পাশ্চাত্য অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াত

পাশ্চাত্য অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াত
মূল লেখকঃ খুররম মুরাদ
অনুবাদঃ আব্দুল হালিম
অধ্যয়ঃ অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা
তিনটি প্রশ্নঃ
একটি অপ্রিয় সত্য উচ্চারনের মাধ্যমে শুরু করি। আমরা পাশ্চাত্যের অমুসলিমদের মধ্যে কোন দাওয়াত করছিনা বললেই চলে। প্রকৃতপক্ষে আমরা বিশ্বের কোথাও দাওয়াতী কাজ করছিনা। কেন? প্রথমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা উচিৎ। বড় পরিসরে, এক বিলিয়ন মুসলিম উম্মাত হিসেবে অথবা একটি মুসলিম দেশ এবং জাতি হিসেবে আমাদের লক্ষ্য এবং অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে দাওয়াহর কোন স্থান নেই। আমাদের জাতীয় সম্পদের কোন কিছুই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে লাগানো হচ্ছে না। একই রকম ভাবে যেসব মুসলিম কম্যুনিটি গুলো অমুসলিম দেশগুলোতে বসবাস করে, তারা প্রতিবেশির প্রতি দাওয়াতি কাজে খুব উদাসীন। আমরা তাদের উপর কোন প্রভাব তৈরী করতে পারি না যদিও পাশ্চাত্যের দেশগুলোর অনেকগুলোতে আমরা শক্তিশালী। ক্ষুদ্র পরিসরে ছোট ইসলামিক গ্রুপ, ব্যক্তির মধ্যে এরকম দাওয়াতি কাজের ঘাটতি পরিলক্ষিত।
দ্বিতীয়তঃ ছোটখাট যাই আমরা করছি সেটি খুব বেশি ফলপ্রসূ হচ্ছে না। আবার যদি প্রশ্ন করা হয় কেন তাহলে সেটি হবে আমাদের সামনে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তৃতীয় প্রশ্নটি হওয়া উচিৎ অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াতী কাজের জন্য ইসলাম নিয়ে আমাদের ধারনা, দা্ওয়াতী কাছের ধরন, এবং পদ্ধতিসমূহ কি সঠিক??
সেগুলো কি সংশোধন বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন? যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তা কিভাবে?

বেসিক ফ্রেমওয়ার্ক
প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেয়ার আগে তিনটি মূলনীতি উল্লেখ করা যাক যার উপর ভিত্তি পুরো আলোচনাটি করা হয়েছে। প্রথমতঃ অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামের দা্ওয়াতী কাজ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে না, করা উচিৎ নয়। মুসলিমের ইসলামী জীবনের কেন্দ্রে এর অপস্থানকে বুঝতে না পারা পর্যন্ত আমরা দাওয়াতী কাজকে অধিগ্রহন করি না। সত্য ও ন্যায়ের সাক্ষ্যকে স্বীকৃতি দানের মিশনে আমরা যে যাত্রা এবং সংগ্রাম করে যাই দাওয়াতী কাজ তার অবিচ্ছেদ্য অংশ না হওয়ার পর্যন্ত আমরা আমাদের শক্তি ও সামর্থ্যকে দাওয়াতী কাজে নিয়োজিত করি না।

বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করতে হলেঃ
অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত ইসলামের অস্তিত্বের জন্য একটি নিছক গৌণ বিষয় বা শাখা হওয়া উচিৎ না। এটাকে গৌণ কাজ হিসেবে এটি অনুসৃত হতে পারে না। এটা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে উদ্ভুত ঘটনা হওয়া উচিত না, অথবা একটি দৈবিক ক্রিয়াকলাপের আনুষঙ্গিক হওয়া উচিত নয়. উদাহরণস্বরূপ, এটিকে অন্যান্য ধর্মের দ্বারা মিশনারি কার্যক্রমের একটি প্রতিক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়. এইভাবে অগ্রসর হলে, এটি এখন ক্ষতিগ্রস্থ হবে যেমন এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দ্বিতীয়তঃ অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতী কাজের সমস্যা এবং তার সমাধানের ধারনাগত এবং পদ্ধতিগত সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরন এবং আলোচনায় সঠিক সফল হতে পারবো না যতক্ষন না আমরা এটিকে ইসলামে একটি যথাযোগ্য স্থান দেই, যতক্ষন না আমরা পুরো বিষয়টিকে মুসলিমদের সামগ্রিক অবস্থার সাথে বিবেচনা না করি।

পরবর্তী পোষ্টে থাকছে…
মুসলিমদের সামগ্রিক অবস্থা
সীমাবদ্ধতা
(চলবে)

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s