আজকের ভাবনা

চারিদিকে একটি শব্দ আঁতাত, আর আঁতাত। শব্দটিতে “ত” থাকায় কেমন জানি তিতা তিতা জিনিস মনে হয়। তিতা জিনিস খাইতে খারাপ লাগলেও পেট নাকি ভালো রাখে। করলা তিতা হলেও ভাজি ভালো করতে পারলে মন্দ লাগেনা। সেদিন মসুর ডাল আর করলা ভাজি খেলুম, কি দারুন স্বাদ মনে হলো মায়ের হাতের রান্না খেলুম। সে যা বলছিলাম, আঁতাত। আঁতাত নাকি এখন বংগভবন, শাহবাগ, গুলশান সবখানে। ভারতের সাথে আওয়ামীলীগের আঁতাত, এরশাদের সাথে আওয়ামী লীগের আঁতাত, জামায়াতের সাথে আওয়ামীলীগের আঁতাত, শাহবাগে নাকি শিবিরের আঁতাত। রাজনীতিকে “আঁতাত” এ খেয়ে ফেলেছে। রাজনীতিতে মানুষ যখন হেরে যায় তখন মানুষ নানা বাহানা খুজে, সবার রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে জামায়াতে যোগ দেয়া উচিত। কারন সবাই গা বাঁচতে জামায়াতের সাথে আঁতাত করছে তারমানে জামায়াত অবশ্যই একটি ফ্যাক্টর হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পেরেছে। সবার আদর্শ নষ্ট হয়ে গেছে জামায়াত-শিবির মাইর খেয়েও নিজেদের আদর্শ নিয়ে টিকে আছে। তাই লেজ কাটা সব শেয়াল এখন সবখানেই আঁতাত খুজে ফিরে, নিজেদের অক্ষমতায় সান্ত্বনা খুজে। আঁতাত শব্দটি শুনতে খারাপ লাগলেও আঁতাতের ফল কিন্তু অনেক মিষ্টি হয়।

বিএনপি জামায়াতের সাথে জোট করে আছে তাতে তাদের সমস্যা হয় না, আওয়ামীলীগের সাথে আঁতাতের গন্ধ শুঁকে। আওয়ামী লীগ যখন জোট করেছিলো তখন নাকি সমস্যা হয় নি এখন নাকি তাদের সমস্যা। ছাত্রলীগ থেকে শুরু সব জায়গায় নাকি শিবির, ছাত্রলীগের কমিটিতে শিবির, শাহবাগে শিবির, ছাত্রদলে শিবির, সেদিন দেখলাম বিএনপির ভোটের দ্বায়িত্বো নাকি জামায়াত-শিবির।

আর এক এরশাদ চাচা, বেচারা আওয়ামীলীগের সাথে জোট করলে বিএনপির মন বেজার, বিএনপির সাথে করলে আওয়ামীলীগের মন বেজার। এরশাদ কে খুনি, লুইচ্চা যার যা ইচ্ছে বলে তুলোধুনো করে পরে গোপনে জোটের জন্য তদবির করে।

রাজনীতির কথা বলি, যারা রাজনীতি বুঝে তারা “আঁতাত” করে ই চলে। পুলিশের সাথে যেমন কিছু সন্ত্রাসী আঁতাত করে চলে। তেমনি “আঁতাত” জিনিসটা জীবনের জন্য জুরূরী।

“আঁতাত” আছে বলেই নারীর ক্ষমতায়নের যুগে নির্যাতিত স্বামীরা স্ত্রীর সাথে “আঁতাত” করে চলে। রাজনীতির দেউলিয়াপনার যুগে রাজনৈতিক বড় ভাইদের সাথে “আঁতাত” করে বিরোধীপক্ষকে ক্যাম্পাসে থাকা লাগে।

কেউ স্বীকার করুন আর নাই করুন সবচেয়ে বড় সত্য হলো যুদ্ধাপরাধ র মুক্তিযুদ্ধের বিষয়গুলো নিয়ে আওয়ামীলীগের নৈতিক পরাজয় হয়েছে। মানুষকে মৃত্যুদন্ড দিলেই সত্য চাপা পড়বে না, সত্য তার মতই উদ্ভাসিত হবে নব শক্তিতে। দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদন্ড দিলেও মাওলানা দেলওয়ার হোসেন সাঈদী রাজাকার হয়ে যাবেনা, ঠিক তেমনি কাদের মোল্লাকে কসাই কাদের নাম দিয়ে মৃত্যু দন্ড দিয়েও নিজেদের রাজনীতির মৃত্যু ঢাকা রোধ করা যাবেনা।

ভাবছিলাম রাজনীতি নিয়ে কিছু লিখবো না। হঠাৎ লিখতে বসলাম।

সবচেয়ে বড় সত্য হলো কেউ স্বীকার করুন আর নাই করুন। বড় দু-দলের রাজনীতির মৃত্যু হয়েছে। জামায়াত কখনই কারো কাধে হাত দিয়ে পাড় হয়নি। আমার বিশ্লষনে বরং বড় দু-দল জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে, এখনও করছে। জামায়াত নেতার মৃত্যু জামায়াতের অগ্রযাত্রাকে রোধ করতে পারেনি, পারবেও না। তবে জিয়া আর বংগবন্ধুকে নিয়ে এখনো রাজনীতি হয়।

জামায়াত-শিবির ব্যক্তিনির্ভর কোন দল নয়, এটি বুঝতে দেরি হলে আগামী বছরগুলোতে সবাই বুঝে যাবে। শেখ হাসিনা , খালেদা জিয়া যুগের শেষ হলে দেশের রাজনীতির শুন্যতা পূরনে গলাবাজি খুব একটা কাজ দিব বলে মনে হয় না। তার বড় প্রমান উপজেলা নির্বাচন। তাই “আঁতাত” এর গন্ধ না খুজে নিজেদের আদর্শের চর্চা করুন। ছাত্রসংগঠন গুলোকে ঢালাওভাবে সাজান নয়ত, টেন্ডারবাজীর সাথে একদিন হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যর সব দল।

সবাই মিলে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রাজনীতি করুক এটাই কামনা করি। গ্রাম বাংলার মানুষগুলো যেমন মিলেমিশে থাকত। বাংলাদেশের সব মানুষ মিলেমিশে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাক আমরা এটাই কামনা করি। দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ হোক। ভালো মানুষগুলো দেশ ও জাতিকে নেতৃত্ব দিক এটাই কামনা করি।

বিঃদ্রঃ রাজনৈতিক কোন বন্ধু লিখায় কষ্ট পেলে দুঃখিত। কাউকে কষ্ট দেয়ার জন্য লিখা হয় নি। বন্ধুত্ব সবার উপরে।

কুরআন হাদীস প্রতিদিন

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প।” ৯:৩৮
“Do you prefer the life of this world to the Hereafter?
But little is the comfort of this life as compared with
the Life to Come”. [Qur’an 9:38]

“মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ-রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।”
“Such are the possessions of this world’s life; but the
nearness toAllah is the best of the goals.” [Qur’an
3:14]

একটি হাদীসে বর্ণনা করে হয়েছে যে, একদিন রাসুল (সাঃ) একটি ময়লা-আবর্জনার স্তুপের পাশে দাড়িয়েছিলেন এবং তিনি তার সাহাবা (রাঃ) ডাকলেন এবং বললেনঃ “দুনিয়ার পেছনে ছুটো”।
তারপর তিনি একটি গন্ধযুক্ত আবর্জনার টুকরা এবং একটি পচা হার নিলেন এবং বললেনঃ “এটিই হলো দুনিয়া”
আর একদিন রাসুল (সাঃ) দেখেলেন যে, একটি ভেড়ার মৃতদেহ তার মালিক বাইরে ফেলে দিয়েছে। তখন রাসুল (সাঃ) তার সাহাবা (রাঃ) দিকে মুখ ফেরালেন এবং বললেনঃ “তোমরা কি কখনও চিন্তা করেছো যে, ভেড়ার মালিকের কাছে ভেড়ার মৃতদেহটির মূল্য কত? ভেড়ার মালিকের কাছে ভেড়ার মৃতদেহটির যত দাম, আল্লাহর কাছে এই দুনিয়ার দাম তার চেয়ে অনেক মূল্যহীন। একটি মশার পাখনার সমানো যদি এই পৃথিবীর মূল্য হত, নিশ্চয় আল্লাহ তাহলে অবিশ্বাসীদের এক চুমুক পানিও দিতেন না।”

আজকের ছড়া

বীরেরা কভু নাহি করে ভয়
করে না সে মিথ্যার প্ররোচনায় ভয়
জীবন সেতো নিত্য নতুন ছন্দ
প্রেম প্রীতি, বিরহ-ভালোবাসার দ্বন্দ্ব
কেহ বুঝিতে করে ভূল
কেহ ভূল বুঝে করে ভূল
কেহ ভূল করে বুঝে ভূল
তাই অযথায় টানা পরে চুল।
কেহ আছে নাহি মানে কৌতুক আর ছন্দ
জীবনে নাই তাদের আনন্দের গন্ধ
তাদের জীবনটা সাদা-কালো আর ভালো-মন্দ
তারা নাহি পায় জীবনের সূখ
অযথাই তারা পায় দুঃখ।
কেহ কভু তারে করে না পিছু তাড়া
তারা সর্বদাই আপন ঘর ছাড়া——

আজকের ছড়া

“সূখী হবো ভেবে যেই না করলাম বিয়ে
টের টা পাইলাম বিয়ের দু-মাস গেলে
আগে কত কাটতো সময় ফেইসবুকেতে বসে
বউটা আবার সেটাও নিছে আমার থেকে কেড়ে।
পাসওয়ার্ড না দিলে বলবে না সে কোন কথা
পাসওয়ার্ড টা দিয়ে এখন বুকে শুধু পাই ব্যাথা।
আগে কত মৌজ-মাস্তি, হত ব্যাচেলর পার্টি
বিয়ে করে চারিদিকে শুধু হাহাকার আর মাটি
এখন ভাবি শুধু বিয়ে করে করলাম কি এই ভূল
কথায় কথায় বউ আমার টেনে ছেড়ে চুল—”

আজকের চাঁদের ছবি

Bitmap in Graphic1

আমার তোলা সবচেয়ে সুন্দর ছবি। 🙂 আমার বন্ধুদের জন্য

IMG_0764

অনেকদিনের ইচ্ছে চাঁদের গায়ে কালো দাগের ছবিসহ আজকের চাঁদের ছবি উঠাবো। আলহামদুলিল্লাহ! আজকের সফল হয়েছি…. রাতঃ ০০.২৬, উপশালা, সুইডেন।

IMG_0762

অনেকদিনের ইচ্ছে চাঁদের গায়ে কালো দাগের ছবিসহ আজকের চাঁদের ছবি উঠাবো। আলহামদুলিল্লাহ! আজকের সফল হয়েছি…. রাতঃ ০০.২৬, উপশালা, সুইডেন।

IMG_0763

অনেকদিনের ইচ্ছে চাঁদের গায়ে কালো দাগের ছবিসহ আজকের চাঁদের ছবি উঠাবো। আলহামদুলিল্লাহ! আজকের সফল হয়েছি…. রাতঃ ০০.২৬, উপশালা, সুইডেন।

আজকের চাঁদ

আমি চাঁদকে ভালোবাসি, ভালোবাসি প্রকৃতি তাই বার বার চাঁদকে নিয়ে ফিরে আসি।

IMG_0717

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২

IMG_0698

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0707

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0732

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0736

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0737

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0744

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0724

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! মসজিদের মিনার এবং চাঁদ ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0745

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0746

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0734

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0730

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0715

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0702

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0749

আজকের চাঁদ, মাশাআল্লাহ, সুবহানাল্লাহ ! ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪। রাতঃ ১.৩২। উপশালা, সুইডেন।

IMG_0700 IMG_0708 IMG_0740 IMG_0747

“টু বি অ্যা মুসলিম- ফাতি ইয়াকান” প্রথম ভাগ

সূচনা/প্রারম্ভিকা

১.১ ধর্মবিশ্বাস (আক্বীদা)

যে মানুষ ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহন করেছে তার জন্য প্রথম কাজ হলো জ্ঞানের কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষা এবং উপাদানকে বুঝা এবং গ্রহন করা যা শুধুমাত্র ওহীর মাধ্যমে পাওয়া যায়। সেসব জ্ঞানকে বলা হয় ধর্মবিশ্বাস বা আক্বীদা। সকল নবীদের (আঃ) দ্বারাই সঠিক আক্বীদার প্রকাশ ঘটেছে এবং আরো সঠিকভাবে প্রকাশ পেয়েছে কুরআন এবং রাসুল (সাঃ) এর সুন্নতে। মানুষ আক্বীদা শিক্ষালাভ করে পূর্ববর্তী মুসলিম এবং বিখ্যাত আলেমদের কাছ হতে যারা ইসলামের উপর তাদের ভক্তি এবং সঠিক জ্ঞানের প্রদর্শন করেছিলেন।

মুসলিমদের আক্বীদাকে নিচের পাচটি বিশ্বাসে বিভক্ত করা যায়; আল্লাহতে বিশ্বাস; শেষ বিচারের দিন; ফেরেশতাদের মাধ্যমে ওহীর নাজীল হওয়া; কুরআন এবং রাসূল (সাঃ); যাকাত; এবং সালাত, যা সূরা বাক্বারার ১৭৭ আয়াতে বর্ণনা করেছেনঃ

“”সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।” সূরা বাক্বারাঃ ১৭৭

১.১.১. আল্লাহ

১) এই বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, সর্বজ্ঞানী, সর্বশক্তিমান, এবং যার কোন সাহায্যের দরকার নেই। এটি অবশ্য এই বিশ্বের সৌন্দর্য্য ও জটিলতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বিশ্বের সকল অংশের অস্তিত্বের জন্য একে অপরের সাহায্য লাগে। একক কোন কিছুই বাচতে পারে না অন্যদের ছাড়া।

সর্বশক্তিমান আল্লাহর সাহায্য পরিকল্পনা এবং লালন পালন ছাড়া এরকম সৌন্দর্য্যেময় একটি পৃথিবীর অস্তিত্ব সম্ভব নয়।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেছেনঃ

“যদি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলে আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য উপাস্য থাকত, তবে উভয়ের ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে, তা থেকে আরশের অধিপতি আল্লাহ পবিত্র।”সূরা আল-আম্বিয়াঃ ২২

২) আল্লাহ উদ্দেশ্য নিয়ে এই পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, এবং এবং সকল কিছুর জন্য স্বর্গীয় উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে । আল্লাহ স্বয়ং সম্পূর্ণের গুণে গুণান্বিত, সুতরানহ তিনি যা কিছু করেন সবকিছুর উদ্দেশ্য ও সংলগ্নতা আছে। আল্লাহর নবী (আঃ) , রাসূল (সাঃ) এবং তার নিজের কথার মাধ্যমে কেবল এই পৃথিবী সৃষ্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানা যায়।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? অতএব শীর্ষ মহিমায় আল্লাহ, তিনি সত্যিকার মালিক, তিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।” সূরা আল-মুমিনুনঃ ১১৫-১১৬

৩) ইহজগতের জীবনের উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহকে জানা, তার উপাসনা করা, তার ইবাদত করা।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে জীবিকা চাই না এবং এটাও চাই না যে, তারা আমাকে আহার্য যোগাবে। আল্লাহ তায়ালাই তো জীবিকাদাতা শক্তির আধার, পরাক্রান্ত।” সূরা আয্-যারিয়াতঃ ৫৬-৫৮

৪) আল্লাহর গুন সীমাহীন। কুরআনে ৯৯ টি গুনের উল্লেখ করা হয়েছে এবং অনেক আয়াতেই সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তার সম্পূর্ণতার কথা বলা হয়েছে। এসব গুনাবলীর মধ্যে আল-কাইয়্যুম, আল-মুক্বাদ্দাম, এবং আল-বাক্বী তার সৃষ্টি থেকে তাকে স্বতন্ত্র করেছে। তার কোন সন্তান নেই, তার পিতা নেই, এবং তার কোন সংগীও নেই। তার কোন সাহায্যের দরকার হয় না কিন্তু তার সৃষ্টি জীব-জন্তুর সাহায্যে দরকার হয়। তিনি গুণে, কাজে, এবং পরিচালনায় স্বতন্ত্র। তিনি আল-আলীম (সর্বজ্ঞানী), আল হাভী (চিরজীবি), আত ওয়াসী, এবং অজানা নানা গুণে গুণান্বিত

১.১.২ শেষ বিচার

১) জান্নাত মুমিনের জন্য পুরুষ্কার এবং জাহান্নামের আগুন হলো অবিশ্বাসীদের জন্য শাস্তি।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুলা আলামিন বলেছেনঃ

“এমনি ভাবে আমি আপনার প্রতি আরবী ভাষায় কোরআন নাযিল করেছি, যাতে আপনি মক্কা ও তার আশ-পাশের লোকদের সতর্ক করেন এবং সতর্ক করেন সমাবেশের দিন সম্পর্কে, যাতে কোন সন্দেহ নেই। একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” সূরা আশ-শুরাঃ৭

২) সকল মানুষ তাদের চেষ্টা এবং ইচ্ছার মাধ্যমে ভালো কাজ করতে পারে এবং খারাপ থেকে দুরে থাকতে পারে, কিন্তু কেউই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া ভালো কাজ করতে পারে না।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন, যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।”

সূরা আশ-শামসঃ৭-১০

“প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী; কিন্তু ডানদিকস্থরা,তারা থাকবে জান্নাতে এবং পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। অপরাধীদের সম্পর্কে বলবেঃ তোমাদেরকে কিসে জাহান্নামে নীত করেছে? তারা বলবেঃ আমরা নামায পড়তাম না, অভাবগ্রস্তকে আহার্য্য দিতাম না, আমরা সমালোচকদের সাথে সমালোচনা করতাম। এবং আমরা প্রতিফল দিবসকে অস্বীকার করতাম।” সূরা আল-মুদ্দাচ্ছিরঃ ৩৮-৪৬

৩) মানুষ একাকী থাক বা না থাক তাকে আল্লাহর কাছাকাছি থাকা উচিত।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃ

“আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন, তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।”

সূরা আল-মুজাদিলাঃ ৭

 পরবর্তী রিসালাত, যাকাত, নামাজ

” টু বি অ্যা মুসলিম” অনুবাদ প্রথম ভাগ-০১

সূচনা/প্রারম্ভিকা

ধর্মবিশ্বাস (আক্বীদা) আল্লাহ (সৃষ্টিকর্তা) শেষ বিচার

১.১.৩. রিসালাত

১) আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবী ও রাসুলদের আসমানী কিতাব দিয়ে প্রেরন করেছেন যাতে করে সকল মুসলিম আল্লাহ, এই পৃথিবীতে তাদের উদ্দেশ্য, এবং তাদের শেষ গন্তব্য সম্বন্ধে জানতে পারে।

আল্লাহর প্রেরিত নবী ও রাসুলের মধ্যে রাসুল (সাঃ) হলেন সর্বশেষ নবী। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআন নামক চিরস্থায়ী মু´যেজা দিয়ে তাকে সাহায্য করেছেন এবং শক্তিশালী করেছেন।

২) আইন তৈরীর ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। কেউই আল্লাহর আইন বা শা´রিয়া কে অগ্রাহ্য করতে পারেনা। ইজতিহাদ কিংবা শা´রিয়া হতে আইন তৈরীর ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের ক্ষমতা সীমিত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর, তার ফয়সালা আল্লাহর কাছে সোপর্দ। ইনিই আল্লাহ আমার পালনকর্তা আমি তাঁরই উপর নির্ভর করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।” সূরা আশ-শুরাঃ ১০

৩) তায়্বিল (কুরআন এবং হাদীসের ব্যাখ্যা) এর ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রজন্মের মুসলিমদের ঐতিহ্য এবং মতামত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিম আলেমদের দ্বারা কুরআন এবং হাদিসের ব্যাখ্যা ঐতিহ্যবাদী এবং সংষ্কারবাদী কিংবা আধুনিকতাবাদীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা উচিত না ।

১.১.৪. যাকাত/দানশীলতা

মানুষকে এমনভাবে আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত যাতে করে তার হৃদয় সর্বদা আল্লাহর খোজে ব্যস্ত থাকে। আল্লাহর প্রতি এই ভালোবাসা একজন মানুষকে ভালো কাজ, ত্যাগ, এবং আল্লাহর জন্য সংগ্রাম করতে এত বেশি উদ্বুদ্ধ করবে যে, এই ক্ষনস্থা্যী পৃথিবীর প্রতি তার ভালোবাসা, এবং তার পরিবারের প্রতি ভালোবাসা তাকে ভালো কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে না।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।” সূরা আত-তওবাঃ ২৪

যদি কেউ ঈমানের স্বাদ পেতে পছন্দ করে তাহলে আল্লাহর জন্য তার ত্যাগ স্বীকার করা উচিত।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

“যাদের কাছে তিনটি জিনিস আছে তারা ঈমানের স্বাদ গ্রহন করবে, সেগুলো হলো, অন্যকিছুর চেয়ে আল্লাহ ও তার রাসুল (সাঃ) এর প্রতি ভালোবাসা, শুধু আল্লাহর জন্যই অন্যের প্রতি ভালোবাসা, এবং দোযখের আগুনের প্রতি নিক্ষেপ হওয়ার মত কুফরির দিকে প্রত্যাবর্তিত হওয়াকে ঘৃণা করা। (বুখারী)”

১.১.৫. ইবাদত

১) একজন মানুষের উচিত আল্লাহর উপাসনা করা এবং তার সাথে শরীক না করা বা তার প্রতিদ্বন্দী কাউকে স্বীকার না করা। একজন মুসলিম আল্লাহর ইবাদত করে কারন আল্লাহর রাব্বুল আলামিন তার নবী রাসুলের এর মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে।” সূরা আন-নাহলঃ ৩৬

২) প্রত্যেক মুসলিমের উচিত আল্লাহর গুনবাচক নামসমূহ জানা এবং বুঝা।

আবু হুরায়রা (রাঃ) একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ

“আল্লাহর ৯৯ টি নাম আছে, ১০০ থেকে একটি কম; তোমাদের মধ্যে যারা সেগুলো মুখস্ত করবে তাদের স্থান হবে জান্নাতে। আল্লাহ হলেন বিজোড় এবং আল্লাহ বিজোড় জিনিস পছন্দ করেন। (বুখারী)”

৩) আল্লাহর নাম গুলো পড়ার মাধ্যমে আল্লাহকে স্মরন করা উচিত। মানুষের হৃদয়ের আরোগ্য লাভের আল্লাহর এরকম স্মরন বা জিকির ই হলো উত্তম ঔষুধ। দুনিয়ার সমস্যাগুলোর সাথে সংগ্রামের জন্যও এটি একটি কার্যকরী অস্ত্র।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নবী (সাঃ) কে বলেছেনঃ

“যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।” সূরা আর-র´দঃ ২৮

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী।” সূরা আয-যুখরুফঃ ৩৬

৪) আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে মানুষের চিন্তা করা উচিত।, তবে আল্লাহর নিজস্বতা নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়।

নবী (সাঃ) একটি হাদীসে বলেছেনঃ

“আল্লাহর সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা কর তবে আল্লাহর স্বত্তা নিয়ে নয় কারন তোমরা তা হৃদয়ঙ্গম করতে পারবে না।”

এই হাদীসটি আবু নুঈয়াম কর্তৃক আল-হিলায়াহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, এবং আল-আসফিহানি কর্তৃক তারঘিব উইয়া-তারহিব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।)

৫) একজন মানুষকে শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করা উচিত। আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার থেকে পৃথক হওয়ার ভয় মানুষকে সকল প্রকার নিষিদ্ধ জিনিস হতে বিরত থাকতে শক্তি যোগায়।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।” সূরা আল-মূলকঃ ১২

৬) একজন মানুষকে প্রত্যেকটি কাজের জন্য আল্লাহর উপর নির্ভর করা উচিত এবং তায়াক্বুল অবলম্বন করা উচিত (আল্লাহর উপর আস্থা)। এটি তার মধ্যে এমন ধরনের দায়িত্ববোধ তৈরী করে যে, সে যা কিছু করে সব কিছুতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।” সূরা আত-তালাক্বঃ ৩

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ

“আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হও, এবং আল্লাহ তোমাদের রক্ষা করবেন। আল্লাহর প্রতি মনোযোগী হও, তাহলে তোমরা তোমাদের সামনে তাকে দেখতে পাবে। যদি তোমাদের মনে প্রশ্ন জাগে তাহলে আল্লাহকেই জিজ্ঞেস কর; যদি তোমাদের সাহায্যের প্রয়োজন পরে, তাহলে আল্লাহর কাছে ই সাহায্য চাও। জেনে রাখ যদি সমগ্র জাতি তোমাদের উপকার করতে চায়, তাহলে তারা ততটুকু উপকারই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমাদের জন্য বরাদ্ধ রেখেছেন, তারা তোমাদের ততটুকু ক্ষতিই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারিত করে রেখেছেন। (তিরমিজি)

৭) আল্লাহ করুনা এবং সীমাহীন নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত। শুকরিয়া আদায় ধর্মের একটি অংশ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়ের গর্ভ থেকে বের করেছেন। তোমরা কিছুই জানতে না। তিনি তোমাদেরকে কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর দিয়েছেন, যাতে তোমরা অনুগ্রহ স্বীকার কর।” সূরা আন-নাহলঃ ৭৮

“তাদের জন্যে একটি নিদর্শন মৃত পৃথিবী। আমি একে সঞ্জীবিত করি এবং তা থেকে উৎপন্ন করি শস্য, তারা তা থেকে ভক্ষণ করে। আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে নির্ঝরিণী। যাতে তারা তার ফল খায়। তাদের হাত একে সৃষ্টি করে না। অতঃপর তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না কেন?”সূরা ইয়াসীনঃ ৩৩-৩৫

যারা আল্লাহকে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে তাদের জন্য দয়া-করুনা বাড়িয়ে দিতে আল্লাহ প্রতিশ্রতি দিয়েছেন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।” সূরা ইব্রাহিমঃ ৭

৮) আল্লাহর কাছে অনুশোচনা এবং ইসতিগফার করা উচিত। এই ধরনের অনুশোচনা মানুষের ঈমানকে পরিশুদ্ধ করে এবং তার হৃদয়ের মধ্যে ধীরে ধীরে স্থিরতা এবং প্রশান্তি প্রদান করে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেনঃ

“যে গোনাহ, করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।” সূরা আন-নিসাঃ ১১০

“তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না। তাদেরই জন্য প্রতিদান হলো তাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে প্রস্রবণ যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। যারা কাজ করে তাদের জন্য কতইনা চমৎকার প্রতিদান।” সূরা আল-ইমরানঃ১৩৫-১৩৬

বিঃদ্রঃ “To be a muslim-Fathi Yakan” বইটি অনুবাদের চেষ্টা করছি। কোথাও ভূল হলে সংশোধন করে দিলে উপকৃত হবো।

সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

আজকের ফটোগ্রাফী আকাশের বুকে চাঁদের হাসি

IMG_0682

বাসায় ফিরে হঠাৎ আকাশে তাকিয়ে দেখি কি সুন্দর চাঁদ। আল্লাহর কি অপূর্ব সৃষ্টি। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি। এই ছবিগুলো শুধু আপনাদের জন্য যারা আল্লাহর সৃষ্টি দেখে মনের অজান্তে বলে উঠেন মাশাআল্লাহ, সুবহানআল্লাহ।

IMG_0680

বাসায় ফিরে হঠাৎ আকাশে তাকিয়ে দেখি কি সুন্দর চাঁদ। আল্লাহর কি অপূর্ব সৃষ্টি। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি। এই ছবিগুলো শুধু আপনাদের জন্য যারা আল্লাহর সৃষ্টি দেখে মনের অজান্তে বলে উঠেন মাশাআল্লাহ, সুবহানআল্লাহ।

IMG_0678

বাসায় ফিরে হঠাৎ আকাশে তাকিয়ে দেখি কি সুন্দর চাঁদ। আল্লাহর কি অপূর্ব সৃষ্টি। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি। এই ছবিগুলো শুধু আপনাদের জন্য যারা আল্লাহর সৃষ্টি দেখে মনের অজান্তে বলে উঠেন মাশাআল্লাহ, সুবহানআল্লাহ।

IMG_0685

বাসায় ফিরে হঠাৎ আকাশে তাকিয়ে দেখি কি সুন্দর চাঁদ। আল্লাহর কি অপূর্ব সৃষ্টি। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি। এই ছবিগুলো শুধু আপনাদের জন্য যারা আল্লাহর সৃষ্টি দেখে মনের অজান্তে বলে উঠেন মাশাআল্লাহ, সুবহানআল্লাহ।

IMG_0686

আল্লাহর কি অপূর্ব সৃষ্টি। মাশাআল্লাহ, সুবহানআল্লাহ

IMG_0684

আল্লাহর কি অপূর্ব সৃষ্টি। মাশাআল্লাহ, সুবহানআল্লাহ

IMG_0683

আল্লাহর কি অপূর্ব সৃষ্টি। মাশাআল্লাহ, সুবহানআল্লাহ