আজকের ভাবনা, ১৫ মে ২০১৪

পরিবারে পুরুষের আধিপত্য বাচ্চাদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। মুসলিম পরিবারের কর্তা ব্যক্তি যদি ইসলামের সঠিক শিক্ষার চর্চা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে এটি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠে ইসলাম বিমূখীতার প্রধান কারন। আত্নসন্মান একটি বড় ব্যাপার। পাশ্চাত্য সভ্যতায় বাচ্চারা ছোটো বেলা থেকে নিজেকে সন্মান করতে শিখে, শিখে ফেলে মানুষ হিসেবে তার অধিকার। এরকম পরিবেশে ইসলামের সঠিক শিক্ষার চর্চা না থাকলে পরিবারের ছোট ছোট শিশুরা ইসলামের এক বিরূপ ছবি দেখে দেখে বড় হয়। ইসলামে সঠিক শিক্ষার চর্চা না থাকায় সে তার পরিবারে দেখেছে কিভাবে একজন পুরুষ নারীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। অথচ ইসলাম কখনই এমন শিক্ষা দেয় না। এরকম পরিবেশে বড় হয়ে উঠার ফলে এসব বাচ্চাদের মনে এক ধরনের কনফিউশন তৈরী হয়, এক ধরনের ইসলাম ভীতি তৈরী হয়, মুসলিম ভীতি তৈরী হয়। মুসলিম ছেলে বা মেয়েদের বা অনেক সময় নিজের দেশীয় কালচারে বড় হয়ে উঠা ছেলেদের বা মেয়েদের বিয়ে করতে চায় না ভয় পায় যে, বিয়ে করে আবার সমস্যায় না পড়ি। ফলে মানসিক অস্থিরতায় অজানা গন্তব্য পা বাড়ায়। পাশ্চাত্য সভ্যতার ব্যক্তি স্বাধীনতার অবাধ সুযোগ কে কাজে লাগায়। ব্যক্তি সন্মানবোধের যে ঘাটতি ছোট বেলায় থেকে তৈরী হয়েছিলো সেটি থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য পা বাড়ায় ভোগবাদী সমাজে যেখানে ব্যক্তির প্রাণী স্বাধীনতার সুযোগ থাকে অসম্ভব রকমের। ফলে মুসলিম পরিবার থেকে তৈরী হয় মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষী একটি প্রজন্ম। আর এরকম হয় পরিবারের সদস্যদের উদাসীনতা। ইসলামের যেখানে প্রথম বাণী ই হলো পড়! সেখানে মুসলিম হওয়ার পর ও আমরা ইসলামী নলেজ আহরনে অনীহা প্রকাশ করি। মুখে দাড়ী রেখে দিয়ে সালাত আদায় করে কপালে দাগ লাগিয়ে পরিবারের বাচ্চাদের মারা শুরু করি, সালাত আদায় না করার জন্য। অথচ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার সুন্দরতম চর্চা পরিবারে নিশ্চিত করতে পারলে পরিবারের পরিবেশ যেমন একদিকে ভালো থাকে অপর দিকে নিজেদের ভবিষ্যত প্রজন্মের ইসলামের পথে যাত্রার পথ সুগম হয়।
সেদিন ল্যাব এ সালাত নিয়ে আলোচনা করছিলাম ইরাকী কলিগের সাথে। সে একটি সুন্দর গল্প বললো। সাহাবার নামটি সে বলেনি আমিও জানিনা।
“এক সাহাবা (রাঃ) ব্যবসা করতেন, তো উনি সালাত আদায় করতেন যতটুকু করলে সুন্নত আদায় হবে এরপর উনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে কাজে নেমে পড়তেন। তো বাকি সাহাবা (রাঃ) উনাকে জিগ্গেস করলেন যে, আপনি সালাত আদায় করে এতো দ্রুত চলে যান কেন? উনি উত্তর দিলেন, সালাত তো হলো একটি কনসেপ্ট এটি অবশ্যই আদায় করতে হবে, কিন্তু আমি যদি সব সময় সালাতেই থাকি তাহলে আল্লাহ আমার পরীক্ষা নিবেন কেমনে? উনি বুঝালেন যে, সালাতের সময় তো পাপ করার সম্ভাবনা নেই, তাই যদি ২৪ ঘন্টা মসজিদে বসে থাকি তাহলে আর হলো কি? মূল বিষয় হলো সালাত আদায় করে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকি সময় গুলো সালাতে যেমন আল্লাহ কে উপস্থিত জেনে সালাত আদায় করলাম ঠিক তেমনি বাকি সময়গুলোতে সেই শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। এখন যদি সালাত ই পড়ি সারাদিন তাহলে সালাতের শিক্ষাগুলোকে জীবনের বাকি কাজে লাগাবো কেমনে?”
সামনে রমজান রমজানের ও ঠিক একই রকম শিক্ষা রমজান শুধু মাত্র একটি প্রশিক্ষন। সারা বছরই মূলত রমজানের শিক্ষার বা রমজান মাসে যেভাবে সব কিছু প্রাকটিস করা ঠিক সেভাবে আল্লাহ কে ভয় করে বাকি সময় গুলোতে চলা উচিত। কিন্তু সেটি আর হয়ে উঠে না।

সে যাই হোক মূল আলোচনায় আসি। ইসলামের প্রথম ওহী হলো পড়! কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা সার্ভে হলো সেখানে একটি প্রশ্ন ছিলো নলেজ কি? আমি ইন্টারনেটে অনেক ভালো ডেফিনিশন পেলাম, কিন্তু আমার কাছে মনেহলো নলেজের ডেফিনিশন টা এরকম
“লার্নিং প্রসেস টু নো দ্যা ট্রুথ”
নলেজের উতস বা আসলে কি?
ইসলামে নলেজের মূল উতস হলো ওহী। তারমানে সব কিছু জানার জন্য যা কিছু দরকার তার সবকিছু ওহীর মধ্যে বা সুন্নাহর মধ্যে বা কুরান ও সুন্নাহ ভিত্তিক পদ্ধতির মধ্যে নিহীত। এখন কথা হলো আমরা পরিবার গঠনে বা পরিবার পরিচালনার জন্য , বা পরিবারের সমস্যা সমাধানের জন্য যে নলেজ দরকার সেটি কোথা থেকে নেই? যদি প্রকৃ্তভাবে ই কুরান থেকে বা কুরান প্রসৃত পদ্ধতি থেকে নেই এবং সেটির বাস্তবায়ন করি, তাহলে পরিবারের মধ্যে যেমন ইসলামিক শিক্ষার চর্চা হবে ঠিক তেমনি বাচ্চার ইসলামের সঠিক শিক্ষাকে কাছ থেকে ভালোবেসে ফেলবে।
নয়ত আপনার বাচ্চারাই আপনার সামনে ইসলামের বিরোধীতা করবে। আপনি হয়ত ভাবছেন এটি পাশ্চাত্যের পরিবেশের দোষ ,আসলে দোষ হলো আপনার নিজেরই কারন আপনি আপনার পরিবার কে ইসলামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেননি। ব্যর্থতা আপনার নিজেরই।
শেষে একটি গল্প বলে শেষ করি। এটিও শোনা গল্প ভূল হলে গল্প থেকে শিক্ষাটা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
হযরত সালমান ফার্সী (রাঃ) যখন ইরাকের শাসক নিযুক্ত হয়ে ইরাকে যাচ্ছিলেন, তখন ইরাকের লোকজন সবাই অপেক্ষা করছিলো তাকে দেখার জন্য, সবাই দাড়িয়ে আছে অভ্যর্থনা দেয়ার জন্য কিন্তু রাজার মত দেখতে কাউকে দেখতে পেলেন না। দেখলেন একজন লোক শুধুমাত্র একটি জায়নামজ মুড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে এল, সবাই জিগ্গেস করলো যে, শাসক/রাজা কই উনি বললেন আমি তোমাদের শাসক। সবাই অবাক হয়ে জিগ্গেস করলো যে শাসকের সাথে তো গার্ড থাকার কথা, উনি বললেন আমি একাই। তো ইরাকের ফোরাত নদীর কথা সবাই জানি। প্রতি বছর প্রচুর বন্যা হত ঐ নদীর কারনে। সেবারও বন্যা হলো বন্যায় সবাই হত বিহ্বল হয়ে ছুটাছুটি শুরু করলো, তো উনি শুধু তার জায়নামাজ তা সাথে নিরাপদ দুরত্বে সরে গেলেন।ঊনার সাথে নেয়ার কিছু ছিলোনা ফলে উনি শুধুমাত্র উনার জায়নামাজ টা নিলেন। কিন্তু বাকি লোকজন নিজেদের ধন সম্পদ জিনিস পত্রের জন্য দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করলো”

গল্পটি মূলত বিনয় শিক্ষা দেয়ার জন্য। তবে অন্যভাবে বলা যায় দুনিয়ার মোহে যত সম্পদ আহরন করবেন, সেগুলো তত আপনাকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। দুনিয়ার জন্য অনেক কিছু করতে নিজেদের পরিবারকে ইসলামী শিক্ষা থেকে দুরে সরিয়ে রাখলে বা সময় স্বল্পতার অজুহাত দেখালে এগুলো্ই কিয়ামতের দিন বিপদ হয়ে দাড়াবে।

আল্লাহ আমাদের ইসলামের সঠিক বুঝ দান করুন! (আমীন)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s