“টু বি অ্যা মুসলিম”- ফাতি ইয়াকান, সূচনা/প্রারম্ভিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর! রাসুল (সাঃ) এর শান্তি ও রহমত বর্ষন হোক।

এই বইটি দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশটিতে সেসব বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা বিশ্বাস এবং কাজে একজন মুসলিমকে ধারন করতে হয় বা প্রতিফলন ঘটাতে হয়। অনেক মানুষ মুসলিম হয় শুধুমাত্র পরিচয়ের মাধ্যমে, কারন তারা মুসলিম পিতা-মাতা হতে জন্মসূত্রে মুসলিম। তারা হয়ত জানেনা যে প্রকৃত ইসলাম কি এবং মুসলিম হওয়ার জন্য কি কি কাজ করা লাগে, এবং এই কারনে তারা অনেক ধর্মনিরপেক্ষ জীবন যাপন করে। এই প্রথম অংশে মুসলিমদের জ্ঞানী এবং সত্যিকার মুসলিম হওয়ার কর্তব্য সমুহ আলোচনা বা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

বইয়ের দ্বিতীয় অংশে ইসলামের একজন কর্মী এবং ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মীর কি দায়িত্ব-কর্তব্য তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি আন্দোলনের প্রকৃতি এবং এর লক্ষ্য, দর্শন, এবং কৌশল পড়ন্তু ইসলামী আন্দোলনের একজন সদস্যের প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্বে বিশেষ করে আরব বিশ্বে ইসলামী আন্দোলনের ব্যর্থ হওয়ার কারন হলো ইসলামী আন্দোলন এবং সমাজ জীবনে আধাত্নিক শুন্যতা। এমন অবস্থায় ইসলামের মূলনীতি এবং প্রতিষ্ঠান গুলো হারিয়ে যায়। ইসলামি আন্দোলন ভেংগে পড়ে যখন পশ্চিমা কালচারে অভ্যস্ত নেতারা কঠিন চ্যালেন্জের মুখোমুখি হয়। এসব নেতা এবং আন্দোলন এবং সরকারের নিয়ম সমূহ এবং অর্থনীতি যা তারা চাপিয়ে দিয়েছিলো তা ভেংগে পড়ে কারন সেসবের কোন ভালো ভিত্তি ছিলোনা। তারা ব্যর্থ হয়েছিলো কারন সেসব কৃত্রিমভাবে তৈরী এবং অন্য কালচার থেকে নকল করা ছিলো এবং তা মুসলিম সম্প্রদায়কে উপস্থাপন করতো না। এ কারনে তারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলো। এই অবস্থাকে মানব শরীরে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের সাথে তুলনা করা যায়। যদিও শরীর এটিকে স্বল্প সময়ের জন্য ব্যাথা সহ সহ্য করতে পারে অবশেষে কিডনিকে বাদ দেয়া লাগে এবং সে মারা যায়।

যখন মুসলিম উম্মাহর অসুস্থ্যতা তীব্র হয়, তখন খুব কম মুসলিমই ইসলামিক নীতির উপর ইসলামী সমাজ গঠন নিয়ে চিন্তা করে। অপরপক্ষে অধিকাংশ মুসলিম গড়া নীতি এবং পদ্ধতি আমদানী করে, যা বাইরে থেকে ভালো মনে হয় কিন্তু সত্যিকার ভাবে তা একেবারে ত্রুটিপূর্ণ হয় এবং সহজে বিচ্যুত হয় এবং ভেংগে পড়ে।

এসব ঘটনার সাথে খাপখাওয়নোর প্রথম ধাপটি ছিলো একচ্ছত্র পুঁজিবাদ। এটি সমাজ, অর্থনীতি এবং রাজনীতির মুল্যবোধকে বিষাক্ত করে তোলে, এবং মুসলিমদের পরিচয় ধ্বংস করে, সংষ্কৃতি। এটি ১৯৪৮ সাথে ইসলামের বিধ্বংসী পরাজয়ের কারন ছিলো।

এই তিক্ত অভিজ্ঞতা ছাড়াও মুসলিমরা জাহিলী এবং পৌত্তলিক প্রথার হাতে বন্দী থেকে গেছে যা বিদেশ থেকে শুরু হয়েছিলো। যদি ১৯৪৮ সালের পরাজয়ের কারন হয়, পশ্চিমাদের অনুসরন, তাহলে ১৯৬৭ সালের পরাজয়ের কারন ছিলো ইউরোপের বাম-পন্থী সর্বহারা বিশেষভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের অনুসরন। এসবের মিথ্যা দ্বারা বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়েছিলো তারা পরাজয়ের আবর্তে নিমজ্জিত হয়েছিলো, এবং তাদের সমাজতান্ত্রিক জোটের তারা পরিত্যাগ হয়েছিলো/ বর্জিত হয়েছিলো।

এসব তিক্ত অভিজ্ঞতা মুসলিমদেরকে তাদের সরকারের উপোর এবং তাদের শুন্য আশ্বাসের উপড় আশাহত করেছিলো/ আশা হারিয়ে ফেলেছিলো। এসব অসহ্য অভিজ্ঞতা তাদেরকে বাস্তবায় জাগিয়ে তুলেছিলো যে, আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো তাদেরকে পিষে ফেলতে একত্রিত হয়েছিলো। ইউরোপ-অ্যামেরিকার পশ্চিমা পুজিবাদ এবং রাশিয়ার পশ্চিমার সমাজতন্ত্র “ডানপন্থী এবং বামপন্থী” দুটো ই। শেষে মুসলিমরা শিখতে শুরু করলো যে, তাদের মধ্যে যে শুন্যতা কখনই হোয়াইট হাউসের প্রোগ্রাম, ক্রেমলিন পরিকল্পনা, মার্ক্সের চিন্তা, এবং লেলিন, অথবা চে গুয়েভারা এবং হো চি মিন কারো দ্বারাই পরিপূর্ন হবে না।

মুসলিম উম্মাহকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিমদের স্বতন্ত্র করেছেন অন্যদের থেকে যাতে করে বিশ্বের সকল মানুষ সার্বজনীন সত্যে এবং ন্যায়বিচারের প্রয়োগ ঘটিয়ে তাদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক জীবনকে উন্নত করতে পারে। মুসলিম এই পরিচয়ের স্বীকৃতি ই হলো বিশ্বের চিন্তা ও রাজনীতির জগতে বিপ্লব ঘটানোর জন্য মুসলিমদের প্রথম পদক্ষেপ।

চলবে…….

অনেক শব্দের বানানে ভূল আছে যা কি-বোর্ড জটিলতার কারনে হয়েছে। পরে ঠিক করে নিবো ইনশাল্লাহ। পুরো বইটি ধাপে ধাপে ট্রান্সলেইট করার প্লান আছে। সবাই সাথে থাকুন।

আজকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশে মৌলভীদের উপহার দিয়েছে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা উপহার দিয়েছে আধুনিক স্কলার।
বাংলাদেশ সহ বিশ্বের ইসলামী আন্দোলন দু-ক্ষেত্রে পারদর্শি কিছু মানুষ উপহার দিয়েছে যাদের শানিত লিখনী, ইসলাম নিয়ে চিন্তা গবেষনা সাধারন মানুষ ও মুসলিমদের ইসলাম নিয়ে ভাবতে কিছু ক্ষেত্র তৈরী করে দিয়েছে এটাই ইসলামী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অবদান। বিভিন্ন ইসলামী বইগুলো ইসলামী আন্দোলনের ই কেউ না কেউ লিখেছেন নয়ত অনুবাদ করেছেন।

বিভিন্ন ইসলামী বই পড়তে গেলে যেটি বেশি মনেহয় যে, আন্দোলনের সাথে জড়িত না থেকে বইগুলো লিখলে হয়ত অনুধাবনের জন্য সমস্যা তৈরী হত। মুসলিমদের জীবনই হলো সংগ্রামের জীবন সে সংগ্রামে অংশগ্রহন না করে কেউ যদি কোন বইও রচিত করে তাহলে সেটি মানুষের হৃদয় স্পর্শ করতে ব্যর্থ হয় অনেকটাই। ইসলামী আন্দোলনের এসব স্কলারদের বই শুধু মা্ত্রযে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য তা কিন্তু নয়। অনেকেই মনে করেন যে, তাদের বই পড়লে ইসলামী আন্দোলনে জড়িত হয়ে পড়ব। আসলে ব্যাপারটা হলো এসব বই এমনই যে যা মানুষের হৃদয় কে স্পর্শ করে হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যায় ফলে মানুষ চিন্তাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। এসব চিন্তাচ্ছন্ন মানুষেরা সঠিক পরিবেশ পেলে নতুন চারা গাছের মত ডাল পালা মেলে ধরে।

গত কয়েকমাসে কিছু বই স্পর্শ করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তৌফিক দিয়েছিলেন।

টু বি অ্যা মুসলিম- ফাতি ইয়াকান
ক্রাইসিস ইন মুসলিম মাইন্ড-আব্দুল হামিদ আবু সুলায়মান
ইন দ্য আরলি আওয়ারস- খুররম মুরাদ
ওয়ে টু কুরআন-খুররম মুরাদ
আল্লাহকে পেতে মাধ্যম গ্রহন- শায়খুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া
প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর জন্য যা জানা কর্তব্য-আশ শাইখ মুহাম্মদ বনি সুলায়মান আত তামীমী (রাহঃ)
মাইলস্টোন- সাইয়েদ কুতুব
স্যাক্রিফাইসঃ দ্য মেইকিং অফ অ্যা মুসলিম- খুররম মুরাদ

সবগুলো বইয়ে অসাধারন সুন্দর। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এসব জ্ঞানীদের জ্ঞানের কিছু আমাদের দান করুন। (আমীন)

কুরআন হাদীস প্রতিদিন

“Have you not considered that Allah knows what is in the heavens and what is on the earth? There is in no private conversation three but that He is the fourth of them, nor are there five but that He is the sixth of them – and no less than that and no more except that He is with them [in knowledge] wherever they are. Then He will inform them of what they did, on the Day of Resurrection. Indeed Allah is, of all things, Knowing.

আপনি কি ভেবে দেখেননি যে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, আল্লাহ তা জানেন। তিন ব্যক্তির এমন কোন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ জনেরও হয় না, যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশী হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে আছেন, তারা যা করে, তিনি কেয়ামতের দিন তা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত।” 58:7

“বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।” 9:24

“সৎকর্ম শুধু এই নয় যে, পূর্ব কিংবা পশ্চিমদিকে মুখ করবে, বরং বড় সৎকাজ হল এই যে, ঈমান আনবে আল্লাহর উপর কিয়ামত দিবসের উপর, ফেরেশতাদের উপর এবং সমস্ত নবী-রসূলগণের উপর, আর সম্পদ ব্যয় করবে তাঁরই মহব্বতে আত্নীয়-স্বজন, এতীম-মিসকীন, মুসাফির-ভিক্ষুক ও মুক্তিকামী ক্রীতদাসদের জন্যে। আর যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দান করে এবং যারা কৃত প্রতিজ্ঞা সম্পাদনকারী এবং অভাবে, রোগে-শোকে ও যুদ্ধের সময় ধৈর্য্য ধারণকারী তারাই হল সত্যাশ্রয়ী, আর তারাই পরহেযগার।” 2:177

“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ” বাকি অংশ

“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।প্রথম অংশ

“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় অংশ

শেষ অংশ আত্ননিয়ন্ত্রন অধ্যয়

সন্দেহপ্রবন রোগই হলো মারাত্নক যা শয়তানের কাছে পরাজিত লোকদের আক্রমন করে।। তারা যা করে তার সবকিছুতে শয়তান তাদের অনিশ্চিত অনুভব করায় যাতে করে তারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।

এই বিষয়ে রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ ” নিশ্চয়, শয়তান আদম সন্তানদের থামানোর জন্য বিভিন্ন উপায়ে চেষ্টা করে। সে ইসলামকে আঘাত করার মাধ্যমে তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করে, বলেঃ “তুমি কেন তোমার এবং তোমার বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহন করছো্।” আদম সন্তান শয়তানকে অবগ্গা করে ইসলাম গ্রহন করে। তারপর শয়তান আল্লাহর জন্য হিজরতের বিরোধিতা করে তাদের থামানোর চেষ্টা করে, বলেঃ ” তুমি তোমার বাড়ী এবং জন্মস্থানকে পরিত্যাগ করে কেন হিজরত করছো?” আদম সন্তান শয়তানকে অবগ্গা করে এবং হিজরত করে। তারপর শয়তান জিহাদকে আঘাত করে তাদের থামানোর চেষ্টা করে, বলেঃ “জিহাদে লিপ্ত হয়ে তুমি কি করছো? এর মাধ্যমে তুমি লড়াই করবে এবং নিহিত হবে, এবং তোমার স্ত্রী অন্যকে বিয়ে করবে এবং তোমার সবকিছু ভাগ হয়ে যাবে।” কিন্তু আদম সন্তান তাকে অবগ্গা করবে এবং জিহাদে লিপ্ত হবে। তারপর রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “যে এসব করে এবং মৃত্যুবরন করে সে জান্নাতে যাওয়ার অধিকার অর্জন করে।” (নাসাই)

কুরাআনে আল্লাহ বলেনঃ “তারা শয়তানের মত, যে মানুষকে কাফের হতে বলে। অতঃপর যখন সে কাফের হয়, তখন শয়তান বলেঃ তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি বিশ্বপালনকর্তা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করি।” সূরা আল-হাশরঃ ১৬

শয়তানের প্রলোভন এবং খোশখেয়াল হতে মানুষকে পরিত্রান পেতে এবং এই শত্রুকে পরাভূত করতে ইসলাম অনেক অস্ত্র বলে দিয়েছে। প্রথমত মানুষের নিজের দূর্বলতা জানতে হবে। শয়তান কিভাবে মানুষের অন্তরে প্রবেশ করে, সে বিষয়ে স্কলাররা কিছু উপদেশ দিয়েছেঃ

১) লোভ-শত্রুতাঃ অন্যকে বিশ্বাস অন্যরা নিজেদের চেষ্টায় যা অর্জন করেছে তাতে তৃপ্ত বোধ করার মাধ্যমে মানুষ এসবের মোকাবেলা করতে পারে।
২) জীবনের প্রতি ভালোবাসাঃ হঠাত মৃত্যুকে স্মরন করার মাধ্যমে মানুষ এর মোকাবেলা করতে পারে।
৩) অলসতা এবং বিলাসতা প্রেমঃ কষ্টের শেষ আছে কিন্তু ভালো জিনিসের কোন শেষ নেই এই চিন্তা করার মাধ্যমে মানুষ এর মোকাবেলা করতে পারে।
৪) গর্বঃ আল্লাহর উদারতার শুকরিয়া আদায় এবং আল্লাহর শাস্তির ভয় করে এর মোকাবেলা করা যায়।
৫) অহংকার এবং অসন্মানঃ আল্লাহর দেয়া মর্যাদা এবং অধিকারকে স্মরন করে এসব থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।
৬) দ্বেষঃ মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে যা অর্জনকরে তাতে তৃপ্ত থাকার গুন অর্জন করে এবং বান্দার প্রতি আল্লাহর দান এবং পুরুষ্কার গ্রহন করার মাধ্যমে এই দোষ থেকে নিজেদের দুরে রাখা যায়।
৭) আত্ন-প্রশংসা এবং প্রশংসা ক্ষুধাঃ নিজের মধ্যে সততা এবং আন্তরিকতা গুন অর্জন করে এই দোষ থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।
৮) লালসাঃ নিজেদের নশ্বরতা এবং সকল জিনিসের অনিবার্য ধ্বংস এবং আল্লাহর অবিনশ্বরতা, আল্লাহর পুরুষ্কারের নিশ্চয়তা স্মরন করা এবং অন্য মানুষের সাহায্যর উপর নিরর্থক নির্ভরশীলতার কথা চিন্তা করে এই দোষ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী শয়তানের প্ররোচনা থেকে পরিত্রান পাওয়ার সহজ উপায় হলো সকল কাজের শুরুতে আল্লাহকে স্মরন করার মাধ্যমে। এই বিষয়ে
আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ

আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন বিশ্বাসীদের পেছনে লেগে থাকা শয়তান কিভাবে দেখা করেছিলো অবিশ্বাসীদের পেছনে লেগে থাকা শয়তানের সাথেঃ
অবিশ্বাসীদের জন্য যে শয়তান বিশ্বাসীদের জন্য শয়তানের তুলনায় অনেক মোটা/স্থুলকায় অপরপক্ষে বিশ্বাসীদের পেছনে লেগে থাকা শয়তান অনেক শুকনা/চিকন এবং অসুখী। বিশ্বাসীদের জন্য যে শয়তান তাকে অবিশ্বাসীদের শয়তান জিজ্ঞেস করলো করলো সে এত শুকনা/ক্ষীনকায় এবং অসুখী কেন? সে বললোঃ আমি যখন কোন মানুষকে পরীক্ষা করতে যাই, যখনই সে খাইতে যেত, সে আল্লাহর নাম নিয়ে খাওয়া শুরু করত ফলে সেটি আমাকে ক্ষুধার্ত করে দিত। যখনই সে কোন কিছু পান করত সে আল্লাহর নাম উল্লেখ করত সেটি আমাকে তৃষ্নার্ত করে দিত। আবার যখন সে কাপড় পরিধান করত সে আল্লাহর নাম নিত ফলে আমি নগ্ন অনুভব করতাম। যখন সে চুলে ক্রিম ব্যবহার করত সে আল্লাহর নাম উল্লেখ করত ফলে সেটি আমার চুলকে শুষ্ক করে দিত। তখন অবিশ্বাসীদের শয়তান বললোঃ “কিন্তু যখন আমি মানুষের কাছে যেতাম তারা কখনই এসব করতোনা যা তুমি উল্লেখ করলে ফলে আমি তাদের খাবার, তাদের পানীয় এবং কাপড় শেয়ার করতাম।”

অন্যভাবে শয়তানকে প্রতিরোধ করত হলে বিলাসী খাবার গ্রহন এড়িয়ে চলা ভালো যদিও সেটি হালাল এবং পরিষ্কার।

কারন আল্লাহ বলেনঃ “হে বনী-আদম! তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় সাজসজ্জা পরিধান করে নাও, খাও ও পান কর এবং অপব্যয় করো না। তিনি অপব্যয়ীদেরকে পছন্দ করেন না।” সূরা আল-আ´রাফঃ ৩১

নবী (সাঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় শয়তান আদম সন্তানদের মাঝে সেভাবে দ্রুত চলে যেভাবে রক্ত প্রবাহিত হয়, সুতরাং ক্ষুধার মাধ্যমে শয়তানের পথকে রুদ্ধ করে দাও।” (আহমাদ)

কুরআন অধ্যয়ন করে, আল্লাহর জিকির করে এবং তওবার মাধ্যমে ও শয়তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা যায়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “নিশ্চয় শয়তান আদম সন্তানের কলব/ হৃদয়কে আক্রমন করে, যখনই কোন আদম সন্তান আল্লাহর জিকির করে, তখন শয়তান পালিয়ে যায়, কিন্তু যখন তারা আল্লাহকে ভূলে যায় তখন শয়তান তাদের কলব/হৃদয় খেয়ে ফেলে।”

হঠকারী আচরন পরিত্যাগ করে এবং সবকিছুতেই সতর্কতা অবলম্বন করেও শয়তানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা যায়।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “হঠকারীতা শয়তানের পক্ষ থেকে এবং সতর্কতা আল্লাহর পক্ষ থেকে।”

যদিও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজেদের জীবনে নিয়মানুবর্তিতা এবং জীবনে নিয়ন্ত্রন নিয়ে আসা।

কুরআনের নিম্নের শিক্ষা স্মরন করাঃ “যাদের মনে ভয় রয়েছে, তাদের উপর শয়তানের আগমন ঘটার সাথে সাথেই তারা সতর্ক হয়ে যায় এবং তখনই তাদের বিবেচনাশক্তি জাগ্রত হয়ে উঠে।” সূরা আল-আ´রাফঃ২০১

বই অনুবাদঃ To Be A Muslim, ফাতি ইয়াকান


পূর্বের অংশ পড়তে এখানে ক্লিক করুন “আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
 

মানুষের আত্নার যৌক্তিক ভাগটি মন নামে পরিচিত এবং আধাত্নিক ভাগটি বু্দ্ধি বা স্পিরিট নামে পরিচিত, যা বস্তুগত জিনিসের (শরীর) উপর বিজয় লাভে সাহায্য করে, যদি মন এবং স্পিরিট কে অভিজ্ঞতা এবং স্টাডির মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান সহ সরবরাহ করা হয়। এই ধরনের জ্ঞানই ভাল-মন্দের মধ্যে পার্থক্য নির্নয় করে , একজনকে আল্লাহর কাছে নিয়ে যায় তাই মানুষ আল্লাহর শক্তি ও মাহাত্য সম্বন্ধে জানতে পারে। আল্লাহ তার ওহীতে এটাই বুঝিয়েছেন।

“অনুরূপ ভাবে বিভিন্ন বর্ণের মানুষ, জন্তু, চতুষ্পদ প্রাণী রয়েছে। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই কেবল তাঁকে ভয় করে। নিশ্চয় আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাময়।” সূরা ফাতিরঃ ২৮

রাসুল (সাঃ) বলেনঃ
আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের উপর সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো মানুষের মন এবং স্পিরিট।” তিরমিজি
একদা রাসুল (সাঃ) বলেন, “আলী ইবন আবি তালিবঃ একজন মানুষ তার আল্লাহর নিকট বিভিন্নভাবে কাছে যাওয়ার চেষ্টা করে, তুমি জ্ঞানের মাধ্যমে তার নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা কর।” সবচেয়ে বড় অর্জনটি আসে মন এবং স্পিরিট থেকে। কারন এগুলোই মানুষকে সঠিক পথে ধাবিত করে এবং খারাপ পথ থেকে বিরত রাখে। এবং এজন্যই ইসলাম আমাদেরকে জ্ঞান আরোহন করতে উৎসাহিত করে যাতে এবং আমাদের দ্বীনের জ্ঞানকে গভীরতর করতে উৎসাহিত করে যাতে করে আমাদের মন ভালো-মন এবং সঠিক-বেঠিকের পার্থক্য বুঝতে পারে।

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ কাউকে যদি ভালো কিছু দিতে চান তাহলে তিনি তাকে দ্বীনের বুঝ দান করেন।”

যারা শুধুমাত্র উপাসনা করে তাদের চেয়ে শিক্ষিত মানুষের সুবিধা হলো যেমন,আমার সাহাবাদের মধ্যে সর্বনিম্ম মানুষের উপর আমার সুবিধা।
এই সুবিধাগুলো আসে নৈতিক মানের অবস্থা থেকে এবং আমাদের বিশ্বাসকে গভীরতর করা এবং বিশ্বের রহস্যকে আবিষ্কার করার উপর জ্ঞানের ভূমিকা থেকে। একজন সজাগ বিশ্বাসীর মন ভাল-মন্দ, সঠিক-বেঠিক, ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে পারে কারন এমন বিশ্বাসীর সচেতনতা থাকে যা তাদের আল্লাহর আলোয় দেখতে সহায়তা করে।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেনঃ
“অথবা (তাদের কর্ম) প্রমত্ত সমুদ্রের বুকে গভীর অন্ধকারের ন্যায়, যাকে উদ্বেলিত করে তরঙ্গের উপর তরঙ্গ, যার উপরে ঘন কালো মেঘ আছে। একের উপর এক অন্ধকার। যখন সে তার হাত বের করে, তখন তাকে একেবারেই দেখতে পায় না। আল্লাহ যাকে জ্যোতি দেন না, তার কোন জ্যোতিই নেই।” সূরা আন-নুরঃ৪০

আধাত্নিক আলোকে নির্বাপিত করা যায়, শুধুমাত্র অন্যায় কর্মের দ্বারা, ক্রমাগতভাবে অন্যায় অবস্থার মধ্যে অবস্থান করে, এবং ইচ্ছাকৃত পাপ কাজ করা এবং পাপ করার পর কখনও তওবা না চাওয়ার মাধ্যমে।

রাসূল (সাঃ) বলেনঃ “যদি কোন মানুষ পাপ করে তাহলে তার আত্না তার কাছ থেকে চরমভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়”

আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ “যখন আমি ওসমানের (রাঃ) সাথে দেখা করার জন্য রওনা হলাম, আমি একজন মহিলাকে দেখলাম। আমি মহিলাকে পূর্নদৃষ্টিতে দেখলাম এবং আমি তার সৌন্দর্য্য সাথে করে নিয়ে গেলাম। যখন আমি প্রবেশ করলাম, ওসমান (রাঃ) বললোঃ “তোমাদের মধ্যে একজন এই ঘরে প্রবেশ করেছো আমাকে দেখার জন্য অথচ এখনও দুচোখে ব্যাভিচারের চিহ্ন রয়ে গিয়েছে। তোমরা কি জানোনা যে মানুষ চোখ দিয়েও ব্যাভিচার করতে পারে!” তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, “নবী (সাঃ) এর পরে কি কোন ওহী নাজিল হয়েছে?” ওসমান (রাঃ) উত্তর দিলেন, “না, কিন্তু আমার মতামত উদ্দেশ্যপূর্ণ এবং পরিষ্কার প্রমান এবং সতর্ক বিবেচনার উপর ভিত্তি করে বলা।”

আধ্যাত্নিক পরাজয়ের চিহ্ন

যখন কারো হৃদয় স্থবির হয়ে যায়, মন যখন বিকৃত হয়ে পড়ে, এবং যখন কারো হৃদয় অন্ধকারে ডুবে থাকে, বিশেষত শয়তানের সাথে সুষ্পষ্টত পরাজয়ের পর তখন তার হৃদয়ে শয়তানের সকল দরজা খুলে যায়। তখন শয়তানী শক্তি আদম সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পরে যেমন রক্ত তাদের শরীরে ছড়িয়ে পরে। আমাদের অবশ্যই এই বিপদের জন্য সজাগ থাকা লাগবে এবং মনে রাখতে হবে যখন কারো আত্নার প্রতিরক্ষা কমে যায় তখন শয়তান তার কাছে বন্ধু হয়ে যায়।

সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেনঃ
“শয়তান তাদেরকে বশীভূত করে নিয়েছে, অতঃপর আল্লাহর স্মরণ ভূলিয়ে দিয়েছে। তারা শয়তানের দল। সাবধান, শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্ত।” সূরা আল-মুজাদিলাঃ ১৯

কুরআন আমাদের বলে যে, শয়তান হলো মানুষের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ শত্রু, যে আল্লাহর কাছে ঘোষনা দিয়েছিলো জান্নাত থেকে বহিস্কৃত হওয়ার পর। শয়তান বলেছিলোঃ

“সে (শয়তান) বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো।রপর তাদের কাছে আসব তাদের সামনের দিক থেকে, পেছন দিক থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না।” সূরা আল-আ´রাফঃ১৬-১৭

চলবে… পরের পোষ্টে

বইটি একটু একটু করে অনুবাদ করার চেষ্টা করছি। অনেকদিন বাংলা চর্চা না থাকায় কিছু কিছু জায়গায় হয়ত সঠিক বাংলা ব্যবহার করতে পারিনি পরে ঠিক করে নিবো ইনশাল্লাহ। 

“স্মৃতিচারণ” “শার্ট ইন করার অভ্যস করো নয়ত ঘাটতি থেকে যাবে”

কথাটি বলেছিলেন আমাদের সবার প্রিয় কামরুন্নাহার ম্যাডাম। প্রতিদিন সকালে স্কুলে ঢুকলেই একটু পর ডি-বক্সে দাঁড়াতে হত পিটি করতে। কবীর স্যার একদিকে বাঁশের কঞ্চি নিয়ে দাড়িয়ে থাকতেন। স্যারের কাজ ছিলো কেউ শার্ট ইন করেছে কিনা্? জুতা পরেছে কিনা, বেল্ট আছে কিনা স্কুল ইউনিফরম পড়ে এসেছে কিনা এসব দেখা। পিটি শেষে যখন সবাই লাইন ধরে বিল্ডিং এর ভেতরে প্রবেশ করতাম তখন অনেক সময় স্যার ম্যাডামেরা দাড়িয়ে থাকতেন। আমি বরাবরই শার্ট ইন করা পছন্দ করতাম না। একদিন পিটি শেষে শার্ট আগের অবস্থায় রেখে দিলাম, সবাই লাইন ধরে স্কুল বিল্ডিংএ প্রবেশ করার সময় ম্যাডাম দেখলেন আমার শার্ট ইন করা নেই।

সেদিন বললেন যে, “হালিম শার্ট ইন করার অভ্যস করো, নয়ত এটা তোমার ঘাটতি থেকে যাবে”।
সেই ঘাটতি এখনও কাটিয়ে উঠতে পারিনি।

নাহার ম্যাডাম সবাইকে নিজের বাচ্চার মত দেখতেন। উনাকে সবাই অনেক শ্রদ্ধা করতো। কারন উনার মধ্যে শিক্ষকের চেয়ে বড় গুন ছিলো যে উনি যা কিছু বলতেন আন্তরিকতা নিয়ে বলতেন এবং সবাইকে সমানভাবে দেখতেন।

ম্যাডামের বাসায় আমরা প্রাইভেট পড়তে যেতাম সকাল ৮ তার দিকে। ম্যাডাম আমাদের সাথে বসতেন আর ম্যাডামের স্বামী দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমাদের সাথে গল্প জুড়িয়ে দিতেন। খুবই ভালো মানুষ ছিলেন ম্যাডামের স্বামী। আমাদের বন্ধু ছিলো মোজাহারুল নাম প্রাইভেট যখন ই পড়া শুরু হত সে ম্যাডামের স্বামীর সাথে কবুতর আলু এসব নিয়ে গল্প শুরু করে দিত। ভালো এ লাগতো।

একটি মজার ঘটনা বলি, ক্লাশ এইট অথবা নাইনের সাময়িক পরীক্ষার সময়। টেকনিক্যালের সবাই জানে যে পরীক্ষা চলাকালীন বইগুলো সাধারনত সামনে স্যারদের বসার স্থানের নিচে অথবা রুমের দরজার বাইরে রাখা হত। পরীক্ষা যথারীতি শুরু হলো। অনেকেই ওয়াশরুমে যাওয়া শুরু করলো। আমার ও যাওয়া দরকার হলো বের হলাম। ফেরার সময় আমাদের এক বন্ধু ছিলো বেচারা করলো কি দরজার পাশে বই নিয়ে দেখা শুরু করলো পরীক্ষা চলাকালীন সময়ই। ঠিক সে সময়ে নাহার ম্যাডাম হাজির, ম্যাডাম ঐ বন্ধুকে ভালোভাবে জানতেন, খুবই সহজ সরল ছেলে ছিলো। তার হাতে বই দেখে বললেন “…… বলো আমি হাসবো না কাদবো?” বেচারা লজ্জা পেয়ে দে দৌড়। ম্যাডাম কে সবাই শ্রদ্ধা করত। উনি খুব একটা মারধোর করতেন না। তাই উনাকে সবাই ভয়ের চেয়ে শ্রদ্ধাই করত বেশি। এরকম শিক্ষক আছে বলেই ভালো মানুষ তৈরী হয়। শিক্ষকরা সবাই বরাবরই ভালো ই হয়। তবে ছাত্রদের আন্তরিকতা নিয়ে বড় করানোটা সবাই করতে জানেনা। যেটি নাহার ম্যাডামের একটি বড় গুন।

ম্যাডামের সাথে আরো কিছু স্যারের নাম উল্লেখ না করলেই নয়। জেহাদী স্যার অসম্ভব ভালো মানুষ, স্যারের হাতের লিখা আমার খুবই পছন্দ ছিলো। তবে জেহাদী স্যারের একটি বিষয় আমি খুব ভাবতাম যে, স্যার ইসলাম শিক্ষা পড়াতেন আবার ইংলিশ ও পড়াতেন। ভাবতাম মাদ্রাসায় পড়ে ইংলিশে ভালো হলেন কি করে? ঐ সময়ে ছোট ছিলাম বুঝতাম না। স্যার কবিতাও লিখতেন ঐ সময়ে।

নেক্সট পোষ্টে বাকি স্যার গুলোকে নিয়ে লিখবো।

একটি পোষ্ট লিখবো শুধুমাত্র আমাদের সবার প্রিয় সালাম স্যারকে নিয়ে। একজন মানুষের মধ্যে কত গুন যে থাকতে পারে সেটি স্যারকে না দেখলে কেউ বুঝতে পারবেনা। ছাত্রদের নিয়ে ভাবতে হয়, এই বিষয়টি স্যারের মাধ্যমেই আমরা প্রথম বুঝতে পারি। উনি ছাত্রদের মনিটর করার জন্য সন্ধ্যার পর ছাত্রদের বাসায় বাসায় শিক্ষক পাঠিয়ে খোজ নেয়ার নিয়ম চালু করেছিলেন।
(চলবে…..)

“আত্ননিয়ন্ত্রন” এর জন্য যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রত্যেক মানুষই জীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মনের অন্তর্নিহিত কোন্দলকে মোকাবেলা করে এবং হয় সে জয়ী হয় নয়ত এর মধ্যে তার ধ্বংস হয়ে যায়।

আল্লাহ মহান রাব্বুল আলামিন বলেনঃ

”শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর, অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়। এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সে ব্যর্থ মনোরথ হয়।” সূরা আশ-শামসঃ৭-১০

মানব সম্প্রদায়কে দুটি গ্রুপে ভাগ করায় যায়ঃ

১) যারা তাদের ইচ্ছের কাছে পরাজিত হয়। এ ধরনের মানুষগুলো দুনিয়াদারী জিনিসগুলোকে মান্য করে চলে এবং দুনিয়াদারীর মধ্যে মশগুল থাকে। এরা হলো অবিশ্বাসী। যারা তাদের অনুসরন করে থারা আল্লাহকে ভূলে যায় ফলে আল্লাহ ও তাদের ভূলে যায়।

আল্লাহপাক কুরআনে বলেনঃ

”আপনি কি তার প্রতি লক্ষ্য করেছেন, যে তার খেয়াল-খুশীকে স্বীয় উপাস্য স্থির করেছে? আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান ও অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহর পর কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর না?”

সূরা জাশিয়াঃ ২৩

২) যারা নিজের খায়েসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। এটি করতে গিয়ে তারা কখনও জয়ী হয় আবার কখনও তারা পরাজিত হয়। তারা যখন ভূল করে তারা অনুশোচনা করে। যারা তখন পাপ করে তখন নিজেদের ভর্তসনা করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেনঃ

”তারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে কিংবা কোন মন্দ কাজে জড়িত হয়ে নিজের উপর জুলুম করে ফেললে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ ছাড়া আর কে পাপ ক্ষমা করবেন? তারা নিজের কৃতকর্মের জন্য হঠকারিতা প্রদর্শন করে না এবং জেনে-শুনে তাই করতে থাকে না।” সূরা আল ইমরানঃ ১৩৫

নবী করিম (সাঃ) বলেনঃ ” সব আদম সন্তান ই ভূল/গোনাহ করে। তাদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা যারা ভূল/গোনাহ করে এবং ক্ষমা চায়/তওবা করে” (তিরমিজি)

এ বিষয়ে আর ওয়াহিব ইবন মুনাব্বিহ বর্ণনা করেন, একবার ইবলিশ ইয়াহিয়া ইবন জাকারিয়ার সাথে দেখা করতে গেল। ইয়াহিয়া তাকে বললো, “আমকে বলো তুমি কিভাবে আদম সন্তানদের মোকাবেলা কর।” ইবলিশ বললো, “তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার মত; তারা সকল প্রকার গোনাহ থেকে মুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেনীর লোকদের নিয়ে আমি সহজেই খেলতে পারি যেমন শিশুরা বল নিয়ে খেলে। তাদের মানসিক আকাংখা তাদেরকে আমাদের কাছে পরাজিত করে। কিন্তু তৃতীয় এক শ্রেনীর মানুষ আছে যারা আমাদের কাছে খুবই জটিল প্রকৃতির। আমরা তাদের পেছনে লেগে থাকি যতক্ষন না আমরা সফল হই, কিন্তু পরক্ষনে তারা তওবা করে/ক্ষমা চায়, এবং আমাদের সকল অর্জনকে ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং আমরা কখনই তাদের হতাশ করতে পারিনা বা তাদেরকে হারাতে পারিনা।”

শারীরিক চাহিদার বিরুদ্ধে যুদ্ধে শক্তির উপাদানসমূহঃ

শারীরিক চাহিদা ম্যানেগ করতে শক্তির দুটো উতস বিদ্যমান।

১) হৃদয়

আলি ইবন আবি তালিবঃ “পৃথিবীতে আল্লাহর একটি পানির আধার আছে, আর সেটি হলো হৃদয়। আল্লাহ সেসব হৃদয়কে বেশি পছন্দ করে যেগুলো কোমল, পবিত্র এবং শক্তিশালী।” তারপর আলি (রাঃ) ব্যাখ্যা করেছেন সে শব্দগুলোর অর্থ হলো, “ধর্মে শক্তিশালী, বিশ্বাসে বিশুদ্ধ, এবং অন্যর প্রতি কোমল।” আলি (রাঃ) আরো বলেনঃ” বিশ্বাসীদের হৃদয় হলো পবিত্র এবং আলোয় পরিপূর্ণ। অপরপক্ষে, অবিশ্বাসীদের হৃদয় কালো এবং অসুস্থ্য।”

কুরআনের ভাষায়ঃ

”তিনিই তোমাদেরকে মাটির দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর নির্দিষ্টকাল নির্ধারণ করেছেন। আর অপর নির্দিষ্টকাল আল্লাহর কাছে আছে। তথাপি তোমরা সন্দেহ কর।” সূরা আল আ´নামঃ২

”তারা কি এই উদ্দেশ্যে দেশ ভ্রমণ করেনি, যাতে তারা সমঝদার হৃদয় ও শ্রবণ শক্তি সম্পন্ন কর্ণের অধিকারী হতে পারে? বস্তুতঃ চক্ষু তো অন্ধ হয় না, কিন্তু বক্ষ স্থিত অন্তরই অন্ধ হয়।” সূরা হজ্জ্বঃ ৪৬

”তারা কি কোরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?” সূরা মুহাম্মাদঃ ২৪

২) মন এবং বুদ্ধি

চলবে……

লিখাটি “টু বি মুসলিম-ফাতি ইয়াকান” বই থেকে সংকলিত

আজকের কবিতা

আকাশ জুড়িয়া নামিছে বর্ষার ধারা
তারিমাঝে রংধনু আঁকা।
দুর হতে আকাশ যেন ডাকিছে হাকি
চলে এসে আমার জলে হয়ে যাও মাখামাখি।
আনমনে চেয়ে থাকি আকাশে
সারা গায়ে দোলা দিয়ে গেলো বুঝি
বঙ্গমাতার বাতাসে।
হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেয়ে…
নিজেকে খুজে পাই অনেক দুরে।
হয়ত ফিরবো বাংলায় কোন এক ভোরে…..

IMG_0652

“স্মৃতিচারণ”

“স্মৃতিচারণ”

১৯৯৮ সালের কথা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। পদার্থ প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা। যথারীতি পরীক্ষক আমাদের আফতাব স্যার। এসএসসির পদার্থ মানেই হলো সরলদোলকের বব আর স্ক্র-গজ নিয়ে নাড়াচারা করা। আফতাব স্যার চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে আছেন। সবাই একে একে স্যার এর কাছ থেকে সরলদোলকের বব নিচ্ছিলো। আমার টার্ন আসলো আমি বব নিতে গেলাম। মনে মনে ভাবছিলাম ইশ যদি টেষ্ট পরীক্ষার বব টা পাই, তাহলে সব মূখস্ত লিখে দিতাম। ঐ সময়ে কেন জানি সব কিছু মুখস্ত হয়ে যেত।

সে যাই হোক যথারীতি স্যার এর টেবিলের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম আর ভাবছিলাম যদি সেই ববটা পাই। এভাবে ভাবতে ভাবতে স্যারের কাছে যখন গেলাম। স্যার ও বব হাতে নিলেন দেখলাম সেই ববটাই যেটি আমি টেষ্ট পরীক্ষায় ব্যবহার করেছি। ববটার হুক একটু বাকা ছিলো

স্যার বব হাতে নিলেন আর আমি মনে মনে খুশি হলাম। কিন্তু আমার খুশি বেশিক্ষন থাকলোনা যখন দেখলাম স্যার ববটা আমাকে না দিয়ে রেখে দিলেন। আমার ভাব দেখে স্যার বললেন, এটি তোমাকে দেয়া যাবেনা তুমি এটি আগে ব্যবহার করেছো।
এই ছিলো আফতাব স্যারের অনেক গুনের মধ্যে একটি। আমরা দুই-শাখা মিলে ১৩০ ছাত্র-ছাত্রী ছিলাম তখন। এত গুলোর ছাত্রছাত্রীর মাঝে ও কি করে স্যার মনে রেখেছিলেন যে ঐ ববটি আমি ব্যবহার করেছিলাম তা আজো আমার বোধগম্য হয়নি। সৈয়দপুরে ম্যাথমেটিশিয়ান বলতে তখন একজনই ছিলেন আফতাব স্যার। এই স্যারের কত ছাত্র যে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়েছে তার হিসেব নেই।

অনেকেই বড় বড় হয়ে স্কুল কলেজের স্যারদের ভূলে যায়, অথচ স্কুল কলেজের স্যাররাই এক একজন মানুষ তৈরী করেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তৈরী করা জিনিসকে নাড়ানাড়া করেন।

স্যার কিছুদিন আগে মারা গেছেন। দোয়া করি স্যার জান্নাতবাসী হোন।

অনেকদিন ভাবছিলাম স্কুলের স্যারদের নিয়ে কিছু লিখবো। ভাবছি নেক্সট পোষ্টটি দিবো আমার স্কুল কলেজের স্যারদের নিয়ে। অনেক ভালো লাগে স্কুল কলেজের কথা ভাবতে। সময়গুলো অনেক ভালো ছিলো।
ভালো ছিলেন সব স্যার-ম্যাডাম রা।

কবিতা (১৯৯৯ সালে লিখা্)

কবিতা লিখবো বলে কলম ধরিনি
কবি হতে আমি চাই না
তারপরও মনেহয় তুমি একটি জীবন্ত কবিতা
একটি কাব্য কিংবা একটি গান
পহেলা বৈশাখ, ৮ ই ফাল্গুন, ২৬ শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বরে
তোমাকে খুঁজি ফিরি আমি মানুষের ভীড়ে
১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন করেছি
কিন্তু তোমার হৃদয় জয় করতে পারিনি
আমি আশাবাদি তাই তোমাকে খুজি আমি
প্রকৃতির সবুজের মাঝে
জ্যোৎস্না স্নাত রাতে চাঁদের আলোয়
অমাবস্যার রাতে হারিয়ে যাওয়া তারার আলোয়
হয়ত বা কোন গানের সুরে
তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে আজ আমি-
বড্ড ক্লান্ত, শ্রান্ত, অবসন্ন
তারপরও আমি তোমার পথ চেয়ে বসে আছি
হয়ত তুমি উঠে আসবে সবুজের মাঝ হতে
বাঁশির সুর হতে
কিন্তু-
তখন আমি কি পারবো তোমায় নিতে?
তারপরও তুমি এসো!
তোমার সৌন্দর্য্যে ক্ষুধার্তরা ভূলে যাক ক্ষুধা
তোমার আলোয় দূরিভূত হোক অন্ধকার!
পৃথিবীতে নেমে আসুক শান্তির বার্তা
প্রকৃতি জেগে উঠুক নতুনভাবে।
তাই তোমার পথ চেয়ে আমি বসে আছি
বসে আছি তুমি- কবে আসবে….
এই আশায়..