দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আজকের ভাবনা

যে বিভেদ দ্বন্দ্ব তৈরী হলো বা তৈরী করা হলো, এটি আর থাম্বার নয়, হয়তো শুরু হলো। দীর্ঘ সময়ে মানুষের মনে জমে থাকা বিভেদ আজ কেবল প্রকাশ পাওয়া শুরু করেছে।

১৯৪৭ সালে যখন ভারত থেকে পাকিস্তান আলাদা হয় তখন মূলত ধর্মীয় পরিচয়ের উপর ভিত্তি করেই দুটি দেশের তৈরী হয়েছিলো। কিছুটা পেছনে ফিরে তাকানো যাক, ১২০৪ সালের দিকে বখতিয়ার খিলজির যখন বাংলা জয় করে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন তখন থেকে মূলত বাংলা বিভিন্নভাবে মুসলিমদের দ্বারা শাসিত হয়ে আসছিলো।

তবে বাংলাদেশে মুসলিমদের আগমন ঘটে ১৩ শতকের প্রথম দিকে। ১২০৩ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয়ের মাধ্যমে এদেশে মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন। তখন থেকেই মূলত বাংলাদেশে বিভিন্ন মুসলিম ধর্ম প্রচারকদের আগমন ঘটে। প্রখ্যাত মসলিম ধর্ম প্রচারক হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর আগমন ঘটে ১৩০৩ সালে সিলেটে। বৌদ্ধ-হিন্দু সংষ্কৃতি অধ্যুষিত বাংলাদেশ ইসলামের সৌন্দর্যে দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। কয়েক শ বছরের মধ্যে একটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পরিনত হয়। তবে এত কিছুর পরও বাংলাদেশ ছিলো ধর্মীয় সম্প্রীতির উদাহরন হিসেবে। পার্শ্ববর্তী ভারতে যত ধরনের ধর্মীয় দাঙ্গা হয়েছে সেরকম কোন উদাহরন বাংলাদেশে নেই। এর থেকে এটি প্রমানিত যে, মুসলিমরা দাঙ্গায় বিশ্বাস করেনা। যদি তাই করত বাংলাদেশে হয়ত কোন হিন্দু বাস করতে পারতো না।

কিন্তু কথা হলো এরকম একটি শান্তিময় দেশে াহঠাৎ ইসলামি দল নিষিদ্ধ কিংবা সেক্যুলার দেশ করার প্রচারনা কেন শুরু হলো। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ইসলাম কতটুকু বাধা হয়ে দাড়িয়েছে?? কই পাকিস্তানের মত তো কেউ এখানে বোম্ব মারেনা। সেরকম উল্লেখ করার মত ধর্মীয় দাঙ্গা সেটাও নেই। তাহলে আজ হঠাৎ এরকম আওয়াজ বা কেন??

বাংলাদেশে সরকার যখন চরমভাবে ব্যর্থ ঠিক তখনই এরকম একটি ইস্যু সামনে নিয়ে আসা হলো যাতে করে সাধারন মানুষের মাথা নষ্ট করে দেয়া যায়। বিশ্ব রাজনীতিতে যখন সন্ত্রাসবাদের পক্ষে বিপক্ষের নামে সকল মুসলিম দেশে সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন চলছে, তখন সবদিক থেকে ব্যর্থ একটি সরকার সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে একটি পরিস্থিত তৈরী করে তার ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। একদিকে যুদ্ধাপরাধের কথা বলে ডিজিটাল প্রজন্মকে ডিজিটালের থাবায় হিপনোটাইজ করে রেখেছে অপরদিকে ইসলাম কে চরম পন্থা হিসেবে তুলে ধরার এক ঘৃণ্য অপচেষ্টা শুরু করেছে। যদি কোনভাবে দেশের ইসলামকে, মুসলিম সমাজকে জঙ্গীরুপে তুলে ধরা যায় বিশ্বমোড়লদের কাছে , তাহলে সেই মুসলিমদের রক্তের উপরে যদি অত্যাচারিতের বালা খানা তৈরী হয় তবু দেখার কেউ থাকবে না। আওয়ামী-বাম সরকার পরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এগিয়ে যাচ্ছে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে।

এরূপ অবস্থায় বাংলার মুসলিম সমাজের উচিৎ একটি টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়া। চারদিকে ভারত বেষ্টিত, একটি হিন্দু সংষ্কৃতির বলয়ে অবস্থান করে, প্রথাগতভাবে হয়ত আন্দোলন করে আর এগুনো যাবেনা। প্রয়োজন নীতির পরিবর্তন। যে দেশের মানুষ ইসলামী বিধিবিধান নিয়ে সচেতন নয় সেখানে হয়ত শরীয়া ভিত্তিক সমাজ গঠনের যে আন্দোলন তা টেকসই না। বাংলাদেশে মুষ্টিমেয় লোক ছাড়া ইসলামি আইন ও বিধিবিধান নিয়ে সচেতন লোক পাওয়া দুষ্কর। আর তাই গ্রামে গেলে দেখবেন ইসলাম বলতে শুধু আবেগটাই আছে, আর কিছু ই নাই। ইসলামী শরিয়তের বিধান নিয়ে মোটেও মাথা ব্যাথা নেই এসব মানুষদের। তবে একটি জায়গায় এরা খুব আবেগী আর তা হলো তাদের নবী এবং তাদের ধর্ম কেউ কটুক্তি করতে পারবেনা। কিন্তু তারা যে প্রতিনিয়ত তাদের নবীজীর আদেশের অবমাননা করে চলেছে সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই। আর তাই এই রকম একটি জনগোষ্ঠি নিয়ে শরীয়া ভিত্তিক সমাজ গঠনের চিন্তা নিতান্তই বোকামী।

তবে আপাততো সংকট থেকে উত্তরনের জন্য সকল ইসলামী দলগুলোকে এক হয়ে কাজ করে যেতে হবে। সরকার জেনে বুঝে উস্কানী দিচ্ছে যে মুসলিম রা টুপি পরে রাস্তায় নামুক তাহলে এদের জঙ্গী প্রমান করে বিশ্বমোড়লদের নজরকারা যাবে।

পরামর্শঃ
১) সংকটকে সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করা।
২) সবগুলো ইসলামী দল মিলে একটি জোট গঠন করা। (ইসলামি কোয়ালিশন ফ্রন্ট অথবা ইসলামী ব্রাদারহুড এরকম কিছু নাম দেয়া) যেহেতু সবার প্রথম উদ্দেশ্য একই রকম সেহেতু আপাতত একটি উদ্দেশ্য একতাবদ্ধ হওয়া। বড় দল হিসেবে জামায়াতের কিছু ছাড় দেয়া।
৩) যদি জোট গঠন করা সম্ভব না হয়, বড় ইসলামি দলগুলোর পলিসী ও নাম পরিবর্তন করে, ইসলাম ও ন্যাশনালিজমের মিশ্রনে একটি দল গঠন করা।

দেশের পরিস্থিতি নিয়ে নিজস্ব ভাবনা

একদিকে প্রতিবেশি ভারতের প্রতাক্ষ মদদে বেপরোয়া আওয়ামীলীগ, ভারতের আশ্বাসে নিরব বিএনপি, ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার ঘুমন্ত সাধারন মানুষ অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের পথিকৃৎ, অস্তিত্বের লড়াইয়ে একাকী হয়ে পড়া জামায়াত ও তার অংগ সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির।

যে ধরনের প্রচার ই হোক তা পরোক্ষভাবে জামায়াত-শিবিরের বিপক্ষেই কাজ করছে। সাধারন মানুষের রাজাকার আন্দোলন যখন সেক্যুলার বনাম ইসলাম পন্থী প্রচারনা লাভ করলো, ঠিক তখন ই সেক্যুলারদের নিজস্ব পদ্ধতিতে আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য হয়ত কিছু নতুন উপাদান খুজে পেলো। সেক্যুলার দের জয় জয়কার এই একবিংশ শতাব্দীতে দেশিয় আন্দোলন যখন সেক্যুলার বনাম ইসলাম পন্থী হিসেবে পুরোপুরি চিহ্নিত হবে তখন হয়ত জামায়াত-শিবির বৈদেশিক সমর্থন অনেকাংশে হারিয়ে ফেলবে। দেশীয় মানুষের অনুভবের শক্তিহীনতা, দেশের মিডিয়ার একচোখা নীতি অধিকন্তু সরকারের ইতিহাসের স্মরনীয় দমন-নিপীড়নে জামায়াত-শিবির বড় অসহায় হয়ে পড়েছে। হয়ত এই অসহায়ত্ব তাদের আন্দোলন থেকে দমাতে পারবেনা কিন্তু যে প্রতাক্ষ বিরোধ সৃষ্টি হলো সেটি হয় সংকটত্তোর বাংলাদেশে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি তথা ইসলামি রাজনীতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশের মানুষের ইসলাম বিমূখতা স্পষ্টত লক্ষনী্য, এই অবস্থায় সংকট কালীন সময়গুলোতে মানুষের আবেগ ও প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষন ও সেটা নিয়ে চিন্তা একান্ত জরূরী। যাতে করে সংকট উত্তরনের পর নতুন কৌশল নীতি ঠিক করা যায়। ৪০ কিংবা ৭০ দশকের নীতি আবেগ দিয়ে হয়ত বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতি সম্ভব নয়। এটি বুঝতে হয়ত অনেক দেরী হয়ে যাবে।

হয়ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকট আওয়ামীলীগের জন্য ই। যখন ছাত্রলীগের অপরাধ চরম আকার ধরন করলো, যখন সরকারের মন্ত্রীসভার সবক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া শুরু করলো, যখন পুরো বিশ্ব আওয়ামী সরকারের ব্যর্থা নিয়ে একে কে মুখ ফিরিয়ে নেয়া শুরু করলো ঠিক তখন ই, অতিসুকৌশলে মিথ্যার ধারকদের চিরাচরিত সেই নিয়মে সুক্ষ্নষঢযন্ত্র শুরু করে দিলো।

কোন রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো প্রতিপক্ষের ষঢ়যন্ত্র বুঝতে না পারা। আর সেটি এখন বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে ইসলাম পন্থিদের জন্য। অধিকন্তু চারিদিকে ভারতবেষ্টিত থাকার কারনে, ভারতীয় কালচারের প্রভাব ও বেশ লক্ষনীয়। আর তাই পৃথিবীর অন্যন্যা ইসলামি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর অনেক চিন্তা করে এগুনো উচিত।

সাধারন মানুষ, যারা মনে করছে জামায়াতের সাথে সাধারনের লড়াই তারা মূলত একচোখা মিডিয়ার কারনে অন্ধ হয়ে গেছে। শাহবাগের আন্দোলনে যখন নাস্তিকরা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছে, যেখানে তাদের খাওয়া করচ সরকার বহন করছে, যেখানে পুলিশ প্রটেকশনে তারা থাকতে পারছে, সেখানে একটু চিন্তা করা হয়ত জরূরী ছিলো। হয়ত আপনারা বুঝার আগে অনেক দেরী হয়ে যাবে।

সে যাই হোক, এই অসম লড়াইয়ে যদি জামায়াত হেরে যায় তাহলে এর পরিনতি হয়তো সবাইকেই ভোগ করতে হবে। গত ৪ বছরে যারা চোখ খোলা রেখে পত্রিকর খবর পড়েছেন তারা হয়ত বুঝতে পারবে। আর যদি জামায়াত তার ঈমানী শক্তিতে জিতে যায় তাহলে হয়ত এর সুফলটাও সবাই ভোগ করবে। অন্তত বিগত ৪০ বছর ধরে যারা জামায়াত কে চোখ খোলা রেখে পর্যবেক্ষন করেছে তারা বুঝতে পারবে।

শেষে কিছু ঘটনা উল্লেখ করব যেগুলো হয়ত সাধারন মানুষ দাবী করতে পারত।
১) শেয়ার বাজারের ৩৫ হাজার কোটি টাকার চুরি।
২) সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেংকারী
৩) রেলওয়ে গেইট নামে বড় ধরনের চুরি।
৪) পদ্মা সেতুতে বড় ধরনের চুরি।
৫) হত্যাকান্ডের কথা না বা বললাম। যে সাধারন মানুষ গুলো গত ৪ বছরে আওয়ামী সরকার কর্তৃক মানুষ হত্যার বিচার চায় না, যে সাধারান মানুষগুলো রাজপথে মানুষ হত্যার বিচার চায় না, তারা যে সাধারন বিবেক সম্পন্ন মানুষ না এটি বিবেক সম্পন্ন মানুষ মাত্রই বুঝতে পারে।

শেখ হাসিনা যখন ১০ টাকার চাল খাওয়ানোর কথা বলে ভোট আদায় করেছিলো তখন হয়ত কেউ বুঝতে পারেননি যে, শেখ হাসিনার কৌশল। হয়ত আজ ও বুঝবেন না শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের কৌশল। যেদিন বুঝতে পারবেন সেদিন দেখবেন আপনার পরিবারের কেউ আওয়ামী সোনার ছেলে দ্বারা ধর্ষিত, হয়ত দেখবেন আপনার পরিবারের কেউ গুম, হয়ত দেখবেন বাবার সামনে ছেলের খুনের দৃশ্য।

যারা লড়াই করে সত্যের জন্য, তারা হয়ত হার জিতের জন্য লড়াই করেনা। তারা লড়াই করে আদর্শের জন্য। তারা লড়াই করে একটি মানবতার মতবাদকে প্রতিষ্ঠার জন্য। যারা জামায়াত-শিবিরের মৃত্যুকে চোখ বুঝে উপভোগ করছেন, কিংবা ধ্বংস কামনা করছেন। গত ৪০ বছরের রেকর্ড গুলো চিন্তা করুন, না পারলে গত ৪ বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের কথা ভাবুন। আর যদি দুঃশাসনে আপনার মুক্তি খুজে থাকেন। তাহলে সৃষ্টিকর্তা হয়ত সেই দুঃশাসন দিয়ে জামায়াত-শিবিরের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করাবেন। সৃষ্টিকর্তা কারো চাওয়া অপূর্ণ রাখনেনা। কাউকে দেন দুনিয়ার জীবনে কাউকে হয়ত আখিরাতের জীবনে।

কলুষিত রাজনৈতিকদের দুষিত দেশপ্রেমে বন্দী ডিজিটাল প্রজন্ম।

মানুষ লড়াই করে শান্তির জন্য, লড়াই করে বিভেদকে প্রশমিত করার জন্য। আজব এক জাতি আমরা, নোংরা রাজনৈতিকদের দ্বারা আমারাও কলুষিত করছি, আমাদের নিজেদের ভ্রাতৃত্ববোধকে। দেশপ্রেমের নামে আমরা নিজেদের সুসম্পর্ক বিনষ্ট করছি। এটা তো স্বাধীনতার লড়াই না? আমরা কেউ ই দেশকে কম ভালোবাসিনা।

দেশপ্রেমের নামে নিজেদের মধ্যে হিংসা আর হানাহানি হয়ত দেশপ্রেমকেই কলংকিত করে। এক দেশে বাস করে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দার জন্য যারা বিভেদ তৈরী করে তারা মূলত দেশপ্রেমের নামে মানুষের আবেগকে কাজি লাগিয়ে নিজেদের স্বার্থ আদায়ের মত ঘৃণ্য ষঢ়যন্ত্র করে তারা মূলত জাতির দুষমন। যারা দেশপ্রেমের নামে দেশের প্রতিষ্ঠান নষ্ট করে , তারা আর যাই হোক দেশপ্রেমিক হতে পারেনা। দেশপ্রেমের সংজ্ঞায় হয়ত এটি পড়েনা। যারা দেশপ্রেমের নামে গনমাধ্যমের কন্ঠরোধ করে সেটি দেশপ্রেম হয় কি করে?? একটি দলের কুকর্ম লিখলে যদি দেশপ্রেমের বিরোধী হয়, তাহলে বলতে হবে আমরা আজব এক জগতে বাস করছি। হয়ত এসবের নাম ই হলো ফ্যাসিবাদ। দেশের শিক্ষিত এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষের উচিত এসবের বিরোধিতা করা।

আমি, আমরা সবাই চাই, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হোক, কিন্তু বিচারের নামে প্রহসন আমরাও চাই না। দেখুন বিচার করছে সরকার , ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। যদি বিচারে কোন সমস্যা হয়, সেটি করছে আওয়ামীলীগ। কিন্তু এখানে ইসলামি ব্যাংক ই বা আসলে কেন? আর রেটিনা কোচিং আসলো কেমনে?? একটু কি আপনাদের চিন্তা হয় না, এসব কেন করছেন?? পারলে আওয়ামীলীগের আস্তানায় আগুন দিন্? এসব ভাবুন। গনতান্ত্রিক দেশে সব মত, পথ থাকনে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে হানাহানি কেন?? আপনারা সরকারের কাছে দাবি জানান, সেখানে অন্য রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা কেন আর ইসলামি রাজনীতির বিরোধীতা কেন?? অন্য দলের বিরোধীতা করলে আপনারা নিরপেক্ষ হলেন কিভাবে?? আপনারা যেমন নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন, ধীরে ধীরে আপনাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী সরকার ফ্যাসিবাদকে উষ্কে দিচ্ছে, আপনাদের অজান্তে। আর সেটি হলে আমাদের সবার জন্য খারাপ বৈকি ভালো কিছু হবে না। সময় সকল অন্যায়ের বিচার করে। আজ যেমন আপনারা একটি দলের ছত্রছায়ায় করছেন, নিজেরাও বুঝতে চাচ্ছেন না। আগামীতে হয়ত আপনারাই দেশদ্রোহী হবেন, সময়ই আপনাদের বিচার করবে এটাই স্বাভাবিক, এটাই জগতের নিয়ম। তাই পারতপক্ষে উচিত সুযোগের অপব্যবহার না করা। কারন সুযোগের অপব্যবহার ই মানুষকে অন্যায় পথে ঠেলে দেয়। আর সময় তা লিখে রাখে তার আপন ডায়রীতে। কে জানে, হয়ত আপনি, নয়ত আপনার ছেলে মেয়েরা আপনার দেশপ্রেমের বিচার দেখবে দেশদ্রোহী হিসেবে। যাদের আপনি শাহবাগের গল্প শোনাবেন, সময় ই হয়ত আপনাকে একজন আবেগী, চরমপন্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিবে, সেদিন হয়ত আপনার ও কিছু করার থাকবেনা।

মানুষের ধর্ষন করে মূলত আবেগের কারনে, যৌন আকাঙ্খার কারনে। আর সে যৌন আকাঙ্খা মানুষের সব সময় থাকেনা। যখন মানুষ যৌন আকাঙ্খায় ব্যাকুল হয়ে যায়, প্রয়োজন পড়ে শারিরিক চাহিদা মেটানোর। আর যদি মানষের বিবেক সে কাজ না করে তখন কোন বিচার ই করতে পারেনা, হেরে যায় আবগের কাছে, চাহিদার কাছে। তখন সে নিজের আপন মেয়েকে ও ধর্ষন করতে দ্বিধাবোধ করেনা। সমাজে পরিচিত হয় ধর্ষকরুপে। হয়ত সে নিজেও উত্তেজনা থেকে গেলে বুঝতে পারে যে সে কত বড় ভূল করে ফেলেছে, কিন্তু তখন কিছু করার থাকেনা। সে নতুন পরিচয় পায়, আর সে পরিচয় সমাজে আর সব বাবাদের লজ্জিত করে। এই উত্তেজনা বা আবেগ নামক জিনিসকে যে যত বেশি নিয়ন্ত্রন করতে পারে, সেই বেশি ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তার চারিত্রিক দৃঢ়তা সবার কাছে হয় প্রশংসিত। আবেগ যেমন মানুষকে প্রেমিক পুরুষ হিসেবে পরিচয় দান করে, লেখা হয় কাব্য গ্রন্থ, তাজমহলের মত সৌধ নির্মানে মানুষকে অনুপ্রেরনা সাহস দান করে, আবার সেই আবেগেই মানুষকে সমাজে নীচ-হীন পশুরুপে পরিচিত করে তোলে। এটি এমন এক অস্ত্র সঠিক সময়ে এর সঠিক ব্যবহার মানুষকে করে তুলে অনুসরনীয়। সময় তার ডায়রীতে লিখে রাখে তাদের নাম। কিন্তু যদি এই আবেগ হিংসা কিংবা ক্রোধ হয়ে প্রকাশ লাভ করে তাহলে সেটি মানুষকে ভালো কিছু এনে দেয় না। এনে দেয় ধ্বংস। সমাজে সে ইতর হিসেবে পরিচিত লাভ করে। এবং সময় ই তার বিচার করে তার আইনে।

দেশপ্রেমিক মূলত তারাই যারা নিজের দেশের নামকে স্মরনীয় করে রাখতে পেরেছে আমন মহিমায়। সময় ই তাদের মনে রেখেছে। তারা হয়ত দেশপ্রেম বলে স্লোগান দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। তারা দেশপ্রেমকে নিজেদের মধ্যে ধারন করতে পেরেছিলো। এটি মূলত বুকে ধারন করতে হয়, প্রমান করতে হয় কাজে।

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪০ বছর হয়ে গেলো। এখন দেশপ্রেম বলে নিজেদের মধ্যে বিভেদ করলে হয়ত সংঘাত ই বাড়বে, দেশের কোন উন্নতি হবেনা। বরং এখন নিজেদের মেধাশ্রম দিয়ে দেশের নামকে উজ্জ্বল করার সময়। দেশকে ভালো কিছু এনে দিতে পারলে সেটি ই হবে দেশপ্রেমের উজ্জ্বল নিদর্শন। সুশিক্ষিত ও যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষদের অনুপস্থিতির কারনে, রাজনীতিতে কলুষিত ব্যাক্তিদের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারনে স্বাভাবিক বিবেকবোধ তথা মানবতাবোধের অবনতি ক্রমশঃ লক্ষনীয়। ফলে সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে রাজনীতির পালাবদল হয়ে পড়েছে অসম্ভব এক বস্তু। ফলে প্রতিনিয়ত তৈরী হচ্ছে সংকট আর সে সংকটের বলি হচ্ছি আমি ও আপনি। কেউ মরছি, কেউ মারছি। কেউ উপভোগ করছি চেয়ে। মানুষের মধ্যে তখন ই স্বাভাবিক চিন্তাবোধ লোপ পায় যখন মানুষ অন্যায়ে বসবাস করে। আমরা অন্যায় বেষ্টিত সমাজে বসবাস করতে করতে স্বাভাবিক ও সুস্থ চিন্তা থেকে অনকে দুরে চলে এসছি । এখন আমরা মারতে ও মরতে কোন বোধ ই অনুভব করতে পারিনা।

সে যাই হোক, পরিশেষে বলবো। ইতিহাসের আবর্তন ঘটে। ধনী গরিব হয়, গরিব হয় ধনী। রাজা চাকর হয়, চাকর হয় রাজা। দিল্লির মুঘল বলেন, বা বাংলার সিরাজের বংশধর বলেন, বা ঢাকার নবাব বলেন, খোজ নিয়ে দেখেন অনেকেই হয়ত আর সেই জৌলুসের মধ্যে নেই। আবার খোজ নিয়ে দেখেন সেই সময়ের নবাবের চাকর আজ আলিশান প্রাসাদের বাস করছে। আবার হয়ত এসব চাকর রাজা হবে কোন একদিন। হিটলার অনেক প্রতাপশালী ছিলো সেই হিটলারকেও মরতে হয়েছে। আজকে যেভাবে আমরা অন্য একটি মতাদর্শের মানুষদের যেভাবে অত্যাচার করছি, যেভাবে হত্যা করছি, যেভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছি, সময় হয়ত একদিন আপনাকে, আমাকে তার বিচারের কাঠগরায় দাড় করিয়ে দিবে। হয়ত আপনি, আমি নতুবা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম হবে এর শিকার। ভালোবাসা পূর্ণ আচরন ও পরিবেশ ই পারে কেবল ভালোবাসা দিতে, পারে শান্তি বয়ে আনতে। আর আমরা আমাদের পরিবেশকে কিভাবে তৈরী করছি বা রেখে যাচ্ছি সটি হয়ত সময় ই বিচার করবে।

এসব উপলব্দি করেই হয়ত কবি বলতে চেয়েছেন।

“নতুন প্রজন্মের কাছে বাসযোগ্য করে যাবো পৃথিবী এ মোর দৃঢ় অঙ্গিকার”

আশাকরি আমি, আপনি আমরা সবাই এই অঙ্গিকার কে মনেরেখে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কাছে মনোনিবেশ করব। এটাই হোক আমাদের আগামীর প্রত্যাশা।

দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শাহবাগের সেইসব তরুনদের সাথে একাত্নতা ঘোষনা করছি।

দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শাহবাগের সেইসব তরুনদের সাথে একাত্নতা ঘোষনা করছি। যারা সত্যিকারের দেশপ্রেম নিয়ে শাহবাগের গিয়েছেন, বা এখন আছেন। অন্যায়ের বিচার মানুষের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু যে বিচার মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিভেদ তৈরী করে, যে বিচার মানবতার কন্ঠরোধ করতে শেখায় সে বিচারকে অবশ্যই আমরা পরিত্যাগ করি। পাশাপাশি যে দাবি মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরী করে, যে দাবী আর একটি অন্যায়ের পথ খুলে দেয়, যে দাবি সমাজের মধ্যে বিশৃংখলার পরিবেশ কে সম্প্রসারিত করে, যে দাবী বন্ধুতে-বন্ধুতে দ্বন্দ্ব তৈরী করে, যে দাবী ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পর্ক বিনষ্ট করে সে দাবি কি আসলেই যৌক্তিক। দাবি যদি ন্যায় প্রতিষ্ঠার, দাবি যদি শান্তির জন্য তাহলে সেখানে বিভেদ কেন?? সেখানে মানবতার চরম অপমান ই বা কেন? আর সেখানে শ্রেনী বিদ্বেষ, আর সাম্প্রদায়িকতার বিষ বাষ্প ই বা কেন??

জোর করে ফাসি দিয়ে যেমন অন্যায় রোধ করা যায় না, যেমনি আবগের কাছে বিবেক কে সঁপে দিলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়না। হয়ত জোড় করে ফাঁসি দেয়া যেতে পারে, হয়ত জামায়াত শিবির নিষিদ্ধ ঘোষনা করা যেতে পারে?? হয়ত ইসলামি ব্যাংক বন্ধ ঘোষনা করা যেতে পারে?? হয়ত সেক্যলারিজম কায়েম করা যেতে পারে??

কিন্তু প্রশ্ন হলো গত ৪০ বছরের দেশের উন্নয়নে জামায়াত-শিবির, ইসলামি ব্যাংক কতটুকু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে?? পদ্মা সেতুর না হওয়ায় কি ইসলামিক দল জড়িত?? শেয়ার বাজারে কি জামায়াত শিবির জড়িত??? সাগর-রুনি হত্যাকান্ড এতে কি জামায়াত-শিবির জড়িত। গত ৪০ বছরে ইসলামিক দল গুলো কতটুকু ক্ষমতায় ছিলো একটু ভেবে দেখা দরকার। ভেবে দেখা দরকার অনুন্নয়ের জন্য ইসলামিক দল কতটুকু জড়িত?? ভেবে দেখা দরকার আসলেই ইসলামি দলগুলো বন্ধ করলে দেশে শান্তি আসবে কিনা?? আসলেই এটি যৌক্তিক দাবী কিনা। আপনারা ফাসি চান সরকারের কাছে, সেখানে ইসলামিক প্রতিষ্ঠানকে টেনে আনলে হয়ত আপনাদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হবে। সুতরাং ভেবে দেখা দরকার আপনার-আমার আবেগ কারো দ্বারা ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা??? আপনারা শিবিরকে ছুড়ে ফেলে না দিয়ে তাদের সাথে নিয়ে নিরপেক্ষ ট্রাইবুনালের জন্য আন্দোলন করুন, আপনারা আন্দোলন করুন ন্যায় বিচার দাবীতে, আপনারা আন্দোলন করুন,´৭১ এং ´৭১ পরবর্তী সব অন্যায়ের?? আপনারা কেন নিজেদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছেন?? আপনারা ঐক্যর ডাক দিয়ে কেন বিভেদের বিষ বাষ্প ছড়াচ্ছেন?? আর একই সমাজে বাস করে সেই বিভেদের ফল থেকে হয়ত আপনি-আমি, আমাদের প্রজন্ম কেউ ই রক্ষা পাবেনা। সময় এখনো আছে সবাইকে সম্পৃক্ত করুন, সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক দাবি পেশ করুন নয়ত নিজেরাই বিভেদে পরে যাবেন। চিন্তা করুন, আপনাদের আবেগের পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য নেইতো??

অনেকেই বলছে যে, শাহবাগের সাথে নাকি ইসলামকে জড়ানো হচ্ছে। শাহবাগে ইসলামি রাজনীতির বিরুদ্ধে বলা যায়, আবার এর পক্ষে বললে নাকি ইসলামকে জড়ানো হয়।
যারা ইসলাম ই বুঝেনা, যারা তারা কিভাবে বুঝবে যে শাহবাগের আন্দোলন ইসলাম বিরোধী কিনা? যারা ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের বিরোধিতা করে, যারা ইসলামি রাজনীতির বিরোধীতা করে, তাদের আন্দোলন ইসলামের পক্ষে হয় কিভাবে??? যে আন্দোলনের নেতৃত্বে নবী (সাঃ) অবমাননা কারী, ইসলামকে অবমাননা কারী, স্বঘোষিত নাস্তিক রা সেটি ইসলামের পক্ষে হয় কি করে???

আবার এটি নাকি মানবতার পক্ষের আন্দোলন।
কিন্তু যারা মানবতাই বুঝেনা তারা এর পক্ষে আন্দোলনকে কিভাবে মানবতার পক্ষে বলে?? যাদের আন্দোলন একটি বিশেষ দল, এবং ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাদের নিরপেক্ষ থাকার যৌক্তিকতা কি??
যাদের আন্দোলনে শেয়ার বাজারের কোটি কোটি টাকার কথা উচ্চারিত হয় না, যেখানে সেঞ্চুরিয়ান মানিকদের বিচার চাওয়া হয় না, যেখানে পদ্মা সেতুর কথা স্থান পায় না, যেখানে ঘরের ভিতর হত্যা কান্ডের শিকার সাগর-রুনির বিচারের কথা স্থান পায়না , যেখানে ঢাকার রাজপথে লগি বৈঠার দিয়ে মানুষ হত্যা স্থান পায়না,যেখানে রাজপথে পুলিশের গুলিতে নিহত বাংলার তরুনের কথা স্থান পায়না। সর্বোপরি যেখানে ৭২-৭৪ , ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা হত্যার কথা স্থান পায় না , সেখানে মানবতার কথা আসে কিভাবে। আর সেটি ইসলামি শাসনের বিপক্ষে না তা বিশ্বাস করবো কিভাবে???

শাহবাগের আন্দোলন আজ বাম নামক ভাসমান পতিতাদের হাতে বন্দী। ভাসমান পতিতাদের যেমন কোন জায়গা নেই, জাত নেই, তেমনি এদের কোন জাত নেই, জায়গা নেই। ভাসমান মানুষ ই এসব পতিতাদের খদ্দের। দেশের আদর্শ হারা, নিজের পরিচয় হারা, উদ্ভ্রান্ত তরুন আজ এসব বাম নামক-পতিতাদের কৌশলের কাছে বন্দী। সঠিক সময়ে বুঝতে না পারলে, এটি মারাত্নক আকার ধারন করে , এইডস হতে পারে, তখন ধুকে ধুকে মৃত্যে কামনা ছাড়া আর কিছু করার থাকবেনা।

হে তরুন আসুন! আমরা একসথে স্লোগান দেই, যুদ্ধাপারাধের বিচার চাই, আমরা ন্যায় বিচার চাই। আমরা সকল মানবতাবিরোধি অপরাধের বিচার চাই।

বিভেদ যেখানে প্রকট, সংগ্রাম সেখানে অনিবার্য। সত্যে ও মিথ্যার অবস্থান সেখানে স্পষ্ট হওয়া চাই।

নতুনেরা জেগেছে নতুন রূপে, নতুনেরা এই প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা।

কিন্তু কথা হলো যুদ্ধ কার সাথে???
সত্যের সাথে মিথ্যার??
হকের সাথে বাতিলের??

যারা নিজের পরিচয় ই জানে না, তারা কেমনে যুদ্ধ করবে?? দ্বিধাগ্রস্থ এক সমাজ কিভাবে জয় লাভ করবে অদৃশ্য এক শক্তির সাথে?

৮৫ ভাগ মুসলিমের দেশ ই বাংলাদেশ। বাংলার ইতিহাস হলো, মুসলিমদের গৌরবগাঁথার ইতিহাস। বখতিহার খিলজি বলেন, সিরাজুদ্দৌল্লা বলেন, শাহজালাল (রহঃ) বলেন আর শাহ মখদুম (রহঃ) বলেন। এদের এ চারনভূমি এই বাংলা। আজকের যারা মুসলিম নাম নিয়ে শাহবাগে গিয়েছে, সেই শাহবাগ ও হয়ত কোন পীর-আওলিয়ার নামে নামকরন করা হয়েছে। ভারতের থেকে পাকিস্তানের সৃষ্টি সেটিও হয়েছিলো, মুসলিমদের কেন্দ্র করে। যারা বলে যে বাংলাদেশ ইসলামের পরিচয়ে পরিচিত না, তারা কিভাবে ব্যাখ্যা করবে, ভারতের সাথে পাকিস্তানের বিভক্তি?? যদি ভারত থেকে পাকিস্তান না হতো তাহলে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ এ বা হতো কেমনে। সুতরাং যুক্তির কাছে হার মেনে আজ তারা শয়তানী কথায় মত্ত।
যারা আজ জামায়াত-শিবিরকে পাকিস্তানে যেতে বলেন তারা হয়ত বিকার গ্রস্থ মানসিকতা থেকে ই এসব বলেন। যারা সম্প্রীতির বাংলাদেশ চায় না, যারা আদর্শের লড়াইয়ে শংকিত এবং পরাজিত, এটি তাদের ঘুণেধরা মনের অতৃপ্তির আক্ষেপ।

শাহবাগের যোদ্ধা! এক স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবিতো বলে দিলেন যে, এরা নাকি এই প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা।

কিন্তু কথা হলো কিসে থেকে মুক্তি??

মুক্তি কি ইসলাম থেকে??
নাকি নিজের চৌদ্দপুরুষের পরিচয় থেকে?

যে মানুষের আদালতে গিয়ে সাক্ষী দেয়ার সাহস হয় না, আজ সেসব কুপমন্ডুক মানুষ তরুন সমাজের প্ররোচিত আবেগের পেছনে নিজের অবয়ব ঢেকে চুপিসারে মঞ্চে গিয়ে উঠেছে ফাঁসির দাবি নিয়ে। কার ফাঁসি কে চায়?? কি এদের পরিচয়?? আর নেচে-গেয়ে যে বিচার দাবী করা যায় এটা প্রগতিবাদী নামের বানরের জাতের দ্বারাই সম্ভব নাই। যদি শহীদদের প্রতি সন্মান থাকত তাহলে তারা তাদের জন্য দোয়া করত। ৮৫ ভাগ মুসলিমের দেশে জুম্মা নামাজ বাদ দিয়ে, গান-গেয়ে নারী-পুরুষের মিলিত নৃত্যে নাকি নতুন বাংলার স্বপ্ন বুনছে। আর ডিজিটাল প্রজন্ম ডিজিটালে মাতাল হয়ে ছুটছে দেশপ্রেমিক হিসেবে নিজেদের প্রমান করার জন্য। যারা নিজেদের বোনদের ইজ্জত রক্ষা করতে পারেনা তারা আবার দেশ রক্ষা করবে। যারা সেঞ্চুরিয়ান মানিকদের পাশে বসিয়ে কাতার বন্দি হতে পারে, তারা আর যাই হোক, ভালো মানুষ হতে পারেনা। যারা বিশ্বজিতের খুনিদের সাথে একত্নতা ঘোষনা করে, তারা আর যাই হোক তারা দেশের শান্তি চায় না।
আর যারা জুম্মার সালাত বাদ দিয়ে নেচে-গেয়ে -মোমবাতির আলোয় মুক্তি খুঁজছে, তাদের মুক্তি অনেক আগে ই হয়ে গেছে। কারন তাদের মনের শান্তি মোমের আলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। সূর্যের আলো দেখার মত, অনুভব করার মত শক্তি এদের নেই। এরা মসজিদে গিয়ে শান্তি পায় না। আর তাই জুমার দিনে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করার পরিবর্তে এরা ইসলামি আন্দোলন কে দমন করার, ইসলামি প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করার স্লোগান দেয়। ঢোল-নৃত্যের তালে তালে। কেমন মুসলমান তোমরা? তোমাদের দেখলে এখন আফসোস ই হয়। তোমরা এভাবে মানসিক যন্ত্রনায় ভুগে ভুগে শেষ হয়ে যাবে একদিন। কারন না তোমরা কোন ইসলামী আন্দোলনকে বন্ধ করতে পারবে, আর না জামায়াত-শিবিরকে এদেশ থেকে বের করে দিতে পারবে।

একবার চিন্তা করুন,
ন্যায় বিচার চাওয়া যৌক্তিক নাকি ফাঁসি চাওয়া বেশি যৌক্তিক?? যদি ফাঁসি চান তাহলে বিচারের কি প্রয়োজন?? একজন মানুষের বিচার না করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা কতটুকু সভ্য হতে পারে??
আরো কিছু জিনিস ভাবুন, আপনাদের তাত্ত্বিক গুরু জাফর ইকবাল রা কিন্তু সাক্ষী হয়েও আদালতে যায় নি কারন , পাছে জেরার কাছে না সত্য বেরিয়ে যায়। এসব ভীতু কুপমন্ডুক লোকের দ্বারা ধর্ষিত হচ্ছে আপনার আমার আবেগ। আর যেখান থেকে ইসলাম বিরোধী স্লোগান দেয়া হয়, একজন মুসলিম হয়ে আপনি সেখানে কি করেন?? হয়ত এর জন্য জবাবদিহী করতে হবে। আপনি জামায়াত-শিবিরের বিরোধিতা করতে পারেন, ইসলামের বিরোধিতা করলে বাংলার মানুষ আপনাদের ছুড়ে ফেলবে আস্তাকুরে। অতএব সাবধান হোন। কাদের সাথে চলছেন একবার ভাবুন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার: আমার প্রতিক্রিয়া

দেশে যুদ্ধাপরাধীর বিচার চলছে। কিছু বিষয় খোলাসা করা দরকার। না হলে হয়ত অনেকেই আমার-আপনার নিরবতাকে অন্য চোখে দেখবে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে লিখতে বসা।

প্রথমে একটি কথা বলা জরূরী যে, আমি বা আমি যাদের সাথে চলি কেউ কে অন্যায়ের পক্ষে সাফাই দিচ্ছে না। সবাই চায় অপরাধীর বিচার হোক। আমার মনেহয় না যে, কোন সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ এর বিরোধিতা করবে। যেহেতু আমরা মানবতার ধর্ম ইসলামে বিশ্বাসী সেহেতু আমরা চাই সুষ্ঠ বিচার হোক।
আমরা সেসব দাবীর সাথে একমত পোষন করি, যেসব দাবী একজন মানুষকে (সে বাদী অথবা বিবাদী হোক) ন্যায় বিচার পেতে সাহায্য করবে। বিবাদীরা যেসব দাবী জানিয়েছিলো সরকারের উচিত ছিলো সেগুলো নিশ্চিত করা।
দাবিগুলোর প্রধান কিছু দাবী ছিলো
১) আন্তর্জাতিক আইনে এবং নিরপেক্ষ আদালতে বিচার কাজ পরিচালনা করা।
২) আইনের সমতা রক্ষা করা।
৩) তাদের পক্ষে বিদেশের আইনজীবির সহায়তার ব্যাপারে অনুমতি প্রদান।
৪) বিচারকের নিরপেক্ষতা।

এখন দেখার বিষয় সরকারের সদ ইচ্ছা ছিলো কিনা??
একটি বিষয় লক্ষনীয় ১৯৯০ সালের পর থেকে বলা হচ্ছিলো রাজাকার দের বিচার চাই। তারপর শুরু হলো যুদ্ধাপরাধী। তারপর শুরু হলো মানবতাবিরোধী অপরাধ। একজন সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের চিন্তা করা উচিত যে কি কারনে শব্দগুলোর এতো পরিবর্তন?? কেউ হয়ত প্রয়োজন বোধ করেননি। করা হয়ত দরকার ছিলো।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি আন্তর্জাতিক নাম দিয়ে কেন আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া হলোনা?? বা কেন ই বা নিরপেক্ষ আদালতে যাওয়া হলোনা। আর বড় কথা হলো যেহেতু এরা সবাই দোষী সেটি নাকি প্রমানিত হয়ে ই আছে তাহলে কেন ই বা বিদেশী আইনজীবিদের বিবাদীর পক্ষে লড়াইয়ের অনুমতি দেয়া হলোনা??
এক একজনের উপর অভিযোগের পাহাড় কিন্তু কি এমন রহস্য যে, তাদের দাবী মতো নিরপেক্ষ আদালত যাওয়া হলোনা। একবার চিন্তা করে দেখা দরকার।
কেনই বা স্কাইপ কেলেংকারীর মত ঘটনা ঘটবে?? চিন্তা করা দরকার। যারা নিজেদের নিরপেক্ষ মানুষ ভাবেন একবার চিন্তা করুন।

সবচেয়ে মজার বেপার হলো বিষয়গুলো নিয়ে অনেকেই চিন্তা করেননি?? আর করবেন ই বা কেন?? যারা চিতকার করছে ফাসির জন্য তারা কি আসলে জানে কার ফাসি চাচ্ছে আর কেনই বা চাচ্ছে?? হয়ত তারা নিজেদের প্রগতিবাদী দাবী করতে পারে। হয়ত তারা নিজেদের মুক্তমনা দাবী করতে পারে, কিন্তু মানবিকতা বলেন আর ন্যায়ের পক্ষে বলেন এদের খুজে পাওয়া যায় না।

এখন আসুন দেখা যাক কেন শব্দগুলোর পরিবর্তন হয়েছিলো।
১) রাজাকার শব্দের সাথে আওয়ামীলীগের অনেকেই জড়িত। জামায়াতের সাথে রাজাকার বাহিনীর সম্পর্কের চেয়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের সখ্যতা ছিলো বেশি। শেখ হাসিনার বেয়াই, শেখ সেলিমের বেয়াই। কামরুল রের পরিবার, মখা আলমগীর, সাজেদা, এর সবই রাজাকার শব্দটির সাথে জড়িয়ে যেত।
আমার কথা বিশ্বাস না হলে, আপনারা আন্তর্জাতিক লেখকদের বই পড়তে পারেন। কারন মুনতাসির বলেন আর জাফর ইকবাল বলেন এনারা হলেন বায়াসড পারসন। নিরপেক্ষ মানুষদের আমি নিরপেক্ষ লেখকের বই পড়তে উতসাহ দিবো।

২) “যুদ্ধাপরাধী” এই শব্দের যে সংগা তার ক্যাটেগরিতে জামায়াত নেতাদের ফেলানোর কোন ফাক খুজে পায়নি আওয়ামী সরকার। না পাওয়ার কারন হয়ত আপনারা চিন্তা করেন নি। তবে আমি করেছি , কারন আমি ভেবে দেখে চুপ করে আছি। কারন আমি ন্যায়ের পক্ষে আর যদি জামায়াত অন্যায় করে, আমাকে সাথে পাবেন।

৩) “মানবতাবিরোধী অপরাধ” মজার বিষয় সচেতন মানুষ বলে যারা নিজেদের দাবী করেন কেউ তো চিন্তা করেননি যে, কেন ই বা এতো কিছু বাদ দিয়ে এই মানবতাবিরোধী শব্দটি সিলেক্ট করা হলো??
হয়ত চিন্তা করার সময় পাননি। পাবেন কিভাবে বলুন। সময়তো নেই। নিজেরা ব্যস্ত প্রগতিবাদী হওয়ার জন্য। আমরাও প্রগতিবাদি তবে আমরা ভালো খারাপ দেখে চলি। আমরা হুজুগে মাতিনা।
“মানবতাবিরোধী” শব্দটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এটি সিলেক্ট করার কারন এই শব্দটি দিয়ে একজন মানুষকে বিভিন্নভাবে ফাসানো যাবে। কারন যত রকমের অন্যায় সবই মানবতাবিরোধী।

এখন দেখার বিষয় যে, যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা আসলেই দোষী কিনা??
তাদেরকে সুষ্ঠ বিচার দেয়ার কথা ছিলো আদালতের। সঠিক ন্যায় বিচার তখন ই করা সম্ভব হয় যখন বাদী কিংবা বিবাদী দু-জনের কথা ভালোভাবে শোনা হয়। বাদীর দাবী ন্যায় বিচার তেমনি বিবাদীর ও দাবী ন্যায় বিচার। আর বিচারকের কাজ হলো ন্যায় বিচার উফার দেয়া। সরকারের দায়িত্ব হলো মানুষের মাঝে আইনের শাসনএর প্রতিফলন ঘটানো। এবং বিবাদী কিংবা বাদী সবার অধিকার নিশ্চিত করা। একজন ধর্ষক যখন ধর্ষন করে তখন তার বিচার নিম্ন আদালত কিংবা উচ্চাদালতে হোক বিচার একই হওয়ার কথা যদিনা বিচারক পক্ষপাত দুষ্ট হয়।

মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের দাবী অনুযায়ী সরকারের ব্যবস্থা গ্রহন না করা মূলত বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্বাভাবিক কথা হলো যেহেতু সরকার তথা আওয়ামীলীগের হাতে যথেষ্ঠ প্রমান আছে, এবং যেহেতু সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হচ্ছে যে উনারা দোষী। সুতরাং আমার দাবী হলো, বিবাদীর দাবী অনুযায়ী নিরপেক্ষ আদালতে বিচার কাজ শুরু করেন। বাংলার ১৬ কোটি মানুষ আপনাদের সাথে থাকবে। আমি এটি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি। যদি আপনারা নিরপেক্ষ আদালতে বিচার করতে পারেন, তাহলে শিবির কেন জামায়াত ও রায় মেনে নিবে। একবার সাহস করে এগিয়ে যান।

“৭১ প্রজন্ম” নামধারী গোষ্ঠিকে বলবো, মোমবাতি জ্বালালে কিন্তু বাংলাদেশি প্রমানিত হয়না আর দেশপ্রেমিক ও প্রমানিত হয় না। দেশপ্রেম সেটি যা দেশের ভালোর জন্য করা হয়। যারা ভালোমন্দ বুঝেনা তাদের পক্ষে দেশপ্রেমের কথা শোভা পায়না। সচেতন সমাজ আপনাদের ঘৃণা করে। আসলে আপনারা কোন জাতের মধ্যে ই পড়েন না। কারন
১) যদি মুসলমান হতেন এভাবে নারী-পুরুষ মিলে মোমবাতি জ্বালিয়ে নর্তন করতে পারতেন না।
২) যদি বাংলাদেশি হতেন বা দেশ প্রেমিক হতেন। ৩০ লক্ষ্য শহীদ বলেন সেই ৩০ লক্ষের জন্য অন্তত পক্ষে শোক পালন করতেন। আর শোক পালন যে নৃত্য পরিবেশন করে হয়না। সেটি একটি বান্দর ও বুঝে।
৩) যদি হিন্দু হইতেন তাহলেও এভাবে করতে পারতেন না।

এসব মধ্যে দেশপ্রেমের কিছু নেই।

সবশেষে একটি কথাই বলব। যারা দেশপ্রেমের নামে নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরী করছেন। কিংবা জামায়াত-শিবিরকে পাকিস্তান যেতে বলছেন। কথাগুলো একবার ভেবে বলুন। উন্নতি হবে না ,দেশের, না আপনার, আর না আপনার ভবিষ্যত প্রজন্ম ভালো একটি পরিবেশ পাবে। তারা শুধু হিংসা করতেই শিখবে। একটি বিদ্বেষপূর্ণ সমাজ দিয়ে না যাবে সামনে এগুনো, না যাবে যুদ্ধে জয়লাভ করা।

আপনার -বিরোধকে কাজে লাগিয়ে দূর্নীতিগ্রস্থ, অর্থলোভী সমাজ দেশ শাসন করে যাচ্ছে। আপনার ও আমার আবেগ হচ্ছে বরাবরের মতো ধর্ষিত। আর তাই সরকার বদল হচ্ছে কিন্তু দেশে ধর্ষন কমছেনা, কমছেনা দূর্নীতি কমছেনা, দেশের সম্পদ পাচার।

সুতরাং আসুন না, আমরা সবাই মিলে সারিবদ্ধ ভাবে ন্যায়বিচারের স্লোগান তুলি। কারন যদি ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে তা সবার জন্য ই ভালো। আর পাশাপাশি বর্তমানে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে তাদেরকেও এই বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য আমরা স্লোগান তুলি, স্লোগান তুলি মা-বোনদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশের।

যারা একে অপরকে রাজাকার বলি তারা আসলেই বিকৃতরুচির মানুষ। যারা ৭১ এর জন্মগ্রহন করেছে, তাদেরকে এসব বলে গালি দেয়া আসলে একধরনের বিকৃত রুচির পরিচয়। যারা আদর্শের লড়াইয়ে টিকতে পারেনা, তারাই গালি দেয়। যারা যুক্তি বুঝে না তারাই গালি দেয়।

বি.দ্র: শিক্ষিত মানুষের কাছে যুক্তি কাম্য, অশ্লীল কথা নয়।