মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার: আমার প্রতিক্রিয়া

দেশে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চলছে। কিছু বিষয় খোলাসা করা দরকার। না হলে হয়ত অনেকেই আমার-আপনার নিরবতাকে অন্য চোখে দেখবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে লিখতে বসা।

প্রথমে একটি কথা বলা জরূরী যে, আমি বা আমি যাদের সাথে চলি কেউ কে অন্যায়ের পক্ষে সাফাই দিচ্ছে না। সবাই চায় অপরাধীর বিচার হোক। আমার মনেহয় না যে, কোন সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ এর বিরোধিতা করবে। যেহেতু আমরা মানবতার ধর্ম ইসলামে বিশ্বাসী সেহেতু আমরা চাই সুষ্ঠ বিচার হোক।
আমরা সেসব দাবীর সাথে একমত পোষন করি, যেসব দাবী একজন মানুষকে (সে বাদী অথবা বিবাদী হোক) ন্যায় বিচার পেতে সাহায্য করবে। বিবাদীরা যেসব দাবী জানিয়েছিলো সরকারের উচিত ছিলো সেগুলো নিশ্চিত করা।
দাবিগুলোর প্রধান কিছু দাবী ছিলো
১) আন্তর্জাতিক আইনে এবং নিরপেক্ষ আদালতে বিচার কাজ পরিচালনা করা।
২) আইনের সমতা রক্ষা করা।
৩) তাদের পক্ষে বিদেশের আইনজীবির সহায়তার ব্যাপারে অনুমতি প্রদান।
৪) বিচারকের নিরপেক্ষতা।

এখন দেখার বিষয় সরকারের সদ ইচ্ছা ছিলো কিনা??
একটি বিষয় লক্ষনীয় ১৯৯০ সালের পর থেকে বলা হচ্ছিলো রাজাকার দের বিচার চাই। তারপর শুরু হলো যুদ্ধাপরাধী। তারপর শুরু হলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের চিন্তা করা উচিত যে কি কারনে শব্দগুলোর এতো পরিবর্তন?? কেউ হয়ত প্রয়োজন বোধ করেননি। করা হয়ত দরকার ছিলো।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি আন্তর্জাতিক নাম দিয়ে কেন আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া হলোনা?? বা কেন ই বা নিরপেক্ষ আদালতে যাওয়া হলোনা। আর বড় কথা হলো যেহেতু এরা সবাই দোষী সেটি নাকি প্রমানিত হয়ে ই আছে তাহলে কেন ই বা বিদেশী আইনজীবিদের বিবাদীর পক্ষে লড়াইয়ের অনুমতি দেয়া হলোনা??
এক একজনের উপর অভিযোগের পাহাড় কিন্তু কি এমন রহস্য যে, তাদের দাবী মতো নিরপেক্ষ আদালত যাওয়া হলোনা। একবার চিন্তা করে দেখা দরকার।
কেনই বা স্কাইপ কেলেংকারীর মত ঘটনা ঘটবে?? চিন্তা করা দরকার। যারা নিজেদের নিরপেক্ষ মানুষ ভাবেন একবার চিন্তা করুন।

সবচেয়ে মজার বেপার হলো বিষয়গুলো নিয়ে অনেকেই চিন্তা করেননি?? আর করবেন ই বা কেন?? যারা চিতকার করছে ফাসির জন্য তারা কি আসলে জানে কার ফাসি চাচ্ছে আর কেনই বা চাচ্ছে?? হয়ত তারা নিজেদের প্রগতিবাদী দাবী করতে পারে। হয়ত তারা নিজেদের মুক্তমনা দাবী করতে পারে, কিন্তু মানবিকতা বলেন আর ন্যায়ের পক্ষে বলেন এদের খুজে পাওয়া যায় না।

এখন আসুন দেখা যাক কেন শব্দগুলোর পরিবর্তন হয়েছিলো।
১) রাজাকার শব্দের সাথে আওয়ামীলীগের অনেকেই জড়িত। জামায়াতের সাথে রাজাকার বাহিনীর সম্পর্কের চেয়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের সখ্যতা ছিলো বেশি। শেখ হাসিনার বেয়াই, শেখ সেলিমের বেয়াই। কামরুল রের পরিবার, মখা আলমগীর, সাজেদা, এর সবই রাজাকার শব্দটির সাথে জড়িয়ে যেত।
আমার কথা বিশ্বাস না হলে, আপনারা আন্তর্জাতিক লেখকদের বই পড়তে পারেন। কারন মুনতাসির বলেন আর জাফর ইকবাল বলেন এনারা হলেন বায়াসড পারসন। নিরপেক্ষ মানুষদের আমি নিরপেক্ষ লেখকের বই পড়তে উতসাহ দিবো।

২) “যুদ্ধাপরাধী” এই শব্দের যে সংগা তার ক্যাটেগরিতে জামায়াত নেতাদের ফেলানোর কোন ফাক খুজে পায়নি আওয়ামী সরকার। না পাওয়ার কারন হয়ত আপনারা চিন্তা করেন নি। তবে আমি করেছি , কারন আমি ভেবে দেখে চুপ করে আছি। কারন আমি ন্যায়ের পক্ষে আর যদি জামায়াত অন্যায় করে, আমাকে সাথে পাবেন।

৩) “মানবতাবিরোধী অপরাধ” মজার বিষয় সচেতন মানুষ বলে যারা নিজেদের দাবী করেন কেউ তো চিন্তা করেননি যে, কেন ই বা এতো কিছু বাদ দিয়ে এই মানবতাবিরোধী শব্দটি সিলেক্ট করা হলো??
হয়ত চিন্তা করার সময় পাননি। পাবেন কিভাবে বলুন। সময়তো নেই। নিজেরা ব্যস্ত প্রগতিবাদী হওয়ার জন্য। আমরাও প্রগতিবাদি তবে আমরা ভালো খারাপ দেখে চলি। আমরা হুজুগে মাতিনা।
“মানবতাবিরোধী” শব্দটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এটি সিলেক্ট করার কারন এই শব্দটি দিয়ে একজন মানুষকে বিভিন্নভাবে ফাসানো যাবে। কারন যত রকমের অন্যায় সবই মানবতাবিরোধী।

এখন দেখার বিষয় যে, যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা আসলেই দোষী কিনা??
তাদেরকে সুষ্ঠ বিচার দেয়ার কথা ছিলো আদালতের। সঠিক ন্যায় বিচার তখন ই করা সম্ভব হয় যখন বাদী কিংবা বিবাদী দু-জনের কথা ভালোভাবে শোনা হয়। বাদীর দাবী ন্যায় বিচার তেমনি বিবাদীর ও দাবী ন্যায় বিচার। আর বিচারকের কাজ হলো ন্যায় বিচার উফার দেয়া। সরকারের দায়িত্ব হলো মানুষের মাঝে আইনের শাসনএর প্রতিফলন ঘটানো। এবং বিবাদী কিংবা বাদী সবার অধিকার নিশ্চিত করা। একজন ধর্ষক যখন ধর্ষন করে তখন তার বিচার নিম্ন আদালত কিংবা উচ্চাদালতে হোক বিচার একই হওয়ার কথা যদিনা বিচারক পক্ষপাত দুষ্ট হয়।

মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের দাবী অনুযায়ী সরকারের ব্যবস্থা গ্রহন না করা মূলত বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্বাভাবিক কথা হলো যেহেতু সরকার তথা আওয়ামীলীগের হাতে যথেষ্ঠ প্রমান আছে, এবং যেহেতু সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হচ্ছে যে উনারা দোষী। সুতরাং আমার দাবী হলো, বিবাদীর দাবী অনুযায়ী নিরপেক্ষ আদালতে বিচার কাজ শুরু করেন। বাংলার ১৬ কোটি মানুষ আপনাদের সাথে থাকবে। আমি এটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। যদি আপনারা নিরপেক্ষ আদালতে বিচার করতে পারেন, তাহলে শিবির কেন জামায়াত ও রায় মেনে নিবে। একবার সাহস করে এগিয়ে যান।

“৭১ প্রজন্ম” নামধারী গোষ্ঠিকে বলবো, মোমবাতি জ্বালালে কিন্তু বাংলাদেশি প্রমানিত হয়না আর দেশপ্রেমিক ও প্রমানিত হয় না। দেশপ্রেম সেটি যা দেশের ভালোর জন্য করা হয়। যারা ভালোমন্দ বুঝেনা তাদের পক্ষে দেশপ্রেমের কথা শোভা পায়না। সচেতন সমাজ আপনাদের ঘৃণা করে। আসলে আপনারা কোন জাতের মধ্যে ই পড়েন না। কারন
১) যদি মুসলমান হতেন এভাবে নারী-পুরুষ মিলে মোমবাতি জ্বালিয়ে নর্তন করতে পারতেন না।
২) যদি বাংলাদেশি হতেন বা দেশ প্রেমিক হতেন। ৩০ লক্ষ্য শহীদ বলেন সেই ৩০ লক্ষের জন্য অন্তত পক্ষে শোক পালন করতেন। আর শোক পালন যে নৃত্য পরিবেশন করে হয়না। সেটি একটি বান্দর ও বুঝে।
৩) যদি হিন্দু হইতেন তাহলেও এভাবে করতে পারতেন না।

এসব মধ্যে দেশপ্রেমের কিছু নেই।

সবশেষে একটি কথাই বলব। যারা দেশপ্রেমের নামে নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরী করছেন। কিংবা জামায়াত-শিবিরকে পাকিস্তান যেতে বলছেন। কথাগুলো একবার ভেবে বলুন। উন্নতি হবে না ,দেশের, না আপনার, আর না আপনার ভবিষ্যত প্রজন্ম ভালো একটি পরিবেশ পাবে। তারা শুধু হিংসা করতেই শিখবে। একটি বিদ্বেষপূর্ণ সমাজ দিয়ে না যাবে সামনে এগুনো, না যাবে যুদ্ধে জয়লাভ করা।

আপনার -বিরোধকে কাজে লাগিয়ে দূর্নীতিগ্রস্থ, অর্থলোভী সমাজ দেশ শাসন করে যাচ্ছে। আপনার ও আমার আবেগ হচ্ছে বরাবরের মতো ধর্ষিত। আর তাই সরকার বদল হচ্ছে কিন্তু দেশে ধর্ষন কমছেনা, কমছেনা দূর্নীতি কমছেনা, দেশের সম্পদ পাচার।

সুতরাং আসুন না, আমরা সবাই মিলে সারিবদ্ধ ভাবে ন্যায়বিচারের স্লোগান তুলি। কারন যদি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তা সবার জন্য ই ভালো। আর পাশাপাশি বর্তমানে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে তাদেরকেও এই বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা স্লোগান তুলি, স্লোগান তুলি মা-বোনদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশের।

যারা একে অপরকে রাজাকার বলি তারা আসলেই বিকৃতরুচির মানুষ। যারা ৭১ এর জন্মগ্রহন করেছে, তাদেরকে এসব বলে গালি দেয়া আসলে একধরনের বিকৃত রুচির পরিচয়। যারা আদর্শের লড়াইয়ে টিকতে পারেনা, তারাই গালি দেয়। যারা যুক্তি বুঝে না তারাই গালি দেয়।

বি.দ্র: শিক্ষিত মানুষের কাছে যুক্তি কাম্য, অশ্লীল কথা নয়।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s