আজকের রাজনীতি ভাবনা

যে কারনে আওয়ামীলীগ মরিয়াঃ
১) বিএনপি-জামায়াত নিরংকুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবেনা ফলে সংবিধান পরিবর্তন করে আওয়ামীলীগের নেতাদের বিচার করতে পারবেনা। কারন আওয়ামীলীগ ক্ষমতা থেকে যাওয়ার আগে আর একবার সংবিধান সংশোধন করবে।

২) যদি কোন ক্রমে বিএনপি-জামায়াত জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যায় এবং আওয়ামীলীগের নেতাদের বিচার করতে উদ্যগী হয় তাহলে আওয়ামীলীগ দেশে চরম বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে, দেশের জনগনকে জিম্মি করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষন করবে ভারতের লবিংয়ের মাধ্যমে যা বিএনপি-জামায়াত জোট এখন করতে পারছেনা।

৩) দেশের অর্থনীতিকে ভংগুর করে রেখে বৈদেশিক নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাবে ফলে দাতাদের অসন্তুষ্টি করে ভবিষ্যত বিএনপি-জামায়াত জোট আওয়ামীলীগের কিছুই করতে পারবে না।

৪) আওয়ামীলীগের কাছে ভায়োলেন্স ছাড়া রাজনীতি নেই, আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে ভায়োলেন্স করে আর ক্ষমতায় এসে ও ভায়োলেন্স করা, অনেকটা মার মার কাট কাট টাইপের, আওয়ামীলীগের বেশিরভাগ নেতা-কর্মী এই রকম স্বভাবের। ফলে আওয়ামীলীগ ভালো করেই জানে যে বিএনপি-জামায়াত কোনদিনঐ দেশের মানুষকে জিম্মি করবেনা আর যেহেতু ঐপথে হাটবে না সেহেতু আওয়ামীলীগের বিচার করার কেউ নেই।

৫) আওয়ামীলীগ ভেবে দেখেছে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে লড়াই করার চেয়ে ক্ষমতায় থেকে লড়াই করা অনেক বেশি ফলপ্রসু আর তাই ক্ষমতায় থেকেই বিরোধীদলকে নাস্তানাবুদ করছে।

বাংলাদেশের মানুষ হলো শক্তের ভক্ত নরমের জম। বাংলাদেশের রাজনীতি করতে হলে কিছুটা মার-মার কাট কাট টাইপের না হলে মাইরা খাওয়া লাগে যেমনটা হচ্ছে বিরোধী দলের ক্ষেত্তে।

তাহলে করনীয় কি?

পড়ন্তু বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে, মিডলক্লাশ সমাজের মত উদারপন্থি ইসলামী বা উদারপন্থী মিশ্রিত দল ছাড়া সুফল বয়ে আনা সম্ভব নয়। এটি সম্ভব নয় অনেক কারন আছে। বাংলাদেশের মানুষের ইসলামী নলেজ, বাংলাদেশের সমাজেন বিদ্যমান নানা রকম প্রথার কারনে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নামাজ-কালাম পড়াকেই ইসলাম বলে জানে, এই বুঝার পরিবর্তন না এনে ইসলামী হুকুমাত কায়েমের রাজনীতি করলে জয়ী হতে আরো অনেক সময় লাগবে। অতি সংক্ষেপে বললে বলতে হয়, বাংলাদেশে দরকার উদারপন্থী একটি রাজনৈতিক দল।

অনেকে বলবে, জামায়াতের গ্রহন যোগ্যতা বেড়েছে না বাড়লে উপজেলা নির্বাচনে এত আসন কিভাবে পেলো। কথা ঠিক আছে, তবে এই জয় শুধুমাত্র ঘোষনা পর্যন্তই থাকবে জয়ের সুফল ঘরে আনতে বা সেটাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা অর্জন করার চিন্তা কেবল অধরাই থাকবে। যখনই ইসলামী দল ক্ষমতার কাছাকাছি যাবে তখনই তাদের জন্য চরম বিরোধীতা শুরু হবে দেশ বিদেশী চক্রান্তে।

তাহলে কি বাংলাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম সম্ভব নয়?

সম্ভব অবশ্যই তবে তার জন্য তৃণমূল পর্যায়ে অনেক কাজ করা দরকার, সমাজের বিভিন্ন কাজে সক্রিয় অংশগ্রন বাড়ানোর মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত মানুষের কাছে পৌছানো, ইসলামের সঠিক বুঝ আগে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে, তা না হলে আন্দোলনের বিজয় হয়ত আধরাই থাকবে।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s