ডায়েরী জানুয়ারী ২০১২

রাত ৯.২০, ল্যাব থেকে বের হলাম বাসায় ফিরবো বলে। চারিদিকে শুনশান নিরবতা। প্রকৃতির মাঝে কিসের জন্য যেন প্রতিক্ষা। তুষারের শুভ্রতায় ঢেকে গেছে সমস্ত মৃত্তিকা। মাটির কালো রং আজ যেন সাদায় ঢেকে পড়েছে। পাশের বাগানের গাছ গুলো পত্র হারিয়ে মৃত কংকাল এর মত ঠায় দাড়িয়ে আছে। দুরের কোন কারখানা থেকে সাদা ধোয়া গুলো মেঘের আকারে আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছিলো। আকাশে তাকিয়ে দেখি চাদের সাথে মেঘগুলো লুকোচুরি খেলছে। অপেক্ষা করতে থাকলাম বাসের জন্য, ততক্ষনে মন চলে গেছে গ্রাম বাংলায়। চোখের সামনে ভেসে উঠলো গ্রাম বাংলার সেই চিরচেনা সব দৃশ্য। কনকনে শীতের সকালের সেই খড় পোড়ার গন্ধ, গ্রামের সবাই মিলে খড়ের আগুনের পাশে বসে বসে আগুনের তাপে শীতকে দুরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা সাথে চলত নানা রকমের গল্প। কোন কোন দিন হয়ত খেজুর গাছের রস খাওয়ার জন্য খুব সকালে উঠে অপেক্ষা করা গাছলাগানোর সেই মানুষের জন্য। শীতের পিঠা খাওয়ার অপেক্ষা করার মধ্যে ছিলো এক অনাবিল আনন্দ। শীতের সময় যখন ধান কাটার সময় হতো রাতের বেলা ধান ক্ষেতে থাকতে হত খড়ের তৈরী ঘরে ধান যাতে কেউ চুরি করে না নিয়ে যায়। আবার কখনও বা নিজেদের ধান নিজেরাই দিয়ে রাতের পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যেত।
গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য্যের সাথে কনকনে শীতে বয়স্ক মানুষগুলো যেন মানিয়ে নিতো ভালোভাবে। কারো কোন অভিযোগ ছিলো না। মিলেমিশে সবাই চলত এক হয়ে। শহুরে জীবনের কোথায় কি হচ্ছে সেটাতে গ্রামের মানুষ খুব একটা পাত্তা দিতোনা, কারন গ্রাম সুখ শান্তিতে ভরপুর এক স্বর্গের মত।

শীতে তুষারের প্রত্যাশা সুইডিশ জীবনের এক অবিচ্ছদ্য অংশ। তুষারের শুভ্রতায় সুইডিশরা এক অনাবিল প্রাকৃতিক আনন্দে মেতে উঠে বুড়ো-ছেলে সবাই মিলে। এবার শীতের বৃষ্টিতে অতিষ্ঠ হয়ে যখন সবাই বসন্তকে বরন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো ঠিক সেই সময়ে তুষারের শুভ্রতায় ভরে উঠলো প্রকৃতি।

বাংলাদেশে ঘটলো ঠিক তার উলটো। মানুষ যখন রাজনীতির কালো ধোয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে অধিক আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগল ইলেকশন নামক এক তুষার পাতের মুছে যাবে তাদের এই কালো ধোয়া। কিন্তু সেই ইলেকশন এ শাপে বর হয়ে উঠলো, একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেরা নিজেরা ভোট করে সংসদ গঠন করে দেশ ও রাজনীতির ভবিষ্যতকে এক অজানা গন্তব্যের পথে পরিচালিত করা শুরু করলো, কালোধোয়ার নিয়ন্ত্রকরা।
তারপর ও গ্রাম বাংলার মানুষের জীবনে এসবের প্রভাব হয়ত সামান্য। শীতের কনকনে ঠান্ডায় গ্রামীন মানুষ যখন খড়ের আগুনে জীবন বাচানোর চেষ্টা করছে। ঠিক তাদের ই শ্রমের টাকায় গড়া প্রাসাদ নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে ক্ষমতার জন্য লালায়িত মানুষেরা। শহুরে জীবনে ক্ষমতার কাড়াকড়ি চললেও। শীতের দিনে গ্রাম বাংলার চাদের আলো আর গাছের ছায়ায় প্রকৃতির যে অদ্ভুত সু্ন্দর রূপ ফুটে উঠে ঠিক সেই রূপের মত গ্রামীন মানুষগুলোর মধ্যে ও এক অদ্ভুত সুখ বিরাজ করে।
গ্রামের ফেলা আসা সেই দিন গুলোকে মাঝে মাঝেই মিস করি। মিস করি মায়ের হাতের তৈরী শীতের পিঠা আর পায়েসকে।
গ্রাম বাংলার মানুষগুলো বেচে থাকা যুগ যুগ, গ্রামীন সৌন্দর্য্য ও বেচে থাক শহুরে জীবনের নোংরামী থেকে।

বিয়ে

ভাই একজন নাম তার রেজা
সবাই করছে বিয়ে তাই চোখ তার ভেজা
অনেক কষ্টে ফুল সে করেছে দান
বিয়ে করতে না পেরে যায় তার প্রাণ।
আর এক ভাই নাজমুল, হাতে নিয়ে ফুল
সিরিয়ালে দাড়িয়ে বলে নড়বেনা সে একচুল।
ভালো ছেলে ভাই নাসিমুল
সবাকে বলে ভাই সিরিয়াল না দিয়ে করিয়াছি ভূল
বিয়ে করতে চেয়ে না পেরে তাই হয়ে গেছেন fool।
বড় ভাই নাম তার জুয়েল
বিয়ের অপেক্ষায় ফুরিয়ে যাচ্ছে তার কয়েল।
লাজুক ছেলে নাম তানভীর
সুইডেন এ সে করবে বিয়ে করেছে মনস্থির।
স্মার্ট ছেলে নাম তার সাইফুর
বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা তার বহুদূর।
করবেনা সে বিয়ে কালো মেয়ে
টেনশন, বংশ যদি যায় কালোয় ছেয়ে।
অতীবভদ্র ভাই রেজাউল করিম, বহু আশা নিয়ে গিয়েছিলেন দেশে
কিছু না পেয়ে সুইডেন এ ফিরলেন খালি হাতে শেষে।
আমাদের স্যার কামাল ভাই, ইউনিভার্সিটি প্রফেসর
বিয়ে করবেন যদি মেয়ে হয় ডাক্তার অথবা ইন্জিনিয়ার।
ভাই ইন্জিনিয়ার নাম তার সোহাগ
ডাক্তারকে করবে বিয়ে এখনো দেখে সে খোয়াব।

শিরোনামহীন

রাতের শেষে সূর্য্য হাসে, ভোর হয়ে যায় যেমনি
দ্বীনের জন্য রক্ত দিয়ে, শহীদ হয়ে বিজয় আসে তেমনি।
একটু খানি ধৈর্য্য ধরে চললে দ্বীনের পথে
সকল বাধা রূখে দিবে আল্লাহ তায়ালা নিজে।
শহীদ মোদের মামুন ভাই, শহীদ মোদের নোমানী ভাই

আর কত বলবো?

একে একে সবাই যেন শহীদ মালেকের পথে চললো।

শহীদ মোরা, গাজী মোরা, মোরা মর্দ্দে মুসলিম

আল্লাহর পথে চলে মোরা হই খুশদিল।

শিরোনামহীন

ঝরছে তুষার, চারিদিক হয়ে গেছে সাদা
এরই মাঝে শপথ নিলো ভারতের দালাল রা।
রক্ত দিয়ে শুরু তাদের শপথ উদযাপন
দাদাবাবু তাই ফোন দিয়ে জানায় অভিনন্দন।
শিক্ষাকে তুড়ি মেরে অস্ত্র নিলো যারা তুলে
তাদেরই কোলে নিলো স্বাধীনতার চেতনা ভুলে।
তাদেরই আঘাতে মরে বিশ্বজিত, মরে সংখ্যালঘু
আবার নিজেদের আঘাতে নিজেরাই মরে কভু।
তারপরও তারাই মুক্তিযোদ্ধা, তারাই চেতনাধারী
সুযোগ পেলে তারাই মারছে চাপাতির বারি।
তারাই করছে চাপাবাজি, তারাই মারছে ক্ষমতার ঝারি
আবার তারাই করছে চুরি টাকা কাড়ি কাড়ি।
আমরা সাধারন জনতা হয়ে গেছি দর্শক
আমাদেরই ভোটে নেতা হচ্ছে যারা ছিলো ধর্ষক।
নিজেদের মারছি মোরা নিজেদের ভোটে
তারপরও আশা যদি মুক্তি জোটে তাতে।

বাংলাদেশের সর্বনাশ

প্রহর শেষের শিশির ভেজা ঘাসের কনকনে শীতের মাস
তোমার চোখে দেখেছিলাম বাংলাদেশের সর্বনাশ ।
এ সংসারের নিত্যখেলায়
প্রতিদিনের লাশের মেলায়
পথে ঘাটে হাজারলোকের হাস্য-পরিহাস –
মাঝখানে তার তোমার চোখে বাংলাদেশের সর্বনাশ ।
নির্বাচনের দোলা লাগে, তাজা প্রান প’ড়ে ঝ’রে –
৭৪ এর চেনা গন্ধ হাওয়ায় ওঠে ভ’রে ।
সারা বাংলার কোনায় কোনায়,
প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায়,
ক্ষণে ক্ষণে দুঃসহ দিনগুলি ফেলেছে দীর্ঘশ্বাস –
মাঝখানে তার তোমার চোখে বাংলাদেশের সর্বনাশ ।
তোমার মনে শুধু রক্ত পানের বিকৃত অভিলাষ
চারিদিকে স্বজ্বন হারানোর চাপা কান্নার আওয়াজ,
মাঝখানে শুধু চেয়ে আছি
কবে হবে এই দীর্ঘশ্বাস আর হতাশার বিনাশ,
তোমার চোখে দেখেছিলাম প্রিয় বাংলাদেশের সর্বনাশ।