শিক্ষনীয় গল্প-জীবনের গুরত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে করা

একজন দর্শনের প্রফেসর একদিন ক্লাশে ঢুকে তার সামনের টেবিলের উপর কিছু জিনিস রেখে দাড়ালেন। যখন ক্লাশ শুরু হলো তখন কোন কিছু না বলে একটি বড় স্বচ্ছ কাচের খালি কলস নিলের এবং সেটি কিছু বড় বড় কৌণিক পাথর নিয়ে সেটি ভর্তি করলেন। এরপর ছাত্রদের জিগ্গেস করলেন যে, কলস ভর্তি কিনা? ছাত্ররা বললো যে, হ্যা ভর্তি। এরপর কিছু গোলাকার পাথর তুলে নিয়ে কলসীর মধ্যে ঢেলে দিলেন সেগুলো ফাকা জায়গাগুলোতে গড়িয়ে পড়লো। এরপর প্রফেসর জিগ্গেস করলেন যে, কলস পূর্ণ হয়েছে কিনা, তখন ছাত্ররা বললো যে হ্যা পূর্ণ হয়েছে। এরপর প্রফেসর বালূর বাক্স বালু নিয়ে কলসের মধ্যে ঢেলে দিলেন ফলে বালুগুলো ফাকা জায়গাগুলোতে গিয়ে পুরো কলস ভর্তি করে দিলো। এরপর আবার প্রফেসর ছাত্রদের জিগ্গেস করলেন যে, কলস পরিপূর্ণ হয়েছে কিনা, ছাত্ররা বললো যে এখন আর কোন ফাকা জায়গা নেই। এরপর প্রফেসর ছাত্রদের বললেন, এখন তোমরা মনেকর যে, কলসটি তোমাদের জীবন। আর কলসের ভিতর যে বড় বড় পাথরগুলো আছে সেগুলো হলো তোমাদের পরিবার, তোমাদের জীবন সংগী, তোমাদের স্বাস্থ্য, তোমাদের বাচ্চাকাচ্চা- এগুলো জীবনের খুবই গুরত্বপূর্ণ, অন্য সবকিছু ছেড়ে চলে গেলেও এগুলো থাকার কারনে তোমাদের জীবন পরিপূর্ণ মনে হবে। গোলাকার পাথরগুলো হলো এমনসব জিনিস যেমন, চাকুরী, বাড়ী, গাড়ী। বালু হলো বাকীসব ছোটো খাটো জিনিস। “তোমরা যদি কলসীতে প্রথমে বালু ঢেলে দাও তাহলে এটি সেটাকে প্রথমেই পরিপূর্ণ করে দিবে, সেখানে বড় বড় পাথর এবং অপেক্ষাকৃত ছোট গোলাকার পাথরগুলোর জায়গা হবে না। জীবনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সাদৃস্য দেখা যায়, যদি তোমরা তোমাদের সকল সময় এবং শক্তি ছোটখাটো জিনিসের জন্য ব্যায় কর তাহলে তোমরা কখনই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলোর জন্য জায়গা খুজে পাবে না। তাই জীবনের সেসব জিনিসের দিকে বেশি মনোযোগ দাও যেগুলো জীবনে সুখী হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজের বাচ্চাদের সাথে সময় ব্যায় কর, নিজের জীবন সংগীদের বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাও।” “বড় বড় পাথরগুলোর যত্ন আগে নাও, যেটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার দাও। বাকি সব হলো বালু”

Hadith Qudsi

On the authority of Abu Hurayrah (may Allah be pleased with him) from the Prophet , who

said:

A prayer performed by someone who has not recited the Essence of the Quran (1) during it is deficient (and he repeated the word three times), incomplete. Someone said to Abu Hurayrah: [Even though] we are behind the imam? (2) He said: Recite it to yourself, for I have heard the Prophet (may the blessings and peace of Allah be up on him) say: Allah (mighty and sublime be He), had said: I have divided prayer between Myself and My servant into two halves, and My servant shall have what he has asked for. When the servant says: Al-hamdu lillahi rabbi l-alamin (3), Allah (mighty and sublime be He) says: My servant has praised Me. when he says: Ar-rahmani r-rahim (4), Allah (mighty and sublime be He) says: My servant has extolled Me, and when he says: Maliki yawmi d-din (5), Allah says: My servant has glorified Me – and on one occasion He said: My servant has submitted to My power. And when he says: Iyyaka na budu wa iyyaka nasta in (6), He says: This is between Me and My servant, and My servant shall have what he has asked for. And when he says: Ihdina s-siratal- mustaqim, siratal ladhina an amta alayhim ghayril-maghdubi alayhim wa la d-dallin (7), He says: This is for My servant, and My servant shall have what he has asked for.

1) Surat al-Fatihah, the first surah (chapter) of the Qur’an.

(2) i.e. standing behind the imam (leader) listening to him reciting al-Fatihah.

(3) “Praise be to Allah, Lord of the Worlds.”

(4) “The Merciful, the Compassionate”.

(5) “Master of the Day of Judgement”.

(6) “It is You we worship and it is You we ask for help”.

(7) “Guide us to the straight path, the path of those upon whom You have bestowed favors,

not of those against whom You are angry, nor of those who are astray”.

It was related by Muslim (also by Malik, at-Tirmidhi, Abu-Dawud, an-Nasa’i and Ibn Majah).

অগোছালো ভাবনাঃ আগামীতে দেশের রাজনীতি কেমন হবে।

ছোট বেলা থেকে সমাজের মানুষকে নিয়ে চিন্তা করতে ভালো লাগতো। সেই চিন্তা করার অভ্যস টা রয়ে গিয়েছে আজ অবধি। মাঝে মাঝে ই ভাবি কি রকম হবে, ২০ বছরের পরে বাংলাদেশের রাজনীতি? তখনও কি ককটেল ফুটবে? তখনও কি আগুন জ্বলবে?
এসব ভাবতে ভাবতেই মন চলে যায় অনেক পেছনে, সেই পুরনো দিনের রাজনীতিতে। ভাবতাব তখনই কি ককটেল ছিলো? তখনও কি রাজনীতির ময়দানে পিস্তল, শটগান এসব নিয়ে মহড়া চলত?

সময়ের আবর্তনে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মানুষের ব্যবহৃত নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর মধ্যে ও বৈচিত্র চলে আসে। গ্রামে আগের হারিকেন, বা কেরোসিনের বাতির যে প্রচলন আজকে তা অনেকটাই নেই। গ্রামে গ্রামে বৈদ্যুতিক খুটি গুলো সুন্দর ভাবে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মনেপড়ে সেই ছোট বেলায় যখন গ্রামের স্কুলটি পূনঃনির্মান হচ্ছিলো সেখানে মটর গাড়িতে করে ইট-বালি নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েসহ সবাই সেই গাড়ি দেখার জন্য ছুটত। অথচ এখন গ্রামের পরতে পরতে এসব গাড়ি দেখা যায়। আগে গ্রামের গৃহস্থ্য বাড়িতে কাজের ছেলে থাকত সেই সব কাজ করত। এখন গ্রামে আর কাজের ছেলে খুজে পাওয়া যায় না। আবার আগে যেমন সবার বাড়িতে ফলের গাছ দেখা যেত গরু-ছাগল দেখা যেত এখন আর এসব দেখা যায় খুবই কম। সমাজের একটা পরিবর্তন সবার অজান্তে ঘটে গেছে এবং যাচ্ছে। আর সে পরিবর্তন কোন রাজনৈতিক নেতার উপর নির্ভর করে না। ব্যক্তি মানুষের প্রচেষ্টায় যে পরিবর্তন সেই পরিবর্তনের সামগ্রিকরূপ টাই এখন দেখা যায়। এটির জন্য কোন রাজনৈতক গোষ্ঠির অবদান নেই বল্লেই চলে। বরং এসব রাজনৈতিক গোষ্ঠিই এই উন্নতির পথকে দীর্ঘায়িত করে। সে যা বলছিলাম, গ্রামে গেলে আগের মত অলস বা কাজহীন মানুষ চোখে পড়ে কম। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মানুষের মধ্যে চিন্তার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে সমাজের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরী হয়ে গেছে, সবার কাছে সমাজের সুবিধাগুলো পৌছে যাচ্ছে তাই সবাই একই ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে চলছে যেখানে আগে গরীব মানুষের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের সুযোগ ছিলো সামান্যই। আর মানুষের কর্মব্যস্ততা এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার কারনে রাজনীতি নিয়ে মানুষের আগ্রহ দিন দিন কমে যাচ্ছে, আবার অপর পক্ষে রাজনীতির ভিশন নিয়ে একটি শিক্ষিত শ্রেনীর উন্মেষ ঘটছে। ফলে রাজনৈতিক ময়দানে পরিবর্তন খুবই আসন্ন।
পশ্চিমা দেশগুলোতে দেখা যায় যে, সেখানে রাজনীতি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের মধ্যে খুব একটা আগ্রহ থাকেনা। এর কারন হলো সেখানকার সমাজ একটি প্রতিযোগিতামূলক সমাজ। সেখানে মানুষ ব্যক্তি উন্নয়নকে বেশি প্রাধান্য দেয় ফলে রাজনীতি করার মত সময় নষ্ট করার মত কাজকে অনেকেই অনীহা প্রকাশ করে। আবার প্রতিযোগিতামূলক সমাজ হওয়ার কারনে, কেবল মাত্র ভিশনারী রাজনীতি ই টিকে থাকতে পারে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। ১৬ কোটি মানুষের বাংলাদেশ। এখানে মানুষের জন্য কর্মসংস্থান না থাকায়, এমনিতেই অনেক মানুষ রাস্তা ঘাটে গল্প করে সময় কাটায়। ফলে রাজনীতির ময়দানে অলস সময় কাটানোর মত অনেক মানুষ পাওয়া যায়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এসব মানুষের যখন চিন্তার পরিবর্তন ঘটবে তখন রাজনীতির ময়দানে এসব মানুষকে আর খুজে পাওয়া যাবে না। এরা ব্যস্ত হয়ে পড়বে ব্যক্তি উন্নয়নে। আবার প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে আগে যেমন রাজপথে মিছিল মিটিং হত, সেটি আর তেমন হবে না। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে রাজনীতির ময়দান রাজপথ থেকে ভার্সুয়াল জগতে বিস্তৃত হবে। ফলে রাজনীতির ময়দানে সহিংশতা কমে যাবে। বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতা তৈরী হবে।

প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সহজলভ্যতার কারনে, সমাজের অল্পন শিক্ষিত মানুষগুলো ও খুব সহজে সঠিক খবর বা তাদের নিজেদের মতামত বা ব্যক্তি চিন্তা অপর মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারবে, ফলে সমাজের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ গুলো প্রযুক্তির আওতায় চলে আসবে।
সমাজে আগের মোড়লতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থানে ব্যক্তিতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। ফলে সমাজে প্রতিটি মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন হয়ে উঠবে এবং দেশের রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

তাই আগামীর রাজনীতি হবে, শিক্ষিত সমাজের রাজনীতি, আগামীর রাজনীতি হবে ভিশনারীদের রাজনীতি, আগামীর রাজনীতি হবে সুষ্ঠ রাজনীতি সেখানে অপরাজনীতির কোন স্থান থাকবেনা। আদর্শহীন, লক্ষহীন রাজনীতির মৃত্যু ঘটবে সহসাই। তাই যারা সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে বেশি কাজ করবে আগামীর রাজনীতি হবে তাদেরই রাজনীতি। যারা সমাজ ও জাতিগঠনে কাজ করবে রাজনীতির ময়দান থাকবে তাদের দখলে।

বইঃ ক্রাইসিস ইন মুসলিম মাইন্ড. (একটি অংশের কাঁটা ছেড়া অনুবাদ)

বইঃ ক্রাইসিস ইন মুসলিম মাইন্ড
মূল লেখকঃ আব্দুল-হামিদ আ: আবু সুলায়মান।

মুসলিমের নৈতিক দ্বায়িত্বঃ
একজন মুসলিম তার ইচ্ছাশক্তি এবং সামর্থ্যর ব্যবহার করে নিজের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য বুঝতে পারে, নিজেদের দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে করে জান্নাতে তার অবস্থান নিশ্চিত করে। যদি সে তার ইচ্ছাশক্তি এবং নিজের সামর্থ্যকে নিজের সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে পুরনের জন্য ব্যবহার না করে অন্য কোন উদ্দেশ্য ব্যবহার কর‍ে, (যেমনঃ শোষনে, দূর্নীতে ব্যবহার) তাহলে সে তার কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হবে, সে তার দ্বায়িত্বের মর্যাদাকে কলুষিত করবে, এবং সে তার নিজের জন্মের উদ্দেশ্য নষ্ট করে ফেলবে। তখন তার অবস্থান হবে জাহান্নামের নিম্ন স্তরে।
কুরআন পাকের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের দ্বায়িত-কর্তব্য বলে দিয়েছেন।

“বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।” সূরা আল কাহফ, ১১০।

“যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।” সূরা আল-মূলকঃ ২।

“হে মানব মন্ডলী, পৃথিবীর হালাল ও পবিত্র বস্তু-সামগ্রী ভক্ষন কর। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে নিঃসন্দেহে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” সূরা আল বাকারাঃ ১৬৮।

“আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তদ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না।” সূরা আল-কাসাস, ৭৭।
“ঐ দিনকে ভয় কর, যে দিন তোমরা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। অতঃপর প্রত্যেকেই তার কর্মের ফল পুরোপুরি পাবে এবং তাদের প্রতি কোন রূপ অবিচার করা হবে না।” সূরা আল-বাকারাঃ ২৮১।

“আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্নীয়-স্বজনকে দান করার আদেশ দেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসঙ্গত কাজ এবং অবাধ্যতা করতে বারণ করেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দেন যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।” সূরা আন-নূরঃ৯০।

“যে সৎকাজ করছে, সে নিজের কল্যাণার্থেই তা করছে, আর যে অসৎকাজ করছে, তা তার উপরই বর্তাবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।” সূরা আল জাসিয়াহঃ১৫।

“কিতাবে এই আছে যে, কোন ব্যক্তি কারও গোনাহ নিজে বহন করবে না।এবং মানুষ তাই পায়, যা সে করে,তার কর্ম শীঘ্রই দেখা হবে।অতঃপর তাকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে।” সূরা আন-নাজমঃ ৩৮-৪১।

“অতঃপর সবাইকে সত্যিকার প্রভু আল্লাহর কাছে পৌঁছানো হবে। শুনে রাখ, ফয়সালা তাঁরই এবং তিনি দ্রুত হিসাব গ্রহণ করবেন।” সূরা আল-আনআমঃ৬২।

“অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।” সূরা আজ-যালযালঃ ৭-৮।

খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার জন্য মুসলিম মনের অনন্য দ্বায়িত্বানুভূতিই ইসলামের প্রারম্ভিককালের মুসলিমদেরকে সেই সময়ের সকল জাতি-গোষ্ঠির কাছে ভালোবাসা এবং ত্যাগের ঐতিহাসিক উদাহরন নজীর পেশ করতে সাহায্য করেছিলো। এই গুনটির কারনেই তৎকালীন মুসলিমরা লোভ, প্রতারনা, গর্ব থেকে মূক্ত ছিলো এবং সম্পদ আহোরন এবং মজুদ করার প্রতি তাদের অনীহা তাদের অন্য সবার থেকে পৃথক করেছিলো। যারা পার্থিব সম্পদ আহোরনে যত উৎসাহী ছিলো ঠিক ততটাই অনুৎসাহী ছিলো সম্পদ মজুদ করতে। কুরআন পাকে যাদের বর্ণনা করা হয়েছে তারা ছিলো তাদেরই মধ্যে।

“তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত, এতীম ও বন্দীকে আহার্য দান করে।তারা বলেঃ কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে আমরা তোমাদেরকে আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।” সূরা আল ইনসানঃ৮-৯।
একজন মুসলিম সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত হতে পারেনা কারন সে নিশ্চিত করে জানে যে, এই পৃথিবীতে তার মনের শান্তি এবং তার ভাগ্য নির্ভর করছে চেষ্টা, সাধনা এবং ত্যাগের প্রতি তার দ্বায়িত্ব এবং জীবনে ভালো কাজ করার উপর।
তাওহীদের উপর সঠিক বিশ্বাসে মুসলিমরা তাদের সঠিক পথ খুজে পাবে এবং সাফল্যমন্ডিত হবে। খলিফাহ হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে মুসলিমরা সামনে অগ্রসর হবে এবং সাফল্যমন্ডিত হবে। সঠিক কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে মুসলিমরা পজিটিভ এবং প্রোডাক্টিভ হবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও সঠিক বুঝ দান করুন। সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)