ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা

আগামীকাল আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। প্রতি বছর মে মাসের ১ তারিখ এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। ১৮৮৬ সালের ৪ মে শিকাগোয় শ্রমিকদের সমাবেশে পুলিশের গুলি বর্ষনকে উপলক্ষ্য করে প্রতি বছর মে মাসে এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। তারপর শ্রমের বৈষম্য শ্রমিকের মজুরীর বৈষম্য প্রকট। প্রতি বছর এরকম হাজারো দিবস পালন করা হয়ে থাকে। অথচ সমাজের বৈষম্য দুরীকরনে কোন বাস্তব পদক্ষেপ না থাকায় এসবের কোন সমাধান হয় না। পত্রিকার পাতা খুললেই প্রতিদিন কোথাও না কোথাও শ্রমিকের উপর নির্যাতন, গৃহ পরিচারীকাদের উপর নির্মম নিষ্ঠুরতা মাঝে মাঝে আমাদের আচরনকে পশুর চেয়ে নির্মম মনে করে দেয়। এর মূল কারন হলো ইসলামের শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়া। মানুষে মানুষে শ্রদ্ধাবোধ না থাকা। সেদিন এক প্রফেসর বললেন যে, তোমরা অনেক লাকি যে, তোমরা মুসলিম তোমাদের অ্যালকোহল পান করতে হয় না। আল্লাহর এক নির্দেশ অ্যালকোহল পান হারাম, তাতে সমাজে আমূল পরিবর্তন কোন মুসলিম স্বজ্ঞানে অ্যালকোহন পান করতে পারে না। অথচ হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে প্রচারনা চালিয়ে ও তাদের সমাজে এসবের বাস্তব কোন অগ্রগতি নেই।

এরকম নারী দিবস, মা দিবস আরো কত দিবস। বছরের প্রতিদিন এ একটি করে দিবস পালন করা হয়।

অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে কত সুন্দর নিয়ম বলে দিয়েছেন , যা পালন করলে, আমল করলে সমাজের মধ্যে এসব দিবসের পালন করার দরকার হতো না। ইসলামে মানুষে মানুষে সমতা, ন্যায় ও সাম্যর কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে শ্রমিকের মজুরীর কথাও। ন্যায় ও স্বচ্ছ লেনদেনকে ইসলামে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। সামাজিক ন্যায় বিচার ছাড়া সমাজে শান্তি ও শৃংখলা রক্ষা করা খুবই কঠিন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেছেন,
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত।” সূরা নিসাঃ ১৩৫

এই জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও পেশা নির্বিশেষে পৃথিবীতে সকল মানুষই সমান। ছোট-বড়, ধণী-গরিব, সাদা-কালো, দেশী-বিদেশী বৈধ কাজের জন্য সবার সমানভাবে সন্মান পাওয়ার উচিত।
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে বলেছেন,

“হে মানব, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিতি হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।” সূরা হুজুরাতঃ ১৩

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের কে এক আদম (আঃ) আর বিবি হাওয়া থেকে পয়দা করেছেন। মানুষ হিসেবে আমাদের সবার সমান সম্মান পাওয়ার অধিকার আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই কাউকে ছোট কাউকে বড় করেছেন শুধুমাত্র পরীক্ষা করার জন্য। এর জন্য কিয়ামতে জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন,
”তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন এবং একে অন্যের উপর মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, যাতে তোমাদের কে এ বিষয়ে পরীক্ষা করেন, যা তোমাদেরকে দিয়েছেন। আপনার প্রতিপালক দ্রুত শাস্তি দাতা এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, দয়ালু।” সূরা আল আনআমঃ১৬৫

সূরা যুখরুফ এর ৩২ নং আয়াতে বলতেছেন,
“তারা কি আপনার পালন কর্তার রহমত বন্টন করে? আমি তাদের জীবিকা বন্টন করেছি পার্থিব জীবনে এবং একের মর্যাদাকে অপরের উপর উন্নীত করেছি, যাতে একে অপরকে সেবক রূপে গ্রহন করে।”

নবী করীম সাঃ বিদায় হজ্জ্বের ভাষনে বলেছিলেন;
“হে মানুষেরা! অবশ্যই তোমাদের প্রভু একজনই। তোমাদের পিতা একজনই। আরবের উপর অনারবের, অনারবের উপর আরবের, কালোর উপর সাদার, কিংবা সাদার উপর কালোর কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই, শ্রেষ্ঠত্ব কেবল মাত্র আল্লাহর উপর ভক্তির উপর” মুসনাদ আহমাদ।

ইসলামে শারীরিক শ্রমকে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। যারা নিজের অর্জিত জীবিকা দিয়ে জীবনযাপন তাদেরকে সম্মানিত করা হয়েছে। শ্রমিকের সাথে যখন কাজের চুক্তি অবশ্যই ন্যায় সঙ্গত হওয়া জরূরী। শ্রমিকদের তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য জানানো উচিত।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে বলছেন,
“হে বিশ্বাসীগন! তোমরা তোমাদের চুক্তিকে পূর্ণ কর” সূরা মায়েদাঃ ১
নবী করীম সাঃ বলেছেন,
“মুসলিমদের অবশ্যই চুক্তি রক্ষা করে চলা উচিত।” তিরমিযী
শ্রমিকদের সম্মানের সাথে আচরন করা উচিত। ইসলামে শ্রমিকদের সাথে কোমল ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

“আর উপাসনা কর আল্লাহর, শরীক করো না তাঁর সাথে অপর কাউকে। পিতা-মাতার সাথে সৎ ও সদয় ব্যবহার কর এবং নিকটাত্নীয়, এতীম-মিসকীন, প্রতিবেশী, অসহায় মুসাফির এবং নিজের দাস-দাসীর প্রতিও। নিশ্চয়ই আল্লাহ পছন্দ করেন না দাম্ভিক-গর্বিতজনকে। যারা নিজেরাও কার্পন্য করে এবং অন্যকেও কৃপণতা শিক্ষা দেয় আর গোপন করে সে সব বিষয় যা আল্লাহ তাআলা তাদেরকে দান করেছেন স্বীয় অনুগ্রহে-বস্তুতঃ তৈরী করে রেখেছি কাফেরদের জন্য অপমান জনক আযাব।” সূরা নিসাঃ ৩৬-৩৭।

শ্রমিকদের ক্ষমতার বাইরে তাদের উপর কাজের বোঝা চাপিয়ে দেয়া ঠিক না। তাদের কাজের নিরাপদ পরিবেশ রাখা জরূরী। শ্রমিকেরা আঘাত পেলে তাদের ক্ষতিপুরুনের ব্যবস্থা থাকা উচিত। এবং তাদের কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় থাকা উচিত।

“আমি মাদইয়ানের প্রতি তাদের ভাই শোয়ায়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বললঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন উপাস্য নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ এসে গেছে। অতএব তোমরা মাপ ও ওজন পূর্ন কর এবং মানুষকে তাদের দ্রব্যদি কম দিয়ো না এবং ভুপৃষ্টের সংস্কার সাধন করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। এই হল তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও।” সূরা আল আরাফঃ ৮৫

যারা মাপে কম দেয় তাদেরকে সতর্ক করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন,
“যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ,যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয় এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়।তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে। সেই মহাদিবসে,যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।” সূরা আল মুতাফ্ফিফিনঃ ১-৬
সুতরাং শ্রমিকদেরকেও তাদের মজুরী থেকে যদি বেশি কাজ করিয়ে মজুরী কম দেয়া হয়, তাহলে কাল কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সেদিন আল্লাহর আরসের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না।

শ্রমিকদের সঠিক সময়ে তাদের মজুরী দিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
“শ্রমিকদের ঘাম শুকানোর পূর্বেই তাদের মজূরী দিয়ে দিও” ইবনে মাজাহ।

শ্রমিকেরা যে পরিশ্রম করে, যে অমানবীয় কষ্ট করে তার প্রতি সম্মান রক্ষা করে, যথাসময়ে তাদের মজুরী দিয়ে দেয়া উচিত। অনেকেই মজুরী দিতে গড়িমসী করে। আবার আমাদের দেশে গার্মেন্টস সেক্টরস গুলোতে খুবই কম মজুরী দেয়া হয়। আল্লাহর কাছে জবাবদিহি থেকে রক্ষা পেতে চাইলে শ্রমিকের মজূরীর ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া জরূরী। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী শ্রমিকদের সাথে আচরন করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

লিডারশিপ কিছু উদাহরন

লিডারশিপ নিয়ে কয়েকটি আলোচনা শুনলাম। আলহামদুলিল্লাহ! অনেক কিছু শিখলাম, দুদিন থেকে আমি খুজছিলাম যে, প্রকৃতিতে লিডারশিপ এর কোন কিছু খুজে পাওয়া যায় কিনা। বেশ কয়েকটি উদাহরন, পেয়েছি যেগুলো অনেক শিক্ষনীয়।
ঈগল পাখির কয়েকটি বৈশিষ্ট্যর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য তিনটি তুলে ধরলাম।
১) ঈগল পাখি সাধারনত ৭০ বছরের মত বাঁচে। মজার ব্যাপার হলো এদের বয়স যখন ৩০-৪০ বছর হয় তখন তাদের একটি শারীরিক পরিবর্তন হয়। কারন এই পুরনো নখ আর শিকারের উপযোগী থাকেনা, তার হাতে দুটো অপশন থাকে হয় মৃত্যু নয়ত শারীরিক পরিবর্তন। তাই সে শারীরিক পরিবর্তনে চলে যায়। তা না হলে সে ৩০ বছরেই মারা যেত। সে সময় এরা উঁচু পাহাড়ের আড়ালে বাসায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে ঈগল নিজের চঞ্চু/ঠোট পাথরে আঘাত করে করে ভেংগে ফেলে যতক্ষন না পুরো ঠোট খসে পড়ে। এরপর সে অপেক্ষ করে নতুন ঠোট বের না পর্যন্ত। এরপর সে তার নখর দিয়ে পাথরে আঘাত করে এভাবে সে তার নিজের পুরাতন নখর কে খুলে ফেলে এবং অপেক্ষা করে নতুন নখরের জন্য। নতুন নখ তৈরী হলে এবার সে তার পালকগুলোলে খুলে ফেলে ঠোট আর নখের মাধ্যমে যতক্ষন না তার শরীর সম্পূর্ণ পালকহীন হয়ে যায়। নতুন পালক উঠা না পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে। এভাবে সে ১৫০ দিন পার করে শারীরিক পরিবর্তনের জন্য। ১৫০ দিন পর সে নতুন জীবন ফিরে পায়। জীবনের বাঁচার জন্য পরিবর্তন কে মেনে নেওয়া জরূরী।
শিক্ষাঃ ভিশনারী লিডার রা সব সময় ওপেন মাইন্ডের হয়, যখন সারভাইভ করার প্রশ্ন চলে আসে, যখন প্রশ্ন আসে এগিয়ে যাওয়ার প্রকৃতিগতভাবে পরিবর্তন জরূরী হয়ে পড়ে।

২) ঈগল পাখির যখন বাচ্চা একটু বড় হয় তখন সে তার ´বাচ্চাগুলোকে বাসা থেকে বের করে বাইরে ছুড়ে দেয়। যাতে বাচ্চারা সাহসী হতে শিখে ভয় কেটে যায়। এভাবে সে বাচ্চাগুলো কে শিক্ষা দেয়।
শিক্ষাঃ ট্রেনিং খুবই জরূরী যেটি একটি প্রকৃতিগত ব্যাপার।

৩) ঈগল পাখি ঝড়কে পছন্দ করে, ঝড়ো হাওয়ায় সে উড়তে স্বাচ্ছন্দবোধ করে। ঝড়ের সময় অন্যসব পাখি যখন লুকায় তখন ঈগল পাখি আরামে উড়ে বেড়ায়। ঈগল ঝড়ের বাতাসের গতিকে কাজে লাগিয়ে বাতাসের গতির বেগকে কাজে লাগিয়ে নিজের শক্তির কম ব্যবহার করে উড়ে বেরায়।
শিক্ষাঃ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের দুঃখ, কষ্ট, বাধাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরাও টিকে থাকতে পারি অনেক স্বাচ্ছন্দ্যর সাথে।

কচ্ছপ একটি অদ্ভুত প্রাণী, তার খোলস টা বড়ই অদ্ভুত। প্রতিকূল পরিবেশে সে তার খোলসের নিচে মাথা লুকিয়ে নিজেকে রক্ষা করে। শরীরের নরম জিনিসগুলোকে রক্ষা করে ক্ষতির হাত থেকে। সে চুপচাপ পড়ে থাকে যাতে কেউ বুঝতে না পারে।

ঠিক তেমনি প্রতিকুল পরিবেশে আমরা নিজেদের ঈমান ও আমল গুলোকে এভাবে রক্ষা করতে পারি। পরিবেশ অনুযায়ী আচরন করা আমাদের জন্য হয়ে উঠতে পারে নতুন সম্ভাবনার।

ইসলামিক লিডারশিপের সংকট প্রকট। লিডারশিপের যেমন সংকট ঠিক তেমনি সংকট লিডার হওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন কর্মীবাহিনীর। আর এর সব কিছুর মধ্যে বড় সংকট, জীবনের উদ্দেশ্য বা সৃষ্টির উদ্দেশ্যকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারা। আর বুঝতে পারলেও সেই অনুযায়ী কাজ না, ডেডিকেশন না থাকা। পার্থিব ও আখিরাতের জীবনের উদ্দেশ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন না থাকা। ফলে যে গ্যাপ সেটি গ্যাপ এ থাকছে। বরং গ্যাপ আরো বাড়ছে।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সব দুর্বলতার মাঝেও আমাদের ঈমান ও আমলকে সঠিক বুঝের সাথে করার তওফিক দান করুন। (আমিন)

উপদেশ গ্রহনের সুন্দর ঘটনা

একদিন উমর (রাঃ) একটি বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির জানালা দিয়ে তাকালেন (তিনি এটি করতেন শুধুমাত্র মানুষকে খারাপ কাজ থেকে নিষেধ বা ভালো কাজের উপদেশ দানের জন্য), তিনি দেখলেন যে, একজন মুসলিম ভাই অ্যালকোহল পান করছে। উনি দ্রুত তার বাসায় প্রবেশ করলেন এবং তাকে বললেন যে তুমি তো হারাম কাজ করছো। তখন ঐ লোকটি উমর (রাঃ) কে বললো যে, আমি একটি হারাম করছি আর আপনি তো তিনটি হারাম কাজ করলেন। 

এক) আপনি অন্যর বাড়ির জানালা দিয়ে তাকিয়েছেন।
দুই) আপনি অনুমতি না নিয়ে অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করেছেন।
তিন) আপনি নিশ্চিত না হয়ে অনুমান করে বলেছেন যে, আমি অ্যালকোহল পান করছি। 

তখন উমর (রাঃ) বললেন যে, তুমি ঠিকই বলেছ। বলে উনি চলে গেলেন।
এর কিছুদিন পর উমর (রাঃ) মসজিদে খুতবা দিচ্ছিলেন সেই সময়ে ঐ লোক মসজিদে প্রবেশ করে পেছনে বসলেন। খুতবা শেষ করে উমর (রাঃ) ঐ লোকের কাছে গেলেন গিয়ে চারপাশে তাকিয়ে চুপচুপে বললেন যে, দেখ! সেদিনের পর আমি আর কারো বাড়ির জানালার দিকে তাকাই না। আর আমি তোমার ঐ ঘটনাকে কারো কাছে বলিনি।
তখন ঐ লোক বললো যে, আমিও সেদিন থেকে আর অ্যালকোহল পান করিনা।

কি সুন্দর ছিলো উপদেশ দেয়া আর উপদেশ গ্রহন করার ঘটনা গুলো, অথচ কেউ আমাদের উপদেশ দিলে আমরা অনেক সময় ভালোভাবে গ্রহন করতে পারি না। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রাসুল (সাঃ) ও তার সাহাবা (রাঃ) চরিত্রের মত চারিত্রিক গুনাবলী দান করুন। (আমীন!)

আজকের ফটোগ্রাফী

আজকের ফটোগ্রাফী

উপশালা, সুইডেন। ১৫ এপ্রিল ২০১৪।

আমার ফটোগ্রাফী

ভরা চাঁদ। উপশালা, সুইডেন। ১৫ এপ্রিল ২০১৪।

আমার ফটোগ্রাফী

ভরা চাঁদ। উপশালা, সুইডেন। ১৫ এপ্রিল ২০১৪।

আমার ফটোগ্রাফী

ভরা চাঁদ। উপশালা, সুইডেন। ১৫ এপ্রিল ২০১৪।

আমার ফটোগ্রাফী

ভরা চাঁদ। উপশালা, সুইডেন। ১৫ এপ্রিল ২০১৪।

মধ্যবিত্তের বিড়ম্বনা

মধ্যবিত্ত হওয়ার ঝামেলাই অন্যরকম। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিড়ম্বনা আর বিড়ম্বনা। আসুন দেখা যাক সেটা কেমন–
মধ্যবিত্ত পরিবারঃ
সর্বদা চ্যালেঞ্জ আর চ্যালেঞ্জ। কোন কিছু ই আরাম করে করতে পারবেন না। ধরেন আপনি পরিবারের বড় ছেলে কলেজ জীবন শেষ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেন না। নো উপায়, ছোটোদের কথা ভেবে হয়তো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবেন না। আবার ধরেন অনেক শখ একটি বাইক কিনবেন বন্ধুদের মত, না এখানেই কোন চান্স নেই। ভাবলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেন এখন একটু ঘুরবেন, আরাম টাইম পাস করবেন, উপায় নেই টিউশনি করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ। ভাববেন জলদি বিয়েটা করে সংসারী হবেন, কোন চান্স নেই পরিবারকে সাপোর্ট দিতে হবে, অতঃপর বেলা শেষে বিয়ে। বিয়ে করলেন নিজের পরিবার হলো, ভাবলেন কিছু টাকা ব্যবসা করবেন, শেয়ার বাজারে ইনভেস্ট করলেন, কারন আপনি নিজেও মধ্যবিত্ত চাকুরী করেন সরাসরি ব্যবসা করার সময় নেই, টাকা বেশি হতে লাগল আপনিও স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেন, অতঃপর হঠাৎ একদিন দেখলেন আবুল মাল মুহিত বলছে আপনি ফটকা বাজ। আপনার মাথায় হাত আপনার টাকা সব শেষ।

মধ্যবিত্ত বিয়ের বরঃ
মধ্যবিত্ত বিয়ের বর মানে হলো যার বিয়ের যোগ্যতা মধ্যবিত্ত শ্রনীতে পরে। যেমন , আপনি সাইজে মধ্যবিত্ত, উচ্চতায় মধ্যবিত্ত, বিয়ে করতে যাবেন, দেখবেন মেয়েদের চাহিদার মধ্যে আপনি নাই। ধরলেন আপনি সাইজে পাড় পাইলেন, এরপর মোহোরানায় গিয়ে ধরা আপনার সব সম্পত্তির চেয়েও মোহরানা বেশি। কোন চান্স নেই।

মধ্যবিত্ত প্রেমিকঃ
যার প্রেমের অভিজ্ঞতা মধ্যবিত্ত শ্রেনীর। আপনি জীবনের অনেক শখ করে একটা মেয়েকে পছন্দ করলেন, দুদিন পড় আপনার প্রেম নাই হয়ে গেলো কারন , আপনি প্রেমিকার খাবার বা রিক্সা ভাড়ার বিল দিতে পারলেন না।

মধ্যবিত্ত ছাত্রঃ
মধ্যবিত্ত ছাত্র হলো যাদের পড়াশোনায় মূলধন কম। সর্বদা ভয় এই বুঝি রেজাল্ট খারাপ হয়। মুলধন কম থাকায় প্রচুর পরিশ্রম করলেন। পাশ করে দেখলেন আপনি মধ্যবিত্ত রেজাল্ট করেছেন। এবার চাকুরী করতে যাবেন, আপনি মধ্যবিত্ত আপনার নাই বড়লোক মামা, আবার আপনি উচ্চিবিত্ত রেজাল্টাধারী ও না, সুতরাং আপনার চাকুরী নাই। যাহোক কোনমতে একটি চাকুরী ম্যানেজ করলেন, সেখানেও সর্বদা ভয়, কারন আপনার কোম্পানী মধ্যবিত্ত কোম্পানী ক্লোজ হওয়ার ভয়।

আপনি মধ্যবিত্ত বাবাঃ
বিয়ে করলেন ভাবলেন এবার বুঝি জীবনে সুখ আসলো। বিয়ের বছর না ঘুরতে পরিবারে নতুন সদস্য। খরচের খাতায় নতুন জিনিস যোগ হতে শুরু করলো। সাথে সাথে আপনার কপালের ভাঁজও বাড়তে লাগলো। মেয়ে বড় হয়েছে বিয়ে দিবেন। মধ্যবিত্ত বাবা যৌতুকের টাকা নাই। এদিকে মেয়ের বয়স ও চলে যাচ্চে। অতঃপর উপায় না দেখে অপাত্রে কন্যাদান করলেন। বিয়ে দিলেন আপনার জামাই ও মধ্যবিত্ত ভাবলেন বিয়ে দিয়ে রক্ষা পেলেন, না এখানে শেষ নাই, মাস ঘুরতেই দেখবেন মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে আপনার বাড়িতে, টাকা দরকার।

মধ্যবিত্ত বৃদ্ধ জীবনঃ
আপনি মধ্যবিত্ত শ্রেনীর বয়স্ক একজন মানুষ। চাকুরী শেষ ভাবলেন এখান বাকি জীবনটা পেনশন পেয়ে আরামে কাটাবেন।পেনশনে যাওয়ার সাথে সাথে দেখবেন নিজের বড় করা বাচ্চাগুলো ফিরে তাকানো ভূলে যাচ্ছে। আর যদি গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেন তাহলে ঐদিন বাচ্চারা হাজির টাকা শেষ। জীবনটা যাবে ধুঁকে ধুঁকে।

জীবন শেষ মারা গেলেনঃ আপনি মধ্যবিত্ত ইমানদার, মধ্যবিত্ত মুসলিম।ইমান ও আমলে আপনি মধ্যবিত্ত, জীবনে ভালোভাবে নামাজ আদায় করেননি, অলসতা করেছেন, কুরান পড়েননি। মারা যাওয়ার সাথে কবরে ফেরেশতা এসে হাজির আপনার বকেয়া নামাজের হিসেব চাইবে। আল্লাহ আপনাকে যে জীবন দিয়েছিলো সেগুলোর হিসেব চাইবে। আপনিতো মধ্যবিত্ত মানুষ, আপনার জীবনের অর্ধেক হিসেব খুঁজে পাচ্ছেন না। উপায় কি কবরে গিয়ে মধ্যবিত্ত জীবন যাপন মানে কষ্ট আর বিড়ম্বনার জীবন যাপন করতে হবে।
কবরের জীবন শেষ এবার বিচারের পালা। ভাবলেন এবার বুঝি রক্ষা পাবেন। বিচার হলো আপনি মধ্যবিত্তের পুরুষ্কার নিজের জন্য জায়গা পেলেন জান্নাত-জাহান্নামের মাঝে। একদিকে আযাব যন্ত্রনা দেখে মানসিক কষ্ট আর একদিকে জান্নাতের সুখ দেখে আফসোস করবেন। ভাববেন মধ্যবিত্ত জীবনটা আসলে অপয়া। তাই সিদ্ধান্ত নিলেন যদি আল্লাহ সুযোগ দেয় র একবার তাহলে অন্তত একজন উচ্চবিত্ত মুমিন, মুসলিম হয়ে মারা যাবেন। এই সান্ত্বনা নিয়ে আপনার বাকি জীবন চলতে লাগল।

মধ্যবিত্ত শ্রেনীর লোকদের প্রতি, আসুন আমরা উচ্চবিত্ত মুমিন হওয়ার চেষ্টা করি। এটির জন্য টাকা পয়সা লাগেনা, কষ্টো বেশি লাগেনা। একটু আগ্রহ হলেই উচ্চবিত্ত মুমিনের খাতায় নাম লেখানো যাবে। ইনশাল্লাহ।

বিঃদ্রঃ মধ্যবিত্ত শ্রেনীর কষ্টের মাঝে যে ভালোবাসা-মমতা বর্তমান থাকে সেটি একেবারে নিখাঁদ। তারমধ্যে কৃত্রিমতা থাকেনা। 🙂 🙂

পাশ্চাত্য অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াত

পাশ্চাত্য অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াত
মূল লেখকঃ খুররম মুরাদ
অনুবাদঃ আব্দুল হালিম
অধ্যয়ঃ অবস্থা, সমস্যা ও সম্ভাবনা
তিনটি প্রশ্নঃ
একটি অপ্রিয় সত্য উচ্চারনের মাধ্যমে শুরু করি। আমরা পাশ্চাত্যের অমুসলিমদের মধ্যে কোন দাওয়াত করছিনা বললেই চলে। প্রকৃতপক্ষে আমরা বিশ্বের কোথাও দাওয়াতী কাজ করছিনা। কেন? প্রথমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা উচিৎ। বড় পরিসরে, এক বিলিয়ন মুসলিম উম্মাত হিসেবে অথবা একটি মুসলিম দেশ এবং জাতি হিসেবে আমাদের লক্ষ্য এবং অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে দাওয়াহর কোন স্থান নেই। আমাদের জাতীয় সম্পদের কোন কিছুই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটিতে লাগানো হচ্ছে না। একই রকম ভাবে যেসব মুসলিম কম্যুনিটি গুলো অমুসলিম দেশগুলোতে বসবাস করে, তারা প্রতিবেশির প্রতি দাওয়াতি কাজে খুব উদাসীন। আমরা তাদের উপর কোন প্রভাব তৈরী করতে পারি না যদিও পাশ্চাত্যের দেশগুলোর অনেকগুলোতে আমরা শক্তিশালী। ক্ষুদ্র পরিসরে ছোট ইসলামিক গ্রুপ, ব্যক্তির মধ্যে এরকম দাওয়াতি কাজের ঘাটতি পরিলক্ষিত।
দ্বিতীয়তঃ ছোটখাট যাই আমরা করছি সেটি খুব বেশি ফলপ্রসূ হচ্ছে না। আবার যদি প্রশ্ন করা হয় কেন তাহলে সেটি হবে আমাদের সামনে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তৃতীয় প্রশ্নটি হওয়া উচিৎ অমুসলিমদের মধ্যে দাওয়াতী কাজের জন্য ইসলাম নিয়ে আমাদের ধারনা, দা্ওয়াতী কাছের ধরন, এবং পদ্ধতিসমূহ কি সঠিক??
সেগুলো কি সংশোধন বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন? যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তা কিভাবে?

বেসিক ফ্রেমওয়ার্ক
প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেয়ার আগে তিনটি মূলনীতি উল্লেখ করা যাক যার উপর ভিত্তি পুরো আলোচনাটি করা হয়েছে। প্রথমতঃ অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামের দা্ওয়াতী কাজ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে না, করা উচিৎ নয়। মুসলিমের ইসলামী জীবনের কেন্দ্রে এর অপস্থানকে বুঝতে না পারা পর্যন্ত আমরা দাওয়াতী কাজকে অধিগ্রহন করি না। সত্য ও ন্যায়ের সাক্ষ্যকে স্বীকৃতি দানের মিশনে আমরা যে যাত্রা এবং সংগ্রাম করে যাই দাওয়াতী কাজ তার অবিচ্ছেদ্য অংশ না হওয়ার পর্যন্ত আমরা আমাদের শক্তি ও সামর্থ্যকে দাওয়াতী কাজে নিয়োজিত করি না।

বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করতে হলেঃ
অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামের দাওয়াত ইসলামের অস্তিত্বের জন্য একটি নিছক গৌণ বিষয় বা শাখা হওয়া উচিৎ না। এটাকে গৌণ কাজ হিসেবে এটি অনুসৃত হতে পারে না। এটা কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে উদ্ভুত ঘটনা হওয়া উচিত না, অথবা একটি দৈবিক ক্রিয়াকলাপের আনুষঙ্গিক হওয়া উচিত নয়. উদাহরণস্বরূপ, এটিকে অন্যান্য ধর্মের দ্বারা মিশনারি কার্যক্রমের একটি প্রতিক্রিয়া বা প্রতিক্রিয়া হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়. এইভাবে অগ্রসর হলে, এটি এখন ক্ষতিগ্রস্থ হবে যেমন এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দ্বিতীয়তঃ অমুসলিমদের মাঝে দাওয়াতী কাজের সমস্যা এবং তার সমাধানের ধারনাগত এবং পদ্ধতিগত সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরন এবং আলোচনায় সঠিক সফল হতে পারবো না যতক্ষন না আমরা এটিকে ইসলামে একটি যথাযোগ্য স্থান দেই, যতক্ষন না আমরা পুরো বিষয়টিকে মুসলিমদের সামগ্রিক অবস্থার সাথে বিবেচনা না করি।

পরবর্তী পোষ্টে থাকছে…
মুসলিমদের সামগ্রিক অবস্থা
সীমাবদ্ধতা
(চলবে)

অসহায় ভালোবাসা

একদা জীবনের সব আবেগ অনুভূতিগুলো ((ভালোবাসা, কষ্ট, সুখ, অহমিকা, ঐশ্বর্য্য, জ্ঞান এবং সময়)সমূদ্রের এক দ্বীপে অবসরে ভ্রমনে গেলো। তারা তাদের নিজেদের মতই ভালো সময় কাটালো। হঠাত করে ঝড়ের পূর্বাভাস ঘোষনা করা হলো এবং দ্বীপটি খুব দ্রুত খালি করতে বলা হলো। ঘোষনার সাথে সাথে সবার মাঝে ঘরে ফেরার তাড়া শুরু হয়ে গেল। সবাই নৌকার দিকে ছুটলো, খারাপ নৌকাগুলোও দ্রুত ভালো করা হলো।

এতকিছু পরও ভালোবাসা দ্রুত দ্বীপটি ছেড়ে যেতে অনীহা দেখালো। তখনই অনেক কিছু করার বাকি ছিলো। আকাশে হঠাত কালো মেঘ জমতে শুরু করলো। তখন ভালোবাসা বুঝতে পারলো যে দ্বীপটি দ্রুত ত্যাগ করার সময় এসে গেছে। কিন্তু ততক্ষনে সব নৌকা ছেড়ে চলে গিয়েছে। ভালোবাসা চারদিকে আশা নিয়ে তাকালো।

তখনই ঐশ্বর্য পাশ দিয়ে একটি আলিশান নৌকায় করে যাচ্ছিলো,
ভালোবাসা চিতকার করে বললো ঐশ্বর্য আমাকে কি তোমার নৌকায় নিতে পারবে?
ঐশ্বর্য বললো না, আমার নৌকা মূল্যবান সম্পদে পরিপূর্ণ, সোনা, রূপা দিয়ে ভর্তি সেখানে তোমার জন্য কোন জায়গা খালি নেই।

খানিকপরে অহমিকা যাচ্ছিলো একটি সুন্দর নৌকায় চড়ে। ভালোবাসা চিতকার করে বললো, তুমি কি আমাকে সাহায্য করতে পারবা?
অহমিকা বললো, না, তোমাকে নেয়া যাবেনা, তোমাকে নিলে আমার নৌকা তোমার পায়ের কাদায় নষ্ট হয়ে যাবে।

কিছুক্ষন পর দুঃখ পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, পুনরায় ভালোবাসা তাকে বললো তুমি কি আমাকে নিতে পারবা,
দুঃখ বললো না, আমি তোমাকে নিতে পারবোনা আমি অনেক কষ্টে আছি।

যখন সুখ পাশ দিয়ে যাচ্চিলো, ভালোবাসা তাকে ও বললো কিন্তু সুখ আনন্দে এত ব্যস্ত ছিলো চারদিকে তাকানোর সে প্রয়োজন বোধটুকু করলো না।

একটু পর ভালোবাসা ক্লান্ত ও মর্মাহত বোধ করতে লাগলো।
ঠিক সেই সময়ে কে যেন হঠাত করে ঢাকলো যে, ভালোবাসা আসো আমি তোমাকে সাথে নিবো।
ভালোবাসা বুঝতে পারলো না যে কে এত উদার হয়ে ডাকলো। সে দ্রুত লাফ দিয়ে নৌকায় উঠলো, নিরাপদ পৌছতে পারবে ভেবে স্বস্তি বোধ করলো।
নৌকায় উঠেই ভালোবাসা জ্ঞানকে দেখতে পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো “জ্ঞান তুমি কি জানো কে এত উদার হয়ে আমাকে সাহায্য করলো যখন কেউ আমাকে সাহায্য করলো না?”
জ্ঞান হেসে বললো, “ওহ, সময় তোমাকে ডেকেছে”
ভালোবাসা আরো আশ্চর্য্য হয়ে ভাবতে লাগলো যে, “কেন সময় তার জন্য থামলো, কেন তাকে নিরাপদ স্থানে পৌছে দেও্য়ার জন্য নৌকায় তুলে নিলো”
জ্ঞান বিজ্ঞের হাসি হেসে বললো, “একমাত্র সময়ই জানে তোমার মহানুভবতা এবং তোমার সামর্থ্য কি। শুধুমাত্র ভালোবাসাই পারে এই পৃথিবীকে সুখ এবং শান্তিময় করতে”।

এখান থেকে শিক্ষা হলোঃ যখন আমরা সম্পদশালী হই তখন ভালোবাসাকে এড়িয়ে যাই। যখন আমরা নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবি তখন ভালোবাসাকে ভূলে যাই। এমনকি সুখ ও দুঃখেও আমরা ভালোবাসাকে অনেক সময় ভূলে যাই।
শুধুমাত্র সময়ে আমরা ভালোবাসা অনুভব করি এবং এর গুরুত্ব বুঝতে পারি।
সুতরাং আর দেরি কেন, চলুন না আজ থেকে ভালোবাসাকে জীবনের একটু অংশ করে নেই।

সুখের জন্য ছোটা……. (শিক্ষনীয় গল্প)

একদিন এক শিক্ষক ক্লাশে ঢুকে সব ছাত্রকে একটি করে বেলুন দিয়ে বেলুনে যার যার নাম লিখতে বললেন। সবার নাম লিখা হয়ে গেলে শিক্ষক বেলুনগুলো সংগ্রহ করলেন। বেলুন গুলো নিয়ে পাশের একটি কক্ষে রাখলেন।
এরপর শিক্ষক সব ছাত্রকে ৫ মিনিট সময় দিয়ে তাদের নিজের নাম সম্বলিত বেলুনটি খুঁজতে বললেন। সবাই হুড়মুড় করে ঐ কক্ষে ঢুকলো, হন্যে হয়ে খুজতে লাগলো সবাই চিৎকার, হইহুল্লোর শুরু করলো কিন্তু কেউই ৫ মিনিটে কারো বেলুন খুঁজে পেলো না উপরন্তু অনেক বেলুন নষ্ট হয়ে গেলো।
এরপর শিক্ষক একই ভাবে আর একটি কক্ষে আবার সব বেলুন দিয়ে যেকোন একটি করে বেলুন খুঁজতে বললেন। এবার সবাই একটি করে বেলুন পেলো।

এবার শিক্ষক সবাইকে বললেন, ঠিক এমনটি আমাদের জীবনে ঘটে। সবাই হন্যে হয়ে চারিদিকে সুখ খুঁজে বেড়ায় কিন্তু কেউ ই জানে না সুখ কোথায়। আসলে একজনের সুখ অন্যজনের সুখের মধ্যে নিহিত রয়েছে। তোমরা অন্যকে সুখী কর, তাহলে নিজেদের সুখটা পেয়ে যাবে।

সুতরাং অন্যকে সুখী করার চেষ্টা করলে নিজের সুখ পাওয়া যায়। তাই আসুন আমরা অন্যের সুখে নিজেদের সুখ খোঁজার চেষ্টা করি।

শিক্ষনীয় গল্প

There was a blind girl who hated herself just because she was blind. She hated everyone, except her loving boyfriend. He was always there for her. She said that if she could only see the world, she would marry her boyfriend.

One day, someone donated a pair of eyes to her and then she could see everything, including her boyfriend. Her boyfriend asked her, “now that you can see the world, will you marry me?”

The girl was shocked when she saw that her boyfriend was blind too, and refused to marry him. Her boyfriend walked away in tears, and later wrote a letter to her saying:

“Just take care of my eyes dear.”

This is how human brain changes when the status changed. Only few remember what life was before, and who’s always been there even in the most painful situations.

অলসতা করলে রিজিক মিলে না (শিক্ষনীয় গল্প)

এক ব্যক্তি একদিন একটি বুনো বিড়ালকে দেখল যে, তার হাত-পা কাটা। তা দেখে সে অবাক হয়ে গেল যে, এটা কেমন করে বাঁচে। কিভাবে নিজের খাদ্য সংগ্রহ করে। এটা ভেবে সে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে ধ্যানে মগ্ন হয়ে রইল। কিছুক্ষন পর দেখল যে, একটি বাঘ একটি খেক শিয়াল শিকার করে নিয়ে এলো এবং ঐখানে বসে শিয়ালটি খেল। বাদবাকী যা ছিলো, ঐখানে ফেলে চলে গেল। তা দেখে লোকটির দৃঢ় বিশ্বাস জন্মাল যে, রিযিকদাতা যাকে ইচ্ছে রিযিক পৌছে দেন। রিযিক নিজের শক্তির ওপর অর্জন করা নির্ভর করে না। তা ভেবে সেখান হতে রওয়ানা হয়ে গেল এবং মনে মনে স্থির করল যে, পিঁপড়ার ন্যায় নির্জনে এক কোণে গিয়ে বসে থাকব। কয়েকদিন নির্জনে বসে আল্লাহর পানে চেয়ে রইলো যে, তিনি রিযিক পাঠিয়ে দেবেন। তার জন্য কোন ব্যক্তি করল না অর্থাৎ নিজের আত্নীয়-স্বজন বা অন্য কেউই তাকে খাদ্য দিল না এবং কেউ তার জন্য চিন্তাও করল না। অবশেষে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেল। তখন আর সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে রইল, তখন সে একটি আওয়াজ শুনতে পেল, হে কমিনা! উঠ যাও এবং হিংস্র বাঘের ন্যায় হও, নিজেকে হাত-পা কাটা বিড়ালের ন্যায় বানাইও না। এভাবে চেষ্টা কর যেন বাঘের ন্যায় কামাই করে অন্যকে খাওয়াইতে পার। বিড়ালের ন্যায় জুটা খেয়ে কেন জীবন ধারন করবে? যার ঘাড় বাঘের ন্যায় মোটা, সে যদি বিড়ালের ন্যায় পড়ে থাকে,তবে সে কুকুরের চেয়েও অধম। নিজের হাতে জোরে কামাই কর,অন্যকে খাওয়াও। অন্যোর উপর নির্ভর কর না। মানুষের মত কষ্ট স্বীকার কর, অন্যকে শান্তি দাও।