শিরোনামহীন ভাবনা

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিমদের কিছু শিক্ষা দিচ্ছেন বর্তমান সব ঘটনার মধ্যদিয়ে।
১) মুসলিমরা নৈতিকভাবে অনেক বিচ্যুত। আল্লাহর সাহয্য সন্তুষ্টির চেয়ে পার্থিব শক্তি ও প্রতিপত্তিকে সফলতা বেশি প্রাধান্য দান। তাই আল্লার পক্ষ থেকে যে বিজয় সেটি পেতে বিলম্ব। তাই যতদিন না নৈতিকতায় খাটি একটি দল হচ্ছে ততদিন এভাবে নির্যাতন সহ্য করতে হবে। আর তাই রাজপথের রাজনীতির চেয়ে সংকটউত্তর কালে নৈতিকতা ও তাক্বওয়া পূর্ণ কর্মী তথা মুসলিম তৈরীর কাজে বেশি মনোযোগ দেয়া উচিত।

২) মুসলিমদের ভ্রাতৃত্ববোধভূলে গিয়ে ব্যক্তি ও পার্থিব স্বার্থের কারনে নিজেদের মধ্যে অনৈক্যর সৃষ্টি। মুসলিম দলগুলো মনে করে একাই বিজয় ছিনিয়ে এনে নিজেদের কৃতিত্ব দাবী করবে যে তারাই সবচেয়ে খাটি মুসলিম। কিন্তু সব খাটি ও ভেজাল থাকায় কারো একার পক্ষে সফলতা আসছেনা। সুতরাং বিজয়ের জন্য সব মুসলিমদের ঐক্য ইসলামের শিক্ষার দাবী।

৩) মানুষ ইসলামের পার্থিব বিজয়কে নিজেদের বিজয় হিসেবে চিন্তা করছে, যেটি হয়ত আল্লাহর কাছে পছন্দনীয় না। কারন মানুষ ইসলামের পার্থিব বিজয়কে প্রাধাণ্য দিতে গিয়ে, নৈতিকতা ও তাক্বওয়ার পূর্ণ মুসলিমের মান বজায় রাখতে পারছেনা। ফলে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য হতে মানুষ যেমন বঞ্চিত হচ্ছে অপরদিকে সাধারন মানুষ ও অন্যধর্মের মানুষ ইসলাম সম্বন্ধে ভূল বার্তা পাচ্ছে। এভাবে আমাদের নিজেদের কারনে মানুষের মধ্যে ইসলাম পালনে অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে।

ইসলামের প্রাথমিক কালে, যদিও মুসলিমদের উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে কিন্তু শুধু মাত্র হয়েছে একমাত্র আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মেনে নেয়ার কারনে। কিন্তু সেই সময়ের সাহাবীদের উপরে নৈতিকতার প্রশ্ন তুলতে কেউ ই সাহস করতে পারেনি। মক্কার মুশরিক রা চরম শত্রুকেই চরিত্র ও নৈতিকতার দিক থেকে উত্তম বলে স্বীকৃতি দিতে কখনই কার্পন্য করেনি। কারন তখন তাক্বওয়ার প্রশিক্ষন হত অনেক বেশি। ইসলামের বিজয় তাদের মূল লক্ষ্য ছিলোনা, তাদের লক্ষ্য ছিলো আল্লাহ কোন কাজে অসন্তুষ্ট হলো কিনা, সর্বদা এই ভয় তাদের ব্যস্ত রাখতো। আর এই কারনে সেই সময়ে চরম শাস্তির কথা জানার পরেও অপরাধ করে নিজেরা স্বীকার করে নিজেদের কে শাস্তির জন্য সপে দিতো যাতে করে কিয়ামতের দিন কোন শাস্তি পেতে না হয়। লোক লজ্জা কিংবা পার্থিব সন্মান কারোর ই আকাংখা ছিলোনা।

বর্তমান বিভেদপূর্ণ সমাজে আমরা ঈমান ও তাক্বুোয়ার সাথে আপোষ করে নিয়ে মাঠে নেমেছি ইসলাম কে বিজয় করতে। কিন্তু যখন আমাদের নিজেদের মধ্যে ঈমান ও তাক্বওয়ার কমতি লক্ষনী্য তখন দ্বীন ইসলাম কায়েমের জন্য লড়াই করতে গিয়ে আমরা অনেক অন্যায় করে ফেলি, যা সাধারন মানুষ এবং যারা ইসলাম বিষয়ে অজ্ঞ তাদেরকেই ইসলাম নিয়ে সন্দিহান করে তোলে। যার দায় দায়িত্ব হয়ত আমাদের বহন করতে হবে। প্রতিযোগিতাপূর্ণ সমাজে আমরা নিজেরা কিছু করার আবেগ নিয়ে নেমে পড়েছি দ্বীন কায়েমের জন্য। আমরা ছুটছি আবেগ নিয়ে, কিন্তু কথা হলো যখন আবেগ বেশি কাজ করে তখন বিবেক লোপ পায়। আর আল্লাহ কখনই চান না যে কেউ বিবেকলুপ্ত হয়ে দ্বীনের কাজ করুন। আর তাই দেখা যায়, যুদ্ধের ময়দানে লড়াই করে মৃত্যে যন্ত্রনায় অসহ্য হয়ে ভূল করে, তখন সে জাহান্নামী হয়ে যায়। আল্লাহ এমন ই সব ঈমানদারদের জন্য জান্নাত তৈরী করেছেন যারা মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে মহান আল্লাহর আইনের বিরোধী কিছু করে না। আমরা হয়ত একটু তুলনা করলে দেখব আমাদের স্থান কোথায়।

আমরা অনেক ছোট মানুষ, না কোন নেতা, না বড় পদে আসীন কোন ব্যক্তি। হয়তা আমাদের কথায় কোন পরিবর্তন আসবেনা। কিন্তু একা ব্যক্তিমানুষের উপলব্ধিগুলো যখন সামাজিক উপলব্ধিতে পরিনত হবে তখন ই পরিবর্তন আসবে। আর ব্যক্তিমানুষের উপলব্ধিবোধ অপর ব্যক্তি মানুষের মানবিক সত্তাকে জাগিয়ে তোলে। একজন সৎ ও দৃঢ়চেতা মানুষ সমাজের জন্য হতে পারে অনুকরনীয়। আসুন না আমরা সবাই নিজেদের মানবিকবোধ কে জাগিয়ে তুলি। নিজেদের রাঙ্গিয়ে তুলি ইসলামী রং এ।

যারা ফেইসবুকে জীবনের সবকিছু শেয়ার করছেন তাদের জন্য

মানুষের জীবনে যা কিছু ঘটছে তার ছবি তুলে সাথে সাথে ফেইসবুকে আপলোড করছি। এসব কারনে মানুষ নানা ধরনের কষ্ট-দুঃখের মধ্যে নিপতিত হচ্ছে। এসব করে শয়তানের দৃষ্টিকে নিজেদের প্রতি আহ্বান করা হচ্ছে।

ইসলামে বন্ধু নির্বাচন সম্পর্কিত কুরআনের আয়াত

“হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।” সূরা আল-হুজুরাতঃ১৩

“শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।” সূরা আশ-শামসঃ৭-১০

“জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের সাথে পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দূর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।” সূরা আল-ফুরকানঃ ২৬-২৯

“বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়।” সূরা আয-যুখরুফঃ ৬৭

“হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের চিন্তা কর। তোমরা যখন সৎপথে রয়েছ, তখন কেউ পথভ্রান্ত হলে তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে বলে দেবেন, যা কিছু তোমরা করতে।” সূরা আল-মা´ইদাঃ১০৫

“যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে।” সূরা আল-মুজাদিলাঃ ২২

“আর পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে। আর আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু নাই। অতএব কোথাও সাহায্য পাবে না।” সূরা হূদঃ ১১৩

“আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তায়ালা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।” সূরা আত-তওবাঃ ৭১

“হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।” সূরা আল-মা´ইদাঃ ৫১

“তারা কি জাহেলিয়াত আমলের ফয়সালা কামনা করে? আল্লাহ অপেক্ষা বিশ্বাসীদের জন্যে উত্তম ফয়সালাকারী কে?” সূরা আল-মা´ইদাঃ ৫০

“আর কোরআনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতি এই হুকুম জারি করে দিয়েছেন যে, যখন আল্লাহ তায়ালার আয়াতসমূহের প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন ও বিদ্রুপ হতে শুনবে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসবে না, যতক্ষণ না তারা প্রসঙ্গান্তরে চলে যায়। তা না হলে তোমরাও তাদেরই মত হয়ে যাবে। আল্লাহ দোযখের মাঝে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন।” সূরা আন-নিসাঃ১৪০

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোন ক্রটি করে না-তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও। দেখ! তোমরাই তাদের ভালবাস, কিন্তু তারা তোমাদের প্রতি মোটেও সদভাব পোষণ করে না। আর তোমরা সমস্ত কিতাবেই বিশ্বাস কর। অথচ তারা যখন তোমাদের সাথে এসে মিশে, বলে, আমরা ঈমান এনেছি। পক্ষান্তরে তারা যখন পৃথক হয়ে যায়, তখন তোমাদের উপর রোষবশতঃ আঙ্গুল কামড়াতে থাকে। বলুন, তোমরা আক্রোশে মরতে থাক। আর আল্লাহ মনের কথা ভালই জানেন। তোমাদের যদি কোন মঙ্গল হয়; তাহলে তাদের খারাপ লাগে। আর তোমাদের যদি অমঙ্গল হয় তাহলে আনন্দিত হয় আর তাতে যদি তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে তাদের প্রতারণায় তোমাদের কোনই ক্ষতি হবে না। নিশ্চয়ই তারা যা কিছু করে সে সমস্তই আল্লাহর আয়ত্তে রয়েছে।” সূরা আল-ইমরানঃ১১৮-১২০

“মুমিনরা তো পরস্পর ভাই-ভাই। অতএব, তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মীমাংসা করবে এবং আল্লাহকে ভয় করবে-যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।” সূরা আল-হুজুরাতঃ১০

“টু বি অ্যা মুসলিম- ফাতি ইয়াকান” প্রথম ভাগ

১.১ ধর্মবিশ্বাস (আক্বীদা)

যে মানুষ ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহন করেছে তার জন্য প্রথম কাজ হলো জ্ঞানের কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষা এবং উপাদানকে বুঝা এবং গ্রহন করা যা শুধুমাত্র ওহীর মাধ্যমে পাওয়া যায়। সেসব জ্ঞানকে বলা হয় ধর্মবিশ্বাস বা আক্বীদা। সকল নবীদের (আঃ) দ্বারাই সঠিক আক্বীদার প্রকাশ ঘটেছে এবং আরো সঠিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে কুরআন এবং রাসুল (সাঃ) এর সুন্নতে। মানুষ আক্বীদা শিক্ষালাভ করে পূর্ববর্তী মুসলিম এবং বিখ্যাত আলেমদের কাছ হতে যারা ইসলামের উপর তাদের ভক্তি এবং সঠিক জ্ঞানের প্রদর্শন করেছিলেন।

মুসলিমদের আক্বীদাকে নিচের পাচটি বিশ্বাসে বিভক্ত করা যায়; আল্লাহতে বিশ্বাস; শেষ বিচারের দিন; ফেরেশতাদের মাধ্যমে ওহীর নাজীল হওয়া; কুরআন এবং রাসূল (সাঃ); যাকাত; এবং সালাত, যা সূরা বাক্বারার ১৭৭ আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে

“”সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।” সূরা বাক্বারাঃ ১৭৭

১.১.১. আল্লাহ

১) এই বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান, এবং যার কোন সাহায্যের দরকার নেই। এটি অবশ্য এই বিশ্বের সৌন্দর্য্য ও জটিলতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বিশ্বের সকল অংশের অস্তিত্বের জন্য একে অপরের সাহায্য লাগে। একক কোন কিছুই বাচতে পারে না অন্যদের ছাড়া।

সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য পরিকল্পনা এবং লালন পালন ছাড়া এরকম সৌন্দর্য্যেময় একটি পৃথিবীর অস্তিত্ব সম্ভব নয়।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেছেনঃ

“যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।” সূরা আল-আম্বিয়াঃ ২২

২) আল্লাহ উদ্দেশ্য নিয়ে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, এবং এবং সকল কিছুর জন্য স্বর্গীয় উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে । আল্লাহ স্বয়ং সম্পূর্ণের গুণে গুণান্বিত, সুতরানহ তিনি যা কিছু করেন সবকিছুর উদ্দেশ্য ও সংলগ্নতা আছে। আল্লাহর নবী (আঃ) , রাসূল (সাঃ) এবং তার নিজের কথার মাধ্যমে কেবল এই পৃথিবী সৃষ্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানা যায়।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।” সূরা আল-মুমিনুনঃ ১১৫-১১৬

৩) ইহজগতের জীবনের উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহকে জানা, তার উপাসনা করা, তার ইবাদত করা।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে। আল্লাহ তায়ালাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।” সূরা আয্-যারিয়াতঃ ৫৬-৫৮

৪) আল্লাহর গুন সীমাহীন। কুরআনে ৯৯ টি গুনের উল্লেখ করা হয়েছে এবং অনেক আয়াতেই সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তার সম্পূর্ণতার কথা বলা হয়েছে। এসব গুনাবলীর মধ্যে আল-কাইয়্যুম, আল-মুক্বাদ্দাম, এবং আল-বাক্বী তার সৃষ্টি থেকে তাকে স্বতন্ত্র করেছে। তার কোন সন্তান নেই, তার পিতা নেই, এবং তার কোন সংগীও নেই। তার কোন সাহায্যের দরকার হয় না কিন্তু তার সৃষ্টি জীব-জন্তুর সাহায্যে দরকার হয়। তিনি গুণে, কাজে, এবং পরিচালনায় স্বতন্ত্র। তিনি আল-আলীম (সর্বজ্ঞানী), আল হাভী (চিরজীবি), আত ওয়াসী, এবং অজানা নানা গুণে গুণান্বিত

১.১.২ শেষ বিচার

১) জান্নাত মুমিনের জন্য পুরুষ্কার এবং জাহান্নামের আগুন হলো অবিশ্বাসীদের জন্য শাস্তি।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুলা আলামিন বলেছেনঃ

“এমনি ভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” সূরা আশ-শুরাঃ৭

২) সকল মানুষ তাদের চেষ্টা এবং ইচ্ছার মাধ্যমে ভালো কাজ করতে পারে এবং খারাপ থেকে দুরে থাকতে পারে, কিন্তু কেউই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ভালো কাজ করতে পারে না।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।” সূরা আশ-শামসঃ৭-১০

“প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী; কিন্তু ডানদিকস্থরা,তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অপরাধীদের সম্পর্কে বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে? তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না, আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম। এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।” সূরা আল-মুদ্দাচ্ছিরঃ ৩৮-৪৬

৩) মানুষ একাকী থাক বা না থাক তাকে আল্লাহর কাছাকাছি থাকা উচিত।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন, তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।” সূরা আল-মুজাদিলাঃ ৭

চলবে—– পরবর্তী রিসালাত, যাকাত, নামাজ….

………..সাথে থাকুন