অভিজিতের মৃত্যু এবং আমার অনুভূতি

“মুক্তমনা” মন হবে উন্মুক্ত, মন হবে খোলা। যে মনে কারো প্রতি বিদ্বেষ থাকবেনা, যে মন শুধু ভালোবাসতে জানে। কিন্তু একি?? ভিতরে পঁচা দূর্গন্ধ। মুক্তমনা হলঐ বুঝি শুধু ইসলামকে কটাক্ষ করতে হয়?? দূর্গন্ধ ছড়ালে, পরিবেশকে বিষাক্ত করলে তার ছোবল কিছু কিছু সময় নিজেকে আঘাত করে। কিছু মানুষ অবশ্য এই জিনিসটি করে নিজেদের খ্যাতি কুড়িয়েছে। যেমন কুড়িয়েছে ফেরাউন নমরুদ রা।

বেশ কিছুদিন আগে আমার এক ভাগিনা আমাকে একটি পোষ্ট শেয়ার করে বলে মামা দেখেন আমাদের রাসুল (সাঃ) ও আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে নিয়ে লিখেছে। লিখাগুলো এত্য খারাপ ছিলো যে আমি তাকে বারন করি অন্য কোথাও শেয়ার করতে। বললাম ও লিখেছে লিখুক কোথাও শেয়ার দিওনা তাহলে ওকেই পরোক্ষ প্রমোট করা হলো।

তোমার মন মুক্ত তুমি যা ইচ্ছে লিখতে পারো বাধা নেই তাতে। কিন্তু তুমি যখন কাউকে আঘাত দিচ্ছ তখন মনে করবা তুমি নিজের ও ক্ষতি করছ।

এখন আসল কথায় আসি, ব্লগার রাজিব থেকে শুরু করে আজ অবধি ধর্ম বিদ্বেষী যারা মারা গেছে তাদের মৃত্যুর পেছনে হয় নারী, না হয় রাজনৈড়িক স্বার্থ জড়িত অন্য কিছুই খুজে পাওয়া যায় নি। যখন কোন ইসলাম বিরোধী মারা যায় তখন মিডিয়ায় এমনভাবে ফলাও করে প্রচার করে যে হয়ত দেশের প্রেসিডেন্ট মারা গেছে। আর আমরাও অনেক মুখোশপড়া মানবাধিকার কর্মী আছি যারা সেই সংবাদ টি লুফে নেই নিজেদের মানবাধিকার প্রমান করার জন্য।

স্বভাব সিদ্ধভাবে আমরা আংগুল তুলি ইসলাম পন্থীদের দিকে। আমরা কখনই বলি না যে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক, বিচার হোক হত্যাকারীর। আমরা ন্যায়ের পক্ষে থাকিনা বলেই আমরাও অন্যাএর শিকারে পরিনত হই। কারন অন্যায়কে যখন আমরা প্রমোট করি তখন অন্যায় আমাদের পিছু তাড়া করে ফেরে। আমরা যখন নিছক রাজনৈতিক স্বার্থে অন্যকে অপবাদ দেই তখন আসল অপরাধীরা রাস্তা পেয়ে যায়, আর সেই রাস্তা যখন বড় হয়ে যায় তখন তৃতীয় পক্ষ সব সময় সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে।

মানুষ যখন নীতিগত ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে তখন সে অন্যায় পথ বেচে নেয়, এটি কখনও নেয় রাজনৈতিক স্বার্থে কখনও নেয় ব্যক্তিগত স্বার্থে। অভিজিত রায়ের মৃত্যুতে কোন স্বার্থ জড়িত এটি সময় হলে প্রমান হবে। তবে একথা বলে দিলে অত্যুক্তি হবে না যে, এই হত্যাকান্দের সাথে ধর্মীয় কোন বিষয় জড়িত নয়। ধর্ম মানুষকে মানুষের অন্তরকে পরিষ্কার করতে শিক্ষা দেয়, ধর্ম শিক্ষা দেয় সমাজে ন্যায় কায়েমের।

সেই ন্যায় বিচারের হাত ধরে অভিজিতের খুনিরা শাস্তি পাক এই কামনা করি। পাশাপাশি এটাও বলি অন্যকে গালি দিয়ে, অন্য ধর্মকে অশ্লীল ভাষায় কটাক্ষ করে নিজেকে কিছু সময়ের জন্য প্রগতিবাদী প্রমানের চেষ্টা করা যায়, কিন্তু সমাজে একজন ভালো মানুষ হিসেবে বেচে থাকা যায় না। ভালো মানুষ হওয়া যায় সবাইকে ভালোবেসে, হিংসা আর বিদ্বেষের বীজ বপনে নয়।

আসুন আমরা বাংলাদেশীরা সবাই সবাইকে ভালোবাসি, সবাই সবার ধর্মকে ভালোবাসতে না পারি অন্তত ঘৃণা না করি, কটাক্ষ না করি।

নিচের লিংকে অভিজিতের ব্লগ বিষয়ে একটি পোষ্ট

শেষ বিকেলের ভাবনা

যে নিজেকে বিশ্বাস করতে পেরেছে সেই জীবনে সফলকাম হয়েছে। আপনি যার ভিতরে আত্নবিশ্বাস তৈরীতে সহায়তা করলেন তাকে জীবনের পথে এগিয়ে দিলেন।

বাংলাদেশে স্কুল কলেজ গুলোতে শিক্ষকরা প্রায়ই ছাত্রদের নিরুতসাহিত করে। আমরা অনেকেই করে থাকি। “তোর দ্বারা কিছু হবে না”, আমাদের কলেজের এক স্যার ছিলেন, আমাদের সহপাঠীদের বলতেন “আমি সাদা কাগজে লিখে দিচ্ছি তুই দ্বিতীয় বিভাগ ছাড়া প্রথম বিভাগ পাবিনা” আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক স্যার বলতেন “তোমরা বায়োকেমিস্ট্রি পড়ে কি করবা? তার চেয়ে ব্যাংক জবের প্রস্তুতি নাও”
গ্রামে গেলে দেখা যাবে, অনেক ক্ষেত্রে শহরের মধ্যেও কর্মজীবি মানুষ স্যুট কোট পরা মানুষের পাশে বসতে ভয় পায় অথবা বসলে স্যুট কোট পরা মানুষটি নাক সিটকায়। এরকম মানুষের পাশে বসলে কর্মজীবি মানুষেরা পাপ মনে করে। এসব কিছুর মূলতে ব্যক্তি মর্যাদাবোধ ও আত্নসম্মানবোধ অনেক দ্বায়ী। আমরা আমাদের চারপাশের পরিবেশে শ্রেনীবিভেদের একটি দেয়াল তৈরী করে রাখি যা নিজেদের অজান্তে একটি বলয় তৈরী করে ফলে আমরা আমাদের চেয়ে একটু নিচের মানুষ গুলোকে মানুষ হিসেবে অনেক নিচে মনে করি। ফলে উপরের উঠার একটি নীরব অন্যায় লড়াই শুরু হয়, সবাই উপরে উঠতে চায় কারন সবাই চায় অন্যারা তাকে সম্মান করুক। আত্নবিশ্বাস না থাকার ফলে স্কুল কলেজের ছাত্রদের মধ্যে ও এক ধরনের বিষন্নতা তৈরী হয়। আমাদের মধ্যে এমন এক ধরনের ভাব কাজ করে যে সমাজে কিছু বিষয়ে পড়াশোনা না করলে জীবন ব্যার্থ অথচ যেকোন বিষয়ে পড়ে জীবনে সফল হওয়া সম্ভব। আমরা আমাদের বাচ্চাদের মধ্যে আত্নবিশ্বাস তৈরী করতে সাহায্য করি না। ছোটবেলা থেকে বাচ্চাদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক রোগ তৈরী করে দেই যা তাদের সৃজনশীলতা এবং জীবনী শক্তিকে নষ্ট করে দেয়। ফলে জাতিগতভাবে আমরা আত্নবিশ্বাসী হতে পারি না।

কথা হচ্ছিলো আমার ল্যাবের সুপারভাইজরের সাথে। ইদানিং সুইডেনে ভিক্ষুকের সংখ্যা খুবই বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের সংখ্যা এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে, ট্রেনে উঠলে মনেহয় দেশের কোন ট্রেনে উঠেছি। কথা প্রসংগে সে বললো রুমানিয়ায় খ্রিষ্টান চার্চ থেকে নাকি কিছু শ্রেনীর লোকের মধ্যে ভিক্ষাবৃদ্ধিতে উতসাহিত করা হয়। ছোট বেলা থেকে তাদের মধ্যে একটি জিনিস ঢুকে দেয়া হয় যে, তোমার দ্বারা কিছু হবে না, সুতরাং তুমি ভিক্ষাকে বেচে নাও। ফলে সামাজিকভাবেই নাকি সেখানে কিছু শ্রেনীর লোক ভিক্ষাকে পেশাকে হিসেবে গ্রহন করে এবং সেখান থেকে চার্চগুলোও উপকৃত হয় পাশাপাশি সমাজে শ্রেনীবিভেদ তৈরী করে শোষন ও ভোগের পথকে সহজ করে নেয়া যায়।

আমাদের বাংলাদেশে শিশুদের ছোট হতে না বললেও বড় হতে যেভাবে উতসাহিত করা উচিত ঠিক তার বিপরীতভাবে করা হয়। ফলে অনেক শিশুই হিনমন্যতায় ভূগে এমনকি পরিক্ষয় ফলে করার দরুন আত্নহত্যার পথ বেচে নেয়, এটি নেয়ার কারন তাদের কানে একটি কথা ঢুকে দেয়া হয় পাশ করলেই জীবন সফল ফেল করলে জীবনের কোন অর্থ নেই।

সুইডেনের বাচ্চাগুলোর মধ্যে এমন কথা কখনও বলা হয় না। বরং এরা যে কোন কাজকে উতসাহিত করে। আমরা যখন মাস্টার্স প্রোগ্রাম শুরু করলাম। একটি জিনিস লক্ষ করলাম এখানে ক্লাশে যারা ফেল করে তারা বেশিরভাগই সুইডিশ। ফেল করার কারন কিন্তু পড়াশোনা না করা না। এরা কোন বিষয়ে ভালোভাবে না বুঝলে লিখতে পারে না তাই ফেল করে। আমরা বাংগালীরা বই পাইলেই হলো বুঝি আর না বুঝি পরিক্ষায় পাশের পদ্ধতি আমাদের মত আর কেউ ভালো বুঝেনা। ফলে আমরা ডিগ্রি পাই সহজেই কিন্তু সেই ডিগ্রিকে সঠিক কাজে ব্যবহার করতে পারি না অনেকেই।
সেদিন একটি লেকচার শুনছিলাম সেখানে বলা হলো কোন এক বিখ্যাত কোম্পানিতে বড় পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম শর্ত হলো প্রার্থীকে জীবনের কোন না কোন পরীক্ষায় ফেল থাকতে হবে। কারন যারা ফেল করে আবার ব্যাক করতে পারে তাদের মধ্যে মোটিভেশন থাকে। তারা পরিবেশকে ম্যানেজ করতে পারে ভালোভাবেই।

আসুন আমরা আমাদের ছোটদের উতসাহিত করি আত্নবিশ্বাসী মানুষ নিয়ে একটি সূখী সমাজ বিনির্মান করি।

শেষ রাতের ভাবনা

বল্টুলে তার শিক্ষক প্রশ্ন করছে…
আচ্ছা বল্টু বলতো তুই পড়াশোনা করে কি হতে চাস?
বল্টুঃ স্যার আমি বিয়ে করতে চাই।
শিক্ষকঃ আহা তাতো বুঝলাম, কিন্তু ধর এইযে প্রাইমারী স্কুলে পড়ছিস এভাবে পড়াশোনা করে কি হতে চাস?
বল্টুঃ প্রাইমারী স্কুল শেষ করে হাইস্কুল পড়ব তারপর বিয়ে করবো।
শিক্ষক যতবারই প্রশ্ন করে ততবারই বল্টু বলে যে সে বিয়ে করবে। এরপর শিক্ষক তার বিয়ের ইচ্ছে দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

আমার দুইরুমমেট বাসায় রাতে একসাথে হলে একজন বেশ গল্প জমে উঠে। তো একজন আর একজনকে বলছে যে ভাই আপনি সব কিছুতেই রাজনীতি জড়িয়ে ফেলেন কেন??
তবে শুধু উনি না বাংলাদেশের আমরা সবাই সব কিছুর মধ্যে রাজনীতি জড়িয়ে ফেলি। দুজন ব্যক্তি একসাথে হলেই রাজনীতির তর্ক জুড়িয়ে দেই। সুইডেনে আছি ৭ বছর হতে চললো এখানে লোকজন রাজনীতিতো দুরের কথা কেউ কারো সাথে তেমন কথাই বলেন না। কোথাও যাচ্ছে বই হাতে নিয়ে পড়ে। বাচ্চাদের মুখে কি যেন ঢুকে দেয় বাচ্চারা মুখ বন্ধ করে চুষতে থাকে। এখানকার কুকুর গুলোও চিতকার করে খুব কম। এটাকেই সভ্য জাতি বলে কিনা জানিনা। তাহলে এখানকার কুকুর গুলোকেও সভ্য বলা যায়। সভ্য বলেই হয়ত এরা কুকুরকে সাথে নিয়ে ঘুমায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক বলেন আর ছাত্র বলেন যে যার কাজে ব্যস্ত কোথাও রাজনীতির গন্ধ বলতে নেই। শুধু ভোটের সময় ভোট দিয়ে আসে সবাই। এজন্যই এরা এত উন্নত যে যার কাজ করে যায়, যে যার পজিশনে কিভাবে সর্বোচ্চ স্থানে জায়গা করে নে্য়া যায় সেই চিন্তা করে। গবেষক রা রাতদিন গবেষনা নিয়েই থাকে। এটাই দেশপ্রেম এরা নিজেদের কর্মের মাধ্যমে জাতিসত্ত্বাকে উচু করে তুলে। রাজনীতি নিয়ে সবাই মাথায় ঘামায় না, তবে ভোটের ব্যাপারে এরা খুবই সচেতন। পুলিশের কাজ পুলিশ করে, পিয়নের কাজ পিয়ন করে। একদিন আমার সুপারভাইজর আমাকে বললো যে, সুইডেনে কাউকে ফোর্স দিয়ে কখনো কিছু বলোনা। যে যার মত করে কাজ করবে এটাই এখানকার নিয়ম।

বাংলাদেশের মানুষ এত দেশপ্রেমিক যে সবার রাজনীতি নিয়ে মাথা না ঘামালে ঠিকমত ঘুম হয়না। অবস্থা এমন যে রাজনীতির চিন্তার মধ্যে আমরা দেশপ্রেম খুজেফিরি। কৃষক থেকে শুরু করে সরকারী চাকুরীজীবি সবার মধ্যে রাজনীতি রাজনীতি সবাইকে খেয়ে ফেলেছে। ফলে কেউ ই কারো কাজটি সঠিকভাবে করতে পারে না। একজন পুলিশের কাজ হলো শান্তি শৃংখলা বজায় রাখা তেমনি একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাজ হলো ছাত্রদের উন্নত শিক্ষা দানের ব্যবস্থা করা, গবেষনায় নিজেকে নিবদ্ধ রাখা। কিন্তু রাজনীতি নিয়ে সবার মাথা ঘামানোর ফলে বা সবার রাজনীতির সাথে নিজেদের দ্বায়িত্ববোধটুকুর মিশ্রন ঘটানোর ফলে রাজনীতিই তখন দ্বায়িত্ব নির্ধারন করে দেয়, সবাই তখন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে ফলে সমাজে বিশৃংখলা তৈরী হয়।

রাজনীতিকে যদি আমরা জীবনের দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে দুরে পারি তাহলে সবার মধ্যে দ্বায়িত্ববোধ চলে আসবে। সবার সবার এক ধরনের বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্ক বিরাজ করবে।

আসুন আমরা রাজনীতিকে নিজেদের মানবীয় জীবনের পরিধি থেকে অনেক দুরে ঠেলে দিয়ে সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ন সমাজ বিনির্মান করি। তাহলে কিছু না হোক সবাই শান্তিতে থাকতে পারবে। দেশের কুকুর গুলো হয়ত মানুষকে দেখে কিছু শিখতে পারবে। সুইডেনে আাসার পর এখারকার কাক পাখি দেখে অবাক হয়েছিলাম, এখানকার মানুষগুলো অনেক লম্বা লম্বা কিন্তু শুধু কাক পাখিই ছোট ছোট। চিন্তা করলাম কাক ছোট হওয়ার কারন। কারন খুজতে গিয়ে দেখলাম এসব দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা কম তাই কাক তাদের খাবার জন্য আবর্জনা খুজে পায় না ফলে বৃদ্ধি কম। অপরদিকে বাংলাদেশের কাক যেমন বড় বড় তাদের গলার কর্কশ শব্দ বেশ বিরক্তিকর। শুধুমাত্র কাক পাখি দেখেই একজন সচেতন মানুষ বুঝতে পারবে দেশটি কত নোংরা। আর এমন নোংরা পরিবেশে নোংরা মানুষ গুলো্য় রাজত্ব করতে পারে। নিজেদের ভালো রাখার জন্য রাজত্বের লড়াইয়ের চেয়ে দরকার পরিবেশ ঠিক রাখা। তাহলে নোংরা কলুষিত মানুষগুলো নিজেদের শাসক হতে পারবেনা।

আসুন রাজনীতি নিয়ে নিজেদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করে নিজ নিজ দ্বায়িত্বটুকু ঠিকভাবে পালন করি। তাহলে পাশের মানুষটি তার অধিকার পেয়ে যাবে।

একান্ত ভাবনা

প্রতিরাতে ল্যাব থেকে বাসায় ফেরার সময় ট্রেন থেকে নামলেই একটি উচু সেতু পরে। সেতুর উপর উঠলেই আকাশটা অনেক বড় মনে হয়। তখন নিজেকে অনেক ক্ষুদ্র এক সৃষ্টি মনেহয়। সেতু পার হতে না হতে সামনেই একটি উচু পাহাড় প্রতিদিন এই সেতু আর পাহাড় পার হয়েই ট্রেন ধরা লাগে। পাহাড়ের দিকে তাকালেই মনেহয় কতবড়। মহান রাব্বুল আলামিনের বিশাল দুনিয়ায় আমরা এক একজন মানুষ আসলেই অতিব ক্ষুদ্র সৃষ্টি। এক ঘরের কোনে যখন শুয়ে থাকি ঘরটিকে অনেক বড় মনেহয়। ঘরের ছাদের দিকে তাকালেই মনেহয় আল্লাহর রাব্বুল আলামিন কত বড় জায়গাই নাদিয়েছেন আমাদের জন্য। আমরা আসলেই যে কত ক্ষুদ্র সেটি মনেহয় কবরের কথা মনে পড়লে। আটোসাটো একটি কবর। আমরা আসি আমরা যাই দুনিয়ার সব কিছুই আগের মতই চলে, অথচ একটু ত্যাগ, একটু ভালোবাসা দুনিয়ার অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। অথচ ক্ষুদ্র এই জীবনের জন্য আমরা কত কিছুই না করছি, এই করার মধ্যে যদি অন্যের অধিকারকে স্থান দেই তাহলে সবাই সুখি হতে পারে। নিজের সূখ টুকু শেয়ার করার মাঝে মানুষ নামের স্বার্থকতা। অথচ আমরা ক্ষুদ্র এই জীবনে নামের জন্য কত কিছু ই না করছি ক্ষমতার জন্য দুনিয়ার সব কিছু উলট পালট করে দিচ্ছি। কত গর্ব, কত অহংকার!

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ক্ষুদ্র এক সৃষ্টি হয়ে অহংকার করে বা ই কি? থাকুক না সবাই সবার মত ভালো। প্রতিদিনের লাশগুলোর ছবি দেখে নিজের মানুষ পরিচয়কে একটি মুখোশ বলে মনেহয়। দুনিয়ার অন্য কোন বন্য প্রানীর চেয়ে আমরা কোন অংশে হিংস্রতায় কম না। তাহলে আমাদের এত গর্ব করার ই বা কি?

আল্লাহ রাব্বুলা আলামিন আমাদের মানুষ হিসেবে বেচে থাকার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

ফেইসবুক স্ট্যাটাস

গত রবিবার রাত ৯ টায় হঠাত মোবাইলে মেসেজ আসলো। মেসেজ ওপেন করে দেখি আমার সুপারভাইজার (সুইডিশ প্রফেসর) বাংলায় মেসেজ দিয়েছে “হালিম, আপনার গলদা চিংড়ি”

আমিতো অবাক এ আবার বাংলা পাইলো কই, ওকে জিগ্গেস করলাম যে “এটা কি লিখেছো? তুমি কি বাংলায় লিখেছ্?” সে পরের দিন মেসেজ এর উত্তর দিলো, “হ্যা বাংলায় লিখেছি, ওয়ান্ডারফুল ডিনার” smile emoticon বুঝলাম কোথাও ডিনার খেয়ে মজা পেয়ে আমারে মেসেজ দিয়েছে।

আজকে সুযোগ পেয়ে আমাকে জিগ্গেস করলো যে ঐটা (চিংড়ি) আসলে কি ছিলো। ও নিজৈ বললো যে, এটা কি তোমাদের সাগরে পাওয়া যায়।

এরপর আসল কথা বললো, “ইনডিয়ান রা নাকি সিস্তার দিকে বেশি থাকে ওরা শহরের দিকে কম। জিগ্গেস করলো, স্টকহো্লমের সব ইনডিয়ান রেস্টুরেন্টের শেফ নাকি বাংলাদেশি?? এরপর বললো ইনডিয়ান রা সনি এরিকশনে জব করে, আর বাংলাদেশিরা ইনডিয়ান রেষ্টুরেন্টের শেফগিরি করে।”
কথাগুলো খারাপ লাগলেও এর বাস্তবতা আছে। আমাদের বাংগালীদের ধৈর্য ও সহনশীলতা কম। আমরা কোন কাজে একটু শ্রম দেখলে চারদিকে তাকিয়ে ভাবি দুরের ঐ কাজ টা হয়ত সহজ, ঐটাতে হয়ত টাকা বেশি। অপেক্ষা করতে পারি খুব কমই। আমাদের সাথে বেশ কিছু ইনডিয়ান স্টুডেন্ট পড়ত। এর মধ্যে একজন ছিলো পড়াশোনায় দূর্বল। কোন রকমে মাস্টার্স শেষ করে পিএইচডির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে। এরই মধ্যে একদিন তার সাথে স্টকহোল্মে দেখা, তাকে জিগ্গেস করলে বললো সে সুইজারল্যান্ড যাবে। বললাম ঐখানে কি কাজ? বলে যে প্রফেসরের সাথে কথা বলতে যাবো, জিগ্গেস করলাম তোমাকে কি ডাকছে নাকি? বললো যে, না ডাকেনি কিন্তু আমি সরাসরি গিয়ে কথা বলবো? ব্যাটার সাহস আছে বটে, ভরসা একটা তার বন্ধু পিএইচডি করে ওর সাহায্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে সরাসরি প্রফেসরকে বলবে।
আমি নিজেও খুব যে ভালো ছিলাম তা নয়, পিএইচডি জন্য লিখালেখি করে একটু হতাশ হয়ে মাস্টার্স থেসিস সুপারভাইজর কে মেইল করতাম, সে বরাবরই একটি কথা বলতো “লেগে থাকো, ছেড়ে দিওনা হয়ে যাবে”

আমরা এখানেই দূর্বল। আমরা সারাদিন দেশের চিন্তা, রাজনীতির চিন্তা আর পরিবারে টাকা পাঠানোর চিন্তায় নিজের ক্যারিয়ারের চিন্তা ভূলে যাই। শেষমেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো রেজাল্টধারী ছাত্রদের জায়গা হয় কোন রেস্টুরেন্ট কিংবা কোন শারীরিক শ্রমের জায়গায়। ফলে আমরা টাকা পাঠাতে পারছি ঠিকই কিন্তু আমাদের পরিচয়ের উন্নতি হচ্ছেনা। আবার ইন্ডিয়ান ছাত্ররা সরকার থেকে শিক্ষালোন নিতে পারে যা দিয়ে তারা নিশ্চিন্তে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে যেটি আমাদের জন্য দুরাশা। দেশের যা কিছু তা তো রাজনীতিবিদদের জন্য যারা পড়াশোনা করতে চায় তাদের জন্য অস্ত্র-চাপাতি দিতে পেরে রাজনীতিবিদ দেশপ্রেমিক (?) সরকার প্রধান রা এমনভাবে কথা বলে যে যেন তাদের বাপের টাকা পয়সা দান করছে।

দেশে যদি এমন শিক্ষালোন নেয়ার ব্যবস্থা থাকতো, যদি কোন বেসরকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসতো উচ্চশিক্ষার জন্য লোনের সুবিধা নিয়ে তাহলে দেশের অনেক মেধাবী দেশকে মেধা দিয়ে সার্ভ করতে পারতো।

ভাষার জন্য কাঁদি

ভাষার জন্য কাঁদি মোরা, ভাষার জন্য কাঁদি
কথার মাঝে ইংরেজী বলে বিদ্যা জাহির করি।
বাংলার সাথে মিশালে ইংলিশ টেষ্ট ভালো লাগে
কথার মাঝে দু-একটা ইংলিশে স্মার্ট সবাই বলে।
বাইরে মোদের ভাষাপ্রীতি অন্তরে পরকিয়া
ভাষার উন্নতি হবে কেমনে এমন প্রেমিক দিয়া।

হরতালে কি হয়??

হরতালে কি হয়?

জনতার জয় হয়
আসলেই কি তাই হয়?
শুধু শুধু ভয় হয়।
হরতালে কি হয়??
টিভি শো হয়
বক্তৃতা, বিবৃতি হয়
আসলেই কি জয় হয়??
শুধু শুধু ভয় হয়।
হরতালে কি হয়???
মানুষে মানুষে মিছিল হয়
গোলাগুলি আর বোমাবাজি হয়
আসলে জয়টা কার হয়??
শুধু শুধু ভয় হয়।
হরতালে কি হয়????
কিছু প্রান ঝড়ে যায়
কিছু মানুষ জেলে যায়
আসলেই কি জয় হয়??
শুধু শুধু ভয় হয়।
হরতালে কি হয়?????
সরকারে কি ভয় পায়?
সে ভয়ে কি জনতা জয় পায়?
সে জয় কি জনতার হয়?
ক্ষমতায় জয় হয়,
মানবতার পরাজয় হয়।

ক্ষমতায় কি হয়?
পিলখানা ট্রাজেডি হয়
ফেলানী ঝুলে পাখি হয়
আসলেই কি জনতার জয় হয়?
শুধু শুধু ভয় হয়।
ক্ষমতায় কি হয়??
পদ্মা সেতু খাওয়া হয়
শেয়ারবাজার খালি হয়
লক্ষ জনতা ফকির হয়
আসলেই কি জনতার জয় হয়?
শুধু শুধু ভয় হয়।
ক্ষমতায় আসলে কি হয়?
সাগর-রুনিরা খুন হয়
ইলিয়াস আলি গুম হয়
জনতার কি জয় হয়?
শুধু শুধু ভয় হয়।
ক্ষমতায় আসলে কি হয়?
মানুষে মানুষে দ্বন্দ হয়
ভালোবাসার ক্ষয় হয়
ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হয়
শিক্ষাংগন কলুষিত হয়
জনতার কি জয় হয়?
শুধু শুধু ভয় হয়।
ক্ষমতায় আসলে কি হয়???
টোকাইরা শাসক হয়
সমাজটা আবর্জনায় ভরে যায়
জনতার কি হয়?
শুধু শুধু ভয় হয়।
ক্ষমতায় তাহলে কি হয়???
প্রজারা কি রাজা হয়?
দারিদ্র কি দুরীভূত হয়?
দ্বন্দ্ব কি মিটে যায়?
ভালোবাসা-সম্প্রীতি কি বৃদ্ধি পায়?
জনতার কি জয় হয়?
শুধু শুধু প্রান যায়।

জনতার ভোটে জনতা মারিছে জনতায়
জনতার রক্তা পান করিয়া
রক্ত চোষা রাক্ষস রা যায় ক্ষমতায়।

রাতের ভাবনাঃ বাংলাদেশ রাজনীতি

যুবক হঠাত উঠে দাড়ায়
মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে বোতল বন্ধী পেট্রল
চোখে মুখে এক আদিম ক্ষুধা
আদিম ক্ষুধায় পেয়ে বসেছে তাকে
ছুটছে ছুটছে সামনেই শিকার
শিকার তাকে ধরতেই হবে
সামনেই যাত্রী বোঝাই গাড়ী
মুহুর্তেই পোড়ামাংসের গন্ধ,
ছোপ ছোপ রক্তের দাগ,
চারিদিকে ভয়ার্ত আর্তনাদ
দুরে কোথাও শয়তানের অট্টহাসি

জীবন তাড়নায় কষ্ট-ক্লেশে ক্লান্ত যুবক
মধ্যরাতে বাড়ি ফেরা, বিছানায় ক্লান্ত শরীর
হঠাত বাড়ির বাইরে বুটের আওয়াজ
দরজায় কারা যেন কড়া নারে
বাবা-মায়ের আহাজারি
যুবককে ধরে নিয়ে কারা যেন
দুরে হঠাত গুলির শব্দ
নীরবতা-ভয়াল রাত্রীর আধার হয় পার
সকালে মর্গে নিথর দেহ

সংগ্রামরত মধ্যবিত্তের পরাজয় হয় রাতের ভয়ংকর অন্ধকারের কাছে। সংগ্রামরত মানুষের পরাজয় হয় পেট্রলবোমা নামক আতংকের কাছে। জয়ীই কেউই হতে পারে না, হয়ও না। জয় হয় শয়তানের, পরাজয় হয় মানবতার, পরাজয় হয় মনুষ্যত্বের।

সুশীলরা সুশীল থাকতে থাকতে পারেনি, কারন তারা সব সয় ন্যায়ের পক্ষে থাকতে পারে নি। শুধুমাত্রের মতবাদের বিরোধীতার কারনে ন্যায়ের পক্ষে না থাকার ফলে জয় হয় শয়তানের। কালোয় ছেয়ে যায় ভালো, আলো হয়ে যায় নিস্প্রভ। নিরপেক্ষ বলে যখন আপনি পার পেতে যান, যখন পানি সত্যকে প্রকাশ করেন না, তখন সেটি পরোক্ষভাবে অন্ধকারকে সমর্থন দেয়। আর সেটি এক সময় সবাইকে গ্রাস করে। আজ অন্ধকার প্রকট, বাংলাদেশ যেন একটি বিশাল জংগল, হিংস্র প্রানীর মত সবাই ছুটছে, কে কার রক্ত পান করবে। আমরা বসে বসে হাত তালি দেই কার কতটা লাশ পড়লো তা গুনে গুনে, অদ্ভূত এক আদিম সূখ অনুভব করি। সমর্থন যোগাই পক্ষের শক্তিকে।

মাঝে মাঝে তাই মনেহয়, সময় এগিয়েছে, কিন্তু আদিমতা, উদ্দামতা কমেনি কোন অংশে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, আমাদের মানুষ হওয়ার যোগ্যতা দিন!

শিরোনামহীন দেশপ্রেম

এমন দেশটি কোথায় আছে
বলবে নাকি তুমি?
রাস্তায় নামলে
পুরুষের চেয়ে বেশি নারী
মানুষের চেয়ে বাড়ী,
রাস্তায় নামে সাইকেল নিয়ে
ঘরে রেখে গাড়ী।
এমন দেশ গেলে নাকি জমবে
টাকা কাড়িকাড়ি
সেই টাকায় হবে নাকি
ঢাকায় একখান বাড়ি।
এমন দেশেতে গেলে পরে
কেমন করে ছাড়ি
নাড়ী পোতা দেশ ছেড়ে
কেমন করে থাকি?? 😉 🙂

শিরোনামহীন

রাজায় রাজায় চলছে লড়াই
প্রজারা করে বড়াই
প্রজাতে পূর্ণ হয়
রাজার কড়াই।
জীবন থাকিতে কভু
করো নাকো বড়াই
রাজার লড়াইয়ে
বৃথা হবে শুধু মরাই।
মরতে চাইলে মরো
স্রষ্টার তরে
তোমার মৃত্যুতে যেন
জান্নাত মেলে…………………………….
…………………………….
নতুনেরা শপথ নিবে সূর্য রাংগা ভোরে।