শেষ বিকেলের ভাবনা

যে নিজেকে বিশ্বাস করতে পেরেছে সেই জীবনে সফলকাম হয়েছে। আপনি যার ভিতরে আত্নবিশ্বাস তৈরীতে সহায়তা করলেন তাকে জীবনের পথে এগিয়ে দিলেন।

বাংলাদেশে স্কুল কলেজ গুলোতে শিক্ষকরা প্রায়ই ছাত্রদের নিরুতসাহিত করে। আমরা অনেকেই করে থাকি। “তোর দ্বারা কিছু হবে না”, আমাদের কলেজের এক স্যার ছিলেন, আমাদের সহপাঠীদের বলতেন “আমি সাদা কাগজে লিখে দিচ্ছি তুই দ্বিতীয় বিভাগ ছাড়া প্রথম বিভাগ পাবিনা” আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্যার বলতেন “তোমরা বায়োকেমিস্ট্রি পড়ে কি করবা? তার চেয়ে ব্যাংক জবের প্রস্তুতি নাও”
গ্রামে গেলে দেখা যাবে, অনেক ক্ষেত্রে শহরের মধ্যেও কর্মজীবি মানুষ স্যুট কোট পরা মানুষের পাশে বসতে ভয় পায় অথবা বসলে স্যুট কোট পরা মানুষটি নাক সিটকায়। এরকম মানুষের পাশে বসলে কর্মজীবি মানুষেরা পাপ মনে করে। এসব কিছুর মূলতে ব্যক্তি মর্যাদাবোধ ও আত্নসম্মানবোধ অনেক দ্বায়ী। আমরা আমাদের চারপাশের পরিবেশে শ্রেনীবিভেদের একটি দেয়াল তৈরী করে রাখি যা নিজেদের অজান্তে একটি বলয় তৈরী করে ফলে আমরা আমাদের চেয়ে একটু নিচের মানুষ গুলোকে মানুষ হিসেবে অনেক নিচে মনে করি। ফলে উপরের উঠার একটি নীরব অন্যায় লড়াই শুরু হয়, সবাই উপরে উঠতে চায় কারন সবাই চায় অন্যারা তাকে সম্মান করুক। আত্নবিশ্বাস না থাকার ফলে স্কুল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে ও এক ধরনের বিষন্নতা তৈরী হয়। আমাদের মধ্যে এমন এক ধরনের ভাব কাজ করে যে সমাজে কিছু বিষয়ে পড়াশোনা না করলে জীবন ব্যার্থ অথচ যেকোন বিষয়ে পড়ে জীবনে সফল হওয়া সম্ভব। আমরা আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে আত্নবিশ্বাস তৈরী করতে সাহায্য করি না। ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক রোগ তৈরী করে দেই যা তাদের সৃজনশীলতা এবং জীবনী শক্তিকে নষ্ট করে দেয়। ফলে জাতিগতভাবে আমরা আত্নবিশ্বাসী হতে পারি না।

কথা হচ্ছিলো আমার ল্যাবের সুপারভাইজরের সাথে। ইদানিং সুইডেনে ভিক্ষুকের সংখ্যা খুবই বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের সংখ্যা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, ট্রেনে উঠলে মনেহয় দেশের কোন ট্রেনে উঠেছি। কথা প্রসংগে সে বললো রুমানিয়ায় খ্রিষ্টান চার্চ থেকে নাকি কিছু শ্রেনীর লোকের মধ্যে ভিক্ষাবৃদ্ধিতে উতসাহিত করা হয়। ছোট বেলা থেকে তাদের মধ্যে একটি জিনিস ঢুকে দেয়া হয় যে, তোমার দ্বারা কিছু হবে না, সুতরাং তুমি ভিক্ষাকে বেচে নাও। ফলে সামাজিকভাবেই নাকি সেখানে কিছু শ্রেনীর লোক ভিক্ষাকে পেশাকে হিসেবে গ্রহন করে এবং সেখান থেকে চার্চগুলোও উপকৃত হয় পাশাপাশি সমাজে শ্রেনীবিভেদ তৈরী করে শোষন ও ভোগের পথকে সহজ করে নেয়া যায়।

আমাদের বাংলাদেশে শিশুদের ছোট হতে না বললেও বড় হতে যেভাবে উতসাহিত করা উচিত ঠিক তার বিপরীতভাবে করা হয়। ফলে অনেক শিশুই হিনমন্যতায় ভূগে এমনকি পরিক্ষয় ফলে করার দরুন আত্নহত্যার পথ বেচে নেয়, এটি নেয়ার কারন তাদের কানে একটি কথা ঢুকে দেয়া হয় পাশ করলেই জীবন সফল ফেল করলে জীবনের কোন অর্থ নেই।

সুইডেনের বাচ্চাগুলোর মধ্যে এমন কথা কখনও বলা হয় না। বরং এরা যে কোন কাজকে উতসাহিত করে। আমরা যখন মাস্টার্স প্রোগ্রাম শুরু করলাম। একটি জিনিস লক্ষ করলাম এখানে ক্লাশে যারা ফেল করে তারা বেশিরভাগই সুইডিশ। ফেল করার কারন কিন্তু পড়াশোনা না করা না। এরা কোন বিষয়ে ভালোভাবে না বুঝলে লিখতে পারে না তাই ফেল করে। আমরা বাংগালীরা বই পাইলেই হলো বুঝি আর না বুঝি পরিক্ষায় পাশের পদ্ধতি আমাদের মত আর কেউ ভালো বুঝেনা। ফলে আমরা ডিগ্রি পাই সহজেই কিন্তু সেই ডিগ্রিকে সঠিক কাজে ব্যবহার করতে পারি না অনেকেই।
সেদিন একটি লেকচার শুনছিলাম সেখানে বলা হলো কোন এক বিখ্যাত কোম্পানিতে বড় পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম শর্ত হলো প্রার্থীকে জীবনের কোন না কোন পরীক্ষায় ফেল থাকতে হবে। কারন যারা ফেল করে আবার ব্যাক করতে পারে তাদের মধ্যে মোটিভেশন থাকে। তারা পরিবেশকে ম্যানেজ করতে পারে ভালোভাবেই।

আসুন আমরা আমাদের ছোটদের উতসাহিত করি আত্নবিশ্বাসী মানুষ নিয়ে একটি সূখী সমাজ বিনির্মান করি।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s