বিজয় মাসের ভাবনা

প্রেম ভালোবাসা যত বেশিনা বাহ্যিক তার চেয়ে বেশি আত্নিক। ভালোবাসা একটি অনুভূতি, একটি অনুভবের বিষয় যে অনুভূতি মানুষকে সর্বদা জাগ্রত রাখে ভালোবাসার জিনিসটির প্রতি ভালোবাসার ক্ষেত্রতির প্রতি তার দ্বায়িত্বানুভূতিতে। বাংলাদেশে ঈদের জামায়াতে, কিংবা শুক্রবারের নামাজে যেমন মুসলমানের সংখ্যা দেখে অভিভূত হতে হয় ঠিক তেমনি ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ সে মার্চে দেশপ্রেমিক মানুষের সংখ্যা দেখে অভিভূত হতে হয়। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ভালোবাসর যে পরিবেশ তৈরী হয়, তা দেখে আগ্রাসী শক্তির বুকে হয়ত কাপন ধরে যায় সে দিনটির জন্য।
দেশকে ভালোবাসার প্রতিকীস্বরূপ পতাকাকে সন্মান করতে শেখানো একটি জাতিগত ট্রাডিশনের পরিনত হয়েছে। দেশের প্রায় বেশিরভাগ স্কুল কলেজ গুলোতে জাতীয় পতাকাকে সন্মান দেখানো, স্যালুট জানানো একটি নিত্য দিনের দ্বায়িত্ব। অথচ পশ্চিমাদেশগুলোতে স্কুল কিংবা কলেজে পতাকাকে প্রতিদিন স্যালুট দেয়া হয়ত শেখানো হয় না। তবে এখানে সবার মনের মধ্যে দেশেপ্রেমের পরিবেশ তৈরী করে দেয়া হয়, যেটি হয়ত বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু অনুভব করা যায়।
জার্মানী জাতির কোন সদস্যের সংস্পর্শে আসলে অনেকেই বুঝে যায় এরা কতবড় জাতিপ্রেমিক, প্রয়োজন না হলে এরা ইংলিশে কথা বলেনা, ঠিক তেমনি অনেক সুইডিশ আছে প্রয়োজন ছাড়া ইংলিশ বলে না, অথচ এরা যে ইংলিশ এ অনেক পারদর্শী সেটা কথা বলা শুরু করলে বুঝা যায়।
অপর পক্ষে আমরা বাংলাদেশিরা দেশপ্রেমের যে আবেগ নিয়ে চলি, তার সিকিআনা পরিমানও আমাদের কাজে প্রকাশ পায় না। আমরা বাংলাভাষায় কথা না বলতেই পারলেই নিজেদের স্মার্ট ভাবি।
বেশকিছুদিন আগে এক সুইডিশ বাংগালীর সাথে কথা হচ্ছিলো, কথায় কথায় তিনি বললেন, তার লাল পাসপোর্ট আছে (যারা সুইডিশ তাদের পাসপোর্ট লাল হয়), তিনি আরো বললেন তিনি সুইডিশ। আমি একটু ফান করার জন্য বললাম যে আপনিতো বাংলাদেশি, উনি তখন জোড় দিয়ে বললেন যে না, আমার লাল পাসপোর্ট আছে, আমি সুইডিশ। এটি হলো আমাদের দেশপ্রেমের একটি উদাহরন। আমরা সর্বদা চেষ্টা করি কিভাবে বাংলাদেশি পরিচয় লুকিয়ে বেচে থাকা যায়। হয়ত সবাই করে না তবে বেশির ভাগে যে করা সেটি নিজেদের অন্তরকে প্রশ্ন করলেই বুঝা যাবে। অথচ এইরকম দেশপ্রেম নিয়ে আমরা অনেক গর্বিত, নিজেদের অনন্যা জাতি ভেবে স্বপ্ন দেশি, আহা আমরা কতই না গর্বিত জাতি।
দেশপ্রেমের শিক্ষা নেই আমরা অপরকে ঘৃণা করার মধ্য দিয়ে, যদি অন্যকে ঘৃণা না করতে না পারি তাহলে যেন আমাদের দেশপ্রেমের কোন প্রকাশই ঘটেনা। যে জাতি যত নিচু তাদের মধ্যে শ্রেনীগত দ্বন্দ তৈরী হয় ফলস্শুতিতে তারা একে অপরকে এক ভাই আর ভাইকে এক বন্ধু আর এক বন্ধুকে ঘৃণা করে দেশপ্রেমের প্রকাশ ঘটায়।
স্বাধীনতার ৪৩ বছর পরেও বাংলাদেশের তরুন প্রজন্মের মন মানসিকতার উল্লেখযোগ্য কোন উন্নতি পরিলক্ষিত হয় নি। দূর্নীতিগ্রস্থ রাজনীতির চর্চা আমাদের তরুন সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রকে আরো বিস্তৃত করছে। জাতি এগিয়ে যাচ্ছে পেছনের দিকে।

বিজয়ের এই মাসে যারা তরুন বাংলাদেশি, যারা জাতির ভবিষ্যত, তারা সবাই বিভেদ ভূলে গিয়ে, সম্মিলিতভাবে জাতিগত পরিচয়কে কিভাবে সমুন্নত করা যায় সেই চেষ্টাই করুক, জাতিগত প্রশ্নে সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করুক, সবাই নিজেদের আদর্শের চেয়ে নিজ দেশের স্বার্থ এবং জাতিগত পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেয়ার শপথ নিক, এটাই হোক বিজয় দিবসের কামনা, এটাই হোক বিজয় মাসের প্রেরনা। এই প্রেরনা বেচে থাক যুগ যুগ সবার মাঝে। আমরা আবার বাংগালী থেকে মানুষ হই, সেই কামনা করি।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ!! দেশপ্রেমিক জনতা জিন্দাবাদ!

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s