“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ” বাকি অংশ

“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।প্রথম অংশ

“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় অংশ

শেষ অংশ আত্ননিয়ন্ত্রন অধ্যয়

সন্দেহপ্রবন রোগই হলো মারাত্নক যা শয়তানের কাছে পরাজিত লোকদের আক্রমন করে।। তারা যা করে তার সবকিছুতে শয়তান তাদের অনিশ্চিত অনুভব করায় যাতে করে তারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।

এই বিষয়ে রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ” নিশ্চয়, শয়তান আদম সন্তানদের থামানোর জন্য বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করে। সে ইসলামকে আঘাত করার মাধ্যমে তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করে, বলেঃ “তুমি কেন তোমার এবং তোমার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহন করছো্।” আদম সন্তান শয়তানকে অবগ্গা করে ইসলাম গ্রহন করে। তারপর শয়তান আল্লাহর জন্য হিজরতের বিরোধিতা করে তাদের থামানোর চেষ্টা করে, বলেঃ ” তুমি তোমার বাড়ী এবং জন্মস্থানকে পরিত্যাগ করে কেন হিজরত করছো?” আদম সন্তান শয়তানকে অবগ্গা করে এবং হিজরত করে। তারপর শয়তান জিহাদকে আঘাত করে তাদের থামানোর চেষ্টা করে, বলেঃ “জিহাদে লিপ্ত হয়ে তুমি কি করছো? এর মাধ্যমে তুমি লড়াই করবে এবং নিহিত হবে, এবং তোমার স্ত্রী অন্যকে বিয়ে করবে এবং তোমার সবকিছু ভাগ হয়ে যাবে।” কিন্তু আদম সন্তান তাকে অবগ্গা করবে এবং জিহাদে লিপ্ত হবে। তারপর রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “যে এসব করে এবং মৃত্যুবরন করে সে জান্নাতে যাওয়ার অধিকার অর্জন করে।” (নাসাই)

কুরাআনে আল্লাহ বলেনঃ “তারা শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করি।” সূরা আল-হাশরঃ ১৬

শয়তানের প্রলোভন এবং খোশখেয়াল হতে মানুষকে পরিত্রান পেতে এবং এই শত্রুকে পরাভূত করতে ইসলাম অনেক অস্ত্র বলে দিয়েছে। প্রথমত মানুষের নিজের দূর্বলতা জানতে হবে। শয়তান কিভাবে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে, সে বিষয়ে স্কলাররা কিছু উপদেশ দিয়েছেঃ

১) লোভ-শত্রুতাঃ অন্যকে বিশ্বাস অন্যরা নিজেদের চেষ্টায় যা অর্জন করেছে তাতে তৃপ্ত বোধ করার মাধ্যমে মানুষ এসবের মোকাবেলা করতে পারে।
২) জীবনের প্রতি ভালোবাসাঃ হঠাত মৃত্যুকে স্মরন করার মাধ্যমে মানুষ এর মোকাবেলা করতে পারে।
৩) অলসতা এবং বিলাসতা প্রেমঃ কষ্টের শেষ আছে কিন্তু ভালো জিনিসের কোন শেষ নেই এই চিন্তা করার মাধ্যমে মানুষ এর মোকাবেলা করতে পারে।
৪) গর্বঃ আল্লাহর উদারতার শুকরিয়া আদায় এবং আল্লাহর শাস্তির ভয় করে এর মোকাবেলা করা যায়।
৫) অহংকার এবং অসন্মানঃ আল্লাহর দেয়া মর্যাদা এবং অধিকারকে স্মরন করে এসব থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।
৬) দ্বেষঃ মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে যা অর্জনকরে তাতে তৃপ্ত থাকার গুন অর্জন করে এবং বান্দার প্রতি আল্লাহর দান এবং পুরুষ্কার গ্রহন করার মাধ্যমে এই দোষ থেকে নিজেদের দুরে রাখা যায়।
৭) আত্ন-প্রশংসা এবং প্রশংসা ক্ষুধাঃ নিজের মধ্যে সততা এবং আন্তরিকতা গুন অর্জন করে এই দোষ থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।
৮) লালসাঃ নিজেদের নশ্বরতা এবং সকল জিনিসের অনিবার্য ধ্বংস এবং আল্লাহর অবিনশ্বরতা, আল্লাহর পুরুষ্কারের নিশ্চয়তা স্মরন করা এবং অন্য মানুষের সাহায্যর উপর নিরর্থক নির্ভরশীলতার কথা চিন্তা করে এই দোষ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী শয়তানের প্ররোচনা থেকে পরিত্রান পাওয়ার সহজ উপায় হলো সকল কাজের শুরুতে আল্লাহকে স্মরন করার মাধ্যমে। এই বিষয়ে
আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ

আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন বিশ্বাসীদের পেছনে লেগে থাকা শয়তান কিভাবে দেখা করেছিলো অবিশ্বাসীদের পেছনে লেগে থাকা শয়তানের সাথেঃ
অবিশ্বাসীদের জন্য যে শয়তান বিশ্বাসীদের জন্য শয়তানের তুলনায় অনেক মোটা/স্থুলকায় অপরপক্ষে বিশ্বাসীদের পেছনে লেগে থাকা শয়তান অনেক শুকনা/চিকন এবং অসুখী। বিশ্বাসীদের জন্য যে শয়তান তাকে অবিশ্বাসীদের শয়তান জিজ্ঞেস করলো করলো সে এত শুকনা/ক্ষীনকায় এবং অসুখী কেন? সে বললোঃ আমি যখন কোন মানুষকে পরীক্ষা করতে যাই, যখনই সে খাইতে যেত, সে আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া শুরু করত ফলে সেটি আমাকে ক্ষুধার্ত করে দিত। যখনই সে কোন কিছু পান করত সে আল্লাহর নাম উল্লেখ করত সেটি আমাকে তৃষ্নার্ত করে দিত। আবার যখন সে কাপড় পরিধান করত সে আল্লাহর নাম নিত ফলে আমি নগ্ন অনুভব করতাম। যখন সে চুলে ক্রিম ব্যবহার করত সে আল্লাহর নাম উল্লেখ করত ফলে সেটি আমার চুলকে শুষ্ক করে দিত। তখন অবিশ্বাসীদের শয়তান বললোঃ “কিন্তু যখন আমি মানুষের কাছে যেতাম তারা কখনই এসব করতোনা যা তুমি উল্লেখ করলে ফলে আমি তাদের খাবার, তাদের পানীয় এবং কাপড় শেয়ার করতাম।”

অন্যভাবে শয়তানকে প্রতিরোধ করত হলে বিলাসী খাবার গ্রহন এড়িয়ে চলা ভালো যদিও সেটি হালাল এবং পরিষ্কার।

কারন আল্লাহ বলেনঃ “হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।” সূরা আল-আ´রাফঃ ৩১

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় শয়তান আদম সন্তানদের মাঝে সেভাবে দ্রুত চলে যেভাবে রক্ত প্রবাহিত হয়, সুতরাং ক্ষুধার মাধ্যমে শয়তানের পথকে রুদ্ধ করে দাও।” (আহমাদ)

কুরআন অধ্যয়ন করে, আল্লাহর জিকির করে এবং তওবার মাধ্যমে ও শয়তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা যায়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় শয়তান আদম সন্তানের কলব/ হৃদয়কে আক্রমন করে, যখনই কোন আদম সন্তান আল্লাহর জিকির করে, তখন শয়তান পালিয়ে যায়, কিন্তু যখন তারা আল্লাহকে ভূলে যায় তখন শয়তান তাদের কলব/হৃদয় খেয়ে ফেলে।”

হঠকারী আচরন পরিত্যাগ করে এবং সবকিছুতেই সতর্কতা অবলম্বন করেও শয়তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা যায়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “হঠকারীতা শয়তানের পক্ষ থেকে এবং সতর্কতা আল্লাহর পক্ষ থেকে।”

যদিও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের জীবনে নিয়মানুবর্তিতা এবং জীবনে নিয়ন্ত্রন নিয়ে আসা।

কুরআনের নিম্নের শিক্ষা স্মরন করাঃ “যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে।” সূরা আল-আ´রাফঃ২০১

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s