ছড়া প্রতিদিন

সকাল বেলা উঠি যখন
সূর্য্যি মামা হাসে তখন
দিনের শেষে বিকেল এলে
সূর্য্যি মামা পরে হেলে।
বাড়ীর ছাদে রবির আলো
আকাশে মেঘ জমেছে কালো।
মেঘের মেলা ছুটছে চলে
বৃষ্টিধারা নামলো বলে—

 ImageImage

ছড়া প্রতিদিন

কাক ডাকা ভোরে
দেখলাম ঘুমের ঘোরে
কোন এক চোরে
ঢুকলো মোর ঘরে
ধরলাম তারে জোড়ে
ঘুমের ঘোরে
সে বললো ছেড়ে দাও মোরে
আমি নই কোন চোরে
আমি হলাম মন চোরে
আমি যাবো চলে
তোমার মনটা চুরি করে
ঘুম ভেংগে গেলে
দেখলাম কেউ নেই পাশে
কে এসেছিলো ভোরে
এখন তাই ভাবি বসে বসে……..

ব্যাচেলরদের জন্য ছড়া

যখন আমার থাকার কথা 
একটা দুইটা বাবু
তখন আমি বিয়ের চিন্তায় 
হয়ে গেলাম কাবু
ছোট ছোট বাবু সোনা দেখলে 
মনে লাগে ব্যাথা
রাতের বেলা বাসায় ফিরে 
মনেভাসে কত না তার কথা
বাসায় ফিরে খাওয়ার জন্য
যখন ঢুকি রান্নাঘরে
মনটা আমার চিনচিনিয়ে
উঠে শুধুই হাহাকারে
বউ একখান থাকলে পড়ে
থাকত কত খাবার
সোনা বাবু নিয়ে চলত
সোনার একখান সংসার……  জনৈক ভাইয়ের কষ্টে কষ্টান্বিত হয়ে……আজকের এই কয়েকটি লাইন অবিবাহিত বন্ধুদের জন্য

ভাবনা প্রতিদিন

ভালোবাসা একটি সার্বজনীন ও শ্বাশত বিষয়। এটিকে বিশেষ ক্ষেত্রে আবদ্ধ করে রাখা মানে ই হলো ভালোবাসার নামে সংকীর্নমনার চর্চা। ছোট বেলায় বলতাম এটি আমার জিনিস কারন ছোটো বেলায় ছোট ছোট জিনিসগুলো ই নিজের কাছে অনেক বড় মনেহত। এমনি একটু একটু বড় হওয়া আর ভালোবাসার সীমাটা বাড়তে থাকতে। কিন্তু আমরা অনেকেই নিজেদের ভালোবাসাকে ক্ষুদ্র গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখি। স্বদেশ প্রেম ই নাকি বিশ্বপ্রেমের নামান্তর। স্বদেশকে প্রেম করে যদি বিশ্বকে প্রেম করা না যায় তাহলে সেটি হয়ে পড়ে সংকীর্নমনা। ছোট বেলায় ভাবতাম আমার স্কুলেই সেরা স্কুল স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে নিজ নিজ একটি ভাব সেটি বড় হয়েও চোখে পড়ে। ফেইসবুক খুল্লেই দেখা যায় ভালোবাসার জিনিসগুলো আমিত্বের কাছে এক ধরনের বন্দী জীবন যাপন করছে। যে মানুষ নিজেকে সব সময় বড় মনে করে সে অন্যকে কিভাবে সন্মান করা শিখবে, যারা ছোট ছোট গন্ডীর মধ্যে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করে রাখে তাদের দ্বারা সংকীর্ণতার প্রসার ই বেশী হয়। নিজেদের কৃষ্টি কালচারকে সেরাকে মনে করাও এক ধরনের সংকীর্ণ মনা। যাহোক, সেদিন এক শায়খের বক্তব্য শুনছিলাম উনি আয়েশা (রাঃ) বয়স সম্পর্কে বিভিন্ন সমাজের মানুষের করা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন যে, প্রথম যেটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সেটি হলো এই ধরনের প্রশ্ন করা হয় মূলত “এথনোসেন্ট্রিজম” এর কারনে। নিজের কালচারকে বেশি সভ্য মনে করা সমাজের আর সবাইকে বিচার করার একটি স্ট্যান্ডার্ড মনে করে অন্যকে বিচার করার প্রবনতা। কারন যারা নিজেদেরকে বেশি ভালো মনেকরে তারাই অন্যের জিনিসগুলোকে নিজের দিয়ে বিচার করে।
সন্ধ্যার একটু আগে এক ভাইয়ের সাথে কথা হলো উনি আর এক ভাইকে এক বছর আগে জিগ্গেস করেছিলেন ভাই বিয়ে কবে করবেন? উনি নাকি বলেছিলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে গেলে উনি দেশে গিয়ে বিয়ে করবেন। জানিনা এটি কোন মেয়ে পক্ষের সৌভাগ্য নাকি উনার দূর্ভাগ্য যে আবার আওয়ামী সরকার ক্ষমতায়। বেচারার বিয়ে পিছিয়ে গেলো আর কয়েকবছর।
নিজের দলকে ভালোবাসতে গিয়ে অন্যকে রাজাকার বলে ট্রিট করা এক ধরনের ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে। যেমন বর্তমান সময়ের অ্যাথেইজম একটি ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে আর এমন ফ্যাশনের কোন অন্তর্নিহিত ভ্যালু থাকেনা। ভালোবাসার সংকীর্ণতার কারনে ভালোবেসেও অনেকেই হচ্ছে প্রত্যাখ্যাত, 

“জণ্ম থেকে ভালোবেসেও পাইনি তার স্বীকৃতি
বার বার হয়েছি প্রত্যাখ্যাত….
ভালোবাসার জন্য চারদিকে যখন হাহাকার
জন্ম থেকে ভালোবেসেও আজ আমি হলাম রাজাকার”

বিঃদ্রঃ পোষ্টটিকে রাজনৈতিক রং দেয়ার চেষ্টা করবেন না প্লীজ!

ইসলাম প্রতিদিনঃ তওবা

প্রতিটি গুনাহ থেকে তওবা করা ওয়াজিব। যদি গুনাহ আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার বিষয় সংশ্লিষ্ট হয় এবং তার সাথে কোন লোকের হক জড়িত না থাকে তবে তা থেকে তওবা করার তিনটি শর্ত রয়েছে।

এক) তওবাকারীকে গুনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে।
দুই) সে তার কৃত গুনাহের জন্য অনতপ্ত হবে।
তিন) তাকে আর কখনো গুনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হতে হবে।
যদি কারো হক জড়িত থাকে তাহলে আরো একটি শর্ত পালন করা লাগবে,
চার) হকদার ব্যক্তির হক আদায় করতে হবে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন,
“কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে এবং দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে আল্লাহর প্রতি তাদের তওবাই সত্যিকারের তওবা।” সূরা আল ফুরকানঃ ৭০-৭১

আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
“আল্লাহ তার বান্দাদের লক্ষ্য করে বলেন, আমি জুলুমকে আমার উপর হারাম করে দিয়েছি এবং তোমাদের মাঝেও জুলুম করাকে হারাম করে দিয়েছি। অতএব, তোমরা একে অপরের উপর জুলুম করো না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের যাকে আমি হেদায়াত প্রদান করেছি সে ছাড়া তোমাদের সকলেই পথভ্রষ্ট। অতএব, তোমরা হেদায়াত প্রাপ্তির জন্যে দোয়া করো। আমি তোমাদেরকে হেদায়াত দান করবো। হে আমার বান্দাগন! আমি যাকে খাদ্য দান করেছি, সে ছাড়া তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত। অতএব তোমরা আমার নিকট খাদ্য প্রার্থনা করো আমি তোমাদের খাদ্য দান করব। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের মধ্য হতে যাকে আমি বস্ত্র পরিধান করিয়েছি সে ছাড়া আর সকলেই বস্ত্রহীন, অতএব তোমরা আমার নিকট বস্ত্র পরিধানের জন্য দোয়া করো, আমি তোমাদেরকে পরিধান করাবো। হে আমার বান্দাগণ! তোমরা রাতে ও দিনে গুনাহ করে থাকো এবং আমি সকল গুনাহ ক্ষমা করতে পারি। অতএব তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিব।” (মুসলিম)

“হে মুমিনগণ! তোমরা খালেস দিলে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আস, আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের ছোট খাট ত্রুটি বিচ্যুতি মাফ করে দিবেন এবং স্থান দিবেন জান্নাতে, যার তলদেশে ঝরনা ধারা প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটোছুটি করবে। তারা বলবেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।” সূরা আত-তাহরীমঃ আয়াত ৮।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলের দোষ ত্রুটি মাফ করে দিন। আমাদের বাবা-মা দের সন্মান দান করুন। (আমীন)

“নিজের জন্য”


রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন “´সিনসিয়ারিটিই হলো ধর্ম´ সাহাবা (রাঃ) জিগ্গেস করলেনঃ ´কাদের প্রতি´ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ আল্লাহর প্রতি, এবং তার বইয়ের প্রতি (কুরআন), এবং তার রাসুলের প্রতি, এবং মুসলিম লিডারদের প্রতি এবং তাদের সাধারন মানুষের প্রতি” 
মাঝে মাঝে নিজেকে জিগ্গেস করি, আল্লাহর প্রতি এবং রাসুল (সাঃ) এর প্রতি আমি কতটুকু আন্তরিক। মাঝে মাঝে ল্যাবে মিটিং এর জন্য সালাতকে দেরি করে পড়ি। মাঝে মাঝে শুক্রবার নামাজও গুরুত্বপূর্ন কাজের কারনে মিস করি। ভয় হয় প্রফেসর মাইন্ড করবে, কিন্তু এরকম ভয় আল্লাহর জন্য খুবই এ কম হয় বা আল্লাহর ভয় করে সব কিছু করা বা আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করা লাগবে এমন মনে করে খুব কম সালাত কিংবা অন্য আমলগুলো করা হয়। সালাত পড়া লাগে তাই পড়ি। কুরআন হাদিস পড়া লাগে তাই পড়ি। তাই আমার কাছে মনেহয় সমস্যাটা উপলব্ধির, সমস্যাটা বিশ্বাসের। সমস্যাটা হলো শিক্ষার। আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি, রাসুল (সাঃ) বিশ্বাস করি ঠিকই ভালোবাসি হয়ত, না হলে তো আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে কথা বললে মাথার রক্ত গরম হতো না। কিন্তু ভালোবাসার যে একটি ভালোপ্রকাশ ভংগী আছে সেটি হয়ত জানিনা। আল্লাহ শব্দ বা রাসুল (সাঃ) শব্দটিকে আমি ভালোবাসি হয়ত, তাই যেখানে এই শব্দগুলো দেখি ভালোবাসায় নিজেকে পাক্কা মুসলিম মনেহয়। কিন্তু আল্লাহ যা বলেছেন এবং রাসুল (সাঃ) যা বলেছেন সেগুলোর খুব কমই আমল করা হয়। শিক্ষা অর্জন করা ফরজ তাই অনেক শিক্ষা অর্জন করছি কিন্তু আমল করা হচ্ছেনা। এই আমলটা না হওয়ার কারন হলো আন্তরিকতার অভাব।
দুনিয়ার কাজে আমরা কত আন্তরিক। আসলে দুনিয়ার কাজে আন্তরিক অবশ্যই হতে হবে কিন্তু আমি এমন মুসলিম যে, অলস সময় নষ্ট করে দুনিয়ার কাজেও সময় কম পরে যায় ফলে দুনিয়ার নগদ কাজে গুরুত্ব বেড়ে যায় এবং আখিরাতের কাজে আন্তরিকতা নষ্ট হয়। অনেক আলোচনা, অনেক জানা হয়, জানা যত বাড়ে আলোচনাও তত বাড়ে, আমলের পরিমান কমতে থাকে।
আল্লাহর রাব্বুল আলামিন সূরা ছফ এর ২-৩ নং আয়াতে বলতেছেন “মুমিনগণ! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।”
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের আমলকে বাড়িয়ে দিন। দুনিয়া ও আখিরাতের কাজে আমাদের আন্তরিকতা বাড়িয়ে দিন। আমরা যা বলি তা নিজেদের পালন করার তৌফিক দান করুন।

আজকের ভাবনা, ১৫ মে ২০১৪

পরিবারে পুরুষের আধিপত্য বাচ্চাদের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। মুসলিম পরিবারের কর্তা ব্যক্তি যদি ইসলামের সঠিক শিক্ষার চর্চা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে এটি ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠে ইসলাম বিমূখীতার প্রধান কারন। আত্নসন্মান একটি বড় ব্যাপার। পাশ্চাত্য সভ্যতায় বাচ্চারা ছোটো বেলা থেকে নিজেকে সন্মান করতে শিখে, শিখে ফেলে মানুষ হিসেবে তার অধিকার। এরকম পরিবেশে ইসলামের সঠিক শিক্ষার চর্চা না থাকলে পরিবারের ছোট ছোট শিশুরা ইসলামের এক বিরূপ ছবি দেখে দেখে বড় হয়। ইসলামে সঠিক শিক্ষার চর্চা না থাকায় সে তার পরিবারে দেখেছে কিভাবে একজন পুরুষ নারীদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে। অথচ ইসলাম কখনই এমন শিক্ষা দেয় না। এরকম পরিবেশে বড় হয়ে উঠার ফলে এসব বাচ্চাদের মনে এক ধরনের কনফিউশন তৈরী হয়, এক ধরনের ইসলাম ভীতি তৈরী হয়, মুসলিম ভীতি তৈরী হয়। মুসলিম ছেলে বা মেয়েদের বা অনেক সময় নিজের দেশীয় কালচারে বড় হয়ে উঠা ছেলেদের বা মেয়েদের বিয়ে করতে চায় না ভয় পায় যে, বিয়ে করে আবার সমস্যায় না পড়ি। ফলে মানসিক অস্থিরতায় অজানা গন্তব্য পা বাড়ায়। পাশ্চাত্য সভ্যতার ব্যক্তি স্বাধীনতার অবাধ সুযোগ কে কাজে লাগায়। ব্যক্তি সন্মানবোধের যে ঘাটতি ছোট বেলায় থেকে তৈরী হয়েছিলো সেটি থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য পা বাড়ায় ভোগবাদী সমাজে যেখানে ব্যক্তির প্রাণী স্বাধীনতার সুযোগ থাকে অসম্ভব রকমের। ফলে মুসলিম পরিবার থেকে তৈরী হয় মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষী একটি প্রজন্ম। আর এরকম হয় পরিবারের সদস্যদের উদাসীনতা। ইসলামের যেখানে প্রথম বাণী ই হলো পড়! সেখানে মুসলিম হওয়ার পর ও আমরা ইসলামী নলেজ আহরনে অনীহা প্রকাশ করি। মুখে দাড়ী রেখে দিয়ে সালাত আদায় করে কপালে দাগ লাগিয়ে পরিবারের বাচ্চাদের মারা শুরু করি, সালাত আদায় না করার জন্য। অথচ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষার সুন্দরতম চর্চা পরিবারে নিশ্চিত করতে পারলে পরিবারের পরিবেশ যেমন একদিকে ভালো থাকে অপর দিকে নিজেদের ভবিষ্যত প্রজন্মের ইসলামের পথে যাত্রার পথ সুগম হয়।
সেদিন ল্যাব এ সালাত নিয়ে আলোচনা করছিলাম ইরাকী কলিগের সাথে। সে একটি সুন্দর গল্প বললো। সাহাবার নামটি সে বলেনি আমিও জানিনা।
“এক সাহাবা (রাঃ) ব্যবসা করতেন, তো উনি সালাত আদায় করতেন যতটুকু করলে সুন্নত আদায় হবে এরপর উনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে কাজে নেমে পড়তেন। তো বাকি সাহাবা (রাঃ) উনাকে জিগ্গেস করলেন যে, আপনি সালাত আদায় করে এতো দ্রুত চলে যান কেন? উনি উত্তর দিলেন, সালাত তো হলো একটি কনসেপ্ট এটি অবশ্যই আদায় করতে হবে, কিন্তু আমি যদি সব সময় সালাতেই থাকি তাহলে আল্লাহ আমার পরীক্ষা নিবেন কেমনে? উনি বুঝালেন যে, সালাতের সময় তো পাপ করার সম্ভাবনা নেই, তাই যদি ২৪ ঘন্টা মসজিদে বসে থাকি তাহলে আর হলো কি? মূল বিষয় হলো সালাত আদায় করে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকি সময় গুলো সালাতে যেমন আল্লাহ কে উপস্থিত জেনে সালাত আদায় করলাম ঠিক তেমনি বাকি সময়গুলোতে সেই শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। এখন যদি সালাত ই পড়ি সারাদিন তাহলে সালাতের শিক্ষাগুলোকে জীবনের বাকি কাজে লাগাবো কেমনে?”
সামনে রমজান রমজানের ও ঠিক একই রকম শিক্ষা রমজান শুধু মাত্র একটি প্রশিক্ষন। সারা বছরই মূলত রমজানের শিক্ষার বা রমজান মাসে যেভাবে সব কিছু প্রাকটিস করা ঠিক সেভাবে আল্লাহ কে ভয় করে বাকি সময় গুলোতে চলা উচিত। কিন্তু সেটি আর হয়ে উঠে না।

সে যাই হোক মূল আলোচনায় আসি। ইসলামের প্রথম ওহী হলো পড়! কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটা সার্ভে হলো সেখানে একটি প্রশ্ন ছিলো নলেজ কি? আমি ইন্টারনেটে অনেক ভালো ডেফিনিশন পেলাম, কিন্তু আমার কাছে মনেহলো নলেজের ডেফিনিশন টা এরকম
“লার্নিং প্রসেস টু নো দ্যা ট্রুথ”
নলেজের উতস বা আসলে কি?
ইসলামে নলেজের মূল উতস হলো ওহী। তারমানে সব কিছু জানার জন্য যা কিছু দরকার তার সবকিছু ওহীর মধ্যে বা সুন্নাহর মধ্যে বা কুরান ও সুন্নাহ ভিত্তিক পদ্ধতির মধ্যে নিহীত। এখন কথা হলো আমরা পরিবার গঠনে বা পরিবার পরিচালনার জন্য , বা পরিবারের সমস্যা সমাধানের জন্য যে নলেজ দরকার সেটি কোথা থেকে নেই? যদি প্রকৃ্তভাবে ই কুরান থেকে বা কুরান প্রসৃত পদ্ধতি থেকে নেই এবং সেটির বাস্তবায়ন করি, তাহলে পরিবারের মধ্যে যেমন ইসলামিক শিক্ষার চর্চা হবে ঠিক তেমনি বাচ্চার ইসলামের সঠিক শিক্ষাকে কাছ থেকে ভালোবেসে ফেলবে।
নয়ত আপনার বাচ্চারাই আপনার সামনে ইসলামের বিরোধীতা করবে। আপনি হয়ত ভাবছেন এটি পাশ্চাত্যের পরিবেশের দোষ ,আসলে দোষ হলো আপনার নিজেরই কারন আপনি আপনার পরিবার কে ইসলামের সাথে পরিচয় করিয়ে দেননি। ব্যর্থতা আপনার নিজেরই।
শেষে একটি গল্প বলে শেষ করি। এটিও শোনা গল্প ভূল হলে গল্প থেকে শিক্ষাটা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
হযরত সালমান ফার্সী (রাঃ) যখন ইরাকের শাসক নিযুক্ত হয়ে ইরাকে যাচ্ছিলেন, তখন ইরাকের লোকজন সবাই অপেক্ষা করছিলো তাকে দেখার জন্য, সবাই দাড়িয়ে আছে অভ্যর্থনা দেয়ার জন্য কিন্তু রাজার মত দেখতে কাউকে দেখতে পেলেন না। দেখলেন একজন লোক শুধুমাত্র একটি জায়নামজ মুড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে এল, সবাই জিগ্গেস করলো যে, শাসক/রাজা কই উনি বললেন আমি তোমাদের শাসক। সবাই অবাক হয়ে জিগ্গেস করলো যে শাসকের সাথে তো গার্ড থাকার কথা, উনি বললেন আমি একাই। তো ইরাকের ফোরাত নদীর কথা সবাই জানি। প্রতি বছর প্রচুর বন্যা হত ঐ নদীর কারনে। সেবারও বন্যা হলো বন্যায় সবাই হত বিহ্বল হয়ে ছুটাছুটি শুরু করলো, তো উনি শুধু তার জায়নামাজ তা সাথে নিরাপদ দুরত্বে সরে গেলেন।ঊনার সাথে নেয়ার কিছু ছিলোনা ফলে উনি শুধুমাত্র উনার জায়নামাজ টা নিলেন। কিন্তু বাকি লোকজন নিজেদের ধন সম্পদ জিনিস পত্রের জন্য দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করলো”

গল্পটি মূলত বিনয় শিক্ষা দেয়ার জন্য। তবে অন্যভাবে বলা যায় দুনিয়ার মোহে যত সম্পদ আহরন করবেন, সেগুলো তত আপনাকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। দুনিয়ার জন্য অনেক কিছু করতে নিজেদের পরিবারকে ইসলামী শিক্ষা থেকে দুরে সরিয়ে রাখলে বা সময় স্বল্পতার অজুহাত দেখালে এগুলো্ই কিয়ামতের দিন বিপদ হয়ে দাড়াবে।

আল্লাহ আমাদের ইসলামের সঠিক বুঝ দান করুন! (আমীন)

আজকের ফটোগ্রাফী

রাতে টিউলিপের ছবি তুলতে পারবো ভাবিনি। রাতে বাসা ফিরছিলাম হাতে ক্যামেরা ভাবলাম হেটে রওনা দেই। যখন সিটিতে পৌছালাম হাতে তখনও ঢের সময়। পাশেই দেখি টিউলিপ গুলো চেয়ে আছে আমার দিকে। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে মন্দ হয় না। নিজের ভালো সময়গুলো শেয়ার করার জন্যই তো বন্ধুত্ব।

রাতের আঁধারে তোলা লাল টিউলিপ

Moon, 12 May 2014

Uppsala Mosque, উপশালা মসজিদ, সুইডেন. রাতের মসজিদ কত সুন্দর। চারদিকে নীলাভ আবরনে ছেয়ে গেছে আকাশ মনে হচ্ছে প্রকৃতি মসজিদকে ফুটিয়ে তুলেছে দারুনভাবে।

চাঁদ, ১২ মে ২০১৪, উপশালা, সুইডেন। সারাদিন মেঘে ঢাকা ছিলো আকাশ ভেবেছিলাম আজকে আর ছবি উঠানো হবেনা রাতে যখন বাড়ি ফিরছিলাম হঠাৎ তাকিয়ে দেখি চাঁদ হাসছে আর আমায় ডাকছে, মিস করিনি, সাথে সাথেই ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী করেছি।

চাঁদ, ১২ মে ২০১৪, উপশালা, সুইডেন। সারাদিন মেঘে ঢাকা ছিলো আকাশ ভেবেছিলাম আজকে আর ছবি উঠানো হবেনা রাতে যখন বাড়ি ফিরছিলাম হঠাৎ তাকিয়ে দেখি চাঁদ হাসছে আর আমায় ডাকছে, মিস করিনি, সাথে সাথেই ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দী করেছি।

রাতে টিউলিপের ছবি তুলতে পারবো ভাবিনি। রাতে বাসা ফিরছিলাম হাতে ক্যামেরা ভাবলাম হেটে রওনা দেই। যখন সিটিতে পৌছালাম হাতে তখনও ঢের সময়। পাশেই দেখি টিউলিপ গুলো চেয়ে আছে আমার দিকে। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে মন্দ হয় না। নিজের ভালো সময়গুলো শেয়ার করার জন্যই তো বন্ধুত্ব।

রাতে টিউলিপের ছবি তুলতে পারবো ভাবিনি। রাতে বাসা ফিরছিলাম হাতে ক্যামেরা ভাবলাম হেটে রওনা দেই। যখন সিটিতে পৌছালাম হাতে তখনও ঢের সময়। পাশেই দেখি টিউলিপ গুলো চেয়ে আছে আমার দিকে। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে মন্দ হয় না। নিজের ভালো সময়গুলো শেয়ার করার জন্যই তো বন্ধুত্ব।

রাতে টিউলিপের ছবি তুলতে পারবো ভাবিনি। রাতে বাসা ফিরছিলাম হাতে ক্যামেরা ভাবলাম হেটে রওনা দেই। যখন সিটিতে পৌছালাম হাতে তখনও ঢের সময়। পাশেই দেখি টিউলিপ গুলো চেয়ে আছে আমার দিকে। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে মন্দ হয় না। নিজের ভালো সময়গুলো শেয়ার করার জন্যই তো বন্ধুত্ব।

রাতে টিউলিপের ছবি তুলতে পারবো ভাবিনি। রাতে বাসা ফিরছিলাম হাতে ক্যামেরা ভাবলাম হেটে রওনা দেই। যখন সিটিতে পৌছালাম হাতে তখনও ঢের সময়। পাশেই দেখি টিউলিপ গুলো চেয়ে আছে আমার দিকে। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে মন্দ হয় না। নিজের ভালো সময়গুলো শেয়ার করার জন্যই তো বন্ধুত্ব।

রাতে টিউলিপের ছবি তুলতে পারবো ভাবিনি। রাতে বাসা ফিরছিলাম হাতে ক্যামেরা ভাবলাম হেটে রওনা দেই। যখন সিটিতে পৌছালাম হাতে তখনও ঢের সময়। পাশেই দেখি টিউলিপ গুলো চেয়ে আছে আমার দিকে। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে শেয়ার করলে মন্দ হয় না। নিজের ভালো সময়গুলো শেয়ার করার জন্যই তো বন্ধুত্ব। তবে একাকী ফুলটি আমার একান্ত জনের জন্য। তারজন্য পুষিয়ে রেখেছি অনেক কিছু। 🙂