বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের করনীয়ঃ কিছু প্রশ্ন এবং তার জবাব

এক ভাইয়ের কিছু প্রশ্ন

* পলিটিক্যাল ইসলাম আর ইসলামি আন্দোলনের অন্তর্নিহিত পার্থক্যগুলো বললে প্রস্তাবনা বুঝতে সুবিধা হতো, যেহেতু পরবর্তী রিজনিং গুলো এর উপর ভিত্তি করেই করেছেন।

* দাতাদেশ শব্দটাই বিভ্রান্তিকর। বাংলাদেশ দানের উপর নির্ভরশীল নয়। কিছু বানিজ্যিক ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে অগ্রাধিকার পায়, সেগুলি তুলে নিলে ডেফিনিটলি ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। তবে পাশ্চাত্যের ক্ষমতাধর দেশগুলির সাথে ক্যাচালে যাওয়াটা অপ্রয়োজনীয়।

* ইসলামী বিধানের ক্রমবাস্তবায়ন আর আপোষকামীতা দুইটা এক বিষয় না।

* মিশরের মুরসী সরকারের পতনের সাথে দাতা/গ্রহীতার সম্পর্ক ঠিক কতটুকু? এমেরিক্যান এইডের (এর বড় একটা অংশ কন্সালটেন্সি আর ট্রেইনিং আর ইকুইপমেন্ট বাবদ খরচ হয়,যেটা ঐদিকেই ফিরে যায়)পরিমান দেড় বিলিয়ন, সেটা মিসরের জিডিপির ঠিক কতভাগ? মুরসী সরকারের পতন মানেই ইখওয়ানের পতন না। ইখওয়ান এর থেকে বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার খুব একটা আশা করেনি বলেই মনে হয়।

* “একটি আধ্যত্নিক দল বা গ্রুপ তৈরী করতে হবে যারা ইসলামের কঠোর বিধি নিষেধ এর উপর নিজেদের কায়েম রাখবে এবং যাদের দায়িত্ব হবে তাক্বওয়াবান মুমিন তৈরীর কাজ করে যাওয়া।”

আহলে হাদীস আন্দোলন বাংলাদেশের ইসলামপন্থী মানুষদের সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা করেছে তা হচ্ছে বড় একটা জনগোষ্ঠির মাঝে ‘তাকওয়া = কঠোরতা’ এই ধারণাটা বদ্ধমুল করে দেয়া। এই ধারতেই পলিটিক্যাল ইসলাম/ ইসলামি আন্দোলন এইসব বিভাজন তৈরী হয়, এই ধারাতেই ‘রাজনীতি কলুষিত তাই আধ্যাত্নিকতা আর রাজনীতিকে আলাদা করা’র সবক দেয়া হয়, এই ধারাতেই ইসলামের ক্রমবাস্তবায়ন আর আপোষকামিতাকে এক করে ফেলা হয়।
…………………………………………………………——————————————–
এক ভাইয়ের কিছু প্রশ্নের জবাবে আমার উত্তরঃ
ইসলামি আন্দোলনঃ
আমি কোন ফরমাল ডেফিনেশনে না গিয়ে সংক্ষেপে যেটি বলবো সেটি হলো, ইসলামী অনুশাসনকে কায়েম রেখে, বা ইসলামী বিধান সমূহ অক্ষুন্ন রেখে, আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে কোন কিছুকে আপোষ না করে, বা কৌশলের নামে ইসলামের মৌলিক বিষয় গুলোর সাথে আপোষ না করে ইক্বামাতে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রেচেষ্টা। ইসলামি আন্দোলনকে রাজনীতির সাথে জড়ালেও নিজেদের মধ্যে বা দ্বীন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিদ্যমান দল সমুহের মধ্যে ইসলামী বিধান সমুহের সঠিক বাস্তবায়নের চর্চা অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করা হয় বা অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

পলিটিক্যাল ইসলামঃ
ইসলামী পলিটিক্স বা অন্য কথায় পলিটিক্যাল ইসলাম বলতে আমার কাছে যেটি মনেহয়, বা বিদ্যমান পলিটিক্যাল ইসলামকে দেখে যা মনেহয় সেটি হলো, ক্ষমতার অর্জনের মাধ্যমে ইসলামী বিধান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা।
পলিটিক্যাল ইসলাম শব্দটি যখন ব্যবহার করা হয়, তখন সমাজে বিদ্যমান রাজনীতির সাথে কিছুটা আপোষ মূলক চিন্তা মাথায় রাখা হয়, অথবা আধুনিক রাজনীতির কিছু কৌশলকে রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকার জন্য আবশ্যকীয় মনে করা হয়, যদিও তা ইসলামী অনুশাসনের বিরুদ্ধে চলে যায়। এখানে ক্ষমতার আরোহন কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাকের মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্য রেখে কাজ করা হয়, ফলে পরিকল্পিত রাজনীতি করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ইসলামী অনুশাসনের ঘাটতিকে সংগঠনের প্রয়োজনে এড়িয়ে যাওয়া হয়, বা প্রয়োজন মনে করা হয়, অথচ ইসলামে অন্যায়কে আপোষ করার হয়ত কোন বিধান নেই। ইসলামী দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা করা যদি মানুষের দ্বায়িত্ব হয়ে থাকে তাহলে সেটিকে যেকোন উপায়ে প্রতিষ্ঠার করার ফলে একটি জিনিস ই মনেহয় সেটি হলো, আমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে দ্বীন ই থাকবেনা তাই আমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে যখন আন্দোলন সংগ্রামে লিপ্ত হই বা রাজনীতির ময়দানে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে থাকি তখন একদিকে আমরা মানুষের অধিকার নষ্ট করে থাকি, অপরদিকে আমরা রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকার জন্য আল্লাহ ও ইসলামের দুষমনদের সাথে লবিং চালিয়ে যেতে থাকি নিজেদের বৈধতা লাভের আশায়। আল্লার ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বের সাথে যখন বিদেশী প্রভূদের ক্ষমতাকে আমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য অপরিহার্য করে ফলি তখন দীন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আল্লাহর দেয়া শর্তকে আমরা হয়ত কিছুটা লংঘন করে বসি।

“দাতা দেশ”
বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বয়ংসম্পূর্ন না। বিদেশী বলতে আমি যাদের কাছে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে অর্থনীতি বা দেশের রাজনীতি সচল থাকে বা পরিচালিত হয় তাদের কথা বুঝাতে চেয়েছি।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো পোশাক খাত তাই এই খাতকেই আমি উদাহরন হিসেবে টেনে নিলাম, পোষাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে রপ্তানীর অনেকটাই নির্ভর করে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং অ্যামেরিকার দেয়া বিশেষ সুবিধার উপর। তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসব বিদেশী গোষ্ঠির প্রভাব দৃশ্যমান। এমনকি ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের জীবন বাচাতে বা ফাসি না দেয়ার জন্য লবিং করা হয়ে থাকতে পারে ( আমি এই বিষয়টি নিশ্চিত না তবে ধারনামতে লবিং করা হয়েছে), এমনকি বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের পথিকৃত জামায়াতে ইসলামী নিজেদের অস্তিত্ব টিকে রাখার জন্য হয়ত লবিং চালিয়ে যাচ্ছে লবিং করা হয়ত সমস্যা না। সমস্যা হলো লবিং করতে গিয়ে যাদের কাছে লবিং করা হচ্ছে তাদের সাথে কোন কিছু আপোষ করা হচ্ছে কিনা, বা তাদের দাবী অনুযায়ী নিজেদের আদর্শের পরিবর্তন না করে, বা ইসলামী অনুশাসনের সবকিছু বিদ্যমান রেখে স্বচ্ছন্দে রাজনীতি করা যাচ্ছে কিনা।

ইসলামী বিধানের ক্রমবাস্তবায়ন এবং আপোষকামীতাঃ
আমি যতটুকু জানি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে পুরাতন দল (বড় দলগুলোর মধ্যে), যার ভিত্তি ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দলগঠনের এতো গুলো বছর পার করার পরে দলের অনেক নেতা কর্মীর মধ্যে ইসলামের মৌলিক ত্রুটি বিদ্যমান। প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও একটি দলের মধ্যে যখন এরকম ত্রুটি বিদ্যমান তখন সে দলের জন্য রাজনীতির ক্ষমতা অর্জনকে অগ্রাধিকার দেয়া কতটুকু ইসলাম সম্মত বা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? এটি হয়ত বলা যেতে পারে যে মানুষের মধ্যে ত্রুটি থাকবে, এসব থাকবে এসব নিয়ে চলতে হবে, কিন্তু বাস্তবে কি তাই? সংগঠনের সংকটকালে আমরা মক্কার জীবনের সাথে তুলনা করি অনেক সময়, কিন্তু মক্কার জীবনের ইসলামের প্রাকটিসের মাধ্যমে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার ততকালীন কর্মীদের নিজেদের তৈরীর যে কঠোর অনুশীলন সেটি হয়ত কথার মধ্যে অনুপস্থিত থাকে। ঈমানী ও চারিত্রিক ভাবে অপূর্ণ থেকে ক্ষমতা অর্জনের জন্য সংগ্রাম লড়াই করলে বা লড়াই করে ক্ষমতা অর্জন করলে ইসলামী আইনের বাস্তবায়ন কি এতোদিন ধরে চলে আসা সিস্টেমের মধ্যে গড়ে ওঠা মানুষগুলো দ্বারা সম্ভব? হয়ত কিছুটা সম্ভব কিন্তু পুরোপুরি কি সম্ভব? যদি পুরোপুরি সম্ভব নাই হয়, তাহলে এটাই কি শ্রেয় না যে, যারা ইসলামী আন্দোলনকে জীবনের লক্ষ্য করে নিয়েছে আগে তাদের মধ্যে ইসলামের কঠোর অনুশীলনের নিশ্চিত করা। হয়ত বলা হতে পারে যে, এখন কি সেটা নেই, আমি যতটুকু সংগঠনকে দেখেছি বলবো যে নেই, অনেক ত্রুটি বিদ্যমান। তখন হয়ত বলা হবে যে, মানুষ হিসেবে ত্রুটি থাকবেই বা আগে এরকম ছিলো কিন্তু এটাই বলে কি পাড় পাওয়া যাবে নাকি এসবের জন্য বাস্তব সম্মত ব্যবস্থা থাকতে হবে। যদি প্রশ্ন করেন যে আছে কিনা আমি বলব হয়ত আংশিক আছে তবে যেভাবে মনিটরিং হওয়া দরকার সেভাবে নেই।
যদি প্রশ্ন করেন যে তাহলে কিভাবে এসব মনিটরিং করা যেতে পারে বা এসব থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে তাহলে বলব, যে সাথী সদস্য হওয়ার জন্য অনেক কঠিন ব্যবস্থা করা দরকার, বা সাংগাঠনিক কাজের চেয়ে ইসলামী আমালিয়াতকে বেশি গুরত্ব দেয়া দরকার।
কিছু উদাহারন দেয়া যেতে পারে আমি কেন এরকম ভাবছি,
যেমন যেসব ছাত্রদের রেজাল্ট ভালো তাদের জন্য সংগঠনে অনেক ছাড় দেয়া হয়,
প্রশ্ন হলো কেন দেয়া হয়?
উত্তর আসবে সংগঠনে ভালো লোক দরকার। তাহলে এখানে সংগঠন গুরুত্বপেলো নাকি ইসলাম গুরুত্ব পেলো। যদি বলেন যে ছেলেটি তো নামাজ কালাম পড়ে, অনেক উদাহরন দেয়া যেতে পারে যেখানে অনেক ঘাটতি থাকার পর অনেক ছাড় দেয়া হয় শুধু সংগঠনের লাভের জন্য। আমি শুধুমাত্র একটি উদাহরন দিলাম, এরকম আরো কিছু দেয়া যেতে পারে যেগুলো করা হয় সংগঠনের লাভের জন্য। কথা হলো যে সংগঠনের উদ্দেশ্য হলো দ্বীন প্রতিষ্ঠা সেখানে এগুলো করে কি এটা মনে করা হয় না?যে এগুলোর না হলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব না, বা রাজনীতিতে সুবিধা করা সম্ভব না। যদি তাই মনে করা হয়, তাহলে আল্লাহর সন্তুষ্টির স্থান টি কোথায়?
একারনেই আমি মনে করি ক্রমবাস্তবায়নের যে কথা সেটি অনেকটাই একটি অবাস্তব কথা।

মিশর বা ইখওয়ানঃ
আমি ইখওয়ানের কথা হয়ত সরাসরি বলিনি তবে মিশরের কথা বলেছিলাম। মিশরের সরকার বা মুরসি সরকার অবশ্যই ভালো উদ্যেগ নিয়েছিলো। কিন্তু সেই উদ্যেগের স্থায়িত্ব খুবই কম হয়েছে। এটি হয়েছে বিদেশী শক্তির অসহযোগিতা বা বিরোধিতা এবং দেশের ভেতরে বা সরকার পরিচালনার সিস্টেমের মধ্যে থাকা ইসলাম বিরোধী বা ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার বিরোধী গোষ্ঠির কারনে। ইলেকশনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আরোহন করার পরো যেখানে টিকতে পারেনি সেখানে বাংলাদেশের মত একটি রাষ্ট্রে সেটি কতটুকু সম্ভব। এটিই বুঝাতে চেয়েছিলাম। তবে আমি এটি বলছি না যে ইসলামি আন্দোলন করা যাবে না। আমার কথা হলো, যখন নিজেদের ভেতর অনেক সমস্যা তখন সেটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সামনে অগ্রসর হওয়া।

ইসলামে আধাত্নিক দল বা গ্রুপঃ
এটি বলেছিলাম কারন, হলো ইসলামের মূল স্পিরিট কে টিকিয়ে রাখতে হলে, ইসলামী নলেজের পারদর্শী বা নলেজের চর্চাকারী একটি গ্রুপ বা দল থাকতে হবে, যারা ইসলামের দাওয়াতের প্রসারে কাজ করবে।
এটি বলার কারন, সমাজে অনেক মানুষ আছে যারা রাজনীতি করতে ভয় পায় কিন্তু তারা ইসলাম পছন্দ করে ইসলামের চর্চা করতে ভালোবাসে এসব মানুষকে সঠিক পথে রাখার জন্য কিংবা নিজেদের আয়ত্বের মধ্যে রাখার জন্য দাওয়াতী দল বা একই দলের ধর্মীয় শাখা রাখা যেতে পারে। তাতে করে সকল মানুষের কাছে ইসলামকে পৌছানো যাবে। বিদ্যমান সংগাঠনিক ব্যবস্থায়, ইসলামের বব্যাপক দাওয়াতী কাজ করা সম্ভব হয় না। সাংগাঠনিক/রাজনৈতিক কাজে বেশি মনোনিবেশ করার ফলে দাওয়াতী কাজ বা সমাজে ইসলামের প্রসারে যেভাবে কাজ হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না, ফলে অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের ফলে বা নিজেদের অবস্থা স্বচ্ছল হওয়ার ফলে মানুষ উন্মুক্ত চিন্তার অধিকারী হয়ে, সমাজে সহজলভ্য শিক্ষাকে গ্রহন করছে ফলে মানুষের চিন্তার বিকাশও সেভাবে হচ্ছে। ফলে সমাজের একটি বৃহত অংশ ইসলামী চিন্তার বদলে ইসলাম বিরোধী চিন্তায় বেশি আসক্ত হয়ে পড়ছে। যদি ইসলামী শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক কাজ করা যেত এই সংখ্যা অনেকটা কমে যেত।

আমি যেভাবে বুঝেছি, বা আমি যা বলতে চেয়েছিলাম, সংক্ষেপে এটিও তার ব্যাখ্যা।
ধন্যবাদ আপনাকে সময় করে পড়ার জন্য।

শিরোনামহীন

“সূখ পাখি, সূখ পাখি দেখে যাও এসে
অব্যক্ত কষ্টগুলো মিলে গেছে আকাশের নীলে।
সূখ পাখি, সূখ পাখি দেখে যাও এসে
না দেখা স্বপ্নগুলো সত্যি হয়ে গেছে।
সূখ পাখি, সূখ পাখি দেখে যাও এসে
না বলা কথাগুলো কাব্য হয়ে গেছে।”

বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এবং আমাদের করনীয়

চারপাশে ভারত ঘেষা তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশে ইসলামী আন্দোলন কতটুকু সফল হতে পারে তার ব্যাখ্যা না হয় নাই দিলাম। কিন্তু কথা হলো বিদ্যমান ইসলামী দলগুলোর দ্বারা ইসলামী আন্দোলন এবং রাজনীতিতে সফলতা কতটুকু??

ইসলাম এবং রাজনীতি সমন্বয়ে গড়া পলিটিক্যাল ইসলাম আর ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে অন্তর্নিহিত কিছু পার্থক্য বিদ্যমান যার কারনে বিদ্যমান ইসলামী দলগুলোর দ্বারা যেমন দ্বীন প্রতিষ্ঠা পুরোপুরি নাও হতে পারে, ঠিক তেমনি রাজনীতিতে সফলতাও সম্ভব নয়। প্রথমে বিদ্যমান কিছু সমস্যা তুলে ধরা যাক।

১) বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ। যেখানে দাতা দেশের সাহায্যর উপর নির্ভর করে দেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয় সেখানে দাতা দেশের সাথে সমন্বয় রক্ষা না করে কিভাবে দেশের ক্ষমতায় আরোহন করা সম্ভব বা ইসলামী আন্দোলনের অগ্রনী দলগুলোর রাজনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব?

২) যেসব ইসলামী দলের রাজনীতির ময়দানে টিকে থাকা নির্ভর করে পশ্চিমা ইসলাম বিরোধী শক্তিগুলোর উপর সেসব দলের পক্ষে দ্বীনের প্রতিষ্ঠা কতটুকু সম্ভব?

৩) চরম ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ভারতঘেষা একটি ছোট দেশে বিদ্যমান পলিসী নিয়ে রাজনীতির ময়দানে জয়ী হওয়া বা টিকে থাকা কতটুকু সম্ভব?

৪) উপরের সবগুলো প্রতিবন্ধকতার সাথে আপোষ করে ইসলাম নীতির সাথে আপোষ করে কিভাবে টিকে থাকা সম্ভব বা কিভাবে ইসলামী আন্দোলন করা সম্ভব?

তাহলে সম্ভাবনা দুটো
১) হয় ইসলামের সাথে বা ইসলামী বিধানের সাথে আপোষ করে রাজনীতি করে ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই করতে হবে, সেক্ষেত্রে ইক্বামাতে দ্বীনের যে লক্ষ্য সেটা অনেকটাই বিচ্যুত হবে। এবং ইসলাম বিবর্তিত হয়ে মডারেট ইসলাম মানুষের কাছে উপস্থাপিত হবে, পশ্চিমা শক্তি সেটাতে খুশি থাকবে, দেশের জনগন ও ধীরে ধীরে সেই ইসলামের মধ্যে নিজেদেরকে খুজে পাবে । ফলে হাইব্রিড মুসলিম জেনারেশন তৈরী হবে।

২) কারো সাথে আপোষ না করে ইসলামের প্রতিষ্ঠায় নিজেদের লক্ষ্য ঠিক রেখে এগিয়ে যেতে হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান ইসলামী আন্দোলনের ধারনা থেকে সরে এসে নিজেদের ঈমানীয়াত এবং আধ্যাত্নিক উন্নতিতে বেশি করে গুরাত্বারোপ করতে হবে। এটি করতে গেলে রাজনীতির ময়দান থেকে হয়ত একটু দুরে সরে যেতে হবে, কিন্তু এটিতে আল্লাহর সাহায্য ও সহযোগিতা বেশি পাওয়া ভালো মুমিন বান্দারা দ্বীনের খেদমতে আরো বেশি নিয়োজিত হবে। কিছু না হোক, ইসলামের আসল রূপ মানুষের কাছে পৌছানো যাবে।

আর যদি বর্তমান অবস্থা চলতে থাকে তাহলে কি ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব?
উত্তর হলো বর্তমান পলিসী দিয়ে একদিকে যেমন রাজনীতির ময়দানে সফল হওয়া অনেক কঠিন ঠিক তেমনি ইক্বামাতে দ্বীনের ক্ষেত্রে সফলতা আশা করাও তেমনি কঠিন।
কঠিন দুভাবে——–
১) রাজনীতির ময়দানে টিকে থেকে ক্ষমতায় যেতে পারলেও ইসলামের মূল চেতনা অনেকটা নষ্ট হয়ে যাবে, যদিও ক্ষমতায় যাওয়া যায় তারপর ও মানুষের মধ্যে রাজনীতি ভর করে থাকার ফলে এতো দিনের ধরে আসা কিছু খারাপ অভ্যস মানুষের বৈশিষ্ট্য রূপ নেবে ফলে, সাম্য ও ন্যায় বিচারে অনেকটা অন্যায় ও অনিয়ম দেখা দিবে।
২) পরনির্ভরশীল দেশ হয়ে দাতা দেশের সাথে বিরোধীতা করে ক্ষমতায় টিকে থাকা মিশরের দিকে তাকালেই বুঝা যায় কতটুকু সম্ভব।

তাহলে উপায়??
১) রাজনীতি এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আলাদা করে ফেলতে হবে। কারন—
ক) বিদ্যমান পলিসীতে রাজনীতি বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কারনে ইসলামের চর্চা বা আমলিয়াতের মধ্যে অনেক কমতি দেখা দিচ্ছে বা দিবে, রাজনীতি বা দলীয় স্বার্থ মূখ্য হয়ে উঠার কারনে অনেক সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির অনুপস্থিতিকে সাংগাঠনিক লাভের সাথে আপোষ করা হবে। ফলে আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকে কিছুটা বঞ্চিত হতে হবে।
খ) এভাবে চলতে থাকলে নতুন প্রজন্ম বিদ্যমান রাজনীতি চর্চাকে মূল ইসলাম মনে করবে। ফলে একটি হাইব্রিড জেনারেশন তৈরী হবে। পরে কোনভাবে ক্ষমতায় যেতে করতে পারলেও। এসব তরুনদের মূল ইসলামে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে ইসলামের নতুন সংজ্ঞা বা নতুন ধারা তৈরী হবে।

২) রাজনীতিকে দেশের মানুষের মন মানসিকতা এবং ইসলামী মেজাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে, স্বচ্ছ ইমেজের তরুন, শিক্ষিত নেতাদের নিয়ে একটি গনমূখী রাজনৈতিক দল গঠন করতে হবে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সাধারন মানুষের প্রবেশ উন্মুক্ত করে দিতে হবে। সকল শ্রেনীর মানুষের মধ্যে রাজনীতির প্রসারে কাজ করে যেতে হবে।

৩) ইসলামী আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখার জন্য রাজনৈতিক দলের সাথে বা ছায়া সংগঠন হিসেবে একটি আধ্যত্নিক দল বা গ্রুপ তৈরী করতে হবে যারা ইসলামের কঠোর বিধি নিষেধ এর উপর নিজেদের কায়েম রাখবে এবং যাদের দায়িত্ব হবে তাক্বওয়াবান মুমিন তৈরীর কাজ করে যাওয়া। ইসলামের দাওয়াত, ইসলামের প্রসারে তারা নিয়োজিত থাকবে। এবং এই গ্রুপটি মানুষের সামনে একটি দাওয়াতি ও গবেষনা সংগঠন হিসেবে পরিচিত লাভ করবে।

এসব করতে পারলে একদিকে ইসলামের মূল চেতনা টিকে থাকবে। ইসলামের কাজ হবে, অপরদিকে রাজনীতর ময়দানে ইসলামের বিরোধী মনোভাবের দল বা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে জয়লাভ সহজ হবে।

ইসলাম বিদ্বেষী ভারত এবং পশ্চিমা কোন গোষ্ঠী খুব সহজে চাইবে না যে তাদের উপর নির্ভর করে কোন দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠ হোক। এরকম বুঝে কেউ যদি চলে তাহলে চরম ভূল হবে। কারন সময় আসলেই যারা সমর্থন দিবে তারাই গোপনে ইসলামিষ্টদের নিধনে কৌশল অবলম্বন করবে। সুতরাং আল্লাহর উপর ভরশা রেখে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। কোন তাড়াহুড়া করে দ্বীন প্রতিষ্ঠা বা ক্ষমতা লাভ করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাব অনেকটা দুঃস্বপ্নের মত দেখা দিবে। তাই সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই পারে আগামীর বিজয় ছিনিয়ে আনতে।

বাংলাদেশে ভারতীয় হস্তক্ষেপঃ সমকালীন ভাবনা

মানুষের বড় হওয়ার আকাংখা একটি জন্মগত স্বভাব। সমাজে ক্ষমতা, প্রতিপত্তি, নাম ও যশ অর্জন যেমন একটি চিরন্তন বাসনা, নিজেকে অপরের কাছে ক্ষমতাধর বা যোগ্যতা সম্পন্ন প্রমান করার অবিরাম চেষ্টা যেমন একটি প্রানীসুলভ আচরন। ঠিক তেমনি একটি রাষ্ট্রের ও স্বভাব হলো নিজেকে পাশের রাষ্ট্রের কাছে ক্ষমতাবান প্রতিয়মান করা, নিজেকে মোড়লসুলভ করে তোলা, নিজেকে রাজাসুলভ করে গড়ে তোলা বা প্রমান করা। রাষ্ট্রের এমন স্বভাব তৈরী হয় কারন এই রাষ্ট্রটি পরিচালনা করে মূলত প্রানীকূলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মানুষ জাতি। আর মানুষ এই গুনতি অর্জন করে প্রকৃতি থেকে। সুতরাং সে হিসেবে বলা যায়, রাষ্ট্রে শ্রেষ্ঠ হওয়ার বাসনা একটি প্রকৃতিগত স্বভাব। কারন যা কিছু প্রাকৃতিক তার মধ্যে মূলত শক্তিমানদের শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষনা করা হয়েছে। ফলে বনের পশুরা যেমন একে অপরকে শিকার করতে সর্বদা ফাদ পেতে বসে থাকে তেমনি একই প্রকৃতির মনুষ্য তৈরী রাষ্ট্রনামক যন্ত্রটিও পাশের রাষ্ট্রের সাথে বা বিদ্যমান রাষ্ট্রসমুহের সামনে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমানে সদা সচেষ্ট থাকে। আর এই শক্তি প্রদর্শনের মহড়া চলে মূলত নিজের চেয়ে দূর্বল রাষ্ট্রের সামনে।
দূর্বলরা যেমন শিকারে পরিনত হওয়ার ভয়ে সর্বদা সতর্ক থাকে ঠিক তেমনি একটি দূর্বল রাষ্ট্রের ও উচিত সদা সতর্ক থাকা নয়ত শিকারে পরিনত হয়ে, বড় রাষ্ট্রের উদরে ভরে যাওয়ার সমুহ সম্ভাবনা থাকে। মানুষ বা প্রানী দূর্বল হয় তখনি যখন তার অংগ সমুহ দূর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, যখন তার স্বাভাবিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াগুলো লোপ পায়। ঠিক তেমনি একটি রাষ্ট্রের ও কিছু অংগ প্রতাংগ থাকে যেগুলো নষ্ট হয়ে গেলে রাষ্ট্র হিসেবে দূর্বল হয়ে পড়ে, ফলে অন্যের শিকারে পরিনত হয়ে ব্যর্থ রাষ্ট্র নিজের অস্তিত্বের সংকটে পরে।

সমসাময়িক বাংলাদেশের ঘটনাবলী এবং ভারতে চলাফেরা ও আচরন বাংলাদেশের মানুষের কাছে অন্তত এটি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বলতে জীবন আজ হুমকীর সম্মুখীন। যারা এখনও হুমকী মনে করতে পারছে না, তাদের নিজেদের কলকব্জা এমন হয়ে গেছে যে নিজেদের বোধশক্তিও হারিয়ে ফেলেছে। আর রাষ্ট্রের সার্ব্যভৌমত্বের এই হুমকী তৈরী কি এমনি এমনি হয়েছে? এটি হয়েছে মূলত রাষ্ট্রের চালকের অসতর্কতা এবং তার যাত্রীদের ঘুমিয়ে পড়ার কারনে। মানুষের শরীরের জন্য যেমন একজন পরিচালক দরকার, ট্রাকের জন্য যেমন একজন ড্রাইভার দরকার, তেমনি রাষ্ট্র নামক একটি শরীরকে পরিচালনার জন্য ও ড্রাইভারের দরকার হয়, আর এক্ষেত্রে রাজনীতিবিদরা ড্রাইভারের ভূমিকা পালন করে। একজন জুয়ারূ যখন জুয়ার নেশায় পেয়ে বসে তখন সে নিজের বউকেও বিক্রি করে দেয়, নিজের মেয়েকে তুলে দেয় পর পুরুষের কাছে। কারন তখন তার নেশাকে আপন মনে হয়। রাজনীতি যখন কলুষিত হয়, রাজনীতিবিদরা যখন আদর্শহীন হয়ে পড়ে, যখন তারা ক্ষমতার নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে তখন তা রাজনীতির জন্য, সমাজ ও দেশের জন্য ভয়ানক হয়ে উঠে। শুরু হয় নিজেদের নেশাকে বাচানোর প্রানপন লড়াই। ফলে রাষ্ট্রনামক যন্ত্রটির কলকব্জা একে একে নষ্ট হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র অকেজো হয়ে পড়ে, তখনই তা হয়ে যায় অন্যের অধীন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ব এবং স্বাধীনতা উত্তরকালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে একটি জিনিসই দেখা যায়, অন্তত আমি দেখতে পাই। আর তা হলো, উভয় কালে আওয়ামীলীগের প্রতি ভারতের অকুন্ঠ সমর্থন এবং উভয় কালে ভারতের প্রতি জামায়াতের প্রচন্ড বিরোধিতা। এই দুটি কথা উল্লেখ করলাম কারন হলো এই দুটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস আবর্তিত হচ্ছে। জামায়াত যেমন বাংলাদেশের কখনই বিরোধীতা করেনি, ঠিক তেমনি আওয়ামীলীগ কখনই ভারতের বিরোধীতা করেনি। তাহলে জামায়াতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের ঘৃণা কিভাবে জন্মালো?
বাংলাদেশ সৃষ্টিতে যেমন ভারতের অবদান, জামায়াতের বিরোধিতাও ঠিক তেমনি ভারতের অবদান। জামায়াত যেমন তার দুরদৃষ্টি দিয়ে ভারতের বিরোধিতা করে আসছে, ঠিক তেমনি ভারত তার দুরদৃষ্টি দিয়ে জামায়াতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষকে বিষিয়ে তুলেছে, মানুষের মধ্যে জামায়াতকে নিয়ে সন্দেহের বীজ বপন করে এখন সেটার ফল তোলা শুরু করে দিয়েছে। শেখমুজিবের হত্যাকান্ডে যেমন ভারতের মদদ আছে ঠিক তেমনি প্রচন্ড জাতিয়তাবাদের চেতনায় উজ্জিবীত জিয়াউর রহমানের হত্যায় ও এই ভারত জড়িত। ভারত এসব করছে তার অনেক দিনের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মূলত বাংলাদেশে ভারতে বিরোধী বুদ্ধিজীবিদের ১৯৭১ সালে ভারতের “র” এর প্রত্যক্ষ মদদে হত্যা করা হয়।
ফলে বাংলাদেশ হয়ে পড়ে নেতাহীন এক রাষ্ট্রে, তখন থেকে ভারত তার গন্তব্য পথে হাটছে অতিসমর্পনে। সমসাময়িক বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে দেখা যায় রাজনৈতিক আদর্শের মৃত্যুর ফলের বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ যখন ভারতের “র” এর হাতে বন্দী তখন সেই জামায়াত বাংলাদেশের মানুষের ত্রান কর্তার ভূমিকায় আবির্ভুত হয়ে আওয়ামী , বিএনপি ও ভারত সবার মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাড়িয়েছে। কারন
আদর্শিকভাবে জামায়াতই একমাত্র দল যে টিকে আছে। এবং জামায়াতের সমসাময়িক আন্দোলন বাংলাদেশের মানুষের কাছে জামায়াতের গ্রহনযোগ্যতা যেমন অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে, ঠিক তেমনি আওয়ামীলীগকে একটি সন্ত্রাসী এবং দেশের স্বার্থ বিরোধী দল হিসেবে মানুষ ভাবা শুরু করে দিয়েছে। অপরদিকে ভারতের “র” এর টাকায় বন্দি বিএনপির কিছু নেতার কারনে বিএনপি রাজনৈতিক ভাবে শক্তিহীন দল হিসেবে মানুষের সামনে উপস্থাপিত হচ্ছে।
ফলে মানুষ যখন জামায়াতকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা শুরু করে দিয়েছে, তখন ভারত এটি বুঝতে পেরেই একদিকে যেমন আওয়ামীলীগকে অকুন্ঠ সমর্থন দিচ্ছে অপরদিকে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়া করে মূলত বাংলাদেশের সার্ব্যভৌমত্বের পথে সকল বাধাকে পরিষ্কার করতে সচেষ্ট রয়েছে। অপরদিকে ক্ষমতার নেশাগ্রস্থ আওয়ামীলীগ দেশকে ভারতের হাতে তুলে দিয়ে ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছে। অথচ সত্য এটি ই যে, যদি ভারত কখনও বাংলাদেশের উপর খবরদারি করার সুযোগ পায় তাহলে আওয়ামীলীগের সাথে বন্ধুত্ব না রেখে জামায়তের সাথেই রাখবে, কারন নতুন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ রাজাকার হয়ে যাবে, ইতিহাসের পূনরাবৃত্তিতে আওয়ামীলীগকে থুথু দিবে আর জামায়াতকে অকুন্ঠ সমর্থন দিবে।
তবে জামায়াতকেও এর জন্য তাদের পলিসির অনেক পরিবর্তন করতে হবে। রাজনীতির পলিসীকে রাজনীতিকরন করে, জামায়াতকে একটি ইসলাম পন্থি দল হিসেবে রেখে রাজনীতির ময়দানে ক্ষমতার লড়াইয়ে মানুষকে কাছে টানার জন্য তাদের পরিচ্ছন্ন ইয়ং লিডার দের দিয়ে একটি রাজনৈতিক দল বা জামায়াতের রাজনৈতিক শাখা তৈরী করা গেলে সেটিই হবে আধুনিক বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল।
ঘটনা যাই হোক, বাংলাদেশের বিদ্যমান অবস্থা পরিবর্তন সহসাই হচ্ছে না। দু-ভাবে বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে,

একঃ ভারত যতক্ষন পর্যন্ত তার স্বার্থের ব্যাপারে বিএনপি এর কাছে অকুন্ঠ সমর্থন পাচ্ছে ততক্ষন পর্যন্ত অবস্থা জটিল ই থাকবে। বিএনপির সমর্থন বলতে
১) আওয়ামীলীগ যত চুক্তি করেছে তা বাতিল না করা,
২) আওয়ামীলীগের উপর দমনমূলক আচরন না করার কথা আদায়।
৩) জামায়াতকে ত্যাগ করে জামায়াত নেতাদের ফাসির বিষয়ে কথা দেয়া।
বিএনপি এগুলো কথা দিলে ভারত নতুন নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দিবে, ফলে আওয়ামীলীগের চলে যাওয়া হবে নিরাপদ, ভারত তার স্বার্থ্য রক্ষা করতে পারবে, তার বন্ধুকে বাচাতে পারবে। ভবিষ্যত জামায়াতের শক্তিকে বিএনপির দ্বারা ধ্বংস করতে পারবে।

দুইঃ বিএনপিকে বাংলাদেশের সমগ্র মানুষকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে নেমে আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা থেকে নামতে বাধ্য করার পাশাপাশি পশ্চিমাবিশ্বের কাছে একটি জাতিতে পরিচালনার নিজেদের শক্তি ও নিজেদের প্রতি মানুষের ব্যাপক সমর্থনের বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে।

এই দুটির একটিও না হলে, দেশ একটি অজানা গন্তব্যে যাবে। দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা বিভিন্ন সেক্টর ভারত কৌশলে নিয়ে নিবে, বাংলাদেশকে আরো নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিনত করতে সচেষ্ট থাকবে।

তবে কি হবে সেটি নির্ভর করছে, স্বাধীনচেতা ১৬ কোটি লড়াকু বাংলাদেশী মানুষের উপর। যারা নিজেদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে লড়াই করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলছে সামনের দিকে।

প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য যা জানা একান্ত কর্তব্য (সংকলিত)

আশ্শাইখ মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান আত্‌তামীমী (রাহ:)

বইটি থেকে কিছু গুরত্বপূর্ণ বিষয় এখানে তুলে ধরা হলো-

 

তিনটি মূলনীতি

যা জানা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর উপর একান্ত কর্তব্য

মুলনীতিগুলো হলো :

প্রত্যেকে-

১) রব বা পালন কর্তা সম্পর্কে জানা।

২) দ্বীন সম্পর্কে জানা।

৩) নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জানা।

এই তিনটি জিনিস ভালোভাবে না জানলে এবং সেটি উপলব্ধি করতে না পারলে, আমল গুলো ইখলাসের সাথে করা সম্ভব হয় না। তাই এই তিনটি জিনিস সঠিকভাবে জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কর্তব্য।

তাওহীদ বা একত্ববাদ এর তিন অংশ 

1)    এক: তাওহীদুর রাবুবিয়্যাহ: “সৃষ্টি জগতের সৃষ্টিতে, নিয়ন্ত্রনে, লালন পালনে, রিজিক প্রদানে, জীবিত করণে, মৃত্যু প্রদানে, সার্বভৌমত্বে, আইন প্রদানে আল্লাহকেই এককভাবে মেনে নেয়া।”

2)    দুই: তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ: “অর্থাৎ সর্বপ্রকার ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য সম্পাদন করা, আর ইবাদতের প্রকার সমূহের মধ্যে রয়েছে : (১) দোয়া (২) সাহায্য চাওয়া (৩) আশ্রয় চাওয়া (৪) বিপদমুক্তি প্রার্থনা করা (৫) জবেহ করা (৬) মান্নত করা (৭) আশা করা (৮) ভয় করা (১০) ভালবাসা (১১) আগ্রহ ও (১২) প্রত্যাবর্তন করা, ইত্যাদি”

3)    তিন: তাওহীদুজ্জাত ওয়াল “আসমা” ওয়াছ “ছিফাত”: “আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস এবং তার নাম ও গুণাবলীসমূহে তাকে একক স্বত্বাধিকারী মনে করা।” আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “বলুন: তিনি আল্লাহ একক স্বত্বা, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি জন্ম দেননি, আবার তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি, আর কেহ তাঁর সমকক্ষ হতে পারেনা” । [সূরা আল ইখলাস]

মুনাফেকী দু’প্রকার :

১) বিশ্বাসগত মুনাফেকী।

২) আমলগত (কার্যগত) মুনাফেকী।

এক : বিশ্বাসগত মোনাফেকী : এ প্রকার মুনাফেকী ছয় প্রকার, এর যে কোন একটা কারো মধ্যে পাওয়া গেলে সে জাহান্নামের সর্বশেষ স্তরে নিক্ষিপ্ত হবে।

১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মিথ্য প্রতিপন্ন করা।

২) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার সামান্যতম অংশকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।

৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ঘৃণা বা অপছন্দ করা।

৪) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার সামান্যতম অংশকে ঘৃণা বা অপছন্দ করা।

৫) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দ্বীনের অবনতিতে খুশী হওয়া।

৬) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দ্বীনের জয়ে অসন্তুষ্ট হওয়া ।

দুই : কার্যগত মুনাফেকী : এ ধরণের মুনাফেকী পাঁচ ভাবে হয়ে থাকে: এর প্রমাণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বানী : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “মুনাফিকের নিদর্শন হলো তিনটি:

১) কথা বললে মিথ্যা বলা।

২) ওয়াদা করলে ভঙ্গ করা।

৩) আমানত রাখলে খিয়ানত করা। [বুখারী ১/৮৩, মুসলিম ১/৭৮, নং ৫৯]

৪) ঝগড়া করলে অকথ্য গালি দেয়া।

৫) চুক্তিতে উপনীত হলে তার বিপরীত কাজ করা।” [বুখারী ১/৮৪, মুসলিম ১/৭৮, নং ৫৮]

ইসলামকে বিনষ্ট করে এমন বস্তু দশটি :

1)    আল্লাহর ইবাদাতে কাউকে শরীক বা অংশীদার করা। আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবাদাতে তার সাথে কাউকে শরীক বা অংশীদার মানাকে ক্ষমা করবেন না, এতদ্ব্যতীত যা কিছু আছে তা যাকে ইচ্ছা করেন ক্ষমা করবেন” । [সূরা আন্‌নিসাঃ ১১৬]

2)    দুই : যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার মাঝে কোন মাধ্যম নির্ধারণ করে তাদের কাছে কিছু চাইবে ও তাদের সুপারিশ প্রার্থনা করবে এবং তাদের উপর ভরসা করবে সে ব্যক্তি উম্মতের সর্বসম্মত মতে কাফের হয়ে যাবে।

3)    তিন : যে কেহ মুশরিকদের “যারা আল্লাহর ইবাদতে এবং তার সৃষ্টিগত সার্বভৌমত্বে অন্য কাউকে অংশীদার মনে করে তাদেরকে) কাফের বলবেনা বা তাদের কাফের হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবে অথবা তাদের দ্বীনকে সঠিক মনে করবে, সে উম্মতের ঐক্যমতে কাফের বলে বিবেচিত হবে।

4)    চার: যে ব্যক্তি মনে করবে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রদর্শিত পথের চেয়ে অন্য কারো প্রদর্শিত পথ বেশী পূর্নাঙ্গ, অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শাসন প্রণালীর এর চেয়ে অন্য কারো শাসন প্রণালী বেশী ভাল, যেমন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিচার পদ্ধতির উপর তাগুতী শক্তির (আল্লাহদ্রোহী শক্তির) বিচার ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেয় তাহলে সে কাফেরদের মধ্যে গণ্য হবে।

5)    পাঁচ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আদর্শ নিয়ে এসেছেন এর সামান্য কিছুও যদি কেহ অপছন্দ করে তবে সে কাফের হয়ে যাবে, যদিও সে (অপছন্দ করার পাশাপাশি) তার উপর আমল করে থাকে। [এর প্রমাণ কোরআনের বাণীঃ “আর এটা (জাহান্নামে যাওয়া) এ জন্যই যে তারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা অপছন্দ করেছে , ফলে তিনি তাদের কর্মকান্ড নষ্ট করে দিয়েছেন”। [সূরা মুহাম্মাদঃ ৯]

6)    ছয়: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বর্ণিত দ্বীনের (জীবন বিধানের) সামান্যতম কিছু নিয়ে যদি কেহ ঠাট্টা করে, বা দ্বীনের কোন পুণ্য বা শাস্তি নিয়ে ইয়ার্কি করে তবে সেও কাফের হয়ে যাবে।

তার প্রমাণ: আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “বলুন: তোমরা কি আল্লাহ ও তাঁর আয়াত (শরয়ী বা প্রাকৃতিক নিদর্শনাবলী) এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ঠাট্টা করছ? তোমরা কোন প্রকার ওজর পেশ করোনা, কারণ তোমরা ঈমান আনার পরে কাফের হয়ে গিয়েছ” । [সূরা আত্‌-তাওবাঃ ৬৫, ৬৬]

7)    সাত: যাদু, বান, টোনা এর দ্বারা সম্পর্ক বিচ্যুতি ঘটান বা সম্পর্ক স্থাপন করানো। যদি কেউ এ গুলি করে বা করতে রাজী হয় তবে সে কাফের হয়ে যাবে। এর প্রমাণ কোরআনের বাণী : “তারা দু’জন (হারুত মারুত) কাউকে তা (যাদু) শিক্ষা দেওয়ার পূর্বে অবশ্যই বলে যে, আমরা তো কেবল ফিৎনা বা পরীক্ষা স্বরূপ । সুতরাং তোমরা কুফরী করো না” । [সূরা আল বাকারাঃ ১০২]

8)    আট: মুশরিকদের (যারা আল্লাহর ইবাদতে বা সার্বভৌমত্বে কাউকে অংশীদার বানায় তাদের) কে মুসলমানদের উপর সাহায্য সহযোগীতা করা।

এর দলীল আল্লাহর বাণী: “তোমাদের থেকে যারা তাদের (মুশরিকদের)কে মুরুব্বী বা বন্ধু মনে করবে তারা তাদের দলের অন্তর্ভুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা অত্যাচারী কোন জাতিকে সঠিক পথের দিশা দেন না বা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছান না” । [সূরা আল মায়িদাঃ ৫১]

9)    নয়: যে একথা বিশ্বাস করবে যে, যেমনিভাবে খিজির আলাইহিস্‌সালাম এর জন্য মুসা আলাইহিস্‌সালাম এর শরীয়তের বাইরে থাকা সম্ভব হয়েছিল তেমনিভাবে কারো কারো জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রবর্তিত শরীয়ত থেকে বাইরে থাকা সম্ভব, সেও কাফের বলে গন্য হবে।

10)  দশ: আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া, দ্বীন শিখতে বা দ্বীনের আদেশ নিষেধ অনুসারে কাজ করার ব্যাপারে গুরুত্বহীন থাকে। এর দলীল আল্লাহর বাণী: “তার চেয়ে কে বেশী অত্যাচারী যাকে আল্লাহর আয়াত সমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর সে তা এড়িয়ে গেল, নিশ্চয়ই আমি পাপিষ্ঠদের থেকে প্রতিশোধ নেব ”। [সূরা আস্‌সাজদাহঃ ২২]

উক্তি

“যাদের বুদ্ধির চেয়ে গোঁফ বড় তারাই বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবি। যাদের শিক্ষার চেয়ে আওয়াজ বড় তারাই হলেন রাজনীতিবিদ, আর যাদের মনুষত্বের চেয়ে পশুত্ব বড় তারাই হলেন আমাদের দেশের মন্ত্রী।”

ক্ষণিকের কবিতা

লিখতে গিয়ে কলম থমকে দাঁড়ায়
ভাবনার আকাশে তোমা হতে বিচ্ছি্ন্ন হওয়া
এক অব্যক্ত উপন্যাসের অকাল পরিসমাপ্তি
তারপর হেঁটে চলা সেই আগের পথে
প্রত্যাশা একটাই, যদি ফিরে পাই…
তবে আর ভূল করবো না, শুধরিয়ে নিবো
তারপর হেঁটে চলবো একাকী আপন পথে
যে পথ শুধুই আমার, থাকবে না প্রত্যাশা…
হয়ত এটাই নিয়তি, আকাংখা অধরাই থাকবে
প্রত্যাশা প্রাপ্তিতে মিলবেনা, প্রাপ্তি ই প্রাপ্য

আমার ফটোগ্রাফি

Rainy season, Noyatola Saidpur. বর্ষাকালে নয়াটোলা, সৈয়দপুর।

Rainy season, Noyatola Saidpur. বর্ষাকালে নয়াটোলা, সৈয়দপুর।

Sunset scenery in rainy season, Noyatola, Saidpur. Bangladesh.  বর্ষাকালে সূর্যাস্তের ছবি, নয়াটোলা, সৈয়দপুর।

Sunset scenery in rainy season, Noyatola, Saidpur. Bangladesh. বর্ষাকালে সূর্যাস্তের ছবি, নয়াটোলা, সৈয়দপুর।

 ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহ্যাগেন, এ তোলা পাখি।

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহ্যাগেন, এ তোলা পাখি।

কোপেনহ্যাগেন যাত্রাপথে সুইডেন এর ইয়ংশপিং এর রাস্তায় তোলা ছবি।

কোপেনহ্যাগেন যাত্রাপথে সুইডেন এর ইয়ংশপিং এর রাস্তায় তোলা ছবি।

আমার ফটোগ্রাফীর হাতেখড়ি, নীল আকাশে উড়ন্ত পাখি।
আমার ফটোগ্রাফীর হাতেখড়ি, নীল আকাশে উড়ন্ত পাখি।

 

মধ্যবিত্তের রাজনীতিঃ প্রসঙ্গ বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সাথে মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা ও পরিবর্তিত হয় অনেকাংশে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা মানুষকে মুক্ত চিন্তার অধিকারী করে তোলে। ফলে দেখা যায় প্রাচীন রাজতন্ত্র আজ বিলুপ্ত প্রায়। ২০ বছর আগের বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোর সাথে বর্তমান সমাজ কাঠামোর পরিবর্তন লক্ষনীয়। সমাজের মোড়ল শ্রেনীর কাছে প্রান্তিক শ্রেনীর বন্দকী জীবন আজ বিলুপ্ত প্রায়, ফলে মোড়ল শ্রেনীর প্রতি প্রান্তিক শ্রেনীর মানুষের শ্রদ্ধা ও সন্মান লোপ পেয়েছে অনেকাংশে। মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতি নিজেদের কর্তৃত্ব যেমন অনেকটাই পেয়েছে ঠিক তেমনি শিক্ষার অভাবে সেই কর্তৃত্বের অপপ্রয়োগ ঘটে প্রায়ই।
১৯৭১ সালের বাংলাদেশের রাজনীতিতে মোড়ল শ্রেনীর উপস্থিতির ফলে নেতাকে প্রভুর ন্যায় ভক্তি ও ভালোবাসার পাত্র মনে করা হত। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এমন শ্রেনীর উপস্থিতির ফলে প্রান্তিক শ্রেনী শাসন ও শোষনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সময়ের আবর্তনে প্রান্তিক শ্রেনীর ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর শিক্ষা ক্ষেত্রে অংশগ্রহন ও অগ্রগতি, শিক্ষার সহজ লভ্যতা এবং ফলশ্রুতিতে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা সমাজে একটি বিরাট মুক্ত চিন্তার শ্রেনী তৈরী করেছে। ফলে রাজনীতিতে ও পরিবর্তন অত্যাসন্ন হয়ে পড়ে। কিন্তু পরিবর্তিত মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক শ্রেনীর রাজনীতিতে অংশগ্রহনে অনিহার ফলে রাজনীতিতে অসাধু শ্রেনীর উদ্ভব হয় দ্রুতই। প্রভুশ্রেনীর প্রভু ভক্তি লাভের বাসনা, প্রান্তিক ও মধ্যবিত্তের প্রভু ভক্তিতে অনিহা ও আত্নসন্মানের বৃদ্ধি অসাধু শ্রেনীকে প্রভু শ্রেনীর শাসন ও শোষনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ তৈরী করে দেয়, ফলে সমাজ ও রাজনীতিতে একটি শ্রেনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি হ্রাস পেতে থাকে দ্রুত। রাজনীতির নেতৃত্বে শুন্যতা তৈরী হতে থাকে দ্রুত। ফলে একদিকে ভালো ইমেজের অরাজনৈতিক শ্রেনীর জন্ম হয়, অপরদিকে রাজনীতিতে সব অসাধু শ্রেনী সমাবেশ ঘটে। সমাজে ভালো খারাপের দ্বন্দ্ব ষ্পষ্ট হয়ে উঠে।
শেখ মুজিবের আওয়ামী লীগ , জিয়াউর রহমানের বিএনপি এবং এরশাদের জাতীয় পার্টির উৎপত্তির প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও। পরিবর্তিত অবস্থায় পরে পরিবার কেন্দ্রিক দলে পরিনত হয়, প্রধান তিনটি দল পরিবার কেন্দ্রিক হওয়া, এবং বাংলার মানুষের মধ্যে প্রভুভক্তির কিছুটা বিদ্যমান থাকার ফলে দেশের রাজনীতিতে নেতা তৈরীর ক্ষেত্রে এক ধরনের শুন্যতা সৃষ্টি হয়। যার ফলে গনতন্ত্রে সুন্দর চর্চা ব্যহত হয় এবং অযোগ্য নেতৃত্ব তৈরী হয় এবং সমাজ ও রাজনীতিতে তৈরী হয় বিশৃংখলা। এই বিশৃংখলা পরিস্থিতির সৃষ্টি যেমন একদিনে হয়নি, ঠিক তেমনি এর থেকে পরিত্রানই একদিনে হবে না। পরিবার তন্ত্র থেকে বের হতে না পারলে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির মৃত্যু খুবই সন্নিকটে। দেশও জাতির সংকটময় অবস্থায় এতোদিনের রাজনীতি বিমূখ অর্থনৈতিকভাবে পরিবর্তিত সমাজ রাজনীতির অবস্থা নিয়ে সোচ্চার হওয়া শুরু করছে।
রাজনীতিতে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেনীর অংশগ্রহন যেমন রাজনীতির নেতা তৈরীর শুন্যতা পুরন করে দিতে পারে তেমনি বাংলাদেশে একটি সুস্থ্য রাজনীতির চর্চার ও পথ তৈরি করে দিতে পারে। তাই শিক্ষিত সচেতন শ্রেনীর রাজনীতিতে অংশগ্রহন এমন জরুরী তেমনি এমন সুষ্ঠ রাজনীতির চর্চাকে মানুষের সামনে নিয়ে যাওয়ার দ্বায়িত্ব দেশপ্রেমিক সংবাদ কর্মীদের। সব সৎ মানুষগুলো মিলে একটি সুন্দর দেশ গঠন করা হয় খুব কঠিন না। এজন্য প্রয়োজন নিছক ব্যক্তিস্বার্থ্য পরিহার, অকারনে বিভেদ সৃষ্টি না করে আদর্শিক রাজনীতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। যে রাজনৈতিক দল গনতন্ত্রের চর্চা করে তাদের কে দেশের জন্য মানুষের সামনে নিয়ে যাওয়া।

আগামীর বাংলাদেশ হোক একটি সুস্থ্য রাজনীতি চর্চার দেশ। আগামীর বাংলাদেশ হোক শান্তিময় বাংলাদেশ।