সুইডেনে ইসলামের ইতিহাস

বাল্টিক সাগর পাড়ে ছোট বড় অসংখ্যা লেক আর প্রকৃতি ঘেরা নয়াভিরাম সৌন্দর্য্যের দেশ সুইডেন। সুইডেন হলো পশ্চিম ইউরোপের স্ক্যানডেনেভিয়ান অঞ্চলের একটি দেশ।আয়তনের দিক থেকে এটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের তৃতীয় বৃহত্তম একটি দেশ। এর মোট জনসংখ্যা হলো ৯.৫ মিলিয়ন। মাথাপিছু আয়ের দিকে দিয়ে এটি বিশ্বের অষ্টম এবং মানব উন্নয়ন সূচকে বিশ্বের তৃতীয়। প্রকৃতি ঘেরা হওয়ার কারনে গ্রীষ্মকালে এখানকার সৌন্দর্য্য চোখে পড়ার মত। ঠান্ডা আবহাওয়ার কারনে মানুষগুলো অনেক শান্ত, ভদ্র।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সাথে সুইডেনের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক অনেক দিনের। ১৭ ও ১৮ শতকে অটোমান শাসকদের সাথে সুইডেনের সম্পর্ক ছিলো উল্লেখ করার মতো। অটোমান রাজ্য ছিলো ইউরোপের মধ্যে অনেক শক্তিশালী। সুইডিস রাজারা তাদের আনুকুল্য লাভের জন্য সেই সময়ে তুর্কিতে তাদের রাষ্ট্রদুত নিয়োগ করে। তখন থেকে মুসলিম সংষ্কৃতির সাথে সুইডেনের পরিচয় ঘটতে থাকে। তবে সুইডেনে মুসলিমদের উপস্থিতি সাম্প্রতিক ঘটনা।

সুইডেনে সর্বপ্রথম ১৯৩০ সালে ১৫ জন ব্যক্তি নিজেদের মুসলিম বলে চিহ্নিত করে। তারাই প্রথম মুসলিম যারা প্রাথমিক ভাবে বাল্টিক তাঁতারদের মধ্য থেকে এসেছিলো। বর্তমানে সুইডেনে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৪ লক্ষ। সুইডিশ কমিশন ফর স্টেইট গ্রান্ট টু রেলিজিয়াস কম্যুনিটিস (SST) এর জরিপ অনুযায়ী প্রাকটিসিং মুসলিমের সংখ্যা হলো মধ্যে ১১০০০ জন । তাদের জরিপ “Islam and Muslims in Sweden – A Contextual Study, অনুযায়ী ” Larsson and Sander (2007) বিশ্বাস করেন এর প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে। তাদের গণনা অনুযায়ী এর সংখ্যা ১৫০০০০ জন এর কাছাকাছি। সান্ডার স্বীকার করেন যে, “মুসলিম” শব্দটি সুইডেন এর ক্ষেত্রে সংজ্ঞায়িত করা সমস্যা। তিনি চারটি ক্যাটেগরিতে মুসলিমদের সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করেন নঃ এথনিক-,সংষ্কৃতিক-,ধর্মীয়, এবং রাজনৈতিক মুসলিম। একজন এথনিক মুসলিম বলতে যেকোন মুসলিম কে বুঝায়ঃ

“যারা এমন স্থানে জন্মগ্রহন করেছে যেখানকার পরিবেশ মুসলিম সংষ্কৃতির প্রথার আধিপত্য রয়েছে এবং যারা এমন নাম বহন করে যেটি সেই প্রথার সাথে যুক্ত;এছাড়া এই শ্রেনীর অংশ তারা, যারা নিজেদের এই পরিবেশের অংশ মনেকরে বা যারা চিহ্নিত হয়। এই সংজ্ঞাটি সংষ্কৃতিক যোগ্যতা, ধর্মীয় বিশ্বাস, ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী সক্রিয় অংশগ্রহন, এবং ব্যক্তির ইসলামের প্রতি মনোভাব বা চিন্তা হতে মুক্ত”।
এভাবে তিনি বিভিন্নভাবে মুসলিমদের সংজ্ঞায়িত করেন।

পশ্চিম ইউরোপ এর মধ্যে সুইডেন হলো একটি মিশ্রিত মুসলিম জনগোষ্ঠির দেশ। ৪০ টির ও বেশি থেকে মুসলিমরা সুইডেন এ এসেছে। প্রথম গ্রুপটি আসে ১৯৬০ সালে তুর্কি থেকে গেষ্ট শ্রমিক হিসেবে, সম্ভবত সুইডেনে থাকার তাদের কোন ইচ্ছে ছিলোনা। কিন্তু তাদের অনেকেই থেকে যায় এবং তাদের পরিবার আসা শুরু করে ১৯৭০ ও ১৯৮০ সালের দিকে। সংষ্কৃতি এবং ধর্মকে ধরে রাখা এবং সংরক্ষনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন অনুভব শুরু হতে থাকে। ফলে আস্তে আস্তে কিছু মুসলিম স্কুল প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

১৯৮০ সালে দিকে মুসলিম রিফিউজির সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং তখন থেকে তুর্কি মুসলিমরা আর সংখ্যা গরিষ্ঠ থাকেনা। সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী গ্রুপ আসে ইরাক, ইরান, সোমালিয়া, বলকান এবং পাকিস্তান থেকে। এছাড়াও বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমার থেকে অনকে মুসলিম আসা শুরু করে ৭০ এর দশকের পর থেকে।

মুসলিমদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বর্তমানে ইসলাম দ্বিতীয় অফিসিয়াল ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। অধিকাংশ সূউডিশ মুসলিমরা তিনটি বড় শহরে বসবাস করে -স্টকহোল্ম, মালমো, এবং গোথেনবার্গ এ। তাদের বেশির ভাগ ই আবার বাস করে শহরতলিতে যেমন স্টকহোল্মের রিংকেবি, টেনেস্তা এবং খারহোলমেন, গোথেনবার্গের হাম্মারকুল্লেন এবং ইয়ালবো, এবং মালমোর রোজেনগর্ড।

ইসলামী সংগঠনঃ
সুইডেনের প্রথম ইসলমাই সংগঠন হলো FIFS (Förenade Islamiska Församlingar i Sverige) যেটি ১৯৭৩-১৯৭৪ সালে যাত্রা শুরু করে। এরপর সংগঠনটি ১৯৮২ ও ১৯৮৮ সালে অন্তর্দ্বন্দ্ব, সংষ্কৃতিক বিভিন্নতা, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও ফান্ডের সমস্যার কারনে দুভাগে বিভক্ত হয়ে SMF (Svenska Muslimska Förbundet) and ICUS, today IKUS (Islamska Kulturcenterunionen i Sverige) নামে দুটি সংগঠন তৈরী করে। এছাড়া আর জাতিয় সংগঠন গুলো হচ্ছে BHIRF (Bosnien-Hercegovinas Islamiska riksförbund), যা বসনিয়ান রিফিউজিদের দ্বারা 1995 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, IRFS (Islamiska Riksförbundet), প্রতিষ্ঠিত হয় 1995 সালে, এবং রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ নুত বার্নস্ট্রম ২০০০ সালে একটি ভবিষ্যত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য SIA (Svenska Islamiska Akademin) গঠন করে, SIA February 2001 থেকে মিনারেত নামে একটি পিরিওডিকাল প্রকাশ করে আসছে।

এছাড়া আরো কিছু অন্যান্য স্থানীয় ছোট ছোট সংগঠন রয়েছে যেগুলো মূলত কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপের মানুষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে SMUF, বর্তমানে SUM (Sveriges Unga Muslimer) নামে পরিচিত। এটি মূলত মুসলিম যুবকদের নিয়ে গড়ে উঠা সবচেয়ে বড় সংগঠন যা ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মহিলাদের নিয়ে গঠিত সংগঠন IKF (Islamiska Kvinnoförbund i Sverige), এছাড়া যবকদের IUF (Islamiska Ungdomförbundet i Sverige) এবং ঈমামদের SIR (Sveriges Imamråd)। সাম্প্রতিক সময়ে সুইডেনে ইসলামিক ফোরাম অফ ইউরোপ এর শাখা চালু করা হয়, ফলে বাঙ্গালীদের দ্বারা গঠিত একমাত্র ইসলামি সংগঠন সুইডেনে কাজ শুরু করে। ধীরে ধীরে এর পরিসর বাড়ছে।

সরকারিভাবে ধর্মান্তরিত মুসলিমদের কোন সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না, তবে মালমো কলেজের ইতিহাসবিদ আন সোফি রোয়াল্ড এর মতে ১৯৬০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৫০০ জন খ্রীষ্টান মুসলিমে ধর্মান্তরিত হয়েছে। সাম্প্রতিক মসয়ে মুসলিম অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ার ফলে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার হার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। তবে অপরদিকে কিছু মুসলিম ও অন্যধর্ম বিশেষ করে খ্রীষ্টান ধর্মে দীক্ষিত হয়। অভিবাসী মুসলিমদের মধ্যে ইরানী মুসলিমদের অবস্থা খুবই খারাপ। সুইডিস ইরানীদের প্রতি ৫ জনের মধ্যে একজন নিজেকে মুসলিম বলে অস্বকীর করে। সুইডিশ ধর্মান্তরিত মুসলিমদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন প্রখ্যাত পেইন্টার ইভান আগুয়েলি যিনি তার মুসলিম নামে (আব্দুল হাদি আল মাগরিবি) বেশি পরিচিত, এছাড়া মুহাম্মদ নুত বার্নস্ট্রম যিনি ১৯৮৮ সালে সুইডিস ভাষায় কুরআন অনুবাদ করেন।

শেষে একটি কথায় বলা যায় যে, সুইডেনে মুসলিম ও ইসলামের ভবিষ্যত অনেক উজ্জ্বল।

মসজিদঃ
সুইডেনে ছোটবড় প্রায় ২৫০ অনেক মসজিদ আছে। তবে বেশির ভাগ মসজিদই বিল্ডিংয়ের বেইসমেন্টে এক বা দুটি রুম নিয়ে গঠিত। নির্মিত মসজিদ হলো মোট ৭ টি। এর মধ্যে পাচটি সুন্নি মসজিদ স্টকহোল্ম,উপশালা, মালমো ও ভাসতারাসে, একটি শিয়া মসজিদ ট্রলহাত্তানে এবং একটি আহমদিয়া মসজিদ গোথেনবার্গে অবস্থিত। সুন্নি বড় মসজিদ গুলো হলো, মালমো মসজিদ (১৯৮৪), স্টকহোল্ম মসজিদ (২০০০), উপশালা (১৯৯৫)।

Imageস্টকহোল্ম মসজিদ

Image

উপশালা মসজিদ

Imageমালমো মসজিদ

সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। 

গেলো বছরের সময়গুলো ছিলো পারষ্পারিক অশ্রদ্ধা ও প্রতিহিংসামূলক কাজের চর্চা। ধর্মীয় চেতনাবোধ ও মানবতার অপমানের বছর। তাই আসুন নতুন বছরে আমরা সবাই একটি শপথ করি, পারষ্পারিক শ্রদ্ধাবোধ সম্পন্ন একটি সমাজ গঠনের। ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে আমরা মানুষের বাণীকে প্রচার করি, অথচ আমরা আমাদের প্রিয় নবীর বাণীগুলোকে সবার কাছে প্রচার করিনা। আমরা নিজেদের সঠিক পরিচয় অনুধাবন না করার কারনে, আমরা আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের আদর্শিক নেতা মনেকরি এবং তাদের বানীকে নিজেদের আদর্শরুপে তুলে ধরার চেষ্টা করি। 

তাই আসুন নতুন বছরটাকে নিজেদের অতীত ঐতিহ্য জানার কাছে ব্যয় করি, আর সবক্ষেত্রে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাণী প্রচার করি। 

পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের দাবিদারদের কাছে আমাদের কামনা, মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ফায়দা বা নিজেদের সুবিধা আদায় করলে, ইসলাম প্রিয় এতবড় একটি জনগোষ্ঠির ভালোবাসা আদায় সম্ভব না। ইসলামের স্বর্ণযুগের শাসকরা দেশের নাগরিকদের সুবিধার চিন্তাই আগে করত, আর এই কারনে নিজেদের সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছিলো মানুষের কল্যানে। কারন তারা এটা দেখাতে সমর্থ হয়েছিলো যে, তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ঠ। কিন্তু লোকদের যা বলে বেরাই তা নিজেরা ভালোভাবে বিশ্বাস করিনা। আর করিনা বলেই আমরা ভবিষ্যতের চিন্তায় বড় ব্যাকুল। এই ভবিষ্যতের চিন্তা করতে গিয়েই বনীইসরাইল মান্না ও সালওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছিলো। আমরা মানুষকে ইসলামের কথা বলে লোভ দেখাই জান্নাতের অথচ সেই জান্নাতের চিন্তা করে আমরা সম্পদের লোভ-লালসা ত্যাগ করতে পারিনা। ইসলামী দাওয়াতি কাজের চেয়ে আমরা সম্পদের কাজে বেশি সময় নষ্ট করি। 

আর তাই বাংলার মাটিতে ৭১ বছর ইসলামী আন্দোলন করার পর ও একজন, ধর্মীয় গুরু তৈরী হয় না, সাধারন মানুষের সহমর্মিতা আদায় সম্ভব হয়না। তবে গত ৭১ বছরে আর্থিকভাবে সচ্ছল একটি ইসলামি দল তৈরী হয়েছে, আমরা এসি রুমে – বিশাল সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলন করতে পারছি, আমরা অনেকেই অনেক সম্পদের মালিক হয়েছি। 

তবে এসবের পর যখন আমাদের প্রতিবেশি, আমাদের দেশের মানুষ না খেয়ে, শীতের কারনে মারা যায় তখন মনেহয় আমরা যা করছি সেটা মনেহয় প্রকৃত ইসলাম নয়। আর এ কারনে আমরা মানুষের কষ্ট বুঝতে পারছিনা আর মানুষ ও আমাদের ভালোবাসতে পারছেনা। সুতরাং নতুন বছরে আসুন যারা ইসলামী আন্দোলনের নামে মাঠ গরম করছি, তারা অন্তত এই শীতে কিছু মানুষের গা গরমের একটু ব্যবস্থা করি। এক বছর মহাসমাবেশ না করে, পল্টনে গরিবদের সমাবেশ করে সেই সমাবেশের টাকা গুলো বিলিয়ে দিন। কিছু না হোক , কিছু মানুষ অন্তত একবেলা পেটপুরে খেয়ে আল্লার কাছে দোয়া করবে। যতদিন না সাধারন মানুষের দোয়া আপনার-আমার দোয়ার সাথে একাত্নতা ঘোষনা করবে ততদিন ইসলামী আন্দোলন সমাবেশ কেন্দ্রে বন্দী থাকবে। 

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন, নতুন বছরে আমাদের প্রত্যেককে এক একজন বীর মুসলিম হিসেবে কবুল করুন। মানুষের ভালোবাসা আদায়ে আমাদের তৌফিক দান করুন। আমাদেরকে প্রকৃত মুসলিম হিসেবে কবুল করুন। আমাদের দেশের সকল মানুষের উপর শান্তি দান করুন।

দেশের রাজনীতির সংকট উত্তরণে কিছু ব্যক্তিগত চিন্তা

দেশের বর্তমান অবস্থা খুবই নাজুক। রাজনীতিকদের মাঝে যেমন পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ নেই তেমনি সাধারন জনগনের মাঝে ও রাজনীতির উপর বিশ্বাসের ঘাটতি চরমভাবে লক্ষনীয়। এটি যেমন রাজনীতির জন্য খারাপ তেমনি দেশের স্থিতিশীলতা তথা সার্বিক উন্নয়নের জন্য বড় বাধা। পরিবার কেন্দ্রিক রাজনীতি হওয়ার কারনে রাজনীতিতে দুষ্টজনের উত্থান যেমন সহজ হয়ে গিয়েছে ঠিক অপর পক্ষে শিক্ষিতসমাজের রাজনীতি বিমূখতা আরো প্রবল হয়ে দাড়িয়েছে। যা একটি জাতির জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। আর এরুপ সংকটময় সময়ে সব দেশপ্রেমিক চিন্তাশীল মানুষের উচিত দেশের রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করা। সব বিভেদ ভূলে এময় এসেছে ঘুরে দাড়াবার। সংকট যত প্রকট হয়, সমাধান তত দ্রুত হয়। শুধু প্রয়োজন উদ্যোগ গ্রহনের। বিভেদমূলক রাজনীতির নীতি রাজনীতির ময়দানে শুধু হিংসা আর বিদ্বেষ ছড়ায়। আর তাই সকল মতবাদের সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী মতবাদ এবং সকল মতের মানুষের অংশগ্রহনে সক্রিয় একটি দল ই পারে জাতিকে শান্তির বাণি শোনাতে।
“কারো সাথে বিদ্বেষ নয়, সবার সাথে বন্ধুত্ব” এরকম স্লোগান নিয়ে একটি দল গঠন এখন সময়ের দাবী। দেশে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলো একটি বাস্তবমুখী, টেকসই এবং সময়োপযোগী রাজনৈতিক দল উপহার দিতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে ঠিক তেমনি দেশের রাজনীতিকে আরো কলুষিত করেছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ আমাদের সোনার বাংলাদেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ই আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এটাকে অগ্রাহ্য করে মানুষকে একটি কাঠামোগত ভাবে এবং টেকসই রাজনৈতিক দল উপহার দেয়া সম্ভব না।
আমি কারো সমালোচনা করবোনা। সমালোচনায় কোন সমাধান নেই।
আমার যে প্রস্তাবনা এগুলো ভেবে দেখা যেতে পারে,

বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি শিক্ষিত, আধুনিক, জাতিয়তাবোধে বিশ্বাসী এবং সকল মতের মিলন ঘটিয়ে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করা যায় কিনা?
এটির জন্য যারা উপযুক্ত তাদের জন্যই লিখা। হয়ত আমার নিজের যোগ্যতা নেই। আমি শুধু আমার চিন্তা গুলো শেয়ার করছি।

১) ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এর বদলে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী দিলে দেশের জনগনের যেমন কারো আপত্তি থাকবেনা, তেমনি তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করা যাবে। কারন দেশের অধিকাংশ মানুষ সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে, সে হিন্দু কিংবা মুসলিম। সৃষ্টিকর্তা সবার। এখানে কোন সৃষ্টিকর্তার নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। সবাই সবার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে।

বাকি মতবাদগুলোকে ঠিক করে একটি সার্বজনীন দল গঠন।

যেখানে সকল মতের মানুষ থাকবে, এবং সকলের যোগ্যতা অনুযায়ী সহঅবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে উপস্থিত রাজনৈতিক দলগুলোতে দুষ্টলোকের আধিক্যর কারনে, দেশের জনগনের স্বার্থ উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। রাষ্ট্র জনগনের জীবনের নিরাপত্তা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। অথচ যেখানে রাষ্ট্রের জন্মই হলো জনগনের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া।
অনেকই হয়ত ভাবতে পারেন যে, ড. কামাল এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরী তো দল গঠনের ডাক দিয়েছে। কিন্তু এটি এইতিহাসিক সত্য যে, এনারা জনগনের বিশ্বাস অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। ফেইসবুকে ব্লু ব্যান্ডকল নামের যে গ্রুপ করা হয়েছে, সেখানেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পোষ্ট দেয়া হয়, যেটাতে প্রমান হয় যে, ওসব দিয়ে দেশের রাজনীতির গুনগত মান পরিবর্তন তথা জনহনের ভাগ্যোন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সম্ভব নয়।

কবিরাহ গুনাহঃ গীবত

সকল প্রশংসা আল্লাহর। রাসুল (সাঃ) ও তার পরিবার এবং তার সাহাবীদের উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক।

“আল্লাহকে ভয় কর এবং তার আনুগত্য কর। ভয় কর সেদিনের যেদিন তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। সেদিন প্রত্যেক মানুষকে তার অর্জিত আমল থেকে পরিশোধ করতে হবে এবং কারো উপর অবিচার করা হবে না।” (সুরা আল-বাকারা, ২:২৮১)

কবিরা গুনাহ ই প্রকৃতপক্ষে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল দুর্বিপাক, মন্দ, পীড়ন এবং অদ্যাবধি সকল ক্ষতির কারণ হতে পারে. এবং সমস্ত পাপের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হলো সেই সব যা ক্ষতি এবং বিপদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। ধ্বংসাত্মক প্রধান পাপের মধ্যে গীবত এবং অপবাদ দেয়া অন্যতম। এ দুটি পাপ আল্লাহ তাঁর নবীর মাধ্যমে নিষিদ্ধ করেছেন কারণ তারা ঘৃণা, খারাপ এবং মানুষের মধ্যে অনৈক্য বপন করে এবং যা ধ্বংসের দিকে ধাবিত করে। তারা একই পরিবারের লোকেদের মধ্যে এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে এবং আত্মীয়ের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষের সৃষ্টি করে। তারা ভাল কাজের হ্রাস এবং মন্দ কাজে বেশী বৃদ্ধি করে যা তাদের অসম্মান ও অপমানের দিকে নিয়ে যায়।

গীবত এবং অপবাদ হলো এক ধরনের অপমান ও বেইজ্জতি। এসবের পৃষ্ঠপোষক ঘৃণিত এবং তার কখন ই সন্মানজনক মৃত্যু হবে না।আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এই ধরণের কাজ করতে নিষেধ বলেছেন,

“হে বিশ্বাসীগন ! অধিক সন্দেহ পরিত্যাগ করো, নিঃসন্দেহে কিছু সন্দেহ পাপ। গুপ্তচরবৃত্তি এবং একে অপরের কুত্সা রটনা করনা। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (আল হুজুরাত, ৪৯: ১২)

এই আয়াতে আল্লাহ কঠোরভাবে গীবতকে নিষিদ্ধ করে বলেছেন গীবতকারী তারাই যারা তার মৃত ভাইয়ের মাংস খায়। যদি সে তার মৃত ভাইয়ের মাংষ খাওয়া ঘৃণা করে, তবে জীবিত ভাইয়ের মাংস খাওয়া ও তার ঘৃনা করা উচিত, যেটা সে করে গীবত এবং কুতসা রটনার মাধ্যমে।

যখন কেউ গভীরভাবে এটি অনুধাবন করতে পারবে তখন নিজেকে গীবত থেকে দুরে রাখতে এটাই তার জন্য যথেষ্ঠ হবে ।

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে নবী বলেন,

“তোমরা কি জান গীবত কি?” তারা বলল, “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভাল জানেন.” তিনি বলেন, “এটা হলো তোমরা তোমাদের ভাই সম্পর্কে যা কিছু বলো যেটা সে অপছন্দ কর।একজন তাকে জিজ্ঞেস করলো, “কিন্তু আমি যদি সত্য বলি? “আল্লাহর রাসূল বলেন,” যদি তুমি তার সম্পর্কে যা বলো তা সত্য হয়, তাহলে তুমি তার গীবত করলে, কিন্তু যদি এটি সত্য না হয় তাহলে তুমি তাকে অপবাদ দিলে. “(মুসলিম)

আবু বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল (সাঃ) কুরবানীর (যুল-হজ্জ এর ১০ ম দিন) দিনে মিনায় বলেছিলেন যে,

“নিশ্চয়, তোমাদের রক্ত, সম্পদ এবং সম্মান আজ থেকে একে অপরের নিকট পবিত্র ” (বুখারী এবং মুসলিম)

সাহল ইবন সা´দ হতে বর্ণিত যে আল্লাহর রাসূল বলেন,

“যে তার জিহ্ববাকে অন্যায় কথা থেকে এবং নিজেদের গোপন অঙ্গকে অবৈধ যৌন ক্রিয়া হতে রক্ষা করে আমি তাকে জান্নাতে প্রবেশের ব্যাপারে নিশ্চয়তা প্রদান করছি।” (বুখারী এবং মুসলিম)

আবু-মুসা আল আশয়ারী (রাঃ) বলেন

” আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম “কে সবচেয়ে উত্তম মুসলিম? রাসুল (সাঃ) উত্তরে বললেন, ” যার জিহ্ববা এবং হাতের অনিষ্ঠ থেকে অপর মুসলিম নিরাপদ” (মুসলিম)

আমাদের জিহ্ববার স্খলন বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ। আমাদের জিহ্বাকে মুক্ত হতে বাধা দেওয়া উচিৎ কারন এরকম জিহ্বা তার মালিককে শুধু ক্ষতি আর ধ্বংস এবং বিপর্যয় ই এনে দিতে পারে।
আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত যে আল্লাহর রাসূল বলেন,

“যখন সকালে মানুষ ঘুম থেকে জেগে উঠে তখন তার দেহের সমস্ত অংশ জিহ্বাকে সতর্ক করে বলে, ‘আল্লাহকে ভয় কর ‘”তিরমিযী)

মুয়ায ইবন জাবাল (রাঃ) বলেন,

” হে আল্লাহর রাসূল আমাকে এমন একটি কাজ বলুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করবে। রাসুন (সাঃ) বললেন তুমি একটি অনেক কঠিন বিষয়ে প্রশ্ন করেছ, তবে এটা খুব ই সহজ আল্লাহ যাদের জন্য সহজ করেন। তুমি শুধু আল্লাহর ইবাদাত করবে কাউকে শরীক করবেনা, সালাত কায়েম করবে, যাকাত দিবে , রমযান মাসে রোজা রাখবে এবং যদি তোমার সামর্থ্য থাকে হজ্জ করবে। তিনি আরো বলেন, “আমি কি তোমাকে ভালোর প্রবেশদ্বার দেখাব? রোযা হচ্ছে ঢালস্বরুপ (শয়তান থেকে), যাকাত পাপকে ধ্বংস করে যেমন পানি ধ্বংস করে আগুনকে। এবং মধ্যরাতের ইবাদাত তখন তিনি কুরআনের আয়াত উচ্চারন করেন, “তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের পালনকর্তাকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। কেউ জানে না তার জন্যে কৃতকর্মের কি কি নয়ন-প্রীতিকর প্রতিদান লুক্কায়িত আছে। (সূরা আস-সাজদাহ, ১৬-১৭) , তারপর আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন,’ আমি কি বলব যে বিষয়টির মুখ্য জিনিস এর স্তম্ভ এবং এর মাথা কি?´ আমি বললাম হ্যাঁ আল্লার রাসুল, তখন তিনি বললেন, “বিষয়টির মাথা হচ্ছে ইসলাম, এর স্তম্ভ হচ্ছে সালাত এবং এর শিখর হচ্ছে আল্লাহর পথে জিহাদ.’ তারপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি কি বলবো যে সমস্ত জিনিসের ভিত্তি কি? আমি বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল. ´তখন তিনি তাঁর জিহ্বা হাতে ধরে বললেন এটাকে ভেতরে রাখ। আমি তাকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা কি দ্বায়ী হতে যাচ্চ্ছি যা আমরা উচ্চারন করেছি তার জন্য? তিনি বলেন, ‘তোমার মা কি তোমাকে আবার গর্ভে নিতে পারবে? তাদের মুখে কি তাদের মুখের কথিত আছে ফায়ার ছাড়া কোনো কিছু ঢালাই মানুষ আছে?’ “(তিরমিযী)

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে আল্লাহর রাসূল বলেন,

“যখন আমি জান্নাতে আরোহন করলাম, আমি কিছু লোককে অতিক্রম করলাম যাদের নখগুলো ছিলো কপারের (ধাতব) যার দ্বারা তারা নিজেদের মুখে ও বুকে আচড় কাটছিলো এবং আমি বললাম ও জিব্রাইল (আঃ) “এ লোকগুলো কারা?” তিনি বললেন এই লোকগুলো হলো তারা যারা নিজেদের ভাইদের মাংস খাইত, এবং অন্যোর সন্মাতে আঘাত করত” (আবু দাউদ)

সুতরাং গীবতের চর্চা করোনা. আল্লাহ বলছেন, ”

“যখন তোমরা একে মুখে মুখে ছড়াচ্ছিলে এবং মুখে এমন বিষয় উচ্চারণ করছিলে, যার কোন জ্ঞান তোমাদের ছিল না। তোমরা একে তুচ্ছ মনে করছিলে, অথচ এটা আল্লাহর কাছে গুরুতর ব্যাপার ছিল।”(একটি নূর-24: 15).

আবু বকর (রাঃ) তার জিহ্বা হাতে নিয়ে নিতেন এবং বলতেন যে এটি আমার ধ্বংসের কারন হবে। তিনি বলেন এটি বিণয়ের প্রতিক।.

গীবত এত ব্যাপক যে এটি এখন মানুষের মিটিং এর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, মানুষ এখন এটিকে তাদের রাগ ও ঈর্ষা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে তাদের সাথে যারা এটি বিশ্বাস করে যে তারা তাদের নিজস্ব দূর্বলতা গোপন করতে এবং অন্যদের ক্ষতি করতে এটি করছে। তারা এটি ভূলে যায় যে তারা শুধু নিজেদের ই ক্ষতি করে। কারণ গীবতকারী এবং ক্ষতিগ্রস্থ দুজনকেই কিয়ামতের দিন আল্লার সামনে হাজির করা হবে যেদিন শুধু আল্লাহই থাকবেন বিচারক এবং সেদিন ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি তার ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। আল্লাহ তখন গীবতকারী ব্যক্তির ভালোকাজ থেকে তার ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিবে।

আল্লাহর রাসূল বলেছেন,

“সুদের সত্তরটি স্তর আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট স্তরটি হলো মায়ের সাথে জিনা করা এবং সর্বোচ্চ খারাপটি হলো একজন মুসলমান তার মুসলিম ভাইয়ের সম্মানে আক্রমণ করা.” তিনি আরো বলেন, “যে তার ভাইয়ের সম্মান রক্ষা করে তার ভাই, আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করবে. “(তিরমিযী)

তাই মুসলমানদের সম্মান নিয়ে কানাকানি করা ঠিক না।

আল্লাহ বলছেন,

“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল।.” (আল আহযাব ৩৩:৭০)

আল্লাহ বলছেন,

“আমি মানুষ সৃষ্টি করেছি এবং তার মন নিভৃতে যে কুচিন্তা করে, সে সম্বন্ধেও আমি অবগত আছি। আমি তার গ্রীবাস্থিত ধমনী থেকেও অধিক নিকটবর্তী।যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে।সে যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্যে তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।”(কৃাফ-৫০.১৬-১৮)

মুসলিম ভাইয়েরা, অন্যদের সম্পর্কে গল্প ও খারাপ ধরনের গীবত। এর মানে হলো লোকের থেকে পরের বহন বপন dissention তাদের মধ্যে অভিপ্রায় সঙ্গে অন্য যাও. আল্লাহ এই দলিল নিন্দিত যখন তিনি বলেন,

“যে অধিক শপথ করে, যে লাঞ্ছিত, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। যে পশ্চাতে নিন্দা করে একের কথা অপরের নিকট লাগিয়ে ফিরে। “(আল কালাম ৬৮ঃ ১০-১১).

নবী (সাঃ) বলেন,

“গীবতকারী জান্নাতে. প্রবেশ করবে না”
মনের গীবতঃ
কারো ব্যক্তিগত ত্রুটি নিয়ে অন্য কারো সাথে কথা বলা যেমন নিষেধ তেমনি অন্যোর ত্রুটি নিয়ে নিজের সাথে কথা বলাও নিষেধ এবং খারাপ ধারণা ধরে রাখাও নিষেধ।

কুরাআনে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ ” হে বিশ্বাসীরা তোমরা অধিক সন্দেহ থেকে দূরে থাক। অবশ্যই কিছু সন্দেহ হচ্ছে পাপ”।
আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসুল (সাঃ) বলেনঃ “সন্দেহ থেকে সাবধান হও, প্রকৃতপক্ষে সন্দেহ হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যা”।
এগুলোর ব্যাখ্যায় বলা যায় মনের গীবত হচ্ছে সেটি কারো বিষয়ে যদি বদ্ধমূল ধারণা জণ্মে এবং ব্যক্তি যদি সেই ধারণাকে ধরে রাখে। তবে সেসব ধারনা মানুষের মনে আসে সেগুলো যদি কেউ ধরে না রাখে তাহলে গীবত হবেনা।

সুতরাং, আসুন আল্লাহকে ভয় করি।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্যর অনুপস্থিতিতে তার সম্বন্ধে বলা জায়েজঃ

১) কোন মজলুম ব্যক্তির তার সাথে অত্যাচারের কথা বিচারক সামনে বা সেরকম কোন কর্তৃপক্ষের সামনে বলা জায়েজ।
২) কাউকে সংশোধনের উদ্দেশ্য অন্য কারো সাথে তার বিষয়ে কথা বলা জায়েজ।
৩) যারা সবার সামনে প্রতারনা করে, জুয়া খেলে, মদ খায়, এদের সমালোচনা করা জায়েজ।
৪) বিয়ের ক্ষেত্রে কেউ কারো বিষয়ে জানতে চাইলে তার বিষয়ে বলা জায়েজ।

লেখাটি ইমাম আল-মদিনা আল-মুনাওয়ারাহ
আলী আবদ-উর-রহমান আল-হুদাইফি এর একটি লেকচার থেকে অনুবাদ এবং মডিফাই করা হয়েছে।

Bangladesh Jamayate islami is victim of Yellow Journalism

We live in an era of media sensationalism. From the courtroom to the campaign trail, inflammatory rhetoric and opinion based journalism is disguised as non-biased reporting.

The amorous courtship of media and pundits is hardly a new phenomenon; it conjures memories of the media’s notorious influence just after the 1971 Bangladesh civil war.  Today the Awamy league conjures images not of the of the good work but of yellow journalism – offshoots of which can be seen today. Perfected by shoaib chowdhury and Motiur Rahman, yellow journalism sensationalized stories, exhausted scandals, and captured the public with attention-grabbing headlines and pictures.

Discussion among the populace would form a marketplace of ideas that would highlight the best ideas.  Today’s journalism is taken to a devastating extreme.  Enlightened journalists have been replaced with a constant inundation of opinions.

In this rapid digital age, patrons of the news have moved toward digestible information: news that is concisely presented, the significance explained and rife with opinion.  As a consequence of increased competition in the digital battleground, journalism has shifted towards provocative and controversial thought pieces.  In order to combat a hemorrhaging audience, mainstream media has turned towards opinion journalism as the new frontier.

We see the confluence of these forces playing out in the War crime tribunal this past year.

However, in a case where the defendant was guilty until proven innocent, a national outrage exploded in the wake of the verdict, fueled by the ratings-hungry media.

The media’s exploitation of the War crime trial is inherently troubling; however, what is more disturbing is the potential it has to pervert the judicial system.

Regarding War criminal acquittal, The main reason that people are reacting so strongly is that the media convicted Jamayat leader before the jury decided on the verdict.  The public has been whipped up into this frenzy wanting revenge for this past genocide committed by Pakistani Army.  And because of the desire for revenge, they’ve been whipped up into a lynch mob.”  Opinions have no place outside of their courtroom lest their influence be felt in the jury room.

Although the national media can be blamed for elevating the War Criminal trial to the degree that it did, partial onus of this media circus must be placed on the Bangladeshi public.  The story featured every element that resonated with the macabre chords of a drama-fixated society:

The war  crime tribunal reveals worrying patterns of Awamy Govt.  behavior and also distorts the public understanding of the reality of the criminal justice system.  Over the past 4 years more than 20000 activists of Jamayt-e-islami have been detained.  Though by no means should one belittle the terrible tragedy that befell , the trial of Delwar hossain Saydee is far from an accurate vignette of the Bangladeshi judicial system.  The media attention devoted to this case is horribly misrepresentative judicial system.

Example of Yellow Journalism.

http://www.youtube.com/watch?v=0CD8J2trz_8

মাঝরাতের এলোমেলো চিন্তা

 স্বাধীনতার ৪১ বছর ধরে যখন প্রপাগান্ডা করে আসছিলো তখন হয়তো মিডিয়ার শক্তি আমাদের বুঝা সম্ভব হয়নি। এখন অবস্থা এমন যে, আওয়ামীলীগ রাজপথে মানুষ মারলেও দেশের মানুষ সেটাকে অপরাধ মনে করেনা। আর জামায়াত-শিবিরের কেউ মাইর খেয়ে কাদলেও কাদার জন্য আবার জেলে যেতে হয়। ভিশনারী না হলে হয়ত এভাবে মাইর খেতে হয়। আর মরলেও রক্ষা নাই, আওয়ামীলীগ শিবির মেরে নিজেদের দলের লোক বানায়ে শিবিরের নামে কেইস দেয়।

মুক্তিযুদ্ধের গল্প বনাম ঠাকুর মার ঝুলি

অনেকদিন পর ঠাকুরমার ঝুলি গল্পের বইয়ের কথা মনে পড়ে গেলো। ছোট বেলায় বইমেলায় গেলে এই গুলো ছিলো ছোটদের একনম্বর পছন্দ। ছোটবেলায় যখন ঘুম আসতো না, তখন নানি দাদি কিংবা বড় বোন সেই সব গল্পশোনায়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতো। সাথে সাথে ইচ্ছেকৃত ভয় পাওয়ার শিহরন। তবে যখন বড় হলাম সেই গল্পের চরিত্রগুলো আর কোথাও খুজে পেলাম না। যেমন ছোটোদের বইয়ের হাট্টিমাটিম টিম খুজে পাও্য়া যায় না।
ডিজিটাল যুগে ১৯৭১ পরবর্তী প্রজন্ম যখন ঠাকুরমার ঝুলির গল্পের মত মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনে তখন বড্ড অবাক লাগে। ১৯৭১ পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সত্যকে জানার এবং তা খুজে বের করার কোন উতসাহ দেখা যায় না, যদিও বা কিছু দেখা যায়, তাদের অধিকাংশ ই কল্পাকাহিনী বেশি পছন্দ করে। ১৯৭১ কে নিজেরা যাচাই না করে, আমার বন্ধুরা তথাকথিত স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবি (?) শ্রেনীর গল্প শুনে ঘুমে আচ্ছন্ন অবস্থায় টুপিওয়ালা মানুষ দেখে রাজাকার বলে ভয়ে চিতকার করে। এটাকে আমি সেই গল্পের লেখকদের সফলতাই মনে করব।

১৯৭১ সালে টিক্কা খানের সাথে গোলাম আজমের ছবি শেয়ার করে তাকে রাজাকার এবং দোষি সাব্যস্ত করার চেষ্টা সেটি সেই ১৯৭১ এর মুনতাসির-কবির গংদের ঝুলি থেকে বের হয়েছে। কারো সাথে মিটিং যদি হয় অপরাধের প্রমান তাহলে ১৯৭১ এর হাজার ছবি বের করা যাবে যেখানে শেখ মুজিব এবং ইয়াহিয়া ও টিক্কা খানদের মিটিং করছে। রায়ের বাজার বধ্যভূমির হত্যাকান্ডের সাথে জামায়াত লিডারদের সংযোগ সেটাও মুনতাসির-কবির গং তথা মুন্নি সাহা গোষ্ঠির সাংবাদিক শ্রেনীর হলুদ সাংবাদিকতা। পাক-বাহিনীর নির্মমতাকে জামায়াতের সাথে সংযোগ করে দিতে পারলেই যে একটি গোষ্ঠিকে সন্তুষ্ঠ করা যাবে সেই ঘৃণ্য প্রচেষ্টা ১৯৪৭ কেন তার ও আগ থেকে চলে আসছে। বর্তমান সময়ে আওয়ামী মিথ্যাচার এবং সেই গোষ্ঠির হলুদ সাংবাদিকতা ১৯৭১ এর পর সেই এজন্ডাকেই মনে করে দেয়। এরা সত্যকে গায়ের জোড়ে বদলে দিতে চায়। রামুর ঘটনা, বিশ্বজিত হত্যাকান্ড, এরকম হাজারো ঘটনা আওয়ামী মিথ্যাচার এবং সেই গংদের বানোয়াট ও উদ্ভট সংবাদ পরিবেশন আমাদের ১৯৭১ এর পর ইসলামী শক্তির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূকল যে অপপ্রচার সেই কথাটি মনেকরে দেয়। পড়ন্তু সেই অপপ্রচারের সাথে যে আমাদের বন্ধুরূপী শত্রুপ্রতিম দেশ জড়িত সেই কথায় মনে দিলো ভারতীয় হাইকমিশনারের বিজয় দিবসের বক্তৃতায়।

গোলাম আজমের রাজাকার সংযোগ নিয়ে ২ দিন ধরে অনেক খুজলাম কিছু তথ্যা বের করার জন্য। ইন্টারনেট থেকে যা পেলাম, সেখানে গোলাম আজমের সাথে রাজাকার বাহিনীর কোন সংযোগ পেলাম না। তবে হ্যা মুনতাসির-কবীর সহ ঠাকুরমায়ের গল্পশোনা আমাদের জাফর প্রেমীরা কিন্তু তাই মনে করে। তাদের লেখায় সেটি উঠে এসেছে। তবে সত্য হলো, গোলাম আজম রাজাকার ছিলেন না, উনি পিস কমিটির সাথে জড়িত ছিলেন। রাজাকার বাহিনী গঠিত হয় এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে আর পিস কমিটি গঠন হয়, স্থানীয় ভাবে। অনেকেই বলেন , যে রাজাকার বাহিনী প্রথম গঠন করে মাওলানা ইউসুফ অথচ ১৯৭১ এর ঢাকা গেজেট অনুসারে রাজাকার গঠন করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং সেটির বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বে ছিলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর।