আজকের ভাবনাঃ ২৯ জুলাই ২০১৪

রাত ৯:৩৭ ল্যাব এ বসে আছি। একটা এক্সপেরিমেন্ট বাকি আছে। ইদানিং ফেইসবুকে লিখতে গিয়েও লিখা হয় না। আবার লিখলেও পোষ্ট করা হয় না। তাই আমার ব্লগকে বেছে নিয়েছি আমার একান্ত ভাবনা গুলো লিপিবদ্ধ করে রাখার মাধ্যম হিসেবে।

ফেইসবুকের একটি বড় বিষয় হলো রাজনীতি। আগে সমালোচনামূলক অনেক কিছু লিখতাম। এখন আর লিখা হয় না, মনেহয় সমালোচনা করলে অনেক কিছু করা যায় কিন্তু নিজের কিছু করা উচিত। একটি উন্নয়নশীল দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য আন্দোলনের চেয়ে বেশি জরূরী হলো সামাজিক আন্দোলন। উন্নয়নশীল দেশে সমাজ পরিবর্তনের রাজনৈতিক ইশতেহার বাস্তবতার মুখ দেখেনা ফলে সমাজের যে ধরনের প্রতিবর্তন দরকার বা সমাজকে গতিশীল এবং টেকশই করতে যা যা করা লাগে তা করা হয়ে উঠে না। ফলে সমাজের প্রতিষ্ঠান গুলো ভংগুর হয়ে উঠে। সমাজের মধ্যে বিশৃংখলা দেখা যায়। পরে এটি চরম আকার ধারন করে। ফলে সমাজের রোগগুলোর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সমাজের পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠে। বর্তমানে বাংলাদেশের সমাজের দিকে তাকালে এসব অনেক কিছু দেখা যায়। এর প্রধান কারন হলো আগাম পদক্ষেম না নেওয়া। একটি দেশ যখন উন্নতি লাভ করা শুরু করে তখন তার সমাজের মধ্যে বিদ্যমান প্রথাগুলোর ও পরিবর্তন শুরু করে। এসব পরিবর্তন যদি দেশিয় প্রথানুযায়ী না ঘটে তাহলে বিপত্তি দেখা যায়। মানুষের মধ্যে অবসাদ নেমে আসে। পরিবারের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। যৌনতা সমাজে ব্যধির মত ছড়িয়ে পরে। দিশেহারা তরুন সমাজ মাদকাশক্তি সহ আরো নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরে।

যারা রাজনৈতিক আন্দোলন করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলীয় স্বার্থ আদায়ে ততপর হওয়ার কারনে সমাজের দিকে বেশি দৃষ্টিপাত করতে পারে না। ফলে সমাজের সাধারন মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। সমাজে সুবিধাবাদী ও ভোগবাদী গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়।
এসব থেকে পরিত্রান পাওয়ার উপায় খুব একটা কঠিন বলে মনেহয় না।

শিক্ষিত সমাজ নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে নিজেদের চারপাশের পরিবেশের জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে। এসব পদক্ষেপকে সামাজিক আন্দোলন নাম দিয়ে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে। সমাজের তরুন প্রজন্মকে এসব কাজে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে এসব কাজকে ফলপ্রসূ করা যেতে পারে। যেমনঃ সমাজে মাদকাশক্তির প্রভাব রোধে লোকাল পর্যায়ে সামাজিক সংগঠন করে সেখানে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের জড়িত করা যেতে পারে। স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরাও এই উদ্যেগ গ্রহন করতে পারে।
স্কূলের ক্লাশের পাশাপাশি বৃহঃপতিবার ১-২ ঘন্টা সামাজিক আন্দোলনে সময় দেয়ার নিয়ম করা যেতে পারে। তাহলে শিক্ষার্থীরা বাস্তবধর্মী শিক্ষার সুযোগ পাবে আবার নিজেরা এসব কাজে নিয়োজিত থাকার ফলে তাদের মাঝে সংগঠক হওয়ার যোগ্যতা গুলো চলে আসবে। ফলে এসব তরুন প্রজন্মরা যখন বড় হবে তখন তারা সমাজ এবং মানুষকে নিয়ে ভাবতে শিখবে।

যেসব কাজ করা যেতে পারে।
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। যেখানে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষা দেয়া যেতে পারে, এতে করে একদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগ্যতা তৈরী হবে অপরদিকে অনেক মানুষ শিক্ষার আলো পাবে।

স্কুল কলেজগুলোর উদ্যগে সমাজের স্বেচ্চাসেবী কাজ করা যেতে পারে। যেমনঃ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা হাতে কলমে দেয়া যেতে পারে, মাদকাশক্তির ক্ষতিকারক দিকগুলো নিয়ে সভা সেমিনার করা যেতে পারে, গ্রামে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে গ্রামের মানুষের মাঝে আধুনিক শিক্ষার ধারনা দেয়া যেতে পারে, স্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেতে পারে।
এভাবে নিজেদের উদ্যগে নিজেদের চারপাশের পরিবেশকে, নিজেদের সমাজকে একটি শক্তিশালী সমাজ হিসেবে তুলে ধরতে আমরা নিজেরাই ভূমিকা রাখতে পারি। শুধুমাত্র রাজনৈতিকদের জন্য রেখে দিলে আমরা ভালো লিডার ও তৈরী করতে পারবোনা। আমাদের সমাজের ও পজিটিভ কোন পরিবর্তন হবে না।

বিদেশের কিছু অভিগ্গতা

বিদেশে এসে নানা ধরনের অভিগ্গতার সম্মুখীন হতে হয়। নিজেদের পরিচিত মানুষগুলো অপরিচিত হয়ে যায় আবার অপরিচিতগুলো অনেক কাছের হয়ে ওঠে। অনেক বাংলাদেশী দেখলে মুখ লুকাতো। কি জন্য মুখ লুকাতো বলতে পারবো না। তবে তারা বাংলাদেশের মানুষগুলোর মত না এটি বলা যেতে পারে। একদিন এক বাংগালী মহিলার সাথে কথা বলছিলাম সে বললো তার বাড়ি নীলফামারী নাম জিগ্গেস করতেই বিগরে গেলো বেচারী বলে যে এত কিছু জেনে আপনার লাভ কি?? (!) উত্তর দিলাম যে, আমার বাড়িও নীলফামারি তাই জানতে চেয়েছিলাম যে হয়ত কেউ পরিচিত থাকতে পারে।

সুইডেনে এসে অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়েছে। যাদের সাথে পরিচয় সবাই মোটামোটি ইসলাম পালন করে। অনেক ফ্যামিলি আছে মাশাআল্লাহ খুবই ভালো। অনেক মানুষের ভীরে একটি ফ্যামিলর সাথে ভালো পরিচয় হয়ে উঠে। সে ফ্যামিলিতে একটি মেয়ে আছে। সে মাঝে মাঝে একটি প্রশ্ন করত আচ্ছা ভাইয়া; ইসলামে পুরুষ রা খ্রীষ্টান মেয়েদের বিয়ে করতে পারে কিন্তু মেয়েরা কেন ছেলেদের বিয়ে করতে পারে না এটাতো ফেয়ার না। তাকে অনেক বুঝালাম, সুন্দর উত্তর দিলাম, ডঃ জাকির নায়েক থেকে শুরু করে ইসলাম ডট নেট, অন ইসলাম নামক সাইট থেকে সুন্দর ব্যাখ্যা বের করে দিলাম। দেখি তারপর ও একই প্রশ্ন বুঝতে পারলাম যে সমস্যা কোথায়।
এরপর হঠাত কথা প্রসংগে আবার সেই প্রশ্ন কেন মুসলিম মেয়ে হয়ে খ্রিষ্টানকে বিয়ে করা যাবে না। তখন সরাসরি প্রশ্ন করি উত্তর পেয়ে যাই, যা আশংকা করছিলাম সত্যি ঘটনা। তাহলে উপায় এখন। বাবা-মা ইসলাম পালন করে। মনের মধ্যে একটু টান আছে বাবা-মা কষ্ট পাবে, আবার ওদিকে ৮ বছরের স্বপ্ন। কি করা যায়। তার চেষ্টা হলো যে আমার কাছ থেকে ব্যাপারটিকে জায়েজ করে নেওয়া। 🙂
পরিবারের লোকজনের ইসলাম নিয়ে সঠিক নলেজ না থাকলে এবং পাশাপাশি সঠিক প্রাকটিস না থাকলে বাচ্চাদের মধ্যে এরকম নানা রকম রোগ দেখা দেয়। পরিবারের মানুষেরা ইসলামের সঠিক প্রাকটিস না করলে বাচ্চারা সঠিক ইসলাম তো পায় না বরং ইসলাম ও মুসলিম নিয়ে তাদের মনে খারাপ ধারনা তৈরী হয়। যেমন বাংলাদেশি পুরুষদের মধ্যে ডমিনেন্ট করার প্রবনতা আছে যেটি ঠিক না। ফলে পশ্চিমা কালচারে বড়ে হয়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম ভূল শিক্ষা পায় ফলে নানা ধরনের মানসিক রোগ দেখা দেয় যার চিকিতসা করে ভালো করা যায় না, শেষে বলতে হয় আল্লাহর ইচ্ছে আমরাতো কম চেষ্টা করিনি, তখন নূহ (আঃ) এর ছেলের উদাহরন দিয়ে সন্তুষ্টি খুজতে হয়।

তারসাথে অনেক কথা হলো, তারকথা হলো আমিতো অন্য পরিবারে জন্ম নিলে মুসলিম নাও হতে পারতাম। অবস্থা দেখে তাকে বললাম যে, আমার কাছে খুব ভালো সমাধান আছে। সে তখন উতসুক হয়ে বললো যে, বলো তাড়াতাড়ি। বললাম যে তোমার বিবেক যা বলে সেটাই করো। তখন বলে যে, আব্বু আম্মু কষ্ট পাবে।
বললাম যে জটিল অবস্থা। কারন তোমার মন চাইছে কিন্তু বিবেক বলছে যে না করা যাবেনা। এই ধরনের অবস্থায় বিবেক কে ফলো করো।
তো তাকে জিগ্গেস করলাম যে, ছেলে কি তোমাকে খুব ভালোবাসে বলে যে হুমম ৮ বছর হলো 🙂 বললাম তাহলে তাকে বলো ইসলাম গ্রহন করতে। বলে যে সে খুব ভালো খ্রীষ্টান আর তার ফ্যামিলিও ভালো খ্রীষ্টান। আমি হাসলাম বললাম যে তোমার আব্বু আম্মুতো ভালো মুসলিম, তোমরাও তো ভালো মুসলিম ফ্যামিলি? সে বলে হুমম সেজন্যই তো কেউ কারো ধর্ম ত্যাগ করবো না কিন্তু বাচ্চাদের মুসলিম হিসেবে বড় করবো।
আমি বিভিন্ন অপশন বলছিলাম আর সে সেগুলোকে বিভিন্ন যুক্তি দিচ্ছিলো এবার বললাম, ছেলে তোমাকে বিয়ে করলে তো তার ধর্ম নষ্ট হবেনা, সে কার ধর্মের নিয়ম কে লংঘন করছে না, কারন তার ধর্মে তোমাকে বিয়ে করা জায়েজ, কিন্তু তুমি যদি তাকে বিয়ে কর তাহলোএ তো তুমি তোমার ধর্মকে ধর্মের নিয়মকে ভায়োলেইট করছো। সে অবশ্যই ভালো খ্রীষ্টান তবে তুমিতো ভালো মুসলিম হতে পারবে না।
তুমি কেন তার জন্য তোমার ইসলামের নিয়মকে ভায়োলেইট করবা।
এবার তার যুক্তি শেষ। বলে হুমম এটা ভালো পয়েন্ট বলেছো।

যাহোক বিদেশে এরকম নানা রকম ঘটনা আছে বেশিরভাগ ফ্যামিলিতে। বিদেশী জীবন অনেক সূখের কিন্তু সে সুখ তারা খুব বেশিদিন উপভোগ করতে পারেনা, যারা নিজেদের কালচার এবং ইসলাম মত জীবন যাপনে অভ্যস্ত না। জীবনের শেষ পর্যায়ে গিয়ে হিসেবে ভূল ধরা পরে। মাঝেপথে জীবনের স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যায়। দেশে ফেরাও হয় না আবার বিদেশে চোখের সামনে প্রিয় বাচ্চাদের কে বিধর্মীদের সাথে রাত্রীযাপনের কথা ভেবে চাপা কষ্ট নিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়। টুকটাক ইসলাম জানা লোক হলে বলবে আল্লাহ না দিলে আমরা কি করব, আর ইসলাম জানা লোক না হলে এই বিদেশী হাইব্রিড প্রজন্মের সদস্যদের দ্বারাই দেশি কালচারের দ্রুত পরিবর্তন সাধিত হয়।

তাই সময় থাকতে আমাদের নলেজ অর্জন করা জরূরী আর সেটি হলো ইসলাম সম্মত ভাবে কিভাবে পরিবার গঠন করা যায় বাচ্চাদের কিভাবে ইসলামিক পরিবেশে বড় করা যায়।

আজকের ডায়েরী; ২৬ জুলাই ২০১৪

অনেক দিন কোন কিছু লিখা হয় না। লিখতে বসে দু-চার লিখে কেন জানি ইচ্ছে হয় না। হঠাত মানসিকতার কোথায় যেন পরিবর্তন হয়েছে। ভাবলাম কিছু লিখি আমার ডিজিটাল ডায়েরীর পাতায়। চারদিক কোলহল, ডিজিটাল সাইট গুলোতে ডিজিটাল প্রজন্মের পদচারনায় মুখরিত। মাঝে মাঝে ভাবি মানুষ কত কিছু নিয়ে ব্যস্ত। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত, তারপর রাত থেকে সকাল পৃথিবীর কোথাও না কোথাও মানুষ জেগে থাকে বা পৃথিবীকে মুখরিত রাখে নিজেদের নানা রকম কাজে।
মানুষ কত কিছু নিয়ে ই ব্যস্ত থাকে। মানুষের জীবনের কত কিছু আকাংখা। জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার লড়াই, সমাজে নিজের নামকে সবার উপরে উঠানোর লড়াই কিংবা অন্যের কাছে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের লড়ায়ে মানুষ কত কিছু ই না করে। কিন্তু মানুষ কখনই নিজের আত্নার তৃপ্তির জন্য বা মানসিক সূখের জন্য ভাবেনা। অন্যের চলা পথে সূখ খুজতে মানুষ ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজের অজান্তে ফলে নিজে প্রকৃত সূখ পায় না। জীবন সংগ্রামে জয়ী হয়ে যখন ভাবে এখন একটু বিশ্রাম নেয়ার সময় ঠিক তখনই বুঝতে পারে যে, সে ভূল পথে হেঠেছে। নিজের চারপাশের পরিবেশ তার কাছে অপরিচিত হয়ে ওঠে। ফলে যৌবনের শুরুর যে অতৃপ্তি সেই অতৃপ্তি নিয়ে মৃত্যুবরন করে তার শরীর তার অতৃপ্ত আত্না।

কিছুদিন আগে এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো। সে জিগ্গেস করলো আচ্ছা বন্ধু পিএইচডি টা আসলে কি? প্রশ্ন করার অনেক কারন আছে হয়ত। যখন বাংলাদেশে ছিলাম কলেজে পড়তাম বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম। দেখতাম কিছু স্যারের নামের পেছনে লিখা পিএইচডি কিংবা নামের আগে ডক্টর। ভাবতাম জীবনে এই ডিগ্রীটাই বুঝি সবার চেয়ে বড়। বড় মনে হওয়ার কারন যারা এসব টাইটেল সামনে পেছনে লাগায় মানুষ তাদের সমীহ করে, তারা নিজেদেরকে একটি আলাদা শ্রেনী ভাবা শুরু করে দেয়। ফলে সমাজের তরুন প্রজন্মের কাছে এসব কিছু জীবনের লক্ষ্য হয়ে দাড়ায়। জীবনের গুনগত পরিবর্তন নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। ডিগ্রী আর সার্টিফিকেটের জন্য পড়াশোনাই হয়ে উঠে জীবনের লক্ষ্য। ফলে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে ভাবার জন্য কেউ থাকেনা আবার সমাজের গুনগত পরবর্তনের জন্য যে কেউ পথ দেখাবে সেটাও হয়ে উঠে না।
ফলে স্বার্থান্বেষী একটি সমাজ তৈরী হয়, প্রতিযোগিতাপূর্ণ সমাজ তৈরী হয়, মানুষের মানবিকতা লোপ পায়। পরষ্পরকে ডিংগিয়ে নিজেকে বড় করার প্রবনতা মুখ্য ও বৈধ হয়ে উঠে।
সে যাই হোক; বন্ধু জিগ্গেস করলো পিএইচডি টা আসলে কি?
আমার কাছে পিএইচডি কখনই আকাংখার বস্তু ছিলোনা। তবে আমি যতটুকু বুঝি বা আমি যে রকম মনে করি তাতে পিএইচডিকে আমার কাছে তেমন কিছু মনে হয় না। এটি অবশ্যই একটি বড় অর্জন। তবে এটি খুব বেশিকিছু নয়। কারনটি বলছি।
বন্ধুকে বললাম যে, পিএইচডি হলো গবেষনা কিভাবে করতে হবে তার জন্য একটি ট্রেনিং মাত্র। গবেষনা নামক সমূদ্রে সাতার কাটার জন্য প্রাথমিক ট্রেনিং বলা যেতে পারে। বললাম লক্ষ্য লক্ষ্য প্রফেসর যেখানে সারাজীবন চেষ্টা করে সামান্য কিছুই করতে পারছে সেখানে একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী কি বা অবদান রাখতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তেমন কোন অবদানই রাখতে পারেনা।
এক ভদ্রলোকের সাথে কথা হচ্ছিলো পিএইচডি নিয়ে। তিনি বললেন যে শুরুর দিকে একজন গবেষকের সারাজীবনের কাজের উপর ভিত্তি করে পিএইচডি দেয়া হত। আর এখন ভূরি ভূরি পিএইচডি ধারী।
বন্ধু আমার একটু আশ্বস্ত হলো আর কি।

আসলে একাডেমিক কোন ডিগ্রী একজন মানুষকে মুল্যয়নের জন্য মাপকাঠি হওয়া ঠিক হতে পারে না। একাডেমিক ডিগ্রি হয়ত একজন মানুষের একাডেমিক মুল্যয়নের মাপকাঠি হতে পারে। যেমন কোন রোগী দেখার জন্য ডাক্তারী ডিগ্রি দরকার। তবে সমাজে মানুষ হিসেবে মূল্যয়নের জন্য ডিগ্রিকে মাপকাঠি করলে সমাজের মূল্যবোধ লোপ পায়। সেই সমাজে পারষ্পারিক শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ যান্ত্রিক হয়ে উঠে।

তাই আমাদের উচিত সমাজে ভালো মানুষ তৈরীর চেষ্টা করা। সেই পরিবেশ তৈরী করা যাতে ভালো মানুষ জন্ম নিতে পারে। কারন খারাপ পরিবেশে কখনই ভালো মানুষ জন্ম নেয় না বা পরিবেশ মানুষকে ভালো হতে বাধা দেয়। সুতরাং আপনার আমার মানসিকতার উপর নির্ভর করবে আপনার আমার পরিবারের পরিবেশের অবস্থা এবং সেটিই বলবে যে সেখানে কে জন্ম নিবে ভালো মানুষ নাকি স্বার্থবাদী মানুষ।