিত মেইল করতাম পিএইচডি পজিশনের জন্য। অবশেষে হঠাত করে তার একটি মেইল পেলাম যে আমি যদি কমিটেড হই, এবং পিএইচডি করতে চাই তাহলে তাকে যেন জানাই। তাকে জানালাম যে আমি অবশ্যই পিএইচডি করতে চাই।

সে আমাকে একটি লিংক দিয়ে অ্যাপ্লাই করতে বললো। বললো যে তারা ড্রাগ স্ক্রিনিংয়ের কাজ করছে ৬ মাসের জন্য নিবে তারপর কাজ দেখে এক্সটেন্ড করবে। দরখাস্ত করলাম। এদিকে বায়োটেক এর ক্লাশ নিয়মিত শুরু করলাম। আমি থিসিস শেষ করেছিলাম জুলাই ২০১০।
জানয়ারী ২০১১ এ সুপারভাইজরের দেয়া লিংকে অ্যাপ্লাই করেছিলাম। হঠাত সুপারভাইজের মেইল যে তুমি কি দরখাস্ত করেছিলা?? বললাম যে জ্বি করেছিলাম, সে বললো তুমি আরো একটু স্মার্ট হতে পারতে তাদের ফোন দিতে পারতে। সে বললো ওরা নাকি একজনকে নিয়ে নিয়েছে। ভাবলাম রিজিক এ নেই আমি প্রচন্ড লাজুক আর আত্নসম্মানসম্পন্ন মানুষ। গায়ে পরে কাউকে অনুরোধ করার অভ্যস কোনদিনও ছিলো না।

আমি স্টকহোল্ম থেকে উপশালা যাতায়াত করতাম। স্টকহোল্মে রাতে পেপার জব দিতাম আর দিনের বেলা উপশালা গিয়ে ক্লাশ করছিলাম। ৩০ জানুয়ারী ২০১১ ক্লাশ শেষে উপশালা র ইকবাল ভাইয়ের রুমে গেলাম দেখা করতে ভাবলাম ই-মেইলটা চেক করি, ই-মেইল চেক করে দকেহি একটি মেসেজ যে আমি ভাইভা দিতে পারবো কিনা। রিপ্লাই দিলাম যে আমি আজেকই ভাইভা দিতে পারবো। পরের দিন ভাইভা দিয়ে তারপর দিন থেকে কাজ শুরু করলাম। এভাবে দু-বছর রেসার্স এ্যাসিসটেন্ট হিসেবে কাজ করলাম। এর মাঝে অনেকবার ইচ্ছে হচ্ছিলো বিসিএস দিয়ে আসি। শেষ যখন ২০১২ এর দিকে মুটামুটি শিউর হলাম যে পিএইচডি রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাবে তখন ভাবলাম দু-নৌকায় পা না দেই। তখন সিন্ধান্ত নিলাম যে পিএইচডি টা আগে শেষ করি যেহেতু সুইডেনে এসেছিলাম ডিগ্রি নিতে ডিগ্রি নেই।

পিএইচডি রেজিস্ট্রেশনের আগে অবশ্য আমাকে জিগ্গেস করা হয়েছিলো যে আমি সুইডেনের পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট পারমিট নিতে চাই নাকি পিএইচডি নিতে চাই। চিন্তা করলাম যে যেহেতু পিএইচডি নিতে এসেছি এবং ডিগ্রি থাকলে পৃথিবীতা আরো ওপেন হয়ে যাবে, আবার সুইডেনে থেকে যদি ওড জব করা লাগে তাহলে থেকে লাভ কি। সুতরাং বলে দিলাম যে আমার ডিগ্রি চাই সুইডেনে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট পারমিট পাই আর না পাই।

অবশেষে আল্লাহর অশেষ রহমতে পিএইচডি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয় ২০১৩ এর জানুয়ারীর ৩০ তারিখ। পিএইচডির হাফ টাইম শেষ হয়েছে জুন ২০১৪।

পথ চলছি….. আল্লাহ যতদুর নিয়ে যায়।

সবার দোয়াপ্রার্থী…….

জীবন ডায়েরী-০২

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ শুরু হলো ৯ জানুয়ারী ২০০১ সালে। ক্লাশ শুরু হতে না হতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছেলের সাথে স্টেশনবাজারের এক স্থানীয় লোকের বাত-বিতন্ডা থেকে শুরু করে ব্যাপক মারামারি শুরু হয়ে গেলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাধারন ছাত্র, সব রাজনৈতিক সংগঠন একপাশে আর স্টেশনবাজার সংলগ্ন এলাকা বাসী এক পাশে। ছাত্রদের সাথে যোগ দিলো বিনোদপুরের এলাকাবাসী পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্র ধারন করলো মুহুর্তে। যারা যা আছে তা নিয়ে মারামারিতে ঝাপিয়ে পড়লো। পুরো স্টেশনবাজার আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের সব দোকানপাঠ ভাংচুর করলো লুটপাট করলো সুযোগসন্ধানীরা। ফলস্বরূপ ফেব্রয়ারীর ১৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সববিভাগের ক্লাশ বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার পর পড়ায় কেন জানি কোন মজা পাচ্ছিলাম না। বার বার ভাবছিলাম ইয়ার ড্রপ দিয়ে মেডিক্যাল পরীক্ষাটা দেই, কিন্তু ফ্যামিলির কারো এসব ব্যাপারে মাথা ব্যাথা না থাকায় এভাবে প্রথম বর্ষ পরীক্ষা দিলাম। ফলাফল মোটামুটি হলো। দ্বিতীয় বর্ষে গিয়ে পড়ায় মনোযোগ দিলাম ফলাফল ভালো ই হলো। তৃতীয় বর্ষে প্রথম থেকে পড়া শুরু করলাম মে মাসে প্রষ্তুতি ৯০ ভাগ সম্পন্ন হলো পরীক্ষা অগাষ্টে পরিকল্পনা ছিলো তৃতীয় বর্ষে বড় একটা লিড দিয়ে প্রথমের দিকে চলে আসা। দ্বিতীয় বর্ষে লিড ছিলো ২২। যাহোক মানুষের ভাবনার সাথে সব সময় সব কিছু মিলেনা। হঠাত মে মাসে ছাত্রাবাস কমিটি বললো মেস ছাড়তে হবে, তারা মেসে কিছু সংস্কারের কাজ করবে। মেসটি ছিলো মসজিদ কমিটির।

ছাত্রাবাসটি পরিবর্তন করে আর একটি ছাত্রাবাসে উঠলাম। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় হলে সিট হয়ে গেলো। ভাবছিলাম পরীক্ষার পর উঠবো। যাতে পরীক্ষায় কোন প্রভাব না পরে। কিন্তু কেনজানি হলে উঠে গেলাম। হলে উঠতেই এক বন্ধুর খপ্পড়ে পরে লাইফ লাইন (এমএলএম) বিজনেস জড়িয়ে পড়লাম। আমার রুমমেট বড় ভাই নিষেধ করেছিলেন। আমার মেসমেট বন্ধু রফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সে ও নিষেধ করেছিলো। কিন্তু সেই বন্ধুর প্রভাবে দিনের বেশিরভাগ ই কাটতে লাগলো বিনোদপুরে। যেখানে মে মাসে ৯০ ভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন সেখানে সেখান থেকে আর পড়া এগুলো না। এরপর সংগঠনেও জড়িয়ে পড়লাম সব ঠিক পরীক্ষার আগ মুহুর্তে ফল স্বরূপ তৃতীয় বর্ষে কিছু নম্বর কম পেলাম। প্রথম শ্রেনী থেকে কিছু কম হয়ে পড়লো। ভাবলাম একাডেমিক পড়াশোনা আর করবো না। যে ভাবা সেই কাজ আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে বাবা সরকারী চাকুরী করতেন সরকারী চাকুরী বিসিএস এর প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ ছিলো। তাই বিসিএস, এমবিএ পরীক্ষার প্রতুষ্তি নিতে থাকলাম। চতুর্থ বর্ষে ফলাফল আগের মতই থাকলো পেছন থেকে অনেকে প্রথম শ্রেনী পাইলো। আমি ঐখানেই থেকে গেলাম। কিন্তু অন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি সবার চেয়ে এগিয়ে থাকলাম।

মাস্টার্ষ এ গিয়ে বন্ধুরা বলাবলি করতে লাগলো দোষ্ত তোর প্রথম শ্রেনীটা হাতে ধরে নষ্ট করলি পড় তোর এবার হয়ে যাবে। বন্ধু নয়ন প্রায় বলতো। এদিকে সংগঠনের কাজে কিছুটা পিছিয়ে পড়লাম ফলে অনেক সময় পেলাম সময় গুলো কাজে লাগালাম ফলস্বরূপ নন-থেসিস গ্রুপ থেকে প্রথম হয়ে বেরুলাম।

ভাবলাম বিসিএস দিয়ে প্রথমের দিকের পজিশন নিতে হবে। যেহেতু আগে একটু একাডেমিক পড়াশোনা কম করেছিলাম হাতে অনেক টাইম পেতাম। আমি আবার ঘোরাঘোরি কম করতাম, আড্ডাবাজো ছিলাম না তাই সময় গুলো স্টেশনবাজারে ইন্টারনেট এ ব্যবহার করে কেটে দিতাম কিছু সময়। ফলে সহপাঠীদের চেয়ে কিছু বিষয়ে এগিয়ে থাকলাম। থেসিস করা বন্ধুরা সুইডেনে অ্যাপ্লাই করবে ভাবছিলো আমি অ্যাপ্লাই করে দিলাম। ইংলিশ কোচিং করার খুব একটা দরকার হয়নি যেহেতু একাডেমিক পড়া কম করতাম ঐ সময় গুলো ইংলিশ পড়া প্রাকটিসে কেটে দিতাম ফলে এমনি পরীক্ষা দিয়ে প্রথমভাবে মোটামুটি চলার মত স্কোর পেয়ে গেলাম সুইডেনে ভর্তির সুযোগ পেলাম। সুইডেন চলে আসলাম। কিন্তু বিসিএস দেয়ার সেই যে প্রচন্ড আকাংখা সেটি থেকে গেলো।
ভেবেছিলাম বিসিএস ক্যাডার হবো কিন্তু সেটি আর হলো না চলে আসলাম সুইডেনে।

বাকিটুকু পরের পোষ্টে……

জীবন ডায়েরী-০১

মানুষ ভাগ্য যে আল্লাহর দ্বারা নির্ধারিত আমার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা তার প্রতাক্ষ্য সাক্ষী। আমার জীবনে বেশির ভাগ ঘটনার সাথে কেমন জানি তাকতলীয় কিছু ব্যাপার জড়িত, জীবনের ঘটনা গুলো যে আল্লাহর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তা অনেকটা বুঝতে পারা যায়।
জন্মের পর থেকে গ্রামেই বড় হতে থাকি। গ্রামের প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আমার আব্বা। আব্বা শিক্ষক হওয়ার সুবাধে স্কুল জীবন শুরু করি কিছুটা আগে, আমার চেয়ে দু বছরে বড় এমন ছেলেদের সাথে ক্লাশ ওয়ান শুরু করেছিলাম, একদিন একরামুল নামে এক স্যার আমাকে রিডিং পড়া পড়তে বললে আমি আটকিয়ে যাচ্ছিলাম, স্যার সাথে সাথে আমাকে শিশু ক্লাশে পাঠিয়ে দেন। এরপর সেখান থেকে গ্রামের স্কুলে তৃতীয় শ্রেনী শেষ করি, এরপর যখন ক্লাশ ফোর শুরু করলাম সৈয়দপুর শহরে বাসা কিনলো আব্বা সেখানে নয়াটোলা স্কুলে ক্লাশ ফোর এর দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার আগে থেকে শুরু করলাম। গ্রাম থেকে শহরে গিয়ে ভালৈ করছিলাম। প্রাইমারীর সমাপনী পরীক্ষায় সেসময় থানায় ১৬ তম স্থান অধিকার করেছিলাম, সেসময় আমাদের নয়াটোলা স্কুল থেকে ৪ জন সমাপনীতে মেধাবী তালিকায় স্থান লাভ করে যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয়, ১৬ তম এবং বিশতম। প্রথম হয়েছিলো আমার বন্ধু জয়, দ্বিতীয় রনি, আর ২০ তম রতন। সেই ব্যাচটা ছিলো নয়াটোলার সেরা ব্যাচ।
প্রাইমারী স্কুল থেকে হাইস্কুলে ভর্তি হব। লক্ষ্য ছিলো গভঃ টেকনিক্যাল নয়ত ক্যান্ট পাবলিক। টেকনিক্যাল এ পরীক্ষা দিয়ে অপেক্ষামান তালিকায় থাকলাম। ক্যান্টে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেয়ে গেলাম। ভর্তিও হয়েছিলাম, কিন্তু মধ্যবিত্ত ফ্যামিলি টাকা কম তাই অপেক্ষা করতে থাকলাম টেকনিক্যালএর জন্য । অবশেষে অনেক প্রহর শেষ করে সবার শেষের রোল নাম্বারটি দিয়ে স্কুল জীবন শুরু করলাম। স্কুলে সব সময় চুপচাপ থাকতাম, ঐ সময়ে আমি ছিলাম প্রচন্ড লাজুক একটি ছেলে। ক্লাশে কখনও ছুটোছুটি করতাম না। তবে কেন জানি ঐ সময়ে ক্লাশে বই পড়তাম। এভাবে সময় গুলো পার হচ্ছিলো। আল্লাহর অশেষ রহমতে সবার শেষ হয়ে শুরু করে সবার প্রথমের দিকে থেকে বের হতে পেরেছিলাম। একবার ক্লাশ এইটে বোর্ড থেকে নির্দেশ আসলো ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ার জন্য যারা যারা পড়তে আগ্রহী ক্লাশের স্যার দাড়াতে বললেন, ঐ সময় আমার ক্লাশ রোল ৯, আমি দাড়ালাম ক্লাশে আহসান হাবীব স্যার নামের একজন স্যার ছিলেন আমাকে অপমানকর কিছু কথা শোনালেন যে আমি কিভাবে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ব। এমনি লাজুক ছিলাম প্রচন্ড অপমানবোধে সেদিন অনেক ঘেমেছিলাম।
স্কুল জীবনে অবশ্য আর কারো কাছে এমন কথা শুনিনি। তবে একটি জিনিস লক্ষ্য করেছিলাম, স্যার রা যাদের চিনতেন তাদের কিছু বিষয়ের স্যার রা বেশি নম্বর দিতেন। যেমন; আমি কখনই বাংলা, ইংলিশে ৫০ এর মধ্যে ২০ এর উপরে পাইনি। ইংলিশ এ সব সময় পাইতাম ২১ 🙂 আর বাংলায় ১৭-২০ 🙂 তবে অন্য বিষয়গুলোতে বরাবরই অনেক নম্বর পাইতাম, এভাবে একদিন দশম শ্রেনীতে সামনের দিকে চলে এসেছিলা।
দশম শ্রেনীতে ফলাফল ভালৈ হয়েছিলো প্রশ্ন দেখা দিলো কোন কলেজে ভর্তি আমাদের সময়ে সৈয়দপুর ক্যান্ট ভালো ফলাফল করত কারন টেকনিক্যালের প্রথমের দিকে সবাই ক্যান্টে ভর্তি হতো। আমাদের সময়ের প্রিন্সিপাল স্যার বললেন তোরা এবার এখানেই থাক দেখ এখানেই ভালো ফল হবে। তবে স্কুলের কিছু স্যার এবং ম্যাডাম (কামরুন্নাহার ম্যাডাম) বলেছিলেন ঢাকা কলেজে অ্যাডমিশন নিতে। কিন্তু বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে কোন সারা না পেয়ে টেকনিক্যালেই থেকে যাই।

আমাদের দেখাদেখি টেকনিক্যাল স্কুলের (সায়েন্স স্কুল) বেশির ভাগ সহপাঠী ঐ কলেজেই থেকে গেলো। এইচএসসি ফলাফল সন্তোষ জনক হলোনা। সিদ্ধান্ত হলো মেডিক্যাল কলেজের কোচিং করবো। যেহেতু বাইরের জগত সম্পর্কে নলেজ কম বিষয়টি বন্ধু রনির উপর নির্ভর করলো সবাই মিলে রংপুর রেটিনায় কোচিং শুরু করলাম। কোচিং এর শুরু থেকে অনেক ভালো ফলাফল করলাম। A B C তিনটি শাখা মিলে পরীক্ষা হতো পরীক্ষায় প্রায় ১-৩ এর মধ্যে থাকতাম একবার এক ভাই বলেই বসলেন যে আর একটু স্কোর বেশি হলে ঢাকা মেডিক্যালে হয়ে যেত।
এভাবে কোচিং চলছিলো হঠাত বন্ধু রনির মাথায় বুদ্ধি আসলো কোচিং সে করবেনা বাসা থেকে ক্লাশ করবে বাসা সৈয়দপুরে। আমি জীবনে বাড়ির বাইরে থাকিনি সে যখন বাড়ি যাবে বললো আমিও তার সাথে সৈয়দপুর চলে গেলাম ২ মাস কোচিং করে। আর এক বন্ধু বিকু চলে গেলো রাজশাহী ওর ভাইয়ের কাছে। ওর ভাই ওকে গাইড দেয়া শুরু করলো। আমরা সৈয়দপুরে থেকে গেলাম। বরাবরই বাসার লোকজন কিছুই করলো না। টেকনিক্যালের প্রথমের দিকের স্টুডেন্ট হওয়ায় মনের মধ্যে আশংকা কাজ করা শুরু করলো যে যদি চান্স না পাই তাহলে মান-ইজ্জত সব নষ্ট হয়ে যাবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কনটেষ্ট গাইড কিনে পড়া শুরু করলাম। যেহেতু কেমিষ্ট্রি আগে থেকে ভালো লাগতো ঐ গাইড বইয়ের তিনটি বিষয়ের নাম ভালো লাগলো। বায়োকেমিষ্ট্রি, ফার্মাসী আর এ্যাপ্লাইড কেমিষ্ট্রি। কোচিং এবং ভালোভাবে পড়া ছাড়াই ঢাবি তে পরীক্ষা দিলাম সিরিয়াল ওনেক দুরে থাকলো, বাড়ির লোকজনও সাহায্য করলো না কোথায় ফর্ম নিবো ফর্ম নিলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালের।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে গেলাম। যেহেতু অনেক লাজুক ছিলাম ভেবেছিলাম কোন বন্ধুর সাথে মেসে থাকবো। রাজশাহী গেলে এক বন্ধু নিজের কাছে না রেখে বিশ্ববিদ্যালয় হলে শিবিরের রুমে উঠিয়ে ছিলো। সেই এক রুমে অনেক ছেলে। সবাই সারাদিন গল্প করে আমি পড়তে পারছিলাম না, ঐ দিকে ঐ বন্ধু আবার আগে ঘোষনা দিয়েছে তারা ৬ মাস থেকে রাজশাহীতে কোচিং করছে তারা চান্স না পেলে আমরা কিভাবে সৈয়দপুর থেকে গিয়ে চান্স পাবো। আবার পরীক্ষা দিয়ে রুমে ফিরলেই সবাই বলতো কেউ ৬০ পাবে কেউ ৭০ পাবে (৮০ এর মধ্যে) আমি দেখি হিসেব করে আমার ৪০-৪৫ এর ঘরে ঘুরাঘুরি করে। তিনটি পরীক্ষা দিলাম ফার্মাসী পরীক্ষা শনিবার দিন হবে মাঝখানে শুক্রবার। এক বন্ধু বাসায় ফিরছিলো ওকে বললাম আমার আর পরীক্ষা দিতে এখানে থাকতে ভালো লাগছেনা। সে বললো চল। ফার্মাসী পরীক্ষা না দিয়ে বাসা চলে গেলাম। বাসার লোকজন বললোনা যে চল পরীক্ষাটা দিয়ে আয়।

যাহোক ঐ সময়ে নিয়ম ছিলো শিবির সভাপতির রুমে খালি খাম আর পরীক্ষার রোল দিয়ে আসলে তারা রেজাল্ট পাঠিয়ে দিটো বাসায়। আমিতো অতো কিছু জানতাম না ভাবলাম চান্স হবে না তাই একটি খাম দিয়ে বাসা ফেরত আসি।

রেজাল্ট বের হওয়া শুরু করলো। কেমিষ্ট্রির রেজাল্ট আসলো ওয়েইটিং এ। বাকিগুলোর কোন খবর নেই। আমার মাথায় ছিলোনা যে আরো দুটি খাম ও রোল দিয়ে আসতে হবে। যেহেতু চান্স হবেনা তাই কাউকে বলিনি কারন সে বন্ধু বলেছিলো আমার চান্স হবে না। দু-বন্ধু চান্স পেলো দু-সাবজেক্টে। আমি ওয়িটিংএ। মন খারাপ করে বসে আছি। হঠাত যে বন্ধু আমাকে বলেছিলো আমার চান্স হবে না সে আমার বাসায় এসে বললো তোর বায়োকেমিষ্ট্রিতে হয়েছে তুই রাজশাহী যা, সে বললোনা কবে রাজশাহী যাইতে হবে। সে আমার প্রাইমারী স্কুল থেকে সহপাঠী আমার আব্বার নাম জানতো। রেজাল্টে আমার নামের পাশে আব্বার নাম দেখে বুঝেছে যে আমার হয়েছে। আমার এক বন্ধু ঐদিনই যাচ্ছিলো রাজশাহী ভাবলাম তার সাথে যাই। আর এক বন্ধু বললো যে থাক আগামী কাল সকালে যাস। সে আবার আমার অনেক ক্লোজ। বললাম তুই সিউর গেলে থেকে পরেরদিন যাবো। ওর আম্মা বললো থাকো আমি বলছি সে যাবে। আমি থেকে গেলাম। সে আবার আর এক বন্ধুকে ট্রেনে তুলে দেয়ার জন্য স্টেশনে গেলো।

স্টেশনে গিয়ে সে দেখতে পেলো ট্রেন আসতে একটু লেইট। দেখলো এক ছেলে প্লাটফর্মে দাড়িয়ে আছে। সে মিশুক ছিলো ছেলেটির সাথে কথা বলা শুরু করলো তাকে জিগ্গেস করলো কই যাচ্ছে সে বলে যে ভাইভা দিতে, তাকে জিগ্গেস করতেই তার মাথা্য হাত তার কাছে শুনে পরের দিন সকালে ভাইভা। আর ভাইভা মিস মানে অ্যাডমিশন হওয়া সম্ভব না। সে দ্রুত রিকশা নিয়ে বাসায় এসে আমাকে বললো চল তোকে আজকেই যাওয়া লাগবে। রাজশাহী পৌছালাম। পৌছিয়ে ভাবলাম দেখি অ্যাপ্লাইড কেমিষ্ট্রির কি অবস্থা দেখলাম সেখানে সিরিয়াল বায়োকেমিষ্ট্রির চেয়ে আরো আগে। ২৪ নম্বরে। বায়োকেমিষ্ট্রিতে ৭৫ নম্বরে।

অবশেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বায়োকেমিষ্ট্রিতে পড়া শুরু করলাম। যদিও মনের মধ্যে একটা আকাংখা ছিলো যে মেডিক্যালে পড়ব। কারন যে স্কুল কলেজ থেকে যে পজিশন থেকে পাশ করেছি সেখান থেকে কেউই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েনি। তবে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন শেষ পর্যন্ত অনেকদুর নিয়ে এসেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাশ শুরু হওয়ার পরের গল্প গুলো পরের পোষ্টে থাকবে, ইনশাল্লাহ।

ক্রিকেটীয় পলিটিক্স

যে যেভাবেই দেখেন, ক্রিকেট খেলা হলেও বাংলাদেশের হার ও ভারতের হারের পর বাংলাদেশীদের দেখানো প্রতিক্রিয়া ভারতীয় ক্রিকেটারদের জন্য যত না মাথা ব্যাথার কারন তার চেয়ে বেশি চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পরবে ভারতীয় পলিসীমেকার রা। বাংলাদেশীদের মধ্যে চরম জাতিয়তাবোধ এবং চরম দেশপ্রেমে ভারতের পলিসী মেকার রা অবশ্যই খুব বেশি খুশি হবে না। যেসব জিনিস দেশপ্রেমের প্রকাশকে স্বতঃস্ফুর্ত করে দেয়, যেসব জিনিস মানুষের মনের সুপ্ত দেশপ্রেমকে, জাতিবোধকে জাগ্রত করে দেয় জাতিগত শত্রু বা দেশের শত্রু সেসব জিনিসকে নষ্ট করে দিয়ে বাচতে চায়। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী যখন বাংলাদেশের মানুষের আত্নসন্মানবোধের প্রতিক হয়ে উঠেছিলো, বিডিআর বাহিনী যখন জাতিসত্ত্বাকে চিনিয়ে দিয়েছিলো ঠিক তখন তাদের দিকে প্রতিহিংসার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিয়ে স্পিরিটকে নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। আগামীতে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নানাভাবে নষ্ট করার চেষ্টা করবে বলে ধারনা করা যায়। কারন ক্রিকেট যখন জাতিয় সন্মানের কারন হয়ে দাড়ায়, যখন সেটি সবাইকে একই কাতার বন্দী করে শত্রুকে চিনতে সাহায্য করে তখন গোপনে তার শিকড় ছেড়ার ষঢ়যন্ত্র তৈরী হবেনা বলা যায় না।

ক্যান্সার রোগীদের জন্য সোস্যাল মিডিয়ায় সাহায্য প্রার্থনার বিষয়ে আমার অনুভূতি

সবাইকে একদিন মরতে হবে। মারা যাবে সবাই। আমরা সবাই নিজেকে মানুষের জন্য কিছু না কিছু করতে চাই। আপাতদৃষ্টিতে আমরা মনেকরি আমরা সব মানুষকে সমানভাবে চিন্তা করি। কিন্তু আসলেই কি তাই। ফেইসবুকে প্রায় দেখা যায় জীবন বাচানোর জন্য সাহায্যর আবেদন। একজন ক্যান্সার রোগীর জন্য ৬০ লক্ষ বা ১ কোটি টাকার দরকার জীবন বাচানোর জন্য। যাদের সম্বল আছে তারাই ফেইসবুকে আবেদন করতে পারে। এই ১ কোটি দিয়ে হয়ত তার জীবন বাচবে কিনা আল্লাহই জানেন। অথচ একটু খেয়াল করলে দেখবেন এই টাকা দিয়ে বাংলাদেশের অনেক গরীব মেধাবীদের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব। তাদেরকে জীবনে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করা সম্ভব। একজন ক্যান্সার রোগীর জীবনের দাম যেমন ঠিক সাধারন গরীব পরিবারের একজন সদস্যর জীবনের দামও হয়ত সমান। আমরা যারা একজন ক্যান্সার রোগীর জন্য আকুল আবেদন করি, আমরা কি পারিনা এমন উদ্যেগ নিয়ে সাধারন গরীব মেধাবীদের পাশে দাড়াতে। এরকম ১ কোটি টাকা দিয়ে কয়েকটি পরিবারকে হয়ত প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। ১ কোটি দিয়ে আমি কোন ক্যান্সার রোগী কেন নিজের জীবনের জন্য ব্যয় করতে আগ্রহী হবোনা। বরং সেই টাকা মানুষের কল্যানে দিয়ে দিয়ে আমি মৃত্যুকে আহ্বান জানানোকে শ্রেয় মনে করব।

সংক্ষেপে কুরআন এবং হাদীসে বাইয়াত বা শপথ

” Certainly was Allah pleased with the believers when they pledged allegiance to you, [O Muhammad], under the tree, and He knew what was in their hearts, so He sent down tranquillity upon them and rewarded them with an imminent conquest”

”আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন, যখন তারা বৃক্ষের নীচে আপনার কাছে শপথ করল। আল্লাহ অবগত ছিলেন যা তাদের অন্তরে ছিল। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদেরকে আসন্ন বিজয় পুরস্কার দিলেন।” ৪৮ঃ১৮

বাইয়াতের উপর হাদীস

The Beloved Messenger of Allah (peace and blessings of Allah be upon him) said, “Whoever dies and did not take an oath of allegiance (to a Muslim leader) has died a death of jahiliyah (ignorance).” [Bukhari, Muslim]

“Auf Ibne Maalik Ash-ja-ee (Radhiyallahu Anhu) said: We were with Nabi Sallallaahu alayhi wasallam, seven, eight or -nine (of us), when he said:

‘Will you not make baiyat (pledge) to the Rasul of Allah?’

We stretched our hands and enquired: On what shall we make baiyat to you, O Rasul of Allah? He said.

‘That you make the Ibaadat of Allah,- that you associate nothing with Him,- that you perform the five Salaat; that you hear and obey.”

(Muslim, Abu Daawood, Nisaai)

হাদীসে মহিলাদের বাইয়াত গ্রহনের পদ্ধতি

Aa’ishah (may Allaah be pleased with her) said: “No, by Allaah, the hand of the Messenger of Allaah (peace and blessings of Allaah be upon him) never touched the hand of any (non-mahram) woman. Rather he would accept their allegiance (bay’ah) in words only.”

(Narrated by al-Bukhaari, 5288; Muslim, 1866)

Al-Nawawi (may Allaah have mercy on him) said in his Sharh (commentary): “This indicates that for women, allegiance is given in words only, without taking the hand of the leader, and for men it is done in words and by taking his hand.

রাসুল (সাঃ) এর জীবাদ্দশায় বাইয়াত

বাইয়াতে আক্ববাঃ  ৬২০ খ্রীষ্টাব্দে

৬২০ খ্রীষ্টাব্দে ইয়াসরিব থেকে ৬ জন লোক রাসুল (সাঃ) এর সাথে দেখা করতে আসেন তারা আল্লাহ, রিসালাত এসব বিষয় গভীরভাবে তার কাছে শোনে এর পরের বছর ইয়াসরিব থেকে আরো ১২ জন লোক এসে রাসুল (সাঃ) এর বাইয়াত গ্রহন করেন। নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর তারা বাইয়াত গ্রহন করে।

First Pledge of ‘Aqaba, included the following:

We shall not associate anyone with Allah (The One God): whether in worship, His attributes, His power or His authority.
We shall not indulge in adultery, fornication, and practice or propagate any other indecency.
We shall not steal or rob anyone’s property in any manner or under any pretense.
We shall not practice the custom of killing children.
We shall not falsely accuse or backbite anyone.
We shall not disobey you in good deeds and just cause.
We shall always follow you, be it hard or easy, to our liking or not, and we shall act according to your commands. We shall follow and obey your decisions even if it be against ourselves and in favor of others.
We shall not participate in opposing the deserving persons of authority or positions.
We shall support the truth and justice and stand firm under all circumstances. In matters of Allah’s religion, we shall not be afraid for our name, disrepute, disgrace, or blame.

After concluding this pledge, the prophet (pbuh) said: “If you fully comply with these promises, you will have the right to paradise; but if you fault, you will not have the right to paradise. Allah may punish you or He may forgive you.”

বাইয়াতে রিদওয়ানঃ ৬২৮ খ্রীষটাব্দে

বাইয়াতে রিদওয়ানঃ ৬২৮ খ্রীষটাব্দে

৬২৮ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসে মুহাম্মদ (সাঃ) হজ্জ্ব করার পরিকল্পনা গ্রহন করেন। মক্কার কুরাইশরা মক্কার ভিতরে মুসলিমদের প্রবেশে নিষেধাগ্গা আরোপ করে এবং তারা প্রতিরোধ করার জন্য সংকল্পবদ্ধ হয়ে পরে যদিও মুসলিমদের যুদ্ধের জন্য কোন পরিকল্পনা ছিলোনা। মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কার বাইরে তাবু স্থাপন করেন এবং উসমান (রাঃ) কে মক্কার কুরাইশদের সাথে আলোচনার জন্য প্রেরন করেন। মক্কার কুরাইশরা উসমান রাঃ এর মক্কার অবস্থানকে দীর্ঘায়িত করে তুলে এবং তার অবস্থান জানাতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। এটি মুসলিমদের মনে বিশ্বাস তৈরী করে যে মক্কার কুরাইশরা উসমান (রাঃ) কে হত্যা করেছে। এই ঘটনার জন্য মুহাম্মদ (সাঃ) ১৪০০ জন সাহাবার সমাবেশ করেন এবং আমৃত্যু লড়ায়ের শপথ গ্রহন করেন। এই শপথ একটি গাছের নিচে নেয়া হয়। এ সময় সাহাবা রা রাসুল (সাঃ) এর হাতের উপর হাত রেখে শপথ নিয়েছেন।

দেশীয় ট্রাডিশন বনাম ইসলামিক ট্রাডিশন

ঘটনা ১ঃ লোকটি খুব ইসলামের কথা বলে। বাচ্চাগুলোকে ইসলামের পালনের জন্য কড়া শাসনে রাখছে। কিন্তু বাচ্চাগুলোকে সঠিকভাবে কেয়ার করবে সেটি তিনি করতে পারবেন না। তিনি হলেন স্বৈরশাসক। যে সব ফ্যামিলিতে এমন লোক আছে সে ফ্যামিলির বাচ্চারা ইসলাম নিয়ে কনফিউসনে ভূগে। পরিবারের বাচ্চাগুলো ছোট বেলা থেকে ইসলামের কথা শুনে শুনে বড় হয় কিন্তু পরিবারের কর্তা ব্যক্তির আচরনে তারা দ্বিধা নিয়ে বড় হয়। পরিবারের কর্তা ব্যক্তির জন্য মুসলিমদের নিয়ে তাদের মনে এক ধরনের ভয় তৈরী হয়। ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে ইসলাম পালন তো পরের কথা মুসলিম পুরুষকে /নারীকে বিয়ে করতেই ভয় পায়।

ঘটনা ২ঃ ছেলে বড় হয়েছে বিয়ে করবে, ছেলে বিয়ে করবে ছেলের মনের মত ছেলে ভালো মুসলিম কিন্তু সমস্যা হলো পরিবার সম্মতি দিচ্ছে না। পাশের বাড়িতে থাকে অন্য ধর্মের লোক তারা পরিবারটিকে মুসলিম পরিবার হিসেবে জানে। সুতরাং তারা ভেবে বসলো এটি ইসলামের একটি সিসটেম, মুসলিম রা ব্যাকডেটেড।

ঘটনা ৩ঃ রহিম সাহেব কথায় কথায় ৪ টা বিয়ের কথা বলে। বউকে শাসায় ৪ টা বিয়ে করবো। বউকে পিটায় কারন স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর বেহেস্ত। পাশের বাড়ির লোক অন্য দেশের তারা ভেবে নিলো এটাও ইসলামের সিসটেম।

ইসলামিক ট্রাডিশন বনাম দেশিয় ট্রাডিশন
এই দুই জিনিসের পার্থক্য করতে পারলে, নিজেদের পরিচয় সম্বন্ধে সঠিক ধারনা না থাকলে মানুষের মধ্যে ভূল বার্তা চলে যায়। আমরা যখন কথায় কথায় নিজেদের ভালো মুসলিম হিসেবে প্রমান করার চেষ্টা করি, অন্যদের যখন ইসলামের ভালো কথা বলে বেড়াই, যখন আমরা কথা দিয়ে ইসলাম কায়েম করে ফেলি তখন যদি সেই কথার সাথে ব্যক্তি জীবনের ইসলামের চর্চার মিল না থাকে তাহলে মানুষের মধ্যে খোদ ইসলাম নিয়ে সন্দেহ তৈরী হয়। কারন শয়তান মানুষকে ইসলাম থেকে দুরে সরানোর অনেক চেষ্টা করে। জন্মগত ভাবে আমরা মুসলিম হওয়ার কারনে ইসলামের বিষয়গুলিকে বিষদ ভাবে জানা ও মানা আমাদের সবার পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠেনা। ফলে দেশিয় মনোবৃত্তি আর ইসলামের পরিচয় যখন মিশ্রন ঘটে তখন বেশির ভাগ সময়ে আমাদের চরিত্রে দেশিয়/ভূ-জাতিগত বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য লাভ করে ফলে ইসলাম পালন করতে গিয়ে আমরা স্থানীয় ট্রাডিশনের আলোকে পালনের চেষ্টা করি। অনেক ক্ষেত্রে দেশিয় ট্রাডিশনকে ইসলামের ট্রাডিশন মনে করে সেটিকে বিশ্বাসে পরিনত করি এবং সেটি আমল না হলে ঈমান বরবাদ হয়ে যাবে এমনটি মনে করি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ইসলামকে ভূলভাবে উপস্থাপন করি। এরকম একটি উদাহরন দেয়া যায়, সংগঠনের আনুগত্যের ব্যাপারে।
দেশিয় ট্রাডিশনে দলীয় নেতার আনুগত্য হলো প্রভুর সামনে মাথা নত করার সমান (নাউযুবিল্লাহ)। এখানে দেশীয় ট্রাডিশনকে ইসলামের সিসটেমের মধ্যে ঢুকানোর ফলে দলীয় নেতাদের সামনে কাচুমাচু করা, মতের সাথে দ্বি-মত করা এমনকি নেতাদের সাথে মতানৈক্য দেখা দিলে সেটিকে ঈমানের সাথে সাংঘার্ষিক মনে করা হয়। অথচ হযরত উমর (রাঃ) মত সাহাবাদের ভরা মসজিলে জবাবদিহি করতে হয়েছিলো। দেশিয় কালচারে বড় হয়ে উঠা লিডার রা জবাবদিহি ত বড় কথা তাদের সামনে যুক্তিপূর্ণ কথাকে সংগঠনের আনুগত্যর বরখেলাপ মনে করে। অথচ ইসলামের ট্রাডিশনে এসবের কোন ভিত্তি নেই।

আমরা যখন মানুষের সামনে পরিচয় দেই তখন স্বভাব গত ভাবে আমারা আমাদের জান্নাতি হিসেবে পরিচয় হওয়ার চেষ্টা করি। দেশিয় পরিচয় কে পরে প্রাধান্য দেই বেশির ভাগ সময়েই। এই কাজটি বেশি করে ইসলাম প্রেমিক লোক গুলৈ। কারন তারা মনেকরে ইসলামের পরিচয় দিতে পারলেই হয়ত জান্নাতে চলে যাবে কিন্তু সেই পরিচয় দিতে গিয়ে ব্যক্তি ইসলামের সঠিক চর্চা না থাকায় বা না জানায় হিতে বিপরীত হয়ে দাড়ায়। প্রাকটিসিং মুসলিমদের ও বিপদে ফেলে দেয়। যেমন অনেকেই মুসলিম পরিচয় দিয়েও অ্যালকোহল পান করে যখন কোন অন্যধর্মের লোক ভালো মুসলিম দেখে তখন তাকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

বাংলাদেশে বিয়ের ক্ষেত্রে ছেলে মেয়ের কোন অনুমতি অনেক ক্ষেত্রে নেয়া হয় না। বাইরের দেশের মানুষ এগুলোকে ইসলামের কালচার মনে করে কারন তারা জানে আমরা সবাই মুসলিম। আবার বাংলাদেশের অনেক স্বামী বউকে তাদের সম্পত্তি মনে করে, তাদের উপর তাদের বস-কর্মচারীর সম্পর্কের মত আচরন করে। আবার বউয়েরাও এগুলোকে মেনে নেয় জান্নাতে যাওয়ার স্বপ্নে।

এসব কিছুই হয় মূলত সঠিক শিক্ষার অভাবে এবং দুই ট্রাডিশনকে পার্থক্য করতে না পারার কারনে।

আমার ল্যাবের একজন সেদিন প্রশ্ন করেছিলো যে ইসলামে চারটি বিয়ে করা যায় কিনা কেন? আমরা মুসলিম পুরুষরা চারটি বিয়ের কথাকে প্রচার করেছি নিজেদের ভোগের স্বার্থেই। চারটি বিয়ের কথা প্রচার করেছি ঠিকই কিন্তু তার শর্তগুলো প্রচার করেছি কম। ফলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরী হয়। মানুষ ইসলাম নিয়ে ভূল বুঝে।

বাদাম খেয়ে পেট খারাপ হলে নাকি তার উপরের বাদামী পর্দাটা সহ খেলে ভালো হয়ে যায়। শুধু বাদামের ফজিলত বর্ণনা করার ফলে বেশি খাওয়ার ফলে যখন অনেকের পেট নষ্ট হয়ে যায় তখন ওষুধের ব্যবস্থা করা ছাড়া উপায় থাকেনা।

আমার কাছে মনেহয় কেউ যদি ভালো মুসলিম না হয়, বা যদি কারো ইসলাম নিয়ে ভালো ধারনা না থাকে তাহলে অন্যধর্মের লোকের কাছে মুসলিম পরিচয়ের প্রাধান্য না দিয়ে ভূ-জাতিগত
পরিচয় দেয়াই শ্রেয়। আবার সংগঠনের জন্য যারা ইসলাম নিয়ে কাজ করে, ইসলামকে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে তাদের ইসলামি ট্রাডিশন এবং দেশীয় ট্রাডিশনের উপর বেশি বেশি ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা দরকার। তাহলে মানুষ বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা পাবে।

জন্মগত মুসলিম হওয়ার কারনে, দিনশেষে আমরা বাংলাদেশি হয়ে ঘরে ঢুকি।